কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, July 5, 2026

July 05, 2026

রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যু, গুরুতর আহত নাতি


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ট্রাকচাপায় বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ বছর ছয় মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারের জুটমিলসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজার এলাকায় একটি ট্রাককে পাশ দিতে গিয়ে সড়কে শুকাতে দেওয়া ধানের খড়ের ওপর মোটরসাইকেলটি পিছলে পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই প্রশান্ত চন্দ্র রায়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নির্মল চন্দ্র রায় ও শিশু বন্ধনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু বন্ধন বর্তমানে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

July 05, 2026

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ, ডিজিটাল ফরেনসিক বাধ্যতামূলক করার আহবান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (HRCBM) বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, হ্যাক হওয়া বা যাচাইবিহীন পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু পরিবার হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

প্রতিবেদনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে HRCBM দাবি করেছে, অভিযোগের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ওই পরিবারের বাড়িঘর, জীবিকার উৎস এবং একটি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের মালিকানা, লগইন ইতিহাস, আইপি ঠিকানা, ডিভাইস বিশ্লেষণ কিংবা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল কি না, তা যাচাই ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে অভিযোগই কার্যত শাস্তিতে পরিণত হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির ব্যত্যয় ঘটছে বলে তারা দাবি করেছে।

HRCBM জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে একই ধরনের অভিযোগে ৭৩ জন সংখ্যালঘু যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া স্ক্রিনশট, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট বা গুজব অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তারের আগে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত, শুধুমাত্র স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার না করা, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিথ্যা অভিযোগ ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি।

HRCBM-এর মতে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

July 05, 2026

প্রকাশ্যে নারীসহ কয়েকজনকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে এক নারীসহ কয়েকজনকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার হাতে একটি চিকন লাঠি নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশে থাকা একজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে ওই নারীকেও মারধর করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি গত ২৭ জুন উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি বাধা দেন। এরপর তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না এবং তিনি প্রায়ই ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

তবে চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ায় তিনি "কঞ্চি দিয়ে শাসন" করেছেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

July 05, 2026

ধর্মকে রাজৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না সরকার

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চরকোশুন্ডা সর্বজনীন কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক কালীপূজা ও ভক্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে এবং কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন। তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" এই নীতিতেই সরকার বিশ্বাস করে।

বিজন কান্তি সরকার আরও বলেন, সরকার সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষায় ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন বা অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মন্দির কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুণ দে, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদারসহ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

Saturday, July 4, 2026

July 04, 2026

আজ কাঁঠাল দিবস, জাতীয় ফল, ‘গরিবের মাংস’

রূপে বেঢপ, গায়ে কাঁটা, অথচ স্বাদে অতুলনীয়— এমনই এক ফল কাঁঠাল। কেউ এর প্রেমে দিওয়ানা, কেউ আবার গন্ধই সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু এই ‘গরিবের মাংস’ খ্যাত ফলটিই যে বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফল। আজ ৪ জুলাই, কাঁঠাল দিবস। বহুমুখী ব্যবহার আর উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

কবি শামীম আজাদের ভাষায়, কাঁঠালকে ভালোবাসতে হয়, নইলে এর স্বাদ বোঝা যায় না। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার খাদ্যাভ্যাস, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ফল। কাঁচা কাঁঠালের তরকারিকে পুষ্টিকর ‘গরিবের মাংস’ বলা হয়, আর পাকা ফলের রসালো কোয়া শুধু মিষ্টি নয়, প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিনেরও উৎস। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় ফল মেলায় কাঁঠালের বিরিয়ানি, বার্গার, কাটলেট, পেস্ট্রি, কেক, এমনকি নকশিপিঠার মতো বিচিত্র সব পদ প্রদর্শিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে এ ফলের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগেনি।

কৃষি তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে, যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, সর্বত্র জন্মানো, সহজলভ্যতা আর সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর যোগাযোগই একে জাতীয় ফলের মর্যাদা এনে দিয়েছে। উদ্ভিদবিদদের ধারণা, ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এর আদি নিবাস।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু হওয়া কাঁঠাল দিবসের মূল বার্তা— দেশের জাতীয় ফলকে নতুন করে চেনা। তাই আজ হাতে একটি পাকা কাঁঠালের কোয়া তুলে নিন, কিংবা রান্নাঘরে তৈরি করে ফেলুন কোনো নতুন পদ। যুগ যুগের চেনা এই ফলকে হয়তো আবার নতুন করে আবিষ্কার করবেন আপনি।


 

July 04, 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র - সুশান্ত দেবনাথ

ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ হয়েছেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সুশান্ত দেবনাথ। পরিবারের দাবি, তিনি বন্ধুর বাড়িতে আসার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছিলেন। তবে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে বন্ধুকে ফোন করার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুশান্ত দেবনাথ পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের কাশিনাথের ছেলে। তিনি নতুনহাট শফিউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গত ১ জুলাই ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে নেমে তিনি বন্ধুকে ফোন করেন। কিন্তু এরপর তিনি বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছাননি। সেই থেকে তার মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ঘটনায় পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুশান্ত দেবনাথের সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা তার পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা।
July 04, 2026

১৫ দিনের আল্টিমেটাম: ছাড়তে হবে ঘর notice পেয়ে দিশেহারা নওগাঁর ১২ হরিজন পরিবার

নওগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোয়ার্টারে ১৯৪৭ সাল থেকে বসবাস করে আসা ভূমিহীন হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে বাসস্থান ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়ে নোটিশ দেওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তারা। গত ১ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। এতে উচ্ছেদের মুখে পড়া পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে মানবিক আশ্রয়ের আকুতি জানিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ওই পরিবারগুলো অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টার দখল করে আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। আনসার সদস্যদের আবাসনের জন্য ভবন মেরামতের প্রয়োজনে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নোটিশে আনা মাদক ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। প্রায় আট দশক ধরে আশ্রিত এসব পরিবারের দাবি, তাদের বিকল্প কোনো বাসস্থান না থাকায় এই আকস্মিক উচ্ছেদ তাদের জীবনকে চরম সংকটে ফেলেছে।

এ অবস্থায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, নওগাঁ জেলা শাখার নেতারা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে পুরো হরিজন সম্প্রদায় এখন প্রশাসনের মানবিক সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন তারা ভিটেমাটি হারিয়ে পথে না বসেন। স্থানীয় সচেতন মহলও প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন।

Friday, July 3, 2026

July 03, 2026

ভগবান শ্রীরামের অবমাননার প্রতিবাদে আজ শহীদ মিনারে ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজের সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্বলন

ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করবে ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার ও জাতীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারকে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে মশাল মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে— কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই আজকের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

তারা দাবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪১ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের কথা তুলে ধরা হয়।

ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ সতর্ক করে জানিয়েছে, আজকের কর্মসূচির পরও যদি তিন কর্মদিবসের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের ব্যানারে ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিলসহ বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাওয়া হবে। দেশের সকল ধর্মপ্রাণ নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন জনতাকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে আজকের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।


 

July 03, 2026

ফেনীতে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফেনীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

প্রধান অতিথি ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি ও বিশেষ অতিথি ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু ছাড়াও জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরালাল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অনিল নাথের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী, সহসভাপতি ডিএন চ্যাটার্জি ও অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট প্রিয়রঞ্জন দত্ত প্রমুখ। বক্তারা সনাতনী সম্প্রদায়ের ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।


 

July 03, 2026

রাজারহাটে প্রেমের ফাঁদে হিন্দু তরুণীর ধর্মান্তর, পারিবারিক ও ধর্মীয় সচেতনতার প্রশ্ন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সুইটি রানী নামের এক তরুণীর নাম পরিবর্তন করে খাদিজাতুল কুবরা রাখা এবং কোর্ট ম্যারেজ করার ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সচেতনতার ওপর নতুন করে জোর দিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ।

তাদের মতে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; সন্তানদের নিজ ধর্ম, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দেওয়া অপরিহার্য। তারা বলছেন, আবেগ বা প্রলোভনের বশে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুতির ঘটনা প্রমাণ করে, পরিবার ও সমাজের উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তোলা।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নিজ ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে উঠেও যদি কেউ মূল্যবোধ ও ধর্মীয় দর্শন সম্পর্কে সচেতন না হন, তবে তা পরিবার ও সমাজের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়। তারা নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় চর্চা ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং ধর্মান্তর বা বিয়ের পেছনের কারণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


 

"
"