কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, July 8, 2026

July 08, 2026

অপুষ্টিজনিত নতুন ধরন ‘টাইপ–৫’ ডায়াবেটিস নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘টাইপ–৫’ ডায়াবেটিস। এটি প্রচলিত টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের মতো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পৃথক ধরন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালে International Diabetes Federation (IDF) টাইপ–৫ ডায়াবেটিসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখনো এটিকে তাদের আনুষ্ঠানিক শ্রেণিবিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করেনি এবং বিষয়টি নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পর্যালোচনা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশব বা কৈশোরে দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে থাকলে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইনসুলিন উৎপাদিত হয় না। একই সঙ্গে এ ধরনের রোগীরা ইনসুলিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলও হতে পারেন। এ কারণে প্রচলিত চিকিৎসা সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, বিশ্বের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে রোগটি এখনো অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় অনেক রোগী ভুল চিকিৎসা পাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, টাইপ–৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্ষুধা, দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসব লক্ষণ টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভোগা, কম ওজনের কিশোর-তরুণ এবং দক্ষিণ এশিয়া ও সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলের মানুষ এ রোগে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তাদের মতে, উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুষ্টি পরিকল্পনা নির্ধারণ করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

July 08, 2026

টঙ্গীতে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ীতে হমলা ভাঙচুর: তাতীদলের নেতাসহ ৩ জন কারাগারে

নাটোরের গুরুদাসপুরে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিমুল কর্মকার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার বাসিন্দা নবীন কর্মকারের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং সপরিবারে সেখানে বসবাস করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে শিমুলের নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং রাতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ অভিযুক্তের বাড়ির দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল আজিজ গুরুদাসপুর থানায় উপস্থিত হয়ে জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাতে গুরুদাসপুর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্তের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান।

স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা জামীল আহমাদ বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করায় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। রোববার দিবাগত রাতে যৌথ অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


 

July 08, 2026

ইন্দোনেশিয়ার প্রাম্বানান: দক্সিণ পূর্ব এষিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভা প্রদেশের ইয়োগ্যাকার্তা অঞ্চলে অবস্থিত প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্স ৯ম শতাব্দীতে নির্মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স এবং বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য হিন্দু স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সে মূলত ২৪০টি বড় ও ছোট মন্দির ছিল। এর প্রধান তিনটি মন্দির হিন্দু ত্রিদেব ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। গবেষকদের মতে, এই মন্দির কমপ্লেক্স দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিস্তারের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।

প্রাম্বানানের শিব মন্দিরের অলিন্দজুড়ে খোদাই করা রামায়ণের ধারাবাহিক ভাস্কর্যচিত্র বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বিশ্বের অন্যতম সেরা দৃশ্যমান রামায়ণ উপস্থাপনা হিসেবে বিবেচিত এই ভাস্কর্যগুলোতে মহাকাব্যের কাহিনি প্যানেলভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস, শিল্প ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯ম শতাব্দীর জাভায় নির্মিত এই সূক্ষ্ম পাথরের কারুকাজ শুধু স্থাপত্যশিল্পের উৎকর্ষই নয়, বরং ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার অভিন্ন সভ্যতাগত ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কেরও এক স্থায়ী প্রতীক।

বর্তমানে প্রাম্বানান মন্দির ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা লাভ করেছে এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক, গবেষক ও ভক্ত এই ঐতিহাসিক মন্দির কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন।

 

Tuesday, July 7, 2026

July 07, 2026

গুরুদাসপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিমুল কর্মকার গ্রেপ্তার

নাটোরের গুরুদাসপুরে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিমুল কর্মকার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার বাসিন্দা নবীন কর্মকারের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং সপরিবারে সেখানে বসবাস করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে শিমুলের নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং রাতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ অভিযুক্তের বাড়ির দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল আজিজ গুরুদাসপুর থানায় উপস্থিত হয়ে জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাতে গুরুদাসপুর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্তের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান।

স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা জামীল আহমাদ বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করায় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। রোববার দিবাগত রাতে যৌথ অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

July 07, 2026

গঠনতন্ত্রবিরোধী বিবৃতির অভিযোগে গাইবান্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি-সম্পাদককে শোকজ

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য এবং গঠনতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি রনজিত বক্সী সূর্য এবং সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহা।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জুন পলাশবাড়ীর রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির-সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা শাখার এই দুই নেতা অন্য দুটি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিকদের কাছে একটি বিবৃতি উপস্থাপন করেন। ওই বিবৃতিতে তাঁরা মন্দিরের শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ আনেন এবং মন্দির পরিচালনার জন্য নতুন বোর্ড গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁর ফেসবুক লাইভের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি কামনা করেন।

কেন্দ্রীয় কমিটির দাবি, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিবৃতি দেওয়া সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করে বোর্ড গঠনের আহ্বানও সংগঠনের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, জেলা শাখার নেতাদের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বিবৃতির কারণে দেশ-বিদেশে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ ঘটনায় কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


 

July 07, 2026

দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার তিনটি দুষ্প্রাপ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার

দিনাজপুরে পৃথক অভিযানে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের তিনটি দুষ্প্রাপ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুর মধ্যে রয়েছে একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং একটি বেলে পাথরের মনসা মূর্তি।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে দিনাজপুর বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পার্বতীপুর উপজেলার মালিপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে ১৩৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়।

পরে একই দিন ভোর ৫টার দিকে কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় পৃথক অভিযানে ১৩ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের মনসা মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়া তিনটি প্রত্নবস্তুর মোট সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য অপরিমেয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

July 07, 2026

কম খেয়েও কেন বাড়তে পারে ওজন? জানুন সম্ভাব্য কারণ

 

অনেকের ধারণা, কম খেলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খাবার কম খাওয়ার পরও ওজন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শুধু অতিরিক্ত ক্যালরি নয়, শরীরের নানা জৈবিক ও জীবনযাপনের কারণও দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো শরীরের মেটাবলিজম (বিপাকক্রিয়া) ধীর হয়ে যাওয়া। বয়স বৃদ্ধি, জিনগত বৈশিষ্ট্য কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়ায়। ফলে অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে পেটের চারপাশে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে অনেকের ওজন বৃদ্ধি দেখা যায়। পাশাপাশি হাইপোথাইরয়েডিজম এবং নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও সাদা রুটি কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

এসব পরিবর্তনের পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

July 07, 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্মশানে শবদাহে বাধার অভিযোগ, জমি বিরোধে উত্তেজনা


ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় একটি শ্মশানে শবদাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ স্থানীয় শ্মশানে সৎকারের জন্য নেওয়া হলে মো. বারকাত মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি শবদাহে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত একজন আহত হন।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডভুক্ত শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই সেখানে শবদাহে বাধা দেওয়ার কোনো আইনগত বা সামাজিক ভিত্তি নেই।

তবে মো. বারকাত মিয়ার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁর পৈতৃকভাবে কেনা সম্পত্তি এবং জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Monday, July 6, 2026

July 06, 2026

তাড়াশে আদিবাসী পরিবারকে হুমকি

সিরাজগঞ্জে জমি বিরোধে আদিবাসী পরিবারকে হুমকির অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণঘোষ গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি আদিবাসী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কর্ণঘোষ মৌজার আরএস ১৩২ নম্বর খতিয়ানের ৬৮০, ৬৮১ ও ৬৭৩ নম্বর দাগের ২৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আদালত ওই জমির বিষয়ে বাসন্তী মাহাতোর পক্ষে রায় দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের রায়ে পরাজিত হওয়ার পর নিয়ামত আলীর ছেলে আব্দুল মালেক, আশরাফুল ইসলাম এবং শাহজাহান আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে বিধবা মেনকা রানী ও বাসন্তী মাহাতোকে পরিবারসহ ১৫ দিনের মধ্যে ভারত চলে যেতে বলেন। পাশাপাশি তাদের জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মেনকা রানী ও বাসন্তী মাহাতোর দাবি, অভিযুক্তরা আগে জমির মালিকানা দাবি করে সিরাজগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগে তারা আরেকটি মামলা করেন, যেখানে অভিযুক্তরা আদালতে মুচলেকা দিয়ে বন্ডে স্বাক্ষর করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরপর দুটি মামলায় পরাজিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ জুন বিকেলে আবারও হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ২ জুলাই তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমির মামলার রায় প্রতিপক্ষের পক্ষে গেছে ঠিকই, কিন্তু কাউকে দেশ ত্যাগের কথা তারা বলেননি।

তাড়াশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

July 06, 2026

ফেনীর ফুলগাজীতে শতবর্ষী দোল মন্দিরে ভাঙচুরের অবিযোগ, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় একটি শতবর্ষী দোল মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বণিকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বণিকপাড়ার শতবর্ষী দোল মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মন্দিরসংলগ্ন একটি জমিকে নিজেদের দাবি করে সেটিকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সজীব বণিক, স্বরূপ বণিক, ঝুমুর বণিক, নুপুর বণিক ও রূপায়ন বণিকসহ কয়েকজন মন্দিরের একটি অংশ ভাঙচুর শুরু করেন। এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সঞ্জিব বণিক গুরুতর আহত হন। এছাড়া অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক, শিল্পী চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা শুভাস বণিকের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তার অভিযোগ, হামলার সময় মন্দিরের একটি অংশ ভেঙে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জিনা বণিক বাদী হয়ে সজীব বণিক, স্বরূপ বণিকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

"
"