কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, August 2, 2026

August 02, 2026

নাটোরের লালপুরে হিন্দু পরিবারগুলোকে কাছে চাঁদা দাবি, হুমকিমূলক চিঠি

নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা একটি পরিবারের বাড়ির বারান্দায় হুমকিমূলক চিঠি রেখে যায়, যাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালপাড়ার বৈদ্যনাথ পালের ছেলে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় চিঠিটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতে নারায়ণের ছেলে অরুণ কুমার পাল চিঠিটি দেখতে পান এবং বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের জানান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না এবং পালপাড়ার প্রতিটি হিন্দু পরিবারকে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে পাঠাতে হবে। টাকা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠিতে একটি বিকাশ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি পরিবারে চিঠি পৌঁছানোর পর তা অন্য হিন্দু পরিবারগুলোকেও পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিঠিটি জব্দ করে। পুলিশ জানিয়েছে, চিঠির উৎস শনাক্ত ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


 

August 02, 2026

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে দুর্ঘটনায় তরুণ অক্ষরের মর্মান্তিক মৃত্যু: বন্ধুদের ভিডিওতে ধরা পড়ল শেষ মুহূর্তের আতঙ্ক

কক্সবাজারের দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারালেন অক্ষর নামের এক তরুণ। গত কাল সংঘটিত এই হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও ও অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিচিত সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল প্রকৃতির অক্ষর বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাইডে ওঠার আগেই অক্ষরের চোখে-মুখে স্পষ্ট ভয় ও আতঙ্কের ছাপ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সহপাঠী ও সঙ্গীদের পিড়াপীড়ি এবং চক্ষুলজ্জার খাতিরেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি এই ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিয়েছিলেন। যখন অক্ষর ভীতি প্রকাশ করছিলেন, তখনো তার সহযোগীরা বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন।
​রাইড চলাকালীন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির বুকেই অকালে মিলিয়ে গেলেন এই সম্ভাবনাময় তরুণ।
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতজনরা অক্ষরের স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অ্যাডভেঞ্চার রাইডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাউকেই জোরপূর্বক কোনো ঝুঁকিপূর্ণ রাইডে বাধ্য না করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
​ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
August 02, 2026

কোনো নির্দিষ্ট দলের পকেটে গেলে তাদের অপকর্মের দায় সংখ্যালঘুদের নিতে হয় —নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পকেটে না গিয়ে সব দলের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দলের পকেটে গেলে ওই দলের যাবতীয় অপরাধ ও অপকর্মের দায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিতে হয়।’ তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে, যাতে তারা দেশে নিরাপদ বোধ করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই এর রূপ ছিল অসাম্প্রদায়িক এবং এতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। তিনি জানান, এই অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জন শহীদ হয়েছেন।

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার সবসময় রাজনীতিতে সংখ্যালঘু কার্ড ব্যবহার করত। ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক এবং বিরোধীদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিত্রিত করার চক্রান্ত করত।’

আন্দোলন-পরবর্তী প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে মন্দির পাহারা দিয়েছে, যা সংকটে সংহতির অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না মন্দির পাহারা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হোক।’

বিগত সময়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও জমি দখলের ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সংখ্যালঘুদের প্রতি নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সবার অধিকার নিশ্চিতের জন্য আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে জোর দিয়েছি। গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে এবং স্বাধীন-নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার সুফল সবাই পাবে।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও রাজনীতিতে বিরোধী দল দমনের পুরোনো পরিবেশ ও ভীতি দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকতে এবং সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে।
August 02, 2026

আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস বন্ধু আমার

‘বন্ধুত্ব প্রতিভার চেয়েও বড়, সরকারের চেয়েও বেশি, আর প্রায় পরিবারের সমান গুরুত্বপূর্ণ’—মারিও পুজোর এই উক্তি হয়তো অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে, কিন্তু যাদের অন্তত একজন ভালো বন্ধু আছে, তারা জানেন এটি কতটা সত্য। আইনস্টাইনও বলেছিলেন, সত্যিকারের ভালোবাসা যতই বিরল হোক, সত্যিকারের বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল।

জন্ম থেকেই আমরা মা, বাবা, ভাই-বোন, স্বজন—এই সম্পর্কের ভূগোলে প্রবেশ করি। কিন্তু একদিন, প্রায় অজান্তেই, সেই ভূগোলে আসে এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, অথচ যার কাছে নিজের জীবনের অনেক অপ্রকাশিত কথার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়। তাকেই আমরা বলি বন্ধু।

বন্ধুত্বের কোনো জন্মসনদ নেই, নেই কোনো উত্তরাধিকার, নেই সামাজিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা। তাই মানুষের তৈরি সম্পর্কগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বই সবচেয়ে স্বাধীন, আবার সবচেয়ে গভীর। আমরা বন্ধুকে বেছে নিই—কখনো একটি বেঞ্চে পাশাপাশি বসে, কখনো একই বইয়ের ভেতর দিয়ে, কখনো একই স্বপ্নে, কখনো নিছক একটি হাসিতে।

দার্শনিকরা বন্ধুত্বের সংজ্ঞা খুঁজেছেন, সাহিত্যিকরা তার গল্প লিখেছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’-তে ভাই-বোন অপু-দুর্গার সম্পর্কের মধ্যেও বন্ধুত্বের উপস্থিতি। আবার ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এ দেখা যায় সমাজের বাইরে পড়া দুই মানুষ একে অপরকে খুঁজে পেয়েছে বন্ধুত্বে। এরিস্টটল বন্ধুকে দেখেছেন ‘নিজেরই অন্য সত্তা’ হিসেবে এবং বন্ধুত্বকে মানুষের সুখী জীবনের অপরিহার্য অংশ বলে অভিহিত করেছেন। রোমান পণ্ডিত সিসেরোর মতে, সত্যিকারের বন্ধুত্ব তৈরি হয় বিশ্বাস, চরিত্র, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নৈতিক সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে।

বন্ধুত্বের এই চিরন্তন সম্পর্ককে মূল্যায়ন করতে প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববার বাংলাদেশে পালিত হয় বন্ধুত্ব দিবস। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বন্ধু শুধু আনন্দের সঙ্গী নয়; সে আমাদের বোকামি, ব্যর্থতা, ভয়, স্বপ্ন, পরাজয় এবং ফের উঠে দাঁড়ানোর সাক্ষী। মুহাম্মদ আলী বলেছিলেন, ‘বন্ধুত্ব এমন এক জিনিস, যার ব্যাখ্যা দেওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কিন্তু তুমি যদি বন্ধুত্বের অর্থই না শেখো, তাহলে তুমি কিছুই শেখোনি।’

রবীন্দ্রনাথ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার পার্থক্য তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুত্ব আটপৌরে, ভালোবাসা পোষাকি।’ অন্যদিকে আলবেয়ার কামু বলেছেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ ইজ আ ফর্ম অফ লাভ’। আর ফরাসি সাহিত্যিক মনটেইন প্রশ্ন করেছেন, ‘কেন আমরা কোনো কোনো মানুষকে এত গভীরভাবে ভালোবাসি যে, সেই ভালোবাসার কারণও ব্যাখ্যা করতে পারি না?’

বন্ধুত্ব হয়তো কোনো সংজ্ঞায় ধরা দেয় না, তবুও পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি এটি। কারণ বন্ধুই আমাদের অজানা পৃথিবী আবিষ্কারের সাহস দেয়, পাশে থাকে। বন্ধুত্বের জয় হোক।

 

Saturday, August 1, 2026

August 01, 2026

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সারের যুগান্তকারী ইনজেকশন: মাত্র সাত মিনিটে চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ভারতে। ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাজারে এসেছে মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য এক যুগান্তকারী ইনজেকশন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি রোশ ফার্মা তৈরি করা ‘ডিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি ক্যান্সারের প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিরাচরিত নিয়মে ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিতে রোগীদের হাসপাতালের বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকতে হতো। স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনে ওষুধ দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া রোগীদের যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করতো, তেমনি হাসপাতালের উপর তৈরি করতো বাড়তি চাপ। তবে নতুন এই উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এটি সরাসরি রোগীর ত্বকের নিচে সাবকিউটেনিয়াস পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই নতুন ইনজেকশনে 'এটিজলিজুম্যাব' নামের একটি বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত মানবদেহের পিডিএল-ওয়ান নামক একটি প্রোটিনকে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে কাজ করে। সাধারণ অবস্থায় ক্যান্সার কোষগুলো এই প্রোটিনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম তাদের খুঁজে পায় না। নতুন এই ইনজেকশন প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং তা ধ্বংস করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করে। কারণ কেমোথেরাপি ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও মারাত্মক ক্ষতি করে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে এই ইনজেকশন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং এর ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক অনেক কম। যেসব রোগীর টিউমারে পিডিএল-ওয়ান প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারবেন।

ক্যান্সার জয়ের এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আকাশচুম্বি খরচ। ভারতে এই ইনজেকশনের প্রতি ডোজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা)। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করতে একজন রোগীর অন্তত ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়। ফলে সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামের একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএস-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে এটিকে।

ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম ভোগান্তি এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার সুবিধার কারণে এই ইনজেকশনটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কিংবা বেসরকারি নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে এই জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্যান্সার রোগীদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করা সম্ভব হয়।

August 01, 2026

কক্সবাজারের উখিয়ায় জমি বিরোধের জেরে বৌদ্ধ বিহারে হামলা, মূর্তি ভাঙচুর

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা, বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর এবং চারটি তঞ্চঙ্গা পরিবারের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছেনছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সরদার মং চৌধুরীর অভিযোগ, ২০০৭ সাল থেকে চলমান জমি-বিরোধের জেরে স্থানীয় নুরুল হকের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জনের একটি দল বন বিভাগের উপস্থিতিতে এ হামলা চালায়। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ছেনছড়ি বৌদ্ধ বিহারে ঢুকে অন্তত তিনটি বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করে এবং চারটি তঞ্চঙ্গা পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তিনি জানান, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিহারের ভেতরে কয়েকটি ভাঙা বুদ্ধমূর্তি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তঞ্চঙ্গা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে চাকমা-তঞ্চঙ্গা স্টুডেন্ট কাউন্সিল (উখিয়া-টেকনাফ)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নেপাল চাকমা বলেন, বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কানন বড়ুয়া বিশাল বলেন, কক্সবাজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে জমি-বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত নুরুল হকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শনিবার উখিয়া থানায় মামলা করা হবে।


 

August 01, 2026

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত ৩, পাঁচ জেলায় কারফিউ ও সেনা মোতায়েন


নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারতের সীমান্তঘেঁষা সুনসারি জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে উচ্চশব্দে সঙ্গীত বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শূন্যে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুজন নিহত হন।

পরবর্তীতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন সুনসারিসহ আশপাশের এলাকায় কারফিউ জারি করে। তবে কারফিউ চলাকালেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ায়।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সুনসারি, সপ্তারি, সিরাহা, ধনুষা ও পারসা জেলায় কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক ভিডিও বার্তায় সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সংঘর্ষের কারণ ও হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। নেপাল সরকার বিষয়টির তদন্ত করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
August 01, 2026

ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে নাঃ তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ কিংবা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, অথবা রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করতে চায়, এ ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের সব বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণ যতদিন তা কল্যাণকর মনে করবে, ততদিন সেই দল বা মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।’

আগের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা বহুদিন নৌকা মার্কায় বা অন্য কোনো মার্কায় ভোট দিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেছেন যে এটা আপনাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের জন্য করা উচিত। তাহলে আপনারা কোনো ভুল করেননি। যেমন গত নির্বাচনে আপনারা নিজেদের প্রয়োজন ও স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।’

বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, বিজয় কৃষ্ণ দে প্রমুখ।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মৃণাল কান্তি সাহা, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক এলবার্ট রিপন বল্লভ ও সদস্যসচিব লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু প্রমুখ।

Friday, July 31, 2026

July 31, 2026

গরমকালে এসি কেনার আগে জেনে নিন: ৩-স্টার নাকি ৫-স্টার, কোনটিতে সাশ্রয়ী?


টেকনোলজি ডেস্ক, ৩১ জুলাই ২০২৬: বাড়ছে তাপমাত্রা, বাড়ছে অস্বস্তি। এখন আর এসি বিলাসিতা নয়—এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন প্রয়োজন। বিশেষ করে শহুরে জীবনে এসি ছাড়া স্বস্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু নতুন এসি কেনার সময় অনেকেরই প্রধান দুশ্চিন্তা—বিদ্যুৎ বিল কত হবে।

বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১.৫ টন এসি নিয়ে বেশিরভাগ ক্রেতাই দ্বিধায় থাকেন—৩-স্টার নাকি ৫-স্টার মডেল নেবেন। যদিও একই ক্ষমতার এসি, তবুও বিদ্যুৎ খরচের পার্থক্য অনেক।

বিদ্যুৎ খরচে যা পার্থক্য

৫-স্টার ১.৫ টন এসি: সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ০.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা চালালে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৪০০-১৬০০ টাকা।

৩-স্টার ১.৫ টন এসি: প্রতি ঘণ্টায় খরচ হয় প্রায় ১.১ ইউনিট। একই ব্যবহারে মাসিক খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০০-২২০০ টাকা।

অর্থাৎ মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে ৫-স্টার এসি ব্যবহারে। যদিও কেনার সময় ৫-স্টার মডেলের দাম কিছুটা বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের সাশ্রয়েই তা পুষিয়ে যায়।

আধুনিক প্রযুক্তি আরও কমায় খরচ

বর্তমানে বাজারে ইনভার্টার ও ডুয়াল ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি জনপ্রিয়। এগুলো ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে। এতে যেমন বিল কমে, তেমনি বাড়ে এসির আয়ুও।

কম খরচে চালাতে পারবেন যেভাবে

শুধু এসির ধরন নয়, ব্যবহারের পদ্ধতিও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ভূমিকা রাখে—

তাপমাত্রা ২৪–২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন

ঘর ঠিকমতো সিল করে রাখুন

নিয়মিত এসি সার্ভিস করান

প্রয়োজন ছাড়া এসি চালাবেন না

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি কেনার সময় একটু বেশি খরচ করেও ৫-স্টার মডেল কেনাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক, বিশেষত যারা দীর্ঘ সময় এসি চালান।


 

July 31, 2026

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রানজেনডার নারী তাননোভা আনান শিশিরের হিন্দু রীতিতে বিয়ে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা


ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আলোচিত প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হওয়া বিবাহ হিসেবে উল্লেখ করলেও, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা তালিকা পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তাসনুভা আনান শিশির জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচিত করেন। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশ্যে পরিচিত ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পুরুষকে হিন্দু রীতিতে বিবাহ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সিঁথিতে সিঁদুর ও হাতে শাঁখা পরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই অনুষ্ঠান ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজের একাংশ এটিকে ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, অনেকে হিন্দু শাস্ত্র, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রচলিত বিবাহবিধির আলোকে প্রশ্ন তুলেছেন।

সনাতন ধর্মে বিবাহকে পবিত্র সংস্কার মনে করা হয়। তবে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বিবাহ সম্পর্কে বেদ, উপনিষদ বা স্মৃতিশাস্ত্রে সুস্পষ্ট ও সর্বসম্মত কোনো বিধান নেই—এমনটাই জানাচ্ছেন ধর্মীয় পণ্ডিতরা। একারণে বিষয়টিকে নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়ে আচার্য, পুরোহিত ও পণ্ডিতদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কেউ শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী নারী-পুরুষের বিবাহকেই স্বীকৃত মনে করেন, আবার কেউ কেউ মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

"
"