কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, July 26, 2026

July 26, 2026

সীতাকুণ্ডে জগন্নাথ আশ্রমে চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ, কমিটির দুই সদস্য আহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী জগন্নাথ আশ্রমে চুরি ও ভাঙচুরের পর পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক ঘটনায় আশ্রম পরিচালনা কমিটির দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কমিটি।

কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত আশ্রমে প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পরে আশ্রমের অফিসের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বিভিন্ন মালামাল ও ড্রয়ারে থাকা নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এর পরদিন শুক্রবার বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি আশ্রমে প্রবেশ করে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বর্তমান পরিচালনা কমিটির নেতারা দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী কমিটির আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিরোধের জেরেই এসব ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, বহিষ্কৃত পক্ষের লোকজনই চুরি ও হামলার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় ওই পক্ষের দুই সেবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পূর্ববর্তী কমিটির বহিষ্কৃত দুই সেবক। বর্তমান কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের অসন্তোষ থাকলেও চুরি বা হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা তারা নাকচ করেছেন।

এ ঘটনায় জগন্নাথ আশ্রমের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
July 26, 2026

মতিঝিলে উল্টোরথ যাত্রার আগে বোমা উদ্ধার: নাশকতার চেষ্টা ঠেকালো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৬: রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রায় নাশকতার উদ্দেশ্যেই বোমাটি ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে সময়মতো এটি শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সাধারণ ফোল্ডিং ছাতার ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জিআই পাইপে তৈরি এই বোমাটি। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট জানিয়েছে, এটি ছিল একটি ‘পাইপ বোমা’, যার ভেতর এক কেজির বেশি সালফার, প্রচুর তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো ছিল। ছাতার বোতাম টিপলেই বিস্ফোরণ ঘটত—এমনভাবে ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছিল।

পুলিশের চোখ এড়ায়নি সন্দেহ
ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শাপলা চত্বরের দিকে উল্টোরথ যাত্রা যাওয়ার সময় মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটরের কাছে পড়ে থাকা ছাতা থেকে মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে পুলিশ। পরে শোভাযাত্রা শেষ হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, রথযাত্রার সময় এলাকাটি ঘিরে রাখা হয় এবং ‘শর্টসার্কিটের’ অজুহাতে শোভাযাত্রাকে পাশ কাটিয়ে যেতে বলা হয়—যাতে আতঙ্ক ছড়াতে না পারে। পুলিশের ধারণা, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এবং জনজীবন বিপন্ন করতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোমাটি ফেলা হয়েছিল।

তদন্ত অব্যাহত
মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে নাশকতার চেষ্টা মনে করছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ঘটনার তদন্ত করছে। উদ্ধার হওয়া বোমা থেকে জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি ও বেয়ারিংয়ের বল উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


 

July 26, 2026

বিনামূল্যে ফেসবুক আইডি ভেরিফাই করার সুযোগ পাবেন যারা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ভুয়া প্রোফাইল ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি সহজ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে মেটা। ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের পরিচয় যাচাই করে একটি বিশেষ ব্যাজ পেতে পারবেন।

মেটা জানিয়েছে, এই ফিচারে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি প্রযোজ্য নয়। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেস, ডেটিং বা গ্রুপের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত কারও সঙ্গে লেনদেন বা যোগাযোগের সময় এই ব্যাজটি প্রোফাইলের সত্যতা নিশ্চিত করবে, যা প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কীভাবে পাবেন এই ব্যাজ?

ব্যবহারকারীকে একটি ছোট সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ফেসবুকের সিস্টেম সেটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হবে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস মেনে চলতে হবে। প্রতারণা, জালিয়াতি বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়—এমন অ্যাকাউন্টই এই ভেরিফিকেশনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

কোথায় দেখা যাবে এই ব্যাজ?

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি প্রথম পর্যায়ে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিং, ফেসবুক গ্রুপস এবং ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে প্রদর্শিত হবে। ভবিষ্যতে ফেসবুক ফিডের পোস্টেও এটি দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।

মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ ব্যবহারকারীকে ‘বিখ্যাত’ নয়, বরং ‘প্রকৃত ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা ভুয়া আইডি চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। নির্বাচিত কয়েকটি দেশে ধাপে ধাপে ফিচারটি চালু করা হচ্ছে এবং পরে তা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল বিশ্বে প্রতারণা ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও প্রক্রিয়ার কার্যকারিতার ওপর।


 

July 26, 2026

ছয় মাসে ৮২৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত, এইচআরসিবিএমের প্রতিবেদনে উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (এইচআরসিবিএম) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলা থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ৮২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের হলরুমে “Equal Citizens, Equal Justice” শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সংগঠনটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় প্রতিবেদনে তুলে ধরেন, নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে রয়েছে ২৩৪টি ভূমি দখল, সম্পত্তিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ; ২২৩টি অপহরণ ও শারীরিক হামলা; ১৬৮টি হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু; ১৪১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর; ৪১টি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; এবং ১৭টি ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত ঘটনা।

প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ও অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সহিংসতা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও বাড়ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে; উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্মেলনে এইচআরসিবিএম সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, ট্রানজিশনাল জাস্টিস বাস্তবায়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দ্রুত বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধি দলের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. জে. কে. পাল। বক্তব্য দেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, মণীন্দ্র কুমার নাথ, ড. মোহাম্মদ আব্দুল হাই, অ্যাডভোকেট জিতেন্দ্র বর্মন ও জয়া বর্মন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন অ্যাডভোকেট শঙ্কর চন্দ্র দাস।

Saturday, July 25, 2026

July 25, 2026

বাবার লাশ সৎকার না করেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন যে নারী

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বলতেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে অস্ত্রের গর্জন, রণাঙ্গনের বারুদ আর উদাম গায়ের একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ছবি। কিন্তু এই সংঘাতের একটা নীরব অধ্যায়ও ছিল, যা লেখা হয়েছিল ফিল্ড হাসপাতাল আর শুশ্রূষাকেন্দ্রে। রণাঙ্গনের বাইরে জীবন বাঁচানোর সেই অলিখিত যুদ্ধে যারা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন, রাজবাড়ীর শিবরামপুর গ্রামের ইরা কর তাঁদেরই একজন।
১৯৭১ সালের ৫ মে ইরা করের জীবনে সবকিছু উলটপালট হয়ে যায়। দিনের আলোতেই বিহারী ও স্থানীয় রাজাকাররা তাঁর বাবা জিতেন্দ্র নাথ করকে হত্যা করে। বাবার লাশ সৎকার করার মতো ন্যূনতম সুযোগটুকুও পায় নি পরিবারটি। বাধ্য হয়েই সব হারিয়ে তাঁরা পা বাড়ান অনিশ্চয়তার পথে; টানা নয় দিন হেঁটে কোনোমতে পৌঁছান ভারত সীমান্তে।
সীমান্তে পৌঁছে দূরসম্পর্কের এক স্বজনের সহায়তায় ইরা ও তাঁর বড় বোন গীতা কর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করেন। নারী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি 'গোবরা শিবির'-এর প্রথম যে পাঁচজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, এই দুই বোন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। স্বজন হারানোর বেদনা আর দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়েই শুরু হয় তাঁদের এই নতুন লড়াই।
পরবর্তীতে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে আরও নারী এসে এই ক্যাম্পে যুক্ত হতে থাকেন। ইরা করের ভাষায়, সেখানে জমা হয়েছিল “৪০০ মেয়ে, ৪০০ রকমের জীবনের গল্প।” শিরিন বানু মিতিল, লায়লা পারভীন বানু, খাদিজা আখতার কিংবা মনিকা ব্যানার্জির মতো ব্যক্তিত্বরা উঠে এসেছিলেন এই আঙিনায়। সেখানে শুধু অস্ত্র চালানো বা ক্রলিং শেখানো হতো না; চলত গোয়েন্দাগিরি ও রণাঙ্গনের প্রাথমিক চিকিৎসার নিবিড় প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইরা কর জানান, ২ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের কার্যক্রম শুরু হয়। পরিধেয় হিসেবে একটি ধুতি, আর নিত্যব্যবহারের জন্য একটি মগ ও টিনের থালা—এটুকুই ছিল সম্বল। নিরাপত্তা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে রাতে আলো জ্বালানো কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর ছিল কড়া নিষেধাজ্ঞা। যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সেখানে প্রশিক্ষণ দিতে আসতেন। ফরাসি বা কিউবান বিপ্লবের মতো বিশ্বের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে তাঁদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা হতো।
প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে তাঁদের হাতে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ১৫ জনের একটি দলকে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয় আগরতলা সীমান্তের উদ্দেশে। নানা অসংগতি আর পথভুল পেরিয়ে একসময় তাঁরা যুক্ত হন ঐতিহাসিক বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে। সেখানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম, ডা. এম. এ. মবিন, ডা. নাজিম ও ডা. মোর্শেদের মতো চিকিৎসকরা তাঁদের স্বাগত জানান এবং সরাসরি চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত করেন। সেখানেই ইরা কর পাশে পান সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, নিলীমা বৈদ্য, বাসনা চক্রবর্তী ও পদ্মা রহমানের মতো সহযোদ্ধাদের।
দিন যত গড়াচ্ছিল, রণাঙ্গন থেকে আসা আহতদের সংখ্যা ততই বাড়ছিল। কারো হাত নেই, কারো পা উড়ে গেছে—এমন সব বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হতো প্রতিদিন। অথচ শারীরিক যন্ত্রণা ছাপিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে মুখে ছিল স্বাধীন স্বদেশের এক অবাস্তব সুন্দর স্বপ্ন। একটু সুস্থ বোধ করলেই তাঁরা আবার রণাঙ্গনে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেন। মৃত্যু যেখানে একদম নিকটবর্তী, সেখানেও অদম্য মনোবল ধরে রাখতে এই স্বেচ্ছাসেবীরা আহতদের দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনাতেন।
১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও ইরা ও গীতা কর তড়িঘড়ি করে ফিরতে পারেননি। তখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু আহত যোদ্ধা। তাছাড়া এতদিন পরিবারের কোনো খবরও তাঁদের জানা ছিল না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, দেশ স্বাধীন হলেও পুনর্গঠনের লড়াই কেবল শুরু। অবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি কুমিল্লার সোনামুড়া সীমান্ত দিয়ে স্বাধীন দেশে পা রাখেন দুই বোন।
রাজবাড়ীর নিজ ভিটায় ফিরে দেখেন ভিটেমাটি একবারে উজাড়। ঘরবাড়ি ভাঙাচোরা, আর তার মধ্যেই কোনোমতে মাথা গুঁজে আছেন পরিবারের ১২ জন সদস্য। বাবা ও কাকা নিহত হওয়ায় আয়ের কোনো পথ ছিল না; দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করাই তখন এক পর্বতসম চ্যালেঞ্জ।
যে নারী একাত্তরে বাবার শেষকৃত্যটুকু করার সুযোগ পাননি, তিনিই দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু সঁপে দিয়েছিলেন আহত যোদ্ধাদের সেবায়। ইতিহাসে এই নীরব সেিক্সটর ও তাঁর নিঃশব্দ আত্মত্যাগ চিরকাল গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


 

July 25, 2026

কারও কথায় কান দেবেন না, বিএনপি আপনাদের নিরাপত্তা দেবে

 ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়া রথখোলায় শ্রী শ্রী যশোমাধবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উল্টো রথ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার ও বিচার নিশ্চিত করবে। তিনি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বলেন, ‘কারও কথায় কান দেবেন না। আপনারা যেন ন্যায্য পাওনা পান, সে ব্যবস্থা বিএনপি করবে।’

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উল্টো রথ টানের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজন কান্তি সরকার বলেন, ‘অনেকে এসে বলে থাকেন, আপনাদের নিরাপত্তা হবে না, আপনারা এ দেশে থাকতে পারবেন না। আজ আমরা এসেছি সেই কথা মিথ্যা প্রমাণ করতে। আপনারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, এখন বিএনপির পালা। আপনারা শিক্ষা, হাসপাতাল, চাকরি, সব জায়গায় ন্যায্য অধিকার পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বকশিশ চাই না, হিসাবের পাওনা চাই। সনাতনী, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই।’

উল্টো টানে শেষ হলো রথযাত্রা

গত ১৬ জুলাই যশোমাধবকে নিজ মন্দির থেকে মাসির বাড়িতে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এ বছরের রথযাত্রা। শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে শুরু হওয়া এই উৎসবের আট দিন পর শুক্রবার উল্টো রথ টেনে যশোমাধবকে আবার কায়েতপাড়া রথখোলায় ফিরিয়ে আনেন ভক্তরা। এ সময় নারী-পুরুষের ঢল নামে রথের পথে এবং ভক্তরা চিনি ও কলা ছিটিয়ে ভক্তি নিবেদন করেন।

রথযাত্রা শেষ হলেও ধামরাই পৌর এলাকায় মাসব্যাপী মেলা চলবে, যেখানে খাবার, প্রসাধনী, খেলনা ও নিত্যপণ্যের প্রায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ মন্দির কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক।

জগন্নাথ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক বলেন, ‘উল্টো রথের মধ্য দিয়ে এ বছরের রথযাত্রা শেষ হলো। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজন সফল হয়েছে। মাসব্যাপী মেলা চলবে।’

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন জানান, পুরো আয়োজন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।


 

July 25, 2026

'আইনের সীমাবদ্ধতা এবং হিন্দু বিয়ের গ্যাঁড়াকল'

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু নারীদের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের আইনি পথ আজও কার্যত রুদ্ধ। ধর্মীয় আইনের জটিলতায় বিবাহবিচ্ছেদের সুস্পষ্ট কোনো বিধান না থাকায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য নারী পারিবারিক অত্যাচার ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কোলি রায় (ছদ্মনাম) নামের এক নারী চিকিৎসকের জীবনযাত্রা সেই বাস্তবতারই দর্পণ।

পেশায় একজন সফল চিকিৎসক কোলি রায়ের সঙ্গে ২০০৯ সালে দেশের এক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুজন শুভ্রর (ছদ্মনাম) সঙ্গে বিবাহ হয়। তবে বিবাহের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে সুজন শুভ্র সংসার করতে অস্বীকৃতি জানান, অন্যদিকে তিনি আইনি বিচ্ছেদেও সম্মত হননি। এর ফলে কোলি রায় আইনি লড়াইয়ে নামলেও ১৯৪৬ সালের হিন্দু অবিবাহিতা নারীদের পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণ আইনে বিবাহবিচ্ছেদের কোনো বিধান না থাকায় তিনি আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।

বর্তমানে কোলি রায় তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে একা বসবাস করছেন এবং দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এই বিবাহবন্ধন থেকে মুক্তি চাইছেন। তিনি জানান, স্বামী সংসারেও রাজি নন, আবার বিচ্ছেদেও রাজি নন—যার ফলে তিনি সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।

আইন কী বলে?
১৯৪৬ সালের আইনে একজন হিন্দু নারী স্বামীর অত্যাচার, পরিত্যাগ বা দ্বিতীয় বিবাহের মতো কিছু বিশেষ শর্তে পৃথক বসবাসের আবেদন করতে পারেন। তবে এই আইনে কোনো স্থায়ী বিবাহবিচ্ছেদের বিধান নেই। ২০১২ সালে ‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন’ প্রণীত হলেও তা ঐচ্ছিক রাখায় এর বাস্তব প্রয়োগ সীমিত। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বা পুনর্বিবাহের আইনি সুযোগ থেকে হিন্দু নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উদাহরণ:
ভারতের ‘হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫’, নেপালের ‘দেওয়ানি আইন, ২০১৭’ এবং শ্রীলঙ্কার বিবাহ সংক্রান্ত আইনে হিন্দু নারীদের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট বিধান থাকলেও বাংলাদেশে এই সংস্কার এখনো হয়নি।

আদালতের ভূমিকা ও পরবর্তী করণীয়:
২০২৩ সালে নয়টি মানবাধিকার সংগঠন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে হিন্দু নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও অভিভাবকত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনি নির্দেশনা চায়। হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও আইনি শূন্যতার কারণে হাজারো হিন্দু নারী প্রতিদিন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে নারীর সমঅধিকার স্বীকৃত হলেও বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিধিবদ্ধ ‘হিন্দু বিবাহ আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে তা সুরক্ষিত করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন আইনবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা।


 

Friday, July 24, 2026

July 24, 2026

মানিকগঞ্জে মন্দিরে চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই নারী আটক


মানিকগঞ্জ পৌরসভার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী মন্দিরে চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মন্দির এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আটক দুই নারী হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হালুয়াপাড়া এলাকার বিলকিস আক্তার (২০) এবং লাখাই উপজেলার মৌশাদিয়া এলাকার মিনা আক্তার (১৯)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান চলাকালে শত শত ভক্তের সমাগম ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দুই নারী শাঁখা-সিঁদুর পরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর পরিচয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে প্রসাদ গ্রহণের সময় এক নারী ভক্তের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন চুরি করার চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজন তাদের হাতেনাতে আটক করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকের পর ক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারধর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার জানান, মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, মন্দিরে অনুষ্ঠানের সময় চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আরও তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, চুরির অভিযোগ ও অন্যান্য দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্তরা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন যতক্ষণ না তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

 

July 24, 2026

বানারীপাড়ায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে যুবককে আটক, জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ


বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবককে আটক করে জনসম্মুখে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের একতারহাট এলাকার গোপাল মার্কেটে ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম সঞ্জিব রায় (২৭)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শরত রায়ের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে কিছু লোক তাকে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরে সঞ্জিব রায় জনসম্মুখে হাতজোড় করে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এ সময় তাকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে সঞ্জিব রায়কে তার বাবা শরত রায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


 

July 24, 2026

মহাসমারোহে উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়


মহাসমারোহে উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা উৎসব শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জোড়াগেটস্থ প্রেমকাননে অঙ্গণে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দির, টুটপাড়া গাছতলা মন্দির ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) খুলনার আয়োজনে এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার সার্বিক পরিচালনায় হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে মহাধুমধামের সাথে উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। তারা নিজ ধর্মের প্রতি অনুরাগী ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এ দেশের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই বন্ধন অটুট রেখে দেশের সকল মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আমাদের অব্যাহতভাবে এগিয়ে যেতে হবে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব মোঃ শরিফুজ্জামান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার ম-ল, ইসকন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি গৌড়েশ্বর নিমাই দাস ব্রহ্মচারী। মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এস্টেট অব শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দিরের ট্রাস্টি গোপী কিষণ মুন্ধড়া। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন খুলনা জেলা সাবেক সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ কর্মকার, টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু ম-ল, সাউথ সেন্ট্রাল রোড শ্রীশ্রীরাধামাধব মন্দিরের সভাপতি শান্ত বৈকু- দাস, মহানগর পূজা পরিষদের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু, কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, সম্পাদকম-লীর সদস্য বাবলু বিশ্বাস, শিবনাথ ভক্ত, উজ্জ্বল কুমার গাঙ্গুলী, সাংবাদিক বিমল চন্দ্র সাহা, প্রবীর বিশ্বাস, মহাদেব সাহা, ডাঃ দিলীপ কু-ু, গৌতম কু-ু, গৌরাঙ্গ সাহা, তাপস সাহা, বৈষ্ণব বলরাম দাস, প্রদীপ সাহা মদন, তরুণ রায় শিবু, দীপক দত্ত, ভবেশ চন্দ্র সাহা, সুজিত মজুমদার, সুশান্ত ব্যানার্জী, শঙ্কর পোদ্দার, রূপন কুমার দে, বাবু শীল, ডা. পরিতোষ রায়চৌধুরী, অঞ্জন কুমার দে, ভোলানাথ দত্ত, রাজদ্বীপ ঘোষ, সুরেশ চক্রবর্ত্তী, দিপঙ্কর সাধু, অলোক দে, রবীন দাস, রাজকুমার হেলা, কুমার লাল, সুশীল দাস, সত্যরঞ্জন পোদ্দার, অসিত চক্রবর্ত্তী, স্বপন চক্রবর্ত্তী, অম্লান সরদার, রাজকুমার আগরওয়ালা, মিনা রানী মুন্ধড়া, শরৎ কুমার মুন্ধড়া, দেবীপ্রসাদ ঘোষ, সঞ্জয় আগরওয়ালা, নীলকান্ত দত্ত, পরিতোষ হালদার, অশোক ঘোষ, দুলাল সরকার, নারায়ণ দাস, ইন্দ্রজিৎ কু-ু গোপাল, পলাশ সাহা, দেবকুমার হালদার, সুব্রত হালদার, শক্তিপদ দাস শর্মা, বিমল কু-ু, সাধন ঘোষ, অশোক সেন, মানিক কু-ু, দিলীপ সাহা, লিটন ম-ল, সদর থানা সভাপতি বিকাশ সাহা মদন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সরকার, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি বিপ্লব মিত্র, সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র পোদ্দার, দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ অধিকারী, খালিশপুর থানা সভাপতি রজত কান্তি দাস, সাধারণ সম্পাদক দীপক দত্ত, খানজাহান আলী থানা সাধারণ সম্পাদক সুভাষ দত্ত, লবণচরা থানা সভাপতি ডাঃ শেখর পাল, হরিণটানা থানা সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন রায়, আড়ংঘাটা থানা আহ্বায়ক আশিষ কবিরাজ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির সঞ্জীত বণিক, পরিমল দাস, সন্ধ্যা বিশ্বাস, নিতাই সরদার, শ্যামল মিস্ত্রী, তপু দাস, রতন বণিক, উজ্জ্বল রায়, গোপাল ঘোষ, পলাশ হালদার, তাপস তালুকদার, অনুপ সরকার, অমিত সাহানি, দিব্য সাহা, মিমু দাস প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন মন্দির থেকে আগত ও পারিবারিক রথসমূহ ভক্তবৃন্দ শঙ্খ, ঘণ্টা, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উলুধ্বনি সহকারে ব্যানার-ফেস্টুন-প্লাকার্ড নিয়ে নৃত্যকীর্ত্তন করতে করতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে রথের দড়ি টেনে প্রেমকানন হতে রথ স্ব-স্ব মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করে এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। রথ চলার পথে বহুমূর্তি সুসজ্জিত শ্রীজগন্নাথ-বলদেব সুভদ্রা মহারানীর রথ দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থি ভক্তবৃন্দের সমাগম হয়। এ সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন জলছত্রের মাধ্যমে পিপাসার্ত ভক্তদের পিপাসা নিবারণ ও প্রসাদ বিতরণ করে। পরিশেষে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন, কেএমপি, সিটি কর্পোরেশন, কেডিএ, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, মন্দির কমিটিসহ যাঁরা অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
 

"
"