বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, September 9, 2025

সাতক্ষীরায় মন্দিরের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা

সাতক্ষীরায় মন্দিরের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থমথমে পরিস্থিতি

সাতক্ষীরায় মন্দিরের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থমথমে পরিস্থিতি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে মন্দিরের জমি দখল করে বহুতল মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের বাধা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ ও জমির ইতিহাস

ভুক্তভোগী কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত এছাম উদ্দীন তরফদারের ছেলে সামছুর রহমান তরফদার (৫৫) থানায় এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, দামুদর সার্বজনীন মন্দিরের নামে নিবন্ধিত একটি জমি থেকে শ্যামল কুমার ঘোষ দানপত্র আকারে জমি হস্তান্তর করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই জমির অংশ বিশেষ তিনি ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বৈধভাবে রেজিস্ট্রি কোবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন।

জমিটি মন্দির ও ক্রেতাদের নামে সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে নিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. রওশন আলী কাগুজী (৫০), হাফিজুল গাজী (৩৫) ও আলী আকবর (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

আদালতের স্থগিতাদেশও অমান্য

জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সামছুর রহমান কালিগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৪০৯/২৪) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীরা গত ৫, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ওই জমিতে জোরপূর্বক মাটি কেটে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেখানে ইট, বালু, খোয়া মজুদ করে কাজ শুরুর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ও মন্দির কর্তৃপক্ষ বাঁধা দিলে বিবাদীরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে, শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা চালায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে জমি দখল ও মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা একটি বড় ধরনের অপরাধ। প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের ভূমি দখল রোধ করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “মন্দিরের জায়গা দখল করে ব্যবসা করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা শুধু ধর্মীয় স্থানের প্রতি অসম্মান নয়, বরং সামাজিক শান্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র।”

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

অভিযোগকারী সামছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সবসময় আইন মেনে চলেছি বলেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত যখন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তখনও যদি বিবাদীরা জমি দখলের চেষ্টা চালায়, ভয়ভীতি দেখায় ও প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও সুরক্ষার দাবি জানাই।”

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি মার্কেট নির্মাণের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন।

প্রশাসনের এ পদক্ষেপে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও ভুক্তভোগীরা এখনো আশঙ্কায় রয়েছেন যে, প্রশাসনিক নজরদারি কমে গেলে আবারও জমি দখলের চেষ্টা শুরু হতে পারে।

বৃহত্তর প্রভাব

স্থানীয়দের মতে, জমি দখলের এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই করে না, বরং সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আইনজীবী মহলের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে এ ধরনের দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, মন্দিরের জমি স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে এবং দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বশেষ: ভুক্তভোগীরা প্রশাসন ও আদালতের ওপর আস্থা রাখলেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মীয় স্থানের জমি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা পাবে।

No comments:

Post a Comment

"
"