চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সেলুন থেকে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ঘুম আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত সেবন করলে নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাসের মতে, ঘুমের ওষুধের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিছু ওষুধে একই মাত্রায় আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
ঘুমের ওষুধের ধরন ও মাত্রাভেদে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দিনের বেলার কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা ও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তন্দ্রাভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এতে দিনের স্বাভাবিক কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।
কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা ভুল মাত্রায় ব্যবহারে অন্যান্য অঙ্গের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ঘুমের সমস্যা হলে কী করবেন?
ঘুমের সমস্যা হলেই সরাসরি ঘুমের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে এর পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবন করা কিংবা মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে হঠাৎ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে।
বাড়িতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। অনলাইনে পড়াশোনা করতে হলে তাই কখনও পাহাড়ের উঁচু জায়গায়, আবার কখনও জঙ্গলঘেরা এলাকায় গিয়ে মোবাইলে সিগন্যাল খুঁজতে হতো। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেই NEET ২০২৬-এর প্রস্তুতি নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন ভারতের ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের দুই বোন যজ্ঞসেনী খাতুয়া ও দিব্যসেনী খাতুয়া।
ময়ূরভঞ্জ জেলার কাপ্তিপদা ব্লকের মাজিগড়িয়া পঞ্চায়েতের মহুলপঙ্খা গ্রামের বাসিন্দা দুই বোনের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে ছিল নানা বাধা। প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করায় ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস করার মতো মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল না।
ফলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হতো। যেখানে তুলনামূলক ভালো মোবাইল সিগন্যাল পাওয়া যেত, সেখানেই মোবাইল নিয়ে বসে পড়তেন তাঁরা। পাহাড়ের উঁচু জায়গা কিংবা জঙ্গলঘেরা এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলত অনলাইন ক্লাস ও পড়াশোনা। প্রয়োজন হলে রাত পর্যন্তও সেখানে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা গেছে।
দুই বোনের বাবা গৌরাঙ্গ খাতুয়া কৃষিকাজ করেন। মা সুনীতা খাতুয়া অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা। পরিবারের আয় সীমিত হওয়ায় ব্যয়বহুল NEET কোচিং নেওয়ার সুযোগ ছিল না তাঁদের। তাই অনলাইন ক্লাস, পড়ার সামগ্রী, আত্মপাঠ এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তাঁরা।
এই প্রস্তুতিতে দুই বোন একে অপরেরও সহযোগী ছিলেন। বড় বোন যজ্ঞসেনী খাতুয়া তৃতীয় প্রচেষ্টায় NEET ২০২৬-এ সফল হয়েছেন। অন্যদিকে ছোট বোন দিব্যসেনী খাতুয়া প্রথমবার পরীক্ষায় বসেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বড় বোনের পরীক্ষার অভিজ্ঞতা ছোট বোনের প্রস্তুতিতেও কাজে এসেছে। পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করতেন এবং কঠিন বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করতেন।
সীমিত আয়ের মধ্যেও মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাবা-মা তাঁদের পাশে ছিলেন। দামি কোচিংয়ের সুযোগ না থাকলেও মোবাইল ও অনলাইন শিক্ষার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন দুই বোন।
যজ্ঞসেনী ও দিব্যসেনীর এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সীমিত যোগাযোগব্যবস্থা, আর্থিক সংকট এবং শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে তাঁদের গল্প।
এখন দুই বোনের লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া এবং ভবিষ্যতে মানুষের চিকিৎসা ও সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা। একজনের তৃতীয় প্রচেষ্টা এবং অন্যজনের প্রথম প্রচেষ্টার এই সাফল্য তাঁদের সেই স্বপ্নের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ।
নড়াইলে লোহাগড়া পৌরসভার রামপুর গ্রামে বাড়ির সামনে থেকে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সময় তার ব্যাগে থাকা নগদ ৮ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্ত। পুরো ঘটনাটি ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরী লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণা রানী চৌধুরী লোহাগড়া পৌরসভার শিক্ষক সঞ্জিত কুমার দের স্ত্রী। তিনি এলএল গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে ভ্যানযোগে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করছিলেন কৃষ্ণা রানী চৌধুরী। তিনি বাড়ির সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে এক ব্যক্তি তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার হাতে থাকা একটি ব্যাগও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ব্যাগে নগদ ৮ হাজার টাকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষ্ণা রানী চৌধুরী জানান, ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণের চেইনটির ওজন প্রায় এক ভরি দুই আনা। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
ঘটনার পর ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজ যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চম্পা রানি দাস (৩৫) ও তার চার বছরের মেয়ে হৃদি রানি দাস (৪)। চম্পা রানি দাস শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাসের স্ত্রী। স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতদের স্বজন ও রতন দাসের চাচাতো ভাই সজল দাস বলেন, কী কারণে মা ও মেয়ের এমন মৃত্যু হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ঘটনার কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে রাতের আঁধারে এক কৃষকের লাউ ক্ষেতের সব গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাউ চাষ করা কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তার পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের হার্টশহর গ্রামের সোনারপাড়া ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাউগাছগুলো গোড়া থেকে কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী।
কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং ১৬ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে তিনি লাউ চাষ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে প্রথমে দেখতে পান, গাছগুলো নুয়ে পড়ে আছে। পরে কাছে গিয়ে দেখতে পান, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সব লাউগাছের গোড়া কেটে দিয়েছে।
তিনি বলেন, লাউ ধরার আগেই পুরো ক্ষেতের গাছ কেটে দেওয়ায় তার শ্রম ও বিনিয়োগ সবই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঋণ নিয়ে জমি বর্গা করে চাষ করেছিলেন তারা। শত্রুতার কারণে তাদের সব গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের ব্যয় কীভাবে চালাবেন, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, এ ধরনের ক্ষতির জন্য সরাসরি সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে কৃষকের ক্ষেতের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে যুগাবতার পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব আজ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৩:৩০টায় খুলনা স্যার ইকবাল রোডস্থ গোলকমনি শিশু পার্কে আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে মহাসমারোহে শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন কেডিএ চেয়ারমান ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এ্যাড. এস এম শফিকুর রহমান মনা। তিনি বলেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের প্রতীক শ্রীকৃষ্ণ। পৃথিবীতে এক দুর্যোগময় মুহূর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি আর্বিভূত হন। তাঁর আদর্শ ও প্রদর্শিত পথ অনুসরণের মধ্য দিয়ে মুক্তির অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজেদেরকে কখনও সংখ্যালঘু মনে করবেন না। আপনাদের অধিকার ও দাবি-দাওয়ার প্রতি সর্বদা বর্তমান সরকার ওয়াদাবদ্ধ।
খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডুর সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খুলনা বিতান কুমার ম-ল, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সময়ের খবরের সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম, খুলনা সদর থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মোল্লা মাসুদ রশীদ। বক্তব্য রাখেন, মহানগর পূজা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও এস্টেট অব শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দিরের নির্বাহী ট্রাস্টি গোপী কিষণ মুন্ধড়া, খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ দত্ত, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র, ইসকন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি গৌড়েশ্বর নিমাই দাস ব্রহ্মচারী। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, খুলনা মহানগর আহ্বায়ক নিত্যানন্দ ম-ল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু, কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, সম্পাদকম-লীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নিখিল কুমার বিশ্বাস, বাবলু বিশ্বাস, সাংবাদিক বিমল চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, অ্যাড. বিজন কৃষ্ণ ম-ল, অ্যাড. বীরেন্দ্র নাথ সাহা, সনজীব দাস, মহাদেব সাহা, গৌরাঙ্গ সাহা, তাপস সাহা, প্রদীপ সাহা মদন, তরুণ রায় শিবু, ভবেশ চন্দ্র সাহা, অম্লান কুমার সরদার, দীপক দত্ত, সুজিত মজুমদার, দেবদাস ম-ল, শঙ্কর কুমার পোদ্দার, রূপন কুমার দে, বাবু শীল, ডা. পরিতোষ রায়চৌধুরী, ভোলানাথ দত্ত, বিদ্যুৎ কুমার দাস, অলোক দে, রবীন দাস, কুমার লাল, সুশীল দাস, দেবীপ্রসাদ ঘোষ, ইন্দ্রজিৎ কু-ু গোপাল, পলাশ সাহা, পরিতোষ হালদার, অশোক ঘোষ, দুলাল সরকার, নারায়ণ দাস, দেবকুমার হালদার, বিমল কু-ু, সাধন ঘোষ, সঞ্জয় সরকার, তপন সাহা, মেধস ব্যানার্জী, সুরেশ চক্রবর্ত্তী, সুশান্ত ব্যানার্জী, রথীন্দ্রনাথ সরকার বাপ্পী, পারতোষ দাস, স্বপন রায়, অসিত চক্রবর্ত্তী, মিণ্টু সাহা, সুব্রত কুমার সরকার, অসিত বিশ্বাস, সত্যরঞ্জন পোদ্দার, অশোক কুমার সেন, স্বপন সরকার, বৈষ্ণব বলরাম দাস, দেবেন্দ্র নাথ সাহা, লিটন চক্রবর্ত্তী, মহানগর পূজা পরিষদের সদর থানা সভাপতি বিকাশ কুমার সাহা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সরকার, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি বিপ্লব মিত্র ও সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র পোদ্দার, খালিশপুর থানা সভাপতি রজত কান্তি দাস ও সাধারণ সম্পাদক দীপক দত্ত, দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ অধিকারী, খানজাহান আলী থানা সাধারণ সম্পাদক সুভাষ দত্ত, লবণচরা থানা সভাপতি ডা. শেখর পাল, হরিণটানা থানা সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন রায়, আড়ংঘাটা থানা আহ্বায়ক আশিষ কবিরাজ, মন্দির কমিটির সমীর সাহা, রতন বণিক, পলাশ হালদার, পরিমল দাস, গোপাল ঘোষ, কাঞ্জিলাল গোলদার, নিতাই সরদার, প্রবীর ম-ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংশুক রায়, প্রদীপ বসু, বিপ্লব ভৌমিক, মুকুল রায়, বলরাম ঘোষ, উজ্জ্বল রায়, মাণিক শীল, সন্তোষ মজুমদার, সবিতা মজুমদার, গোবিন্দ পাল, কাজল দাস, রাজু শীল, অমিত সাহানি, মিমো দাস, দিব্য সাহা প্রমুখ।
উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের অংশগ্রহণে ও উপস্থিত হাজার হাজার ভক্ত স্বতস্ফুর্তভাবে শ্রীকৃষ্ণের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন সহকারে শঙ্খ-ঘণ্টা, উলুধ্বনি, জয়ধ্বনি, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নামসংকীর্ত্তন করতে করতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় গোলকমনি শিশুপার্কে ফিরে আসে। এ সময়ে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। রাত ৮টায় আদি কালীবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা, ভজন-কীর্ত্তন এবং রাত ১০টায় শ্রীশ্রীকৃষ্ণের পূজা ও পূজান্তে ভক্তবৃন্দের মঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
All rights reserved ©