কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, April 30, 2026

April 30, 2026

কক্সবাজারে আবাসিক হোটেলে এক হিন্দু ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের একটি আবাসিক হোটেল থেকে অর্জুন দাশ (৬০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোটেল নিশীতার ৪০৮ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত অর্জুন দাশ ফেনী জেলার বাসিন্দা এবং শ্রীধাম চন্দ্র দাশের ছেলে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি গত ২৫ এপ্রিল এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলের ওই কক্ষটি তিন দিনের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।
হোটেল কর্মীরা জানান, বুধবার বিকেলের দিকে কক্ষের সামনে গিয়ে তারা ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা অর্জুন দাশের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষের ভেতরে পড়ে থাকার কারণে মরদেহটি অর্ধগলিত হয়ে যায়। উদ্ধারকালে মরদেহটি নগ্ন অবস্থায় ছিল এবং পাশ থেকে একটি গামছা পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে হোটেল এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, তারা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

April 30, 2026

সীতাকুণ্ড রহস্যময় পাতাল, আর সেখানে রয়েছে শ্রী শ্রী পাতাল কালী মন্দির

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি নিসর্গের মাঝে অবস্থিত শ্রী শ্রী পাতাল কালী মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক গভীর আধ্যাত্মিক ও রহস্যময় তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। চন্দ্রনাথ পাহাড় এর পাদদেশে, ঘন বনভূমি ও প্রাকৃতিক ঝিরিধারার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই মন্দিরে পৌঁছাতে হলে কিছুটা দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়, আর সেই পথচলাই ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি ও পৌরাণিক কাহিনী। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এর ইতিহাস বহু প্রাচীন, এমনকি সত্যযুগ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে ধারণা করা হয়। রামচন্দ্র-এর বনবাসের সময় এই অঞ্চলে আগমনের কথা লোকমুখে শোনা যায়, এবং বলা হয় ঋষি ভার্গব তাঁর স্নানের জন্য এখানে একটি পবিত্র কুণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন, যেখান থেকে সীতাকুণ্ড নামটির উৎপত্তি হয়েছে। আরেকটি বহুল প্রচলিত কাহিনীতে বলা হয়, পাতালপুরীর অধিপতি মহীরাবণ যখন রামচন্দ্রকে বলি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাতালে নিয়ে যান, তখন হনুমান দেবী কালীর কৃপায় এই স্থানেই মহীরাবণকে বধ করেন। এই কাহিনীগুলো মন্দিরটির ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মন্দিরটির সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী দিক হলো এখানে দেবী কালীর বিগ্রহের রূপ। এটি প্রচলিত মূর্তির মতো নয়; বরং একটি প্রাকৃতিক শিলা খণ্ডের ওপর খোদাই করা, যা দেখতে কিছুটা উল্টো বা অস্বাভাবিক আকৃতির। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই মন্দিরটি “উল্টা পাতাল কালী” নামে পরিচিত। মন্দিরটি একটি নিচু খাদে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সূর্যের আলো খুব কম পৌঁছায়, ফলে চারপাশে সবসময় এক ধরনের শীতল, নীরব ও ধ্যানমগ্ন পরিবেশ বিরাজ করে। পাশে বয়ে যাওয়া ঠাণ্ডা পানির ঝিরি, স্থানীয়ভাবে যাকে পাতালপুরী ঝিরি বলা হয়, পুরো পরিবেশটিকে আরও পবিত্র ও রহস্যময় করে তোলে। একই সঙ্গে এখানে হর-গৌরী, মন্দাকিনী, অষ্টবসু এবং গোপেশ্বর শিবের উপস্থিতি এই স্থানকে একটি পূর্ণাঙ্গ তীর্থক্ষেত্রে রূপ দিয়েছে, যেখানে একটি প্রাকৃতিক শিবলিঙ্গ বিশেষভাবে ভক্তদের আকর্ষণ করে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই মন্দিরের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর শিবচতুর্দশী উপলক্ষে এখানে বিশাল সমাগম ঘটে, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তরা সমবেত হন। তখন পুরো এলাকা এক আধ্যাত্মিক উৎসবে পরিণত হয়, যেখানে পূজা, আরাধনা এবং সাধনার মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের প্রত্যাশায় অংশ নেন।
ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এই স্থানটি যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চন্দ্রনাথ মন্দির থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে সরু ও কখনো পিচ্ছিল পথে হাঁটতে হয়, যা বর্ষাকালে আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ সময়টি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ তখন আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক থাকে।
সব মিলিয়ে, শ্রী শ্রী পাতাল কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এটি ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয়। এখানে গেলে মনে হয় যেন প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে বিশ্বাস, রহস্য আর সৌন্দর্য একসাথে মিলেমিশে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

 

April 30, 2026

এসি কি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়? জেনে নিন আসল কারণ ❄️🧊

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে এখন এসি বা এয়ার কন্ডিশনার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাসা, অফিস—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় এসির ঠান্ডায় থাকা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এভাবে সারাদিন এসিতে থাকা কি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে পরোক্ষভাবে এটি এমন কিছু অভ্যাস তৈরি করে, যা পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রথমত, এসির ঠান্ডা পরিবেশে শরীর কম ঘামে এবং তৃষ্ণাও তুলনামূলক কম লাগে। ফলে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। এই পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ।
দ্বিতীয়ত, শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। তখন প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ জমে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথর তৈরি করতে পারে।
তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে, যা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।
তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার পানি খাওয়া ভালো।
এসির তাপমাত্রা খুব কম না রেখে ২৫–২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন।
একটানা দীর্ঘ সময় এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকুন।
খাদ্যতালিকায় লবণ কমিয়ে আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এসি নিজে কিডনির জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং এসিতে থাকার সময় অসচেতন জীবনযাপন—বিশেষ করে কম পানি পান—কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসির আরাম নিন, তবে শরীরের পানি ও স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।

 

April 30, 2026

সাতক্ষীরায় কেমিক্যাল মেশানো ৯ হাজার কেজি আম জব্দ, ধ্বংস করল প্রশাসন

সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও কার্বাইড দিয়ে পাকানো অপরিপক্ব আম জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসন এসব আম ধ্বংস করেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও একই সঙ্গে স্বস্তিও ফিরেছে যে ভেজালবিরোধী অভিযানে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই চালানটি জব্দ করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত প্রায় ২টার দিকে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়, যা কালিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তল্লাশির সময় ট্রাক থেকে ৩৫১ ক্যারেট ভর্তি প্রায় ৯ হাজার কেজি আম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব আম ছিল সম্পূর্ণ অপরিপক্ব। দ্রুত বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে মুনাফালোভী একটি চক্র আমগুলোতে কৃত্রিমভাবে পাক ধরাতে কার্বাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করেছিল। এই ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে আম দেখতে আকর্ষণীয় ও পাকা মনে হলেও এর ভেতরের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায় এবং তা সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল খেলে শরীরে নানা ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, বমি ভাব, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ ধরনের ভেজাল ফল আরও বেশি বিপজ্জনক।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বুধবার দুপুরে জব্দকৃত আমগুলো বিনেরপোতা এলাকার পৌরসভার আবর্জনার ভাগাড়ে নিয়ে ধ্বংস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়, যাতে কোনোভাবেই এসব আম বাজারে প্রবেশ করতে না পারে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিত চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “অপরিপক্ব ফল কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করা একটি গুরুতর অপরাধ। এতে মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আমরা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।”
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে। অনেকেই প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ফলের মৌসুমে এ ধরনের অভিযান বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, বাজারে দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ ধরনের কাজ করে থাকে, যার দায় পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ওপর বর্তায়। তারা মনে করেন, নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়; সাধারণ ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। বাজার থেকে ফল কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—যেমন খুব বেশি উজ্জ্বল রঙের বা অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত পাকা ফল এড়িয়ে চলা, ফলের গন্ধ ও স্বাভাবিকতা যাচাই করা ইত্যাদি।
বাংলাদেশে প্রতি বছর আমের মৌসুমে কার্বাইড ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে ফল পাকানোর অভিযোগ উঠে। যদিও সরকার এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে, তবুও কিছু অসাধু চক্র এখনও গোপনে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এই চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।
এই অভিযানের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের ভেজাল খাদ্য বাজারে যাওয়ার আগেই রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একটি উদাহরণ; দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও অনেক চালান থাকতে পারে, যা নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এ ধরনের ভেজাল কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।
👉 জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হবে।

 

April 30, 2026

মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির ধান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা-এ একটি মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির ধানে বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি উপজেলার সন্তোষপাড়া গ্রামে অবস্থিত বিশহরি মন্দির সংলগ্ন জমিতে ঘটে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শ্রী রুপচাঁদ রবিদাস বাদী হয়ে থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সন্তোষপাড়া মৌজার একটি ১১ শতাংশ জমি মন্দিরের নামে চিরস্থায়ী দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে মন্দির কমিটি সেখানে চাষাবাদ করে আয় মন্দিরের উন্নয়নে ব্যয় করে আসছে। তবে স্থানীয় এক পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
মন্দির কমিটির দাবি, গত ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা লাঠিসোটা ও বিষ স্প্রে মেশিন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে রোপণকৃত ধানে আগাছানাশক প্রয়োগ করে। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মন্দির কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পত্নীতলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

April 30, 2026

ভোলার মনপুরায় দম্পতিকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, বিচার না পেয়ে হতাশ পরিবার

ভোলার মনপুরা উপজেলা-এ এক হিন্দু দম্পতিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ন্যায়বিচার না পেয়ে অসহায় অবস্থার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন-এর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন সুবল চন্দ্র দাস ও মনখুশী রানী দাস। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী মো. বাবলুর পালিত ছাগল দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাষ করা জমির ফসল নষ্ট করে আসছিল।
তারা জানান, প্রায় ১২০ শতাংশ জমিতে মুগডাল আবাদ করেছিলেন তারা। একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে একপর্যায়ে ফসল খাওয়ার সময় একটি ছাগল ধরে আনতে গেলে বাবলু ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান। পরে তাদের বাবলুর বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে তারা ন্যায়বিচার পাননি। বরং তাদের দিয়েই ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে এবং অভিযুক্তের সঙ্গে বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আত্মীয়তার কারণে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সালিশের দিন রাতেই আবার তাদের জমির ফসল গরু ও ছাগল দিয়ে নষ্ট করা হয়। এতে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. বাবলু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মারধর বা ফসল নষ্টের ঘটনা সত্য নয়, তবে সালিশ বৈঠক হয়েছিল এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


 

Wednesday, April 29, 2026

April 29, 2026

পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার ভোট শুরু, টানটান উত্তেজনায় ১৪২ আসনে লড়াই 🗳️

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এ টানটান উত্তেজনার মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
এ দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টসহ অন্যান্য দল। তবে বেশিরভাগ আসনেই মূল লড়াই হচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে।
এই দফায় মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন মমতা ব্যানার্জী, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা প্রমুখ। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, স্বপন দাশগুপ্ত, রূপা গাঙ্গুলীসহ আরও অনেকে।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, যার বড় অংশ দায়িত্ব পালন করছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
এ দফায় মোট ভোটার প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭৯২ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ৪১ হাজারের বেশি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আগামী ৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি-র ফলাফলও ঘোষণা করা হবে।


 

April 29, 2026

আফগানিস্তানের প্রাচীন আধ্যায়ে সনাতন ধর্মের উজ্জল ছাপ

আফগান ভূমি—যে ভূমি আজ বহু ঝঞ্ঝা-ঝাপটার ইতিহাস বহন করছে—একসময় ছিল ধর্ম, সাধনা ও সংস্কৃতির এক পবিত্র মিলনক্ষেত্র। সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের এক মূক সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে Tapa Sardar-এর নিদর্শনসমূহ, যেখানে এক বিস্ময়কর আবিষ্কার আমাদের সনাতন ধারার গৌরবকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
Ghazni-র নিকটবর্তী এই প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার থেকে উদ্ধার হওয়া এক ভাস্কর্যের অংশ—দেবী Durga-র শিরমণ্ডল—শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, এটি শক্তির আরাধনার এক অনন্ত প্রতীক। মহিষাসুরমর্দিনী রূপে মা দুর্গা, যিনি অধর্ম ও অশুভ শক্তির বিনাশিনী, তাঁর এই রূপ এখানে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
১৯৬৪ সালে ইতালীয় প্রত্নতাত্ত্বিক Giuseppe Tucci-এর নেতৃত্বে পরিচালিত খননকার্যে এই পবিত্র নিদর্শনের সন্ধান মেলে। চুন-সুরকির মিশ্রণে নির্মিত এই ভাস্কর্য, সময়ের নিরিখে চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর সৃষ্টি বলে অনুমিত—যে সময় ভারতীয় উপমহাদেশ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ধর্মীয় সাধনা ও শিল্পকলার এক স্বর্ণযুগ প্রবাহিত হচ্ছিল।
মূর্তিটির কপালে খচিত ত্রিনয়ন যেন প্রকাশ করে দেবী শক্তির সর্বজ্ঞ দৃষ্টি—যা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একসূত্রে ধারণ করে। এর শৈলীতে Gandhara art-এর প্রভাব স্পষ্ট, যেখানে গ্রিক শিল্পরীতি ও ভারতীয় ভাবধারার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই শিল্পধারা শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং এক গভীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আদান-প্রদানের প্রতীক।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—একটি বৌদ্ধ বিহারের অন্তঃস্থলে এই দেবী মূর্তির উপস্থিতি। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সেই প্রাচীন কালে ধর্ম কোনো বিভেদের প্রাচীর ছিল না; বরং ছিল সহাবস্থানের এক সুরেলা সেতুবন্ধন। বৌদ্ধ ও সনাতন—দুটি ধারাই একই ভূমিতে, একই আকাশের নিচে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছিল।
বর্তমানে এই অমূল্য নিদর্শনটি National Museum of Afghanistan-এ সংরক্ষিত রয়েছে। বহু প্রতিকূলতার মাঝেও এটি আজও বহন করছে সনাতন ধর্মের শাশ্বত শক্তি ও গৌরবের বার্তা।
এই ভাস্কর্য যেন নীরবে বলে যায়—ধর্ম কেবল আচার নয়, এটি চিরন্তন চেতনা; আর সেই চেতনা কখনো বিনষ্ট হয় না। যুগে যুগে, দেশে দেশে, নানা রূপে তা প্রকাশিত হয়—ঠিক যেমন তপা সর্দারের এই পবিত্র আবিষ্কার আমাদের সামনে আবারও সেই শাশ্বত সত্যকে উদ্ভাসিত করে।
April 29, 2026

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, শুরু ইউরেনিয়াম লোডিং ⚡

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর নির্দেশনা অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ ‘বহুস্তরীয় সুরক্ষা’ বা ডিফেন্স-ইন-ডেপথ পদ্ধতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক অ্যাকটিভ সেফটি সিস্টেম রয়েছে—যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় শাটডাউন ও জরুরি কোর কুলিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি রয়েছে প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম, যা বিদ্যুৎ বা মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই চুল্লিকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম। এছাড়া ডাবল কনটেইনমেন্ট, কোর ক্যাচার এবং হাইড্রোজেন রিকম্বাইনারসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরোনো কেন্দ্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে—যা প্রকল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর কারণে কিছু বিলম্ব হলেও সরকারের প্রচেষ্টায় কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আইএইএর কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৬ এপ্রিল জ্বালানি প্রবেশের লাইসেন্স দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী জুলাই বা আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হবে। আর এক বছরের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় গিয়ে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ধাপে প্রবেশ করেছে। এটিই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’—যেখানে চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রকল্প হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলাই এর সফলতা নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে এই প্রকল্পে কয়েক হাজার বিদেশি ও দেশীয় কর্মী কাজ করছেন। ধাপে ধাপে দক্ষ বাংলাদেশি জনবল তৈরি করে ভবিষ্যতে পুরো পরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতেই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

April 29, 2026

ভৈরবে ট্রেনের নিচে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল বাবা-শিশু 🚆

চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় এক পরিবার। এক বছর বয়সী একটি শিশু প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে বাবাও ঝাঁপ দেন। অবিশ্বাস্যভাবে তাদের ওপর দিয়ে ট্রেনের আটটি বগি চলে গেলেও অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান পিতা-পুত্র।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন-এ ঢাকা অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেন-এ এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রাবিরতির সময় ওই দম্পতি সন্তানসহ নামতে পারেননি। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে নামার চেষ্টা করলে বাবার হাত ফসকে শিশুটি নিচে পড়ে যায়।
সন্তানকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে বাবাও নিচে লাফ দেন এবং শিশুকে বুকে জড়িয়ে প্ল্যাটফর্মের দেয়ালের পাশে সেঁটে শুয়ে থাকেন। এরই মধ্যে তাদের ওপর দিয়ে ট্রেনের একের পর এক বগি চলে যায়। তবুও তারা অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকেন। পরে স্থানীয়রা শিশুটির মাকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
একই দিনে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে শাহিন মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের একটি হাত ও একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
👉 সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা থেকে বিরত থাকার জন্য।

 

"
"