কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, September 26, 2026

September 26, 2026

প্রাথমিক শিক্ষক পদে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগ গেজেটে নাম নেই রাহুলের


নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত হওয়ার পরও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকার অভিযোগ করেছেন রাহুল দাস নামে এক প্রার্থী।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি শিক্ষক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী তদন্তের পর চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাহুলের স্বজন ও পরিচিতদের অভিযোগ, নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে তাকে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। তাদের দাবি, রাহুলের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নেই এবং চাকরির যোগ্যতা নিয়েও কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

তাদের আরও অভিযোগ, রাহুল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ কী এবং এর সঙ্গে তার ধর্মীয় বা সংখ্যালঘু পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে আরও কয়েকজন প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে তাদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন। তাদেরও দাবি, নাম বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

রাহুলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং নিয়োগ থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।

September 26, 2026

বগুড়ায় কালীমন্দিরে ভাঙচুর, দান বাক্সের টাকা ও পূজার সামগ্রী চুরি



 বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার একটি কালীমন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মন্দিরের দান বাক্স ভেঙে টাকা এবং বিভিন্ন পূজার সামগ্রী চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের মাটিহাঁস গ্রামের ডহরপুর কালীমাতা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্দিরের পুরোহিত শ্রী খগেন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পূজা-অর্চনা শেষে তিনি বাড়িতে চলে যান। শুক্রবার সকালে মন্দিরে এসে তিনি দান বাক্স ভাঙা এবং ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় একটি মূর্তিও মন্দিরে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মন্দিরের পাশের একটি ডোবা থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাটিহাঁস থেকে হাটকড়ইগামী আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে ‘সন্ন্যাসী ঠাকুর’ নামের আরেকটি মূর্তি পাওয়া যায় বলে জানান পুরোহিত।

মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কাসার ঘণ্টা, ত্রিশূল, কাসার কাঁসি, কাসার প্লেটসহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী। একই সঙ্গে দান বাক্সে থাকা টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গ্রামের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Friday, September 25, 2026

September 25, 2026

ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর মরদেহ, মিলেছে পরিচয়


 ময়মনসিংহে পানিতে ভাসতে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতের নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর ত্রিশাল উপজেলার রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে। ত্রিশালে বাড়ি হলেও তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি একজন জুয়েলারি কারিগর ছিলেন।

এর আগে বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে থাকা একটি ড্রাম দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ড্রামের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ একটি ড্রামের ভেতরে রেখে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

 

September 25, 2026

প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দিলে সপরিবারে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি

 পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক কিশোর কুমার হালদার (৫৪) উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বুড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে কিশোর কুমার হালদারের ফোনে কল আসে। ফোনে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আগামী শুক্রবারের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কিশোর কুমার হালদারের ভাষ্য, ফোনে তাঁকে বলা হয়, তাঁদের নাজিরপুর থেকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য ‘সিলেক্ট’ করা হয়েছে। এ থেকে রক্ষা পেতে শুক্রবারের মধ্যে ২০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে সপরিবারে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

হুমকির পর নিরাপত্তার কারণে নিজের নয় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই শিক্ষক।

কিশোর কুমার আরও জানান, গত বছর তাঁর চাচাতো ভাই সঞ্জীব হালদারকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখার ঘটনা ঘটেছিল। এ কারণে নতুন করে পাওয়া হুমকিতে তিনি ও তাঁর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিদেশি বা ইন্টারনেটভিত্তিক একটি নম্বর থেকে ফোন করে প্রধান শিক্ষককে ভয় দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক থানায় জিডি করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত করা হচ্ছে।

September 25, 2026

কুষ্টিয়ার হিন্দুদের শ্মশানে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিকের অভিযোগ


কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরিনারায়পুর মহাশ্মশান এলাকায় কয়েকজন যুবক গরুর মাংস রান্না করে সেখানে পিকনিক করেন। এ সময় শ্মশানের বিভিন্ন স্থানে তারা অবস্থান করেন এবং চিতা বা সমাধিস্থলের ওপর জুতা পায়ে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্মশানের মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শ্মশানের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

Wednesday, September 23, 2026

September 23, 2026

নাগেশ্বরীতে মধ্যরাতে মন্দিরে হামলা, মহাদেবের প্রতিমা চুরির চেষ্টা

 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি পারিবারিক মন্দিরে মধ্যরাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মন্দির থেকে মহাদেবের প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম রায়গঞ্জ এলাকায় শ্রী সমবারু দাস ও শ্রী অতিকান্তের বাড়ির পারিবারিক মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাতে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে মন্দিরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন পূজার সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।

হামলার শব্দ শুনে বাড়ির লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। পালানোর সময় অভিযুক্তদের একজন একটি মুঠোফোন ফেলে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরে মন্দিরে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, মহাদেবের প্রতিমাটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মন্দিরের পূজার সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া মুঠোফোনটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে বা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



September 23, 2026

বাগেরহাটে কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, তদন্তে পুলিশ


বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট সদর উপজেলার খাড়াসম্বল গ্রামের দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পূজার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে স্থানীয়রা মন্দিরের ভেতরে ভাঙচুর করা প্রতিমা পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয়রা জানান, নিয়মিত পূজার আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে মন্দিরে গেলে প্রতিমাটি বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এমনকি প্রতিমার মাথাও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে বলে মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। পরে বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হলে সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সর্বজিৎ হালাদার জানান, প্রতি মঙ্গলবার ওই মন্দিরে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজার প্রস্তুতির জন্য পরিবারের দুই সদস্য সোমবার দুপুরে মন্দিরে গেলে তারা প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। তবে কারা বা কী কারণে প্রতিমাটি ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বীথি বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মন্দিরটির দরজা-জানালা খোলা ছিল এবং এটি নিরাপত্তার দিক থেকে সুরক্ষিত নয়। মন্দিরের আশপাশে বসতবাড়িও খুব কাছাকাছি নেই। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে কারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। 

 

September 23, 2026

রাজবাড়ীতে দুর্গাপূজার আগে দুর্গা-সরস্বতীর প্রতিমা ভাঙচুর



রাজবাড়ী প্রতিনিধি: দুর্গাপূজা সামনে রেখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহের বড়বাজার দুর্গামণ্ডপে দেবী দুর্গা ও সরস্বতীর প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে মণ্ডপের ভেতর থেকে কোদাল আনতে গেলে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

মণ্ডপের সভাপতি অরুণ কুন্ডু জানান, ঘটনার সময় মণ্ডপের বাইরে তালা লাগানো ছিল। প্রতিমা ভাঙার ধরন দেখে তাদের ধারণা, বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে প্রতিমার মুখ ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকতে পারে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড়বাজার দুর্গামণ্ডপে প্রায় ১৫০ বছর ধরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই পূজামণ্ডপে উৎসবের আগে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মণ্ডপের সভাপতি অরুণ কুন্ডু।

এদিকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজবাড়ী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক সরকার। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Tuesday, September 22, 2026

September 22, 2026

কেরানীগঞ্জে দুই যুবককে গুলি করে ২০–২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ


ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর বাজার এলাকায় দুই যুবককে গুলি করে ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন ২৫ বছর বয়সী অন্তর সরকার ও তাঁর পিসতুতো ভাই ২০ বছর বয়সী রাজিব সরকার। তাঁদের দুজনের পায়েই গুলি লেগেছে। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়া এলাকায়।

আহত অন্তর সরকার জানান, হযরতপুর বাজারে তাঁদের একটি জুয়েলারির দোকান রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার পর তিনি, তাঁর বাবা নিতাই সরকার ও রাজিব সরকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হযরতপুর এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং একটি সিএনজি অটোরিকশায় থাকা আরও কয়েকজন তাঁদের অটোরিকশার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা গুলি চালালে অন্তর ও রাজিব পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

অন্তর সরকারের অভিযোগ, এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারের একটি টিফিনবাক্স নিয়ে যায়। ওই বাক্সে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচ থেকে ছয়টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অন্তর ও রাজিবকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর হযরতপুর এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কারা জড়িত এবং প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ স্বর্ণালংকার বা নগদ টাকা খোয়া গেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

September 22, 2026

চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান চম্পা এখন অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক


মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা-বাগানের শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম চম্পা নাইডুর। চা-বাগানের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই বেড়ে ওঠা সেই চম্পাই এখন ভারতের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক। তার গবেষণার বিষয় বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের জীবন, মানবাধিকার ও সামাজিক বাস্তবতা।

চম্পার শিক্ষাজীবনের শুরু চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য পরিচালিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুলে। ২০১০ সালে সেখানে ভর্তি হওয়ার পর বিনামূল্যে পড়াশোনা ও আবাসনের সুযোগ পান তিনি। ২০১৫ সালে ক্যামেলিয়া ডানকান হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে কুলাউড়ার ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

উচ্চশিক্ষার পথেও বৃত্তি তার এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সহায়তা হয়ে ওঠে। ডাচ্-বাংলা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও চা-শ্রমিকদের জীবনকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা চম্পার চিন্তাভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে। চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, অধিকার, জীবনমান ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয় তার মধ্যে।

২০২৩ সালে ভারত সরকারের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (ICCR) স্কলারশিপ নিয়ে ভারতে যান চম্পা। এরপর অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। নিজের পূর্বপুরুষদের শেকড় অন্ধ্র অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।


২০২৫ সালে আবারও ICCR স্কলারশিপ অর্জন করেন চম্পা। একই বছর অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি গবেষক হিসেবে ভর্তি হন। এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে নিজের শেকড়ের টানে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়েই গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


বর্তমানে তার গবেষণার সময়কাল ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল। গবেষণায় বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের জীবনযাপন, মানবাধিকার ও সামাজিক বাস্তবতার পাশাপাশি তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নীতিমালার মাধ্যমে কীভাবে চা-শ্রমিকদের জীবনমান ও সামাজিক মর্যাদা উন্নত করা সম্ভব, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


লংলা চা-বাগানের শ্রমজীবী পরিবার থেকে উঠে এসে ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ায় চম্পা এখন নিজ এলাকার মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম। বিশেষ করে চা-বাগানের শিশু-কিশোরদের কাছে তার শিক্ষাজীবনের সাফল্য নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।


চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে গবেষণার সুযোগ পাওয়া চম্পা নাইডুর পথচলা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং সীমিত সুযোগের মধ্যেও শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ।


 

"
"