কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, June 6, 2026

June 06, 2026

পিরোজপুরে অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জয়িতা মন্ডল (২১) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জয়িতা মন্ডল ওই গ্রামের পরিতোষ মন্ডলের মেয়ে ও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই ইউনিয়নের অসীম মন্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলছিলেন জয়িতা। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
জয়িতার কাকা হরিপদ মন্ডল জানান, গোসল শেষে তার মা ঘরে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজ করতে থাকেন। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরিবারের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
June 06, 2026

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অষ্টধাতুর দুর্গা বিগ্রহের ইতিহাস: হারানো, লুট হওয়া আর রেপ্লিকা তৈরির গল্প

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ঘিরে থাকা কিংবদন্তি আর ইতিহাসের চেয়ে এখানকার দুর্গা বিগ্রহের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। প্রায় ৮০০ বছরের প্রাচীন এই অষ্টধাতুর দশভুজা দুর্গা মূর্তিকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে আছে একদিকে ধর্মীয় ভক্তি, অন্যদিকে দেশভাগ, লুটপাট ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস।
মন্দিরের স্থায়ী প্রতিমা বা বিগ্রহ হিসেবে পূজিত দেড় ফুট লম্বা দুর্গামূর্তিটি কখনো চুরি হয়েছে, কখনো তৈরি হয়েছে তার রেপ্লিকা বা প্রতিরূপ। বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যে বিগ্রহটি রয়েছে, সেটি তৈরি হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এটি কোনো আদি মূর্তি নয়, বরং একাধিক রেপ্লিকার সর্বশেষ সংস্করণ।
ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজল দেবনাথ জানান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর মন্দির কর্তৃপক্ষ শঙ্কিত হয়ে পড়েন যে এই মূল্যবান বিগ্রহটি হয়তো ধরে রাখতে পারবেন না। তখন ঢাকার তৎকালীন সেবায়েত প্রহ্লাদ মোহন তেওয়ারি ও হরিহর চক্রবর্তী নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী (সম্ভবত দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরী)-র উদ্যোগে বিগ্রহটি কলকাতায় নিয়ে যান। সেখানে কুমারটুলীতে একটি ছোট্ট মন্দির করে 'শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির' নামে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আজও সেখানেই রয়েছে।
এরপর ১৯৪৮ সালে সেবায়েত হেমচন্দ্র চক্রবর্তীর উদ্যোগে ঢাকেশ্বরীর জন্য প্রথম অষ্টধাতুর রেপ্লিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সেই রেপ্লিকাটি লুট হয়ে যায়। ১৯৫১ সালে ভক্তরা আবারও অর্থ সংগ্রহ করে দ্বিতীয় রেপ্লিকা তৈরি করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিশৃঙ্খল রাতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা একদল দুর্বৃত্ত সেবায়েতদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মন্দির থেকে ওই রেপ্লিকা বিগ্রহ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
তারপর ১৯৮৩ সালে বিখ্যাত 'মরণচাঁদ মিষ্টি'র প্রতিষ্ঠাতার ছেলে হরিপদ ঘোষ কলকাতা থেকে তৃতীয় আরেকটি অষ্টধাতুর রেপ্লিকা তৈরি করিয়ে আনেন। কিন্তু ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় 'ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস' সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশে হিন্দুবিরোধী সহিংসতা শুরু হলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। তখন সেই প্রতিমা, সিংহাসন ও অলঙ্কারও লুট হয়।
পরে ১৯৯১ সালে ব্যাংকার দিলীপ দাশগুপ্তের অর্থায়নে ভাস্কর শংকর ধর পুরনো বিগ্রহের আদলে বর্তমান এই অষ্টধাতুর রেপ্লিকাটি তৈরি করেন, আর এর সিংহাসন বানিয়ে দেন চিকিৎসক অরূপ রতন চৌধুরী। এই বিগ্রহই এখন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজিত হয়ে আসছে।
হিন্দু পুরাণ মতে, রাজা বল্লাল সেনের স্বপ্নাদেশে দ্বাদশ শতাব্দীতে ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেবী সতীর মুকুটের রত্ন যেখানে পড়েছিল, সেখানেই এর অবস্থান— তাই এটি একটি পীঠস্থান। ইতিহাসবিদদের মতে, ঢাকেশ্বরী দেবীর নাম থেকেই কালক্রমে 'ঢাকা' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
কলকাতায় থাকা প্রাচীন সেই আদি বিগ্রহ ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি বলে জানান কাজল দেবনাথ। তিনি বলেন, "পীঠস্থানে মা চিরকাল আছেন। পূজা আমরা ঘটে, পটে, প্রতিমা বা বিগ্রহে করি। বিগ্রহটি একটি প্রতীক মাত্র। ঢাকার মা হিসেবে এখানেই মা দুর্গা বিরাজমান।"
তবে ঢাকার এই প্রাচীন বিগ্রহের গল্প এভাবেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, দেশভাগের বেদনা আর বারবার হারিয়ে ফেলা-ফিরে পাওয়ার এক জীবন্ত দলিল হয়ে আছে।



June 06, 2026

দীর্ঘ ১৮ বছরের গবেষণার ফল— চাচাতো-খালাতো বিয়ে বাড়াচ্ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

'ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকুক'— এমন ভাবনা থেকে চাচাতো, খালাতো বা মামাতো ভাইবোনের বিয়ে বহু সমাজে চালু থাকলেও দীর্ঘ এক গবেষণা বলছে, এর ফলে বাড়তে পারে পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত 'বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড' গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে ১৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, রক্তসম্পর্কযুক্ত বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে যেখানে এ ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে কাজিনদের বিয়ের সন্তানদের বেলায় তা বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, এসব শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া, ভাষাগত সমস্যা, বিকাশজনিত ঘাটতি এবং ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি।
গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক জন রাইট ও গবেষক নীল স্মল জানান, একই পরিবারের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিয়ে চলতে থাকলে কিছু ত্রুটিপূর্ণ জিন একত্রিত হয়, যা হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তারা বলছেন, আসল সমস্যা শুধু কাজিন ম্যারেজ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে একই গোষ্ঠীর ভেতরে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা। তাই বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে নরওয়ে ইতোমধ্যে চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে, সুইডেনও একই পথে হাঁটছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সচেতনতা ও শিক্ষাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
গবেষণার ইতিবাচক দিক হলো, কাজিন বিয়ের হার কমছে। ২০০০ সালের দিকে যেখানে এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ, বর্তমানে তা ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিয়ের আগে জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়াকেই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
June 06, 2026

পাইকগাছা উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

খুলনা জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ পাইকগাছা উপজেলা শাখার কার্যক্রম গতিশীল করতে আগামী তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে। শুক্রবার রাতে জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুমন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার রাহুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩১ সদস্যের কমিটিতে দূর্জয় কুমার মন্ডলকে আহ্বায়ক ও অর্ঘ্য মল্লিককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়করা হলেন— শুভ মন্ডল, সৌমিত্র মন্ডল, জ্যোতিময় রায়, পলাশ দে ও লাবণ্য রায়।
অন্যান্য সদস্যরা হলেন— রহিত সরদার, সৌভিক সরকার, গৌরব দত্ত, সুজয় দত্ত, তূ্র্য্যয় দাস, রুদ্র হালদার, শয়ন রায় প্রতিক, নয়ন মন্ডল, বিশাল বৈরাগী, সাগর মন্ডল, পিয়াল রায়, প্রণয় কুমার মন্ডল, দ্রুব মল্লিক, সাগর কবিরাজ, তুষার কুমার মন্ডল, জ্যোতির্ময় পাল, পল্লব ঢালী, আকাচ বাছাড়, প্রীতম ঘোষ, দূর্জয় বিশ্বাস, প্রিতম রায়, চয়ন রায়, অমিতাব ঘোষ ও সীমান্ত মন্ডল। নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন জেলা নেতৃবৃন্দ।

Friday, June 5, 2026

June 05, 2026

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় বরিশাল সদর রোডস্থ আর্যলক্ষ্মী ভবনের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অসিত সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শিমুল সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ নাথ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ড. কালিদাস ভক্ত, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় খাকসেল, রনজিত সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন রায়, শুভদ্বীপ শিকদার শুভসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুবসমাজকে সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, ঐক্য, সংগঠন ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী যুবসমাজ গড়ে তোলাই বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের তরুণদের সম্পৃক্ত করে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
June 05, 2026

চিতলমারীতে ব্যবসায়ী রিপন মন্ডলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: হাসপাতালে খোঁজ নিলেন যুব ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া ভ্যানস্ট্যান্ড এলাকায় হিন্দু ব্যবসায়ী রিপন মন্ডল (৩৫) ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এ হামলায় রিপন মন্ডল গুরুতর আহত হন। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মা চারুলতা মন্ডল, ভাই নিপুণ মন্ডল এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সৌমেন মজুমদারও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালবেলা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে রিপন মন্ডলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ অর্থ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন মন্ডলকে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শিমুল সাহা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আহত ব্যবসায়ীর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সংগঠনের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি উজ্জল ব্যানার্জী ও বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য সাহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিপন মন্ডলকে দেখতে যান। এ সময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় হরিজন ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস, খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি সুশীল দাস, ছাত্র ঐক্য পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সদস্য দিব্য সাহাসহ স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে আহত রিপন মন্ডলের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনের আলোতে একজন ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় পুরো চিতলমারী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সমাজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 
June 05, 2026

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন নিজপাট ইউনিয়নের শ্রীশ্রী শিব মন্দির মহাদেব বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি প্রণত কান্ত দেবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পলাশ দাসকে সভাপতি, অর্জুন বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক এবং বলাই দাসকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ষষ্ঠী প্রসাদ, টিটুল দেব, সুভাষ বিশ্বাস ও চপল দাসকে সহ-সভাপতি এবং রুবেল দাসকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে।
উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যাদবময় বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ কান্তি সেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সদস্য সচিব রজত কান্তি চক্রবর্তী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা ঐক্য পরিষদের সদস্য সুনীল দেবনাথ, জৈন্তাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবারণ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র দেব, সহ-সভাপতি নান্টু ধর ও কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দাস।
এছাড়া সিলেট জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সুমন দেব, জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মিথিল পাল পান্ত ও সদস্য কেশব সিংহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সিলেট জেলা শাখায় পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
June 05, 2026

বরগুনায় তিন নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনায় দুই শিশুকন্যাসহ তিন সনাতনী নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিহত ইতি রানীর পরিবার, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা জানান, ইতি রানী অল্প বেতনে সরকারি ডাকবাংলোতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে শহরের ভূতমারা এলাকায় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগে ডাকবাংলোর একটি কক্ষ পরিষ্কারের জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, পুরো দিনের ফুটেজ প্রকাশ না করে মাত্র দুই ঘণ্টার একটি অংশ দেখানো হয়েছে, ফলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসেনি।
স্বজনরা আরও দাবি করেন, ইতি রানীর কোনো ঋণ, পারিবারিক কলহ বা এমন কোনো সমস্যা ছিল না, যা তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল। এ কারণে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, "এটি যদি আত্মহত্যা হয়, তাহলে ডাকবাংলোতে গিয়ে ঘটানোর কারণ কী? আর দুর্ঘটনা হলে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ কেন আলাদা কক্ষ থেকে উদ্ধার হলো?" এসবের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত দরকার বলে তারা জোর দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা সংখ্যালঘু শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, "গুজব নয়, নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি।" 
June 05, 2026

দিনাজপুরে সাঁওতাল তরুণকে 'মেরে ফেলার' হুমকি ও সংঘবদ্ধ হামলা, নারী সদস্যরা লাঞ্ছিত

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শিক্ষিত তরুণ ও সংগঠক ফিলিমন হেমব্রম (২৭)-এর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে সকালে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বুল্লির মোড় এলাকায় সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ফিলিমনের পথরোধ করেন এবং মোটরসাইকেলের নিচে হাঁস মারা পড়ার অভিযোগ তোলেন। ফিলিমন তা অস্বীকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি এ সময় তিনি "একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?" বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ কথার পরই স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পরিবারের সদস্যরা এসে চাবি ফেরত চাইলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু ওই দিন রাতেই আপোষ-মীমাংসার কথা বলে বুল্লির মোড় বাজারে ডেকে নিয়ে ফিলিমনের ওপর বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এজাহারে বলা হয়েছে, ফিলিমনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা, বোন ও ফুপুসহ পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি ৩০ মে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
পরে ফিলিমন হেমব্রম ১০ জনের নাম উল্লেখ করে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন— সাইদুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, আজাদুল ইসলাম, রেজোয়ান ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম (অপর), মনিরুল ইসলাম, কামাল ইসলাম, দিলদার হোসেন ও রাবেয়া খাতুন। তবে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আদিবাসী নেতারা বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে একজন সচেতন আদিবাসী তরুণকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। "একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?"— এমন বক্তব্য প্রমাণ করে এটি সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আদিবাসী সম্প্রদায় প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহলও বলছেন, এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য পরীক্ষা, তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। 
June 05, 2026

গলাচিপার ৩০০ বছরের দয়াময়ী মন্দির বিলুপ্তির পথে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী দেবী মন্দির চরম অবহেলা ও নদীভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই ধর্মীয় কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে।
স্থানীয় সূত্র ও জনশ্রুতি জানায়, আনুমানিক ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি ছিল এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উপাসনালয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু। দুর্গাপূজা, বারুণী স্নানসহ নানা ধর্মীয় উৎসবে এখানে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটত, মন্দির ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।
কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য আজ ম্লান। মন্দিরের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেয়ালজুড়ে বিশাল বটগাছের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে, শিকড়ের চাপে দেয়াল ও গম্বুজ ফেটে গেছে। ইট ক্ষয়ে গেছে, প্লাস্টার খসে পড়েছে, পুরো চত্বর এখন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা পরিচর্যা না হওয়ায় স্থাপনাটির ঐতিহাসিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে এসেছে নদীভাঙন। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙনের কারণে মন্দিরের আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাচীন স্থাপনা একদিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।এলাকাবাসী বলছেন, "দয়াময়ী মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষী। এটি হারিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা মন্দিরটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তিনশ বছরের এই নিদর্শনকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। 

"
"