বাবার লাশ সৎকার না করেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন যে নারী
মানিকগঞ্জ পৌরসভার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী মন্দিরে চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মন্দির এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আটক দুই নারী হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হালুয়াপাড়া এলাকার বিলকিস আক্তার (২০) এবং লাখাই উপজেলার মৌশাদিয়া এলাকার মিনা আক্তার (১৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান চলাকালে শত শত ভক্তের সমাগম ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দুই নারী শাঁখা-সিঁদুর পরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর পরিচয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে প্রসাদ গ্রহণের সময় এক নারী ভক্তের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন চুরি করার চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজন তাদের হাতেনাতে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকের পর ক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারধর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার জানান, মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, মন্দিরে অনুষ্ঠানের সময় চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আরও তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, চুরির অভিযোগ ও অন্যান্য দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্তরা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন যতক্ষণ না তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবককে আটক করে জনসম্মুখে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের একতারহাট এলাকার গোপাল মার্কেটে ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম সঞ্জিব রায় (২৭)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শরত রায়ের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে কিছু লোক তাকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরে সঞ্জিব রায় জনসম্মুখে হাতজোড় করে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এ সময় তাকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে সঞ্জিব রায়কে তার বাবা শরত রায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
All rights reserved ©