কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, June 19, 2026

June 19, 2026

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ঐতিহাসিক রাকূটের তীর্থধাম সংস্কার কাজে অর্থ দান করেছে ৭ বছরের শিশু ফাল্গুনী

কক্সবাজারের রামুতে খেলনা বা চকলেটের বায়না না ধরে স্কুল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ঐতিহাসিক রামকূট তীর্থধামের সংস্কার কাজে অর্থ দান করেছে ৭ বছরের শিশু ফাল্গুনী পাল। তার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভক্তি আজ সমাজকে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা ও ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।

কক্সবাজারের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থভূমি শ্রীশ্রী রামকূট তীর্থধামের সন্ন্যাসী পুকুরে ঘাট ও সিঁড়ি নির্মাণের মহৎ উদ্দেশ্যে নিজের স্কুল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অনুদান দিয়ে এক অনন্য ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মাত্র সাত বছর বয়সী শিশু ফাল্গুনী পাল। কক্সবাজার জেলার রামু রাজারকুলের দেয়াং পাড়ার বাসিন্দা শ্রী বিকাশ পালের অবুঝ কন্যা ফাল্গুনীর এই দান আমাদের সনাতনী সমাজের ঘুমন্ত বিবেককে একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন করে জাগ্রত করেছে। বড় মনের মানুষ গড়তে হলে যে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হয়, ছোট্ট ফাল্গুনী আজ তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

যে বয়সে সাধারণ শিশুরা খেলনা, চকলেট কিংবা আইসক্রিম কেনার জন্য বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরে, সেই বয়সে ছোট্ট ফাল্গুনীর কচি মনে ঈশ্বরের তীর্থভূমি সংস্কারের এই ব্যাকুল চিন্তা আজ সমাজকে এক বড় বার্তা দেয়। সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান আর ভক্তি থেকেই সে তার জমানো ৫০০ টাকা তীর্থধামের উন্নয়ন ফান্ডে পাঠিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে টাকার অংকটি ছোট মনে হলেও, ফাল্গুনীর এই পবিত্র ও নিঃস্বার্থ ত্যাগ আজ অনেক বড় বড় সামর্থ্যবান মানুষের লক্ষ টাকার দানকেও এক অনন্য উচ্চতায় হার মানিয়েছে। সমাজে যেখানে বিত্তবানদের মধ্যেও ত্যাগের মানসিকতার অভাব দেখা যায়, সেখানে এই ছোট্ট শিশুর অন্তরের বিশালতা আমাদের চোখে জল এনে দেয়।

ফাল্গুনী পালের এই মহৎ উদ্যোগ আজ সমগ্র সনাতনী সমাজ তথা মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে নিজের আত্মার কাছে প্রশ্ন করার এক সুযোগ করে দিয়েছে। মাত্র সাত বছরের একটি শিশু যদি তার প্রতিদিনের টিফিনের ৫-১০ টাকা জমিয়ে ঐতিহাসিক সনাতনী ঐতিহ্য ও তীর্থভূমির উন্নয়নে এভাবে এগিয়ে আসতে পারে, তবে সামর্থ্যবান হয়েও কেন আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয়গুলোর সুরক্ষায় উদাসীন থাকব? এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা কোনো বয়সের ফ্রেমে বাঁধা থাকে না। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ফাল্গুনীর এই ত্যাগ এক বিরাট শিক্ষা। এই অনন্য সাধারণ কাজের জন্য ফাল্গুনী পালের প্রতি রইল অফুরন্ত শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও আর্শীবাদ। 

June 19, 2026

পটিয়ায় গভীর রাতে হিন্দু যুবককে কুপিয়ে ক্যামেরা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই

চট্টগ্রাম শহর থেকে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন রনি দাশ (২৯) নামে এক হিন্দু যুবক ও পেশাদার ফটোগ্রাফার। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি তার মোটরসাইকেল, ক্যামেরা এবং অন্যান্য মূল্যবান ফটোগ্রাফি সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৭ জুন) গভীর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার নিমতল দরগাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত রনি দাশ চন্দনাইশ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কিরন ড্রাইভারের বাড়ির বাসিন্দা এবং বিজন দাশের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার ফটোগ্রাফি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম শহরে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কভার করার পর মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন রনি। পথিমধ্যে পটিয়ার নিমতল দরগাহ এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এরপর তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার কাছে থাকা মোটরসাইকেল, পেশাদার ক্যামেরা, লেন্সসহ অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

রনির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মহাসড়কে রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সিসিটিভি ফুটেজ

ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। রনি দাশের পরিবার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। 

June 19, 2026

শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব উদযাপন উপলক্ষে খুলনা মহানগর পূজা পরিষদের বিশেষ বর্ধিত সভা


শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার এক বিশেষ বর্ধিত সভা ১৯ জুন ’২৬ শুক্রবার বেলা ১১টায় জোড়াগেটস্থ প্রেমকানন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগর পূজা পরিষদ, থানা কমিটি, আয়োজক কমিটি, বিভিন্ন মন্দির কমিটি ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ১৬ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পরিচালনায় এবং শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ মন্দির, টুটপাড়া গাছতলা মন্দির ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) খুলনার আয়োজনে স্যার ইকবাল রোডস্থ গোলকমণি শিশু পার্কে বিকেল ৩টায় মহাধুমধামে উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে রথের দড়ি টেনে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেমকাননে অঙ্গণে প্রবেশ করবে এবং তথায় ৯ দিন ব্যাপী অবস্থান করবে। প্রতিদিন নিত্যপজা, ভোগরাগ, সন্ধ্যারতি, ধর্মীয় আলোচনা, গীতিনাট্য, নামসংকীর্তন, প্রসাদ বিতরণ ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ জুলাই শুক্রবার উল্টোরথযাত্রা উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে প্রেমকানন হতে রথ স্ব-স্ব মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করবে। সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক তারক চাঁদ ঢালীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কর কমিশনার (অব.) প্রশান্ত কুমার রায়। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইসকন খুলনার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. তপচৈতন্য দাস ব্রহ্মচারী ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন এস্টেট অব শ্রীসত্যনারায়ণ মন্দিরের ট্রাস্টি শরৎ কুমার মুন্ধড়া, ইসকন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি ও শ্রীশ্রীরাধামাধব মন্দিরের অধ্যক্ষ গৌড়েশ্বর নিমাই দাস ব্রহ্মচারী, টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু ম-ল, সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল দাস, সমরেশ সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু, কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, মহানগর সম্পাদকম-লীর সদস্য শ্যামাপ্রসাদ কর্মকার, বাবলু বিশ্বাস, তাপস সাহা, সনজীব দাস, শান্ত বৈকু- দাস, বৈষ্ণব বলরাম দাস, সাংবাদিক বিমল সাহা, অভিজিৎ পাল, অ্যাড. বীরেন্দ্র নাথ সাহা, অ্যাড. বিজন কৃষ্ণ ম-ল, অ্যাড. কমলেশ কুমার সানা, অ্যাড. আনন্দ কুমার ঘোষ, প্রদীপ সাহা মদন, তরুণ রায় শিবু, অভিজিৎ দাস লভি, দীপক দত্ত, কণিকা সাহা, ভবেশ সাহা, সুজিত মজুমদার, দেবদাস ম-ল, সমর চন্দ্র রায়, সুশান্ত ব্যানার্জী, শঙ্কর পোদ্দার, শক্তিপদ দাস শর্মা, রূপন দে, বাবু শীল, ডা. পরিতোষ রায়চৌধুরী, অঞ্জন দে, কমলেশ সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিখিল বিশ্বাস, ভোলানাথ দত্ত, উজ্জ্বল গাঙ্গুলী, বিদ্যুৎ দাস, অনিমেষ নন্দী, সুরেশ চক্রবর্ত্তী, শম্ভুনাথ চক্রবর্ত্তী, অলোক দে, রাজকুমার হেলা, সুশীল দাস, অশোক সেন, সত্যরঞ্জন পোদ্দার, কালিপদ কু-ু, অসিত চক্রবর্ত্তী, অম্লান সরদার, রথীন্দ্র নাথ সরকার বাপ্পী, দেবীপ্রসাদ ঘোষ, নীলকান্ত দত্ত, বাবুল দেবনাথ, স্বপন চক্রবর্ত্তী, অনিল কৃষ্ণ মজুমদার, পরিতোষ হালদার, অশোক ঘোষ, কার্তিক সাহা, মিণ্টু সাহা, দেবাশিষ দাস, সঞ্জয় সরকার, প্রবীর ম-ল, অনিন্দ্য সাহা, অসিত বিশ্বাস, অজয় বকসি, অশোক দাস, দেবকুমার হালদার, সুমন বিশ্বাস, মানিক কু-ু, সুব্রত সরকার, দিলীপ সাহা, লিটন ম-ল, কুমার লাল, সদর থানা সভাপতি বিকাশ সাহা মদন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সরকার, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি বিপ্লব মিত্র, সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র পোদ্দার, দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ অধিকারী, খালিশপুর থানা সভাপতি রজত কান্তি দাস, সাধারণ সম্পাদক দীপক দত্ত, খানজাহান আলী থানা সাধারণ সম্পাদক সুভাষ দত্ত, লবণচরা থানা সভাপতি ডাঃ শেখর পাল, হরিণটানা থানা সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন রায়, আড়ংঘাটা থানা আহ্বায়ক আশিষ কবিরাজ, মন্দির কমিটির সমীর কুমার সাহা, অজয় দে, সমীর রঞ্জন দাস,ৃ পরিমল দাস, সঞ্জীত বণিক, নিতাই সরদার, দিপু, তপু দাস, রতন বণিক, লিটন চক্রবর্ত্তী, পলাশ হালদার, তাপস তালুকদার, দিব্য সাহা, মিমু দাস প্রমুখ।


 

June 19, 2026

রাজশাহীর পুঠিয়ায় আদিবাসীদের ওপর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আদিবাসীদের বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একদল লোক তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রাসন্তি ও কাকলি বলেন, "আমাদের কাছে জমি কেনার বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও ওরা বারবার আমাদের উচ্ছেদ করতে আসে। শুক্রবার বসার দিন থাকলেও তারা না বসে বাড়ি ভাঙচুর করে সব লুট করে নিয়ে যায়। আমরা ন্যায়বিচার চাই।" প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, তিনি ও তার মেয়ে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা কোনো কথা না বলেই হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, "হামলা শুরু হলে আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, বরং কোর্টে যেতে বলছে।"
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়ার ধোগ্রাকুল মৌজায় ৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে এ বিরোধ। ভুক্তভোগী সেলিনা সরকার জানান, তার দাদা ও পরবর্তীতে তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এ জমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি বিবাদীরা পূর্বপুরুষদের বিক্রি করা জমি নিজেদের দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করে। গত ১২ জুন তারা সংঘবদ্ধভাবে বাড়ি ভাঙচুর করে নগদ এক লাখ টাকা ও আট আনা স্বর্ণের গহনা লুট করে। বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তফা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তার স্ত্রী বাড়ি ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, "বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লেগেছে। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করবো এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।" স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের আশা করছে।
June 19, 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭০ বছরের দাম্পত্যের অনন্য পরিসমাপ্তি, স্বামীর মৃত্যুর এক ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় দীর্ঘ সত্তর বছরের দাম্পত্য জীবনের এক হৃদয়স্পর্শী পরিসমাপ্তি ঘটেছে। ৯০ বছর বয়সী স্বামী নগেন চন্দ্রের মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা পর শোকে মুহ্যমান হয়ে মারা গেছেন তার ৭৮ বছর বয়সী স্ত্রী সিনজো বালা। আজ সকালে উপজেলার ধর্মগড় পোড়াবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্র জানায়, নগেন চন্দ্র বেশ কয়েক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। আজ ভোর ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্বামীর মৃত্যু দেখার পর সিনজো বালা বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন এবং ভোর ৬টার দিকে তিনিও মারা যান। তাদের দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাত দশকের বিবাহিত জীবনে এই দম্পতিকে কখনো ঝগড়া করতে দেখেননি তারা, ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। এক গ্রামবাসীর ভাষায়, "জীবনে যেমন এক ছিলেন, মৃত্যুতেও তেমনই এক হলেন।" আজ বিকেলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নাগর নদীর একটি চরে একসঙ্গে তাদের দাহ করা হয়। এ সময় আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের বিদায় জানান। এই ব্যতিক্রমী সহমরণের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
June 19, 2026

ফরিদপুরের মধুখালীতে দুই দিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় একই এলাকায় দুই দিনের ব্যবধানে দুটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে দুর্বৃত্তরা শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে। এর আগে সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের বামুন্দী বাজারের একটি মন্দিরেও প্রতিমা ভাঙচুর হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় শতবর্ষী বামুন্দী কালী মন্দিরের সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা। দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাঁশ বা লাঠি ঢুকিয়ে ভেতরের শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে। বৃহস্পতিবার ভোরে পূজা দিতে এসে পূজারী বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বিষয়টি প্রথম দেখতে পান। খবর পেয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তবে এর আগে সোমবার রাতে বাজার মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের পরও কোনো মামলা হয়নি। বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী বলেন, "কারা ঘটনা ঘটিয়েছে জানি না, তাই মামলা করিনি।"
এদিকে পরপর দুইটি মন্দিরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সোমবারের ঘটনায় খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি শুকদেব রায় বিষয়টি চেপে যেতে এবং বিতর্ক এড়াতে দ্রুত ভাঙা প্রতিমা বিসর্জনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে ওসি শুকদেব রায় এ অভিযোগ বিস্ময়ের সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, "আমি ঘটনা চেপে যেতে বলব কেন? বাজার মন্দিরের ঘটনায় এখনো মামলার সুযোগ আছে। আর কালী মন্দিরের ঘটনায় আমরা তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।" এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

Thursday, June 18, 2026

June 18, 2026

উখিয়ার কুতুপালংয়ে ৩২০ হিন্দু রোহিঙ্গা পরিবারের ত্রাণ বন্ধের অভিযোগ, চার মাস ধরে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকায় বসবাসরত ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩২০টি হিন্দু রোহিঙ্গা পরিবার গত চার মাস ধরে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৬ সালে এসে তাদের নাম খাদ্য সহায়তার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে এসব পরিবার ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থী আসিস শীল ও সুশুধন ধর অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস ধরে তারা কোনো ধরনের খাদ্যসামগ্রী বা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি বলে তাদের অভিযোগ।
একই অভিযোগ করেন উখিয়ার কুতুপালং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল শর্মাও। তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) শরিফুল ইসলামের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সহায়তা পুনরায় নিশ্চিত করবে।
June 18, 2026

দিনাজপুরের আমবাগান থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত চলছে

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি আমবাগান থেকে রুপালি রাণী (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের পাঁচগাছি উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গ্রামের অরুণ সরকারের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সেকেন্দার হাজির আমবাগানে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ-বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেছ উদ্দিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস এবং তদন্ত কর্মকর্তা শামিম আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
এএসপি হারেছ উদ্দিন জানান, "মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে। রিপোর্ট ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।" ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
June 18, 2026

খুলনায় কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

খুলনায় গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে ভুক্তভোগীর মা নরসিংদী থেকে খুলনায় এসে থানায় মামলা করেন। নির্যাতনের শিকার কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্ত্রী পপি মিত্র ওই কিশোরীর মুখমণ্ডল ও শরীরে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেন। যন্ত্রণায় মেয়েটি মুখ ফেরানোর চেষ্টা করলে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় বলেও জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী প্রায়ই গৃহকর্মীটির ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন। ভুক্তভোগীর শরীরে পুরোনো আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। ঘটনার সময় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কিশোরীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়, পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
June 18, 2026

রামমূর্তি নির্মাণে বাধার প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ, দ্রুত বিচার ও সংখ্যালঘু কমিশনের দাবি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিমা নির্মাণে বাধা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শহিদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বক্তারা পলাশবাড়ীর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
সমাবেশ থেকে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সংখ্যালঘুদের জীবন-সম্পদ-উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং সকল ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের জোর দাবি তোলেন বক্তারা। তাদের মতে, এ কমিশন অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার ও অধিকার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উসকানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।
"
"