কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, May 30, 2026

May 30, 2026

ল্যাটিন আমেরিকায় প্রথমবার ভগবান গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত

সনাতন ধর্মের বিশ্বব্যাপী প্রসারের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রথমবারের মতো বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ল্যাটিন আমেরিকায় সনাতন ধর্মের বিকাশ ও ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের বিস্তারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো অঙ্গরাজ্যের মনোরম পাহাড়ি শহর পেত্রোপোলিসে অবস্থিত ‘সেন্ট্রো কালচারাল বিশ্ব বিদ্যা’ কেন্দ্রে গত ৯ মে অনুষ্ঠিত হয় এই মহতী প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান। বৈদিক রীতিনীতি অনুসারে হোম, যজ্ঞ, পূজা-অর্চনা এবং সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভগবান গণেশের পবিত্র বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ ও অতিথিরা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সাক্ষী হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভাটিয়া। এছাড়াও অংশ নেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত আধ্যাত্মিক শিক্ষক ও বেদান্তাচার্য জোনাস মাঁসেটি (বিশ্বনাথ), যিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলে বেদান্ত, সংস্কৃত, যোগ ও ভারতীয় দর্শনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ভারত থেকে বিশেষভাবে আনা কালো পাথরের এই গণেশ মূর্তির উচ্চতা প্রায় ১.২০ মিটার এবং ওজন প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় অগ্নিহোম, বৈদিক স্তোত্রপাঠ এবং মন্ত্রোচ্চারণে পুরো প্রাঙ্গণ ভক্তিময় আবহে মুখর হয়ে ওঠে।
সনাতন ধর্মে ভগবান গণেশকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মঙ্গল ও শুভ সূচনার অধিষ্ঠাত্রী দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। যে কোনো শুভ কাজের শুরুতে তাঁর আরাধনার প্রচলন রয়েছে। তাই ব্রাজিলে এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা ও বৈদিক সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাটিন আমেরিকায় সনাতন ধর্ম ও ভারতীয় দর্শনের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যোগ, ধ্যান, বেদান্ত ও আত্মজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠা সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত বেদান্ত ও আত্মজ্ঞান উৎসবে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে যোগচর্চা, ধ্যান, শাস্ত্র আলোচনা, মন্ত্রপাঠ এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভাটিয়া তাঁর বক্তব্যে ব্রাজিলে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সনাতন দর্শনের প্রসারে বিশ্ব বিদ্যা কেন্দ্রের অবদানের প্রশংসা করেন।
ইতোমধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে সনাতন ধর্মের বিশ্বজয়ের আরেকটি উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিদেশের মাটিতে বৈদিক মন্ত্রধ্বনি, হোম-যজ্ঞ এবং ভগবান গণেশের আরাধনার মধ্য দিয়ে ব্রাজিলে যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বব্যাপী সনাতন ধর্মের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।
May 30, 2026

শ্যামনগরে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে আহত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আহতরা হলেন গীতা রানী গাইন, রণজিৎ গাইন, শিবপদ গাইন, ধর্মদাস গাইন, বিষ্ণুপদ গাইন, রবীন্দ্রনাথ গাইন, অনিমেষ গাইন, ইন্দ্রজিৎ গাইন, সুরেন গাইন ও কৌশল্যা গাইন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গীতা রানী গাইন জানান, পার্শ্ববর্তী মথুরাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ পাইকের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তার অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে নিজের জমিতে গরুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে গেলে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর দিয়ে যাওয়া নিয়ে আব্দুল মজিদ পাইক, তার ছেলে হাসান পাইকসহ কয়েকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির পর তাকে মারধর করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
পরিবারের দাবি, আব্দুল মজিদ পাইক, হাসান পাইক, হোসেন পাইক, জাহিদ হোসেন বাবু, বিল্লাল হোসেন, খুকুমনি, মিলন পাইকসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল এ হামলায় অংশ নেয়। হামলার সময় একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ পাইক। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের পক্ষেরও দুজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ গাইন জানান, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঈদ পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছিল এবং পরে জমি পরিমাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, “একটি পরিবারের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এতজন আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদুর রহমান জানান, আহত রণজিৎ গাইন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
May 30, 2026

জামালপুরে ৮ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী লিটন মিয়াকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর এ গ্রেপ্তার হয়।
পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের এই ঘটনায় অভিযুক্ত লিটন মিয়া সম্পর্কে ওই শিশুর প্রতিবেশী চাচা। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির বাবা-মা দুজনেই জীবিকার জন্য ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। প্রতিবন্ধী মেয়েসহ তাদের সন্তানেরা গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থাকে।
গত ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটি একা থাকার সুযোগে লিটন মিয়া তাকে ফুসলিয়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে অভিযুক্তের স্ত্রী এগিয়ে এলে লিটন তাকে ছেড়ে দেয়। পরে কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখিয়ে এবং হাতে ১০ টাকা দিয়ে শিশুটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিশুটি বাড়ি ফিরে দাদা-দাদিকে জানালেও লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে তারা প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখেন। ঈদের ছুটিতে গত ২৬ মে শিশুটির বাবা-মা গ্রামে এলে পুরো ঘটনা জানতে পারেন এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী, ঠিকমতো চলতেও পারে না। এমন পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
May 30, 2026

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরের সামনে গরু কোরবানি, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ

রাজধানীর হাতিরঝিলে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরের সামনের সড়কে গরু কোরবানি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, মন্দিরসংলগ্ন এলাকাতেই গরু কোরবানির আয়োজন করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, কোনো উপাসনালয়ের ঠিক সামনে এ ধরনের কার্যক্রম ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী।
তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আয়োজক বা প্রশাসনের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করিয়ে দিয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখতে সবারই একে অপরের উপাসনালয় ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন জরুরি। এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Friday, May 29, 2026

May 29, 2026

শ্যামনগরে জমি বিরোধে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, নারীসহ আহত ১০

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু একটি পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে রনজিত গায়েনের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল মজিদ পাইক গংয়ের বিরোধ চলছিল। এর জেরে বুধবার সকালে আব্দুল মজিদ পাইকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ও লাঠিয়াল বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রনজিত গায়েনের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহতদের মধ্যে নারী সদস্যরাও রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার শিকার পরিবারটি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

May 29, 2026

গোপালগঞ্জে তীর্থযাত্রীবাহী পিকআপ-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, আহত ২২

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় তীর্থযাত্রীবাহী একটি পিকআপের সঙ্গে প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়িতে অনুষ্ঠিত গণেশ পাগলের কুম্ভ মেলা শেষে তীর্থযাত্রীরা পিকআপযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোপালগঞ্জ সদরের তেঁতুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির যাত্রীরাই আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং গুরুতর আহত তিনজনকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Thursday, May 28, 2026

May 28, 2026

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হলো ১১ কেজির কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানীয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরারীপুর গ্রামে ধানক্ষেত থেকে একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে পুকুরে মাছ ধরার সময় মূর্তিটি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানানো হয় বোচাগঞ্জ থানা পুলিশকে। পরে দিনভর অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বোচাগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ) লিখন কুমার মন্ডল খবর পান যে, ইশানীয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরারীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদ চৌধুরীর ধানের জমির আইলের ওপর একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি পড়ে রয়েছে।
খবর পাওয়ার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে এসআই লিখন কুমার মন্ডল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধানক্ষেতের আইল থেকে প্রায় ১১ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি বর্তমানে বোচাগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিষ্ণু মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা। এ ঘটনায় বোচাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যার নম্বর ১৩০৯।
স্থানীয়দের ধারণা, মূর্তিটি বহু পুরোনো এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বহন করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
May 28, 2026

১১৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী ডিমলা কালী মন্দির, উত্তরবঙ্গের সনাতনী চেতনার জীবন্ত প্রতীক

রংপুরের মাহিগঞ্জে আজও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সনাতন ধর্মীয় চেতনার এক অনন্য স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ডিমলা কালী মন্দির। শতাব্দী পেরিয়েও এই মন্দির শুধু উপাসনালয় নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের সনাতন সমাজের আত্মিক অনুভূতি, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক হয়ে আছে।
প্রায় ১১৬ বছরের পুরনো এই মন্দিরে ঢুকলেই মন গভীর আধ্যাত্মিকতায় ডুবে যায়। প্রাচীন দেয়ালে খচিত কারুকাজ, উঁচু গম্বুজ আর রাজকীয় স্থাপত্য যেন আজও অতীতের ঐশ্বর্যময় দিনগুলোর গল্প বলে। ভোরের শঙ্খধ্বনি, সন্ধ্যার আরতি, ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ আর ভক্তদের কণ্ঠে স্তবপাঠ— সব মিলিয়ে মন্দির চত্বরে তৈরি হয় এক পবিত্র আবহ। ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালীর আশীর্বাদ ও করুণাধারা আজও এই মন্দিরকে সজীব রেখেছে।
ইতিহাস বলছে, ডিমলার তৎকালীন জমিদার নীল কমল সেনের বিধবা স্ত্রী শ্যামা সুন্দরীর দত্তক পুত্র রাজা জানকি বল্লভ সেন গভীর ধর্মীয় ভক্তি থেকেই ১৯০৮ সালে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তিনি চেয়েছিলেন এটি হবে ভক্তি, শিল্পরুচি ও রাজকীয় স্থাপত্যকলার এক মিলনমেলা। কিন্তু কাজ চলাকালেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর স্ত্রী বৃন্দারাণী চৌধুরানী অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে।
শিল্পী, কারিগর আর শ্রমিকদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম শেষে ১৯১৬ সালে সম্পন্ন হয় এই ঐতিহাসিক মন্দিরের নির্মাণ। মন্দিরের অষ্টকৌণিক গঠনশৈলী উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য মন্দির থেকে একে আলাদা করে রেখেছে। দেয়ালের সূক্ষ্ম নকশা, অলংকরণ আর স্থাপত্যের প্রতিটি রেখায় যেন সনাতন ঐতিহ্যের সৌন্দর্য আর ভক্তির ছোঁয়া মিশে আছে।
শুধু কালীমাতার বিগ্রহই নয়, রাজা জানকি বল্লভ সেন লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ, মদন মোহন জিউ এবং রামচন্দ্র বিগ্রহের নামেও বিপুল সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে দান করেন। পরে সেসব সম্পত্তি "ডিমলা রাজ দেবোত্তর এস্টেট" নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। বর্তমানে পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা, আরতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলে আসছে।
প্রতি বছর কালীপূজাকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন মায়ের আশীর্বাদ নিতে। সন্ধ্যার আরতির সময় শত শত প্রদীপের আলো, ঘণ্টাধ্বনি আর ভক্তিমূলক কীর্তনে গোটা এলাকা যেন অপার্থিব হয়ে ওঠে। বহু ভক্ত মনে করেন, আন্তরিকভাবে মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে তিনি মনোবাসনা পূর্ণ করেন।
রংপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পূর্বে এবং মাহিগঞ্জ বাজারের এক কিলোমিটার দক্ষিণে বড় রঙ্গপুর এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দির আজও সনাতন ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। কালের নিয়মে অনেক কিছু বদলালেও ডিমলা কালী মন্দির ভক্তদের হৃদয়ে আজও একইভাবে শ্রদ্ধা, ভক্তি আর আস্থার স্থান দখল করে আছে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, এই শতবর্ষী মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি উত্তরবঙ্গের হিন্দু সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এই প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও সামাজিকভাবে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
May 28, 2026

রাঙ্গুনিয়ায় নৌকাডুবিতে নববধূ নিখোঁজ, ৬ জন জীবিত উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় কনিকা দাশ (১৯) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় চার তরুণের সাহসী উদ্ধার অভিযানে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ও নৌকার চালকসহ ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দেওয়ানজীঘাট ও কোদালা ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কোদালা জেলেপাড়া থেকে চন্দ্রঘোনা মিনারপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা কর্ণফুলী নদী পার হচ্ছিল। মাঝনদীতে পৌঁছানো মাত্রই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়, তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। যাত্রীরা মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন।
এ সময় কোদালা ঘাটে থাকা ১৫ বছর বয়সী কিশোর রবি উল্ল্যাহ নৌকাডুবি দেখে সঙ্গে সঙ্গে বড় ভাই অলি উল্ল্যাহ এবং বন্ধু শিমুল ও আব্দুল্লাহকে খবর দেয়। তারা রবির বাবা মোহাম্মদ বাবুলের ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে ঝড়-তৈলবাহী উত্তাল নদীতে উদ্ধার অভিযানে নামে।
প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় তারা নদীতে ভাসতে থাকা পাঁচ যাত্রী ও নৌকার চালককে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫), রুপন ঘোষ ও নৌকার চালক। পরে দ্রুত তাদের চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দুই বছর বয়সী শিশু রাজের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে নৌকাডুবির পর থেকেই খোঁজ নেই নববধূ কনিকা দাশের। বিকেল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও তার সন্ধান মেলেনি।
নববধূকে উদ্ধার করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে উদ্ধারকারী কিশোর রবি উল্ল্যাহ বলেন, "সবাইকে বাঁচাতে পেরে ভালো লাগছে। কিন্তু নববধূকে যদি উদ্ধার করতে পারতাম, তাহলে আরও বেশি শান্তি লাগত।"
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কনিকাকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল পাঠানো হচ্ছে। নৌবাহিনীর একটি দলও অভিযানে যোগ দেবে। সন্ধ্যার মধ্যে সন্ধান না মিললে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও নতুন করে তল্লাশি শুরু হবে।
May 28, 2026

মৃত্যুর পরও ওষুধ কিনতে বলা, টাকা দাবির অভিযোগ স্বজনদের

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, শিশু মারা যাওয়ার পরও তাদের ওষুধ আনতে বলা হয়েছে এবং বিল বাবদ ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, মৃত্যুর পর আইসিইউতে নেওয়া হলেও আগে কেন তা করা হলো না।
বুধবার (২৭ মে) দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব অভিযোগ। সেদিন সকালে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২-এ এক থেকে দুই দিন বয়সী ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বজনদের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বজন সূত্র জানায়, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও নবজাতক ভর্তি ছিল। প্রথমদিকে সবাই সুস্থ থাকলেও রাত ১২টার পর থেকে শিশুগুলোর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ভোরের আগেই একে একে ছয়টি নবজাতক মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন ইউনিট হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী আকায়িদ জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ভালোই ছিল। ভোরে হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পাননি তারা।
সেতু, ফাহিমা ও ফারিহার স্বজনরা বলেন, রাত ১২টার পর শিশুরা নিস্তেজ হয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু করে। বারবার ডাকাডাকি করেও দ্রুত নার্স পাওয়া যায়নি। অনেক দেরিতে সবাইকে একসঙ্গে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
নাজমা, মনিরা ও শারমিনের পরিবারের অভিযোগ, রাতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্টাফ ছিলেন না। ফাহিমা ও রুমির স্বজনদের দাবি, তারা শুনেছেন এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, শিশু মারা যাওয়ার পরও স্বজনদের ওষুধ কিনতে পাঠানো হয় এবং ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকারও দেওয়া হয়নি বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, হাসপাতাল অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
"
"