দেশ
July 31, 2026
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রানজেনডার নারী তাননোভা আনান শিশিরের হিন্দু রীতিতে বিয়ে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আলোচিত প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হওয়া বিবাহ হিসেবে উল্লেখ করলেও, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা তালিকা পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, তাসনুভা আনান শিশির জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচিত করেন। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশ্যে পরিচিত ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পুরুষকে হিন্দু রীতিতে বিবাহ করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সিঁথিতে সিঁদুর ও হাতে শাঁখা পরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই অনুষ্ঠান ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজের একাংশ এটিকে ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, অনেকে হিন্দু শাস্ত্র, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রচলিত বিবাহবিধির আলোকে প্রশ্ন তুলেছেন।
সনাতন ধর্মে বিবাহকে পবিত্র সংস্কার মনে করা হয়। তবে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বিবাহ সম্পর্কে বেদ, উপনিষদ বা স্মৃতিশাস্ত্রে সুস্পষ্ট ও সর্বসম্মত কোনো বিধান নেই—এমনটাই জানাচ্ছেন ধর্মীয় পণ্ডিতরা। একারণে বিষয়টিকে নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়ে আচার্য, পুরোহিত ও পণ্ডিতদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কেউ শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী নারী-পুরুষের বিবাহকেই স্বীকৃত মনে করেন, আবার কেউ কেউ মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.png)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)