কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, October 13, 2026

October 13, 2026

কুড়িগ্রামে পারিবারিক মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তিসহ পূজার সামগ্রী চুরি


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় একটি পারিবারিক মন্দিরের তালা ভেঙে রাধাকৃষ্ণের মূর্তিসহ পূজার বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম রাঙাতিপাড়ায় হরিপদ রায়ের পারিবারিক রাধা গোবিন্দ মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানান সদর থানার ওসি কামাল হোসেন।

আটকরা হলেন—ওই ইউনিয়নের শিবরাম দয়ারচরের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. জলিল (২৩), মৃত তরিশের ছেলে মো. জুয়েল (২১), নজরুল ইসলামের ছেলে আপেল (২৪) ও আবু তৈয়ব আলীর ছেলে আশিকুর রহমান (২২)।

পুলিশ জানায়, মন্দিরের গ্রিলের তালা ভেঙে রাধাকৃষ্ণের পিতল ও কাঁসার মূর্তি, গোপাল মূর্তি, কাঁসার ঘটি, ঘণ্টা ও কাঁসর চুরি করা হয়।

মন্দিরের মালিক হরিপদ রায়ের ছেলে ধীমান কুমার রায় বলেন, চুরির বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর তারা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।

ওসি কামাল হোসেন বলেন, রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।


 

October 13, 2026

বরিশালের উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরসংলগ্ন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ


বরিশালের উজিরপুরে এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরসংলগ্ন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান শেখের বিরুদ্ধে। বাড়িসংলগ্ন মন্দিরের পাকা ফটকে ‘খান বাড়ি’ লিখে প্লাস্টার করে দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বরুণ মিত্র দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতাসহ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও তিনি প্রতিকার পাননি। আগে সাধারণ ডায়েরি করেও ফল না পাওয়ায় রোববার (১১ অক্টোবর) উজিরপুর মডেল থানায় আবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বরুণ মিত্র উজিরপুর কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরসংলগ্ন ৪ শতক জমি কিনে সেখানে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের একাংশ ভাড়া দিয়ে অপর অংশ মন্দিরের ব্যবহারের জন্য দান করেন। প্রতি বছরের বার্ষিক কীর্তন উপলক্ষে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভবনের ওই অংশ ব্যবহার করে আসছে।

বরুণ মিত্র জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কারণে তিনি বরিশাল নগরীতে বসবাস শুরু করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নুরুজ্জামান শেখ দলবল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। পরে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি। মন্দিরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আগত ভক্তদের সুবিধার্থে ভবনের একটি অংশ ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ করেছিলাম।’ তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বৈধ ক্রেতা বরুণ মিত্র। ৫ আগস্টের অস্থিরতার সুযোগে নুরুজ্জামান শেখ বাড়িটি দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু বলেন, বরুণ মিত্রের বাড়ি অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে নুরুজ্জামান শেখের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় পুলিশের এখতিয়ার সীমিত। নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে অভিযোগকারীকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা জানান, বরুণ মিত্র অনেক আগেই বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে মতভেদ থাকায় দখলমুক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

Sunday, October 11, 2026

October 11, 2026

নীলফামারীর ডোমারে দুর্গাপূজার উৎসবের আমেজ, মণ্ডপে রাত জেগে পাহারা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ


আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গোৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মণ্ডপগুলোতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ দায়িত্বে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। অনেকে খোলা মাঠ বা মণ্ডপ চত্বরে মশারি টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতেই তারা নিজ উদ্যোগে এই পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

এ বিষয়ে ডোমার থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার জানান, পূজা উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবে ডোমার উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভাবনায় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’


 

October 11, 2026

বাংলাদেশের পদার্থবিদ অরুণ কুমার বসাকের বিরল অর্জন


পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় তাঁর ফেলো নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে মাত্র ১৫৩ জন এ সম্মাননা অর্জন করেছেন। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে কম্পিউটার-সচেতনতা ও বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে অবদানের জন্য তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সরকার তাঁকে গুণী শিক্ষক সম্মাননায় ভূষিত করে।

এপিএসের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিউক্লিয়াস-নিউক্লিয়াস বিভব ব্যবহার করে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধানে অধ্যাপক বসাক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক, শিক্ষক ও সক্ষমতা উন্নয়নকারী হিসেবে বাংলাদেশে কম্পিউটার-সচেতনতা এবং বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারেও ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি পদার্থবিজ্ঞানের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও পেশাজীবী সংগঠন। এ সংগঠনের ফেলো নির্বাচিত হওয়া পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান ও বিজ্ঞানীসমাজে বিশেষ ভূমিকার মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক বসাকের হাতে গুণী শিক্ষক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার স্বীকৃতি অধ্যাপক বসাকের দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনের অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অবদান রয়েছে অধ্যাপক বসাকের। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

গুগল স্কলারে অধ্যাপক বসাকের গবেষণা প্রোফাইলে ১ হাজার ৭১৫টি সাইটেশন, ২৬টি এইচ-ইনডেক্স এবং ৬২টি আই-১০ ইনডেক্স রয়েছে। তবে গবেষণার গুরুত্ব নির্ধারণে শুধু সাইটেশন বা সংখ্যাগত সূচক নয়, গবেষণার মৌলিকত্ব, গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাকের এপিএস ফেলো নির্বাচিত হওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকে তাঁর গবেষণা ও শিক্ষকতায় অবদানের প্রশংসা করছেন।

শিক্ষার্থী মারুফ হাসান বলেন, ‘অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক স্যারের এ অর্জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর এ স্বীকৃতি প্রমাণ করে, গবেষণার মান ও অবদানই একজন বিজ্ঞানীর প্রকৃত পরিচয়।’ আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘একজন শিক্ষক যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পান, তখন তা শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে।’


 

October 11, 2026

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুর্গা মন্দিরে নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ

 

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া মজুমদার পাড়া দুর্গা মন্দিরে নির্মাণাধীন প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন মন্দির কমিটির নেতারা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোররাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি তপন মন্ডল বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মন্দির পরিষ্কার করতে এসে এক নারী কয়েকটি প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মন্দির কমিটির নেতারা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান।

তিনি বলেন, প্রতিমার মধ্যে গণেশের ডান হাতের কবজির দুটি অংশ ভেঙে পড়ে ছিল। বাম হাতের কনুই মোচড়ানো অবস্থায় ছিল। লক্ষ্মীর ডান ও বাম হাতের কনুই মোচড়ানো ছিল। কার্তিকের বাম হাতের আঙুল ভাঙা এবং ডান হাতের কনুই মোচড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া ময়ূরের গলাও মোচড়ানো ছিল। পরে কারিগর ডেকে দুপুরে প্রতিমাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় মজুমদার বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে কিছুক্ষণ পর একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ঘটনার সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়।

এদিকে, খবর পেয়ে শৈলকুপার হাট ফাজিলপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, ‘একটি অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে আমরা মন্দিরে আসি। পরে প্রতিমাগুলো মেরামত করা হয়। তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।’


Saturday, October 10, 2026

October 10, 2026

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর


কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় মন্দিরে ঢুকে প্রতিমাগুলো আংশিক ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাত ২টার পর মন্দিরে কেউ ছিলেন না। দুর্বৃত্তরা এই সুযোগে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, মন্দিরের কমিটি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়। তারা জানিয়েছিলেন, মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কোনো সমস্যা নেই। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত কমিটির সদস্যরা মন্দিরে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি, মন্দিরের বাঁশের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।’ কৌশিক বিশ্বাস জানান, দুর্বৃত্তরা চারটি প্রতিমার মাথা ভেঙে দিয়েছে।


 

October 10, 2026

মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা, ঢাকেশ্বরীতে উপস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার

চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন এবং ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খের ধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আসার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল পিতৃপক্ষের এবং সূচনা হলো দেবীপক্ষের। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা। রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পবিত্র মহালয়ার উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মহালয়া উপলক্ষে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেবীপক্ষের এই সূচনালগ্নে ভারতীয় হাইকমিশনার সশরীরে উপস্থিত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মহালয়ার শুভেচ্ছা ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

আজ ভোর ৬টা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মহালয়ার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তিল-তর্পণ অনুষ্ঠিত হয় এবং সকাল ৯টায় বিশেষ প্রার্থনা ও মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হয়।

পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ছয় দিনব্যাপী মূল দুর্গোৎসব এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।


 

Wednesday, October 7, 2026

October 07, 2026

চুয়েট থেকে হাইড্রোজেন বিমান গবেষণায়: দেবযানী ঘোষের আন্তর্জাতিক পথচলা


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণায় জায়গা করে নিয়েছেন দেবযানী ঘোষ। চুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া তাঁর প্রকৌশলী হওয়ার যাত্রা আজ জার্মানির হাইড্রোজেনচালিত বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

দেবযানী ঘোষ ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড়ে ওঠেন। অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি চুয়েটে পড়াশোনা করেন।

চুয়েটে অর্জিত জ্ঞান তাঁকে নিয়ে যায় আরও বিশেষায়িত গবেষণার দিকে। বিদ্যুৎ, শক্তি রূপান্তর, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁর গবেষণার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। স্নাতক শেষে তিনি জার্মানিতে যান। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আরডাব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে ইনফিনিয়ন টেকনোলজিস এজিতে ইন্টার্ন হিসেবেও কাজ করেন।

জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় দেবযানী যুক্ত হন এইচওয়াই৪ প্রকল্পের সঙ্গে। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত যাত্রীবাহী বিমান। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে বিমানটির প্রথম সফল উড্ডয়ন হয়।

এই প্রকল্পে দেবযানীর কাজ ছিল বিমানের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে। উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল শূন্য নিঃসরণ হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন হাইব্রিড ধারণা, যেখানে ডিসি থেকে এসি বিদ্যুৎ রূপান্তর, সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হয়। ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিনির্ভর হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য এসি হাইব্রিড ব্যবস্থা এবং পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে তাঁর গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি জার্মানির এইচ২ফ্লাইয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং হাইড্রোজেন বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থা, ফুয়েল সেল প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

হাইড্রোজেনভিত্তিক বিমান প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বিমান চলাচলের নির্ভরতা কমানো। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না। ফলে সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতের বিমান চলাচলকে আরও কম কার্বন নিঃসরণকারী করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম থেকে চুয়েট, চুয়েট থেকে জার্মানি, আর সেখান থেকে ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তি—দেবযানী ঘোষের এই পথচলা দেখায়, বাংলাদেশের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।


 

October 07, 2026

দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণাকে স্বাগত জানাল ঐক্য পরিষদ


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর—এই তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই স্বাগত জানানো হয়। এতে বলা হয়, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে একইসঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উপলক্ষে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

October 07, 2026

খুলনায় অনন্য এক দুর্গা প্রতিমা ঘিরে তুঙ্গস্পর্শী জল্পনা: আগমণী ভাবনায় শৈশবের ‘ঘরের মেয়ে উমা’

 

​

​শরতের শিউলিঝরা সকালে চারদিকে এখন শুধুই আনন্দের শিহরণ। কিন্তু এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে খুলনা শহর ছাড়িয়ে পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এক অনন্য দুর্গা প্রতিমা। ১২৯ তম বর্ষে পদার্পণ করা ঐতিহ্যবাহী 'সাহেবের কবরখানা সার্বজনীন পূজা কমিটি'র প্রতিমাটি দেখার জন্য এখন মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং কৌতূহল।
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—সবখানেই এখন এই প্রতিমা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। কেউ একে ভালোবেসে বলছেন ‘কিউট দুর্গা’, কেউবা শৈশবের আদলে দেখে আখ্যা দিচ্ছেন ‘কার্টুন দুর্গা’ বলে। তবে প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে কেন এমন রূপ দেওয়া হলো? উত্তর মিলল সাহেবের কবরখানা সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি বিষ্ণু ঘোষের কণ্ঠে।
​কমিটির সভাপতি বিষ্ণু ঘোষ জানান, এবারের পূজায় তাঁদের মূল আগমনী ভাবনা—‘ঘরের মেয়ে উমা’। তিনি বলেন, “দেবী দুর্গা আমাদের কাছে কেবল ত্রিভুবনতারিণী, সর্বশক্তিমান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নন—তিনি তো আমাদের ঘরের সন্তান, আমাদের আদরের উমা। সারাটা বছর কৈলাসের কঠিন দায়িত্ব সামলে, আশ্বিনের মিষ্টি আলোয় তিনি যখন মর্ত্যের এই বাপের ভিটায় ফিরে আসেন, তখন কি তিনি আর শুধুই কোনো দেবী থাকেন? না, তখন তিনি এক পরম স্নেহের কন্যা।”
​ভাবনার গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “সময়ের নিয়মে বছর ঘোরে, বয়স বাড়ে, কিন্তু বাবা-মায়ের চোখে কি তাঁর ছোট্ট খুকি কখনো সত্যিই বড় হয়? শৈশবের সেই মায়াবী হাসি, অবুঝ আবদার আর অমলিন চঞ্চলতা—মেয়ে যত বড়ই হোক না কেন, মা-বাবার কাছে সে তো সারাজীবন সেই অবুঝ শিশুটিই থেকে যায়।”
​এই অনুভূতির বহির্প্রকাশ ঘটাতেই এবার সাহেবের কবরখানা সার্বজনীন পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবীকে কোনো গম্ভীর ও ভয়াল শক্তিস্বরূপা হিসেবে নয়, বরং ভালোবাসায় আগলে রাখা বাৎসল্যের সেই ছোট্ট 'উমা' রূপে আবাহন জানানো হয়েছে।
​সনাতন শাস্ত্রীয় শক্তিপূজার পাশাপাশি ঘরের মেয়েকে পরম ভালোবাসায় বরণ করে নেওয়ার এই প্রাচীন ও চিরায়ত অনুভূতি এখন ছুয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের হৃদয়। চিরাচরিত রূপের বাইরে গিয়ে এমন শিশুসুলভ ও মমতাময়ী রূপ দেখে মুগ্ধ সবাই। পূজা কমিটির আহ্বান—আসুন, মহাশক্তির আরাধনার পাশাপাশি ঘরের মেয়ের প্রতি ভালোবাসার এই চিরন্তন সুরটি আমরা সবাই অন্তরে অনুভব করি।


"
"