কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, August 1, 2026

August 01, 2026

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সারের যুগান্তকারী ইনজেকশন: মাত্র সাত মিনিটে চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ভারতে। ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাজারে এসেছে মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য এক যুগান্তকারী ইনজেকশন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি রোশ ফার্মা তৈরি করা ‘ডিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি ক্যান্সারের প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিরাচরিত নিয়মে ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিতে রোগীদের হাসপাতালের বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকতে হতো। স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনে ওষুধ দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া রোগীদের যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করতো, তেমনি হাসপাতালের উপর তৈরি করতো বাড়তি চাপ। তবে নতুন এই উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এটি সরাসরি রোগীর ত্বকের নিচে সাবকিউটেনিয়াস পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই নতুন ইনজেকশনে 'এটিজলিজুম্যাব' নামের একটি বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত মানবদেহের পিডিএল-ওয়ান নামক একটি প্রোটিনকে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে কাজ করে। সাধারণ অবস্থায় ক্যান্সার কোষগুলো এই প্রোটিনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম তাদের খুঁজে পায় না। নতুন এই ইনজেকশন প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং তা ধ্বংস করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করে। কারণ কেমোথেরাপি ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও মারাত্মক ক্ষতি করে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে এই ইনজেকশন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং এর ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক অনেক কম। যেসব রোগীর টিউমারে পিডিএল-ওয়ান প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারবেন।

ক্যান্সার জয়ের এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আকাশচুম্বি খরচ। ভারতে এই ইনজেকশনের প্রতি ডোজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা)। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করতে একজন রোগীর অন্তত ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়। ফলে সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামের একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএস-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে এটিকে।

ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম ভোগান্তি এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার সুবিধার কারণে এই ইনজেকশনটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কিংবা বেসরকারি নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে এই জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্যান্সার রোগীদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করা সম্ভব হয়।

August 01, 2026

কক্সবাজারের উখিয়ায় জমি বিরোধের জেরে বৌদ্ধ বিহারে হামলা, মূর্তি ভাঙচুর

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা, বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর এবং চারটি তঞ্চঙ্গা পরিবারের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছেনছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সরদার মং চৌধুরীর অভিযোগ, ২০০৭ সাল থেকে চলমান জমি-বিরোধের জেরে স্থানীয় নুরুল হকের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জনের একটি দল বন বিভাগের উপস্থিতিতে এ হামলা চালায়। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ছেনছড়ি বৌদ্ধ বিহারে ঢুকে অন্তত তিনটি বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করে এবং চারটি তঞ্চঙ্গা পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তিনি জানান, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিহারের ভেতরে কয়েকটি ভাঙা বুদ্ধমূর্তি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তঞ্চঙ্গা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে চাকমা-তঞ্চঙ্গা স্টুডেন্ট কাউন্সিল (উখিয়া-টেকনাফ)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নেপাল চাকমা বলেন, বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কানন বড়ুয়া বিশাল বলেন, কক্সবাজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে জমি-বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত নুরুল হকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শনিবার উখিয়া থানায় মামলা করা হবে।


 

August 01, 2026

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত ৩, পাঁচ জেলায় কারফিউ ও সেনা মোতায়েন


নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারতের সীমান্তঘেঁষা সুনসারি জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে উচ্চশব্দে সঙ্গীত বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শূন্যে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুজন নিহত হন।

পরবর্তীতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন সুনসারিসহ আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারি করে। তবে কারফিউ চলাকালেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ায়।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সুনসারি, সপ্তারি, সিরাহা, ধনুষা ও পারসা জেলায় কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক ভিডিও বার্তায় সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সংঘর্ষের কারণ ও হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। নেপাল সরকার বিষয়টির তদন্ত করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
August 01, 2026

ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে নাঃ তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ কিংবা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, অথবা রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করতে চায়, এ ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের সব বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণ যতদিন তা কল্যাণকর মনে করবে, ততদিন সেই দল বা মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।’

আগের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা বহুদিন নৌকা মার্কায় বা অন্য কোনো মার্কায় ভোট দিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেছেন যে এটা আপনাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের জন্য করা উচিত। তাহলে আপনারা কোনো ভুল করেননি। যেমন গত নির্বাচনে আপনারা নিজেদের প্রয়োজন ও স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।’

বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, বিজয় কৃষ্ণ দে প্রমুখ।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মৃণাল কান্তি সাহা, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক এলবার্ট রিপন বল্লভ ও সদস্যসচিব লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু প্রমুখ।

Friday, July 31, 2026

July 31, 2026

গরমকালে এসি কেনার আগে জেনে নিন: ৩-স্টার নাকি ৫-স্টার, কোনটিতে সাশ্রয়ী?


টেকনোলজি ডেস্ক, ৩১ জুলাই ২০২৬: বাড়ছে তাপমাত্রা, বাড়ছে অস্বস্তি। এখন আর এসি বিলাসিতা নয়—এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন প্রয়োজন। বিশেষ করে শহুরে জীবনে এসি ছাড়া স্বস্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু নতুন এসি কেনার সময় অনেকেরই প্রধান দুশ্চিন্তা—বিদ্যুৎ বিল কত হবে।

বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১.৫ টন এসি নিয়ে বেশিরভাগ ক্রেতাই দ্বিধায় থাকেন—৩-স্টার নাকি ৫-স্টার মডেল নেবেন। যদিও একই ক্ষমতার এসি, তবুও বিদ্যুৎ খরচের পার্থক্য অনেক।

বিদ্যুৎ খরচে যা পার্থক্য

৫-স্টার ১.৫ টন এসি: সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ০.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা চালালে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৪০০-১৬০০ টাকা।

৩-স্টার ১.৫ টন এসি: প্রতি ঘণ্টায় খরচ হয় প্রায় ১.১ ইউনিট। একই ব্যবহারে মাসিক খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০০-২২০০ টাকা।

অর্থাৎ মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে ৫-স্টার এসি ব্যবহারে। যদিও কেনার সময় ৫-স্টার মডেলের দাম কিছুটা বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের সাশ্রয়েই তা পুষিয়ে যায়।

আধুনিক প্রযুক্তি আরও কমায় খরচ

বর্তমানে বাজারে ইনভার্টার ও ডুয়াল ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি জনপ্রিয়। এগুলো ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে। এতে যেমন বিল কমে, তেমনি বাড়ে এসির আয়ুও।

কম খরচে চালাতে পারবেন যেভাবে

শুধু এসির ধরন নয়, ব্যবহারের পদ্ধতিও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ভূমিকা রাখে—

তাপমাত্রা ২৪–২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন

ঘর ঠিকমতো সিল করে রাখুন

নিয়মিত এসি সার্ভিস করান

প্রয়োজন ছাড়া এসি চালাবেন না

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি কেনার সময় একটু বেশি খরচ করেও ৫-স্টার মডেল কেনাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক, বিশেষত যারা দীর্ঘ সময় এসি চালান।


 

July 31, 2026

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রানজেনডার নারী তাননোভা আনান শিশিরের হিন্দু রীতিতে বিয়ে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা


ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আলোচিত প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হওয়া বিবাহ হিসেবে উল্লেখ করলেও, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা তালিকা পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তাসনুভা আনান শিশির জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচিত করেন। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশ্যে পরিচিত ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পুরুষকে হিন্দু রীতিতে বিবাহ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সিঁথিতে সিঁদুর ও হাতে শাঁখা পরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই অনুষ্ঠান ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজের একাংশ এটিকে ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, অনেকে হিন্দু শাস্ত্র, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রচলিত বিবাহবিধির আলোকে প্রশ্ন তুলেছেন।

সনাতন ধর্মে বিবাহকে পবিত্র সংস্কার মনে করা হয়। তবে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বিবাহ সম্পর্কে বেদ, উপনিষদ বা স্মৃতিশাস্ত্রে সুস্পষ্ট ও সর্বসম্মত কোনো বিধান নেই—এমনটাই জানাচ্ছেন ধর্মীয় পণ্ডিতরা। একারণে বিষয়টিকে নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়ে আচার্য, পুরোহিত ও পণ্ডিতদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কেউ শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী নারী-পুরুষের বিবাহকেই স্বীকৃত মনে করেন, আবার কেউ কেউ মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

July 31, 2026

সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকল দুর্বৃত্তরা, সকালে মিলল হিন্দু স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ


পাবনা, ৩১ জুলাই ২০২৬: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় গীতা রানী (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত গীতা রানী উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন; তার স্বামী ঢাকায় কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘরের সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় গীতা রানী টের পেলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্থানীয়রা টয়লেটের ট্যাংকিতে তার মরদেহ দেখতে পেলে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ‘কে বা কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

Thursday, July 30, 2026

July 30, 2026

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ, হিন্দু পরিবারগুলোর চরম দুর্ভোগ


কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের চলাচলের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ শিকদারের বিরুদ্ধে। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্কুলে যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমের কাছে এ অভিযোগ করেন ভজন চন্দ্র শীল। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক বাঁশের খুঁটি পুঁতে লম্বা বাঁশ, দড়ি ও পেরেক ব্যবহার করে চলাচলের রাস্তাটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তারা।

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



 

July 30, 2026

অবসরে যাওয়ার দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার।


সিলেটে নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক সাবেক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যে রাতে নগরীর বাগবাড়ির নরসিংটিলা এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মাদ মাঈনুল জাকির।
নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মনোজ কান্তি দাস (৫৫)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন তিনি। আগামী ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মনোজ কান্তি দাসের স্ত্রী মারা যান। এরপর বর্তমানে মনোজ কান্তি দাস বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার বাসায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। বাসাটির নিচতলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়েরা থাকলেও দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন মনোজ কান্তি দাস।

সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে রাতে বাসায় ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রাতে স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের মেঝেতে মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির কালবেলাকে বলেন, বাগবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে এক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
July 30, 2026

বিরিয়ানির উৎপত্তি কোন দেশে? ইতিহাস বলছে ভিন্ন চমকপ্রদ তথ্য

বিরিয়ানির উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদ ও খাদ্য গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল ও নানা মতভেদ রয়েছে। উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই খাবারটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা—এটি ভারতীয় খাবার। কিন্তু ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব এবং রান্নার কৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিরিয়ানির উৎপত্তি ও বিবর্তন অনেক বেশি জটিল ও বৈশ্বিক।

‘বিরিয়ানি’ শব্দটির উৎপত্তি ফারসি ‘বিরিঞ্জ বিরিয়ান’ থেকে, যার অর্থ ‘ভাজা চাল’। নাম থেকেই স্পষ্ট, এই খাবারের শেকড় ভারতীয় উপমহাদেশের চেয়েও প্রাচীন ও পারস্য-অধ্যুষিত অঞ্চলে। প্রাচীন পারস্যের সফাবিদ ও তিমুরিদ রাজাদের দরবারে চাল ভেজে তার সঙ্গে মাংস, শুকনো ফল, বাদাম ও জাফরানের সমন্বয়ে এক ধরনের রাজকীয় পদ তৈরি হতো, যা বর্তমান বিরিয়ানির আদি সংস্করণ। ধীর লুনের ‘দম’ পদ্ধতিতে রান্না করা হতো এটি, যা পরবর্তীকালে উপমহাদেশে বিরিয়ানির প্রধান রান্নাকৌশলে পরিণত হয়।

পারস্য থেকে এই খাবারটি সিল্ক রোড ধরে আফগানিস্তানের হেরাত ও কাবুলে পৌঁছায়। সেখানে এটি আরও সমৃদ্ধ হয় ও ‘কাবুলি পোলাও’ নামে পরিচিতি পায়, যাতে মাংসের সঙ্গে গাজর, কিশমিশ ও এলাচ যুক্ত করা হতো। মুঘলরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসে, তখন তারা এই রান্নার কৌশল ও উপাদান নিজেদের সঙ্গে নিয়ে আসে। ভারতে স্থানীয় বাসমতি চাল, সুগন্ধি মশলা ও স্বাদকে সঙ্গে নিয়ে বিরিয়ানি তার বর্তমান স্বাদ ও বৈচিত্র্য লাভ করে। বিশেষ করে ১৮শ শতকের দিকে লখনউ, দিল্লি ও হায়দ্রাবাদের রাজকীয় হেঁশেলে বিরিয়ানি একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিশীলিত খাবারের মর্যাদা পায়।

তবে ভারতের নিজস্ব দাবিও উল্লেখ করার মতো। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে তামিলনাড়ু অঞ্চলে ‘ওন সোরু’ নামে মাংস ও চালের একটি পদ প্রচলিত ছিল, যা অনেকের মতে বিরিয়ানির আদি রূপ। যদিও এর ঐতিহাসিক প্রমাণ সীমিত, তবু এটি প্রমাণ করে যে, মাংস-চালের সংমিশ্রণের ধারণা ভারতীয় উপমহাদেশেও খুব প্রাচীন।

বিরিয়ানির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, যা স্পষ্ট তা হলো—এটি কোনো একক দেশের আবিষ্কার নয়। এটি পারস্যের রান্নাকৌশল, আফগানিস্তানের উপকরণ ও ভারতীয় মশলার এক অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তর্জাতিক খাবার। ভারতীয় উপমহাদেশে তা প্রাণ পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে এটি স্বীকৃত ও সমাদৃত।

বিরিয়ানি শুধু খাবার নয়—এটি সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ, ইতিহাস, অভিবাসন ও ব্যবসাবাণিজ্যের বহমান ধারার প্রতিফলন। এর প্রতিটি স্তর, প্রতিটি মশলার গন্ধ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে খাদ্য কীভাবে মানুষকে এক করে এবং ইতিহাসের স্বাদ দিয়ে যায়।


 

"
"