কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, July 7, 2026

July 07, 2026

দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার তিনটি দুষ্প্রাপ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার

দিনাজপুরে পৃথক অভিযানে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের তিনটি দুষ্প্রাপ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুর মধ্যে রয়েছে একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং একটি বেলে পাথরের মনসা মূর্তি।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে দিনাজপুর বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পার্বতীপুর উপজেলার মালিপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে ১৩৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়।

পরে একই দিন ভোর ৫টার দিকে কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় পৃথক অভিযানে ১৩ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের মনসা মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়া তিনটি প্রত্নবস্তুর মোট সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য অপরিমেয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

July 07, 2026

কম খেয়েও কেন বাড়তে পারে ওজন? জানুন সম্ভাব্য কারণ

 

অনেকের ধারণা, কম খেলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খাবার কম খাওয়ার পরও ওজন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শুধু অতিরিক্ত ক্যালরি নয়, শরীরের নানা জৈবিক ও জীবনযাপনের কারণও দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো শরীরের মেটাবলিজম (বিপাকক্রিয়া) ধীর হয়ে যাওয়া। বয়স বৃদ্ধি, জিনগত বৈশিষ্ট্য কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়ায়। ফলে অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে পেটের চারপাশে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে অনেকের ওজন বৃদ্ধি দেখা যায়। পাশাপাশি হাইপোথাইরয়েডিজম এবং নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও সাদা রুটি কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

এসব পরিবর্তনের পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

July 07, 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্মশানে শবদাহে বাধার অভিযোগ, জমি বিরোধে উত্তেজনা


ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় একটি শ্মশানে শবদাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ স্থানীয় শ্মশানে সৎকারের জন্য নেওয়া হলে মো. বারকাত মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি শবদাহে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত একজন আহত হন।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডভুক্ত শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই সেখানে শবদাহে বাধা দেওয়ার কোনো আইনগত বা সামাজিক ভিত্তি নেই।

তবে মো. বারকাত মিয়ার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁর পৈতৃকভাবে কেনা সম্পত্তি এবং জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Monday, July 6, 2026

July 06, 2026

তাড়াশে আদিবাসী পরিবারকে হুমকি

সিরাজগঞ্জে জমি বিরোধে আদিবাসী পরিবারকে হুমকির অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণঘোষ গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি আদিবাসী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কর্ণঘোষ মৌজার আরএস ১৩২ নম্বর খতিয়ানের ৬৮০, ৬৮১ ও ৬৭৩ নম্বর দাগের ২৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আদালত ওই জমির বিষয়ে বাসন্তী মাহাতোর পক্ষে রায় দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের রায়ে পরাজিত হওয়ার পর নিয়ামত আলীর ছেলে আব্দুল মালেক, আশরাফুল ইসলাম এবং শাহজাহান আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে বিধবা মেনকা রানী ও বাসন্তী মাহাতোকে পরিবারসহ ১৫ দিনের মধ্যে ভারত চলে যেতে বলেন। পাশাপাশি তাদের জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মেনকা রানী ও বাসন্তী মাহাতোর দাবি, অভিযুক্তরা আগে জমির মালিকানা দাবি করে সিরাজগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগে তারা আরেকটি মামলা করেন, যেখানে অভিযুক্তরা আদালতে মুচলেকা দিয়ে বন্ডে স্বাক্ষর করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরপর দুটি মামলায় পরাজিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ জুন বিকেলে আবারও হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ২ জুলাই তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমির মামলার রায় প্রতিপক্ষের পক্ষে গেছে ঠিকই, কিন্তু কাউকে দেশ ত্যাগের কথা তারা বলেননি।

তাড়াশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

July 06, 2026

ফেনীর ফুলগাজীতে শতবর্ষী দোল মন্দিরে ভাঙচুরের অবিযোগ, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় একটি শতবর্ষী দোল মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বণিকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বণিকপাড়ার শতবর্ষী দোল মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মন্দিরসংলগ্ন একটি জমিকে নিজেদের দাবি করে সেটিকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সজীব বণিক, স্বরূপ বণিক, ঝুমুর বণিক, নুপুর বণিক ও রূপায়ন বণিকসহ কয়েকজন মন্দিরের একটি অংশ ভাঙচুর শুরু করেন। এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সঞ্জিব বণিক গুরুতর আহত হন। এছাড়া অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক, শিল্পী চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা শুভাস বণিকের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তার অভিযোগ, হামলার সময় মন্দিরের একটি অংশ ভেঙে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জিনা বণিক বাদী হয়ে সজীব বণিক, স্বরূপ বণিকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

July 06, 2026

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে যুবককে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক তরুণের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার দুপুরে গুরুদাসপুর থানার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পোস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শিমুল হালদারের বিরুদ্ধে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মুসলিমদের পবিত্র স্থান কাবা শরিফকে নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এর প্রতিবাদে থানার সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শিমুল হালদারের বাবা প্রয়াত নবীন হালদার পেশায় দর্জি ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তাদের বাড়িটি তালাবদ্ধ রয়েছে এবং শিমুল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Sunday, July 5, 2026

July 05, 2026

রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যু, গুরুতর আহত নাতি


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ট্রাকচাপায় বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ বছর ছয় মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারের জুটমিলসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজার এলাকায় একটি ট্রাককে পাশ দিতে গিয়ে সড়কে শুকাতে দেওয়া ধানের খড়ের ওপর মোটরসাইকেলটি পিছলে পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই প্রশান্ত চন্দ্র রায়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নির্মল চন্দ্র রায় ও শিশু বন্ধনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু বন্ধন বর্তমানে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

July 05, 2026

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ, ডিজিটাল ফরেনসিক বাধ্যতামূলক করার আহবান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (HRCBM) বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, হ্যাক হওয়া বা যাচাইবিহীন পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু পরিবার হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

প্রতিবেদনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে HRCBM দাবি করেছে, অভিযোগের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ওই পরিবারের বাড়িঘর, জীবিকার উৎস এবং একটি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের মালিকানা, লগইন ইতিহাস, আইপি ঠিকানা, ডিভাইস বিশ্লেষণ কিংবা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল কি না, তা যাচাই ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে অভিযোগই কার্যত শাস্তিতে পরিণত হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির ব্যত্যয় ঘটছে বলে তারা দাবি করেছে।

HRCBM জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে একই ধরনের অভিযোগে ৭৩ জন সংখ্যালঘু যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া স্ক্রিনশট, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তারের আগে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত, শুধুমাত্র স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার না করা, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিথ্যা অভিযোগ ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি।

HRCBM-এর মতে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

July 05, 2026

প্রকাশ্যে নারীসহ কয়েকজনকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে এক নারীসহ কয়েকজনকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার হাতে একটি চিকন লাঠি নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশে থাকা একজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে ওই নারীকেও মারধর করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি গত ২৭ জুন উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি বাধা দেন। এরপর তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না এবং তিনি প্রায়ই ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

তবে চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ায় তিনি "কঞ্চি দিয়ে শাসন" করেছেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

July 05, 2026

ধর্মকে রাজৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না সরকার

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চরকোশুন্ডা সর্বজনীন কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক কালীপূজা ও ভক্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে এবং কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন। তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" এই নীতিতেই সরকার বিশ্বাস করে।

বিজন কান্তি সরকার আরও বলেন, সরকার সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষায় ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন বা অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মন্দির কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুণ দে, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদারসহ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

"
"