কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, August 27, 2026

August 27, 2026

রংপুরের সাবেক শিক্ষক ও পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর একক অবস্থান

রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী জয় বিশ্বাস।

বুধবার রাতে দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে তিনি এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁর হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

জয় বিশ্বাস বলেন, "রংপুরের গণপতি স্যারের সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে আমি দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।"

তিনি বলেন, "আমার প্রথম দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রংপুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সকল জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।"

জয় বিশ্বাস দল-মত নির্বিশেষে তাঁর কর্মসূচিতে সকলের সংহতি কামনা করেন।

তিনি বলেন, "নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আমি আশা করি, আমার এই দাবির সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা সংহতি প্রকাশ করবেন।"

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে তাঁর, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।
August 27, 2026

‘৯০ দশকের আলোচিত নিদারাবাদ হত্যাকাণ্ড

১৯৮৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নিদারাবাদ গ্রামে শশাঙ্ক দেবনাথ নামের এক দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বী নিখোঁজ হন। দু’বছর পর উধাও হয়ে যান তার স্ত্রী বিরজাবালা ও পাঁচ সন্তান। গ্রামে গুজব ছড়ায়, শশাঙ্ক আগেই ভারতে চলে গেছে এবং স্ত্রী-সন্তানদেরও নিয়ে গেছে। কিন্তু সত্যি ঘটনা ছিল আরও ভয়াবহ।

১৯৮৯ সালের একদিন বিকেলে গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল মোবারক ধোপাজুড়ি বিলে নৌকায় যাওয়ার সময় পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত তেল ভাসতে দেখেন। পরে মাঝি বৈঠা দিয়ে পানির নিচে খোঁচা দিলে একটি ড্রাম ভেসে ওঠে। ড্রাম খুলতেই সবাই স্তব্ধ—ভেতরে তিনটি লাশ। পরবর্তীতে আরেকটি ড্রাম পাওয়া যায়, সেখানে আরও তিনটি লাশ। মোট ছয়টি লাশ—যারা আর কেউ নন, শশাঙ্কের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান। বেঁচে যান শুধু এক মেয়ে সুনীতিবালা, যিনি তখন শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, প্রতিবেশী গ্রামের কসাই তাজুল ইসলাম শশাঙ্কের সম্পত্তি দখলের লোভে প্রথমে শশাঙ্ককে অপহরণ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকেও এক রাতে নৌকায় তুলে নিয়ে বিলের মাঝে হত্যা করে ড্রামে চুন ও লবণ দিয়ে ভরে বিলে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম জানায়, ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সহযোগীদের নিয়ে সে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাতে তারা দুই নৌকায় শশাঙ্কের বাড়িতে যায়। ঘরের জানালার রড বাঁকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় বিরজাবালা ও তার সন্তানদের ধরে নৌকায় তুলে নেয়। বিলের মাঝে রামদা দিয়ে একে একে সবার দেহ দ্বিখণ্ডিত করে ড্রামে ভরে চুন-লবণ দিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

শশাঙ্ককে হত্যার পদ্ধতিও ছিল নৃশংস। তাজুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা শশাঙ্ককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফাঁদে ফেলে এক ঘরে গামছার ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ ভারতের একটি পরিত্যক্ত রিফিউজি ক্যাম্পে ফেলে আসে।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারে তাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের ফাঁসির রায় হয়। ফাঁসি কার্যকরের পর ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। তাজুলের লাশ কারাগার থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ মানুষ থুতু ছিটিয়ে ও জুতা নিক্ষেপ করে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে।

৩৮ বছর আগের এই ঘটনা এখনো এলাকার মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে আছে। এই ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে ‘কাঁদে নিদারাবাদ’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়।
August 27, 2026

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৫০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভুটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়া জেলার রাসুওয়াগাধি এলাকায় বুধবার বেলা বাড়ার আগেই আঘাত হানে আকস্মিক এই বন্যা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভুটেকোশি নদীর উপনদী লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসের কারণে আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে। প্রথমে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে বন্যার পানি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জনবসতিপূর্ণ ওই এলাকার বড় একটি অংশ পানিতে ভেসে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় বৃষ্টিপাতের কোনো খবর ছিল না। ফলে আকস্মিক এ দুর্যোগের বিষয়ে স্থানীয়দের কোনো আগাম সতর্কতাও ছিল না। রাসুওয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ মাটি কাঁপতে দেখে প্রথমে তিনি ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। বাইরে বের হয়ে তিনি উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির বিশাল ঢেউ দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার এলাকা পানির তোড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

নেপালের পুলিশের পক্ষ থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বিবেচনায় কর্মকর্তারা বলছেন, নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে এবারের বন্যা। নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল বলেন, সোল থেকে আক্কারে বাজার পর্যন্ত কয়েক’শ বাড়ি বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এবারের ভয়াবহ প্রাণহানির পেছনে আগাম তথ্য ও সতর্কবার্তার ঘাটতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রাসুওয়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বত থেকে বন্যার সূত্রপাত হলেও এ বিষয়ে তারা আগে কোনো তথ্য পাননি। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বুধবার বিকেলে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ এবং চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। পরে চীন নেপালকে আশ্বস্ত করেছে, সীমান্তের ওপারে নদীর পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করলে তারা দ্রুত নেপালকে তথ্য জানাবে।
August 27, 2026

হিন্দু বেশে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমার গয়না চুরি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে প্রতিমার গয়না চুরির অভিযোগে মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তার বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের সিংহ বাড়ির পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার সিয়াম উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া গ্রামের মোটর মেকানিক মিজানুর রহমানের ছেলে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ সিংহ বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিয়ামকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের পুরোহিত নিয়মিত পূজা-অর্চনা শেষে অল্প সময়ের জন্য পাশের বাড়িতে গেলে এই সুযোগে ওই তরুণ মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমায় অর্পিত গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিষয়টির সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন তরুণের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের পর সিয়ামের বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমিরা তল্লাশি করে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া কানের দুল, একটি মাথার টিকলি, একটি লকেট ও দুটি বেলপাতা। এগুলোর মোট ওজন দুই ভরি এক আনা এবং আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া চার ভরি ওজনের রুপার একটি গলার চেইন ও এক জোড়া নূপুর উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে এক তরুণ হেঁটে এসে মন্দিরের সামনে দাঁড়ায়। এরপর দুই হাত জোড় করে ভক্তির ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক তাকিয়ে মন্দিরের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় তিন মিনিট পর সে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং তার ঘর থেকে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত চুরি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


 

August 27, 2026

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ধানখেত থেকে হিন্দু যুবকের মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাশডর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে চিত্তরঞ্জন সূত্রধর (৩৮) নামের এক হিন্দু যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের পরিবার তাঁর মৃত্যুকে হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন।

নিহত চিত্তরঞ্জন বাহুবল উপজেলার কাগাউড়া এলাকার মৃত মাখন সূত্রধরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাশডর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে গ্রামের একটি টাওয়ারসংলগ্ন ধানখেতে চিত্তরঞ্জনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার আগের দিন তিনি নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন।

নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চিত্তরঞ্জনের সৎভাইদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। এ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে মামলা ও বিরোধ চলমান। তিনি দাবি করেন, ওই বিরোধের জেরেই চিত্তরঞ্জনকে হত্যা করে ধানখেতে ফেলে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার এসআই আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, মরদেহে আপাতদৃষ্টে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে; লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Wednesday, August 26, 2026

August 26, 2026

চাঁদপুরে স্বর্ণব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ

চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর মালিক পিন্টু দাসসহ তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম—একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন এবং স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ দেওয়ার ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন পাওনাদারের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং এক ব্যক্তি তাঁকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন। স্বজনদের ধারণা, এর জেরেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাসের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ নিয়েছিলেন অনেক গ্রাহক। কয়েকজনের অভিযোগ, তিনি স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দিতেন এবং পরে স্বর্ণ ফেরত দিতে নানা অজুহাত দেখাতেন।

রঘুনাথপুরের রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস স্ত্রী-সন্তানসহ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জ এলাকায় তাঁর আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

August 26, 2026

রংপুরে চার খুন ‘শুধু একটি পরিবার শেষ হয়নি, আমাদের বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল’


রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে প্রার্থী (২৪) ও ছেলে প্রীয়ম (১২)-কে হত্যার ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নিহতদের বাসায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় নিহতদের বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী (৭০) কেঁদে বলেছেন, ‘শুধু একটি পরিবার শেষ হয়নি, আমাদের পুরো বংশই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।’

গোপিনাথ চক্রবর্তী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পুরোহিত তিনি এই হত্যা মামলার বাদী। তিনি জানান, তারা চার ভাই ছিলেন। বড় দুই ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর কোনো ছেলে সন্তান নেই। বড় দুই ভাইয়েরও কোনো ছেলে সন্তান নেই। গণপতির ছেলে প্রীয়মই ছিল তাদের বংশের একমাত্র পুরুষ সন্তান। তিনি বলেন, ‘প্রীয়ম বেঁচে থাকলে আমাদের বংশকে বাঁচিয়ে রাখতো। এখন বংশে বাতি জ্বালানোর মতো আর কেউ রইল না।’

গোপিনাথ আরও বলেন, ছোট ভাই গণপতি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র, তখন তাদের বাবা হেমন্ত চক্রবর্তী মারা যান। তিনি পুরোহিত্য করে সংসার চালিয়ে গণপতিকে পড়াশোনা করিয়েছেন। গণপতি সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন এবং সবাইকে দেখভাল করতেন।

নিহত গণপতির ভাতিজি সপ্তমী চক্রবর্তী বলেন, ‘কাকা প্রীয়ম ছিল আমাদের চোখের মণি। সে ছিল বংশের একমাত্র ভাই। প্রীয়ম নেই—এটা ভাবতেই পারছি না।’ তিনি জানান, কাকা গণপতি ও তার পরিবারের সবাই খুন হওয়ায় তাঁর বাবা গোপিনাথ খুবই ভেঙে পড়েছেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ধীমান ভট্টাচার্য জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান চলে। নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। যেহেতু চারজনই খুন হয়েছেন, তাই চারদিনে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।


 

Tuesday, August 25, 2026

August 25, 2026

খেতের টাটকা সবজি বিক্রি করে সচ্ছলতার পথে লতা রায়

 


খেতভরা বাঙ্গি বাজারে দাম না পেয়ে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি শুরু করেছিলেন লতা রায়। তিন বছর পর সেই ছোট দোকানই এখন তাঁর সচ্ছলতার ঠিকানা। খুলনা-চালনা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই দোকানে এখন নিজের ও প্রতিবেশীদের উৎপাদিত নানা পণ্য বিক্রি করেন তিনি।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুপ্তমারী গ্রামের বাসিন্দা লতা রায়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১৪ বছর বয়সে। স্বামী পরিতোষ রায় দরজির কাজ করেন। দুই সন্তানের একজন ঢাকায় চাকরি করেন, অন্যজন উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে।

প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠেন লতা। রান্নাবাড়া শেষে খেত থেকে সবজি তুলে বাছাই করে দোকানে নিয়ে আসেন। বেলা ১১টায় দোকান খোলেন। সাজিয়ে রাখেন কুমড়ার ফুল, শসা, বরবটি, উচ্ছে, লেবু, ডুমুর, পাকা-কাঁচা পেঁপে, ঘাটকোল, কচু, কুমড়া, নানা শাক, ডিম, পাকা তেঁতুল, তাল ও তালের ক্বাথ।

শুধু নিজের ফসল নয়, প্রতিবেশী চার শরিকের কাছ থেকেও পণ্য আসে। লতা সব হিসাব খাতায় লিখে রাখেন। সন্ধ্যায় শরিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেন।

দোকানের ক্রেতারা বেশির ভাগ শহরের মানুষ। টাটকা সবজির জন্য তাঁরা দোকানে আসেন। অনেকেই অচেনা সবজি কীভাবে রান্না করবেন, তাও জানতে চান। লতা বুঝিয়ে দেন।

আয় কত হয়—এ প্রশ্নে লতা বলেন, ‘ওই হয় আরকি। তবে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। হাতে নগদ টাকা আছে, খরচ করার স্বাধীনতা আছে।’

স্থানীয়রা বলছেন, লতার উদ্যোগ এলাকায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। তার দেখাদেখি আশপাশের আরও কয়েকজন নারীও এখন রাস্তার পাশে পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন। মহাসড়ক দিয়ে ফেরা মানুষ এখন গ্রামের খেতের টাটকা সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
August 25, 2026

রাজধানীর কলাবাগানে সাবেক শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর কলাবাগানে নিজ বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের (৭১) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সোয়া ৯টার দিকে গ্রিন রোডের ১৮৮ নম্বর বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

কলাবাগান থানার এসআই আতিকুর রহমান জানান, ধীরেন্দ্র কুমার রায় বাসার একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। তার মেয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ধীরেন্দ্র কুমারের স্ত্রী দীপালী রায় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। সোমবার সকালে তিনি কর্মস্থলে যান। এ সময় তাদের মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে উঠে তিনি বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এসআই আতিকুর রহমান জানান, ২০২৫ সাল থেকে ধীরেন্দ্র কুমার শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বনগ্রাম আবাসিক এলাকায়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Sunday, August 23, 2026

August 23, 2026

দোকান দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর আবেদন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা বাজারে ৫৩ বছর ধরে বংশপরম্পরায় লিজ নিয়ে আসা একটি টিনশেড দোকানঘর দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুভাষ চন্দ্র পাল নামের এক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, গত ৪ জুলাই প্রকাশ্য দিবালোকে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোকের সহায়তায় আরিফ খান নামের এক ব্যক্তি দোকানটির তালা ভেঙে মালামাল লুট করে দখলে নেন।

গত ২৩ জুলাই সুভাষ চন্দ্র পালের স্বাক্ষর করা আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সুভাষ চন্দ্র পালের দাবি, দোকানটি সরকারের ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির ওপর স্থাপিত। তার স্ত্রী কেয়া রানী পালের নামে বর্তমানে দোকানটি লিজ নেওয়া। এর আগে তার নিজের নামে এবং তারও আগে তার বাবা মৃত সুধীর চন্দ্র পালের নামে লিজ ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত লিজ মানি পরিশোধ করে প্রায় ৫৩ বছর ধরে তাদের পরিবার দোকানটি ভোগ করে আসছে।

আবেদনে সুভাষ চন্দ্র পাল উল্লেখ করেন, গত ৪ জুলাই আরিফ খান অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল লুট করেন এবং দোকানটি দখলে নেন। পরে দোকানটি ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা মৌজার এসএ খতিয়ান ৩৮ ও ৯৯-এর ৩৯ ও ৪৩ নম্বর দাগে ০.০১০০ শতাংশ জমির ওপর দোকানটি স্থাপিত। কেয়া রানী পাল অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে স্বামী সুভাষ চন্দ্র পাল দোকানটি দখলমুক্ত করে ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র অনুযায়ী, কেয়া রানী পালের কাছ থেকে সর্বশেষ ১৪৩১ বাংলা সনের লিজ মানি গ্রহণ করা হয়। এরপর গত ২৫ জুন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে মো. আরিফ খানের নামে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য ওই দোকানের লিজ মানি গ্রহণ করা হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, আরিফ খানের কাছ থেকে লিজ মানি গ্রহণের আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় কেয়া রানী পালকে লিজ মানি পরিশোধের নোটিশ দিয়েছিল। পরে আরিফ খান ওই কার্যালয়ে ১৪৩১ বাংলা সনের লিজ মানি হিসেবে ৬ হাজার ৭৯৯ টাকা পরিশোধ করেন। অথচ একই দোকানের জন্য কেয়া রানী পাল প্রতিবছর ১৯ হাজার ১১৮ টাকা করে লিজ মানি দিয়ে আসছিলেন।

বাংলা ১৪৩৩ সনের লিজ মানি পরিশোধের জন্য কেয়া রানী পাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনে সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু দোকান দখলের ঘটনায় তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দোকানটি উদ্ধারের জন্য ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা প্রশাসক, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান। কিন্তু কোথাও প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

আবেদনে সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আপনিই আমাদের আশ্রয়স্থল।’ দোকানটি দখলমুক্ত করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
"
"