কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, August 4, 2026

August 04, 2026

নন্দীগ্রাম কল্যাননগর হিন্দু পাড়ায় দেড় মাসে ৩১ টি খড়ের পালায় দুর্বৃত্তের আগুন' স'ঙ্কটে গো খাদ্য

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কল্যান নগর হিন্দু পাড়া এলাকায় গত দেড় মাসে দুর্বৃত্তরা ৩১টি খড়ের পালায় আগুন দিয়েছে। এতে খড় পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার কৃষক পরিবারগুলো গো-খাদ্যের চরম সংকটে পড়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩ থেকে ৪টার মধ্যে এলাকার আনন্দ চন্দ্র মহন্ত, রতন চন্দ্র ও অমল চন্দ্রের তিনটি খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহকালে জানা যায়, গত দেড় মাসে এলাকার বিভিন্ন পরিবারের মোট ৩১টি খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, যাদের খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—সুবল চন্দ্র (২টি), নরেশ চন্দ্র (৩টি), নিখিল চন্দ্র (২টি), অর্জুন চন্দ্র (২টি), সুনীল চন্দ্র (২টি), স্বপন চন্দ্র (১টি), সুমল চন্দ্র (২টি), বিশু চন্দ্র (১টি), ভোলা দাস (২টি), বল্লভ চন্দ্র (১টি), নিবাস চন্দ্র মহন্ত (১টি), সন্তোষ চন্দ্র (৩টি), স্বদেপ চন্দ্র (১টি), অখিল চন্দ্র (১টি), কার্তিক চন্দ্র (১টি), বিনয় চন্দ্র (২টি) ও আনন্দ চন্দ্র মহন্ত (১টি)।

অখিল চন্দ্র, কার্তিক চন্দ্র ও বিনয় চন্দ্র জানান, আগুনে কিছু খড় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আবার কিছু আংশিক বাঁচলেও তা গরুর খাওয়ার উপযোগী নয়। এতে তারা গুরুতর গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনার কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’


 

August 04, 2026

মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘরে হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ উপজেলার দেওয়ারপুর গ্রামে একটি প্রতিবন্ধী পরিবারের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেওয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা কালু চন্দ্র নাথ প্রতিবন্ধী ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি অন্যের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রোববার সকালে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে একটি কাজে যান। রাতে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী রফিক উদ্দিন তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করেন।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী রুপালী রানী নাথ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতে শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি রফিক উদ্দিন আমাদের ঘরে হামলা চালাচ্ছে। খবর পেয়ে আমরা এগিয়ে গেলে তিনি সহযোগীদের নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। প্রাণভয়ে আমরা সরে যাই। পরিকল্পিতভাবে আমাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রফিক উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জোরারগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. নুরুদ্দিন জানান, ‘বসতঘরে হামলার অভিযোগে রুপালী রানী নাথ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


 

August 04, 2026

মিটফোর্ডের হরিজনদের ৩০ তারিখের মধ্যে ছাড়তে হবে ঘর ৩১ তারিখ বন্ধ করা হবে গ্যাস,বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগ উচ্ছেদ রোধ কল্পে

ঐতিহাসিক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬৮ বছর ধরে বসবাস করে আসা হরিজন সম্প্রদায় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ‘মিনিয়াডস কোয়ার্টার’ (সুইপার কলোনি) খালি করতে বলা হয়েছে, যা ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রাঙ্গণে বসবাস করে আসছেন। প্রায় ১৬৮ বছর ধরে চলে আসা এই বসতি শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বরং এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রম, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ভবন অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।

নোটিশে আরও সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোয়ার্টার খালি না করলে ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। সময়মতো বাসা খালি না করলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের বহন করতে হবে।

হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তারা পুনর্বাসনের আবেদন জানালেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—প্রাঙ্গণে খালি জায়গা না থাকায় পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।

বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের নোটিশ আসায় হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থেই এই উদ্যোগ। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, উন্নয়নের আগে শত শত পরিবারের নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

হরিজন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ১৬৮ বছরের এই বসতির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করে তবেই যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।


 

August 04, 2026

বাঁশখালীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তড়িৎ গুহের ওপর হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রামদাস মুন্সি বাজার এলাকায় বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও ধর্মীয় অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত বাবু তড়িৎ গুহের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় ও তাঁর পরিচিতজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তড়িৎ গুহ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বাঁশখালী ঋষিধাম পরিচালনা পরিষদ শ্রী গুরু সংঘের অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঋষি কুম্ভ ও কুম্ভ মেলার অর্থ সম্পাদক হিসেবে আটবার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সমাজসেবা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই ব্যক্তির ওপর প্রকাশ্য স্থানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, একজন নাগরিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

ঘটনার পর হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, অপরাধীর পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন, হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

তবে হামলার কারণ, হামলাকারীদের পরিচয়, তড়িৎ গুহের আঘাতের ধরন এবং থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বাঁশখালীতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

August 04, 2026

ঝালকাঠির সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেফালী রানী

গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া শেফালী রানী জীবনের প্রথম থেকেই ছিলেন স্বপ্নবাজ। নিজের দৃঢ় মনোবলের জোরে তিনি বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মহাবিদ্যালয়ে পা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়ালো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ হলেও দেশের ডাকে পাল্টে গেল তাঁর জীবনের গন্তব্য।
১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর ঝালকাঠিতে জন্মগ্রহণ করেন শেফালী রানী। তাঁর পিতা রাখাল রায় ও মাতা জ্ঞানদা রায়। ১৯৭১ সালে তিনি চাখার এ কে ফজলুল হক কলেজের ছাত্রী ছিলেন। পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কিছুদিন পর তিনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভারতে চলে যান।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এক ভয়াবহ ঘটনার কথা স্মরণ করে শেফালী রানী বলেন, ‘একদিন আমাদের বাড়িতে ২০-২৫ জন অতিথি এসেছিলেন। আমি সবার জন্য ভাত চাপিয়েছি। ঠিক তখনই শুরু হলো গুলির আওয়াজ—এমনকি আমাদের ঘরের মধ্যে পর্যন্ত গুলি আসতে শুরু করে। তখন পাশের বাগানে ভাতের পাতিল লুকিয়ে রেখে আমরা দূরে আশ্রয় নিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পেয়ারাবাগানে মাটির নিচে বাড়ি করে থাকতাম। সেখান থেকে ১৮-২০ জনের দল পরিকল্পনামাফিক অপারেশনে বের হতাম। একদিন সেখান থেকে ২০ হাত দূরে আমরা পাকবাহিনীকে দেখলাম এবং তাদের কথাও শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে সৌভাগ্যবশত সেদিন তারা আমাদের বাড়ি পর্যন্ত আসেনি।’
কিছুদিন পর কলকাতায় গিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কার্যালয় খুঁজে বের করেন তিনি। সেখানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ জানান। শেফালী রানী বলেন, ‘আটদিন ধরে পায়ে হেঁটে কলকাতায় গিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিই। সেখানে ডা. বিধানচন্দ্র রায় একটি বাংলাদেশ অফিস খুলেছিলেন। সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে যেতে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে গোবরা প্রশিক্ষণ শিবিরে যেতে বলেন।’
সেখানে প্রায় সাড়ে তিনশ’ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরে অস্ত্রচালনা থেকে শুরু করে নানা কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে একেকটি ব্যাচকে একেক জায়গায় কাজে পাঠানো হতো। সেখানে হোস্টেল সুপার ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তাদের পরের দিন হাসপাতালে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়, কিন্তু ঠিক সেইদিন বিজয় মিছিল শুরু হয়ে যায়। শেফালী রানী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মহেন্দ্র রায় লেন থেকে বিজয় মিছিল করে ধর্মতলা পর্যন্ত গিয়েছি। মতিয়া চৌধুরী আমাদের সাথে মিছিলে ছিলেন।’
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঝালকাঠিতে ফিরে তিনি চাখার এ কে ফজলুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর তাঁর বিয়ে হয়। তিনি যশোর ও ডুমুরিয়ার দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করলেও পারিবারিক কারণে বেশি দিন শিক্ষকতায় থাকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সংসার জীবনেই মনোযোগ দিতে বাধ্য হন তিনি।
স্বাধীনতার তিন দশক পর ১৯৭১ সালে পাওয়া নিজের কাগজপত্র নিয়ে সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেন তিনি। ২০০৬ সাল থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতে শুরু করেন। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচজন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। সেখানে অন্যদের সঙ্গে শেফালী রানীর হাতেও সম্মাননা পদক তুলে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ লস্কর।
শেফালী রানী আজও মুক্তিযুদ্ধের সেই সাহসী স্মৃতি বুকে ধারণ করে আছেন—যে নারী উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে পাশে রেখে দেশের ডাকে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

Monday, August 3, 2026

August 03, 2026

মা জানেন না সংসারের হাল ধরা ছেলেটি আর নেই


​গত শনিবার কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন খুলনার তরুণ অক্ষর সৌভিক রায়। তবে মৃত্যুর দ্বিতীয় দিনেও তাঁর মা জানেন না যে তাঁর আদরের ছেলে আর বেঁচে নেই।
​পরিবারের স্বজন ও আত্মীয়রা শোকাবহ এই খবরটি তাঁর মায়ের কাছে গোপন রেখেছেন। তাঁকে শুধু জানানো হয়েছে যে সৌভিক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মা যখন বারবার আকুল হয়ে প্রশ্ন করছেন— "আমার ছেলে কোথায়? কখন ফিরবে?", তখন শোকে নির্বাক স্বজনরা মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা জানেন না কী করে জানাবেন, ছেলে সৌভিক আর কোনো দিন ফিরবে না।
​গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন মান্নান চটপটির গলির 'দেলন' ভবনের চতুর্থ তলায় সৌভিকদের ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায়। পুরো ঘরে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। কারও মুখে কোনো ভাষা নেই।
​জানা গেছে, সৌভিক অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে আনন্দভ্রমণে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় তীব্র শোক ও বিষাদে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে ৫০-৬০ ফুট আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়েন সৌভিক (৩০)। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​নিহত অক্ষর সৌভিক খুলনা নগরীর কালীবাড়ী এলাকার সাবেক ব্যবসায়ী মৃত শেখর রায়ের ছেলে। তিনি খুলনা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, খুলনার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ভারতের গুজরাটের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকার একটি ভিসা এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন।
​২০ ২০২১ সালে করোনা মহামারীতে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে সৌভিকের কাঁধে। ব্যাংকের ঋণের কারণে তাঁদের নিজেদের বাড়িটি বন্ধক থাকায় গত ছয় মাস আগে তাঁরা 'দেলন' ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমানে তাঁর মা শুক্লা রায়, ছোট বোন শিখা রায় এবং দাদু ও দিদিমা এক ছাদের নিচে থাকেন।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সৌভিক রায়সহ ১০ জনের একটি দল খুলনা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যান। প্যারাসেইলিং করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধার ব্যবস্থা বা লাইফগার্ড ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন সঙ্গীরা।
​কক্সবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে আগেই সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করে অসাধু উপায়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


 

August 03, 2026

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পুরনো কমিটি বাতিল এলো চার সদস্যের নতুন কমিটি

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে চার সদস্যের একটি নতুন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজয় কান্তি সরকারের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের বিদ্যমান সব কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সভায় নতুন চার সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটিতে—

সভাপতি: অপর্না রায় দাস

সিনিয়র সহসভাপতি: রমেশ দত্ত

সাধারণ সম্পাদক: বাবু মিল্টন বৈদ্য

সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: তপন কুমার বসু (মিন্টু)

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে।
August 03, 2026

সূর্যের ‘হারিয়ে যাওয়া’ রুপার রহস্য উন্মোচন, মিলল নতুন ব্যাখ্যা

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল নক্ষত্র সূর্যকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বৈজ্ঞানিক ধাঁধার সমাধানের দাবি করেছেন গবেষকরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের মধ্যে রূপার পরিমাণ আগের ধারণার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে সূর্যের রাসায়নিক গঠনের দীর্ঘদিনের অমিল দূর হয়েছে।

প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে একই ধরনের ধূলিকণা ও গ্যাসের মেঘ থেকে সূর্য এবং সৌরজগতের প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এতদিন বিজ্ঞানীরা দেখছিলেন, উল্কাপিণ্ডে যে পরিমাণ রূপা পাওয়া যায়, সূর্যের বর্ণালি বিশ্লেষণে তার তুলনায় অনেক কম রূপার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই বৈপরীত্যই দীর্ঘদিন ধরে গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছিল।

সম্প্রতি ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সূর্যের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে আগের হিসাবের তুলনায় অন্তত ৫৫ শতাংশ বেশি রূপা রয়েছে। গবেষকদের মতে, অতীতের পরিমাপ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণেই এই পার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

গবেষণার অন্যতম সদস্য এবং সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট সেমা কালিসকান জানান, নতুন ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মডেলের মাধ্যমে সূর্যের বর্ণালি রেখা আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। সূর্যের বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করার সময় আলো যেভাবে শোষিত ও প্রতিফলিত হয়, সেই প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

গবেষণায় সুপারকম্পিউটারের সহায়তায় রূপার পরমাণুর আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোতে ব্যবহৃত মডেল যথেষ্ট নির্ভুল ছিল না। নতুন বিশ্লেষণের ফলে সূর্যে রূপার পরিমাণের যে হিসাব পাওয়া গেছে, তা এখন পৃথিবীতে পাওয়া একই সময়ের প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের রাসায়নিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া শুধু এই নক্ষত্রকে বোঝার জন্যই নয়, বরং অন্যান্য নক্ষত্র, গ্রহ এবং মহাজাগতিক উপাদানের উৎপত্তি ও বিবর্তন ব্যাখ্যাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমা কালিসকান বলেন, সূর্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান রেফারেন্স। বিভিন্ন বয়স ও ধরনের নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে মহাবিশ্বে রূপার উৎপত্তি এবং মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিজুড়ে এর বিস্তারের ইতিহাস আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


 

Sunday, August 2, 2026

August 02, 2026

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে দুই মামলায় জামিন দিলেন হাইকোর্ট

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত ১৭ জুন চট্টগ্রামের একটি আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে ২৬ জুন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করলে আদালত তাকে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির নির্দেশ দেন। আজকের রায়ে আদালত তাকে জামিন প্রদান করেন।
August 02, 2026

নাটোরের লালপুরে হিন্দু পরিবারগুলোকে কাছে চাঁদা দাবি, হুমকিমূলক চিঠি

নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা একটি পরিবারের বাড়ির বারান্দায় হুমকিমূলক চিঠি রেখে যায়, যাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালপাড়ার বৈদ্যনাথ পালের ছেলে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় চিঠিটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতে নারায়ণের ছেলে অরুণ কুমার পাল চিঠিটি দেখতে পান এবং বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের জানান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না এবং পালপাড়ার প্রতিটি হিন্দু পরিবারকে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে পাঠাতে হবে। টাকা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠিতে একটি বিকাশ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি পরিবারে চিঠি পৌঁছানোর পর তা অন্য হিন্দু পরিবারগুলোকেও পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিঠিটি জব্দ করে। পুলিশ জানিয়েছে, চিঠির উৎস শনাক্ত ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


 

"
"