কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, September 13, 2026

September 13, 2026

মহেশ্বরপাশায় ২২তম সার্বজনীন শ্রীশ্রী গণেশ উৎসবের বিস্তারিত আয়োজন

ভগবান শ্রীশ্রী গণেশ দেবের বন্দনার উদ্দেশ্যে মহেশ্বরপাশা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২২তম সার্বজনীন শ্রীশ্রী গণেশ উৎসব। "মহেশ্বরপাশা কালীবাড়ী পূজা ও মন্দির উন্নয়ন কমিটি"-র আয়োজনে এবং "মহেশ্বরপাশা সনাতন ছাত্র ও যুব পরিষদ"-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চার দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
​আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার) মূল পূজা উদযাপিত হবে। তবে উৎসবের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও অন্যান্য কার্যক্রম ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
​উৎসবের সময়সূচি ও অনুষ্ঠানসূচি:
​২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার):
দুপুর ৩:৩০ মিনিটে মণ্ডপ সজ্জা ও প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে।
​৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার):
সন্ধ্যা ৭:০০ মিনিটে ছাত্র ও যুব সমাবেশ এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
​৩১ ভাদ্র ১৪৩৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার - মূল পূজার দিন):
​সকাল ৮:০০ মিনিটে পূজারম্ভ।
​সকাল ১১:০০ মিনিটে অঞ্জলি প্রদান।
​দুপুর ১:৩০ মিনিটে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ।
​১ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার):
সন্ধ্যায় আবির খেলা এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের (বিসর্জন) মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এই শ্রীশ্রী গণেশ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
​মহেশ্বরপাশা কালীবাড়ী পূজা ও মন্দির উন্নয়ন কমিটি এবং মহেশ্বরপাশা সনাতন ছাত্র ও যুব পরিষদের পক্ষ থেকে সকল ভক্তবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ অনুসারীদের সপরিবারে উপস্থিত থেকে এই ধর্মীয় উৎসব সার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।


 

September 13, 2026

খুলনার আদি কালীবাড়ি পাড়ায় দুই দিনব্যাপী গণেশ চতুর্থী পূজার প্রস্তুতি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ‘গণেশ চতুর্থী’ উপলক্ষে খুলনার আদি কালীবাড়ি পাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর (সোম ও মঙ্গলবার) অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই পূজা উদযাপিত হবে।

আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৯টায় মঙ্গলঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে সকাল ১১টায় পূজা শুরু হবে এবং দুপুর ১২টায় ভক্তদের মধ্যে অঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৮টায় প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই শ্রীশ্রী গণেশ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

আয়োজনটির সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখা। উৎসব উপলক্ষে আদি কালীবাড়ি পাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গণ বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সব ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বীকে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কৃপা ও মহাপ্রসাদ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।





 

September 13, 2026

ডেঙ্গুতে মায়ের সাথে মারা গেল গর্ভের সন্তানও


চট্টগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অর্পিতা দাশ (২৬) নামে সন্তানসম্ভবা এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ওই নারী ৩৫ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। মৃত্যুর পরপরই তাঁর গর্ভস্থ মৃত পুত্র সন্তান প্রসব হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্পিতা দাশ চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। আগামী ১২ অক্টোবর তাঁদের প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসার সম্ভাব্য তারিখ ছিল।

অর্পিতার পিসি শিউলি চৌধুরী জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর অর্পিতার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ৯ সেপ্টেম্বর তাকে এইচডিইউতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা জানান, আইসিইউ প্রয়োজন। তখন তাকে প্রথমে রয়েল হাসপাতালে নেওয়া হয়। রয়েলের চিকিৎসকরা দ্রুত মেডিকেলে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর সারারাত তিনি আইসিইউতে ছিলেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, অর্পিতা ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিনড্রোমে ভুগছিলেন। রাতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে রক্তের প্লাটিলেট দেওয়া হলেও শুক্রবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।


 

Saturday, September 12, 2026

September 12, 2026

রাজশাহীর তানোরের শিবরামপুরে কালীমাতার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, বিক্ষোভ-মানববন্ধন

রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরামপুরে শ্রী শ্রী কালীমাতার নামে থাকা ৫ একর ৪ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্পত্তি রক্ষা ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষসহ আড়াই শতাধিক মানুষ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবরামপুর মধ্যপাড়া কালীমাতা মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্থানীয়রা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিবরামপুর শালবান্ধাপাড়া দ্বীপের মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা ভগিরো শিবমাতা মন্দিরসংলগ্ন বিতর্কিত ধানি জমিতে যান এবং কালীমাতার নামে থাকা জমির পরিমাণ ও সম্পত্তির পরিচয় উল্লেখ করে সীমানা-সংবলিত প্ল্যাকার্ড স্থাপন করেন।

স্থানীয়দের দাবি, সি.এস., এস.এ. ও আর.এস. রেকর্ড অনুযায়ী শিবরামপুর মৌজার জে.এল. নম্বর-৫৫ এবং আর.এস. খতিয়ান নম্বর-১২৩-এর ৫ একর ৪ শতাংশ জমি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের জিম্মাদার ও সেবায়েতরা সম্পত্তিটি দেখভাল করে আসছেন। ওই সম্পত্তির বিভিন্ন অংশে স্থানীয় হিন্দু পরিবার বসবাস, চাষাবাদ ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানান তারা।

তবে সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নামো শংকরবাটি এলাকার মো. খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর বিরুদ্ধে ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ভুয়া দলিল এবং সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি কেনার দাবি তুলে একটি চক্র দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট সকালে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়। এ সময় গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে তা প্রতিহত করেন। খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

এলাকাবাসী জানান, সম্পত্তি রক্ষা এবং বহিরাগতদের কথিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে এর আগে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সি.এস., এস.এ. ও আর.এস. রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র যাচাই করে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


 

September 12, 2026

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বৌদ্ধবিহারে ডাকাতি, ভিক্ষুকে জিম্মি করে টাকা-মালামাল লুট


চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় একটি বৌদ্ধবিহারে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ হাসিমপুর বিজয়া রামবিহারে এ ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা অস্ত্রধারীরা বিহারের ভিক্ষুকে জিম্মি করে টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিহার কর্তৃপক্ষ।

বিহারটির ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিত জানান, ধর্মীয় কার্যাদি করার জন্য ভোররাত চারটার দিকে তিনি নিজ কক্ষের দরজা খোলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি দা-কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। এরপর তাঁকে কক্ষের খাটে বসিয়ে রেখে অস্ত্রধারীরা বলেন, ‘চুপ করে বসে থাকেন, কথা বললে সমস্যা হবে।’

এ হুমকির পর তাঁর কাছ থেকে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয় অস্ত্রধারীরা। পরে আলমারি খুলে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, একটি সাউন্ড বক্সসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় তারা। ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিত জানান, ডাকাতেরা যাওয়ার সময় কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। পরে পাশের কক্ষের দুই শ্রমণকে ডেকে দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিহার কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

September 12, 2026

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সেলুন থেকে তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি সেলুন থেকে নেপাল রবি দাশ নামে এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বটতলীর রুস্তমহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নেপাল রবি দাশ উপজেলার পূর্ব বটতলী এলাকার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মৃত সুনীল রবি দাশের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নেপাল ও তাঁর এক বড় ভাই মিলে রুস্তমহাটে একটি সেলুন পরিচালনা করতেন।

বাজারের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাতে নেপালের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা ছিল—‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন।’ পোস্টটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা নেপালের খোঁজ করতে থাকেন এবং পুলিশকেও বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ওই সেলুনে যায়। সেলুনটির দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দেওয়া অবস্থায় নেপালের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, রাতের খাবার খেয়ে নেপাল ওই সেলুনে গিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই এবং নেপালের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


 

September 12, 2026

নীলফামারীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু যুবক আটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে নীলফামারীর দেবাশীষ রায় (২২) নামে এক যুবককে রংপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় মুসলিম তাওহীদ জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক দেবাশীষ রায় নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভাবনাকুড়ি-খলিশাপচা এলাকার প্রদীপ রায়ের ছেলে। তিনি রংপুরের একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে উদ্দেশ্য করে দেবাশীষ রায়ের একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তাকে রংপুর থেকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় মুসলিম তাওহীদ জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দেবাশীষের বাবা প্রদীপ রায় বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমার ছেলে যদি প্রকৃত অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে আমি চাই সে শাস্তি পাক। আর যদি সে অপরাধী না হয়, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই।’

নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে দেবাশীষ রায়কে রংপুর থেকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

September 12, 2026

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি আইনজীবী ঐক্য পরিষদের

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার খুনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা বলেন, ‘চার খুনের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট ফাইল করেছি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং তদন্তকারীদের সুপারভিশনের জন্য আমরা এসেছি। এ ধরনের বড় কোনো ঘটনা ঘটলে সুষ্ঠু তদন্ত হবে—আমি ব্যক্তিগতভাবে তা বিশ্বাস করি না।’

তিনি জানান, বাড়িটি পরিদর্শনের জন্য পুলিশের আইজিপি ও কমিশনার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। চার আইনজীবীকে ক্রাইম সিনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুরোধ করা হলেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ কমিশনার তার মোবাইল নম্বর ব্লক করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আইনবিষয়ক সম্পাদক অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ কমিশনার একসময় একেক কথা বলেছেন। ডোমের কথা এক রকম, চিকিৎসকের কথা আরেক রকম।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। এজন্য আমরা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে পুলিশের মনগড়া নাটকের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যেমন নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে হয়েছে, চার খুনের ঘটনাতেও আমরা এমন একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।’ তিনি দাবি করেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই ভয়ের কারণে মুখ খুলছেন না।

বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে এসেছি, যাতে রিট পিটিশনের সময় আদালতকে সহযোগিতা করতে পারি। কিন্তু এখানে এসে আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড নিজের চোখে দেখে আমরা হতবাক। গণপতি চক্রবর্তীর পুরো বংশ নির্বংশ হয়ে গেল।’ তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি আইনজীবী ঐক্য পরিষদকেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানান।

এর আগে বিকেলে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলা ও ছাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে পুলিশ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। পরে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলকে ক্রাইম সিনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তা দেওয়া হয়নি। এরপর তারা বাড়ির নিচতলা ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় সাবেক জেলা জজ সুধোন্দু কুমার বিশ্বাস, আইনজীবী ঐক্য পরিষদের দপ্তর সম্পাদক প্রজ্ঞা পারমিতা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মিন্টু চন্দ্র দাস, রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগসহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


 

Wednesday, September 9, 2026

September 09, 2026

সোশ্যাল মিডিয়ায় আটের দশকের ঢেউ: কেন এখন নস্টালজিয়ার এত জোয়ার?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেলেই এখন চোখে পড়ছে আশির দশকের ছবি। উঁচু কোমরের প্যান্ট, বড় ফ্রেমের চশমা, অ্যাম্বাসেডর গাড়ি, কাঠের শোকেস আর মোজাইক মেঝে—যেন ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া এক সময়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে সবাই নিজেকে আটের দশকের রূপে সাজাচ্ছেন। কেউ গান দিচ্ছেন, কেউ বা ছবির সঙ্গে যোগ করছেন দানাদার আবহ ও বিবর্ণ রং, যাতে পুরোনো অ্যালবামের ছবির মতো লাগে।

কেন আটের দশক?

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ বি নায়ার বলছেন, বর্তমান জীবনের চাপ, সম্পর্কের জটিলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতেই মানুষ অতীতকে মনে করছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘রোজি রেট্রোস্পেকশন বায়াস’—অতীতের কষ্টগুলো ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়, শুধু সুখের স্মৃতিগুলো উজ্জ্বল থাকে।

সমাজবিজ্ঞানী জ্যোতি এস নায়ারের মতে, দ্রুতগতির প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মানুষ খুঁজছে আপন অনুভূতি। আটের দশককে তারা ধীর, স্পর্শযোগ্য ও মানুষের কাছাকাছি মনে করছে। প্রতিটি প্রজন্মই একসময় নিজের সময়কে আদর্শ করে দেখে—সেই সূত্রেই হয়তো আজকের প্রজন্মও ফিরে যাচ্ছে সেই দশকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নস্টালজিয়া শুধু আটের দশকের মানুষদের নয়; বর্তমান প্রজন্মও নতুনভাবে আবিষ্কার করছে সেই সময়ের ফ্যাশন ও সংস্কৃতি। আর হয়তো কয়েক বছর পর ২০২৬ সালটাকেও কেউ ‘সুন্দর সময়’ বলবে—এটাই মানুষের মনস্তত্ত্ব। আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় আটের দশকের এই ঢেউ দারুণ জনপ্রিয়, যা সবার মনেই একটু হলেও ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক অন্য সময়ে।


 

September 09, 2026

ঘুমের ওষুধ কেন ক্ষতিকর, দীর্ঘদিন সেবনে কী হতে পারে


রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ঘুম আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত সেবন করলে নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাসের মতে, ঘুমের ওষুধের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিছু ওষুধে একই মাত্রায় আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে।

ঘুমের ওষুধের ধরন ও মাত্রাভেদে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দিনের বেলার কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা ও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তন্দ্রাভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এতে দিনের স্বাভাবিক কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।

কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা ভুল মাত্রায় ব্যবহারে অন্যান্য অঙ্গের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ঘুমের সমস্যা হলে কী করবেন?

ঘুমের সমস্যা হলেই সরাসরি ঘুমের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে এর পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবন করা কিংবা মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে হঠাৎ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে।

"
"