কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, July 11, 2026

July 11, 2026

ফরিদপুরে মন্দিরের চোর ধরতে গিয়ে পুরোহিতদের খুঁটিতে বেঁধে মারধর

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজনদের ধরতে গিয়ে দুই পুরোহিতকেই উল্টো ভ্যান চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সবশেষে ধস্তাধস্তিতে আহত এক সন্দেহভাজনের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সালিশে তাদের ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই দিন বিকেলে কামারগ্রামের শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর নিত্যসেবা অঙ্গন আখড়াবাড়ি মন্দির থেকে প্রায় ১৫-১৬ কেজি কাঁসা-পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও কলস চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস সন্দেহভাজনদের খুঁজতে বের হন।

তাদের দাবি, কৃষি ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের থামাতে বললে তারা ভ্যানে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে তাদের ধাওয়া করলে ধস্তাধস্তিতে রাজু নামের এক সন্দেহভাজনের মাথায় আঘাত লাগে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ভ্যান চুরির অভিযোগ এনে দুই পুরোহিতের হাত পেছন মোড়া করে রশি দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে এবং তাদের মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস বলেন, "আমাদের বেঁধে মারধর করা হয়েছে, মোবাইল-টাকা নিয়ে গেছে।" কিন্তু থানায় কোনো অভিযোগ দিতে রাজি হননি তারা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।

বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, "স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে জেনেছি।" স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন জানান, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা বাবদ ১৮ হাজার টাকা ধার্যের মাধ্যমে সালিশ হয়েছে। ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


 

July 11, 2026

প্রয়াত অ্যাডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তী প্রশান্ত সমঅধিকার ও সমমর্যাদার লড়াইয়ে আজীবন চির উদ্ভাসিত থাকবেন

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের প্রয়াত দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি ও আনোয়ারা উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তী প্রশান্ত-এর এক  শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১০ জুলাই, শুক্রবার, বেলা ০৪ টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি তাপস হোড়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার চৌধুরীর সঞ্চালনায় শোকসভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বার প্রফেসর রনজিত কুমার দে, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির  প্রেসিডিয়াম মেম্বার প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু, এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত।শোকসভায় বক্তারা প্রয়াত হরিপদ চক্রবর্তী প্রশান্ত-এর স্মৃতি চারণ করে বলেন, "তিনি ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, দয়ালু, পরোপকারী, জনবান্ধব ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রয়াণে সমাজে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা এই সময়ে অপূরণীয়। সমঅধিকার ও সমমর্যাদার লড়াইয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আদর্শিক কাজের মাধ্যমে তিনি মরেও আজীবন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চির উদ্ভাসিত থাকবেন।" সভায় প্রয়াত নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন শরৎ জ্যোতি চাকমা, অ্যাডভোকেট চন্দন বিশ্বাস, বিষ্ণুযশা চক্রবর্তী, শেখর দত্ত, সাগর মিত্র, তাপস কান্তি দে, সাজীব বৈদ্য, মাস্টার শ্যামল দে, মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, লায়ন সুজিত দাশ, অ্যাডভোকেট নীলু দাশ, আশীষ সিংহ, প্রণব দাশগুপ্ত, কল্লোল সেন, দিলীপ ঘোষ দীপু, মাস্টার গোপাল ঘোষ, মাস্টার রূপক শীল, পলাশ দাশ, অনুপ দাশ, অ্যাডভোকেট সুমন সরকার, গৌতম দাশ, রূপসী দাশ, অধ্যাপক শিপলু কুমার দে, মীনাক্ষী দেব, অ্যাডভোকেট জনি দে, উত্তম দাশ, উৎপল বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট পিটু কুমার শীল, অ্যাডভোকেট বাপ্পা ঘোষ, অ্যাডভোকেট পংকজ নাথ, শাবলু মিত্র, মিঠু চৌধুরী, ইমন দত্ত,রতন শীল এবং অর্ক মিত্র প্রমুখ।অনুষ্ঠানে প্রয়াত হরিপদ চক্রবর্তী প্রশান্ত-এর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতি ও কর্মময় জীবন নিয়ে অশ্রুসিক্ত বক্তব্য রাখেন তাঁর সহধর্মিণী অনিমা চক্রবর্তী এবং পুত্র প্রান্তিক চক্রবর্তী।শোকসভার শুরুতে প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

 

July 11, 2026

সংবিধানে সমতার নিশ্চয়তা, সমাজে বৈষম্যের বাস্তবতা: দলিত (হরিজন) জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও জীবনসংগ্রাম

বাংলাদেশের সংবিধান সবার জন্য সমতা ও বৈষম্যহীন সমাজের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের দলিত জনগোষ্ঠী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদায় নানা বঞ্চনার মুখোমুখি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, রবিদাস, ডোম, হাড়ি, লালবেগীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে পরিচ্ছন্নতার মতো নির্দিষ্ট কিছু পেশায় আবদ্ধ হয়ে পড়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার চক্রেই কাটছে। আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশ সত্ত্বেও জন্মসূত্রে পাওয়া এই পেশাগত পরিচয় বদলানোর সুযোগ সবার হয় না। ফলে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে সীমিত প্রবেশাধিকার তাদের কর্মসংস্থানের পথকেও সংকুচিত করছে। দারিদ্র্য, বৈষম্যমূলক আচরণ ও বিদ্যালয়ের প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিশু প্রাথমিক বা মাধ্যমিকেই ঝরে পড়ছে।

শুধু শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানেও একই চিত্র। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় অস্বাস্থ্যকর কলোনিতে বসবাস, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের অভাবে দলিত পরিবারগুলোর জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক অবজ্ঞা ও দূরত্বের শিকার হওয়ার ঘটনাও থেমে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসবই সংবিধানের চেতনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরিপন্থী।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী হলেও আইনের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। এটি কমাতে প্রয়োজন শিক্ষাবৃত্তি সম্প্রসারণ, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বৈষম্যবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সর্বোপরি সমাজের সবার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা তৈরি।

একটি রাষ্ট্রের সভ্যতার প্রকৃত বিচার হয় তার সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষটির প্রতি আচরণ দিয়ে। তাই দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

July 11, 2026

মাগুরার উপবৃত্তি তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি, ‘সবাই হিন্দু’ দাবি সত্য নয়: প্রশাসন

মাগুরার শালিখা উপজেলায় সরকারি উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়িয়েছে। দাবি করা হয়েছিল, ওই তালিকায় শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের নাম রয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এটি সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির তালিকা, যা ধর্মীয় নয়, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি।

শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, "ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনো ধর্মীয় পরিচয় নয়। ওই এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তালিকায় তাদের নাম এসেছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বী কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য থাকলে তারাও একই সুবিধা পেতেন।"

তিনি আরও জানান, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল তালিকাটি অসম্পূর্ণ, সেখানে ৩২ জনের নাম থাকলেও প্রকৃত তালিকায় মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। প্রতিবছরই পিছিয়ে পড়া এসব জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকার এই বিশেষ উপবৃত্তি দিয়ে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
July 11, 2026

ফেনীর সোনাগাজীতে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের মহেশ্বর গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার ৬ নম্বর চর চান্দিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বর গ্রামের হারাধন দাসের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারাধন দাসের ছেলে ওমানপ্রবাসী সবুজ দাসের ঘরসহ বাড়ির দুটি কক্ষে ডাকাতদল হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর করে কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতির ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
July 11, 2026

সব ধর্মের মানুষ নিয়েই এগোবে বাংলাদেশ, সিলেটে বললেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, "দেশ আমাদের সবার। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে হবে, সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে হবে।" সিলেট বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "যোগ্যতার ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষকে প্রশাসনে সুযোগ দিতে হবে।" তিনি জানান, সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করবেন এবং প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।

নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এলাকার আটটি মন্দির ও চারটি শ্মশানের সংস্কার চলছে, আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। জয়ন্তিয়া রাজবাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনে বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি যোগ্যদের প্রাপ্য জায়গা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে প্রয়াত নেতাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব ও 'স্বাধিকার' নামীয় একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সকালে জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।


 

Friday, July 10, 2026

July 10, 2026

চট্টগ্রামে মন্দিরের পুরোহিতের ওপর হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের বাহির সিগন্যাল সর্বজনীন শ্রীশ্রী মা চণ্ডী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী সুশান্ত মুখার্জীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল বিকেলে শ্রী সুশান্ত মুখার্জী মন্দিরে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা প্রথমে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় এবং পরে মন্দিরসংলগ্ন তানিয়া টেলিকমের সামনে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত।

স্থানীয়রা জানান, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ধর্মীয় পুরোহিতের ওপর এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং উদ্বেগজনক। ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

একই সঙ্গে হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


 

July 10, 2026

সুনামগঞ্জে ফেইসবুক পোস্টের জেরে মন্দির-বাড়িতে হামলা, ধ্বংসস্তূপে সম্প্রীতির গ্রাম

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের গড়কাটি গ্রামে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। যাদুকাটা নদীর তীরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মিলনমেলা যুগ যুগ ধরে এখানকার ঐতিহ্য। কিন্তু গত ২৩ জুন এক ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই সম্প্রীতির ওপর দিয়ে বয়ে গেল তাণ্ডব। চারটি মন্দিরসহ বেশ কিছু বাড়ি ও দোকানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনো ধ্বংসস্তূপ হয়ে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিখিল রায়ের ছেলে সুদীপ্ত রায়ের ফেইসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নিখিল রায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের কাছে মীমাংসার জন্য বাদাঘাট বাজারে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে শত শত লোক ‘মব’ তৈরি করে তাদের আটকে ফেলে। কোনো রকমে এক দোকানে আশ্রয় নিলে দোকানি শাটার নামিয়ে তাদের বাঁচান। পরে পুলিশ পেছনের দরজা দিয়ে সুদীপ্তকে থানায় নিয়ে যায়।

সুদীপ্তকে পুলিশে দেওয়ার পরও উত্তেজিত জনতা তিন দফা মিছিল করে গড়কাটি গ্রামের নিখিল রায়ের বাড়ি, স্থানীয় কালীমন্দির, দুর্গামন্দির ও নাটমন্দিরে হামলা চালায়। হাতুড়ি দিয়ে নাটমন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়, বাড়িঘর লুটপাট করা হয়। খাবার পানির টিউবওয়েলও ভেঙে ফেলা হয়। এখনো সেখানে ফেরেনি স্বাভাবিকতা।

এলাকাবাসী জানান, এই গ্রামে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল সিকদার ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেশ তালুকদার বলেন, “আমাদের এলাকাটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এলাকা, আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।” স্থানীয় সংসদ সদস্যও বলেছেন, “ছেলেটির অপরাধের দায় তার সম্প্রদায় বা মন্দিরের ওপর বর্তায় না। যারা ভাঙচুর করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আসতে হবে।”

তবে ছেলেটির মা-বাবার চোখে এখন শুধুই অন্ধকার। মা কেতকী রায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের পরীক্ষা ছিল, সে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। ভবিষ্যৎ শেষ।” অথচ যারা বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, মন্দিরে হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু সুদীপ্তর বিরুদ্ধেই সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এখন কারাগারে, আর গড়কাটির ধ্বংসস্তূপ যেন বহুদিনের সম্প্রীতির এক নীরব কান্না।


 

July 10, 2026

নওগাঁর চন্ডিমাতা মন্দিরের ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জমি দখলের অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দিরসহ তিনটি মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, অপহরণ ও হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মন্দির পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মন্দিরের আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেখানো হয়নি। মন্দিরের জমি-পুকুর ইজারা, বার্ষিক মেলা ও দান-অনুদানের মোট ৪২ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবাশ চন্দ্র পাল, সাবেক সভাপতি তারিনী পদ সরকার ও হরগোবিন্দ প্রামানিকের নেতৃত্বে একটি চক্র আত্মসাৎ করেছে। পাশাপাশি তৎকালীন জমিদার পরিবারের দান করা ৮ দশমিক ৪৫ একর ও শিব-কালী মন্দিরের ৯৭ শতক দেবোত্তর সম্পত্তি জাল-জালিয়াতি ও জোরপূর্বক দখল করে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তরফদারকে অপহরণ করে মাছের হ্যাচারিতে আটকে রেখে জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। একই রাতে সভাপতি সুভাষ চন্দ্রের বাড়িতে ২৫-৩০ জনের সশস্ত্র দল হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে। তিনি প্রাণভয়ে বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।

অভিযুক্ত হরগোবিন্দ প্রামানিক অবশ্য সব অস্বীকার করে দাবি করেন, "আমরা প্রতি বছর হিসাব দিয়েছি, জমি বিক্রির সঙ্গে আমি জড়িত নই।" তবে অপর অভিযুক্ত সুব্রত প্রামানিক রতন চন্দ্রকে আটকে রেখে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাইছেন।



 

Thursday, July 9, 2026

July 09, 2026

পরিবারে ডায়াবেটিস থাকলেই সন্তানের হবে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পরিবারে বাবা, মা বা ভাইবোনের কারও ডায়াবেটিস থাকলে অনেক অভিভাবকই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ইতিহাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ালেও তা অনিবার্য নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


ভারতের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. নিশান্ত রাইজাদার মতে, জিনগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিশুর খাদ্যাভ্যাস, ওজন এবং দৈনন্দিন জীবনধারাই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। একই মত দিয়েছেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. অনুপম বিশ্বাস। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বংশগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও টাইপ–২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই শিশুর খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার রাখা উচিত। অন্যদিকে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা নাচের মতো সক্রিয় কাজে অংশগ্রহণ করলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমে।

চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত ঘুমের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। ঘুমের অভাব ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা এবং ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা টেলিভিশন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি বা ঘাড় ও বগলের ত্বকে কালচে দাগের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেটিক ঝুঁকি থাকলেও সেটিই শেষ কথা নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু ডায়াবেটিস নয়, আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
 

"
"