কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, May 3, 2026

May 03, 2026

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু পরিবারের জমির ধান কাটার অভিযোগ ⚖️🌾

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জীবন দেবনাথের দাবি, ১ মে (শুক্রবার) রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র তার জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে জীবন দেবনাথ তার পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি একই গ্রামের কামাল মিয়া ও তার সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। জীবন দেবনাথ জানান, জমিতে ধান রোপণের পর ফসল পাকতে শুরু করলে জোরপূর্বক তা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই এসব নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জীবন দেবনাথ আদালতের শরণাপন্ন হন। নেত্রকোণা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় করা আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৫ এপ্রিল আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দেন। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আদালতের অধীন হওয়ায় রিসিভার যদি নিরাপত্তা সহায়তা চান, তাহলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে সরাসরি তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।
এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নিযুক্ত রিসিভার মো. দেলুয়ার হোসেন জানান, তিনি আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ব্যস্ততার কারণে এখনো সরেজমিনে যেতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষ থেকে সহকর্মীদের মাধ্যমে বিবাদীদের মৌখিকভাবে ধান না কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও যদি ধান কাটা হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত কামাল মিয়া ও সাইফুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধান কেটে নেওয়া হলে তা আইন অবমাননার শামিল। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

May 03, 2026

বেনাপোল-খুলনা -মোংলা রুটের ট্রেনর বাণিজ্যিক পরিচালনা চুক্তি বাতিল

বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন দু’টির বাণিজ্যিক পরিচালনা চুক্তি বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা এই চুক্তি বাতিল করা হয়। এর ফলে ট্রেন দু’টি আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল শুরু করেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ এপ্রিল থেকে চুক্তি বাতিল কার্যকর করা হয়।
এর আগে ট্রেন দু’টির আয় বাড়ানোর যুক্তিতে বেসরকারি খাতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশন’-কে তিন বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন পরিচালনা শুরু করে।
তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এতে আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাচল শুরু হলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় যাত্রীদের মতে, সরকারি তদারকিতে সেবা তুলনামূলক ভালো হয়। যাত্রী আরিফা বেগম ও মোজাম্মেল হক বলেন, ট্রেনে চোরাচালান ও অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি বগি সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে।
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পারভিনা খাতুন জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসার পর থেকেই যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রথম দিকে প্রায় ১১ বছর সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১০ সালে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সেবার মান নিম্নমুখী হওয়া ও নানা অনিয়মের কারণে ২০১৩ সালে আবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনা হয়। পরে সেবার উন্নতি হওয়ায় ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে দিনে দুইবার কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়।
সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে যাত্রীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে রেলসেবার মান আরও উন্নত হবে।

 

May 03, 2026

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং ১০ খাবার: স্বাদের দুনিয়ায় নতুন ঢেউ 🍽️

একই খাবার প্রতিদিন খেতে খেতে একসময় একঘেয়েমি চলে আসে—এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই তো বিশ্বজুড়ে খাবারের জগতে প্রতি বছরই দেখা যায় নতুন নতুন ট্রেন্ড, নতুন স্বাদের খোঁজ। কখনো ঐতিহ্যবাহী খাবার ফিরে আসে আধুনিক ছোঁয়ায়, আবার কখনো ফিউশন কনসেপ্টে পরিচিত খাবারও হয়ে ওঠে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।
২০২৫ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বজুড়ে খাবারপ্রেমীদের পছন্দ, সহজলভ্যতা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে কিছু খাবার এবার ট্রেন্ডের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেরা ১০টি জনপ্রিয় খাবার—
১. Neapolitan Pizza (ইতালি)
পাতলা, নরম ডো আর টাটকা টমেটো, মোজারেলা চিজ ও বাসিল পাতার সহজ কম্বিনেশন—এই পিৎজার স্বাদই একে আলাদা করে তোলে। কম উপাদানে অসাধারণ স্বাদই এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
২. Ramen (জাপান)
গরম স্যুপ, নুডলস, মাংস ও ডিমের সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং আরামদায়ক ও পুষ্টিকরও।
৩. Taco (মেক্সিকো)
টরটিলার ভেতরে মাংস, সবজি ও সস—সহজে খাওয়া যায়, স্বাদে বৈচিত্র্যও অনেক। দ্রুত খাবারের জন্য দারুণ অপশন।
৪. Butter Chicken (ভারত)
মাখন ও টমেটোর গ্রেভিতে রান্না করা নরম চিকেন—ক্রিমি ও মসলাদার স্বাদের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।
৫. Dim Sum (চীন)
ডাম্পলিং, বানসহ ছোট ছোট খাবারের সমাহার। চায়ের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে, আর এখন অনেক দেশেই এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
৬. Sushi (জাপান)
ভাত, মাছ ও সামুদ্রিক উপাদানের সূক্ষ্ম সংমিশ্রণ—দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমন ইউনিক।
৭. Gourmet Burger (যুক্তরাষ্ট্র)
সাধারণ বার্গারের আপগ্রেড ভার্সন। উচ্চমানের উপকরণ ও নতুন স্টাইলের কারণে এটি এখন ফুড ট্রেন্ডের শীর্ষে।
৮. Pasta (ইতালি)
আলফ্রেডো, কার্বোনারা—বিভিন্ন সস ও স্টাইলে তৈরি পাস্তা সব বয়সের কাছেই প্রিয়।
৯. Pho (ভিয়েতনাম)
হালকা কিন্তু স্বাদে ভরপুর নুডলস স্যুপ, যেখানে থাকে নানা গুল্ম ও মাংসের মিশ্রণ।
১০. Korean Fried Chicken (দক্ষিণ কোরিয়া)
মুচমুচে টেক্সচার ও বিভিন্ন সসের কারণে এই ফ্রায়েড চিকেন তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।
খাবারের ট্রেন্ড আসলে শুধু স্বাদের পরিবর্তন নয়, এটি সংস্কৃতি, জীবনযাপন আর মানুষের পছন্দের প্রতিফলন। নতুন কিছু চেষ্টা করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন অভিজ্ঞতা—তাই মাঝে মাঝে নিজের খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনলে জীবনও একটু বেশি মজাদার হয়ে ওঠে 😄🍜



May 03, 2026

মির্জাপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

টাঙ্গাইলের Mirzapur Upazila–এ এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের পথহাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিল চন্দ্র দাস অভিযোগ করেছেন, একই গ্রামের আব্দুল বাছেদ বাচ্চু ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তার আবাদি জমি দখলের চেষ্টা করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে Mirzapur Police Station–এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) গোড়াই পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক Ruhul Amin বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পথহাড়া মৌজার ১১৫ খতিয়ানের ২০৩ নম্বর দাগে প্রায় ৮৯ শতাংশ জমি রয়েছে অনিল চন্দ্র দাসের নামে। গত ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল বাছেদ বাচ্চুসহ কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় জমিতে চাষ করা মরিচ ও বেগুন গাছ ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার সময় অনিল চন্দ্র দাস জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি বাদী হয়ে বাচ্চুসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের একজন, লুৎফর রহমান দাবি করেছেন যে, ৮৯ শতাংশ জমির মধ্যে ৫৬ শতাংশ জমি আব্দুল বাছেদ বাচ্চু ও ঘুঘুর মামুদ বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং তাদের নামে কাগজপত্র রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তারা প্রায় ১৫ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও হঠাৎ করে এমন সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেকেই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে ⚖️

 

May 03, 2026

বাগেরহাটে মন্দিরের বারান্দা থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

 

বাগেরহাটের Fakirhat Upazila উপজেলার বেতাগা বাজারের কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরের বারান্দা থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মন্দির প্রাঙ্গণে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত নারীটি গত তিন থেকে চার দিন ধরে বেতাগা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এর আগে তাকে উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকাতেও দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা তাকে মন্দিরের বারান্দায় আশ্রয় দেন। সেখানে একটি সিমেন্টের বস্তার ওপর মাথা রেখে তাকে শুইয়ে রাখা হয়, যাতে তিনি বিশ্রাম নিতে পারেন। তবে শুক্রবার সকালে গিয়ে তারা দেখেন, নারীটি আর সাড়া দিচ্ছেন না। পরে কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন যে তিনি মারা গেছেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে Fakirhat Model Police Station–এর একটি দল। তারা ঘটনাস্থল ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য Bagerhat Sadar Hospital–এর মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Saiful Islam জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নারীটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আশপাশের থানাগুলোতেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে কেউ নিখোঁজ ডায়েরি করে থাকলে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা পরিচয় শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মানবিক সহায়তা দেওয়ার পরও এমন একটি মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে ভবঘুরে ও মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ তাদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনও সীমিত।
সার্বিকভাবে, ঘটনাটি শুধু একটি অজ্ঞাত মৃত্যুর তদন্তই নয়, বরং সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও সামনে তুলে ধরছে—মানসিক স্বাস্থ্য ও আশ্রয়হীন মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ কতটা কার্যকর, তা নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

Saturday, May 2, 2026

May 02, 2026

“সবার আগে মানুষ”—রামকৃষ্ণ মিশনের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পরিচয়ই সবচেয়ে বড়—এমন বার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী Ishraq Hossain। তিনি বলেন, “সবার আগে আমরা মানুষ, এরপর বাঙালি—এটাই আমাদের প্রধান পরিচয়।”
শুক্রবার ঢাকার Ramakrishna Mission–এর ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনটি উপলক্ষে পূজা, প্রার্থনা এবং আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন Swami Purnatmananda, যিনি Ramakrishna Math ও মিশনের অধ্যক্ষ ও সম্পাদক। তিনি বলেন, এই মিশনের দর্শন হলো—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঈশ্বরের রূপে দেখা এবং মানবসেবাকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা।
প্রতিমন্ত্রী Ishraq Hossain তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোনো ধর্মের ওপর আঘাত এলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন Soumendra Sarkar। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন Anne Mary Georgeসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় নেতারা।
সার্বিকভাবে, অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং মানবতার মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা হয় 🤝

 

May 02, 2026

৬০ সেকেন্ডের রহস্য: প্রাচীন ব্যাবিলন থেকে আধুনিক সময় গণনার গল্প

ঘড়ির কাঁটার এই পরিচিত হিসাব—৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা—আসলে মানব সভ্যতার হাজার বছরের পুরোনো এক বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকার। এর সূচনা হয়েছিল প্রাচীন Babylon-এ, যা বর্তমান Iraq-এর টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
প্রায় ২৫০০ থেকে ৪০০০ বছর আগে, ব্যাবিলনীয়রা শুধু সময় গণনাই করেনি, তারা গড়ে তুলেছিল বিজ্ঞানের প্রাথমিক কাঠামো। তখন কোনো ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার ছিল না—বিশাল আকাশই ছিল তাদের সময় মাপার যন্ত্র। চাঁদের পরিবর্তন দেখে মাস, সূর্যের গতিপথ দেখে বছর নির্ধারণ করত তারা।
কিন্তু তাদের আগ্রহ এখানেই থেমে থাকেনি। আকাশের অদ্ভুত আচরণ—গ্রহের হঠাৎ গতি পরিবর্তন (যাকে আজ আমরা Retrograde Motion বলি), কিংবা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ—এসব তাদের কৌতূহলী করে তোলে। তারা বিশ্বাস করত, এসব মহাজাগতিক ঘটনা পৃথিবীর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো সংরক্ষণের জন্য তারা কিউনিফর্ম লিপিতে কাদা ফলকে তথ্য লিখে রাখত। তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ Enuma Anu Enlil এবং Mul.Apin-এ আকাশ পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা টানা প্রায় ৭০০ বছর ধরে আকাশের গতিবিধি, আবহাওয়া, এমনকি শস্যের দাম পর্যন্ত নথিভুক্ত করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে তারা গাণিতিক হিসাব ব্যবহার করে ভবিষ্যতের গ্রহণ বা গ্রহের অবস্থান নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারত।
এখানেই আসে তাদের সবচেয়ে বড় অবদান—৬০-ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি। আমরা আজ যেভাবে সময় ভাগ করি, সেটি এই পদ্ধতিরই ফল। কেন ৬০? কারণ ৬০ একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক সংখ্যা—এটি ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি অনেক সংখ্যায় ভাগ করা যায়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণনায় সহজতা এনে দেয়।
পরবর্তীতে গ্রিক জ্যোতির্বিদরা এই জ্ঞান ব্যবহার করে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলেন। এমনকি আজকের NASA-এর গ্রহণ সংক্রান্ত হিসাবেও সেই প্রাচীন ব্যাবিলনীয় জ্ঞানের ছাপ পাওয়া যায়।
সংক্ষেপে বললে, আমাদের প্রতিদিনের ঘড়ির সময় শুধু একটি অভ্যাস নয়—এটি হাজার বছরের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, গণিত এবং মানব মেধার এক অনন্য উত্তরাধিকার।
May 02, 2026

ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট Donald Trump, সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও Iran–এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম The Guardian–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প জানিয়েছেন বর্তমানে আলোচনা চললেও তা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার ভাষায়, সামনে দুটি পথ খোলা—একটি হলো সামরিক শক্তি প্রয়োগ, অন্যটি একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবের কোন কোন দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেন, “তারা এমন কিছু দাবি করছে, যা আমার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।” পাশাপাশি ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন প্রস্তাবটি Pakistan–এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইসলামাবাদ এটিকে তাদের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক অচলাবস্থার কারণে তাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে Strait of Hormuz–কে ঘিরে উত্তেজনা। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর। ট্রাম্প মনে করেন, অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো, যেমন Pakistan, ইতোমধ্যেই জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে গিয়ে যদি কোনো কোম্পানি ইরানকে অর্থ প্রদান করে, তবে তারা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এমনকি মানবিক সংস্থায় অনুদান দিলেও ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সমঝোতার পথ জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে 🌍⚠️

 

May 02, 2026

অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক উদ্যোগ, ফটিকছড়িতে নতুন গৃহ হস্তান্তর

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সনাতনী মুচকি হাসি পরিবার’। উপজেলার বারমাসিয়া দক্ষিণ হিন্দুপাড়ায় সংগঠনটির অর্থায়নে নির্মিত একটি নতুন গৃহের উদ্বোধন ও গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় স্বর্গীয় পরিতোষ দে’র পরিবারের জন্য নির্মিত নিরাপদ এই আবাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে থাকা পরিবারটির জন্য এই গৃহ নির্মাণ যেন নতুন জীবনের সূচনা হয়ে এসেছে।
নবনির্মিত গৃহের উদ্বোধন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক রোটানিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত থেকে মাঙ্গলিক প্রার্থনা ও আশীর্বাদ প্রদান করেন ফটিকছড়ি কেন্দ্রীয় লোকনাথ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রী শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সনাতন সেবা সংঘের সভাপতি ডা. মিল্টন দে ছোটন, সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক বাবলা কুমার দে এবং সংগঠনের সদস্য মিথুন ধর ও সুব্রত দে শুভ। শ্রী অন্তু দাশগুপ্তের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন সদস্য ও সংগঠকরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। একটি গৃহহীন পরিবারকে স্থায়ী আবাসন উপহার দিতে পেরে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিবৃন্দ উপকারভোগী পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন। নতুন এই গৃহ পেয়ে পরিবারটির সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
এই উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অন্যদেরও এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
May 02, 2026

জয়পুরহাটে রাতের আঁধারে সড়ক কেটে বিচ্ছিন্ন গ্রাম, মন্দিরগামী পথ বন্ধ—চরম ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের বেলআমলা এলাকায় এক অভাবনীয় ঘটনায় পুরো একটি গ্রাম রাতারাতি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে ফেলায় আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শুধু দৈনন্দিন জীবনই ব্যাহত হয়নি, বন্ধ হয়ে গেছে প্রাচীন শিব মন্দিরে যাতায়াতের পথও। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর ধরে এই সড়কটি ব্যবহার করে আসছিলেন বেলআমলা এলাকার আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। এটি ছিল তাদের বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্রসহ বাইরের জগতের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ। একই সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থিত একটি প্রাচীন শিবালয় মন্দিরে পূজা-অর্চনার জন্যও এই পথটিই ছিল একমাত্র ভরসা।
অভিযোগ উঠেছে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আশরাফুল ইসলাম সাগর রাতের অন্ধকারে সড়কের একটি অংশ কেটে নিজের জমির সঙ্গে একীভূত করে ফেলেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে গ্রামবাসীরা দেখেন, তাদের চেনা পথটি আর নেই—একটি কাটা অংশ পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা থামিয়ে দিয়েছে।
শিব মন্দিরের সেবায়েত ললিত মোর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। মন্দিরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
অন্যদিকে আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা দিলিপ কর্মকার, শ্যামল কর্মকারসহ আরও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এই রাস্তা আমাদের জীবনরেখা। হঠাৎ করে এটি কেটে দেওয়ায় আমরা যেন বন্দি হয়ে পড়েছি। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে পারছি না।”
ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি পুনরুদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে—কবে এই অবরুদ্ধ গ্রাম আবার স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরে পাবে এবং মন্দিরমুখী পথ পুনরায় উন্মুক্ত হবে।


 

"
"