কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, July 14, 2026

July 14, 2026

ফুসফুসের ক্যানসার: প্রাথমিক উপসর্গগুলো চিনবেন যেভাবে

আশপাশে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটছে। কিন্তু জানেন কি, এই মারাত্মক রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেকটাই সাধারণ ঠান্ডা, কাশি ও দুর্বলতার মতো? এ কারণেই প্রায়শই রোগটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ রোগ যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সম্ভাবনা তত ভালো।

প্রথম দিকে রোগটি নীরবে বাড়তে থাকে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলেই সাবধান হওয়া উচিত। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফুসফুসের ক্যানসারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:

দীর্ঘস্থায়ী কাশি: ফুসফুসের ক্যানসারের শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান সংকেত হলো দীর্ঘদিনের কাশি। সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কমে গেলেও ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই কাশি ধীরে ধীরে আরও খারাপ হতে থাকে। অনেক সময় কাশি গভীর ও কর্কশ হয়ে ওঠে বা ঘনঘন হয়। কয়েক সপ্তাহ পরেও যদি কাশি না কমে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘনঘন সংক্রমণ: বারবার নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ হওয়া, বিশেষ করে ফুসফুসের একই জায়গায় যদি ঘুরেফিরে সংক্রমণ হতে থাকে, তা ফুসফুসের ভেতর টিউমারের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

বুকের ব্যথা বা ধড়ফড়: হালকা বুকধড়ফড় বা ব্যথা অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। কখনো চাপের মতো, আবার কখনো তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হাসলে, কাশি দিলে বা গভীর শ্বাস নিলে এই ব্যথা বাড়তে পারে।

কণ্ঠস্বর কর্কশ হওয়া: সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরে গলা বসে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর কর্কশ থাকলে বা অস্বাভাবিক লাগলে তা ফুসফুসের টিউমার স্নায়ুতে চাপ দেওয়ার কারণে হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট: স্বাভাবিক হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা প্রতিদিনের কাজ করতে গিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তা শুধু ক্লান্তি মনে হতে পারে। কিন্তু এই শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়লে অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ টিউমার শ্বাসনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ব্যায়াম না করেও কয়েক সপ্তাহে যদি ওজন কমে যায়, তবে তা সাধারণ দুর্বলতা নয়। ক্যানসার কোষ বাড়লে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বদলে যায় এবং শক্তি বেশি খরচ হয়, ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত হয় না।

যেকোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম। সচেতনতাই পারে এই রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে।


 

July 14, 2026

সিলেটের চালিবন্দর মহাশ্মশানঘাটে নবনির্মিত কালি মন্দিরের উদ্বোধন শুক্রবার

সিলেট নগরের চালিবন্দর মহাশ্মশানঘাটে নবনির্মিত কালি মন্দিরের উদ্বোধন হবে আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই)। কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালিমন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরটি উদ্বোধনের আগেই দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক সুব্রত দাশ এই দৃষ্টিনন্দন মন্দিরটির নকশা করেছেন। লাল-সাদার কারুকাজ ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে ভক্তি ও শিল্পের মেলবন্ধন ঘটেছে, যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অনেকে।

চালিবন্দর মহাশ্মশান সংস্কার ও সংরক্ষণ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ জানান, শুক্রবার মন্দিরটির উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি আরও জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শশ্মানঘাট সংস্কার ও মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। এই শশ্মানঘাট কমপ্লেক্স ও মন্দির নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি টাকা।

July 14, 2026

শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের উদ্যোগে আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসব। নয় দিনব্যাপী এই আয়োজন উপলক্ষে গতকাল ১৩ জুলাই আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ইসকন জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও দেশব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উৎসবটি পালিত হবে।

প্রথম দিন সকাল ৮টায় ইসকনের স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ ও অগ্নিযজ্ঞের মাধ্যমে রথযাত্রার শুভ সূচনা করা হবে। দুপুর ৩টায় মূল শোভাযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে বের হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, পল্টন, প্রেসক্লাব, কার্জন হল ও শহীদ মিনার ঘুরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। ২৪ জুলাই উল্টো রথ একই পথে ঢাকেশ্বরী থেকে স্বামীবাগে ফিরবে।

উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ইসকনের নিজস্ব পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে বলে জানানো হয়। ইসকন বিশ্বাস করে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে এই আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।

মতবিনিময় সভায় ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী, কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস ব্রহ্মচারীসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সরকার, পুলিশ, র্যাব ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সফলভাবে এই মহতি আয়োজন সম্পন্নের আহ্বান জানানো হয়েছে।


 

July 14, 2026

বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে জেলেদের জালে উঠল প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন দেবমূর্তি!

বঙ্গোপসাগরের গভীর জল থেকে মাছ ধরার জালে উঠে এসেছে এক রহস্যময় পাথরের দেবমূর্তি, যার বয়স প্রায় ৫০০ বছর বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা ভারতের প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসপ্রেমী মহলে তুমুল কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, পুদুচেরির কারাইকাল মৎস্যবন্দর থেকে ১৬ জন জেলেকে নিয়ে একটি যান্ত্রিক নৌকা সমুদ্রে গিয়েছিল। ১০ জুলাই গভীর রাতে তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরম উপকূলের কাছে জাল ফেললে সেটি অস্বাভাবিক ভারী হয়ে যায়। জাল টেনে তুলে জেলেরা দেখতে পান, ভেতরে রয়েছে শামুক-শ্যাওলা জমে থাকা বিরাট এক পাথরের কারুকার্যময় দেবমূর্তি। ১১ জুলাই মূর্তিটি কারাইকাল বন্দরে এনে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন তারা।

মূর্তিটি দেখতে দক্ষিণ ভারতের মধ্যযুগীয় মন্দির শিল্পরীতির অনুরূপ। এর মাথায় উঁচু মুকুট, গলায় ও দেহে সূক্ষ্ম অলংকার, এবং পেছনে বৃত্তাকার অলংকৃত প্রভামণ্ডল রয়েছে। একটি হাত আশীর্বাদের ভঙ্গিতে উঁচু, যা পল্লব-চোল-পাণ্ড্য যুগের ভাস্কর্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

মহাবলীপুরম সংলগ্ন এই উপকূল প্রাচীন ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ফলে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, মূর্তিটি কোনো উপকূলবর্তী প্রাচীন মন্দির থেকে ক্ষয় বা ঘূর্ণিঝড়ে সমুদ্রে চলে যেতে পারে, কিংবা জাহাজডুবির ঘটনার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। আবার মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূর্তি পাচারের সময় ধরা পড়ার ভয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখন প্রত্নতত্ত্ববিদরা মূর্তিটির গায়ের জমাট বাঁধা সামুদ্রিক আস্তরণ পরিষ্কার করে পাথরের ধরন, নির্মাণকাল ও শিল্পরীতি বিশ্লেষণ করবেন। দেশের নিখোঁজ মূর্তির তালিকার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষেই জানা যাবে, প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এই দেবমূর্তির প্রকৃত ইতিহাস।


 

July 14, 2026

‘সু চি কি বেঁচে আছেন? নাকি মারা গেছে?

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি আদৌ জীবিত কি না, তা নিয়ে আবারও তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ২০২২ সালের শেষ দিকে বিচার শেষে তাকে আর জনসমক্ষে আনা হয়নি, এমনকি পরিবার বা আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সু চির ছেলে কিম অ্যারিস সম্প্রতি বিশ্বনেতাদের কাছে তার মায়ের ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা জীবিত থাকার প্রমাণ দাবির আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডনে এক সাক্ষাৎকারে কিম বলেন, “চার বছরে কেউ মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। জানি না তিনি কোথায় আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না।” গত এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করে, সু চিকে গৃহবন্দি করা হয়েছে এবং একটি ছবিও প্রকাশ করে। তবে কবে তোলা, তা জানানো হয়নি। কিম সেই ছবির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, নেপিডোতে তার সরকারি বাসভবন ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে, ফলে তিনি সেখানে থাকতে পারেন না।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কাছে সু চির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। কিছু কূটনীতিকের আশঙ্কা, জান্তা হয়তো সু চির জীবিত থাকার প্রমাণ দেখাতেই পারছে না। তবে মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস মনে করেন, জান্তা সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণেই তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, মৃত্যু হলে তা এতদিন গোপন রাখা কঠিন হতো।

এদিকে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্প্রতি ব্যাংকক বৈঠকে সু চির অবস্থা জানতে চেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের সাক্ষাতের সুযোগ দিলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। তবে জান্তা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় সু চির নেতৃত্বে আবার কোনো শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন শুরু হওয়ার। বর্তমানে দেশটির কারাগারে ১৪ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দী আটক, চলতি বছরেই ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিম অ্যারিস বলেন, “শুধু আমার মায়ের কথা নয়, অন্য বন্দিদের কথা বিশ্ব যেন ভুলে না যায়।”


 

Monday, July 13, 2026

July 13, 2026

রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসের গ্রেপ্তারের নিন্দায় জানিয়ে দ্রুত ‘মুক্তি’ দাবি ঐক্য পরিষদের

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত ৮১ ফুট রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা ও শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঐক্য পরিষদ বলে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উসকানি ছড়ানোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি উগ্র গোষ্ঠী রামমূর্তির বিরোধিতা করলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ হুমকির মুখে থাকা হরিদাস চন্দ্রকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়বে এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

রোববার গভীর রাতে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে পলাশবাড়ীর মন্দির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর এলাকায় অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত রামমূর্তি নির্মাণকাজ ইতোপূর্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে স্থগিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এরপরও এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সনাতন সম্প্রদায়ের একাংশে।
July 13, 2026

চকরিয়ায় বন্যার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর সুজিতের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া সুজিত দাস (১৩) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জলদাসপাড়া এলাকায় মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কৈয়ারবিলের জলদাসপাড়া এলাকার সড়ক দিয়ে প্রবল বেগে পানি নদীর দিকে যাচ্ছিল। শনিবার বিকেলে সুজিত দাস আরও দুজনের সঙ্গে ওই পথে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে তীব্র স্রোতে ভেসে যায় সে। স্থানীয়রা অনেক খোঁজ করেও তাকে পায়নি।

কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দলের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস সুজিতের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের নর্থ জোনের ইনচার্জ দিদারুল হক জানান, স্রোতের তীব্রতার কারণে উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
July 13, 2026

রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলাশবাড়ীর শ্রীশ্রী কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, ওই থানায় রোববার একটি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের হয়, যেখানে হরিদাস চন্দ্র আসামি। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করে হরিদাস চন্দ্রকে বাইরে ডেকে আনেন এবং পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তোলেন। পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারের পর মন্দির এলাকায় কোনো অস্থিরতা নেই, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে বিতর্কিত এই রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে মন্দির কমিটি। তখন তারা জানিয়েছিল, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Sunday, July 12, 2026

July 12, 2026

পিরোজপুরের সজল কুমার দেউরীর মৃত্যু ঘিরে নতুন তথ্য, গুজব না ছড়ানোর আহবান পরিবারের

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের স্ত্রী, মা ও ছোট ভাই দাবি করেছেন, আত্মহত্যার পেছনে পরকীয়ার কোনো ঘটনা ছিল না। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ ও মানসিক চাপই এ মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ।

পরিবারের অভিযোগ, সজলের মৃত্যুর পর একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পরকীয়ার গুজব ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রতিহিংসাবশত এক কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর নামও এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার জানান, তার সঙ্গে স্বামী সজল কুমার দেউরীর দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই বসতবাড়ি ও পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ চলছিল। তার দাবি, সেই মানসিক চাপের কারণেই সজল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

রঞ্জিতা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, বড় ভাই তাদের পরিবারের প্রধান অভিভাবকের মতো ছিলেন। তিনি জানান, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে কিছু পারিবারিক মতবিরোধ থাকলেও পরকীয়ার কোনো বিষয় তাদের জানা ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যার নাম ছড়ানো হয়েছে, তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তাদের মধ্যে কোনো আপত্তিকর সম্পর্কের তথ্য পরিবারের জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন।

নিহতের মা লক্ষ্মী রানী দেউরী বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে সজলই পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। সামান্য পারিবারিক বিরোধের কারণে এমন ঘটনা ঘটবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। তিনি দাবি করেন, ছেলের মৃত্যুর আগে পরকীয়া নিয়ে কোনো অভিযোগ বা তথ্য তাদের জানা ছিল না।

পরিবার জানিয়েছে, ছোট নাতনির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সজল কুমার দেউরী ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন রাজধানীর ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি ভিডিও কলে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাটি ঢাকায় ঘটায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। নেছারাবাদ থানায় এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


July 12, 2026

অসময়ে রথযাত্রা নিয়ে ওড়িশায় বিতর্ক, ইসকনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে কলিঙ্গ সেনা।

ওড়িশায় রথযাত্রা উদযাপনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কলিঙ্গ সেনা অভিযোগ করেছে, ইসকন (ISKCON) পুরীর শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় রীতি অনুসরণ না করে নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশে রথযাত্রার আয়োজন করছে। এতে ভগবান জগন্নাথের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি সংগঠনটির।

এই ইস্যুতে কলিঙ্গ সেনার সভাপতি হেমন্ত রথ কড়া অবস্থান গ্রহণ করে বলেন, "যদি ইসকন এই অসময়ের রথযাত্রা বন্ধ না করে এবং জগন্নাথদেবের সংস্কৃতিকে সম্মান না করে, তাহলে ওড়িশায় তাদের থাকার কোনও অধিকার নেই। তারা গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেবকে অপমান করেছে, যিনি ভগবান জগন্নাথের প্রধান সেবক হিসেবে বিবেচিত হন।"

তিনি আরও দাবি করেন, পুরী ও ভুবনেশ্বরে রথযাত্রার সময় ইসকনের সদস্যদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে এবং তাদের সংগঠনের কর্মীরা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। হেমন্ত রখের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ইসকন জগন্নাথদেবের রথযাত্রার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।wiht

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জগন্নাথ সংস্কৃতির প্রতি সম্মান না দেখালে ওড়িশায় ইসকনের কার্যক্রমের কোনও প্রয়োজন নেই। এমনকি প্রয়োজনে রাজ্যের ইসকন মন্দিরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রা প্রতিবছর নির্দিষ্ট তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। ওড়িশার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের মতে, সেই নির্ধারিত সময়ের বাইরে একই নামে রথযাত্রা আয়োজন করলে ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংস্কৃতির ক্ষতি হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে ইসকনের অবস্থান ভিন্ন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ভক্তদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তারা বিভিন্ন সময়ে রথযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভক্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ওড়িশাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক ধর্মীয় কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

"
"