কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, June 14, 2026

June 14, 2026

কিভাবে জন্ম হল গোসল দিবসের, জেনে নিন মজার ইতিহাস

গোসল— কারও কাছে পরম আরাম, কারও কাছে শীতের সকালের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই নিত্যদিনের অভ্যাসের জন্যও রয়েছে আলাদা একটি দিন। প্রতি বছর ১৪ জুন পালিত হয় 'আন্তর্জাতিক গোসল দিবস'। এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মজার গল্প।
ইতিহাস বলে, প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ আর্কিমিডিস একদিন গোসল করার সময় পানির টবে নামতেই লক্ষ্য করেন পানির স্তর উপরে উঠে যাচ্ছে। তখনই তার মাথায় আসে যুগান্তকারী এক ধারণা— কোনো বস্তু পানিতে ডোবালে তা নিজের আয়তনের সমান পানি সরিয়ে দেয়। এই তত্ত্ব আবিষ্কারের উচ্ছ্বাসে তিনি নগ্ন অবস্থাতেই টব থেকে উঠে রাস্তায় দৌড়ে "ইউরেকা! ইউরেকা!" (অর্থ: পেয়ে গেছি, পেয়ে গেছি) বলে চিৎকার করতে থাকেন। এই মজার ঘটনাকে স্মরণ করেই ১৪ জুন দিনটি প্রতীকীভাবে আন্তর্জাতিক গোসল দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
গোসল নিয়ে মানুষের অনুভূতি বরাবরই বিচিত্র। গরমের দিনে ঠান্ডা পানির গোসল যেখানে স্বর্গীয়, সেখানে শীতের সকালে বাথরুমের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট সাহস সঞ্চয় করার অভিজ্ঞতাও অনেকের অজানা নয়। গবেষকেরা বলেন, আরামদায়ক গোসলের সময় মস্তিষ্ক সবচেয়ে সৃজনশীল থাকে। তাই অনেকের কাছেই এটি নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা, জীবনের জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা পুরো গল্প কল্পনা করে ফেলার আদর্শ সময়।
আধুনিক জীবনে গোসল মানে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, এটি মানসিক প্রশান্তিরও এক অনন্য উপায়। তাই আজকের এই দিনে গোসলকে শুধু দৈনন্দিন রুটিন না ভেবে একটু অন্যভাবে দেখা যেতেই পারে। কে জানে, আপনার জীবনের সেরা আইডিয়াটাও হয়তো জন্ম নেবে আজকের গোসলের টব থেকেই। 
June 14, 2026

আনোয়ারায় নিজ বাড়ি থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, আহত শিশু

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার (১৬) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের ৫ বছর বয়সী শিশু পিয়াস বড়ুয়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনি বড়ুয়া খাতুনগঞ্জে নিরাপত্তাকর্মী সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী। প্রতিবেশীরা রাতে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার সামনে মা ও ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এবং ঘরের ভেতরে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, চিৎকার শুনে বাইরে এসে তারা মা-ছেলেকে রক্তাক্ত দেখেন এবং পরে ঘরের ভেতরে মেয়ের দেহ পান, এরপরই পুলিশকে খবর দেন।
স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। ফোন পেয়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রী-সন্তানের এমন পরিণতি দেখেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়ার সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল এবং মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী লিমনের নাম বলেছিলেন।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
June 14, 2026

বগুড়ার শিবগঞ্জের নাম বদলে ‘মহাস্থান’ করার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘মহাস্থান উপজেলা’ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে বাজেট-পরবর্তী আনন্দ মিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শিবগঞ্জ নামে আরেকটি উপজেলা থাকায় প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থন পেলে নাম পরিবর্তন করে ‘মহাস্থান’ রাখা হবে।
উল্লেখ্য, বগুড়ার শিবগঞ্জ ৩১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে জেলার বৃহত্তম উপজেলা। এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শিবগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়ন— মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর, ময়দানহাট্টা ও শিবগঞ্জ সদর নিয়ে ১২৮.৭৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ‘মোকামতলা উপজেলা’ গঠনের অনুমোদন দেয় সরকার।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনেই নাম পরিবর্তনের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘোষণা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
June 14, 2026

কল্পনা চাকমা অপহরণের ৩০ বছর, বিচার দাবিতে ফের জোর আন্দোলনের আহ্বান

অপহরণের পর ৩০ বছর পার হলেও পাহাড়ি নারী নেত্রী কল্পনা চাকমার কোনো খোঁজ মেলেনি। এই দীর্ঘ সময়েও তার অপহরণের বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে কল্পনা চাকমা অপহরণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আদিবাসীসহ সকল নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ কর’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে হিল উইমেন্স ফেডারেশন। কল্পনা চাকমা ছিলেন এই সংগঠনেরই সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, এরপর আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
আলোচনা সভায় এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, "গত ৩০ বছরে কল্পনা আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, তার আদর্শে শত শত কল্পনা চাকমার জন্ম হয়েছে।" বিএনপি সরকারের ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি দ্রুত কার্যকর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাহাড়ে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে একের পর এক দুষ্কর্মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "এটা সেনাবাহিনীর জন্য গৌরবের নয়, বরং লজ্জাজনক।" তাই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন— কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দোষীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিতকরণ, এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীদের নিরাপত্তা ও পার্বত্য সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা। এই দাবিতে আগামীতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা আসে সভা থেকে।

June 14, 2026

বগুড়ার মোকামতলায় তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, তদন্ত শুরু

বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় একই রাতে তিনটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের কানছগাড়ি এলাকায় স্থানীয়রা মন্দিরে গিয়ে এ ভাঙচুর দেখতে পান।
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস হোসেন জানান, কানছগাড়ি মহাশ্মশানের শিব মন্দির, শীতলা মন্দির ও কালী মন্দির— এই তিনটিতেই প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নেন এবং মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্য উজ্জ্বল জানান, প্রতি মাসের মতো শনিবার সকালে তার স্ত্রী পূজা দিতে গেলে ভাঙা প্রতিমা দেখে বিষয়টি প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদকে জানানো হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দত্ত বলেন, "কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। আমরা মন্দির পরিদর্শন করেছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করেছি।"
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Saturday, June 13, 2026

June 13, 2026

কে এই সঞ্জয়, বিশ্বকাপ মাতানোর গল্প, লাল-সবুজের প্রতীক বুকে বিশ্বমঞ্চে

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে তারকাদের ভিড়ে এক ভিন্ন লাল-সবুজের পতাকা উড়লো বিশ্বব্যাপী। পারফর্ম করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় দেব (Sanjoy)। বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে না খেললেও নিজের শিকড় আর সঙ্গীত দিয়ে বাঙালি গর্বের এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করলেন তিনি।
সঞ্জয়ের জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। তার শিকড় প্রোথিত আছে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছননগরে। তিনি সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত চিকিৎসক প্রয়াত ডা. ধীরেন্দ্র দেব চৌধুরীর নাতি। মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবা সন্তোষ দেব ও মা মিতা দেবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান সঞ্জয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা এই তরুণের সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল শৈশবে মায়ের কাছ থেকে তবলা শেখার মধ্য দিয়ে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই কম্পিউটারে নিজের সুর তৈরি শুরু করেন।
সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় স্নাতক করলেও তার পুরো মন পড়ে ছিল সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ২০১১ সাল থেকে বলিউড গানের ফিউশন তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের (EDM) সঙ্গে বলিউডি সুর মিশিয়ে 'Shangri-La'-র মতো গান দিয়ে জিতে নেন VIMA অ্যাওয়ার্ড। 'Slip Away' ট্র্যাকটি উঠে আসে নামী বিলবোর্ড চার্টে। একে একে কোলাবোরেশন করেন মার্কিন গায়ক এলিয়ট ইয়ামিন, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড GOT7-এর মার্ক তুয়ানের সঙ্গে। বলিউডের গুরু রনধাওয়ার 'ম্যান অব দ্য মুন' অ্যালবামেও সঞ্জয়ের কাজ প্রশংসিত হয়েছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার তৈরি 'Sir Sir' গান ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়— সঞ্জয় বিশেষভাবে ডিজাইন করে পরেছেন লাল-সবুজের পতাকা ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মোটিফের জ্যাকেট। এই দেশপ্রেমিক চেতনাই তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
নিয়মিত বাংলাদেশে ফেরা সঞ্জয়ের স্বপ্ন এখন বাংলা মিউজিককে বিশ্বের দরবারে আরও বড় করে তোলা। ফুটবলের বৈশ্বিক আসরেও যে বাংলার প্রতিভা বিশ্ব কাঁপাতে পারে, সঞ্জয় দেব যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ।
June 13, 2026

রাঙামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ার আতঙ্ক, থামেনি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি

"ছেলেদের লাশ দুটো যখন কাঁধে নিলাম, মনে হলো পাহাড়টাই আমার কাঁধে উঠে গেছে"— নয় বছর আগের পাহাড়ধসের সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় রাঙামাটির বাদল দত্তকে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে পড়েছিল তাঁর ঘরের ওপর। সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার পেলেও মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই ছেলে। স্বামী বাদল কোনো রকমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও স্ত্রী ভুলু রানী দুই সন্তানের শোকে এখনো পাথর।
শুধু বাদল দত্তের পরিবার নয়, ওই দিনের ভয়াবহতায় শুধু রাঙামাটিতেই প্রাণ গিয়েছিল ১২০ জনের। বৃহত্তর চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৫৮। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ছয় হাজার ঘরবাড়ি, ১৪২টি স্থানে ঘটে পাহাড়ধসের ঘটনা। কিন্তু এত বড় দুর্যোগের পরও শিক্ষা মেলেনি। এখনো শহরের বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।
ওই দিন সকালের কথা মনে করে বাদল দত্ত বলেন, "হঠাৎ বিকট শব্দ। ঘুম ভেঙে দেখি, পাহাড় এসে পড়েছে ঘরের ওপর।" মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানসহ। পরে বড় ছেলেকে দুই দিন ও ছোট ছেলেকে তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়, তবে প্রাণ ফিরে আসেনি।
পাহাড়ধসের ওপর গবেষণা করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইকবাল সরোয়ারের মতে, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, পাহাড়ের বালুময় মাটি, সড়ক নির্মাণে নির্বিচার পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার চাপেই ওই দুর্যোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। এখনো পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পাহাড়ের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থাপনা বন্ধ এবং আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
শহরের পশ্চিম মুসলিম পাড়ায় ৯ বছর আগে ২০টি পরিবার থাকলেও এখন তা বেড়ে ৬০টিতে পৌঁছেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা আলিম উদ্দিন। নুরুন্নাহার বেগমের মতো অনেকে জানিয়েও বলেন, "ঘর-সংসার ফেলে যাব কোথায়? তাই ঝুঁকি জেনেও থাকি।" অথচ প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, এখনো পৌরসভায় অন্তত ২৯টি পাহাড়ি ঢাল ভূমিধস-ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের এই সময়ে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেই বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবুও থামছে না ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।
June 13, 2026

ঝালকাঠির ঐতিহাসিক বারচালা নাটমন্দির ভেঙে ভবন নির্মাণের উদ্যোগে উদ্বেগ

ঝালকাঠি শহরের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজ জয় নারায়ণ ঘোষালের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বারচালা বা নাটমন্দির ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে শহরে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ও রাজনৈতিক সমাবেশের সাক্ষী এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
সনাতন ধর্মীয় স্থাপত্যে নাটমন্দির হলো মূল মন্দিরের সামনের উন্মুক্ত মণ্ডপ, যা একসময় নৃত্য-সংগীত, কীর্তন, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্র ছিল। স্থানীয়দের মতে, ঝালকাঠির এই বারচালা নাটমন্দিরটি শুধু উপাসনালয়ই নয়, এটি শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সময়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, মাওলানা ভাসানী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসসহ বহু কীর্তিমান নেতা এখানে সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, এত ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি স্থাপনা ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী এবং তা কার স্বার্থে করা হচ্ছে? তারা বলছেন, স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হয়ে থাকলে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক, ধ্বংস নয়। তাদের মতে, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, ১৯৬৮-এর আওতায় এমন স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় বারচালা নাটমন্দির ভাঙার উদ্যোগ বন্ধ করে দ্রুত সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
June 13, 2026

আম্পানে সব হারিয়ে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিরা মণ্ডল

কপোতাক্ষ নদের পাশে কাশির হাটখোলায় ছোট্ট এক মিষ্টির দোকান। কাচের বাক্সে সাজানো রসগোল্লা, চমচম, কালোজামের পাশে দোকান সামলাচ্ছেন হিরা মণ্ডল (৩০)। ছয় বছর আগের ভয়াবহ সেই ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি মনে করেই হেসে বললেন, "নতুন করে শুরু করছি সব।"
হিরার এই দোকান শুধু মিষ্টি বিক্রির জায়গা নয়, এটি এক তিক্ত সংগ্রামের প্রতীক। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাশির হাটখোলা একসময় কপোতাক্ষ নদের ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। সেই হাটে হিরা ও তার স্বামী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের ছিল ছোট্ট মিষ্টির দোকান আর বসতভিটা। স্বপ্ন ছিল, একদিন দোকানে ছানার রসগোল্লা, সন্দেশও বিক্রি হবে।
কিন্তু ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান কপোতাক্ষের সেই স্বপ্ন কেড়ে নেয়। প্রবল বাতাসে উড়ে যায় টিনের চাল, ভেঙে পড়ে দোকানের বেড়া। নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় ভিটেমাটি।
হিরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, "চোখের সামনে সব শেষ হইয়ে গেল। মেয়েডারে নিয়ে শুধু প্রাণটা বাঁচাইছিলাম।" পাঁচ বছরের মেয়ে পূজাসহ পরিবার আশ্রয় নেয় বেড়িবাঁধের ওপর। সেখানেই তাঁবু খাঁটিয়ে চলে অনিশ্চিত জীবন।
সব হারানোর পর হিরা থেমে থাকেননি। স্বামী ভ্যান চালালেও সংসার চালাতে তিনি নেমে পড়েন কপোতাক্ষের নোনা পানিতে, নেট দিয়ে ধরতেন বাগদার পোনা। কিন্তু মনের ভেতর মিষ্টির দোকানের স্বপ্নই বড় হয়ে ফিরে আসে। সমস্যা ছিল, তিনি ছানার মিষ্টি বানাতে জানতেন না। তাই একদিন পাশের এলাকার এক প্রবীণ কারিগরের কাছে গিয়ে বিনা পয়সায় কাজ শেখার প্রস্তাব দেন। হিরার ভাষায়, "উনি বললেন, টাকা দিতি পারব না। আমি বললাম, টাকা লাগবি না, শুধু কাজ শিখাই দেন।" সেভাবেই শেখা হয় রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম তৈরির কৌশল।
গত বছর আবার দোকান গড়ে তোলেন তারা। এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করা এই দোকানে এখন স্বামী-স্ত্রী মিলেই কাজ করেন। প্রতি মাসে কিস্তি তিন হাজার টাকা। হিরা বলেন, "যেদিন বিক্রি কম, সেদিন গাঙে নামতি হয়। স্বামীও মাঝেমধ্যি দিনমজুরি করে। বসে থাকলি চলে না।"
কিন্তু নতুন দুশ্চিন্তা এখন তার বুকে ধরা পড়া টিউমার। বললেন, "ওষুধ শেষ, আবার ডাক্তার দেখাতি হবে।" পাশাপাশি খাসজমিতে গড়া এই ঘরদোর যে কোনো দিন সরাতে হতে পারে, সেই আতঙ্কও তাড়া করে বেড়ায়।
তবু স্বপ্নপূরণের আশায় বুক বেঁধেছেন হিরা। তার ইচ্ছা, সন্তানেরা যেন লেখাপড়া শিখে তার মতো কষ্ট না করে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে পাওয়া মানুষের ভালোবাসার কথাও ভোলেননি তিনি। বলেন, "মেয়ের জন্মের সময় সবাই— হিন্দু-মুসলমান— এগিয়ে আসছিল।"
স্থানীয় শিক্ষক মিহির কান্তি মণ্ডল বলেন, "কপোতাক্ষ হিরার সব কেড়ে নিয়েছে, তবু তিনি থেমে যাননি। তার দোকান এখন শুধু জীবিকা নয়, দুর্যোগে মাথা তোলার এক নারীর প্রতীক।"

Friday, June 12, 2026

June 12, 2026

রাধাগোবিন্দ মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ, উসকানিদাতাদের বিচার দাবি

গাইবান্ধার রাধাগোবিন্দ মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্মল রোজারিওর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা মনীন্দ্র কুমার নাথের পরিচালনায় সভায় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দেশের প্রায় ৫০টি জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা আলোচনায় অংশ নেন। এছাড়া ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঊষাতন তালুকদার, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকারসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ঐক্য পরিষদের একাদশ জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সারা দেশে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করা হবে বলেও জানান নেতারা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৭ ও ৮ জানুয়ারি সংগঠনটির দশম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
"
"