কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, May 19, 2026

May 19, 2026

সকালে এই ছোট অভ্যাসগুলোই লিভারকে রাখতে পারে সুস্থ

লিভার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি প্রতিদিন শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে, চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি জমা রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো, বেশিরভাগ মানুষ লিভারের যত্ন নেওয়ার কথা তখনই ভাবেন, যখন সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরের সময়টা শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাকে শরীরের “রিসেট পিরিয়ড” বলা যায়, কারণ রাতভর লিভার শরীর পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যায়। তাই দিনের শুরুটা ঠিকভাবে করলে লিভারের কাজ আরও ভালোভাবে চলতে পারে।
সকালের সবচেয়ে সহজ ও উপকারী অভ্যাস হলো এক গ্লাস পানি পান করা। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর অনেকটা পানিশূন্য থাকে। কুসুম গরম পানি হজমে সাহায্য করে, রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং শরীরের বর্জ্য বের করতে সহায়তা করে। কেউ কেউ লেবু মিশিয়ে পানি পান করেন, যা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে শরীরের মেটাবলিজমে সহায়তা করে।
এরপর হালকা হাঁটা বা কিছু স্ট্রেচিং করলে শরীর সক্রিয় হয়। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং শরীরের কার্যক্রম আরও সুষমভাবে চলতে থাকে। নিয়মিত এ ধরনের অভ্যাস ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।
সকালের নাশতা লিভারের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। বেশি চিনি বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে ওটস, ডিম, ফল, দই, ডাল বা আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া ভালো। এগুলো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
পরিমিত কফিও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে এক থেকে দুই কাপ সাধারণ কফি লিভারকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম যোগ করা এড়িয়ে চলা ভালো।
ঘুমের নিয়মও লিভারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা শরীরের বডি ক্লক ঠিক রাখে, যা লিভারের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখে।
অন্যদিকে “ডিটক্স” ড্রিংক বা সাপ্লিমেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ঠিক নয়। লিভার নিজেই শরীর পরিষ্কার করার কাজ করে, তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সব মিলিয়ে, সকালে পানি পান, হালকা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর নাশতা এবং নিয়মিত ঘুমের মতো সাধারণ অভ্যাসগুলোই দীর্ঘমেয়াদে লিভারকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

 

May 19, 2026

নড়াইলে মেলার ভিড়ে কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

নড়াইল সদর উপজেলার পঙ্কবিলায় নামযজ্ঞের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন পূর্বা সোম (২১) নামে এক কলেজছাত্রী। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে পঙ্কবিলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পূর্বা সোম ভাওয়াখালী এলাকার পরিতোষ সোমের মেয়ে এবং নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঙ্কবিলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে তিনদিনব্যাপী নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে যান পূর্বা। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার আগে মেলার ভেতরে একটি দোকানে পান কিনতে দাঁড়ান তিনি।
এ সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় পূর্বাকে উদ্ধার করে দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, কোমরের পেছনে আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পূর্বার বাবা পরিতোষ সোম বলেন, “পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটবে কখনো ভাবিনি।” তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাকেও দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছিল। পরপর দুই হামলার ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ড বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
May 19, 2026

বরিশালে উদ্ধার রহস্যময় প্রাচীন মূর্তি, শেষ পর্যন্ত স্থাপন করা হলো মন্দিরে

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁখ গ্রামে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি কষ্টিপাথরের প্রাচীন মূর্তিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মূর্তিটি উদ্ধারের পর কয়েকদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা, মতবিরোধ ও নানা নাটকীয় পরিস্থিতির পর অবশেষে সোমবার সেটি গ্রামের একটি মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি একটি জায়গায় মাটি কাটার সময় হঠাৎ শক্ত কোনো বস্তুর সন্ধান পান। পরে মাটি সরিয়ে দেখা যায়, সেটি কষ্টিপাথরের তৈরি একটি প্রাচীন মূর্তি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন।
অনেকেই ধারণা করছেন, এটি বহু পুরনো কোনো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় নিদর্শন হতে পারে।
মূর্তি উদ্ধারের পর সেটি কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে এলাকায় কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলতে থাকে। একদল স্থানীয় বাসিন্দা মূর্তিটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি ছিল, এটি স্থানীয় মন্দিরে সংরক্ষণ করা উচিত।
এ নিয়ে গ্রামজুড়ে উত্তেজনাও তৈরি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সোমবার সকালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূর্তিটি গ্রামের মন্দিরে স্থাপন করা হয়।
এ সময় পূজা, প্রার্থনা ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, বহু বছর আগে কোনো প্রাচীন মন্দির বা ধর্মীয় স্থাপনার অংশ হিসেবে মূর্তিটি মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মূর্তিটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন। এলাকাবাসীর আশা, বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত হলে এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
May 19, 2026

অবহেলায় জৌলুস হারাচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়ীয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন এক ঐতিহাসিক স্থাপনা—সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির। স্থানীয়দের কাছে এটি “সোনাবাড়িয়া মঠ” কিংবা “শ্যাম সুন্দর মন্দির” নামেও পরিচিত। তবে মন্দিরের গায়ে থাকা শিলালিপিতে এর নাম উল্লেখ রয়েছে “শ্যাম সুন্দর নবরত্ন মন্দির” হিসেবে।
সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যেরও অংশ। পুরো সোনাবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে আজও ছড়িয়ে আছে মধ্যযুগীয় নানা পুরাকীর্তির চিহ্ন।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ৪০০ বছর পুরোনো এই মন্দিরটি ১৭৬৭ সালে নির্মাণ করা হয়। কেউ কেউ বলেন হরিরাম দাস, আবার কেউ বলেন দুর্গাপ্রিয় দাস এর নির্মাতা ছিলেন। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু ত্রিতল বিশিষ্ট এই নবরত্ন মন্দিরের পাশে রয়েছে পৃথক দুর্গা মন্দির ও শিবমন্দিরও।
পিরামিড আকৃতির স্থাপত্যশৈলী, ধাপে ধাপে নির্মিত গম্বুজ এবং উপরের রত্নাকৃতি চূড়া মন্দিরটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। ভেতরের অলিন্দ, মণ্ডপ, প্রকোষ্ঠ ও কারুকাজ এখনো দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, একসময় ভারতীয় সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসও এই মঠে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। সেই থেকেই মঠটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে মন্দিরটির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, কারুকাজ নষ্ট হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্যের জৌলুস।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মন্দিরটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হারিয়ে যেতে পারে।

 

May 19, 2026

অসুস্থতা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, আবারও পড়াশোনায় ফিরতে চান তন্ময়

দীর্ঘ এক বছর ধরে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা বন্ধ ছিল তরুণ শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার তনুর। তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আগামী মাস থেকে আবারও পড়াশোনায় ফিরতে চান তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন পরিবার ও স্বজনরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংখ্যালঘু প্রতিনিধি হিসেবেও পরিচিত তন্ময় জানান, গত দেড় বছরে তিনি একের পর এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে দুইবার প্রায় দুই লিটার পানি বের করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আবারও সেখানে পানি জমছে।
বর্তমানে তিনি যক্ষ্মা (টিবি) রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি। প্রায়ই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর ওঠে। দীর্ঘদিনের অ্যাজমার কারণে শ্বাসকষ্টও এখন অনেক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি দুইবার রক্তকাশির ঘটনাও ঘটেছে।
তন্ময়ের ভাষায়, “অনেক সময় কাশির কারণে নিজেকে সামলে রাখাও কঠিন হয়ে যায়।”
শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, মানসিকভাবেও কঠিন সময় পার করছেন তিনি। গত দেড় বছরে স্ট্রোক, এনজাইটি ডিসঅর্ডার, প্যানিক ডিসঅর্ডার এবং তীব্র মাইগ্রেনের মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ক্রমাগত ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা এবং স্বাভাবিকভাবে খেতে না পারাও তাকে ভোগাচ্ছে।
তন্ময় বলেন, “আমি জানি না সামনে আরও কী পরিস্থিতি আসবে। শুধু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন ধৈর্য ধরে সবকিছু মোকাবিলা করতে পারি। শারীরিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছি, কিন্তু মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছি। এক বছর পর আবার পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ পেয়েছি, এবার আর পিছিয়ে যেতে চাই না।”
তার এই সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন।


 

Monday, May 18, 2026

May 18, 2026

খুলনায় গভীর রাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ফার্মেসির মালিক খোকা নিহত

খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত শ্রী ভবতোষ মৃধা খোকা (৪৫) স্থানীয় গিলাবাড়ি বাজারের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে ঘরের বেড়ার নিচের অংশে মাটি সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢোকার পর পরিবারের সদস্যরা টের পেলে হঠাৎ তারা ভবতোষ মৃধাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
এ সময় তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ভোর ৫টার দিকে ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী বলেন, কয়েক দিন ধরেই এলাকায় চোরের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছিল। ঘটনার রাতে হঠাৎ করেই হামলা হয় এবং চোখের সামনে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং অপরাধীদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

 

May 18, 2026

মধ্যরাতে মাদারীপুরে হৃদয়বিদারক ঘটনা, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন চিত্ময় দাস, তার স্ত্রী ইশা দাস এবং তাদের ৮ মাস বয়সী সন্তান।
রোববার (১৭ মে) দিবাগত মধ্যরাতে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। সোমবার (১৮ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
পুলিশ জানায়, শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন ওই পরিবার। ঘটনার দিন বিকেলে চিত্ময় দাস তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাসায় আসেন। পরে রাতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, পাশের কক্ষে থাকা এক নারী ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তবে কীভাবে এই মৃত্যু ঘটেছে—এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



May 18, 2026

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইনজীবী মিতা সাহার মৃত্যু

ঝিনাইদহে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালানোর সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মিতা সাহা (৪৭)। শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মিতা সাহা ঝিনাইদহ শহরের কেসি কলেজ পাড়ার বাসিন্দা ও শ্যামল কুমার সাহার স্ত্রী। তার মৃত্যুতে জেলা আইনজীবী সমিতিসহ পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সহকর্মী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলাউদ্দীন আজাদ জানান, গত ৭ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির চাকলাপাড়া এলাকায় পূজার প্রদীপ জ্বালানোর সময় অসাবধানতাবশত তেলভর্তি প্রদীপ শরীরের ওপর পড়ে যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়।
প্রথমে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার তিনি মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার মেয়ে তাথৈ ঝিনাইদহ জেলা শিল্পকলা একাডেমির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের মদনমোহন মন্দির প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর চাকলাপাড়ার মহিষাকুন্ডু শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একরামুল আলম জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে তার স্মরণে ফুলকোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে।

 

May 18, 2026

‘শয়তানের নিশ্বাস’ দিয়ে নার্সকে বশ করে সর্বস্ব নিয়ে পালাল প্রতারকরা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত ভয়ংকর মাদক ব্যবহার করে এক নার্সের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। রোববার (১৭ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নার্স নীলিমা রানী বেপারীর পরিবারের দাবি, প্রতারকেরা তার গলার চেইন, কানের ঝুমকা, হাতের রুলি, আংটি এবং দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে গেছে। এসবের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।
নীলিমা রানী জানান, বাজারে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তি তাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে কথা বলা শুরু করেন। পরে আরও কয়েকজন এসে তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাকে বাজারের বিভিন্ন দোকানে নিয়ে ঘোরাফেরা করায়।
তিনি বলেন, “কীভাবে আমি নিজের গায়ের স্বর্ণালঙ্কার খুলে তাদের হাতে দিয়েছি, সেটা এখন ঠিকভাবে মনে করতে পারছি না।”
নীলিমার স্বামী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর বড়াল জানান, ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রীর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তিনি ধারণা করছেন, কোনো ধরনের মাদক প্রয়োগ করেই প্রতারকেরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
চিকিৎসক আসাদুজ্জামান বলেন, স্কোপোলামিন বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মাদক। এটি কাগজ, কাপড় বা কার্ডের মাধ্যমে নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িকভাবে নিজের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অপরাধীদের কথামতো কাজ করতে থাকেন।
তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, অপরিচিত কারও দেওয়া কোনো কাগজ, কাপড় বা বস্তু নাকের কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

May 18, 2026

পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে নিজ ঘরে এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তার মা ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে চিংড়ির রেনু সংগ্রহ করতে যান। এ সময় বাড়ির টিনশেড ঘরে একাই ছিলেন ওই কলেজছাত্রী। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মুখোশধারী দুজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাকে জিম্মি করে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তিনি সাহস করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ঘরের বেড়ার নিচের অংশে মাটি খোঁড়া দেখতে পান। পরে ভুক্তভোগী তাদের পুরো ঘটনা জানান।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

"
"