কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, June 7, 2026

June 07, 2026

মানিকগঞ্জে ৬৩ বছরের ভিক্ষুক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই যুবক গ্রেপ্তার


মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ৬৩ বছর বয়সী এক নারী ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ষাটঘর তেওতা গ্রামের মৃত মজিদ শেখের ছেলে আশরাফুল (২৬) এবং দক্ষিণ তেওতা গ্রামের আতাব আলীর ছেলে রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ মে দুপুরে ওই নারী ভিক্ষা করতে ষাটঘর তেওতা গ্রামে যান। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে ভিক্ষা দেওয়ার কথা বলে পাশের তৈয়ব মোল্লার বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তারা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন এবং গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।"

 

June 07, 2026

গাইবান্ধার প্রাচীন মন্দির ভাঙার হুমকির ভিডিও ভাইরাল, ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রামগোপালবিন্দ মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (৬ জুন) রাতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্দির ভাঙচুরের হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সারাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঐক্য পরিষদ মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা তৈরি করছে।
সংগঠনটি জানায়, রামগোপালবিন্দ মন্দিরটি শুধু উপাসনালয় নয়, এর সঙ্গে একটি বিদ্যালয়, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ জনকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। একইসঙ্গে মন্দির উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে।
ঐক্য পরিষদ অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
June 07, 2026

অষ্টাদশ শতকের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন: পঞ্চগড়ের শ্রী শ্রী গোলকধাম মন্দির

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী গোলকধাম মন্দির। ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে ভক্ত, পর্যটক ও ইতিহাস-গবেষকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মন্দিরটি উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর স্থাপত্যরীতিতে অষ্টাদশ শতকের শিল্প ও নির্মাণশৈলীর স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। দেবীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে শান্ত ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই মন্দিরটি দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মন্দিরের প্রবেশপথে উভয় পাশে স্থাপিত শৈল্পিক হাতির প্রতিকৃতি এর ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। স্থানীয়ভাবে এই অংশকে ‘হাতি-পথ’ নামে অভিহিত করা হয়। প্রবেশমুখের এই অলংকরণ মন্দিরটির আভিজাত্য ও শিল্পরুচির পরিচয় বহন করে।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে গোলকধাম মন্দির বাংলাদেশের প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অষ্টভুজাকৃতির ভিত্তির ওপর নির্মিত মন্দিরটির মূল কাঠামো অত্যন্ত সুদৃশ্য ও ব্যতিক্রমধর্মী। এর উপরে রয়েছে তিনটি বৃহৎ গম্বুজ এবং চূড়াজুড়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র রত্নাকৃতির মিনার, যা দূর থেকে দেখলে এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। মন্দিরের খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার, অলংকৃত দেয়াল এবং পোড়ামাটির কারুকাজ তৎকালীন শিল্পনৈপুণ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্দিরটির নির্মাণশৈলীতে মোঘল স্থাপত্যধারা ও স্থানীয় কারুশিল্পের এক চমৎকার সংমিশ্রণ দেখা যায়। দেয়ালের অলংকরণ, গম্বুজ নির্মাণের কৌশল এবং নকশার বৈচিত্র্য থেকে সেই সময়ের শিল্প-সংস্কৃতির সমৃদ্ধ চিত্র ফুটে ওঠে।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরটি একসময় জরাজীর্ণ অবস্থায় পৌঁছে যায়। তবে এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমানে এটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে মন্দিরটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ধর্মীয় দিক থেকেও গোলকধাম মন্দিরের গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। বিশেষ করে জন্মাষ্টমী, রাস উৎসব ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরাও এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে ভিড় জমান।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও মন্দিরটি সহজে পৌঁছানো যায়। রাজধানী ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে পঞ্চগড় অথবা দেবীগঞ্জে এসে সেখান থেকে ইজিবাইক, অটোরিকশা বা স্থানীয় যানবাহনে করে শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর গ্রামে অবস্থিত গোলকধাম মন্দিরে পৌঁছানো সম্ভব।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ হিসেবে শ্রী শ্রী গোলকধাম মন্দির আজ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং উত্তরবঙ্গের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যবাহক। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই প্রাচীন স্থাপনাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

 

June 07, 2026

জয়পুরহাটে ধান কাটা নিয়ে বিরোধে দিনমজুর খুন, আটক ১

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটা নিয়ে তর্কের জেরে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসান আলী (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শ্যামল চন্দ্র কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আটক হাসান আলী পাশের ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের বাসিন্দা, যিনি স্থানীয়দের কাছে ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে শ্যামল হাটে যাওয়ার পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। গ্রামের এক জমির ধান কাটার বিষয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্যামল হাটের দিকে রওনা দিলে ক্ষুব্ধ হাসান একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন।
আঘাতে গুরুতর আহত শ্যামল রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসান আলী পালানোর চেষ্টা করলে নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালে স্বামীর মরদেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী দীপালী মালী। তিনি বলেন, "আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেল।"
পুলিশের হেফাজতে থাকা হাসান আলী বলেন, "আমাকে ধান কাটতে বলেছিল, তাই গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করি। পরে লোকজন আমাকে ধরে মারধর করে।"
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম জানান, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, স্বজনরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
June 07, 2026

বাগেরহাটে ফেসবুক লাইভে এসে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় চাঞ্চল্য

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের কাঁঠালতলা এলাকায় লিমন মোল্লা হৃদয় নামে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসার পরপরই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র ও বন্ধুমহলের ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। মৃত্যুর আগে ওই লাইভ ভিডিওতে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় তুলে ধরেন। জানা গেছে, তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনায় পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও নেটিজেনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Saturday, June 6, 2026

June 06, 2026

পিরোজপুরে অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জয়িতা মন্ডল (২১) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জয়িতা মন্ডল ওই গ্রামের পরিতোষ মন্ডলের মেয়ে ও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই ইউনিয়নের অসীম মন্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলছিলেন জয়িতা। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
জয়িতার কাকা হরিপদ মন্ডল জানান, গোসল শেষে তার মা ঘরে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজ করতে থাকেন। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরিবারের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
June 06, 2026

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অষ্টধাতুর দুর্গা বিগ্রহের ইতিহাস: হারানো, লুট হওয়া আর রেপ্লিকা তৈরির গল্প

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ঘিরে থাকা কিংবদন্তি আর ইতিহাসের চেয়ে এখানকার দুর্গা বিগ্রহের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। প্রায় ৮০০ বছরের প্রাচীন এই অষ্টধাতুর দশভুজা দুর্গা মূর্তিকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে আছে একদিকে ধর্মীয় ভক্তি, অন্যদিকে দেশভাগ, লুটপাট ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস।
মন্দিরের স্থায়ী প্রতিমা বা বিগ্রহ হিসেবে পূজিত দেড় ফুট লম্বা দুর্গামূর্তিটি কখনো চুরি হয়েছে, কখনো তৈরি হয়েছে তার রেপ্লিকা বা প্রতিরূপ। বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যে বিগ্রহটি রয়েছে, সেটি তৈরি হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এটি কোনো আদি মূর্তি নয়, বরং একাধিক রেপ্লিকার সর্বশেষ সংস্করণ।
ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজল দেবনাথ জানান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর মন্দির কর্তৃপক্ষ শঙ্কিত হয়ে পড়েন যে এই মূল্যবান বিগ্রহটি হয়তো ধরে রাখতে পারবেন না। তখন ঢাকার তৎকালীন সেবায়েত প্রহ্লাদ মোহন তেওয়ারি ও হরিহর চক্রবর্তী নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী (সম্ভবত দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরী)-র উদ্যোগে বিগ্রহটি কলকাতায় নিয়ে যান। সেখানে কুমারটুলীতে একটি ছোট্ট মন্দির করে 'শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির' নামে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আজও সেখানেই রয়েছে।
এরপর ১৯৪৮ সালে সেবায়েত হেমচন্দ্র চক্রবর্তীর উদ্যোগে ঢাকেশ্বরীর জন্য প্রথম অষ্টধাতুর রেপ্লিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সেই রেপ্লিকাটি লুট হয়ে যায়। ১৯৫১ সালে ভক্তরা আবারও অর্থ সংগ্রহ করে দ্বিতীয় রেপ্লিকা তৈরি করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিশৃঙ্খল রাতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা একদল দুর্বৃত্ত সেবায়েতদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মন্দির থেকে ওই রেপ্লিকা বিগ্রহ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
তারপর ১৯৮৩ সালে বিখ্যাত 'মরণচাঁদ মিষ্টি'র প্রতিষ্ঠাতার ছেলে হরিপদ ঘোষ কলকাতা থেকে তৃতীয় আরেকটি অষ্টধাতুর রেপ্লিকা তৈরি করিয়ে আনেন। কিন্তু ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় 'ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস' সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশে হিন্দুবিরোধী সহিংসতা শুরু হলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। তখন সেই প্রতিমা, সিংহাসন ও অলঙ্কারও লুট হয়।
পরে ১৯৯১ সালে ব্যাংকার দিলীপ দাশগুপ্তের অর্থায়নে ভাস্কর শংকর ধর পুরনো বিগ্রহের আদলে বর্তমান এই অষ্টধাতুর রেপ্লিকাটি তৈরি করেন, আর এর সিংহাসন বানিয়ে দেন চিকিৎসক অরূপ রতন চৌধুরী। এই বিগ্রহই এখন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজিত হয়ে আসছে।
হিন্দু পুরাণ মতে, রাজা বল্লাল সেনের স্বপ্নাদেশে দ্বাদশ শতাব্দীতে ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেবী সতীর মুকুটের রত্ন যেখানে পড়েছিল, সেখানেই এর অবস্থান— তাই এটি একটি পীঠস্থান। ইতিহাসবিদদের মতে, ঢাকেশ্বরী দেবীর নাম থেকেই কালক্রমে 'ঢাকা' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
কলকাতায় থাকা প্রাচীন সেই আদি বিগ্রহ ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি বলে জানান কাজল দেবনাথ। তিনি বলেন, "পীঠস্থানে মা চিরকাল আছেন। পূজা আমরা ঘটে, পটে, প্রতিমা বা বিগ্রহে করি। বিগ্রহটি একটি প্রতীক মাত্র। ঢাকার মা হিসেবে এখানেই মা দুর্গা বিরাজমান।"
তবে ঢাকার এই প্রাচীন বিগ্রহের গল্প এভাবেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, দেশভাগের বেদনা আর বারবার হারিয়ে ফেলা-ফিরে পাওয়ার এক জীবন্ত দলিল হয়ে আছে।



June 06, 2026

দীর্ঘ ১৮ বছরের গবেষণার ফল— চাচাতো-খালাতো বিয়ে বাড়াচ্ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

'ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকুক'— এমন ভাবনা থেকে চাচাতো, খালাতো বা মামাতো ভাইবোনের বিয়ে বহু সমাজে চালু থাকলেও দীর্ঘ এক গবেষণা বলছে, এর ফলে বাড়তে পারে পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত 'বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড' গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে ১৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, রক্তসম্পর্কযুক্ত বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে যেখানে এ ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে কাজিনদের বিয়ের সন্তানদের বেলায় তা বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, এসব শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া, ভাষাগত সমস্যা, বিকাশজনিত ঘাটতি এবং ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি।
গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক জন রাইট ও গবেষক নীল স্মল জানান, একই পরিবারের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিয়ে চলতে থাকলে কিছু ত্রুটিপূর্ণ জিন একত্রিত হয়, যা হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তারা বলছেন, আসল সমস্যা শুধু কাজিন ম্যারেজ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে একই গোষ্ঠীর ভেতরে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা। তাই বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে নরওয়ে ইতোমধ্যে চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে, সুইডেনও একই পথে হাঁটছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সচেতনতা ও শিক্ষাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
গবেষণার ইতিবাচক দিক হলো, কাজিন বিয়ের হার কমছে। ২০০০ সালের দিকে যেখানে এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ, বর্তমানে তা ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিয়ের আগে জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়াকেই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
June 06, 2026

পাইকগাছা উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

খুলনা জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ পাইকগাছা উপজেলা শাখার কার্যক্রম গতিশীল করতে আগামী তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে। শুক্রবার রাতে জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুমন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার রাহুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩১ সদস্যের কমিটিতে দূর্জয় কুমার মন্ডলকে আহ্বায়ক ও অর্ঘ্য মল্লিককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়করা হলেন— শুভ মন্ডল, সৌমিত্র মন্ডল, জ্যোতিময় রায়, পলাশ দে ও লাবণ্য রায়।
অন্যান্য সদস্যরা হলেন— রহিত সরদার, সৌভিক সরকার, গৌরব দত্ত, সুজয় দত্ত, তূ্র্য্যয় দাস, রুদ্র হালদার, শয়ন রায় প্রতিক, নয়ন মন্ডল, বিশাল বৈরাগী, সাগর মন্ডল, পিয়াল রায়, প্রণয় কুমার মন্ডল, দ্রুব মল্লিক, সাগর কবিরাজ, তুষার কুমার মন্ডল, জ্যোতির্ময় পাল, পল্লব ঢালী, আকাচ বাছাড়, প্রীতম ঘোষ, দূর্জয় বিশ্বাস, প্রিতম রায়, চয়ন রায়, অমিতাব ঘোষ ও সীমান্ত মন্ডল। নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন জেলা নেতৃবৃন্দ।

Friday, June 5, 2026

June 05, 2026

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় বরিশাল সদর রোডস্থ আর্যলক্ষ্মী ভবনের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অসিত সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শিমুল সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ নাথ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ড. কালিদাস ভক্ত, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় খাকসেল, রনজিত সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন রায়, শুভদ্বীপ শিকদার শুভসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুবসমাজকে সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, ঐক্য, সংগঠন ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী যুবসমাজ গড়ে তোলাই বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের তরুণদের সম্পৃক্ত করে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
"
"