হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ
June 04, 2026
লক্ষ্মীপুরে 'ব্যাড টাচ' মামলায় শিক্ষক কারাগারে, প্রাইভেটের বিরোধে ফাঁসানোর অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক রিপন মজুমদারকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করছেন অভিভাবক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ জুন) দত্তপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মায়া বেগম, অভিভাবক ফখরুদ্দিন শাহীন এবং একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক রিপন মজুমদার বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান, যা অন্য কিছু শিক্ষক পছন্দ করতেন না।
প্রত্যক্ষদর্শী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিন সুলতানা সোহা বলেন, "ঘটনার দিন স্যার গণিতের একটি সূত্র ভুল করায় কয়েকজনকে বেত মেরেছিলেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীকে খারাপভাবে স্পর্শ বা আপত্তিকর কিছু করতে দেখিনি। এটা স্যারকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র হতে পারে।"
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফারিহা আক্তার রোমানা জানান, তিন বছর ধরে স্যার তাকে বাড়িতে পড়িয়েছেন, অভিভাবকের মতো দেখভাল করেছেন। এমন অভিযোগে তারা বিস্মিত। অভিভাবক ফখরুদ্দিন শাহীনের মতে, রিপন মজুমদার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সজ্জন শিক্ষক, তার দুই মেয়েও তার কাছে পড়েছে এবং কোনো দিন খারাপ আচরণ পায়নি।
পরিচালনা কমিটির সদস্য মায়া বেগম সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "প্রাইভেট পড়ানোর জেরে বিরোধের সুযোগ নিয়েই ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। অভিযোগকারী ছাত্রীর মাও নাকি বলেছেন, তাকে চাপ দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে।"
তবে মামলার বাদী এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি, শুধু বলেছেন প্রধান শিক্ষক ভালো জানেন। প্রধান শিক্ষক আব্দুল সোবহান বিরোধ বা ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করলেও পরিকল্পিত কিনা— এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।
দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হওয়ার পর শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান, শেষ হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে প্রাইভেট ক্লাসে পড়া না পারায় কয়েকজনকে বেত্রাঘাত করেন রিপন মজুমদার। পরে এক শিক্ষার্থীকে 'ব্যাড টাচ' করার অভিযোগ এনে ২৪ মে তার মা চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করলে ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সব পক্ষই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।


.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)