কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, July 28, 2026

July 28, 2026

আগৈলঝাড়ায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় দুই সাংবাদিকের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক অমিয় কর ও প্রভাত কর গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ আগৈলঝাড়া উপজেলায় একদল ব্যক্তি সাংবাদিক অমিয় কর ও প্রভাত করের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের মাথায় গুরুতর জখম করে এবং পরে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ওপরই গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে।
July 28, 2026

নাবালিকা অপহরণের অভিযোগ ঘিরে হিন্দু সংগঠক তুষার গাইন গ্রেফতার

কোটালীপাড়ায় এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে অপহরণ ও প্রলোভনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু সংগঠক তুষার গাইনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মেয়েটির পরিবারের দাবি, তাদের নাবালিকা কন্যাকে এক প্রবাসী যুবক বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবকের পরিবারের প্রভাবে মেয়েটি প্রথমে নিজ পরিবারের কাছে ফিরতে অনীহা প্রকাশ করে। এ ঘটনায় পরিবারের বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

এদিকে, পরিবারের বক্তব্য প্রচারের জেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে তুষার গাইনকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তুষার গাইনের সমর্থকদের দাবি, তিনি কেবল পরিবারের অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন এবং নাবালিকাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মেয়েটিকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মেয়েটির পাসপোর্টে জন্মসাল ২০০৯ উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন বয়স-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তুষার গাইনের সমর্থকদের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা তার দ্রুত ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ, প্রশাসন কিংবা মামলার বাদীপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।
July 28, 2026

শহরে আভিজাত্য ছেড়ে গ্রামে স্বপ্ন বুনছেন ‘ফার্স্ট ক্লাস’ বিউটি পাল

 ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে রিল ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়া সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের পক্ষে এবার কথা বলেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক মো. বদরুজ্জামান বাপ্পি। ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি বিউটি পাল ও তার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সহপাঠী বিউটি পাল সম্পর্কে বাপ্পি লিখেছেন, আমাদের ব্যাচের ৬০ জনের মধ্যে অনেকে বর্তমানে দেশ-বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, কিন্তু বিউটি পাল ও মাসুদুল ইসলাম রানা বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে অবহেলিত স্তর। ফলাফল ছিল ফার্স্ট ক্লাস, যোগ্যতা ছিল উজ্জ্বল—তবু তাঁরা শহুরে আরাম বাদ দিয়ে গ্রামের শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

যে বাস্তবতায় তাঁরা কাজ করেন

বাপ্পি তার পোস্টে তুলে ধরেন, বিউটি পাল কর্মরত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ কিংবা মাসুদুল ইসলাম রানার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম—যেখানে এখনো ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, নেই শিক্ষকদের জন্য বই কেনার প্রণোদনা, নেই ইন্টারনেট ভাতা। তিনি লেখেন, ‘তাদের অপরাধ—নীল রঙের শাড়ি পরে শিশুদের পড়ানো, বাতাসে চুল উড়িয়ে স্বপ্ন দেখা। তাদের অপরাধ—গ্রামের শিশুদের ইংরেজি শেখানো, টুইংকেল টুইংকেল গাইতে শেখানো। যেন এসব শুধু শহরের শিশুদের জন্যই বরাদ্দ!’

‘শিক্ষার মাধ্যমেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশ’

বাপ্পি নিজেও একজন শিক্ষক দাবি করে লেখেন, ১৩ বছরের শিক্ষকতায় তিনি কোনো ক্লাস মিস করেননি। তিনি মনে করেন, শিক্ষার মাধ্যমেই বাংলাদেশ বদলে যেতে পারে। বিউটি পাল ও মাসুদুল ইসলাম রানার মতো শিক্ষকরাই সেই স্বপ্নের সৈনিক। তিনি শেষে লেখেন, ‘স্যালুট বিউটি পাল, মাসুদুল ইসলাম রানা এবং তোমাদের মতো শত শত স্বপ্নবাজ শিক্ষককে।’

বদরুজ্জামান বাপ্পির এই পোস্ট ভাইরাল হলে আবারও আলোচনায় ফিরে আসে বিউটি পালের নাম। এবার সমালোচনার বদলে প্রশংসার ঝড় উঠেছে শিক্ষিকা ও তার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের নিয়ে।
July 28, 2026

শনিতে বছরে এক হাজার টন হীরা তৈরি হয়, দাবি বিজ্ঞানীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০২৬: সৌরজগতের অন্যতম রহস্যময় গ্রহ শনি। নিজস্ব বলয় ও মেঘের আস্তরণের কারণে এর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা কঠিন হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ হীরা তৈরি হচ্ছে। বছরে অন্তত এক হাজার টন হীরা তৈরি হওয়াও সেখানে অস্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেছেন তারা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেভিন বাইনেস এবং নাসার যৌথ গবেষণার কথা। গবেষকদের মতে, শনির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, হিলিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর মিথেন গ্যাস। সেখানে মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি হওয়া প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের সময় মিথেন অণু ভেঙে কার্বন তৈরি করে। সেই কার্বন ঝরে পড়তে থাকে শনির অভ্যন্তরের দিকে, যেখানে চাপ ও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

চাপ ও তাপে কার্বনের রূপান্তর

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে চাপের প্রভাবে কার্বন প্রথমে গ্রাফাইটে পরিণত হয়, যা পেনসিলের সিসের মতো। পরে আরও গভীরে অতি উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় সেই গ্রাফাইট শক্ত হীরাতে রূপ নেয়। পৃথিবীর চেয়ে আয়তনে অনেক বড় শনি গ্রহের বিভিন্ন স্তরে চাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই এই রূপান্তর ঘটে।

গবেষকেরা আরও জানান, শনির অভ্যন্তরের প্রচণ্ড তাপের কারণে অনেক হীরা গলে তরল অবস্থায়ও থাকতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা মহাকাশযানের কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে শনির মতো কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে এই প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত হয়েছেন।

এ দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে আলোচনা চললেও, এটা সত্যি হলে শনি হয়ে উঠবে সৌরজগতের সবচেয়ে মূল্যবান ‘হীরার খনি’।
July 28, 2026

‘আমি আগে মানুষ’: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিয়ে আলোচনায় আজহারুল

‘তুমি হিন্দু?’—প্রশ্নের জবাবে ‘আমি আগে মানুষ’—এই এক লাইনের কথোপকথনই যথেষ্ট ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলতে। সম্প্রতি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তরুণ আজহারুলের এই সংলাপ ভাইরাল হয়েছে, আর তাতেই প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বানানো ‘রাজিব শাহের আস্তানাসহ’ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এক ব্যক্তি আজহারুলকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি হিন্দু?’ জবাবে আজহারুল বলেন, ‘আমি আগে মানুষ।’ এই উত্তরেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা আজহারুলের কথায় ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’—এই বাণীর প্রতিধ্বনি খুঁজে পেয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘এই তরুণ প্রমাণ করেছেন, ধর্মের চেয়ে মানুষ বড়।’

আজহারুল যা বললেন

ভাইরাল হওয়ার পর আজহারুল মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘এই জায়গায় যদি মসজিদের বদলে নতুন করে কোনো মন্দির নির্মাণ করা হতো, তাহলেও আমি একইভাবে বলতাম, এখানে মসজিদ ও গির্জা নির্মাণের সমান অধিকারও থাকতে হবে। প্রয়োজনে মসজিদ নির্মাণে আমি নিজেই অর্থায়ন করতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে প্রশ্নটি কোনো একটি ধর্মের নয়, প্রশ্নটি ন্যায্যতা, সমঅধিকার ও আইনের সমান প্রয়োগের। এই নীতির ক্ষেত্রে আমি একবিন্দুও ছাড় দিতাম না।’

আজহারুল তার পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মন্তব্যগুলো দেখে মনে হয়েছে সনাতনী ভাই-বোনদের পাশাপাশি খুব অল্প কিছু মুসলিম ভাই-ই তাকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু ধর্মকে পরিচয়ের ভিত্তি বানালে আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাই। তাই আমার ধর্ম আমার অন্তরে। এটি মাইক দিয়ে ঘোষণা করা বা উচ্চস্বরে বলার প্রয়োজন আমি অনুভব করি না। কারণ সৃষ্টিকর্তা তো জানেন আমরা কী করছি, কী বিশ্বাস করছি এবং কাকে উপলব্ধি করছি।’

তরুণের এই বক্তব্যকে ‘মানুষের জয়গান’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। তিনি এখন মানুষের কাছে ‘সেই তরুণ’ হিসেবে পরিচিত হয়েছেন, যিনি এক প্রশ্নে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
July 28, 2026

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার: প্রাথমিক সতর্কতা চিনবেন যেভাবে


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৮ জুলাই ২০২৬: ক্যানসার নামটাই যেন আতঙ্কের। তবে বেশিরভাগ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই ভালো সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ নির্ণয় জীবন বাঁচাতে পারে—কিন্তু এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে অনেক সময় সাধারণ রোগ ভেবে ভুল করা হয়।

সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রার মতে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

যে তিনটি লক্ষণে সতর্ক হবেন

১. মুখে দীর্ঘস্থায়ী ঘা (২-৩ সপ্তাহের বেশি): সাধারণত পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা ভুল ডেন্টারের কারণে ঘা হলে কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরও যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ঘা না শুকায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা ও টিস্যু বায়োপসি করানো উচিত। এটি প্রি-ক্যানসার বা প্রাথমিক মুখের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

২. কণ্ঠস্বর ভাঙা বা কর্কশ হওয়া: সাধারণ সংক্রমণে গলার স্বর পরিবর্তন হয়, কিন্তু তা অল্পদিনে ঠিক হয়। তবে ধূমপায়ী বা তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে যদি নিয়মিত চিকিৎসার পরও কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকে, তবে তা গলা বা স্বরযন্ত্রের (ল্যারিংস) ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। এক্ষেত্রে ল্যারিঙ্গোস্কোপিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

৩. ঘাড়ে গুটলি বা ফোলাভাব: এটি সাধারণত রোগের পরবর্তী ধাপের লক্ষণ, অর্থাৎ ক্যানসার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত। অনেক সময় মূল টিউমারটি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকে, কিন্তু ঘাড়ের গুটলি দেখেই রোগী সচেতন হন। তাই এটিকে প্রথম সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাথমিক শনাক্তকরণে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব

ডা. মালহোত্রা জানান, রোবোটিক ও লেজার-অ্যাসিস্টেড সার্জারির উন্নতির ফলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে কথা বলা ও খাবার গিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অক্ষুণ্ন রেখেই টিউমার অপসারণ করা সম্ভব।

তাই মুখের ঘা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা ঘাড়ে ফোলা ভাব—এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো শনাক্তকরণই পারে ক্যানসারকে জয় করার প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

Monday, July 27, 2026

July 27, 2026

ছয় মাসে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা, নিহত ৪৪: ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি–জুন) সারা দেশে অন্তত ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ লিখিত বক্তব্যে জানান, দেশীয় সংবাদপত্র, গণমাধ্যম ও নিজস্ব সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি প্রকৃত ঘটনার আংশিক চিত্রমাত্র।”

পরিসংখ্যানে যা উঠে এসেছে

সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া—

৬২টি উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা

৪৭টি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

৪২টি হামলা, হত্যার হুমকি ও নির্যাতন

২১টি জোরপূর্বক বাড়ি, জমি ও ব্যবসা দখল

১৫টি উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলের চেষ্টা

১০টি অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতন

৫টি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, কক্সবাজার ও মানিকগঞ্জের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা উল্লেখ করে দাবি করা হয়, এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

আট দফা দাবি

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি আট দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন

জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের বাস্তবায়ন

জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন

দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন

বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন

বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ছুটি

এছাড়া সংগঠনটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি-সংশ্লিষ্ট আলোচনায় থাকা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে তার দ্রুত মুক্তি দাবি করে। একইসঙ্গে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তিরও দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি বিগত সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিকার বর্তমান সরকারেও দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করে।


 

July 27, 2026

কালের সাক্ষী ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাত মন্দির: হারিয়ে যাওয়া রাজবংশের ইতিহাস


ঝিনাইদহ, ২৭ জুলাই ২০২৬: একসময় রাজা, রাজ্য, প্রাসাদ আর সৈন্যবাহিনী ছিল। কালের বিবর্তনে সব হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা গ্রামের সাতটি প্রাচীন মন্দির। কালীমাতা, লক্ষ্মী, গণেশ, দুর্গা, তারা, বিষ্ণু ও রাজেশ্বরী—এই সাত মন্দির এখনো বহন করছে হারিয়ে যাওয়া নলডাঙ্গা রাজবংশের স্মৃতিচিহ্ন।

ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার উত্তরে বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থাপনাগুলো। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। একটি মন্দিরের কাজ আংশিক হয়েছে, বাকি দুটি এখনো সংস্কারের অপেক্ষায়।

ইতিহাসের পাতা থেকে

জেলা তথ্য অফিস প্রকাশিত ‘ঝিনাইদহ জেলার ইতিকথা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচশ বছর আগে বিষ্ণুদাস হাজরার হাত ধরে নলডাঙ্গা রাজবংশের সূচনা হয়। ১৫৯০ সালে মোঘল সুবেদার মানসিংহ তার আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে পাঁচটি গ্রাম দান করেন। সেই জমিদারি থেকেই গড়ে ওঠে নলডাঙ্গা রাজবাড়ি। রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায়ের আমলেই মন্দিরগুলো পূর্ণতা পায়।

১৮৭৯ সালে জমিদারির দায়িত্ব নেওয়া রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেব রায় ১৯১৩ সালে ‘রাজা বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন। শিক্ষার প্রসারে তিনি ‘ইন্দু ভূষণ’ ও ‘মধুমতি’ বৃত্তি চালু করেন এবং ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ বিদ্যালয়। ১৯৫৫ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে শেষ হয় নলডাঙ্গা রাজবংশের অধ্যায়।

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে

প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এসব মন্দির দেখতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার গর্ব। আরও সংস্কার ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হলে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসবেন এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।’ পুরোহিত প্রান্ত কুমার জানান, তিনি নিয়মিত মন্দিরের দেখভাল করেন এবং যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘নদীর ধারে অবস্থিত মন্দিরগুলো যাতে আরও সুন্দর করা যায়, সে বিষয়ে শিগগির কাজ শুরু করব।’

July 27, 2026

সিলেটের প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, শিক্ষক সমাজের সংহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট, ২৭ জুলাই ২০২৬: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ব্যান্ড ডিফারেন্ট টাচের ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে বিদ্যালয়ের আঙিনায় হাঁটার একটি ছোট ভিডিও ভাইরাল হলে একদিকে শুরু হয় ট্রল ও সাইবার বুলিং, অন্যদিকে তার পক্ষে সংহতি জানিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদী ভিডিও পোস্ট করছেন।

শিক্ষিকার বক্তব্য ও অভিযোগ
এ বিষয়ে শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল গণমাধ্যমকে জানান, ভিডিওটি স্কুল চলাকালীন নয়, বরং ছুটির পর ধারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে রিল বানাতে জানি না। এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করছিলাম কীভাবে রিল বানায়। স্কুল ছুটির পরে স্কুলের আঙিনাতেই আমি হেঁটে গেছি আর তিনি ভিডিওটি করেছেন।’

তার অভিযোগ, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ তার ভিডিও ভাইরাল করেন আসিফ ইকবাল হিরণ নামের এক প্রবাসী তরুণ। তিনি বলেন, ওই তরুণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’ তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষক সমাজের সংহতি
ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো শিক্ষিকা একই গান ব্যবহার করে নিজেদের ভিডিও পোস্ট করে বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার লিখেছেন, ‘বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল।’

তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
এদিকে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানান, ভিডিওতে কোনো সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা দেখা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।

অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইকবাল হিরণ বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে আদাব দিয়ে ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছি। আর কিছু বলিনি।’ তবে তিনি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ পেজের কোনো নিবন্ধন নেই বলেও স্বীকার করেছেন।


 

July 27, 2026

বাজারের ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় মানদণ্ডের দাবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় দাবি করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষিত প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ইএইচই ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে (৩২০ কণা), ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে (১৬০ কণা), কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে (১৪০ কণা) এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে (১২০ কণা)।

ইএসডিও জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বাংলাদেশে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই। সংস্থাটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে ইএসডিও।


 

"
"