ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন উনবিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি শিল্পী রাজা রবি বর্মা। বুধবার মুম্বাইয়ে ‘সাফরনআর্ট’ আয়োজিত এক নিলামে তার আঁকা বিখ্যাত তৈলচিত্র ‘যশোদা ও কৃষ্ণ’ রেকর্ড ১৭.৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২১৯ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এই বিক্রয়মূল্যের মাধ্যমে রাজা রবি বর্মা আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলার ইতিহাসে সবচেয়ে দামি শিল্পীর তকমা পেলেন।
নিলাম শুরুর আগে ছবিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ৮.৬ থেকে ১২.৯ মিলিয়ন ডলার। তবে সংগ্রাহকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাশিত দামকে ছাড়িয়ে যায়। ছবিটির চূড়ান্ত ক্রেতা ভারতের প্রখ্যাত শিল্পপতি ও ভ্যাকসিন টাইকুন সাইরাস পুনাওয়ালা।
এর আগে ভারতীয় শিল্পকর্মে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছিল মকবুল ফিদা হুসেনের চিত্রকর্মের দখলে, যা রবি বর্মার এই ছবিটির মাধ্যমে ভেঙে গেল। এছাড়া তিনি অমৃতা শের-গিল, এস এইচ রাজা এবং ভি এস গাইতোন্ডের মতো খ্যাতিমান শিল্পীদের রেকর্ডও অতিক্রম করেছেন।
চিত্রকর্মটি ১৮৯০-এর দশকে রাজা রবি বর্মার ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় আঁকা হয়েছিল। এতে পুরাণের একটি বিশেষ মুহূর্ত ফুটে উঠেছে, যেখানে দেখা যায় শিশু কৃষ্ণ তার মা যশোদার আঁচল ধরে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন আর যশোদা গৃহকর্মে ব্যস্ত।
রবি বর্মার বিশেষত্ব অনুযায়ী ইউরোপীয় বাস্তবতা এবং ভারতীয় পৌরাণিক থিমের অনন্য সংমিশ্রণ এই ছবিটিকে বিশ্বমানের শিল্পকর্মে পরিণত করেছে। ছবিটি কেনার পর সাইরাস পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, মূল্যবান এই শিল্পকর্মটি জনসাধারণের দেখার জন্য পর্যায়ক্রমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন তিনি।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপুল দাম বিশ্ববাজারে ভারতীয় শিল্পের ক্রমবর্ধমান কদর ও শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। ১৮৪৮ সালে কেরালায় জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী ১৯০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সাফরনআর্টের মতে, এই নিলাম ভারতীয় শিল্পের চিরস্থায়ী সাংস্কৃতিক আবেদন আবারও বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

No comments:
Post a Comment