দেশ
May 20, 2026
পিরোজপুরে নিখোঁজের একদিন পর কবিরাজ নির্মল হালদারের মরদেহ উদ্ধার
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নির্মল হালদার (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নির্মল হালদার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি ‘নির্মল ওঝা’ নামে পরিচিত ছিলেন। পেশায় একজন গ্রাম্য কবিরাজ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মল হালদার অত্যন্ত শান্ত, সদালাপী ও পরিচিত মুখ ছিলেন। এলাকায় সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল বলেও জানান তারা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হন নির্মল হালদার। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা।
পরদিন সকালে পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্মল হালদার সবসময় গলায় প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন এবং সঙ্গে নগদ টাকাও রাখতেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় কোনো স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন বা টাকা পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের ভাগনে দিলীপ হালদার বলেন, “মামার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি নিয়মিত বাজারে যেতেন এবং সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এমন একজন মানুষের মরদেহ এভাবে পড়ে থাকা খুবই রহস্যজনক।”
স্থানীয় বাসিন্দা সমীরণ রায় জানান, সোমবার বিকেলের পর থেকেই নির্মল হালদারের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)