দেশ
July 22, 2026
সোনাইমুড়ীতে ৫০০ বছরের প্রাচীন মঠ ভাঙার ঘটনায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নোয়াখালী, ২২ জুলাই ২০২৬: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো একটি মঠ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালিয়ে মঠটি অপসারণের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের দাবি, স্থানীয় একটি মার্কেট নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম গত এক বছর ধরে মঠটির কারণে তাঁর মার্কেটের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয় এবং মঠের আশপাশে বিষাক্ত সাপের উপস্থিতি নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হয়।
এছাড়া, স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঠ ও বাজার-সংলগ্ন জমির এক উত্তরসূরী—যিনি সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত—অতীতে ওই জায়গার একটি অংশ উপহার দিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মঠটি যাতে পুনর্নির্মাণ বা সংরক্ষণ না করা যায়, সে জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মঠ ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ফাউন্ডেশনের নেতারা আরও বলেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই ভীত-সন্ত্রস্ত এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক। তারা এলাকার মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন।
সংগঠনটি প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি প্রতিনিধি, ফাউন্ডেশন সদস্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, তারা ধর্ম মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামের বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনটির ভাষ্য, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তে সব পক্ষের মতামত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)

