বিদেশ
April 13, 2026
মধ্যরাতে ইসরায়েলে হামলা শুরু করল লেবাননের যোদ্ধারা
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের দুটি শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। সর্বশেষ এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ২০ মিনিটে Kiryat Shmona শহর লক্ষ্য করে প্রথম দফা রকেট ছোড়া হয়। এরপর রাত ২টা ৪৫ মিনিটে Dovev বসতিতেও আরেক দফা হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
গোষ্ঠীটির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, বসতি, ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তত ৪৩টি পৃথক হামলা চালিয়েছে। এতে সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে চলমান থাকা পর্যন্ত আমাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।” এ বক্তব্যের মাধ্যমে গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই সংঘাতকে দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, Israel Defense Forces (আইডিএফ) এখনো এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পাল্টা হামলাকে একটি প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিরোধ, যার মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং সামরিক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং তার জবাবে হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের জন্য দায়ী করছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটের নিরাপত্তাও এর ফলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনেও মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী শহর ও বসতিগুলোতে বসবাসকারী নাগরিকরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। রাতের বেলায় হঠাৎ রকেট হামলার আশঙ্কা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, সংঘাতের দ্রুত অবসান এখনো অনিশ্চিত। হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলা এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা নতুন করে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই নজরে রাখছে বিশ্ববাসী।









