কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, August 28, 2026

August 28, 2026

নেপালের ঢলের পানি আসতে পারে বাংলাদেশেও

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালে দেখা দেওয়া ঢলের পুরো তীব্রতা বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম, কারণ কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পানি বিভিন্ন শাখায় ছড়িয়ে পড়বে এবং ঢলের শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। তাই আপাতত আতঙ্কিত না হয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। নেপালে নারায়ণী নামে পরিচিত এই নদী ভারতের বিহারে গণ্ডক নামে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। এরপর গঙ্গার পানি পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তা পদ্মা নামে পরিচিত হয়।

এই সম্ভাব্য পথে পানি বাংলাদেশে ঠিক কখন এবং কী পরিমাণে পৌঁছাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে একপর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হলেও পরে প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনাশরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তবে দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রমের কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে যাওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, বাংলাদেশে পানির উচ্চতা শুধু নেপালের ঢলের ওপর নির্ভর করবে না। ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় বিদ্যমান পানির পরিমাণ, বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশেও একই মাত্রার বন্যা হবে—এমন আশঙ্কার এখনই কোনো ভিত্তি নেই। তবে আন্তঃসীমান্ত নদীর কারণে বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলে নদীর পানি বাড়ছে কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
August 28, 2026

সাবেক হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। এ সময় বাড়ির পাশের কক্ষে থাকা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাবুল ভট্টাচার্য পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)।

পরিবারের সদস্যদের জানান, প্রবীর ভট্টাচার্যের মেয়ে সন্তানসম্ভবা হওয়ায় পরিবারের সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত থেকে আটজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী ব্যক্তি দরজার তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে।

বাড়ির পাশের ঘরে থাকা বাবুল ভট্টাচার্য বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে জিম্মি করে। পরে তাকে প্রবীর ভট্টাচার্যের ঘরে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রবীর ভট্টাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করেছে। লুট হওয়া টাকার মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা ৪ লাখ টাকাও ছিল।

আহত বাবুল ভট্টাচার্য জানান, রাতে উঠানে বের হয়ে তিনি সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করে। দুর্বৃত্তরা সবাই মুখোশ পরা ছিল। মারধরের কারণে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, ভোরে বাবুল ভট্টাচার্য চিকিৎসা নিতে আসেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
August 28, 2026

পরিবারসহ আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস উদ্ধার

চাঁদপুর শহর থেকে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক গাজী কালাম জানান, গত দুই দিনের চেষ্টায় আলোচিত এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তবে কী কারণে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। চাঁদপুরে কাউকে কিছু না বলে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিন্টু দাস কোনো জবাব দিচ্ছেন না।

এর আগে হঠাৎ করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এ তালা ঝুলিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চাঁদপুর থেকে আত্মগোপনে চলে যান পিন্টু দাস। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক হইচই শুরু হয়। পরে পিন্টুর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাড়ির মালিক সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তার কাছে অনেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ টাকা নিতেন। সাধারণ মানুষের সেই স্বর্ণ নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

উদ্ধারের পরও আত্মগোপনের কারণ বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি পিন্টু দাস। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
August 28, 2026

সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দিয়াশলাই কাঠিতে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা


শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে দেশজুড়ে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। তবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরের শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপে চলছে এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। সেখানে মাটি বা খড়ের চিরাচরিত আবরণের বদলে দেড় লাখেরও বেশি দিয়াশলাইয়ের (ম্যাচ) কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা। ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম দেখতে পূজা শুরুর আগেই মণ্ডপে ভিড় করছেন উৎসুক দর্শনার্থীরা।

মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শরতের সাদা মেঘ আর কাশফুলের আগমনী বার্তার মধ্যে চারজন শিল্পী দিনরাত কাজ করছেন। মাটির অবয়বের ওপর নিখুঁতভাবে বসানো হচ্ছে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি। তার ওপর রেশমি সুতার সূক্ষ্ম নকশায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর অলংকার ও পোশাক।

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, তিনি ভারত থেকে দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরির এই বিশেষ কৌশল শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো এমন কাজ করছেন। কয়েক মাস ধরে নিপুণ শ্রম দিয়ে প্রতিমাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছর আমরা ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে চমক দিয়েছিলাম। এবার আরও নতুনত্ব আনতে দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। দিয়াশলাইয়ের কাঠি দাহ্য হওয়ায় বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে এর অগ্নিঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’

কমিটির উপদেষ্টা কানাই লাল সাহা জানান, বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভবত প্রথমবারের মতো এত বিপুল পরিমাণ দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। এ কারণে এবার দেশ-বিদেশের বহু দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, এবার সাতক্ষীরায় পাঁচ শতাধিক মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। তবে ব্রহ্মরাজপুরের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন পুরো জেলায় উৎসবের আমেজে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

Thursday, August 27, 2026

August 27, 2026

রংপুরের সাবেক শিক্ষক ও পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর একক অবস্থান

রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী জয় বিশ্বাস।

বুধবার রাতে দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে তিনি এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁর হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

জয় বিশ্বাস বলেন, "রংপুরের গণপতি স্যারের সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে আমি দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।"

তিনি বলেন, "আমার প্রথম দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রংপুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সকল জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।"

জয় বিশ্বাস দল-মত নির্বিশেষে তাঁর কর্মসূচিতে সকলের সংহতি কামনা করেন।

তিনি বলেন, "নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আমি আশা করি, আমার এই দাবির সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা সংহতি প্রকাশ করবেন।"

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে তাঁর, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।
August 27, 2026

‘৯০ দশকের আলোচিত নিদারাবাদ হত্যাকাণ্ড

১৯৮৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নিদারাবাদ গ্রামে শশাঙ্ক দেবনাথ নামের এক দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বী নিখোঁজ হন। দু’বছর পর উধাও হয়ে যান তার স্ত্রী বিরজাবালা ও পাঁচ সন্তান। গ্রামে গুজব ছড়ায়, শশাঙ্ক আগেই ভারতে চলে গেছে এবং স্ত্রী-সন্তানদেরও নিয়ে গেছে। কিন্তু সত্যি ঘটনা ছিল আরও ভয়াবহ।

১৯৮৯ সালের একদিন বিকেলে গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল মোবারক ধোপাজুড়ি বিলে নৌকায় যাওয়ার সময় পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত তেল ভাসতে দেখেন। পরে মাঝি বৈঠা দিয়ে পানির নিচে খোঁচা দিলে একটি ড্রাম ভেসে ওঠে। ড্রাম খুলতেই সবাই স্তব্ধ—ভেতরে তিনটি লাশ। পরবর্তীতে আরেকটি ড্রাম পাওয়া যায়, সেখানে আরও তিনটি লাশ। মোট ছয়টি লাশ—যারা আর কেউ নন, শশাঙ্কের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান। বেঁচে যান শুধু এক মেয়ে সুনীতিবালা, যিনি তখন শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, প্রতিবেশী গ্রামের কসাই তাজুল ইসলাম শশাঙ্কের সম্পত্তি দখলের লোভে প্রথমে শশাঙ্ককে অপহরণ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকেও এক রাতে নৌকায় তুলে নিয়ে বিলের মাঝে হত্যা করে ড্রামে চুন ও লবণ দিয়ে ভরে বিলে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম জানায়, ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সহযোগীদের নিয়ে সে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাতে তারা দুই নৌকায় শশাঙ্কের বাড়িতে যায়। ঘরের জানালার রড বাঁকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় বিরজাবালা ও তার সন্তানদের ধরে নৌকায় তুলে নেয়। বিলের মাঝে রামদা দিয়ে একে একে সবার দেহ দ্বিখণ্ডিত করে ড্রামে ভরে চুন-লবণ দিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

শশাঙ্ককে হত্যার পদ্ধতিও ছিল নৃশংস। তাজুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা শশাঙ্ককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফাঁদে ফেলে এক ঘরে গামছার ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ ভারতের একটি পরিত্যক্ত রিফিউজি ক্যাম্পে ফেলে আসে।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারে তাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের ফাঁসির রায় হয়। ফাঁসি কার্যকরের পর ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। তাজুলের লাশ কারাগার থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ মানুষ থুতু ছিটিয়ে ও জুতা নিক্ষেপ করে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে।

৩৮ বছর আগের এই ঘটনা এখনো এলাকার মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে আছে। এই ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে ‘কাঁদে নিদারাবাদ’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়।
August 27, 2026

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৫০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভুটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়া জেলার রাসুওয়াগাধি এলাকায় বুধবার বেলা বাড়ার আগেই আঘাত হানে আকস্মিক এই বন্যা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভুটেকোশি নদীর উপনদী লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসের কারণে আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে। প্রথমে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে বন্যার পানি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জনবসতিপূর্ণ ওই এলাকার বড় একটি অংশ পানিতে ভেসে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় বৃষ্টিপাতের কোনো খবর ছিল না। ফলে আকস্মিক এ দুর্যোগের বিষয়ে স্থানীয়দের কোনো আগাম সতর্কতাও ছিল না। রাসুওয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ মাটি কাঁপতে দেখে প্রথমে তিনি ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। বাইরে বের হয়ে তিনি উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির বিশাল ঢেউ দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার এলাকা পানির তোড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

নেপালের পুলিশের পক্ষ থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বিবেচনায় কর্মকর্তারা বলছেন, নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে এবারের বন্যা। নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল বলেন, সোল থেকে আক্কারে বাজার পর্যন্ত কয়েক’শ বাড়ি বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এবারের ভয়াবহ প্রাণহানির পেছনে আগাম তথ্য ও সতর্কবার্তার ঘাটতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রাসুওয়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বত থেকে বন্যার সূত্রপাত হলেও এ বিষয়ে তারা আগে কোনো তথ্য পাননি। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বুধবার বিকেলে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ এবং চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। পরে চীন নেপালকে আশ্বস্ত করেছে, সীমান্তের ওপারে নদীর পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করলে তারা দ্রুত নেপালকে তথ্য জানাবে।
August 27, 2026

হিন্দু বেশে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমার গয়না চুরি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে প্রতিমার গয়না চুরির অভিযোগে মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তার বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের সিংহ বাড়ির পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার সিয়াম উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া গ্রামের মোটর মেকানিক মিজানুর রহমানের ছেলে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ সিংহ বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিয়ামকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের পুরোহিত নিয়মিত পূজা-অর্চনা শেষে অল্প সময়ের জন্য পাশের বাড়িতে গেলে এই সুযোগে ওই তরুণ মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমায় অর্পিত গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিষয়টির সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন তরুণের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের পর সিয়ামের বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমিরা তল্লাশি করে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া কানের দুল, একটি মাথার টিকলি, একটি লকেট ও দুটি বেলপাতা। এগুলোর মোট ওজন দুই ভরি এক আনা এবং আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া চার ভরি ওজনের রুপার একটি গলার চেইন ও এক জোড়া নূপুর উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে এক তরুণ হেঁটে এসে মন্দিরের সামনে দাঁড়ায়। এরপর দুই হাত জোড় করে ভক্তির ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক তাকিয়ে মন্দিরের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় তিন মিনিট পর সে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং তার ঘর থেকে চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত চুরি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


 

August 27, 2026

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ধানখেত থেকে হিন্দু যুবকের মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাশডর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে চিত্তরঞ্জন সূত্রধর (৩৮) নামের এক হিন্দু যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের পরিবার তাঁর মৃত্যুকে হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন।

নিহত চিত্তরঞ্জন বাহুবল উপজেলার কাগাউড়া এলাকার মৃত মাখন সূত্রধরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাশডর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে গ্রামের একটি টাওয়ারসংলগ্ন ধানখেতে চিত্তরঞ্জনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার আগের দিন তিনি নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন।

নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চিত্তরঞ্জনের সৎভাইদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। এ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে মামলা ও বিরোধ চলমান। তিনি দাবি করেন, ওই বিরোধের জেরেই চিত্তরঞ্জনকে হত্যা করে ধানখেতে ফেলে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার এসআই আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, মরদেহে আপাতদৃষ্টে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে; লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Wednesday, August 26, 2026

August 26, 2026

চাঁদপুরে স্বর্ণব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ

চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর মালিক পিন্টু দাসসহ তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম—একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন এবং স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ দেওয়ার ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন পাওনাদারের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং এক ব্যক্তি তাঁকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন। স্বজনদের ধারণা, এর জেরেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাসের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ নিয়েছিলেন অনেক গ্রাহক। কয়েকজনের অভিযোগ, তিনি স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দিতেন এবং পরে স্বর্ণ ফেরত দিতে নানা অজুহাত দেখাতেন।

রঘুনাথপুরের রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস স্ত্রী-সন্তানসহ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জ এলাকায় তাঁর আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

"
"