কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, August 6, 2026

August 06, 2026

খুলনার পাইকগাছায় শতবর্ষের চলাচলের পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ, তিন পরিবার অবরুদ্ধ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোষাল গ্রামে প্রায় শত বছর ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পথটি নিজেদের জমির অংশ দাবি করে বেড়া দেওয়ায় তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটিও বাড়িতে নিতে পারছেন না তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই পথ দিয়ে ঘোষাল গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি, বিষ্ণপদ মিস্ত্রি ও অসীমা মিস্ত্রিসহ স্থানীয় লোকজন প্রায় ১০০ বছর ধরে চলাচল করে আসছিলেন। সম্প্রতি চেঁচুয়া গ্রামের মোক্তার দপ্তরি পথটির পাশের ৮ শতক জমি খরিদ করেন এবং গত ২৩ জুলাই ওই জমির অংশ দাবি করে পথে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন।

ভুক্তভোগী বিষ্ণুপদ মিস্ত্রি জানান, এই পথেই তাদের পরিবারের লোকজন শত বছর ধরে যাতায়াত করছেন। বেড়া দেওয়ার পর তারা বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেন না, আবার ভ্যান নিয়ে বাড়িতেও ঢুকতে পারছেন না। ভ্যান চালিয়েই তাদের সংসার চলে—পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অপর ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি বলেন, পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তার কারণে তার একজনের বিয়েও ভেঙে গেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, পথের মালিকানা নিয়ে মোক্তার দপ্তরি বলেন, ‘আমার খরিদ করা জমিতে পথ থাকবে—এটা হবে না। পথ নিতে গেলে পথের সমান জমি দিতে হবে।’

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আবু হাসান বলেন, তিনি মোক্তার দপ্তরিকে পথ উন্মুক্ত করতে বললেও তিনি এখনো তা করেননি। তিনি কোনো আইন মানছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ সুপারের দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান জানান, ইউএনও গত ২৯ জুলাই অভিযোগটি গ্রাম আদালতে প্রেরণ করেছেন। মোক্তার দপ্তরিকে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি। আগামী রোববার সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে বিচারের জন্য পাঠিয়েছি। পরবর্তী কার্যক্রম গ্রাম আদালত করবে।’


 

August 06, 2026

সুন্দরবনে দুই মাস প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সুফল: জুলাইয়ে ৮টি বাঘের দেখা, হরিণের বিচরণ বেড়েছে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় দুই মাস বনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার পর ইতিবাচক ফল মিলেছে। গত জুলাই মাসে বনের পাঁচটি এলাকায় ৮টি বাঘের দেখা মিলেছে এবং হরিণও ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা দুই মাস বনে সব ধরনের বনজীবী ও পর্যটকের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রাণীদের বিচরণ ক্ষেত্র বেড়েছে। ২০২৪ সালে বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে ১২৫টি। আগের বছর ২০২৩ সালে বন বিভাগ ও আইইউসিএনের জরিপে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণের তথ্য পাওয়া যায়।

সুন্দরবনে বাঘ সচরাচর দেখা না গেলেও গত জুলাইয়ে বনকর্মীরা পাঁচটি স্থানে ৮টি বাঘ দেখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—১৫ জুলাই বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে সুন্দরবন রেঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বাঘকে নদী পার হতে দেখা যায়। ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ে একটি বাঘ হাঁটতে দেখা যায় এবং ২৬ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্যে আরেকটি বাঘ সাঁতার কেটে নদী পার হয়। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি আন্ধারমানিক ও হাড়বাড়িয়া এলাকায় বনের মধ্যে ক্যামেরা সংযোজন করেছে বন বিভাগ। গত ১৩ জুলাই ক্যামেরা স্থাপনের পর ১৪ ও ২৪ জুলাই সেখানে তিনটি বাঘের দেখা মেলে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, জুন থেকে আগস্ট মাস সুন্দরবনের নদী-খালের মাছের প্রজনন মৌসুম এবং বন্যপ্রাণীদেরও প্রজনন সময়। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ বন্ধ থাকে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনের যে স্থানে হরিণ বেশি, সেখানে বাঘও বেশি। গত এক বছরে ফুট ট্রেইল বাড়ানোয় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মালা ফাঁদই উদ্ধার হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ফুট।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন বন বন্ধ থাকায় ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বনকে বিশ্রাম দিতে হবে। করোনা মহামারির সময় সুন্দরবনসহ সারাবিশ্বে বন্যপ্রাণীর বিচরণ বেড়ে গিয়েছিল। তাই বর্ষাকালসহ নির্দিষ্ট কয়েক মাস বনে মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


 

August 06, 2026

নওগাঁর পত্নীতলায় সীমান্ত থেকে ৯৪ কেজির কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৯৪ দশমিক ৭৫০ কেজি ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। গত ৩ আগস্ট পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর সহকারী পরিচালক মো. হাছানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল এই অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খঞ্জনপুর বিওপির সীমান্তবর্তী মরাডাঙ্গা এলাকার বনবিভাগের পুরাতন আকাশমনি বাগানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মূর্তিটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় মূর্তিটি উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত মূর্তিটি স্থানীয় নজিপুর জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকার এবং পরবর্তীতে ৪ আগস্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পাহাড়পুরের প্রতিনিধি দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তারা মূর্তিটিকে ১১-১২ শতকে ব্যবহৃত উচ্চমানের কষ্টিপাথরের একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেন।

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।


 

Wednesday, August 5, 2026

August 05, 2026

কুড়িগ্রামে সরকারি সুরক্ষার আওতায় থাকা প্রাচীন শিব মন্দিরে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পোড়ামাটির অলঙ্করণ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট শিব মন্দিরটি সরকারি সুরক্ষার আওতায় থাকলেও সংরক্ষণের অভাবে এর অমূল্য পোড়ামাটির শিল্পকর্ম ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (ডিওএ) মন্দিরটিকে সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঘোষণা করলেও মন্দির পরিচালনা কমিটি, তত্ত্বাবধায়ক কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, কোনো সরকারি সাইনবোর্ডও দীর্ঘদিন ধরে স্থাপন করা হয়নি। ফলে সরকারি তত্ত্বাবধান ছাড়াই তারা মন্দিরটি টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বারবার প্লাস্টার, রং ও বিভিন্ন ধরনের মেরামত করেছেন। তবে এসব কাজের ফলে মন্দিরের ঐতিহাসিক পোড়ামাটির নকশা ও অলঙ্করণ ঢেকে গেছে এবং অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতিস্তম্ভে সংস্কার, পরিবর্তন বা মেরামত করা যায় না। অথচ নওডাঙ্গা পরগনার জমিদার বাহাদুর শিবপ্রসাদ বক্সী নির্মিত প্রায় ৩০ ফুট উঁচু এই মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিব উপাসনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন, তাঁরা বহু বছর আগে শুধু শুনেছিলেন যে মন্দিরটি প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার আওতায় আনার একটি প্রস্তাব ছিল, কিন্তু এটি যে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে, তা তাঁরা জানতেন না। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র রায় বলেন, প্রায় এক দশক আগে ডিওএ কর্মকর্তারা মন্দিরটি পরিদর্শন করলেও এরপর আর কমিটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। তিনি বলেন, “আমরা যদি জানতাম এটি একটি সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ, তাহলে আমরা অবশ্যই নিজেদের উদ্যোগে কোনো সংস্কার কাজ হাতে নিতাম না।”

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরে আসা ৮০ বছর বয়সী ভক্ত নির্মল চন্দ্র বর্মন বলেন, এটি উত্তর বাংলাদেশের টিকে থাকা প্রাচীনতম মন্দিরগুলোর একটি। তাঁর মতে, মন্দিরের দেয়ালের পোড়ামাটির নকশা ও প্রত্নতাত্ত্বিক অলঙ্করণ দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যা সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা আবু সাঈদ এনাম তানভীরুল নিশ্চিত করেছেন যে, মন্দিরটি ২০১৯ সাল থেকেই সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত। তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের স্থানে কাজ করার আগে বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক এবং মন্দিরে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা উচিত ছিল।

তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনার সংরক্ষণে সহায়তার জন্য বিভাগ শিগগিরই মন্দিরটি পরিদর্শন করবে, সাইনবোর্ড স্থাপন করবে, সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করবে এবং মন্দির পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করবে।

Tuesday, August 4, 2026

August 04, 2026

নন্দীগ্রাম কল্যাননগর হিন্দু পাড়ায় দেড় মাসে ৩১ টি খড়ের পালায় দুর্বৃত্তের আগুন' স'ঙ্কটে গো খাদ্য

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কল্যান নগর হিন্দু পাড়া এলাকায় গত দেড় মাসে দুর্বৃত্তরা ৩১টি খড়ের পালায় আগুন দিয়েছে। এতে খড় পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার কৃষক পরিবারগুলো গো-খাদ্যের চরম সংকটে পড়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩ থেকে ৪টার মধ্যে এলাকার আনন্দ চন্দ্র মহন্ত, রতন চন্দ্র ও অমল চন্দ্রের তিনটি খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহকালে জানা যায়, গত দেড় মাসে এলাকার বিভিন্ন পরিবারের মোট ৩১টি খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, যাদের খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—সুবল চন্দ্র (২টি), নরেশ চন্দ্র (৩টি), নিখিল চন্দ্র (২টি), অর্জুন চন্দ্র (২টি), সুনীল চন্দ্র (২টি), স্বপন চন্দ্র (১টি), সুমল চন্দ্র (২টি), বিশু চন্দ্র (১টি), ভোলা দাস (২টি), বল্লভ চন্দ্র (১টি), নিবাস চন্দ্র মহন্ত (১টি), সন্তোষ চন্দ্র (৩টি), স্বদেপ চন্দ্র (১টি), অখিল চন্দ্র (১টি), কার্তিক চন্দ্র (১টি), বিনয় চন্দ্র (২টি) ও আনন্দ চন্দ্র মহন্ত (১টি)।

অখিল চন্দ্র, কার্তিক চন্দ্র ও বিনয় চন্দ্র জানান, আগুনে কিছু খড় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আবার কিছু আংশিক বাঁচলেও তা গরুর খাওয়ার উপযোগী নয়। এতে তারা গুরুতর গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনার কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’


 

August 04, 2026

মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘরে হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ উপজেলার দেওয়ারপুর গ্রামে একটি প্রতিবন্ধী পরিবারের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেওয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা কালু চন্দ্র নাথ প্রতিবন্ধী ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি অন্যের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রোববার সকালে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে একটি কাজে যান। রাতে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী রফিক উদ্দিন তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করেন।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী রুপালী রানী নাথ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতে শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি রফিক উদ্দিন আমাদের ঘরে হামলা চালাচ্ছে। খবর পেয়ে আমরা এগিয়ে গেলে তিনি সহযোগীদের নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। প্রাণভয়ে আমরা সরে যাই। পরিকল্পিতভাবে আমাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রফিক উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জোরারগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. নুরুদ্দিন জানান, ‘বসতঘরে হামলার অভিযোগে রুপালী রানী নাথ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


 

August 04, 2026

মিটফোর্ডের হরিজনদের ৩০ তারিখের মধ্যে ছাড়তে হবে ঘর ৩১ তারিখ বন্ধ করা হবে গ্যাস,বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগ উচ্ছেদ রোধ কল্পে

ঐতিহাসিক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬৮ বছর ধরে বসবাস করে আসা হরিজন সম্প্রদায় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ‘মিনিয়াডস কোয়ার্টার’ (সুইপার কলোনি) খালি করতে বলা হয়েছে, যা ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রাঙ্গণে বসবাস করে আসছেন। প্রায় ১৬৮ বছর ধরে চলে আসা এই বসতি শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বরং এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রম, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ভবন অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।

নোটিশে আরও সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোয়ার্টার খালি না করলে ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। সময়মতো বাসা খালি না করলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের বহন করতে হবে।

হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তারা পুনর্বাসনের আবেদন জানালেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—প্রাঙ্গণে খালি জায়গা না থাকায় পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।

বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের নোটিশ আসায় হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থেই এই উদ্যোগ। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, উন্নয়নের আগে শত শত পরিবারের নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

হরিজন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ১৬৮ বছরের এই বসতির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করে তবেই যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।


 

August 04, 2026

বাঁশখালীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তড়িৎ গুহের ওপর হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রামদাস মুন্সি বাজার এলাকায় বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও ধর্মীয় অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত বাবু তড়িৎ গুহের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় ও তাঁর পরিচিতজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তড়িৎ গুহ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বাঁশখালী ঋষিধাম পরিচালনা পরিষদ শ্রী গুরু সংঘের অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঋষি কুম্ভ ও কুম্ভ মেলার অর্থ সম্পাদক হিসেবে আটবার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সমাজসেবা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই ব্যক্তির ওপর প্রকাশ্য স্থানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, একজন নাগরিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

ঘটনার পর হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, অপরাধীর পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন, হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

তবে হামলার কারণ, হামলাকারীদের পরিচয়, তড়িৎ গুহের আঘাতের ধরন এবং থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বাঁশখালীতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

August 04, 2026

ঝালকাঠির সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেফালী রানী

গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া শেফালী রানী জীবনের প্রথম থেকেই ছিলেন স্বপ্নবাজ। নিজের দৃঢ় মনোবলের জোরে তিনি বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মহাবিদ্যালয়ে পা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়ালো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ হলেও দেশের ডাকে পাল্টে গেল তাঁর জীবনের গন্তব্য।
১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর ঝালকাঠিতে জন্মগ্রহণ করেন শেফালী রানী। তাঁর পিতা রাখাল রায় ও মাতা জ্ঞানদা রায়। ১৯৭১ সালে তিনি চাখার এ কে ফজলুল হক কলেজের ছাত্রী ছিলেন। পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কিছুদিন পর তিনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভারতে চলে যান।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এক ভয়াবহ ঘটনার কথা স্মরণ করে শেফালী রানী বলেন, ‘একদিন আমাদের বাড়িতে ২০-২৫ জন অতিথি এসেছিলেন। আমি সবার জন্য ভাত চাপিয়েছি। ঠিক তখনই শুরু হলো গুলির আওয়াজ—এমনকি আমাদের ঘরের মধ্যে পর্যন্ত গুলি আসতে শুরু করে। তখন পাশের বাগানে ভাতের পাতিল লুকিয়ে রেখে আমরা দূরে আশ্রয় নিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পেয়ারাবাগানে মাটির নিচে বাড়ি করে থাকতাম। সেখান থেকে ১৮-২০ জনের দল পরিকল্পনামাফিক অপারেশনে বের হতাম। একদিন সেখান থেকে ২০ হাত দূরে আমরা পাকবাহিনীকে দেখলাম এবং তাদের কথাও শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে সৌভাগ্যবশত সেদিন তারা আমাদের বাড়ি পর্যন্ত আসেনি।’
কিছুদিন পর কলকাতায় গিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কার্যালয় খুঁজে বের করেন তিনি। সেখানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ জানান। শেফালী রানী বলেন, ‘আটদিন ধরে পায়ে হেঁটে কলকাতায় গিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিই। সেখানে ডা. বিধানচন্দ্র রায় একটি বাংলাদেশ অফিস খুলেছিলেন। সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে যেতে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে গোবরা প্রশিক্ষণ শিবিরে যেতে বলেন।’
সেখানে প্রায় সাড়ে তিনশ’ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরে অস্ত্রচালনা থেকে শুরু করে নানা কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে একেকটি ব্যাচকে একেক জায়গায় কাজে পাঠানো হতো। সেখানে হোস্টেল সুপার ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তাদের পরের দিন হাসপাতালে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়, কিন্তু ঠিক সেইদিন বিজয় মিছিল শুরু হয়ে যায়। শেফালী রানী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মহেন্দ্র রায় লেন থেকে বিজয় মিছিল করে ধর্মতলা পর্যন্ত গিয়েছি। মতিয়া চৌধুরী আমাদের সাথে মিছিলে ছিলেন।’
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঝালকাঠিতে ফিরে তিনি চাখার এ কে ফজলুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর তাঁর বিয়ে হয়। তিনি যশোর ও ডুমুরিয়ার দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করলেও পারিবারিক কারণে বেশি দিন শিক্ষকতায় থাকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সংসার জীবনেই মনোযোগ দিতে বাধ্য হন তিনি।
স্বাধীনতার তিন দশক পর ১৯৭১ সালে পাওয়া নিজের কাগজপত্র নিয়ে সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেন তিনি। ২০০৬ সাল থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতে শুরু করেন। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচজন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। সেখানে অন্যদের সঙ্গে শেফালী রানীর হাতেও সম্মাননা পদক তুলে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ লস্কর।
শেফালী রানী আজও মুক্তিযুদ্ধের সেই সাহসী স্মৃতি বুকে ধারণ করে আছেন—যে নারী উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে পাশে রেখে দেশের ডাকে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

Monday, August 3, 2026

August 03, 2026

মা জানেন না সংসারের হাল ধরা ছেলেটি আর নেই


​গত শনিবার কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন খুলনার তরুণ অক্ষর সৌভিক রায়। তবে মৃত্যুর দ্বিতীয় দিনেও তাঁর মা জানেন না যে তাঁর আদরের ছেলে আর বেঁচে নেই।
​পরিবারের স্বজন ও আত্মীয়রা শোকাবহ এই খবরটি তাঁর মায়ের কাছে গোপন রেখেছেন। তাঁকে শুধু জানানো হয়েছে যে সৌভিক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মা যখন বারবার আকুল হয়ে প্রশ্ন করছেন— "আমার ছেলে কোথায়? কখন ফিরবে?", তখন শোকে নির্বাক স্বজনরা মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা জানেন না কী করে জানাবেন, ছেলে সৌভিক আর কোনো দিন ফিরবে না।
​গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন মান্নান চটপটির গলির 'দেলন' ভবনের চতুর্থ তলায় সৌভিকদের ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায়। পুরো ঘরে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। কারও মুখে কোনো ভাষা নেই।
​জানা গেছে, সৌভিক অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে আনন্দভ্রমণে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় তীব্র শোক ও বিষাদে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে ৫০-৬০ ফুট আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়েন সৌভিক (৩০)। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​নিহত অক্ষর সৌভিক খুলনা নগরীর কালীবাড়ী এলাকার সাবেক ব্যবসায়ী মৃত শেখর রায়ের ছেলে। তিনি খুলনা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, খুলনার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ভারতের গুজরাটের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকার একটি ভিসা এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন।
​২০ ২০২১ সালে করোনা মহামারীতে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে সৌভিকের কাঁধে। ব্যাংকের ঋণের কারণে তাঁদের নিজেদের বাড়িটি বন্ধক থাকায় গত ছয় মাস আগে তাঁরা 'দেলন' ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমানে তাঁর মা শুক্লা রায়, ছোট বোন শিখা রায় এবং দাদু ও দিদিমা এক ছাদের নিচে থাকেন।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সৌভিক রায়সহ ১০ জনের একটি দল খুলনা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যান। প্যারাসেইলিং করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধার ব্যবস্থা বা লাইফগার্ড ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন সঙ্গীরা।
​কক্সবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে আগেই সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করে অসাধু উপায়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


 

"
"