কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 11, 2026

May 11, 2026

রাত ৩টার দিকে বারবার ঘুম ভাঙে? শরীর ও মনের কোন সংকেত দিচ্ছে জানুন

রাতের গভীর ঘুম হঠাৎ ভেঙে গিয়ে ঘড়ির কাঁটা যদি প্রায়ই রাত ৩টার কাছাকাছি সময় দেখায়, তাহলে বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। বিশেষ করে এরপর আর ঘুম না এলে পরদিন পুরো দিনটাই কাটে ক্লান্তি, বিরক্তি ও ঝিমুনিতে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝরাতে বা ভোরের দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। কিন্তু এটি যদি নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে শরীর ও মনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেতের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের স্বাভাবিক চক্রের কারণেও হতে পারে
মানুষের ঘুম একটানা একই রকম থাকে না। সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ মিনিটের কয়েকটি ঘুমের চক্রের মাধ্যমে পুরো রাতের ঘুম সম্পন্ন হয়। প্রতিটি চক্র শেষে ঘুম কিছুটা হালকা হয়ে আসে। রাত যত গভীর হয়, বিশেষ করে ভোরের দিকে, ঘুমের গভীরতা কমতে থাকে। তাই এই সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ রাতের আরও বিভিন্ন সময়েও সংক্ষিপ্তভাবে জেগে ওঠেন, কিন্তু তখন গভীর ঘুম থাকায় তা মনে থাকে না। ভোরের দিকে ঘুম হালকা থাকায় সেই জেগে ওঠার মুহূর্তটি মানুষ স্পষ্টভাবে টের পান।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বড় কারণ
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা রাতের ঘুমের অন্যতম বড় শত্রু। কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় কিংবা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ সক্রিয় রাখে।
ফলে শরীর বিশ্রামে থাকলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি শান্ত হতে পারে না। এর প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। বিশেষ করে ভোর ৩টার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর মাথায় নানা চিন্তা ঘুরতে শুরু করলে আবার ঘুমিয়ে পড়া কঠিন হয়ে যায়।
কর্টিসল হরমোনের প্রভাব
শরীরে কর্টিসল নামে একটি হরমোন রয়েছে, যাকে “স্ট্রেস হরমোন” বলা হয়। এটি ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে শুরু করে, যাতে শরীর ধীরে ধীরে জেগে ওঠার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
কিন্তু যারা দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকেন বা উদ্বেগে ভোগেন, তাদের শরীরে এই হরমোন আগেভাগেই বেড়ে যেতে পারে। এর ফলেই রাত ৩টা বা ভোরের দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
খাবারের অভ্যাসও ঘুম নষ্ট করতে পারে
রাতের খাবারের ধরন ও সময় ঘুমের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার খাওয়া, চা-কফি পান করা বা বেশি পানি পান করলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
আবার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে শরীর সতর্ক সংকেত পাঠায়, যার কারণে ঘুম ভেঙে যায়। বিশেষ করে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।
কিছু শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে
অনেক সময় রাতের ঘুম বারবার ভেঙে যাওয়া শরীরের কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। যেমন—
স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট
দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা
হৃদরোগজনিত সমস্যা
স্নায়বিক জটিলতা
হরমোনজনিত পরিবর্তন
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হট ফ্ল্যাশ ও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, যা মাঝরাতে ঘুম ভাঙার কারণ হয়।
ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন?
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল হাতে নেন। কিন্তু ফোনের আলো ও স্ক্রলিং মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে তোলে, ফলে ঘুম আরও দূরে সরে যায়।
বিশেষজ্ঞরা এ সময় কিছু সহজ কৌশল অনুসরণের পরামর্শ দেন—
ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন
শরীরকে শিথিল রাখুন
চোখ বন্ধ করে শান্ত কোনো দৃশ্য কল্পনা করুন
শরীরের প্রতিটি অংশ আলাদা করে রিল্যাক্স করার চেষ্টা করুন
ঘন ঘন ঘড়ির দিকে তাকাবেন না
যদি ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরও ঘুম না আসে, তাহলে কিছু সময়ের জন্য বিছানা ছেড়ে শান্তভাবে বই পড়া বা হালকা রিল্যাক্সেশন করা যেতে পারে।
ভালো ঘুমের জন্য যেসব অভ্যাস জরুরি
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগা
শোবার ঘর ঠান্ডা ও অন্ধকার রাখা
ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
রাতে ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা
নিয়মিত ব্যায়াম ও মেডিটেশন করা
এই অভ্যাসগুলো শরীরের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় প্রতিরাতেই ভোররাতে ঘুম ভেঙে যায়, দিনের কাজ ব্যাহত হয়, অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয় বা মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারণ অনেক সময় ঘুমের এই সমস্যা শরীর বা মনের গভীর কোনো জটিলতার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।


May 11, 2026

বাঁশখালীর ৩ শতাধিক বছরের প্রাচীন আদি নিমকালী মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকার লুট

বাঁশখালী উপজেলা–এর কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী আদি নিমকালী মন্দির–এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর বাঁশখালী থানা ও রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও সন্ধ্যা উপাসনা শেষে মন্দিরের সকল দরজা-জানালা তালাবদ্ধ করে কর্মচারীরা চলে যান। পরদিন ভোরে বাল্যভোগ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কার্তিক পাল মন্দিরে এসে প্রধান গেইটের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বারের তালাও ভাঙা এবং গর্ভগৃহে থাকা দেবী কালীর মূর্তির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার ও পূজার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাঁশখালী পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মিন্টু কান্তি পাল বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মন্দির। প্রতিদিনের মতো সেদিনও পূজা শেষে সবকিছু সুরক্ষিত রেখে কর্মচারীরা বের হয়ে যান। কিন্তু গভীর রাতে চোরের দল তালা ভেঙে মন্দিরে প্রবেশ করে।”
তিনি জানান, চোরেরা দেবী কালীর মূর্তিতে থাকা আনুমানিক পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ পূজার ব্যবহৃত কাঁসা-পিতলের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এই মন্দির স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। এমন ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
মন্দিরটির ইতিহাস তুলে ধরে মিন্টু কান্তি পাল বলেন, প্রায় ৩১৬ বছর আগে, আনুমানিক ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন জমিদার রাম সুন্দর শর্মা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়ে মানিক পাঠান গ্রামের সোনাইছড়ি খালে ভেসে আসা নিম কাঠ দিয়ে মা কালীর প্রতিমা নির্মাণ করেছিলেন। পরে এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে এখানে পূজার্চনা শুরু হয়।
প্রতিদিন মন্দিরে বাল্যভোগ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কার্তিক পাল বলেন, “এই মন্দিরে আগে কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এসে দেখি গেইটের তালা ভাঙা। তখনই বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটেছে।”
তিনি আরও জানান, পরে বিষয়টি মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান এবং পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রবাস পাল এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের এত বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করছে রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ি। ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাগচী বলেন, “চোরেরা মন্দিরের প্রবেশপথের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তারা স্বর্ণ ও রুপার অলংকার চুরি করে নিয়ে গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মন্দিরে চুরির ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

 

May 11, 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদিক গীতা গুরুকুলের উদ্বোধন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ

বিজয়নগর উপজেলা–এ বৈদিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সনাতনী সংস্কৃতি চর্চার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে “বৈদিক গীতা গুরুকুল”। শুক্রবার উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের রসুলপুর মধ্যপাড়া কৃষ্ণমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুকুলের উদ্বোধন করা হয়।
গুরুকুলটি প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট–এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। আয়োজকেরা এটিকে সনাতনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধর্মীয়, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয় রাজ বংশী, যিনি বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন রায় টিটন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধ্রুবচন্দ্র দাস, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি এবং রাতুল সরকার, যিনি বিজয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মন্দির কমিটির সদস্য, সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, শাস্ত্রজ্ঞান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, বৈদিক গীতা গুরুকুলের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের গীতা পাঠ, বৈদিক শিক্ষা, নৈতিক জীবনবোধ ও সনাতনী সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা মনে করেন, শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও জাতীয় চেতনা তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে। একইসঙ্গে এটি সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে গুরুকুল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য স্থানীয় সনাতনী সমাজ, বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট–এর নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে গুরুকুলের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত ধর্মীয় পাঠ, সংস্কৃত শিক্ষা, গীতা আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ।

 

May 11, 2026

চট্টগ্রামে তালাবদ্ধ বাসা থেকে স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানা এলাকার দেওয়ানজী পুকুরপাড় থেকে পলি চৌধুরী (৪৬) নামের এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তালাবদ্ধ বাসার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ তার নিজ বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ।
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রয়েছে। পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
ভেতরে প্রবেশ করার পর পলি চৌধুরীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এসআই রাশেদ জানান, “মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার থেকে পলি চৌধুরীর সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বারবার ফোন করেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
রবিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, তার বাসার দরজা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ভেতর থেকেও কোনো ধরনের সাড়া মিলছিল না। পরে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পলি চৌধুরী ওই বাসায় একাই বসবাস করতেন। তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, হঠাৎ এভাবে তার মৃত্যুর খবর তারা মেনে নিতে পারছেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

Sunday, May 10, 2026

May 10, 2026

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন না মেলায় অসন্তোষ জানালেন আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য

ইসকন নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী–এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আদালতের আদেশের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে জয়া ভট্টাচার্য বলেন, আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, সেটি তারা মাথা পেতে নিয়েছেন। আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই তারা নিজেদের আইনগত অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে জামিন না দেওয়ার যে কারণ দেখানো হয়েছে, সেটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, আদালত মূলত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। কিন্তু তাদের মতে, শুধু “সাক্ষ্য শুরু হয়েছে” এই যুক্তি জামিন প্রত্যাখ্যানের জন্য যথেষ্ট নয়।
জয়া ভট্টাচার্য বলেন, “আমি কোর্টের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, কোর্ট যে অর্ডার দিয়েছে আমরা সেটা মাথা পেতে নিয়েছি। কোর্ট বলেছে, তারা মামলার মেরিটে যায়নি, শুধু সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে এই পর্যায়ে জামিন দেয়নি। আমাদের মূল আপত্তি ছিল এই জায়গাতেই।”
তিনি দাবি করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে জামিন বিবেচনার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ধরা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, “সাক্ষী শুরু হওয়া কোনো গ্রাউন্ড না ৪৯৮-এর। এটা ৫২৬ ধারার প্রসঙ্গ হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে হাইকোর্টে একটা ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়েছে যে সাক্ষ্য শুরু হয়ে গেলে অনেকে আবেদন করেন না। কিন্তু বাস্তবে অনেক মামলায় সাক্ষ্য শুরু হওয়ার পরও জামিন দেওয়া হয়েছে।”
আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য আরও বলেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পুরোপুরি শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখনো মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে। ফলে এই অবস্থায় জামিন দেওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব ছিল না বলেই তারা মনে করেন।
তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরে বলেন, যে সময় আলোচিত ঘটনাটি ঘটে, সেই সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কারাগারে ছিলেন। তাই একজন ব্যক্তি কারাবন্দী অবস্থায় কীভাবে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে জয়া ভট্টাচার্য বলেন, “আলিফ হত্যা মামলার সময় চিন্ময় প্রভু জেলে ছিলেন। একজন লোক জেলে থাকা অবস্থায় কীভাবে এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন? এটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”
তিনি আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন গুরুতর মামলার আসামিরাও অনেক সময় জামিন পেয়ে থাকেন। সেই তুলনায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় তার জামিন না পাওয়াকে তারা হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন।
“আমরা তো দেখি অনেক রাঘববোয়ালের জামিন হয়ে যায়। চিন্ময় প্রভু এমন কোনো অপরাধ করেননি যে জামিন না পাওয়ার মতো,” বলেন তিনি।
তবে আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও বিচার বিভাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেন জয়া ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমরা আদালতের আদেশ মেনে নিয়েছি। এখন পরবর্তীতে কী করা যায়, সেটা আইনি টিম আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী–কে চট্টগ্রামে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এরপর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
পরে নিহত আইনজীবীর বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেন। একইসঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা হয়। এসব মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অনুসারীরা দাবি করছেন, তিনি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আইন অনুযায়ীই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে হাইকোর্টে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো এখন শুধু আইনি নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আরও আইনি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কারাগারেই রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজন হলে উচ্চতর আদালতে নতুন আবেদন করা হতে পারে।
May 10, 2026

ঘি নাকি মাখন? প্রতিদিনের খাবারে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর

গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি কিংবা সকালের টোস্টে মাখনের প্রলেপ—দুটিই আমাদের পরিচিত খাবারের অংশ। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঘি রাখা ভালো নাকি মাখন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটিই দুধ থেকে তৈরি হলেও পুষ্টিগুণ, হজমক্ষমতা এবং শরীরের ওপর প্রভাবের দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের আলোকে অনেক ক্ষেত্রেই ঘিকে তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী মনে করা হয়।
ঘি ও মাখনের মূল পার্থক্য
মাখনকে গরম করে এর জলীয় অংশ ও দুধের কঠিন অংশ আলাদা করার মাধ্যমে তৈরি করা হয় ঘি। এই প্রক্রিয়ার কারণে ঘিতে ল্যাকটোজ ও ক্যাসিন প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাদের জন্য ঘি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হতে পারে। অন্যদিকে, মাখনে কিছুটা ল্যাকটোজ থেকে যায়।
রান্নার জন্য কোনটি ভালো?
রান্নার ক্ষেত্রে ঘি অনেকটাই এগিয়ে। কারণ ঘির স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলেও এটি সহজে পুড়ে যায় না। ফলে ক্ষতিকর ধোঁয়া বা ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল তৈরির ঝুঁকিও কম থাকে।
অন্যদিকে, মাখনের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই উচ্চ তাপে রান্না করলে এটি দ্রুত পুড়ে যেতে পারে।
হজম ও মেটাবলিজমে প্রভাব
ঘিতে থাকা বিউটাইরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি হজমে সহায়তা করতে পারে এবং শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদেও ঘিকে হজমশক্তি বৃদ্ধিকারী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মাখনও শক্তির উৎস হলেও এতে থাকা কিছু ফ্যাট শরীরে তুলনামূলক দ্রুত জমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
ভিটামিনের দিক থেকে
ঘিতে ভিটামিন A, D, E এবং K পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। এই ভিটামিনগুলো হাড়, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মাখনেও এসব ভিটামিন রয়েছে, তবে ঘির তুলনায় ঘনত্ব কিছুটা কম।
ওজন কমাতে চাইলে কোনটি ভালো?
অনেকেই মনে করেন ঘি মানেই ওজন বাড়ানো খাবার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে খেলে ঘি শরীরের চর্বি বিপাকে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত নুনযুক্ত মাখন শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
হৃদরোগ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে
যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য ঘি ও মাখন দুটিই সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে অনেক পুষ্টিবিদ মনে করেন, অল্প পরিমাণ খাঁটি ঘি রান্নায় ব্যবহার করা মাখনের তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্রতিদিন কতটা খাওয়া নিরাপদ?
সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা চামচ খাঁটি ঘি গ্রহণ নিরাপদ ও উপকারী হতে পারে। মাখন মাঝেমধ্যে নাশতায় খাওয়া যেতে পারে, তবে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়।
পুষ্টিগুণ ও রান্নার উপযোগিতার দিক থেকে ঘি অনেক ক্ষেত্রেই মাখনের চেয়ে এগিয়ে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসম্মত ও খাঁটি ঘি নির্বাচন করা। ভেজাল বা ডালডা মেশানো ঘি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই যেকোনো খাবারের মতো ঘি বা মাখনও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

 

May 10, 2026

তেলেঙ্গানায় ৮০০ বছরের প্রাচীন শিব মন্দির ভাঙাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গাল জেলায় প্রায় ৮০০ বছরের পুরোনো এক কাকাতীয় যুগের শিব মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি একটি ইন্টিগ্রেটেড স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বুলডোজার দিয়ে ঐতিহাসিক এই মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ইতিহাসবিদ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
জানা গেছে, ওয়ারাঙ্গাল জেলার খানাপুর মণ্ডলের অশোক নগর এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি ১৩শ শতাব্দীতে কাকাতীয় রাজা গণপতিদেব–এর আমলে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, কাকাতীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজবংশ ছিল। তাদের শাসনামলে বহু মন্দির, দুর্গ ও শিল্পনির্ভর স্থাপনা নির্মিত হয়। ধ্বংস হওয়া এই মন্দিরটিও সেই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত ছিল।
মন্দির প্রাঙ্গণে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎকীর্ণ সাত লাইনের একটি বিরল তেলেগু শিলালিপিও ছিল। ওই শিলালিপিতে রাজা গণপতিদেবকে “মহারাজা” ও “রাজাধিরাজুলু” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। গবেষকদের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় নয়, ভাষাগত ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও অত্যন্ত মূল্যবান দলিল ছিল।
ঐতিহাসিক সূত্র বলছে, ১৯৬৫ সালেই হেরিটেজ বিভাগ এই স্থাপনাটিকে নথিভুক্ত করেছিল। মন্দিরটি ঐতিহাসিক “কোটা কাট্টা” মাটির দুর্গ এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নসম্পদ ও প্রাচীন স্থাপনার জন্য পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চাইলে মন্দিরটিকে সংরক্ষণ অথবা প্রযুক্তিগতভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই পথ না বেছে সরাসরি স্থাপনাটি ভেঙে ফেলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওয়ারাঙ্গাল জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিতভাবে মন্দির ধ্বংসের ঘটনা নয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ একর জায়গা পরিষ্কার করার সময় ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি জরাজীর্ণ পুরোনো স্থাপনার অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। তাদের দাবি, এটি সরকারিভাবে সংরক্ষিত প্রত্নস্থাপনার তালিকায় ছিল না।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়ারাঙ্গালের কালেক্টর ডা. সত্যা শারদা এবং নরসাম্পেটের বিধায়ক দোস্থি মাধব রেড্ডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ইতিহাসবিদ, ঐতিহ্যবাহী স্থপতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরামর্শে একই স্থানে পুনরায় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ভারতের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইতিহাসবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

May 10, 2026

সীতাকুণ্ডে ভোররাতে মাইক্রোবাসে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের লুট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার নূনাছড়া এলাকায় ভোররাতে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাতদলের হামলার শিকার হয়েছেন একটি মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন জনি বনিক জানান, শুক্রবার (৪ মে) ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে তারা সাতজন একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নূনাছড়া মসজিদের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িতে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। বিষয়টি বুঝতে চালক গাড়ির গতি কমিয়ে দেন।
পরে গাড়ির পেছনের অংশে কিছু পড়েছে কি না দেখতে তিনজন যাত্রী নিচে নামেন। ঠিক সেই সময় রাস্তার পাশের জমি থেকে ৫ থেকে ৬ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত বেরিয়ে আসে। তাদের হাতে রামদা, কিরিচ ও ধারালো ছুরি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
দুর্বৃত্তরা মুহূর্তেই যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। গাড়ির ভেতরে থাকা চারজন যাত্রীর কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে বাইরে থাকা তিনজনকে ধাওয়া করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের মসজিদে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করা হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ভুক্তভোগীরা সীতাকুণ্ড মডেল থানা–এ গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সকালে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নূনাছড়া এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরে ওই সড়কে চলাচল করা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়।

 

Saturday, May 9, 2026

May 09, 2026

বৃষ্টির ঘ্রাণ ও শব্দ কেন আমাদের মন ভালো করে? জানাচ্ছে বিজ্ঞান

বৃষ্টি শুধু প্রকৃতিকে শীতল করে না, মানুষের মন ও শরীরের ওপরও ফেলে বিশেষ প্রভাব। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, বৃষ্টি নামলে মন হালকা হয়ে যায়, পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে কিংবা এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বৃষ্টির ঘ্রাণ, শব্দ এবং বাতাসে তৈরি হওয়া বিশেষ ধরনের আয়নের প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির সময় বাতাসে তৈরি হওয়া নেগেটিভ আয়ন মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির ফোঁটা যখন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বা মাটিতে আঘাত করে ভেঙে যায়, তখন এই আয়ন তৈরি হয়। ধারণা করা হয়, এসব নেগেটিভ আয়ন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও আলফা ওয়েভের কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করে, যা মানুষকে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করায়।
যুক্তরাষ্ট্রের Pennsylvania State University–এর গবেষক Pam Dalton বলেন, নেগেটিভ আয়ন মানুষের মেজাজ ও ক্লান্তির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পুরোনো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মৌসুমি বিষণ্নতা বা সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আয়োনাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে মানসিক উন্নতি অনুভব করেছিলেন।
বৃষ্টির আরেকটি বড় উপকার হলো বাতাস পরিষ্কার করা। বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসে থাকা ধূলিকণা, দূষিত উপাদান ও অ্যালার্জেন নিচে নামিয়ে আনে। ফলে বৃষ্টির পর বাতাস অনেক বেশি সতেজ অনুভূত হয় এবং শ্বাস নেওয়াও সহজ হয়ে যায়। Purdue University–এর অধ্যাপক Dan Csallany জানান, বৃষ্টির ফোঁটা অনেকটা ঝাড়ুর মতো কাজ করে এবং বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলোকে সরিয়ে দেয়।
বৃষ্টির পর মাটি থেকে যে পরিচিত সোঁদা গন্ধ বের হয়, সেটিকে বলা হয় Petrichor। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ঘ্রাণ মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কারণ, ঘ্রাণ সরাসরি মস্তিষ্কের অ্যামিগডালাকে সক্রিয় করে, যা আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণেই বৃষ্টির গন্ধ অনেক সময় শৈশব, গ্রাম বা পুরোনো কোনো মুহূর্তকে খুব স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়।
শুধু ঘ্রাণ নয়, বৃষ্টির শব্দও মানুষের মানসিক প্রশান্তির বড় কারণ। পানির টুপটাপ শব্দ স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে সাহায্য করে। ক্লিনিক্যাল অডিওলজিস্ট Amy Sarow বলেন, পানির শব্দ আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, যা শরীরকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সংকেত দেয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবেল মাত্রার বৃষ্টির শব্দ মানুষের মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অনেকেই তাই ঘুমানোর সময় বা কাজের ফাঁকে বৃষ্টির শব্দ শুনে স্বস্তি অনুভব করেন।
সব মিলিয়ে বিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টি কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এটি মানুষের মন, স্মৃতি ও শরীরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা। তাই বৃষ্টি নামলে মন ভালো হয়ে যাওয়ার অনুভূতির পেছনে সত্যিই রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

 

May 09, 2026

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষীরগ্রামের প্রাচীন শক্তিপীঠের রহস্য ও ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষীরগ্রাম বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকে অবস্থিত এই গ্রাম মূলত বিখ্যাত মা যোগাদ্যা মন্দির–এর জন্য। শাক্তধর্ম অনুসারীদের বিশ্বাস, এটি হিন্দু ধর্মের ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম। তাই সারা বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থী এখানে এসে দেবীর পূজা ও দর্শন করেন।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, রাজা দক্ষের যজ্ঞসভায় অপমান সহ্য করতে না পেরে দেবী সতী আত্মাহুতি দেন। এরপর শোকে মুহ্যমান মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলে গোটা সৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ডিত করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ক্ষীরগ্রামের এই স্থানে সতীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এটি সতীপীঠ হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে। এখানে দেবী ‘যুগাদ্যা’ বা ‘যোগাদ্যা’ নামে পূজিতা হন এবং তাঁর ভৈরব হিসেবে পূজিত হন ‘ক্ষীরকণ্ঠ’ শিব।
মা যোগাদ্যাকে এখানে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গারূপে পূজা করা হয়। মন্দিরে থাকা দেবীমূর্তিটি কালো কষ্টিপাথরের তৈরি। ভাস্কর্যের গঠন ও অলংকরণে পাল-সেন যুগের শিল্পরীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, রামায়ণের মহীরাবণ বধের পর ভগবান হনুমান পাতাল থেকে এই দেবীমূর্তি উদ্ধার করে ক্ষীরগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই কারণেই অনেক ভক্ত দেবীকে ‘পাতাল ভৈরবী’ নামেও ডাকেন।
এই মন্দিরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, দেবী সারা বছর মন্দির সংলগ্ন ক্ষীরদীঘির জলের নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় থাকেন। বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি তিথিতে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীকে জল থেকে তুলে পূজা করা হয়। বিশেষ করে ৩১শে বৈশাখ ও ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ভক্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ সময় হাজার হাজার মানুষের সমাগমে পুরো ক্ষীরগ্রাম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা তখন দেবীর পূর্ণ দর্শন লাভ করেন।
অন্যান্য বিশেষ তিথিতে তান্ত্রিক বিধি অনুসারে গোপনীয় পরিবেশে দেবীর পূজা সম্পন্ন হয়। এই শক্তিপীঠে এখনো বহু প্রাচীন শাক্তাচার প্রচলিত রয়েছে। দেবীর নিত্যপূজায় আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় এবং কিছু বিশেষ উৎসবে পশুবলির রীতিও পালন করা হয়। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, বহু আগে এখানে নরবলির প্রথাও ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে।
মা যোগাদ্যাকে ঘিরে ক্ষীরগ্রামে নানা লোকবিশ্বাস ও সামাজিক ঐতিহ্য আজও টিকে আছে। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় দেবী শাঁখারি বেশে উমাকে শাঁখা পরিয়েছিলেন। সেই স্মৃতিকে ঘিরে বৈশাখী উৎসবে দেবীকে বিশেষভাবে শাঁখা পরানো হয়। একই সঙ্গে গ্রামের বিবাহিত নারীরাও নতুন শাঁখা পরেন। ফলে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়েও মা যোগাদ্যার এই পীঠস্থান শুধু একটি মন্দির নয়, বরং বাংলার প্রাচীন শাক্তভক্তি, লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরাণ, তন্ত্রসাধনা, লোককথা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন আজও এই পবিত্র স্থানকে ভক্তদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।

 

"
"