দেশ
July 23, 2026
ফেনীতে রাতের আঁধারে ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডার চুরি, সর্বস্বান্ত হিন্দু ব্যবসায়ী অপু রায়ের পরিবার
ফেনী সদর উপজেলার সহদেবপুর এলাকায় গভীর রাতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হিন্দু ব্যবসায়ী অপু রায় ও তার পরিবার। চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার সহদেবপুর সিএনজি স্টেশনের পাশেই অবস্থিত ‘রয় গ্যাস সিলিন্ডার ফেনী’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক দুই ভাই সীমিত পরিসরে মাত্র ১০টি সিলিন্ডার নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও একাগ্রতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডারের একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন তারা।
জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত দোকানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। প্রতিদিনের মতো ওই দিনও ব্যবসা শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন মালিকপক্ষ। কিন্তু পরদিন সকালে দোকান খুলতে এসে তারা দেখতে পান, দোকানের ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডারও নেই। দুর্বৃত্তরা দোকানে থাকা সবগুলো সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ব্যবসায়িক নথি এবং ভিজিটিং কার্ডও সরিয়ে নিয়েছে।
এ ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ এত বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন ও সরিয়ে নিতে একাধিক ব্যক্তি ও যানবাহনের প্রয়োজন হওয়ার কথা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী অপু রায় জানান, বহু বছরের কষ্টার্জিত অর্থ এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা এই ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। তাদের পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এই প্রতিষ্ঠান। এক রাতের ব্যবধানে সবকিছু হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
অপু রায় ও তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তারা মনে করছেন, এর পেছনে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করলে চুরির প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)