কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, April 21, 2026

April 21, 2026

৩০০ বছরের জোড়া শিবমন্দির ধ্বংসের মুখে, দ্রুত সংরক্ষণের দাবি

 

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জোড়া শিবমন্দির এখন ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন দ্রুত সংরক্ষণ না করা হলে একসময় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মন্দিরের গায়ে থাকা নামফলক অনুযায়ী, ১১০৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই জোড়া শিবমন্দির দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে এখানে শিব পূজা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। তবে অবহেলা ও সময়ের ক্ষয়ে মন্দিরটির অবকাঠামো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দিরের দেয়ালে নোনা ধরায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন নকশার দরজাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। গম্বুজে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আর ছাদের ফাঁকে জন্মানো বটগাছ ও তার শেকড় পুরো কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা দুটি শিবলিঙ্গও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর চক্রবর্তী ও অরবিন্দু দাসসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় মন্দিরটির এই করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় ভক্তরা নিজেদের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে রং করার কাজ করলেও বড় ধরনের সংস্কার তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, “এখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয় এবং প্রতিদিন ভক্তরা আসেন। কিন্তু মন্দিরের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। এখনই সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে এটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফকিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় থাকা প্রাচীন স্থাপনাগুলোকে দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, “মন্দিরটির বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
সবমিলিয়ে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
April 21, 2026

রাজধানীসহ দেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্ক নয় সতর্কতার পরামর্শ

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার সকালে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, সকাল ৬টা ২৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫, যা মাঝারি মাত্রার হিসেবে বিবেচিত।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর রাজ্যে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দূরত্ব বেশি হওয়ায় কম্পনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রুবাঈয়াৎ কবীর বলেন, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও শঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। কারণ, এটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩০টিরও বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়েছে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে, যা ডাউকি চ্যুতির নিকটবর্তী হওয়ায় ভূতাত্ত্বিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা না থাকলেও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোই হতে পারে ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সার্বিকভাবে, আজকের ভূমিকম্প বড় কোনো বিপদের কারণ না হলেও এটি আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

April 21, 2026

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের কার্গো জাহাজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। ‘শুজা-২’ নামের জাহাজটি ইরানের বন্দর থেকে যাত্রা করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান MarineTraffic–এর তথ্য অনুযায়ী, ‘শুজা-২’ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর গন্তব্য ভারত।
এর আগে ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করে। এই অবরোধের মধ্যেও ইরানের জাহাজ চলাচল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এদিকে এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ঘোষণার পর তেলের দামে নতুন করে উত্থান দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাই মূলত দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামে প্রভাব ফেলে।

 

April 21, 2026

বীরগঞ্জে শ্মশানের জমি দখলকে কেন্দ্র করে আদিবাসী পল্লীতে হামলা, মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বীরগঞ্জ উপজেলার নাজপুর এলাকায় শ্মশানের জমি ও গাছ দখলকে কেন্দ্র করে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামের সনকা পল্লীতে এ হামলা চালানো হয়। এতে একটি কালী মন্দির ভাঙচুর, একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং একজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াবান্দ এলাকার রেজাউল ও আজাদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই’শ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শ্মশানের জমি ও গাছ দখলের উদ্দেশ্যে সনকা পল্লীতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লীর একটি কালী মন্দিরে ভাঙচুর চালায় এবং প্রতিমা পাশের একটি ভুট্টাখেতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা মঙ্গল মুরমুর ছেলে পিউস মুরমুর (৪৫)-এর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পিউস মুরমুকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর একটি দল বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

Monday, April 20, 2026

April 20, 2026

তেলবাহী জাহাজে সরবরাহ বাড়লেও কমছে না ভিড়, জ্বালানি বাজারে অস্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশের জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসায় সরবরাহে কিছুটা গতি ফিরেছে। এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানির মজুত বাড়লেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি কমেনি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চলতি মাসে ৮টি জাহাজে করে দেশে এসেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল। একই সময়ে ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া একটি করে জাহাজে এসেছে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল। এর পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল দেশে প্রবেশ করেছে।
এই সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত রোববার থেকে দেশের অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে চাপ কিছুটা কমতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে নিয়মিত তেল আসছে এবং এপ্রিল মাসে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি হয়েছে। এখন মে ও জুন মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ডিজেলেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে। তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই চালান যুক্ত হলে মজুত প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বাড়বে।
১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন। দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহের চাপ থাকলেও চাহিদা সামান্য কমতির দিকেই রয়েছে।
অকটেনে বাড়তি স্বস্তি
অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টনে, যা দিয়ে ২৪ দিন চলা সম্ভব। এর মধ্যে নতুন করে ২৭ হাজার টন অকটেনবাহী একটি জাহাজ এসে খালাস শুরু করেছে। ফলে এই জ্বালানিতে মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর মতো অবস্থাও তৈরি হয়েছে।
দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ১১৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এতে করে অকটেনের সরবরাহে আপাতত বড় কোনো চাপ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রল ও ফার্নেস তেলের চিত্র
দেশে পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২৫৩ টন, যা গত বছরের তুলনায় কম।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চলবে। এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭২০ টন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস সংকট না বাড়লে এই খাতে চাপ তুলনামূলক কম থাকবে।
জেট ফুয়েলে চাহিদা বাড়ছে
অন্যদিকে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭৭৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের। এই দুই জ্বালানির চাহিদা কম হওয়ায় সরবরাহেও তেমন চাপ নেই।
সরবরাহ বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি
যদিও জাহাজে জ্বালানি আসায় মজুত দ্রুত বাড়ছে, তবুও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্রাহকদের তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন চালকদের দীর্ঘ সারি যেন এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নতুন সরবরাহ এলেও তা সব পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে। ফলে ভোগান্তি কমতে দেরি হচ্ছে।
আরও জাহাজ আসছে সামনে
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এ সপ্তাহে আরও অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে অকটেন ও ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে স্বস্তি আরও বাড়বে। ডিজেলের বড় চালান খালাস হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। সামনে আরও জাহাজ আসছে, ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও আগের সংকটের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে ধারাবাহিক আমদানি ও মজুত বৃদ্ধির ফলে খুব শিগগিরই বাজারে স্বস্তি ফিরবে—এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


 

April 20, 2026

ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস-ট্রাক ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠকে বিআরটিএ

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির পর সড়ক পরিবহন খাতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং পরিবহন মালিকরা। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খাতে ব্যয় বেড়ে গেছে, যার প্রভাব সামাল দিতে নতুন ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। এছাড়া সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতারা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর তা বিশ্লেষণ করে যাত্রীস্বার্থ, জ্বালানি খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাস ও ট্রাক পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনের অপারেশন খরচের বড় একটি অংশই জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই ভাড়া সমন্বয়ের চাপ তৈরি হয়। তবে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কীভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিবহন মালিকদের একটি অংশের দাবি, বর্তমান ভাড়া কাঠামোতে নতুন জ্বালানি মূল্য অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, শুধু জ্বালানি নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের দাম এবং শ্রমিকদের মজুরি—সবকিছুর খরচই বেড়েছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় না করলে পরিবহন খাত টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
অন্যদিকে যাত্রী অধিকার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ভাড়া বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ইতোমধ্যেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষ চাপে রয়েছে। এর মধ্যে আবার পরিবহন ভাড়া বাড়লে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং যৌক্তিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক সময় দেখা গেছে, জ্বালানির দাম কমলেও ভাড়া কমানো হয়নি, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাই এবারের সিদ্ধান্ত এমন হতে হবে যাতে জ্বালানির দাম কমলে ভবিষ্যতে ভাড়াও সমন্বয় করা হয়—এমন একটি নীতিগত কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি খরচ, জ্বালানি ব্যয়, যানবাহনের ধরন এবং রুটভেদে পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। ঢাকা মহানগরী এবং দূরপাল্লার রুটে ভাড়ার কাঠামো আলাদা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে পণ্য পরিবহন খাতেও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। ট্রাক মালিকরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পণ্যের পরিবহন খরচও বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারদরে পড়তে পারে। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু যাত্রী পরিবহনেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি একটি চেইন রিঅ্যাকশনের মতো কাজ করে। পরিবহন খরচ বাড়লে তা পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ সৃষ্টি করে। তাই সরকারের উচিত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাতে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম হয়।
সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সময় অনুযায়ী সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।
বৈঠকের ফলাফল নিয়ে এখন সবার নজর। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এমন একটি সিদ্ধান্ত আসবে যা মালিক ও যাত্রী উভয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তবে যাত্রীরা চান, হঠাৎ করে বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হোক এবং ভাড়া নির্ধারণে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।
সব মিলিয়ে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ও ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়, পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি। এখন দেখার বিষয়, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্টরা কী ধরনের সমাধান নিয়ে আসে এবং তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

 

April 20, 2026

বগুড়ার নন্দীগ্রামে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত মুসলিম যুবক গ্রেফতার

 

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে নুর নবী সরকার (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের কামুল্যা সরকারপাড়া চাকরান আধখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করে জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার স্ত্রীকে বাড়ির সিঁড়ির সামনে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছে অভিযুক্ত।
তিনি আরও জানান, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে এবং পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত নুর নবী সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন এলাকায় সরস্বতী পূজার আয়োজন থাকায় অধিকাংশ মানুষ ব্যস্ত ছিলেন, সেই সুযোগে অভিযুক্ত বাড়িতে ঢুকে এ ঘটনা ঘটায়।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

April 20, 2026

রঙিন চাঁদ পৃষ্ঠ দেখে বিস্মিত নভোচারীরা

নাসার ৯ দিনের Artemis II মিশন সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এই মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী চন্দ্র ফ্লাইবাই, যেখানে Orion spacecraft-এ থাকা চার নভোচারী কাছ থেকে চাঁদ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। সেই পর্যবেক্ষণেই উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—চাঁদ আসলে একরঙা ধূসর নয়, বরং এতে রয়েছে নানা রঙের ছোঁয়া।
মিশন চলাকালীন সিবিএস নিউজকে নাসার ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ফর এক্সপ্লোরেশন Joel Kearns জানান, নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠে বিভিন্ন রঙের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। তার ভাষায়, “তারা আমাদের জানিয়েছে, চাঁদে তারা অনেক রঙ দেখতে পাচ্ছে—যা সত্যিই বিস্ময়কর।”
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাকাশযানের ক্যামেরার তুলনায় মানুষের চোখ সূক্ষ্ম রঙের পার্থক্য সহজে ধরতে পারে। তাই কাছ থেকে দেখার সময় চাঁদের প্রকৃত রূপ আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে। এই পর্যবেক্ষণে নভোচারীরা বিশেষ করে বাদামি ও সবুজাভ কিছু অঞ্চল শনাক্ত করেছেন, যা বিভিন্ন খনিজ উপাদান বা ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিতে পারে।
যেহেতু এই মিশনে চাঁদে অবতরণ করা হয়নি, তাই দূর থেকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মিশনের আগে থেকেই নভোচারীদের এমন বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ বিস্তারিতভাবে নোট ও লগ আকারে সংরক্ষণ করেছেন, যা এখন বিশ্লেষণের অপেক্ষায়।
এছাড়া, নভোচারীরা বিপুলসংখ্যক ছবি সংগ্রহ করে এনেছেন। এর কিছু অংশ মিশন চলাকালীন পৃথিবীতে পাঠানো হলেও অধিকাংশ তথ্য এখনো বিশ্লেষণাধীন। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এসব তথ্য থেকে চাঁদের গঠন, খনিজ উপাদান এবং পৃষ্ঠতলের বৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও নতুন ধারণা পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, Artemis II মিশনের এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, আমরা যে চাঁদকে এতদিন একরঙা ভেবেছি, তার ভেতরেও লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য।

 

Sunday, April 19, 2026

April 19, 2026

খুলনায় দায়িত্ব পালনকালে গুলিতে রেলওয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু


খুলনায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক রেলওয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা-এর খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের অস্ত্র থেকেই গুলি ছুটে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে; বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে অস্ত্রাগার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন সম্রাট বিশ্বাস। এ সময় তার ব্যবহৃত রাইফেল থেকে গুলি ছুটে মাথায় আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার জানান, সম্রাট বিশ্বাস দায়িত্বশীল ও কর্মঠ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে তিনি মানসিক চাপে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের স্ত্রীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত আছেন। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহকর্মীদের মধ্যে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সঠিক কারণ উদঘাটনে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


 

April 19, 2026

বাউল সাধক কানাই দাস বাউল আর নেই, সংগীতজগতে শোকের ছায়া

ভারতীয় বাউল সংগীতের অন্যতম সাধক-শিল্পী কানাই দাস বাউল আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠ-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাও ছিল তার।
কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বাহ্যিক দৃষ্টি না থাকলেও অন্তর্দৃষ্টিতে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন জীবন, মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার গভীর সত্য।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে বেছে নেন সাধনার পথ। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন মানবতার বার্তা। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বহু গান, যেখানে উঠে এসেছে জীবনদর্শন, প্রেম ও আত্মিক উপলব্ধির কথা।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে বাউল গান পরিবেশন করে তিনি অর্জন করেন বিশেষ খ্যাতি। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই Nine Lives-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।
কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল ভালোবাসা ও মানবতার আহ্বান। তিনি শুধু একজন শিল্পীই নন, ছিলেন একজন সাধক ও পথপ্রদর্শক। তার প্রয়াণে বাউল সংগীত ও সংস্কৃতির জগতে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তার মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তার গান, দর্শন ও সাধনার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে, অনুপ্রেরণা জোগাবে আগামীর শিল্পী ও শ্রোতাদের।

 

"
"