বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, April 7, 2026

সুন্দরবনে বাঘের চেয়েও বড় আতঙ্ক বনদস্যু

সুন্দরবনে চলতি মৌসুমে মধু আহরণ শুরু হলেও বনদস্যুদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মৌয়ালরা। তাদের মতে, এখন বাঘের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদস্যু। পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করলেও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ জীবিকার প্রধান উৎস হওয়ায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে বনে যেতে হচ্ছে তাদের। 🌿
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবন–এর বিভিন্ন পয়েন্টে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শত শত মৌয়াল গভীর বনে প্রবেশ করছেন, তবে এবারের বড় উদ্বেগ বনদস্যুদের তৎপরতা।
মৌয়াল মতিউর রহমান বলেন, “বাঘ, সাপ, কুমির—সবকিছুর ভয় নিয়েই আমরা কাজ করি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভয় মানুষকে, বনদস্যুকে। বাঘের হাতে পড়লে বাঁচার আশা থাকে, কিন্তু দস্যুরা ধরলে মারধর করে, মুক্তিপণ দাবি করে।”
আরেক মৌয়াল হাফিজুল ইসলাম জানান, আগে ২-১টি দস্যু বাহিনীকে টাকা দিলেই চলত, এখন ৪-৫টি বাহিনী টাকা দাবি করে। এতে অনেকেই বনে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, কারণ খরচ তুলতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে।
নীলডুমুর এলাকার মৌয়াল শাহাবুদ্দিন গাইন বলেন, “মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বনে যাই। কিন্তু মধু কম পেলে ঋণ শোধ করা যায় না, উল্টো নৌকাও হারাতে হয়। তার ওপর আবার দস্যুদের টাকা দিতে হয়।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর ১,১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মধু আহরণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
২০২১ সালে ৪,৪৬৩ কুইন্টাল মধু সংগ্রহ হলেও ২০২২ সালে তা কমে ৩,০০৮ কুইন্টাল হয়। ২০২৩ সালে ২,৮২৫ কুইন্টাল, ২০২৪ সালে ৩,১৮৩ কুইন্টাল এবং ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ২,০৭৬ কুইন্টালে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫% কম। এই পতনের প্রভাব পড়েছে মৌয়ালদের সংখ্যাতেও। ২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল কাজ করলেও ২০২৫ সালে তা কমে প্রায় ৫ হাজারে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বনদস্যু সমস্যা সমাধান না হলে মৌয়ালদের অংশগ্রহণ আরও কমে যাবে, যা উপকূলীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে জানা গেছে, গত ছয় মাসে প্রায় শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ দিয়েই মুক্তি মিলছে, আবার কখনো দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করেই বনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। দস্যুদের তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মধু আহরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযান শুরু হয়েছে। কিছু দস্যু আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার কখনো দস্যুদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

No comments:

Post a Comment

"
"