প্রযুক্তি
May 06, 2026
ফেসবুকে পোস্ট শেয়ারে অদ্ভুত বার্তা: ব্যবহারকারীদের অভিযোগে পরীক্ষামূলক ফিচার বন্ধ করল মেটা
সম্প্রতি Facebook-এ একটি অস্বাভাবিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক ব্যবহারকারী। অন্যদের করা পোস্ট শেয়ার করার সময়, কোনো ধরনের মন্তব্য না লিখলেও শেয়ার করার পর সেখানে অপ্রত্যাশিত কিছু বাক্য যুক্ত হয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দিক থেকে।
ব্যবহারকারীদের দাবি, তারা যখন কোনো পোস্ট সরাসরি শেয়ার করেন, তখন প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে সেখানে কিছু নতুন লেখা যোগ হয়েছে। এসব লেখার বেশিরভাগই ‘জেন জেড’ প্রজন্মের কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং, যেমন—‘ম্যাসিভ ডব্লিউ’, ‘ভিউজ আর ফায়ার’ কিংবা ‘দ্যাট ডিজাইন ইজ সো কুকড’। অনেক ক্ষেত্রে এসব বাক্যের সঙ্গে মূল পোস্টের বিষয়বস্তুর কোনো সম্পর্কই থাকে না।
এই সমস্যাটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যারা এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মন্তব্য যোগ করেননি। ফলে এই অতিরিক্ত লেখাগুলো তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে, বিশেষ করে যারা এই ধরনের ভাষার সঙ্গে পরিচিত নন বা ব্যবহার করেন না।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যেসব ব্যবহারকারী পোস্ট শেয়ার করার সময় কোনো ক্যাপশন বা মন্তব্য যোগ করেন না, তাদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা স্বয়ংক্রিয় ফিচারের অংশ।
এ বিষয়ে Meta-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি আসলে একটি পরীক্ষামূলক ফিচারের অংশ ছিল। ফেসবুকে রিশেয়ার করা পোস্টের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা ক্যাপশন দেখানোর একটি ছোট পরিসরের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তবে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় সেই পরীক্ষা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মেটা আরও জানিয়েছে, বর্তমানে এই ফিচারটি আর সক্রিয় নেই। তবে যদি কোনো ব্যবহারকারীর পোস্টে এখনও এমন অপ্রত্যাশিত লেখা দেখা যায়, তাহলে সেটি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলা সম্ভব। অর্থাৎ পোস্ট শেয়ার করার পর নিজের প্রোফাইল একবার দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো লেখা থাকলে তা দ্রুত সরানো যায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে প্রায়ই নতুন ফিচার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। তবে সব ফিচার যে ব্যবহারকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, তা নয়। এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবারও প্রমাণিত হলো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ফিচার চালু করার আগে ব্যবহারকারীদের মতামত কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ ব্যক্তিগত পোস্ট বা শেয়ারে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু যুক্ত হওয়া ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
সবশেষে বলা যায়, আপাতত সমস্যাটি সমাধান হয়েছে বলে জানালেও ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকা জরুরি। কোনো পোস্ট শেয়ার করার পর সেটি একবার যাচাই করে নেওয়া ছোট একটি অভ্যাস হলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্বস্তি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)