দেশ
August 25, 2026
খেতের টাটকা সবজি বিক্রি করে সচ্ছলতার পথে লতা রায়
খেতভরা বাঙ্গি বাজারে দাম না পেয়ে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি শুরু করেছিলেন লতা রায়। তিন বছর পর সেই ছোট দোকানই এখন তাঁর সচ্ছলতার ঠিকানা। খুলনা-চালনা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই দোকানে এখন নিজের ও প্রতিবেশীদের উৎপাদিত নানা পণ্য বিক্রি করেন তিনি।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুপ্তমারী গ্রামের বাসিন্দা লতা রায়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বিয়ে হয়েছিল মাত্র ১৪ বছর বয়সে। স্বামী পরিতোষ রায় দরজির কাজ করেন। দুই সন্তানের একজন ঢাকায় চাকরি করেন, অন্যজন উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে।
প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠেন লতা। রান্নাবাড়া শেষে খেত থেকে সবজি তুলে বাছাই করে দোকানে নিয়ে আসেন। বেলা ১১টায় দোকান খোলেন। সাজিয়ে রাখেন কুমড়ার ফুল, শসা, বরবটি, উচ্ছে, লেবু, ডুমুর, পাকা-কাঁচা পেঁপে, ঘাটকোল, কচু, কুমড়া, নানা শাক, ডিম, পাকা তেঁতুল, তাল ও তালের ক্বাথ।
শুধু নিজের ফসল নয়, প্রতিবেশী চার শরিকের কাছ থেকেও পণ্য আসে। লতা সব হিসাব খাতায় লিখে রাখেন। সন্ধ্যায় শরিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেন।
দোকানের ক্রেতারা বেশির ভাগ শহরের মানুষ। টাটকা সবজির জন্য তাঁরা দোকানে আসেন। অনেকেই অচেনা সবজি কীভাবে রান্না করবেন, তাও জানতে চান। লতা বুঝিয়ে দেন।
আয় কত হয়—এ প্রশ্নে লতা বলেন, ‘ওই হয় আরকি। তবে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। হাতে নগদ টাকা আছে, খরচ করার স্বাধীনতা আছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, লতার উদ্যোগ এলাকায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। তার দেখাদেখি আশপাশের আরও কয়েকজন নারীও এখন রাস্তার পাশে পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন। মহাসড়ক দিয়ে ফেরা মানুষ এখন গ্রামের খেতের টাটকা সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)