Wednesday, July 1, 2026
লালমনিরহাটে কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে কিশোরী নিখোঁজ
বিধর্মী যুবকের সাথে সম্পর্কের করুণ পরিণতি হিন্দু তরুনী নন্দিনীর আত্মহত্যা
Tuesday, June 30, 2026
রথযাত্রা উপলক্ষে খুলনায় নিরাপত্তা জোরদারে কেএমপির মতবিনিময় সভা
আসন্ন শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় কেএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম (সেবা)।
সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, খুলনা নগরীর সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী এবং হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন কেএমপির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি জানান, রথযাত্রাসহ সব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা গোপী কিষাণ মুন্ধরা, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, সহ-সভাপতি অধ্যাপক তারক চাঁদ ঢালী, যুগ্ম সম্পাদক তিলক গোস্বামী ও বিশ্বজিৎ দে মিঠুসহ বিভিন্ন থানা ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা রথযাত্রা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নারায়ণগঞ্জে হিন্দু পরিবারের বাড়িতে ঢিল নিক্ষেপের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় একটি হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দির লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী রঞ্জিত চন্দ্র দাস জানান, তাদের পরিবার প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া বসতভিটা ও পুকুরের জমি নিয়ে আদালতের রায় তাদের পক্ষে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কয়েক মাস আগে আদালতের রায়ের তথ্যসংবলিত একটি সাইনবোর্ডও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা খুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ জুন রাত ১০টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি পাশের মাঠের দিক থেকে তাদের বাড়ি ও মন্দিরের বাউন্ডারি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী জানান, কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে বিদ্যালয়ের গেট খুলতে চাপ দিয়েছিল এবং না খুললে তালা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে। বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।
এ বিষয়ে সিকদার আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ আলী বলেন, বিদ্যালয়, মসজিদ ও হিন্দু পরিবারের বসতভিটা দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পাশাপাশি রয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, রাতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম না থাকায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং প্রশাসনের কাছে জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ময়মনসিংহে তালা ভেঙে মন্দিরে ভাঙচুর, কালী-লক্ষ্মী প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের পাঁচ কাহনিয়া গ্রামের দত্তবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৭ বছর ধরে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা মন্দিরটিতে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছেন। মঙ্গলবার সকালে এক ব্যক্তি প্রথমে বাঁশ এবং পরে ইট ব্যবহার করে মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি মন্দিরে থাকা কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মন্দিরে জড়ো হন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)



.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)