কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, June 11, 2026

June 11, 2026

পরিচয় মিলল পুশইনের শিকার সেই বৃদ্ধের

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের শিকার ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৭০) নামের ওই বৃদ্ধ বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে কাটানোর পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বিজিবি তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে পাঠিয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে শূন্যরেখা এলাকা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামের বাসিন্দা। ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বজনরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিচয় যাচাই শেষে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এর আগে কামালপুর সীমান্তে বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা সীমান্তজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, বৃদ্ধের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। স্বজনরা রাজশাহী থেকে ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছেন। তারা পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
June 11, 2026

পিরোজপুরে মন্দির ও জমি দখলের অভিযোগ, ১৫ বছরেও প্রতিকার মেলেনি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মন্দিরসহ জমি দখল এবং দুইশ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্বামী জাহাঙ্গীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে। উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের বড়সিংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জমাদ্দার, মজিবর রহমান, হিরু মৃধাসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, মালেক জমাদ্দারের চাচার জমি কেনার পর জাহাঙ্গীর চৌধুরী কৌশলে পুরো এলাকার সম্পত্তি, এমনকি হিন্দুদের কালীমন্দিরের জমিও নিজের দখলে নেন। প্রথমে চলাচলের পথে সাঁকো দেওয়া থাকলেও পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। জমির শ্রেণি এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যে, সেখানে আগে চলাচলের পথ ছিল বোঝারও উপায় নেই। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মালেক জমাদ্দারের পরিবার, চলাচলের কোনো রাস্তা না থাকায় তারা এখন ফসলের মাঠ ও অন্যের বাগানবাড়ির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছেন।
ভুক্তভোগী পুতুল রানী অভিযোগ করে বলেন, "জাহাঙ্গীর চৌধুরী কৌশলে আমাদের তিন কাঠা জমি দখল করেছেন, যেখানে কালীমন্দির ছিল। মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার জমি ফেরত চাই, আবার মন্দির তৈরি করে পূজা করব।"
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর চৌধুরী অবশ্য দাবি করেন, ওই স্থানে কোনো চলাচলের পথ ছিল না। আর মন্দিরের জমি প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, স্থানীয় হিন্দুরা স্ট্যাম্পে লিখে সেটি তাকে স্বেচ্ছায় দান করে গেছেন।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান, জাহাঙ্গীর চৌধুরী নিজেও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উভয়পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
June 11, 2026

গলাচিপায় এক রাতে চার দোকানে সংঘবদ্ধ চুরি, ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরশহরে একই রাতে চারটি দোকানের শাটার ভেঙে নগদ টাকা, কাপড় ও অন্যান্য মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টা থেকে বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টার মধ্যে পৌর এলাকার সদর রোড, কালিবাড়ি রোড, খেয়াঘাট ও থানা রোড এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুরি হওয়া দোকানগুলো হলো— সদর রোডের প্রিয়াংকা ক্লথ স্টোর, কালিবাড়ি রোডের জয় স্টোর অ্যান্ড বড়শি ঘর, খেয়াঘাট এলাকার হাবিব স্টোর এবং থানা মসজিদ সংলগ্ন শংকরের পানের দোকান।
প্রিয়াংকা ক্লথ স্টোরের মালিক ববিতা রাণী বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে শাটার ভাঙা দেখতে পান। ভেতরে মালামাল এলোমেলো, নগদ টাকা ও কাপড় চুরি।
দোকানের কর্মচারী আনন্দ দেবনাথ বলেন, "শুধু আমাদের দোকান থেকে লুঙ্গি, শাড়ি, থ্রি-পিস, নগদ টাকা ও একটি বাটন ফোন মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।"
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজে পাঁচ সদস্যের একটি চক্রকে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তারা শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে এসব চুরি করে বলে ধারণা।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, "তদন্ত চলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।"
June 11, 2026

বোয়ালখালীতে ব্যবসায়ীর পথরোধ করে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ, টাকা-মোবাইল ছিনতাই

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় গভীর রাতে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর পথরোধ করে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ ও হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী (৪৬) মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে "লোকনাথ ক্লথ স্টোর" নামে কাপড়ের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করেন গৌতম। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সারোয়াতলী ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি এলাকায় দুই যুবক হঠাৎ টর্চের আলো ফেলে তার পথরোধ করে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা তার মুখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে এবং ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করতে থাকে। পরে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী জানান, হামলাকারীরা ঝোপে ওত পেতে ছিল বলে ধারণা করছেন, তাদের বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর।
আতঙ্কিত গৌতম চৌধুরী বলেন, "যে পথে এতদিন ধরে চলাচল করছি, সেই পরিচিত পথই এখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
বোয়ালখালী থানার ওসি মো. মাহফুজুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।


 

Wednesday, June 10, 2026

June 10, 2026

পটিয়ায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে হিন্দু যুবক নিহত

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পংকজ শীল (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিলক চক্রবর্তী (৩০) নামে আরেক যুবক গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পংকজ ও তিলক সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উভয়কে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে পংকজ মারা যান।
কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পাভেল বিশ্বাস বলেন, রাতে সংঘবদ্ধ একটি ছিনতাইকারী দল এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি জানান, এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি দীর্ঘদিনের, এই ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা বোরকা পরিহিত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তির বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজনকে আটক করা হলেও বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

Tuesday, June 9, 2026

June 09, 2026

ঝিনাইদহে চাঁদা না দেওয়ায় পূজা উদযাপন পরিষদ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় বিপুল কুমার মন্ডল (৬০) নামে এক হিন্দু ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্থানীয় ৫ নম্বর সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।
সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তিল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী বিপুল কুমার মন্ডলের অভিযোগ, একই গ্রামের সেলিম হোসেন ও মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে তিনি গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকাকালে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, বিপুল কুমারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত খাঁ হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
June 09, 2026

কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের শ্মশানভূমি দখলের অভিযোগ, মরদেহ সৎকারে সংকট

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নে রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্তত ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশানভূমির জমি দখল করে লবণ ও চিংড়ি চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে মরদেহ সৎকার ও ধর্মীয় আচার পালনে চরম সমস্যার মুখে পড়েছে স্থানীয় রাখাইন জনগোষ্ঠী।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার একর আয়তনের এই শ্মশানভূমির বড় একটি অংশ দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রভাবশালী একটি পক্ষ দখল করে লবণ মৌসুমে লবণ চাষ এবং বর্ষাকালে চিংড়ি চাষ করছে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, এই শ্মশান এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষদের শত শত সমাধি রয়েছে। দখলের কারণে সেখানে নতুন করে মরদেহ সৎকার করতে গিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে শ্মশানভূমির নির্ধারিত চার একর জমি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরবর্তীতে সেখানে সীমানা প্রাচীরও নির্মাণ করা হয়। তবে এরপরও জমির একটি বড় অংশ দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, সম্প্রতি তারা শ্মশানভূমি সংস্কারের কাজ শুরু করলে দখলদার পক্ষ থেকে বাধা, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, ওই জমির ওপর তাদের বন্দোবস্ত রয়েছে। তবে এ দাবির সপক্ষে তারা কোনো নথি দেখাতে পারেনি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
June 09, 2026

শাঁখা-পলা: হিন্দু বিবাহিত নারীর ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ইতিহাস

শাঁখা ও পলা হিন্দু বিবাহিত নারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কার। বিশেষ করে শঙ্খ (conch shell) কেটে তৈরি সাদা বালা, যাকে শাঁখা বলা হয়, এবং লাল রঙের পলা—এই দুইটি মিলিয়ে বিবাহিত নারীর মাঙ্গলিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিবাহিত নারীরা সাধারণত অন্যান্য অলঙ্কারের সঙ্গে শাঁখা-পলা পরিধান করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর শাঁখা ভেঙে ফেলার রীতি রয়েছে, যা সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
ঐতিহাসিকভাবে শঙ্খ শিল্পকে একটি প্রাচীন লোকশিল্প হিসেবে ধরা হয়। প্রায় দুই হাজার বছর আগে দক্ষিণ ভারতে এর উৎপত্তি ঘটে বলে ধারণা করা হয়। পরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায় যে, মধ্যযুগে এই শিল্প ও তার ব্যবহার বাংলায় বিস্তার লাভ করে।
পুরাণ অনুযায়ী, শঙ্খাসুর নামের এক অসুরকে বধ করার পর তার সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনি থেকে শাঁখার উৎপত্তির ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়। সেই কাহিনিতে শাঁখাকে নারীর সৌভাগ্য ও বিবাহিত জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ঐতিহাসিক গবেষণায় দেখা যায়, শঙ্খ থেকে অলঙ্কার তৈরির প্রথা দক্ষিণ ভারতে বহু আগে থেকেই প্রচলিত ছিল এবং পরে বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে এর সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস কতটা যুক্ত ছিল, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
সব মিলিয়ে শাঁখা-পলা শুধু একটি অলঙ্কার নয়, বরং উপমহাদেশের সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং সামাজিক ঐতিহ্যের একটি গভীর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
June 09, 2026

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা আধ্যাত্মিক কেন্দ্র: কাদিপুর শিব বাড়ী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর গ্রামের শান্ত ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাদিপুর শিব বাড়ী। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার স্থানই নয়, বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক আবহের কারণে বর্তমানে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছেও এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
সবুজ গাছপালায় ঘেরা বিস্তীর্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই অনুভূত হয় এক অনন্য প্রশান্তি। চারপাশের নির্মল পরিবেশ, পাখির কলকাকলি এবং ধর্মীয় আবহ দর্শনার্থীদের মনে এনে দেয় শান্তি ও ভক্তির অনুভূতি। প্রতিদিন স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এখানে প্রার্থনা ও দর্শনের উদ্দেশ্যে আসেন।
মন্দির কমপ্লেক্সের প্রধান আকর্ষণ হলো লাল-সাদা রঙের সুউচ্চ চূড়াবিশিষ্ট মূল শিব মন্দির। শৈল্পিক নকশা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এখানে মহাদেব শিবের পূজা-অর্চনা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
মূল মন্দিরের পাশাপাশি কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে শ্রী শ্রী মা রক্ষা কালী মন্দির, যা স্থানীয় ভক্তদের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত ও পূণ্যস্থান হিসেবে সমাদৃত। এছাড়া রয়েছে দুর্গা মন্দির, যেখানে প্রতি বছর শারদীয় দুর্গোৎসব অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। দুর্গাপূজার সময় মন্দির প্রাঙ্গণ হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি শান্ত ও মনোরম পুকুর। পুকুরের ঘাট এবং তার চারপাশের সবুজ পরিবেশ মন্দিরের সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। অনেক দর্শনার্থী পূজা শেষে এখানে কিছু সময় কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করেন।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাদিপুর শিব বাড়ীর ইতিহাস প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ বছরের পুরনো। দীর্ঘ সময় ধরে এটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও মন্দিরের প্রাচীন ঐতিহ্য, ধর্মীয় রীতি-নীতি ও সংস্কৃতি আজও সংরক্ষিত রয়েছে।
বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে নানা ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে কয়েকদিনব্যাপী পূজা, আরতি, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। এ সময় মৌলভীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে সমবেত হন। এছাড়া জন্মাষ্টমী, কালীপূজা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবও যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাদিপুর শিব বাড়ী শুধু একটি মন্দির নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রতীক। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে এসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান এবং এলাকার ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও মন্দিরটি বেশ সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত। সিলেট কিংবা মৌলভীবাজার শহর থেকে সড়কপথে সহজেই কুলাউড়ায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা বা স্থানীয় যানবাহনে অল্প সময়ের মধ্যেই কাদিপুর শিব বাড়ীতে যাওয়া সম্ভব।
প্রাচীন ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং নান্দনিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে কাদিপুর শিব বাড়ী আজ সিলেট অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য মিলনস্থল হিসেবে এই মন্দির ভবিষ্যতেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
June 09, 2026

ডামুড্যায় স্কুল ফটকে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে মারধরের অভিযোগ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারকে বিদ্যালয় ফটকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৭ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে পৌঁছালে ফটকে নামার পরই কয়েকজন তরুণ তার ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয় এবং পরে অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তিনি প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়ও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশ ও কিছু অভিভাবকের দাবি, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের দাবি, পূর্বের একটি পক্ষ তাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হামলার শিকার করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভও করেন। তারা অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার অপসারণ দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন এবং আজ তিনি আসলে অভিভাবকদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে আহত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
"
"