কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, April 13, 2026

April 13, 2026

মধ্যরাতে ইসরায়েলে হামলা শুরু করল লেবাননের যোদ্ধারা

 

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের দুটি শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। সর্বশেষ এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ২০ মিনিটে Kiryat Shmona শহর লক্ষ্য করে প্রথম দফা রকেট ছোড়া হয়। এরপর রাত ২টা ৪৫ মিনিটে Dovev বসতিতেও আরেক দফা হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
গোষ্ঠীটির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, বসতি, ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তত ৪৩টি পৃথক হামলা চালিয়েছে। এতে সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে চলমান থাকা পর্যন্ত আমাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।” এ বক্তব্যের মাধ্যমে গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই সংঘাতকে দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, Israel Defense Forces (আইডিএফ) এখনো এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পাল্টা হামলাকে একটি প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিরোধ, যার মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং তার জবাবে হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের জন্য দায়ী করছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটের নিরাপত্তাও এর ফলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনেও মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী শহর ও বসতিগুলোতে বসবাসকারী নাগরিকরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। রাতের বেলায় হঠাৎ রকেট হামলার আশঙ্কা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, সংঘাতের দ্রুত অবসান এখনো অনিশ্চিত। হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলা এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা নতুন করে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই নজরে রাখছে বিশ্ববাসী।


April 13, 2026

ঝিকরগাছায় নিজেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিল আহত হনুমান

 

যশোরের ঝিকরগাছায় আহত একটি হনুমান নিজেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে পৌঁছে হনুমানটি চিকিৎসা শেডের একটি টেবিলে উঠে বসে। পরে সেটি ফার্মেসি কক্ষে ঢুকে বিভিন্ন ওষুধের বোতল খুলে গন্ধ নেয় এবং কিছু খাওয়ার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার ও প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান শেখ প্রাণীটির চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা চলাকালে হনুমানটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ছিল এবং কোনো ধরনের প্রতিরোধ করেনি।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হনুমানটির শরীরের পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়। আহত হওয়ার পর প্রাণীটি চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এটি ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার দিকেও গিয়েছিল।
চিকিৎসকরা ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে ভায়োডিন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হনুমানটির আচরণ ছিল অনেকটা বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের মতো, যেন নিজেই তার কষ্ট ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করছিল।
এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। আহত প্রাণীটিকে চিকিৎসা দেওয়ায় চিকিৎসকদের মানবিকতায় প্রশংসা করছেন অনেকে।


April 13, 2026

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালিটি বেসামরিক নৌযানের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও কোনো সামরিক জাহাজকে সেখানে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। রোববার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ সতর্কবার্তা দেয়।
Islamic Revolutionary Guard Corps–এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের আলোকে Hormuz Strait বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে কোনো সামরিক উপস্থিতি সহ্য করা হবে না। কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ প্রণালির আশপাশে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইআরজিসির দাবি, তারা প্রণালিটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং সেখানে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে থাকে। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা কেবল নিরাপত্তাজনিত নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান মনে করছে, এই প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হলে তা সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে এবং যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, বেসামরিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও তারা সচেতন। তবে সামরিক জাহাজের ক্ষেত্রে তারা কোনো ছাড় দেবে না বলে স্পষ্ট করেছে।
আন্তর্জাতিক মহল এ পরিস্থিতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ, এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই অবস্থান একদিকে যেমন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এটি একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আবার যদি কূটনৈতিক পথে সমাধানের চেষ্টা করা হয়, তাহলে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বেসামরিক জাহাজ চলাচল চালু থাকলেও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন নজর থাকবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


 

April 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে অনড় ইরান, পাকিস্তানের বৈঠক ভেস্তে গেল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। পরবর্তীতে White House জানায়, নির্ধারিত একাধিক শর্তে ইরান সম্মত না হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে।
CNN–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে তেহরান এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নির্ধারিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা, পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্ত হওয়া, হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি গোষ্ঠীর মতো মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করা এবং Hormuz Strait সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা।
ইসলামাবাদ ত্যাগের সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স জানান, ইরানের সামনে যুক্তরাষ্ট্র ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব দিয়েছে এবং এখনো সেই প্রস্তাব গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও আলোচনা পুরোপুরি নেতিবাচক পরিবেশে হয়নি। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত পর্যায়ের পারস্পরিক বোঝাপড়াও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবিগুলোতে ইরানের আপত্তি থাকায় সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখায় আলোচনায় তেহরান তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে মার্কিন পক্ষের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরান দুর্বল হয়েছে এবং বর্তমান প্রস্তাব মেনে নেওয়াই তাদের জন্য বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।


 

Sunday, April 12, 2026

April 12, 2026

প্রথমবারের মত ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার একজন মুসলিম

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হয়ে আসছেন আরিফ মোহাম্মদ খান। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। এমনকি বিশ্বেও এমন দৃষ্টান্ত একেবারেই নগণ্য। 
কারণ, আরিফ মোহাম্মদ খান ৪০ বছর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা তার। কিন্তু, কেন তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে? 
আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক খেলোয়াড়। রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ছাত্র থাকার সময়ে। কংগ্রেসসহ একাধিক সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। সবশেষ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। বর্তমানে বিহারের গভর্নর। উনি কেরালা গভর্ণরও ছিলেন। উনি একজন বিশিষ্ঠ ইসলামিক স্কলার।
ভারত কাঁপিয়ে দেওয়া একটি মামলা ছিলো-শাহ বানুর তালাক। ওই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ছিলেন আরিফ মোহাম্মদ খান। তখন লোকসভায় দাঁড়িয়ে শাহ বানুর রায়ের পক্ষে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি, যার ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, ভারতে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের পক্ষ নেবে সরকার।
কিন্তু বান্তবে তা হয়নি। রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস সরকারের অবস্থান হয় উল্টো। আর সেই সময়ের প্রভাবশালী তরুণ প্রতিমন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভা, এমনকি কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন। বাবরি মসজিদ ভাঙার যে রাজনীতি, তা সবার আগে উপলব্ধি করেছিলেন আরিফ মোহাম্মদ খান। মুসলিম রক্ষণশীলদের উত্থানের তীব্র বিরোধীতা করেছিলেন তিনি।   
ভারতে তরুণ বয়সে যে কয়জন ব্যক্তি মন্ত্রী হয়েছিলেন, আরিফ মোহাম্মদ খান ছিলেন তাদের অন্যতম। অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ব্যক্তি রাজীব গান্ধীর খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু শাহ বানুর মামলায় রাজীব গান্ধীর অবস্থান নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস ত্যাগ করেন। 
 কংগ্রেস ত্যাগ করে অন্যদলে যোগ দেন আরিফ খান। ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবি ঘটে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের। এই ভরাডুবির পেছনে আরিফ মোহাম্মদ খানের কংগ্রেস ত্যাগকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। 
কারণ, শাহ বানুর মামলার রায় ঘোষণার কয়েকমাসের মধ্যেই ঘোলাটে হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিবেশ। রাজীব গান্ধীর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ও রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতারা। ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে কয়েকটি উপনির্বাচন হয়। সেখানে ভরাডুবি ঘটে কংগ্রেস প্রার্থীদের। ভয় পেয়ে যান রাজীব গান্ধী। মুসলিম ভোট ব্যাংক হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পেয়ে বসে তাকে। 
এক সময় রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন আরিফ মোহাম্মদ খান। বলা হয়ে থাকে, আরিফের কথামতোই চলতো রাজীবের সরকার। 
কিন্তু মুসলিম তোষণ করতে গিয়ে আরিফ খানকে এড়িয়ে চলা শুরু করেন তরুণ প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। আরিফ খানকে কিছু না জানিয়েই রক্ষণশীল আলেমদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু করে সরকারের শীর্ষ মহল। রাজীব গান্ধী সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, মুসলিম ভোট ধরে রাখতে হলে ওলামাদের সঙ্গে আপস করতেই হবে।
ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আসন নিয়ে ভারতে ক্ষমতায় এসেছিলেন রাজীব গান্ধী। তরুণ প্রধানমন্ত্রীকে সবাই আধুনিক ও প্রগতিশীল নেতা হিসেবে দেখতেন। আশা করা হয়েছিল, তার হাত ধরে ভারতে বড় ধরনের সামাজিক সংস্কার আসবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার ওপর জল ঢেলে দিয়ে রাজীব গান্ধী শেষ পর্যন্ত ওলামাদের পক্ষেই দাঁড়ালেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, সুপ্রিম কোর্টের শাহ বানু রায়কে কার্যত অকার্যকর করে দিতে নতুন আইন পাস করা হবে সংসদে।
১৯৮৬ সালে সংসদে ‘মুসলিম মহিলা (বিবাহবিচ্ছেদে অধিকার সুরক্ষা) বিল’ আনার ঘোষণা দেয় সরকার। এর বিরোধিতা করেন আরিফ মোহাম্মদ খান। ক্ষোভ ও হতাশায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে পরে বিলটি পাসও করে নেয় কংগ্রেস। ইতিহাসে এই ঘটনাই পরিচিত হয়ে যায় “শাহ বানু রায়কে উল্টে দেওয়া” হিসেবে। কার্যত, সুপ্রিম কোর্টের মানবিক ও প্রগতিশীল রায় অকার্যকর হয়ে যায় সংসদের এক ভোটে।
এরপরই আরিফ খান মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস ত্যাগ করেন। কিন্তু তার পথচলা থেমে যায়নি। একাধিকবার মন্ত্রী হয়েছেন। শেষে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
সেই আরিফ খানকেই এবার ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে হাইকমিশনার করে। ভারত সরকার এর আগে এত বড় প্রোফাইলের কাউকে কখনো রাষ্ট্রদূত করেছে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে। আর বাংলাদেশেই কেন এত বড় ঝানু রাজনীতিককে পাঠানো হচ্ছে? 
আরিফ খান বাংলাদেশে হাইকমিশনার হয়ে এলে তার পদমর্যাদা কী হবে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাকে হয়ত পাঠানো হবে ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে। এর কম দেওয়াটা তার ক্ষেত্রে মানায় না। 
আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদকে কেন বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠানো হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে বাংলাদেশ ও ভারতে।


 

April 12, 2026

সিরাজগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে হিন্দু পরিবারে উপর হামলা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখারা ইউনিয়নের উটরাহাজিরপুর গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ এপ্রিল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা অমৃত কুমার মাহাতো, তার স্ত্রী বাসন্তী রাণী মাহাতো ও ছেলে অপূর্ব মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী একটি জমি ব্যবহার করে আসছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে তারা ওই জমিতে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মইনুল হক, আইনুল হক, নুরুল হক ও রশিদসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। হামলায় বাসন্তী রাণী মাহাতো ও অপূর্ব মাহাতো গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হামলার পর অভিযুক্তরা নিজেদের আহত দেখিয়ে পাল্টা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।


 

April 12, 2026

এক বাড়িতে আড়াই হাজার এলপিজি সিলিন্ডার জব্দ, ডিলারকে জরিমানা

বরিশালের বানারীপাড়ায় অনুমোদনের অতিরিক্ত এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে এক ডিলারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই হাজার গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ডিলারকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বাইজিদুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)–এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযানে শামসুল আলম শিমু নামে এক ডিলারের বাড়ি থেকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ২ হাজার ৫০০ গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। অথচ তার অনুমোদন ছিল সর্বোচ্চ ৪০টি সিলিন্ডার মজুদের।
ভ্রাম্যমাণ আদালত অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অপরাধে শামসুল আলম শিমুকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। পরে জরিমানা পরিশোধ করায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ বাড়িতে এসব সিলিন্ডার মজুদ রেখে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। অভিযানে স্থানীয় থানা পুলিশও সহায়তা করে।
কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোরাচালান ও কৃত্রিম সংকট রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


 

April 12, 2026

খানজাহান আলী মাজার এর দিঘিতে কুকুরের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত কমিটি গঠন

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজার প্রাঙ্গণের দিঘিতে একটি কুকুরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছায়েব আলী এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজন দর্শনার্থীকে কামড় দেয়। পরে সেটি দিঘিতে পড়ে গেলে সেখানে থাকা কুমির আক্রমণ করে। তবে কুকুরটি নিজে পানিতে পড়ে নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মানত হিসেবে আনা পশু-পাখি কুমিরকে না দিয়ে একটি চক্র আত্মসাৎ করে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। যদিও মাজারের খাদেমরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
খাদেম মেহেদী হাসান তপু বলেন, কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং মানুষের ওপর আক্রমণ করছিল। কুমির আক্রমণের পর সেটিকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম জানান, দিঘির কুমিরগুলো ঐতিহ্যের অংশ এবং বর্তমানে সেগুলো সুন্দরবনের কুমির প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।


 

April 12, 2026

ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব, তবু অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া অনিশ্চিত শুভর

গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের সি ইউনিট (বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দশম হয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শুভ কুমার শীল। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ইউনিটে ৪০৪তম এবং বি ইউনিটে ৪৪২তম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তবে অর্থাভাবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রতিকূলতা পেরিয়েই এ সাফল্য পেয়েছেন শুভ। ‘নাজাল অবস্ট্রাকশন’ নামের জটিল রোগে ভুগেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে না পেরে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকদের মতে, নাকের ভেতরের হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং পুনরায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শুভর বাবা নারায়ণ কুমার শীল পেশায় নাপিত। তার আয়েই চার সদস্যের সংসার চলে। মা গৃহিণী এবং বড় ভাই বেকার। আর্থিক সংকটের কারণে বড় ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও শুভ টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন।
তিনি ২০২২ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৬১ এবং ২০২৪ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০৮ অর্জন করেন। অর্থাভাবে নিয়মিত কোচিং করতে না পারলেও বন্ধুদের সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করেন।
শুভ জানান, পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ জোগানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। অতীতে এক আত্মীয়ের সহায়তা পেলেও বর্তমানে সেই সহায়তাও বন্ধ হয়ে গেছে। যাতায়াত খরচের অভাবে নিয়মিত কলেজে যেতেও সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শুভ। তবে বর্তমান আর্থিক সংকট কাটাতে না পারলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।


 

April 12, 2026

সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগ করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। রোববার (১২ এপ্রিল) Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
Islamabad-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়।
ভ্যান্স জানান, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে আর কোন বিষয়ে নয়, তা পরিষ্কার করা হলেও ইরান সেই শর্তে রাজি হয়নি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও Iran-এর প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর দুই দেশের মধ্যে এমন সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেবানন সংকট ও ইরানের জব্দ সম্পদ ইস্যুতে মতবিনিময় হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা এটিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন।



 

"
"