কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, May 10, 2026

May 10, 2026

ঘি নাকি মাখন? প্রতিদিনের খাবারে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর

গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি কিংবা সকালের টোস্টে মাখনের প্রলেপ—দুটিই আমাদের পরিচিত খাবারের অংশ। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঘি রাখা ভালো নাকি মাখন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটিই দুধ থেকে তৈরি হলেও পুষ্টিগুণ, হজমক্ষমতা এবং শরীরের ওপর প্রভাবের দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের আলোকে অনেক ক্ষেত্রেই ঘিকে তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী মনে করা হয়।
ঘি ও মাখনের মূল পার্থক্য
মাখনকে গরম করে এর জলীয় অংশ ও দুধের কঠিন অংশ আলাদা করার মাধ্যমে তৈরি করা হয় ঘি। এই প্রক্রিয়ার কারণে ঘিতে ল্যাকটোজ ও ক্যাসিন প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাদের জন্য ঘি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হতে পারে। অন্যদিকে, মাখনে কিছুটা ল্যাকটোজ থেকে যায়।
রান্নার জন্য কোনটি ভালো?
রান্নার ক্ষেত্রে ঘি অনেকটাই এগিয়ে। কারণ ঘির স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলেও এটি সহজে পুড়ে যায় না। ফলে ক্ষতিকর ধোঁয়া বা ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল তৈরির ঝুঁকিও কম থাকে।
অন্যদিকে, মাখনের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই উচ্চ তাপে রান্না করলে এটি দ্রুত পুড়ে যেতে পারে।
হজম ও মেটাবলিজমে প্রভাব
ঘিতে থাকা বিউটাইরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি হজমে সহায়তা করতে পারে এবং শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদেও ঘিকে হজমশক্তি বৃদ্ধিকারী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মাখনও শক্তির উৎস হলেও এতে থাকা কিছু ফ্যাট শরীরে তুলনামূলক দ্রুত জমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
ভিটামিনের দিক থেকে
ঘিতে ভিটামিন A, D, E এবং K পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। এই ভিটামিনগুলো হাড়, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মাখনেও এসব ভিটামিন রয়েছে, তবে ঘির তুলনায় ঘনত্ব কিছুটা কম।
ওজন কমাতে চাইলে কোনটি ভালো?
অনেকেই মনে করেন ঘি মানেই ওজন বাড়ানো খাবার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে খেলে ঘি শরীরের চর্বি বিপাকে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত নুনযুক্ত মাখন শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
হৃদরোগ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে
যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য ঘি ও মাখন দুটিই সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে অনেক পুষ্টিবিদ মনে করেন, অল্প পরিমাণ খাঁটি ঘি রান্নায় ব্যবহার করা মাখনের তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্রতিদিন কতটা খাওয়া নিরাপদ?
সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা চামচ খাঁটি ঘি গ্রহণ নিরাপদ ও উপকারী হতে পারে। মাখন মাঝেমধ্যে নাশতায় খাওয়া যেতে পারে, তবে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়।
পুষ্টিগুণ ও রান্নার উপযোগিতার দিক থেকে ঘি অনেক ক্ষেত্রেই মাখনের চেয়ে এগিয়ে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসম্মত ও খাঁটি ঘি নির্বাচন করা। ভেজাল বা ডালডা মেশানো ঘি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই যেকোনো খাবারের মতো ঘি বা মাখনও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

 

May 10, 2026

তেলেঙ্গানায় ৮০০ বছরের প্রাচীন শিব মন্দির ভাঙাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গাল জেলায় প্রায় ৮০০ বছরের পুরোনো এক কাকাতীয় যুগের শিব মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি একটি ইন্টিগ্রেটেড স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বুলডোজার দিয়ে ঐতিহাসিক এই মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ইতিহাসবিদ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
জানা গেছে, ওয়ারাঙ্গাল জেলার খানাপুর মণ্ডলের অশোক নগর এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি ১৩শ শতাব্দীতে কাকাতীয় রাজা গণপতিদেব–এর আমলে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, কাকাতীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজবংশ ছিল। তাদের শাসনামলে বহু মন্দির, দুর্গ ও শিল্পনির্ভর স্থাপনা নির্মিত হয়। ধ্বংস হওয়া এই মন্দিরটিও সেই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত ছিল।
মন্দির প্রাঙ্গণে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎকীর্ণ সাত লাইনের একটি বিরল তেলেগু শিলালিপিও ছিল। ওই শিলালিপিতে রাজা গণপতিদেবকে “মহারাজা” ও “রাজাধিরাজুলু” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। গবেষকদের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় নয়, ভাষাগত ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও অত্যন্ত মূল্যবান দলিল ছিল।
ঐতিহাসিক সূত্র বলছে, ১৯৬৫ সালেই হেরিটেজ বিভাগ এই স্থাপনাটিকে নথিভুক্ত করেছিল। মন্দিরটি ঐতিহাসিক “কোটা কাট্টা” মাটির দুর্গ এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নসম্পদ ও প্রাচীন স্থাপনার জন্য পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চাইলে মন্দিরটিকে সংরক্ষণ অথবা প্রযুক্তিগতভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই পথ না বেছে সরাসরি স্থাপনাটি ভেঙে ফেলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওয়ারাঙ্গাল জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিতভাবে মন্দির ধ্বংসের ঘটনা নয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ একর জায়গা পরিষ্কার করার সময় ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি জরাজীর্ণ পুরোনো স্থাপনার অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। তাদের দাবি, এটি সরকারিভাবে সংরক্ষিত প্রত্নস্থাপনার তালিকায় ছিল না।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়ারাঙ্গালের কালেক্টর ডা. সত্যা শারদা এবং নরসাম্পেটের বিধায়ক দোস্থি মাধব রেড্ডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ইতিহাসবিদ, ঐতিহ্যবাহী স্থপতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরামর্শে একই স্থানে পুনরায় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ভারতের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইতিহাসবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

May 10, 2026

সীতাকুণ্ডে ভোররাতে মাইক্রোবাসে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের লুট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার নূনাছড়া এলাকায় ভোররাতে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাতদলের হামলার শিকার হয়েছেন একটি মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন জনি বনিক জানান, শুক্রবার (৪ মে) ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে তারা সাতজন একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নূনাছড়া মসজিদের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িতে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। বিষয়টি বুঝতে চালক গাড়ির গতি কমিয়ে দেন।
পরে গাড়ির পেছনের অংশে কিছু পড়েছে কি না দেখতে তিনজন যাত্রী নিচে নামেন। ঠিক সেই সময় রাস্তার পাশের জমি থেকে ৫ থেকে ৬ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত বেরিয়ে আসে। তাদের হাতে রামদা, কিরিচ ও ধারালো ছুরি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
দুর্বৃত্তরা মুহূর্তেই যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। গাড়ির ভেতরে থাকা চারজন যাত্রীর কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে বাইরে থাকা তিনজনকে ধাওয়া করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের মসজিদে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করা হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ভুক্তভোগীরা সীতাকুণ্ড মডেল থানা–এ গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সকালে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নূনাছড়া এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরে ওই সড়কে চলাচল করা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়।

 

Saturday, May 9, 2026

May 09, 2026

বৃষ্টির ঘ্রাণ ও শব্দ কেন আমাদের মন ভালো করে? জানাচ্ছে বিজ্ঞান

বৃষ্টি শুধু প্রকৃতিকে শীতল করে না, মানুষের মন ও শরীরের ওপরও ফেলে বিশেষ প্রভাব। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, বৃষ্টি নামলে মন হালকা হয়ে যায়, পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে কিংবা এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বৃষ্টির ঘ্রাণ, শব্দ এবং বাতাসে তৈরি হওয়া বিশেষ ধরনের আয়নের প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির সময় বাতাসে তৈরি হওয়া নেগেটিভ আয়ন মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির ফোঁটা যখন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বা মাটিতে আঘাত করে ভেঙে যায়, তখন এই আয়ন তৈরি হয়। ধারণা করা হয়, এসব নেগেটিভ আয়ন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও আলফা ওয়েভের কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করে, যা মানুষকে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করায়।
যুক্তরাষ্ট্রের Pennsylvania State University–এর গবেষক Pam Dalton বলেন, নেগেটিভ আয়ন মানুষের মেজাজ ও ক্লান্তির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পুরোনো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মৌসুমি বিষণ্নতা বা সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আয়োনাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে মানসিক উন্নতি অনুভব করেছিলেন।
বৃষ্টির আরেকটি বড় উপকার হলো বাতাস পরিষ্কার করা। বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসে থাকা ধূলিকণা, দূষিত উপাদান ও অ্যালার্জেন নিচে নামিয়ে আনে। ফলে বৃষ্টির পর বাতাস অনেক বেশি সতেজ অনুভূত হয় এবং শ্বাস নেওয়াও সহজ হয়ে যায়। Purdue University–এর অধ্যাপক Dan Csallany জানান, বৃষ্টির ফোঁটা অনেকটা ঝাড়ুর মতো কাজ করে এবং বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলোকে সরিয়ে দেয়।
বৃষ্টির পর মাটি থেকে যে পরিচিত সোঁদা গন্ধ বের হয়, সেটিকে বলা হয় Petrichor। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ঘ্রাণ মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কারণ, ঘ্রাণ সরাসরি মস্তিষ্কের অ্যামিগডালাকে সক্রিয় করে, যা আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণেই বৃষ্টির গন্ধ অনেক সময় শৈশব, গ্রাম বা পুরোনো কোনো মুহূর্তকে খুব স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়।
শুধু ঘ্রাণ নয়, বৃষ্টির শব্দও মানুষের মানসিক প্রশান্তির বড় কারণ। পানির টুপটাপ শব্দ স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে সাহায্য করে। ক্লিনিক্যাল অডিওলজিস্ট Amy Sarow বলেন, পানির শব্দ আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, যা শরীরকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সংকেত দেয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবেল মাত্রার বৃষ্টির শব্দ মানুষের মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অনেকেই তাই ঘুমানোর সময় বা কাজের ফাঁকে বৃষ্টির শব্দ শুনে স্বস্তি অনুভব করেন।
সব মিলিয়ে বিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টি কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এটি মানুষের মন, স্মৃতি ও শরীরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা। তাই বৃষ্টি নামলে মন ভালো হয়ে যাওয়ার অনুভূতির পেছনে সত্যিই রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

 

May 09, 2026

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষীরগ্রামের প্রাচীন শক্তিপীঠের রহস্য ও ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষীরগ্রাম বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকে অবস্থিত এই গ্রাম মূলত বিখ্যাত মা যোগাদ্যা মন্দির–এর জন্য। শাক্তধর্ম অনুসারীদের বিশ্বাস, এটি হিন্দু ধর্মের ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম। তাই সারা বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থী এখানে এসে দেবীর পূজা ও দর্শন করেন।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, রাজা দক্ষের যজ্ঞসভায় অপমান সহ্য করতে না পেরে দেবী সতী আত্মাহুতি দেন। এরপর শোকে মুহ্যমান মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলে গোটা সৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ডিত করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ক্ষীরগ্রামের এই স্থানে সতীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এটি সতীপীঠ হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে। এখানে দেবী ‘যুগাদ্যা’ বা ‘যোগাদ্যা’ নামে পূজিতা হন এবং তাঁর ভৈরব হিসেবে পূজিত হন ‘ক্ষীরকণ্ঠ’ শিব।
মা যোগাদ্যাকে এখানে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গারূপে পূজা করা হয়। মন্দিরে থাকা দেবীমূর্তিটি কালো কষ্টিপাথরের তৈরি। ভাস্কর্যের গঠন ও অলংকরণে পাল-সেন যুগের শিল্পরীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, রামায়ণের মহীরাবণ বধের পর ভগবান হনুমান পাতাল থেকে এই দেবীমূর্তি উদ্ধার করে ক্ষীরগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই কারণেই অনেক ভক্ত দেবীকে ‘পাতাল ভৈরবী’ নামেও ডাকেন।
এই মন্দিরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, দেবী সারা বছর মন্দির সংলগ্ন ক্ষীরদীঘির জলের নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় থাকেন। বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি তিথিতে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীকে জল থেকে তুলে পূজা করা হয়। বিশেষ করে ৩১শে বৈশাখ ও ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ভক্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ সময় হাজার হাজার মানুষের সমাগমে পুরো ক্ষীরগ্রাম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা তখন দেবীর পূর্ণ দর্শন লাভ করেন।
অন্যান্য বিশেষ তিথিতে তান্ত্রিক বিধি অনুসারে গোপনীয় পরিবেশে দেবীর পূজা সম্পন্ন হয়। এই শক্তিপীঠে এখনো বহু প্রাচীন শাক্তাচার প্রচলিত রয়েছে। দেবীর নিত্যপূজায় আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় এবং কিছু বিশেষ উৎসবে পশুবলির রীতিও পালন করা হয়। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, বহু আগে এখানে নরবলির প্রথাও ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে।
মা যোগাদ্যাকে ঘিরে ক্ষীরগ্রামে নানা লোকবিশ্বাস ও সামাজিক ঐতিহ্য আজও টিকে আছে। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় দেবী শাঁখারি বেশে উমাকে শাঁখা পরিয়েছিলেন। সেই স্মৃতিকে ঘিরে বৈশাখী উৎসবে দেবীকে বিশেষভাবে শাঁখা পরানো হয়। একই সঙ্গে গ্রামের বিবাহিত নারীরাও নতুন শাঁখা পরেন। ফলে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়েও মা যোগাদ্যার এই পীঠস্থান শুধু একটি মন্দির নয়, বরং বাংলার প্রাচীন শাক্তভক্তি, লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরাণ, তন্ত্রসাধনা, লোককথা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন আজও এই পবিত্র স্থানকে ভক্তদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।

 

May 09, 2026

১০ মে জানা যাবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী–এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করার পরপরই হত্যা মামলাসহ আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিন্ময় দাসের অনুসারীরা বিক্ষোভ করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
পরে নিহত আইনজীবীর বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। এক ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় আগামী ১০ মে “৮ দফা দাবি আদায়ে কারাবরণকারী সকলের মুক্তির জন্য” প্রার্থনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ কারাবন্দীদের মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা তৈরির অনুরোধ জানান।
আগামী ১০ মে হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারী ও বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

 

May 09, 2026

শ্রীমঙ্গলের বুকে নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির

 

বাংলাদেশের পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল শুধু চা-বাগান, সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে সমাদৃত। এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ এখন শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির। শৈল্পিক নকশা, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক আবহের কারণে মন্দিরটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও আধুনিক মন্দির হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শ্রীমঙ্গল শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনা থেকে কলেজ রোডে যাওয়ার পথে বাম পাশে অবস্থিত এই মন্দির দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। লাল, সাদা, সোনালি ও ব্রোঞ্জ রঙের অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত মন্দিরটির সৌন্দর্য দিনে যেমন মোহিত করে, তেমনি রাতের আলোকসজ্জায় এটি যেন এক স্বপ্নময় স্থাপনায় পরিণত হয়।
প্রায় এক শতকের ইতিহাস
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে প্রায় একশ বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুনভাবে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুরোনো স্থাপনাটি ভেঙে আধুনিক নকশায় নতুন মন্দির নির্মাণ শুরু হয় ২০১২ সালে।
দীর্ঘ নয় বছরের শ্রম, পরিকল্পনা ও সূক্ষ্ম কারুকাজের মাধ্যমে ২০২১ সালে বর্তমান মন্দিরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানা যায়।
স্থাপত্যে নান্দনিকতার অনন্য ছাপ
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এই মন্দির সত্যিই ব্যতিক্রম। প্রায় ১৩০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত পাঁচ স্তরবিশিষ্ট এই মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৪৮ ফুট। মন্দিরটির রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি চূড়া ও পাঁচটি প্রবেশদ্বার, যা এর সৌন্দর্যকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।
মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর বাহ্যিক নকশা। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে জবা ফুল, বেলপাতা ও স্বস্তিকা চিহ্নের সূক্ষ্ম অলংকরণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি কারুকাজে রয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পরীতির মিশেল।
ভেতরের অংশও সমানভাবে দৃষ্টিনন্দন। মার্বেল পাথরে নির্মিত পরিষ্কার ও প্রশস্ত মেঝে, সুন্দর বারান্দা এবং দেবীকে প্রদক্ষিণের সুব্যবস্থা ভক্তদের জন্য একটি শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ তৈরি করেছে।
ধর্মীয় গুরুত্ব ও ভক্তদের সমাগম
এই মন্দিরের প্রধান দেবতা হলেন শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মাতা ও মহাদেব। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পূজা-অর্চনা করতে আসেন। বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি, শিবরাত্রি ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দির প্রাঙ্গণ হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
উৎসবের দিনগুলোতে পুরো এলাকা আলোকসজ্জা, ধর্মীয় সংগীত ও পূজার্চনায় এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক আবহ ধারণ করে। তখন শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।
পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় গন্তব্য
শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। চা-বাগান, লাউয়াছড়া বন, পাহাড়ি প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ দেখতে আসা পর্যটকদের অনেকেই এখন এই মন্দির ঘুরে দেখতে আসেন।
আধুনিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে নির্মিত এই মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মন্দিরটির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় করেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় মন্দিরটি আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রতীক
স্থানীয়দের মতে, এই মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি এলাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও ধর্মীয় নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।
বর্তমানে শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির বাংলাদেশের সনাতন ধর্মীয় স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধুনিক নির্মাণশৈলী ও অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে এটি দিন দিন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Friday, May 8, 2026

May 08, 2026

খাগড়াছড়িতে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পরিবহন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি পুকুর থেকে কৃষ্ণ দে (৫২) নামে এক পরিবহন শ্রমিকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতের দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানালে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত কৃষ্ণ দে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে চলাচলকারী একটি বাসের শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। সহকর্মী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে পরিবহন খাতে কাজ করেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে পুকুরের পাশে কয়েকজন পথচারী অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন পানিতে একটি মরদেহ ভাসছে। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খাগড়াছড়ি সদর থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
নিহতের সহকর্মীরা জানান, কৃষ্ণ দে নিয়মিত পরিবহন শ্রমিকের কাজ করতেন এবং বেশিরভাগ সময় বাসস্ট্যান্ড ও সড়ক এলাকাতেই কাটাতেন। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কৃষ্ণ দের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা বলেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের মৃত্যু হলেও এর পেছনের কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন, যাতে কোনো অপরাধ ঘটে থাকলে দায়ীরা আইনের আওতায় আসে।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাপনও বেশ কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সড়কে কাজ করতে হয় তাদের। অল্প আয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে নানা চাপের মধ্যেও থাকতে হয়। কৃষ্ণ দের মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অনিরাপদ জীবনের বাস্তবতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের এলাকা ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

 

May 08, 2026

রাউজানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের সর্বনাশ, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা–এর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেব বিশ্বাস বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। এতে একে একে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতঘর, আসবাবপত্র এবং বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে নগদ টাকা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্টিলের আলমিরা, গুরুত্বপূর্ণ জমির দলিল, মজুত রাখা চালসহ ঘরের প্রায় সব মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। রক্ষা পায়নি শিক্ষার্থীদের বইপত্র ও শিশুদের ব্যবহৃত বাইসাইকেলও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে পরিবারের সদস্যরা জীবন বাঁচাতে শুধু গায়ের কাপড় নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পেরেছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িকে গ্রাস করে নেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সবকিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্বপন বিশ্বাস, পরিমল বিশ্বাস, রূপন বিশ্বাস, প্রদীপ বিশ্বাস, বিজয় বিশ্বাস ও আরেক স্বপন বিশ্বাসের পরিবার। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা হলেও খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, বহু বছরের সঞ্চয় এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে ঘর তৈরি কিংবা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার বইপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।

 

May 08, 2026

মাছ চুরির অভিযোগে আটক যুবকের মৃত্যু, পরিবার বলছে ‘হত্যা’

বাড়িতে কৃষ্ণের স্ত্রী যমুনা রানী রাজবংশী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন। এ ছাড়া একই অভিযোগ করেন কয়েকজন প্রতিবেশীও।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার তরা বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে কৃষ্ণ রাজবংশীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
যমুনা রানী বলেন, মাছ চুরির সন্দেহে তাঁর স্বামীকে তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে আটকে রেখে গতকাল মারধর করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে কৃষ্ণকে ছাড়িয়ে নিতে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
যমুনা রানীর দাবি, পরে তিনি নিজেই বাজার কমিটির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে স্বামীকে মারধর করতে দেখেন। কথার এই পর্যায়ে যমুনা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এত ট্যাকা পামু কনে? ওই অফিসে গিয়্যা কান্নাকাটি করছি, তাগো (কমিটির লোকজন) পায়ে ধরে কানছি। তারপরও আমার স্বামীরে মারধর করছে। কত কইল্যাম, আপনারা তাঁরে পুলিশে দেন, তাও দিল না! ওরা আমার স্বামীরে মাইরা ফ্যানের লগে ঝুলাইয়া রাখছে, আমারে বিধবা করছে, আমার দুই পোলা–ম্যায়ারে এতিম করছে। আমি তাগো শাস্তি চাই।’
কৃষ্ণ রাজবংশী মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া মহল্লার ক্ষুদিরাম রাজবংশীর ছেলে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির জলাশয়ে জাল টানা ও মাছ ধরার কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে তরা বাজারে ট্রাক থেকে মাছ নামানোর কাজও করতেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে আছে।
কৃষ্ণের মাসতুতো ভাই লালচান রাজবংশী বলেন, কৃষ্ণকে ছেড়ে দিতে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হন কৃষ্ণ। সকালে মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে ও আরও একজনকে আটক করে বাজার কমিটির লোকজন। পরে অন্যজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কৃষ্ণকে কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। দুপুরে কার্যালয়ের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।


"
"