সাস্থ্য
August 30, 2026
খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল খাওয়া নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে—কেউ বলছেন খালি পেটেই ফল খেতে হবে, কেউ বলছেন খাবারের পর। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন পর্যায়ে ফল খাওয়া হচ্ছে, তা পুষ্টি শোষণে তেমন প্রভাব ফেলে না।
খাবারের ক্রম নিয়ে ধারণা
‘মিল সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যা অনুযায়ী খাবারের উপাদান কোন ক্রমে খাওয়া হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন, চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে ডায়েটিশিয়ান লরেন মানাকার বলছেন, গবেষণাগারের ফলাফল সবসময় বাস্তব জীবনে একই রকম কাজ করে না।
আঁশ ও প্রোটিনের গুরুত্ব
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শুরুতে আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফল আঁশের ভালো উৎস। তবে তাই বলে ফল আলাদাভাবে বা নির্দিষ্ট ক্রমে খেতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, ‘কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলে না। তাই খাবারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।’
ফলের সঙ্গে কী মিশিয়ে খাবেন
ফলের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। যেমন—
কলার সঙ্গে পিনাট বাটার
আপেলের সঙ্গে বাদাম
ফলের সঙ্গে দই
ক্যান্টালুপ, আম বা এপ্রিকটের সঙ্গে এক মুঠো বাদাম
অ্যাভোকাডো দিয়ে ফলের স্মুদি
পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ
ডায়েটিশিয়ান মানাকার বলেন, ‘ফল কখন খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম তৈরি করলে মানুষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই ছেড়ে দিতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সুপারিশকৃত পরিমাণ ফল খান। সাধারণভাবে পুরুষদের জন্য দৈনিক ২ কাপ এবং নারীদের জন্য দেড় কাপ ফলের পরামর্শ দেওয়া হয়।
খালি পেটে ফল খেতে না পারলেও তা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের যেকোনো সময় তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত বা শুকনো ফল খাওয়া যায়। তবে ক্যানজাত বা শুকনো ফল কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি নেই—এমন বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)