কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, May 7, 2026

May 07, 2026

এক ক্লিকেই খালি হতে পারে মোবাইল ব্যালেন্স! নতুন ‘এসএমএস পাম্পিং’ প্রতারণা নিয়ে সতর্কবার্তা

সাইবার অপরাধীরা এখন এমন এক নতুন কৌশল ব্যবহার করছে, যেখানে আপনার ফোনে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করারও প্রয়োজন হয় না, পাসওয়ার্ড চুরি করতে হয় না, এমনকি অ্যাকাউন্ট হ্যাকও করতে হয় না। মাত্র একটি ভুল ক্লিকের মাধ্যমেই আপনার মোবাইল থেকে আন্তর্জাতিক নম্বরে একের পর এক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে, আর সেই বিল গুনতে হচ্ছে ব্যবহারকারীকেই। এই প্রতারণার নাম ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের সাইবার প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক কারণ অনেকেই বুঝতেই পারেন না কখন তাদের ফোন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠানো হয়েছে।
কী এই ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’?
ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় “আপনি কি রোবট?” ধরনের যাচাইকরণ পেজ বা ক্যাপচার মুখোমুখি হয়েছেন। আগে যেখানে বিকৃত লেখা টাইপ করতে হতো, এখন সেখানে ছবি নির্বাচন বা ছোটখাটো যাচাই প্রক্রিয়া দেখা যায়। সাইবার অপরাধীরা এখন এই পরিচিত ব্যবস্থাকেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিকফিক্স’ নামে পরিচিত একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে ভুয়া ক্যাপচা পেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পেজ দেখতে অনেকটাই আসল ওয়েবসাইটের মতো হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ব্যবহারকারীদের সেখানে একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়, যা মূলত তাদের ফোনের এসএমএস অ্যাপ খুলে দেয়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এসএমএস পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর ও বার্তা আগে থেকেই সেট করা থাকে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই আন্তর্জাতিক নম্বরে মেসেজ চলে যায়।
কীভাবে কাজ করে এই প্রতারণা?
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত ভুয়া বিজ্ঞাপন, নকল ওয়েবসাইট অথবা পরিচিত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের নামের কাছাকাছি ডোমেইন ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। অনেক সময় ওয়েবসাইটের ঠিকানায় খুব সামান্য বানান পরিবর্তন থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না।
একবার ব্যবহারকারী সেখানে প্রবেশ করলে তাকে “ভেরিফিকেশন” বা “সিকিউরিটি চেক” সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এরপর একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়, যা সরাসরি মোবাইলের মেসেজ অ্যাপ খুলে দেয়।
এই আক্রমণের কৌশল আরও জটিল কারণ এটি একটিমাত্র নম্বরে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং একাধিক ধাপে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়। এসব দেশের মধ্যে আজারবাইজান, মিয়ানমার, মিশরসহ এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে এসএমএস চার্জ তুলনামূলক বেশি।
কেন এই প্রতারণা লাভজনক?
এই কৌশলকে বলা হয় “ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ শেয়ার ফ্রড”। সহজভাবে বলতে গেলে, নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নম্বরে বেশি পরিমাণ এসএমএস পাঠিয়ে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করা হয়। ওই আয়ের একটি অংশ অপরাধীদের কাছে ফিরে যায়।
ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মোবাইল ব্যালেন্স বা বিল থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ ডলার বা তারও বেশি অর্থ কেটে যেতে পারে।
কেন বিষয়টি ভয়ংকর?
এই প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এখানে প্রচলিত অর্থে “হ্যাকিং” হয় না। ফোনে ভাইরাস ঢোকে না, অ্যাকাউন্টও হ্যাক হয় না। তাই অনেক অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এটিকে শনাক্ত করতে পারে না।
ব্যবহারকারী নিজেই অজান্তে এসএমএস পাঠানোর অনুমতি দিয়ে ফেলেন। আর সেই সুযোগেই পুরো প্রতারণা সম্পন্ন হয়।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন 
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
নিজেকে মানুষ প্রমাণ করতে কখনও এসএমএস পাঠাবেন না
আসল ক্যাপচা কখনও মেসেজ অ্যাপ খুলতে বলে না
অচেনা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন
ওয়েবসাইটের ডোমেইন ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন
হঠাৎ করে এসএমএস অ্যাপ খুলে গেলে সতর্ক হোন
মোবাইল বিল বা ব্যালেন্স নিয়মিত পরীক্ষা করুন
অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক এসএমএস সুবিধা বন্ধ রাখতে পারেন
অসতর্কতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা
বাস্তবে মানুষ ব্যস্ততা বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেক সময় না ভেবেই “ভেরিফাই”, “কন্টিনিউ” বা “আই অ্যাম নট এ রোবট” বাটনে ক্লিক করে ফেলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারণার ফাঁদ।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, প্রতারণার কৌশলও তত সূক্ষ্ম হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নয়, ব্যবহারকারীর সচেতনতাও এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।

 

May 07, 2026

গাইবান্ধায় ৪ হাজার অসহায় সনাতনী পরিবারের পাশে মন্দির, চাল বিতরণে মানবিক উদ্যোগ

পলাশবাড়ী-তে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির। মন্দিরের উদ্যোগ এবং চয়েস টু চেন্জ অব হিন্দু ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে প্রায় ৪ হাজার দরিদ্র ও অসহায় সনাতনী পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির সদস্য, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল চিত্র।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্নআয়ের বহু পরিবার নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সহায়তা পাওয়া পরিবারের সদস্যরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, এই সহায়তা তাদের জন্য কঠিন সময়ে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস বলেন, ধর্ম কেবল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের সেবাও ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”
অন্যদিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা জানান, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণ করে না, বরং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

May 07, 2026

মানিকগঞ্জে চুরির অভিযোগে গণপিটুনির পর হিন্দু যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগে গণপিটুনির পর এক হিন্দু যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে যেকোনো সময় সদর উপজেলার তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের নাম কৃষ্ণ রাজবংশী। তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া এলাকার খুদিরাম রাজবংশীর পালক ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তরা মাছের আড়তে মাছ চুরির অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশীকে আটক করে বাজার কমিটির লোকজন। আটকের পর তাকে গণপিটুনি দিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসে আটকে রাখা হয়। আটকে রাখার পর সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে যেকোনো সময় ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন কৃষ্ণ রাজবংশী। পরে তার আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ নামিয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে বাজার কমিটির কয়েকজন। তবে স্থানীয়রা এ কাজে বাধা দিলে দ্রুত সটকে পড়েন তারা। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তন (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
May 07, 2026

খুরুশকুলে সেবায়েত নয়ন সাধুর রহস্যমৃত্যু: পাহাড়ি জমি বিরোধে হত্যার অভিযোগ

খুরুশকুল-এ শিব-কালী মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি জমি বিক্রি ও দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়ন সাধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর তিন দিন আগে থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে পাহাড়ি জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে “শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দির” প্রতিষ্ঠা করা হয়। কথিত জমির মালিক আবুল হোছনের উদ্যোগে চন্দনাইশ থেকে সুকুমার ব্রহ্মচারী নামে এক সাধুকে এনে মন্দির গড়ে তোলা হয়। পরে মন্দিরকে কেন্দ্র করে আশপাশের জমি বিভিন্ন হিন্দু পরিবারের কাছে বিক্রি শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে আবুল হোছনের সঙ্গে তার ভাতিজাদের বিরোধ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, ভাতিজারা জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতেন। টাকা না দিলে ঘরবাড়িতে হামলা, টিন ও আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি একটি জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তখন থেকেই এলাকায় বসবাসরত হিন্দু পরিবারগুলোকে ভয়ভীতি দেখানো ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
মন্দিরের ভেতরেও দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানা গেছে। প্রথমে সুকুমার ব্রহ্মচারী মন্দির পরিচালনা করলেও পরে সেখানে সঞ্জয় সাধুকে সেবায়েত হিসেবে আনা হয়। এরপর নয়ন সাধুর জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হলে দুই সেবায়েতের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পূজা-পার্বণ ও মন্দির পরিচালনা নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের ধারণা, এই সেবায়েত দ্বন্দ্বকে সামনে এনে মূল জমি বিরোধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, জমি দখল ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই নয়ন সাধুকে হত্যা করা হতে পারে।
ঘটনার রাতে এক প্রত্যক্ষদর্শী পাহাড়ি পথে মুখোশধারী কয়েকজন অস্ত্রধারীর মুখোমুখি হওয়ার দাবি করেছেন। তিনি জানান, তাকে মারধর করে ঘটনাটি গোপন রাখতে হুমকি দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে তিনি আবুল হোছনের ভাতিজা হিসেবে চিনতে পেরেছেন।
এদিকে, নয়ন সাধু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দ্রুত আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর কক্সবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিটু ঘটনাটিকে “সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল হোছন। তার দাবি, ভাতিজাদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই এবং ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে এ. এম. এ সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার, বলেন, “এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্ত চলমান রয়েছে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

 

May 07, 2026

চকরিয়ায় ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ নাকি পরিকল্পিত হত্যা? পিবিআই তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ সত্য

চকরিয়া-র ব্যস্ত মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা প্রথমে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ঘটনার তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ এক সত্য। যেটিকে শুরুতে দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হয়েছিল, পরে তা রূপ নেয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে। মালুমঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের কর্তা সুরেশ চন্দ্র সুশীলের মৃত্যুর দশম দিনের পূজা শেষে তারা রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সময় একটি সবজিবোঝাই পিকআপ বেপরোয়া গতিতে এসে তাদের চাপা দেয়।
এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, দীপক সুশীল ও চম্পক সুশীল। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান স্মরণ সুশীল এবং ১৪ দিন পর মৃত্যুবরণ করেন রক্তিম সুশীল। আহত হন আরও দুই ভাই প্লাবন সুশীল ও বোন হীরা সুশীল।
প্রথমদিকে বিষয়টি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়। থানায় মামলা হয় অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে। তদন্তের প্রাথমিক ধাপে পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি একটি “রোড ট্রাফিক ইনজুরি”। এমনকি নিহতদের অধিকাংশ মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। একটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
কিন্তু ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় এলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-কে। এরপরই শুরু হয় মামলার মোড় ঘুরে যাওয়ার গল্প।
পিবিআই তদন্তে জানতে পারে, দুর্ঘটনার পর পিকআপটি থেমে গেলেও চালক আহতদের উদ্ধার করার পরিবর্তে আবার গাড়ি চালু করে পেছনে নিয়ে একই ব্যক্তিদের ওপর পুনরায় চাপা দেন। এরপর সামনে এগিয়ে আরও কয়েকজনকে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তদন্তকারীরা মনে করেন, এই আচরণ কোনো সাধারণ দুর্ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং দুর্ঘটনার পর চালকের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডই মামলাটিকে হত্যাকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় চালক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে পিকআপের মালিককেও গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই আরও জানতে পারে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপটির ফিটনেস, রুট পারমিট ও চালকের বৈধ লাইসেন্স ছিল না। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের অবস্থা, গাড়ির গতিপথ এবং আহতদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হন যে প্রথম ধাক্কার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে পুনরায় গাড়ি চালিয়ে মানুষ চাপা দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত পিবিআইয়ের বই ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’-এ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সঠিক তদন্ত, আচরণগত বিশ্লেষণ এবং ঘটনাস্থলের তথ্যপ্রমাণ অনেক সময় একটি সাধারণ দুর্ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধকে উন্মোচন করতে পারে।
সবশেষে পিবিআই চালকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী হত্যা মামলা এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর আওতায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত চালককে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অপর দুই আসামির বিচার এখনও চলমান রয়েছে।
এই মামলাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, অনেক সময় একটি ঘটনাকে প্রথম দেখায় দুর্ঘটনা মনে হলেও গভীর তদন্তে তার পেছনে ভয়ংকর অপরাধের চিত্র উঠে আসতে পারে।


May 07, 2026

টানা এক মাস লেবু-মধু পানি পান করলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

দিনের শুরুতে এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করার অভ্যাস এখন অনেকের কাছেই বেশ জনপ্রিয়। সহজ ও ঝামেলাহীন এই পানীয়কে অনেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এক মাস এই অভ্যাস বজায় রাখলে শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, তবু স্বাস্থ্যকর রুটিনের অংশ হিসেবে এটি উপকারী হতে পারে।
শরীরে পানির ঘাটতি কমাতে সহায়ক
অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। তবে পানিতে লেবু ও মধু যোগ করলে এর স্বাদ বাড়ে, ফলে সহজেই বেশি পানি পান করার অভ্যাস তৈরি হয়। শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
Lemon ভিটামিন সি’র একটি ভালো উৎস। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। অন্যদিকে Honey-এ রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে এর উপকারিতা অনুভূত হতে পারে।
হজমে সহায়তা করতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে লেবু পানি পান করলে পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে মধুতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক
লেবু-মধু পানি সরাসরি ওজন কমানোর কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। তবে খাবারের আগে এই পানীয় পান করলে অনেকের পেট কিছুটা ভরা অনুভব হতে পারে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এছাড়া কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে এটি বেছে নিলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণও কিছুটা কমানো সম্ভব।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধুতে প্রিবায়োটিক ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে। যদিও এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা যায়, তবুও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শুধু লেবু-মধু পানি পান করলেই বড় ধরনের স্বাস্থ্য পরিবর্তন হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। এছাড়া সবার শরীরের চাহিদা এক নয়। কারও গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে নিয়মিত এই পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

 

Wednesday, May 6, 2026

May 06, 2026

ফেসবুকে পোস্ট শেয়ারে অদ্ভুত বার্তা: ব্যবহারকারীদের অভিযোগে পরীক্ষামূলক ফিচার বন্ধ করল মেটা

সম্প্রতি Facebook-এ একটি অস্বাভাবিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক ব্যবহারকারী। অন্যদের করা পোস্ট শেয়ার করার সময়, কোনো ধরনের মন্তব্য না লিখলেও শেয়ার করার পর সেখানে অপ্রত্যাশিত কিছু বাক্য যুক্ত হয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দিক থেকে।
ব্যবহারকারীদের দাবি, তারা যখন কোনো পোস্ট সরাসরি শেয়ার করেন, তখন প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে সেখানে কিছু নতুন লেখা যোগ হয়েছে। এসব লেখার বেশিরভাগই ‘জেন জেড’ প্রজন্মের কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং, যেমন—‘ম্যাসিভ ডব্লিউ’, ‘ভিউজ আর ফায়ার’ কিংবা ‘দ্যাট ডিজাইন ইজ সো কুকড’। অনেক ক্ষেত্রে এসব বাক্যের সঙ্গে মূল পোস্টের বিষয়বস্তুর কোনো সম্পর্কই থাকে না।
এই সমস্যাটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যারা এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মন্তব্য যোগ করেননি। ফলে এই অতিরিক্ত লেখাগুলো তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে, বিশেষ করে যারা এই ধরনের ভাষার সঙ্গে পরিচিত নন বা ব্যবহার করেন না।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যেসব ব্যবহারকারী পোস্ট শেয়ার করার সময় কোনো ক্যাপশন বা মন্তব্য যোগ করেন না, তাদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা স্বয়ংক্রিয় ফিচারের অংশ।
এ বিষয়ে Meta-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি আসলে একটি পরীক্ষামূলক ফিচারের অংশ ছিল। ফেসবুকে রিশেয়ার করা পোস্টের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা ক্যাপশন দেখানোর একটি ছোট পরিসরের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তবে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় সেই পরীক্ষা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মেটা আরও জানিয়েছে, বর্তমানে এই ফিচারটি আর সক্রিয় নেই। তবে যদি কোনো ব্যবহারকারীর পোস্টে এখনও এমন অপ্রত্যাশিত লেখা দেখা যায়, তাহলে সেটি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলা সম্ভব। অর্থাৎ পোস্ট শেয়ার করার পর নিজের প্রোফাইল একবার দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো লেখা থাকলে তা দ্রুত সরানো যায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে প্রায়ই নতুন ফিচার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। তবে সব ফিচার যে ব্যবহারকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, তা নয়। এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবারও প্রমাণিত হলো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ফিচার চালু করার আগে ব্যবহারকারীদের মতামত কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ ব্যক্তিগত পোস্ট বা শেয়ারে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু যুক্ত হওয়া ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
সবশেষে বলা যায়, আপাতত সমস্যাটি সমাধান হয়েছে বলে জানালেও ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকা জরুরি। কোনো পোস্ট শেয়ার করার পর সেটি একবার যাচাই করে নেওয়া ছোট একটি অভ্যাস হলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্বস্তি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

 

May 06, 2026

গরম-বৃষ্টির মৌসুমে বাড়ছে ডায়রিয়ার ঝুঁকি: সতর্ক না হলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

গরম ও বৃষ্টির মৌসুমে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে এ সময় পানিদূষণ বেড়ে যাওয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, কলেরা ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. শাহনুর শারমিন, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক।
গরমে অতিরিক্ত ঘাম এবং বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে পানির স্বাভাবিক মান নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে পানি ও খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর সংক্রমণ ঘটে। এই দূষিত পানি বা খাবার গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো ডায়রিয়া। অনেক সময় এই ডায়রিয়া মারাত্মক রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যদি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, কলেরা একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এবং খুব দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। এছাড়া পচা বা বাসি খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে, যার ফলে পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি, জ্বর ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যাওয়া। শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই ডায়রিয়া শুরু হলে রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ, শরীরের দুর্বলতা ও সচেতনতার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়ার সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ চিকিৎসা হলো খাবার স্যালাইন। বারবার স্যালাইন খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের পানিশূন্যতা ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিরাপথে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে, তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া হলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যদি বারবার পাতলা পায়খানা হয়, স্যালাইন খেলেও বমি হয়, প্রস্রাব কমে যায় বা রোগী অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া উচিত।
তবে চিকিৎসার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিরোধ। কিছু সাধারণ অভ্যাস মেনে চললেই এই ধরনের রোগ থেকে অনেকাংশে নিরাপদ থাকা সম্ভব। যেমন—সব সময় বিশুদ্ধ পানি পান করা, রান্না ও অন্যান্য কাজে পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
এ ছাড়া কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত। বাইরে খোলা খাবার বা পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এসব খাবারে সহজেই জীবাণু বাসা বাঁধে। মাছি বসা খাবার খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই ঘরেও খাবার ঢেকে রাখা জরুরি।
বাসি খাবার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। যদি খেতেই হয়, তবে তা ভালোভাবে গরম করে নিতে হবে। বাইরে বের হলে নিজের সঙ্গে পরিষ্কার বোতলে বিশুদ্ধ পানি রাখা একটি ভালো অভ্যাস। খোলা শরবত, আখের রস বা লেবুপানির মতো পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো সহজেই দূষিত হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, গরম ও বর্ষার এই সময়ে একটু অসচেতনতা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাবার ও পানি গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

May 06, 2026

দেশে বাড়ছে হাম প্রাদুর্ভাব : ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩১৭

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি চার শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ১ হাজার ১৮৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে সংক্রামক এই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুই শিশু রাজধানী ঢাকায় ছিল। অন্যদিকে, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে দুইজন এবং সিলেটে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি জাতীয় সংকট হিসেবে দেখছেন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই হামের ঢেউ এখন পর্যন্ত মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে শিশুদের ওপর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৩১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ শিশুর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু ঘটে। এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গভীরতা ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এছাড়া একই সময়ে দেশে মোট ৪২ হাজার ৯৭৯ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এত বিপুল সংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৮৩১ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি তুলে ধরে।
তবে কিছুটা আশার খবরও রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ২৬ হাজার ৩৬৮ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে দেরি হলে জটিলতা বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭২৬ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার সুযোগ বা রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব হয় না।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকাবঞ্চিত বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।
হামের সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। অনেক ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া কিংবা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো টিকাদানের ঘাটতি। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক শিশু এখনও হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা কার্যক্রমে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাব এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া, অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
সবশেষে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হাম আবারও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

May 06, 2026

বাগেরহাটে জমি বিরোধে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগীদের

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা, মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এক গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্রনাথ ঢালী ও স্থানীয় সোবহান এবং তার ছেলে মিরাজের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে সম্প্রতি সোবহান, তার ছেলে মিরাজসহ কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং ধর্মীয় উপাসনার সামগ্রী নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ওপরও শারীরিক আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি সর্বশান্ত। তারা আমার বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। আমার বৃদ্ধ মায়ের ওপরও নির্মমভাবে হামলা করেছে। একজন ছেলে হয়ে মায়ের এই অবস্থা আমি সহ্য করতে পারছি না।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হামলায় রবীন্দ্রনাথ ঢালীর প্রায় ৮০ বছর বয়সী মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথায় আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এতে করে পরিবারটি আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় নতুন করে হামলার আশঙ্কা করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকেই এ ধরনের সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপি নেতারা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম হোসেন মিলন বলেন, “এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। কোনোভাবেই এমন সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

 

"
"