কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, September 1, 2026

September 01, 2026

নওগাঁর রাণীনগরে জমি দখল ও মাছ লুটের মামলায় চারজন গ্রেপ্তার


নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এক পরিবারের ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা ও পুকুর থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার খাঁনপুকুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—করজগ্রাম দোগাছি উদনাপাড়া গ্রামের সবুজ (৩৫), আব্দুল সাত্তার (৪৬), বুলু (৪৫) ও জহুরুল ইসলাম (৪৩)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, করজগ্রাম-দোগাছি এলাকায় অসিত দেবনাথদের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত প্রায় ১০ বিঘা জমির একটি পুকুর রয়েছে। সম্প্রতি আসামিরা ওই সম্পত্তির ১০ শতক জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে জবরদখলের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট অসিত দেবনাথ সাতজনকে আসামি করে রাণীনগর থানায় মামলা করেন। বাদী অসিত দেবনাথ বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে ক্রয়সূত্রে ওই সম্পত্তি তাঁদের দখলে রয়েছে। সম্প্রতি আসামিরা জবরদখলের চেষ্টা ও মাছ লুট করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, মামলার পর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


 

September 01, 2026

রংপুর হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত, আসামিদের মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ৮০ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মোট ৮০ বার পরস্পরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার আগের ও পরের সময় মিলিয়ে দুই আসামির মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে একবার করে ফোনালাপের প্রমাণ মিলেছে, যা স্বাভাবিক নয়। এই অস্বাভাবিক যোগাযোগের কারণেই পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে তদন্তকারীদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে বাড়ির ছাদে বসে নয়টি ইয়াবা সেবনের স্বীকারোক্তি দিলেও ডোপ টেস্টে আসামিদের শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে কোনো মাদক শনাক্ত হয়নি। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইয়াবায় থাকা অ্যামফিটামিন বা মেথামফেটামিনজাতীয় উপাদান মানবদেহে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আর পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।

মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রিমান্ড নামঞ্জুর করেন। সোমবার বিকেলে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসামিদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় এবং ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Monday, August 31, 2026

August 31, 2026

দীর্ঘ তিন মাস পর খুলছে সুন্দরবন, প্রবেশের অনুমতি পাবেন জেলে-পর্যটকরা

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেলে ও পর্যটকরা ওই দিন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্দেশিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট—সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। এই সময়ে জেলেদের মাছ-কাঁকড়া আহরণ, বাওয়ালীদের গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ, এমনকি পর্যটকদের বনে প্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।

দীর্ঘ তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে বলে জানান বনজীবীরা। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন, সুবোল মুন্ডাসহ কয়েকজন বলেন, ‘সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন সুদ করেই নৌকা, জাল সারাই করছি। বনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে ঋণ শোধের পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে হবে।’

শুধু জেলে নন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যাদের অন্য ধরনের জীবিকা রয়েছে, তারাও তিন মাসের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন। নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানান, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় পাঁচ শতাধিক ট্রলার চলে। নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারচালক ও শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেন।

একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সবসময় বন্ধ থাকে। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। এ কারণে সুন্দরবনের ৬০ ভাগ মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের মতে, এতে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার কমবে।
August 31, 2026

নেপালের আকস্মিক বন্যায় স্কুল ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে অধ্যক্ষের চেষ্টায় অল্পের জন্য বেঁচে যায় ১,৬৪৩ জন শিশু

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা যখন ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল, তখন একজন স্কুল অধ্যক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্তে প্রাণে বেঁচে গেছেন ১ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী। ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাদাবি সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন করে এই বিরল উদ্ধার অভিযান সম্ভব করেছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে দাদাবি একটি ফোন পান—উজানের বেত্রাবতী গ্রাম ইতিমধ্যে বন্যায় ভেসে গেছে। স্কুলে তখন প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত, বাকি ৭০০ পথে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের ক্লাস খালি করতে নির্দেশ দেন এবং শিক্ষার্থীদের পাহাড়ের দিকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তখন তাঁর মনে পড়ে, প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বেশ কয়েকটি স্কুল বাস পথে রয়েছে। তিনি দ্রুত চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের ফিরে যেতে বলেন। এক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেরি হলে তিনি সরাসরি ওই বাসটি দেখতে পান—যা তখন স্কুলের কাছে একটি সেতু পার হচ্ছিল। তিনি চালককে বাসটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিতে বলেন। সেতুটি ভেঙে পড়ার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই বাসটি নিরাপদে অপর পারে পৌঁছে যায়।

বন্যার পানি স্কুল ভবন ভাসিয়ে নিলেও শিক্ষার্থীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তারা একটি বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নেয় এবং সবাই প্রাণে বেঁচে যায়।

তবে এই দুর্যোগে স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সান্তোস পারিয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামা প্রাণ হারান। স্থানীয়রা দাদাবিকে ‘বীর’ আখ্যা দিলেও তিনি বলেন, ‘আমি আর কী করতে পারতাম?’

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে পাহাড়ি নদীপথে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত বয়ে যায়, যা ঘরবাড়ি, সেতু ও জনবসতি ভাসিয়ে নেয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও উজানের অস্থিতিশীল হ্রদ থেকে আরও বন্যার আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ।


 

August 31, 2026

একাই শিক্ষক-দপ্তরী-পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৩২ বছর ধরে স্কুলের হাল দোলনের হাতে

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কালটিয়া গ্রামে অবস্থিত বিন্নাটি মিশু বিদ্যা নিকেতন। একটি ছোট্ট টিনের কক্ষ, একজন শিক্ষক—যিনি একাই ৩২ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্কুল। নেই কোনো বিষয়ভিত্তিক আলাদা শিক্ষক, নেই আধুনিক অবকাঠামো। তবুও থেমে নেই পড়াশোনা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি একাই সামলান সব ক্লাস। কখনো শিক্ষক, কখনো দপ্তরী, আবার কখনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী—সব ভূমিকায় তিনি।

এই স্কুলের অবকাঠামো সাদামাটা। টিনের এক কক্ষ, তাও জীর্ণ। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন মাত্র ২০০ টাকা, যার অনেকেই দিতে পারে না নিয়মিত। কেউ কেউ পড়ছে বিনা বেতনে। স্কুল ঘর ঝাড়ু, পরিচ্ছন্নতা, এমনকি অতিথি এলে চা বানানো—সব কাজ নিজেই করেন শিক্ষক দোলন ভৌমিক।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকলেও এই স্কুলের ফলাফল চমকপ্রদ। এখান থেকে পড়াশোনা করে কেউ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, কেউ মেডিকেল কলেজে, আবার কেউ হয়েছেন বিসিএস ক্যাডার। দোলন ভৌমিকের কাছে এটি শুধু চাকরি নয়, ৩২ বছরের এক সম্পর্ক। তাই শরীর খারাপ থাকলেও তিনি স্কুলে আসেন; ছুটির দিন ছাড়া বন্ধ থাকে না তাঁর পাঠদান।

মাস শেষে দোলন ভৌমিকের বেতন মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। অর্থের হিসাবে যা সামান্য, কিন্তু তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছে অন্য হিসাব। এই স্কুলের বেঞ্চ পেরিয়ে যখন কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় বা বিসিএস ক্যাডার হয়, তখন যেন নিজের সার্থকতা খুঁজে পান তিনি।

দোলন ভৌমিকের স্বামী ধর্মপ্রচারের কাজে থাকেন। দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, আরেকজন পড়াশোনা করছেন। সংসার সামলিয়েও তিনি অক্লান্তভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এই স্কুল।

নেই বড় কোনো ভবন, নেই একাধিক শিক্ষক। তবু একজন শিক্ষকের নিষ্ঠা আর শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন—এই দুইয়ে এগিয়ে চলেছে বিন্নাটি মিশু বিদ্যা নিকেতন। এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের স্বপ্ন আর আত্মত্যাগই যেন এই স্কুলের মূল প্রাণশক্তি।


 

Sunday, August 30, 2026

August 30, 2026

খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল খাওয়া নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে—কেউ বলছেন খালি পেটেই ফল খেতে হবে, কেউ বলছেন খাবারের পর। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন পর্যায়ে ফল খাওয়া হচ্ছে, তা পুষ্টি শোষণে তেমন প্রভাব ফেলে না।

খাবারের ক্রম নিয়ে ধারণা

‘মিল সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যা অনুযায়ী খাবারের উপাদান কোন ক্রমে খাওয়া হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন, চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে ডায়েটিশিয়ান লরেন মানাকার বলছেন, গবেষণাগারের ফলাফল সবসময় বাস্তব জীবনে একই রকম কাজ করে না।

আঁশ ও প্রোটিনের গুরুত্ব

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শুরুতে আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফল আঁশের ভালো উৎস। তবে তাই বলে ফল আলাদাভাবে বা নির্দিষ্ট ক্রমে খেতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, ‘কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলে না। তাই খাবারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।’

ফলের সঙ্গে কী মিশিয়ে খাবেন

ফলের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। যেমন—

কলার সঙ্গে পিনাট বাটার

আপেলের সঙ্গে বাদাম

ফলের সঙ্গে দই

ক্যান্টালুপ, আম বা এপ্রিকটের সঙ্গে এক মুঠো বাদাম

অ্যাভোকাডো দিয়ে ফলের স্মুদি

পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ

ডায়েটিশিয়ান মানাকার বলেন, ‘ফল কখন খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম তৈরি করলে মানুষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই ছেড়ে দিতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সুপারিশকৃত পরিমাণ ফল খান। সাধারণভাবে পুরুষদের জন্য দৈনিক ২ কাপ এবং নারীদের জন্য দেড় কাপ ফলের পরামর্শ দেওয়া হয়।

খালি পেটে ফল খেতে না পারলেও তা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের যেকোনো সময় তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত বা শুকনো ফল খাওয়া যায়। তবে ক্যানজাত বা শুকনো ফল কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি নেই—এমন বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।


 

August 30, 2026

গোপালগঞ্জে মহানবীর জীবনী বললেন সনাতন শিক্ষক, গজল গাইলেন শিক্ষিকা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার অংশগ্রহণে উঠে এসেছে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অনন্য দৃষ্টান্ত।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কিরাত, গজল ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক নব কুমার বিশ্বাস। তিনি মহানবী (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, মানবতার প্রতি তাঁর অবদান এবং সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা তুলে ধরেন। নব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।’ তাঁর বক্তব্য উপস্থিত সবার মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে গজল পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষিকা নিদ্রা মল্লিক। তাঁর কণ্ঠে গজল পরিবেশনের সময় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত সবাই তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং প্রশংসা করেন।

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও মহানবী (সা.)-এর জীবন, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা নিয়ে দুই শিক্ষকের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণকে সম্প্রীতির সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা আরও জোরদার করবে। ‘ধর্ম যার যার, সম্প্রীতি সবার’—এমন বার্তাই যেন ফুটে উঠেছে বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই আয়োজনে।
August 30, 2026

রংপুরের শিক্ষক ও পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সংসদে বিবৃতির দাবি

রংপুরের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সুস্পষ্ট বিবৃতির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক: চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’—এই স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের মৃত্যুর ঘটনাকে শুরু থেকেই আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, মামলার তদন্ত শুধু পুলিশি প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিতে হবে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে প্রচলিত তদন্তব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট রয়েছে। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, রংপুরের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রতিমা ভাঙচুর, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং জমি দখলের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ঐক্য পরিষদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৮৪টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছয়টি হত্যাকাণ্ড, দুটি ধর্ষণ, মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি ঘটনা, আদিবাসীদের ওপর পাঁচটি হামলা এবং বসতবাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-অগ্নিসংযোগের ১০টি ঘটনা রয়েছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা। বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, ডেভিড চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জ্যোতি রায়, পলাশ দেবী, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দীপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিবাকর চন্দ্র শীলসহ অন্যান্য নেতারা।

মানববন্ধন শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
August 30, 2026

নেপালের ভয়াবহ বন্যা থেকে ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে ফিরলেন ভারতের ২১ তীর্থযাত্রী

তিব্বত-নেপাল সীমান্তের পাহাড়ি পথ যখন আকস্মিক বন্যা ও ধসে পড়া পাথরের নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন কাদা-মাখা পাহাড়ের ওপর থেকে নামিয়ে দেওয়া একটি সাধারণ শাড়িই হয়ে উঠেছিল একদল প্রবীণ তীর্থযাত্রীর জীবন বাঁচানোর একমাত্র অবলম্বন। নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে মৃত্যু আতঙ্ক থেকে ফিরে এসেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রী। তাদের বহনকারী তিনটি বাসের মধ্যে দুটি বন্যার তোড়ে ভেসে গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরেছেন তারা।

চেন্নাইয়ের ভেলাচেরি এলাকার বাসিন্দা নাভু কবিরদাস ও তার স্ত্রী বিজয়া ভুবনেশ্বরী জানান, তাদের মনে হচ্ছে তারা যেন ‘নতুন জীবন’ ফিরে পেয়েছেন। এই দম্পতি তামিলনাড়ুর কুম্বকোনম-ভিত্তিক একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিনটি বাসে করে মোট ৫৭ জনের দলের সঙ্গে নেপালের রাসুয়া জেলা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের বহরের দ্বিতীয় বাসটি কাদায় আটকে যাওয়ায় মেরামতের জন্য কয়েক মিনিট থামতে হয়েছিল। ভুবনেশ্বরী বলেন, ওই কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতিই মূলত তাদের জীবন বাঁচিয়েছে।

নাভু কবিরদাস বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমরা বোমার মতো বিকট শব্দ শুনতে পাই এবং আমাদের গাড়ির ওপর বড় বড় পাথর পড়তে শুরু করে। ঠিক তখনই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো তীব্র বেগে বন্যার পানি ধেয়ে আসতে শুরু করে।’

ভুবনেশ্বরী জানান, তিনি চোখের সামনে তাদের ঠিক পেছনের বাসটিকে কাত হয়ে কাদার মধ্যে ডুবে যেতে দেখেছিলেন, যা দেখার মতো সাহস তার ছিল না। বিপদ আঁচ করতে পেরে তাঁদের নেপালি চালক সবাইকে বাস থেকে নেমে পাহাড়ের ওপরের দিকে দৌড়ানোর নির্দেশ দেন এবং গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান। যাত্রীরাও চালককে অনুসরণ করেন।

বেঁচে যাওয়া ২১ জন তীর্থযাত্রীর বেশিরভাগেরই বয়স ৫০ বছরের বেশি। তাদের প্রায় এক তলা সমান উঁচু এবং পিচ্ছিল কাদার পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠতে হয়েছিল। ওঠার সময় বারবার তারা পা পিছলে নিচে পড়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুঙ্গোদি নামের দলের এক নারী কোনোমতে পাহাড়ের ওপরে উঠে তার পরনের সোয়েটারটি গায়ে জড়িয়ে নেন এবং নিজের শাড়িটি খুলে নিচে আটকে থাকা অন্য যাত্রীদের দিকে দড়ির মতো ঝুলিয়ে দেন।

ভুবনেশ্বরী বলেন, ‘আমরা সেই শাড়ির আঁচল এবং সেখানে ঝুলে থাকা একটি লোহার তার শক্ত করে ধরে ওপরে উঠি। সবশেষে এক নারী কোনোভাবেই ওপরে উঠতে পারছিলেন না। আমরা তাকে শাড়িটি কোমরে শক্ত করে বাঁধতে বলি এবং ওপরে থাকা সবাই মিলে শাড়িটি টেনে তাকে সরাসরি ওপরে তুলে আনি।’

কাঞ্চিপুরম জেলার এক পঞ্চায়েত ইউনিয়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাথ্য জানান, সকাল ৮টায় তারা চীনের ইমিগ্রেশনের উদ্দেশে সিয়াব্রুবেসি ত্যাগ করেছিলেন। হঠাৎ তারা আকাশে ধুলার এক বিশাল মেঘ দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট বা সাত-আট তলা উঁচু সুনামি তরঙ্গের মতো পাথর আর কাদার পাহাড় আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। আমরা আজীবন কেবল ইংরেজি সিনেমাতেই এমন দৃশ্য দেখেছি।’

পাহাড়ে ওঠার কোনো রাস্তা ছিল না। তারা চার ফুট ওপরে উঠলে পিছলে পাঁচ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা একটি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখান থেকে পরিবারের কাছে বেঁচে থাকার খবর পাঠান।

৫৭ জনের বহরের বাকি ৩৬ জন যাত্রীর সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চীনের তিব্বতের গিরিয়ং পোর্ট ইমিগ্রেশন ভবনের ভেতরে থাকা চেন্নাইয়ের অন্য দলের ৪৯ জন তীর্থযাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তামিলনাড়ুর মন্ত্রী এ রাজমোহন জানান, তামিলনাড়ু থেকে চার শতাধিক মানুষ নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৯০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বেঁচে ফেরা তীর্থযাত্রীরা নেপাল সরকার, নেপাল সেনাবাহিনী, ভারতীয় দূতাবাস এবং তামিলনাড়ু সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য সত্যিই এক অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য যাত্রা ছিল।’
August 30, 2026

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর


খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাবু পাড়া এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানিয়েছেন। ঘটনার পর কেউ থানায় অভিযোগ না দিলেও প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এন্টন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'উপজেলার বাবু পাড়া এলাকায় নির্মিত ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে কে বা কারা এবং কখন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।'

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ভাষ্য, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের অনুপ্রেরণার প্রতীক ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার ঘটনা শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংস নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা জুপিটার চাকমা বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমার স্মৃতিবেদী ভেঙে দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।' তিনি বলেন, 'একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমার শোক বেদী ভেঙে ফেলার মতো অপকর্ম প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পাহাড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায় এবং জুম্ম জনগণের মৌলিক আবেগ ও অধিকারের ওপর আঘাত হানতে চায়।'

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাসে ভরদ্বাজ মণি চাকমা একজন অবিস্মরণীয় নাম। তার আত্মত্যাগ পাহাড়ের নিপীড়িত মানুষের অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
"
"