কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 18, 2026

May 18, 2026

খুলনায় গভীর রাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ফার্মেসির মালিক খোকা নিহত

খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত শ্রী ভবতোষ মৃধা খোকা (৪৫) স্থানীয় গিলাবাড়ি বাজারের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে ঘরের বেড়ার নিচের অংশে মাটি সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢোকার পর পরিবারের সদস্যরা টের পেলে হঠাৎ তারা ভবতোষ মৃধাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
এ সময় তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ভোর ৫টার দিকে ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী বলেন, কয়েক দিন ধরেই এলাকায় চোরের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছিল। ঘটনার রাতে হঠাৎ করেই হামলা হয় এবং চোখের সামনে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং অপরাধীদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

 

May 18, 2026

মধ্যরাতে মাদারীপুরে হৃদয়বিদারক ঘটনা, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন চিত্ময় দাস, তার স্ত্রী ইশা দাস এবং তাদের ৮ মাস বয়সী সন্তান।
রোববার (১৭ মে) দিবাগত মধ্যরাতে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। সোমবার (১৮ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
পুলিশ জানায়, শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন ওই পরিবার। ঘটনার দিন বিকেলে চিত্ময় দাস তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাসায় আসেন। পরে রাতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, পাশের কক্ষে থাকা এক নারী ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তবে কীভাবে এই মৃত্যু ঘটেছে—এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



May 18, 2026

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইনজীবী মিতা সাহার মৃত্যু

ঝিনাইদহে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালানোর সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মিতা সাহা (৪৭)। শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মিতা সাহা ঝিনাইদহ শহরের কেসি কলেজ পাড়ার বাসিন্দা ও শ্যামল কুমার সাহার স্ত্রী। তার মৃত্যুতে জেলা আইনজীবী সমিতিসহ পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সহকর্মী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলাউদ্দীন আজাদ জানান, গত ৭ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির চাকলাপাড়া এলাকায় পূজার প্রদীপ জ্বালানোর সময় অসাবধানতাবশত তেলভর্তি প্রদীপ শরীরের ওপর পড়ে যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়।
প্রথমে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার তিনি মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার মেয়ে তাথৈ ঝিনাইদহ জেলা শিল্পকলা একাডেমির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের মদনমোহন মন্দির প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর চাকলাপাড়ার মহিষাকুন্ডু শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একরামুল আলম জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে তার স্মরণে ফুলকোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে।

 

May 18, 2026

‘শয়তানের নিশ্বাস’ দিয়ে নার্সকে বশ করে সর্বস্ব নিয়ে পালাল প্রতারকরা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত ভয়ংকর মাদক ব্যবহার করে এক নার্সের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। রোববার (১৭ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নার্স নীলিমা রানী বেপারীর পরিবারের দাবি, প্রতারকেরা তার গলার চেইন, কানের ঝুমকা, হাতের রুলি, আংটি এবং দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে গেছে। এসবের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।
নীলিমা রানী জানান, বাজারে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তি তাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে কথা বলা শুরু করেন। পরে আরও কয়েকজন এসে তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাকে বাজারের বিভিন্ন দোকানে নিয়ে ঘোরাফেরা করায়।
তিনি বলেন, “কীভাবে আমি নিজের গায়ের স্বর্ণালঙ্কার খুলে তাদের হাতে দিয়েছি, সেটা এখন ঠিকভাবে মনে করতে পারছি না।”
নীলিমার স্বামী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর বড়াল জানান, ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রীর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তিনি ধারণা করছেন, কোনো ধরনের মাদক প্রয়োগ করেই প্রতারকেরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
চিকিৎসক আসাদুজ্জামান বলেন, স্কোপোলামিন বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মাদক। এটি কাগজ, কাপড় বা কার্ডের মাধ্যমে নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িকভাবে নিজের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অপরাধীদের কথামতো কাজ করতে থাকেন।
তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, অপরিচিত কারও দেওয়া কোনো কাগজ, কাপড় বা বস্তু নাকের কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

May 18, 2026

পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে নিজ ঘরে এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তার মা ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে চিংড়ির রেনু সংগ্রহ করতে যান। এ সময় বাড়ির টিনশেড ঘরে একাই ছিলেন ওই কলেজছাত্রী। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মুখোশধারী দুজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাকে জিম্মি করে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তিনি সাহস করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ঘরের বেড়ার নিচের অংশে মাটি খোঁড়া দেখতে পান। পরে ভুক্তভোগী তাদের পুরো ঘটনা জানান।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

Sunday, May 17, 2026

May 17, 2026

প্রস্রাবে সামান্য অস্বাভাবিকতাই হতে পারে বড় রোগের সতর্ক সংকেত

প্রস্রাবে হালকা জ্বালাপোড়া, রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন বা কোমরের নিচে অস্বস্তি—এগুলোকে অনেকেই খুব সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। কেউ ভাবেন পানি কম খেয়েছেন, কেউ মনে করেন বয়সের প্রভাব বা সাধারণ ইনফেকশন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীর অনেক সময় ছোট ছোট উপসর্গের মাধ্যমেই বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট বা ইউরেটারের মতো মূত্রনালির ক্যানসার অনেক সময় শুরুতে খুব ধীরে এবং নীরবে এগোয়। প্রথমদিকে লক্ষণ এতটাই হালকা থাকে যে সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু এই উপসর্গগুলো মাসের পর মাস অবহেলা করলে রোগ ধীরে ধীরে জটিল আকার নিতে পারে এবং শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া, এমনকি একবার হলেও। এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, দুর্বল প্রবাহ, রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়া এবং তলপেট বা কোমরে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকাও অবহেলা করা উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেটের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। তাই নিজে থেকে ধারণা না করে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রস্রাব পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা প্রয়োজন হলে অন্যান্য স্ক্যানের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ধরা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্যানসার যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। অস্ত্রোপচার বা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু দেরি হলে তা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তখন চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়।
ঝুঁকির দিক থেকেও সবাই সমান নন। ৫০ বছরের বেশি বয়স, ধূমপানের অভ্যাস, রাসায়নিক কাজে যুক্ত থাকা বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সেটিকে অবহেলা না করা। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা ভবিষ্যতের বড় জটিলতা থেকে বাঁচাতে পারে।


 

May 17, 2026

নিজ ঘর থেকে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিজ বাড়ি থেকে রাই কর্মকার (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণকার পট্টি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রাই কর্মকার স্থানীয় বাসিন্দা রনজিৎ কর্মকারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও এলাকাবাসী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে রাইয়ের ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে রাইকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গলাচিপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক কোনো সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাইয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রাই শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিল। তার মৃত্যুতে সবাই হতবাক।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

 

May 17, 2026

গুপ্তযুগের শিল্পঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী, আমেরিকার জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন শিবমুখ

খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর ভারতবর্ষ, অর্থাৎ গুপ্তযুগকে উপমহাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ বলা হয়। সেই সময়কার শিল্পঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত একটি টেরাকোটার ভগ্ন প্রতিমা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে Philadelphia Museum of Art–এ।
শিল্পবিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভগবান শিবের একটি প্রাচীন মুখাবয়ব, যা গুপ্তযুগের নন্দনতত্ত্ব, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং ধর্মীয় শিল্পচর্চার অসাধারণ উদাহরণ বহন করে।
প্রতিমাটির মুখের অভিব্যক্তিতে যেমন রয়েছে শান্ত সৌম্য ভাব, তেমনি রয়েছে এক ধরনের গম্ভীর আধ্যাত্মিকতা। কপালের তিলকচিহ্ন, জটাজুটের অলংকরণ এবং সূক্ষ্ম নকশা দেখে সহজেই বোঝা যায়, সেই সময়কার শিল্পীরা কতটা নিখুঁত দক্ষতায় কাজ করতেন।
মাটির তৈরি এই ভাস্কর্যটি শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও আজও শিল্পরসিক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, উপমহাদেশের এই ঐতিহাসিক নিদর্শন এখন আর তার নিজভূমিতে নেই; বরং স্থান পেয়েছে বিদেশের একটি জাদুঘরে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ঔপনিবেশিক শাসনামল এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের অসংখ্য প্রত্নসম্পদ, দেবদেবীর মূর্তি, মন্দিরের ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন নানা উপায়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউরোপ ও আমেরিকার বহু জাদুঘরে আজও ছড়িয়ে রয়েছে সেইসব অমূল্য ঐতিহ্য।
গবেষকদের ভাষ্য, সে সময় “সংগ্রহ” বা “সংরক্ষণ”-এর নামে উপমহাদেশের বহু শিল্পকর্ম বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ফলে স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজেদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত ভারতীয় ও উপমহাদেশীয় প্রত্নসম্পদ ফিরিয়ে আনার দাবিও ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। সংস্কৃতিপ্রেমী ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন শুধু শিল্পকর্ম নয়; এগুলো একটি জাতির সভ্যতা, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ।
তাদের মতে, এ ধরনের ঐতিহাসিক প্রতিমা ও প্রত্নসম্পদের যথাযথ সংরক্ষণের পাশাপাশি নিজভূমিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। কারণ ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।
শত শত বছর আগের এই ভগ্ন শিবমুখ আজও যেন নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয়, উপমহাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ঐশ্বর্য একসময় কতটা সমৃদ্ধ ছিল।

 

May 17, 2026

করতোয়ার পাড়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ১৮০ বছরের ইতিহাস, পঞ্চগড়ের গোলকধাম মন্দির আজও বিস্ময়

বাংলাদেশের একেবারে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। সবুজ প্রকৃতি আর নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের বুকেই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১৮০ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক স্থাপনা— গোলকধাম মন্দির। সময় বদলেছে, বদলেছে চারপাশের জনপদও। কিন্তু করতোয়া নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মন্দির যেন এখনো অতীত বাংলার গল্প শুনিয়ে যায়।
দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত এই মন্দির শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি উত্তর বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে স্থানীয় জমিদার গোলককৃষ্ণ গোস্বামীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। তাঁর নাম থেকেই আসে “গোলকধাম” নামটি। মন্দিরের দেয়ালে থাকা শিলালিপি আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করে নির্মিত এই মন্দির বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর–এর সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত।
তবে গোলকধাম মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর স্থাপত্যশৈলী। প্রথম দেখাতেই চোখে পড়ে এর ব্যতিক্রমী নকশা। প্রাচীন গ্রিক স্থাপত্যের করিন্থিয়ান কলাম আর মুঘল আমলের খিলানশৈলীর মিশেলে তৈরি এই মন্দির যেন এক অন্যরকম শিল্পকর্ম।
অষ্টভুজাকার কাঠামোর ওপর নির্মিত একতলা এই মন্দিরের উপরে রয়েছে পাঁচটি চূড়া। এ কারণেই অনেকেই একে “পঞ্চরত্ন মন্দির” বলেও চেনেন। প্রবেশপথের পিলারজুড়ে খোদাই করা লতাপাতা আর মুখাবয়বের নকশা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
মন্দিরের সামনে রয়েছে পুরোনো তুলসী মঞ্চ। পাশেই একটি ঐতিহাসিক কুয়া, যেখান থেকে একসময় মন্দিরের জন্য পানি সংগ্রহ করা হতো। চারপাশের নীরব পরিবেশ আর করতোয়ার বাতাস পুরো জায়গাটিকে অন্যরকম এক আবহ এনে দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই মন্দিরকে ঘিরেই ছিল প্রাণবন্ত সনাতনী জনপদ। পূজা, আরতি আর ধর্মীয় উৎসবে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জনপদ প্রায় হারিয়ে গেছে। এখন আশপাশে তেমন কোনো হিন্দু বসতি নেই বললেই চলে।
তবু ইতিহাসের টানে প্রতিদিনই এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। কেউ আসেন স্থাপত্য দেখতে, কেউ ইতিহাস জানতে, আবার কেউ নিভৃতে কিছু সময় কাটাতে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সঠিক সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে গোলকধাম মন্দির উত্তর বাংলার অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি মন্দির নয়, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যবান অংশ।
শত বছরের বেশি সময় ধরে করতোয়ার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা গোলকধাম মন্দির আজও যেন নীরবে বলে যায় বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক গৌরবময় ইতিহাসের কথা।

 

Saturday, May 16, 2026

May 16, 2026

লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীর যেসব সংকেত দেয়, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। প্রতিদিন শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলা, খাবার হজমে সহায়তা করা, শক্তি সঞ্চয় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি তৈরি করার মতো শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গটি। কিন্তু সমস্যা হলো, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলেও শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই দেরিতে বুঝতে পারেন যে শরীরে গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কিছু সাধারণ পরিবর্তনও হতে পারে লিভারের জটিল রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। তাই এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেসব কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
লিভারের বিভিন্ন ধরনের রোগ রয়েছে। এর মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস অন্যতম। হেপাটাইটিস এ, বি ও সি ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া সিরোসিস নামের রোগে লিভারে স্থায়ী দাগ তৈরি হয়। একসময় সুস্থ টিস্যুর জায়গা দাগে ভরে গেলে লিভার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না।
বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া এর বড় কারণ। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেও অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে লিভারে ক্যানসারও দেখা দিতে পারে। আবার শরীরের অন্য অংশের ক্যানসার থেকেও লিভারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
লিভার খারাপ হলে শরীর যেসব সংকেত দেয়
চিকিৎসকদের মতে, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন—
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিসের লক্ষণ)
পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া
শরীরে সহজে কালশিটে পড়ে যাওয়া
ত্বকে অস্বাভাবিক চুলকানি
পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া
চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
ক্ষুধামন্দা
বমি বমি ভাব বা বমি
সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের পায়খানা
রক্তচাপ কমে যাওয়া
বিভ্রান্তি বা ভারসাম্য হারানো
হাত কাঁপা বা শরীরে কম্পন হওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
লিভারের সমস্যা শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করে থাকেন। প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই কিংবা বায়োপসির মতো পরীক্ষাও করতে হতে পারে।
লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সাধারণ অভ্যাস লিভারকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—
অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন
নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখুন
অন্যের রেজর বা ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করবেন না
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ খাবেন না
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
লিভার এমন একটি অঙ্গ, যা দীর্ঘ সময় নীরবে কাজ করে যায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। তাই শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সময়মতো সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই পারে বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে।

 

"
"