কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, May 17, 2026

May 17, 2026

প্রস্রাবে সামান্য অস্বাভাবিকতাই হতে পারে বড় রোগের সতর্ক সংকেত

প্রস্রাবে হালকা জ্বালাপোড়া, রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন বা কোমরের নিচে অস্বস্তি—এগুলোকে অনেকেই খুব সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। কেউ ভাবেন পানি কম খেয়েছেন, কেউ মনে করেন বয়সের প্রভাব বা সাধারণ ইনফেকশন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীর অনেক সময় ছোট ছোট উপসর্গের মাধ্যমেই বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট বা ইউরেটারের মতো মূত্রনালির ক্যানসার অনেক সময় শুরুতে খুব ধীরে এবং নীরবে এগোয়। প্রথমদিকে লক্ষণ এতটাই হালকা থাকে যে সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু এই উপসর্গগুলো মাসের পর মাস অবহেলা করলে রোগ ধীরে ধীরে জটিল আকার নিতে পারে এবং শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া, এমনকি একবার হলেও। এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, দুর্বল প্রবাহ, রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়া এবং তলপেট বা কোমরে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকাও অবহেলা করা উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেটের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। তাই নিজে থেকে ধারণা না করে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রস্রাব পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা প্রয়োজন হলে অন্যান্য স্ক্যানের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ধরা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ক্যানসার যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। অস্ত্রোপচার বা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু দেরি হলে তা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তখন চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়।
ঝুঁকির দিক থেকেও সবাই সমান নন। ৫০ বছরের বেশি বয়স, ধূমপানের অভ্যাস, রাসায়নিক কাজে যুক্ত থাকা বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সেটিকে অবহেলা না করা। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা ভবিষ্যতের বড় জটিলতা থেকে বাঁচাতে পারে।


 

May 17, 2026

নিজ ঘর থেকে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাই কর্মকার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিজ বাড়ি থেকে রাই কর্মকার (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণকার পট্টি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রাই কর্মকার স্থানীয় বাসিন্দা রনজিৎ কর্মকারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও এলাকাবাসী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে রাইয়ের ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে রাইকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গলাচিপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক কোনো সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাইয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রাই শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিল। তার মৃত্যুতে সবাই হতবাক।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

 

May 17, 2026

গুপ্তযুগের শিল্পঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী, আমেরিকার জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন শিবমুখ

খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর ভারতবর্ষ, অর্থাৎ গুপ্তযুগকে উপমহাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ বলা হয়। সেই সময়কার শিল্পঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত একটি টেরাকোটার ভগ্ন প্রতিমা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে Philadelphia Museum of Art–এ।
শিল্পবিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভগবান শিবের একটি প্রাচীন মুখাবয়ব, যা গুপ্তযুগের নন্দনতত্ত্ব, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং ধর্মীয় শিল্পচর্চার অসাধারণ উদাহরণ বহন করে।
প্রতিমাটির মুখের অভিব্যক্তিতে যেমন রয়েছে শান্ত সৌম্য ভাব, তেমনি রয়েছে এক ধরনের গম্ভীর আধ্যাত্মিকতা। কপালের তিলকচিহ্ন, জটাজুটের অলংকরণ এবং সূক্ষ্ম নকশা দেখে সহজেই বোঝা যায়, সেই সময়কার শিল্পীরা কতটা নিখুঁত দক্ষতায় কাজ করতেন।
মাটির তৈরি এই ভাস্কর্যটি শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও আজও শিল্পরসিক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, উপমহাদেশের এই ঐতিহাসিক নিদর্শন এখন আর তার নিজভূমিতে নেই; বরং স্থান পেয়েছে বিদেশের একটি জাদুঘরে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ঔপনিবেশিক শাসনামল এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের অসংখ্য প্রত্নসম্পদ, দেবদেবীর মূর্তি, মন্দিরের ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন নানা উপায়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউরোপ ও আমেরিকার বহু জাদুঘরে আজও ছড়িয়ে রয়েছে সেইসব অমূল্য ঐতিহ্য।
গবেষকদের ভাষ্য, সে সময় “সংগ্রহ” বা “সংরক্ষণ”-এর নামে উপমহাদেশের বহু শিল্পকর্ম বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ফলে স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজেদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত ভারতীয় ও উপমহাদেশীয় প্রত্নসম্পদ ফিরিয়ে আনার দাবিও ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। সংস্কৃতিপ্রেমী ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন শুধু শিল্পকর্ম নয়; এগুলো একটি জাতির সভ্যতা, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ।
তাদের মতে, এ ধরনের ঐতিহাসিক প্রতিমা ও প্রত্নসম্পদের যথাযথ সংরক্ষণের পাশাপাশি নিজভূমিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। কারণ ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।
শত শত বছর আগের এই ভগ্ন শিবমুখ আজও যেন নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয়, উপমহাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ঐশ্বর্য একসময় কতটা সমৃদ্ধ ছিল।

 

May 17, 2026

করতোয়ার পাড়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ১৮০ বছরের ইতিহাস, পঞ্চগড়ের গোলকধাম মন্দির আজও বিস্ময়

পঞ্চগড়ের গোলকধাম মন্দির

বাংলাদেশের একেবারে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। সবুজ প্রকৃতি আর নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের বুকেই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১৮০ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক স্থাপনা— গোলকধাম মন্দির। সময় বদলেছে, বদলেছে চারপাশের জনপদও। কিন্তু করতোয়া নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মন্দির যেন এখনো অতীত বাংলার গল্প শুনিয়ে যায়।
দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত এই মন্দির শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি উত্তর বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে স্থানীয় জমিদার গোলককৃষ্ণ গোস্বামীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। তাঁর নাম থেকেই আসে “গোলকধাম” নামটি। মন্দিরের দেয়ালে থাকা শিলালিপি আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করে নির্মিত এই মন্দির বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর–এর সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত।
তবে গোলকধাম মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর স্থাপত্যশৈলী। প্রথম দেখাতেই চোখে পড়ে এর ব্যতিক্রমী নকশা। প্রাচীন গ্রিক স্থাপত্যের করিন্থিয়ান কলাম আর মুঘল আমলের খিলানশৈলীর মিশেলে তৈরি এই মন্দির যেন এক অন্যরকম শিল্পকর্ম।
অষ্টভুজাকার কাঠামোর ওপর নির্মিত একতলা এই মন্দিরের উপরে রয়েছে পাঁচটি চূড়া। এ কারণেই অনেকেই একে “পঞ্চরত্ন মন্দির” বলেও চেনেন। প্রবেশপথের পিলারজুড়ে খোদাই করা লতাপাতা আর মুখাবয়বের নকশা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
মন্দিরের সামনে রয়েছে পুরোনো তুলসী মঞ্চ। পাশেই একটি ঐতিহাসিক কুয়া, যেখান থেকে একসময় মন্দিরের জন্য পানি সংগ্রহ করা হতো। চারপাশের নীরব পরিবেশ আর করতোয়ার বাতাস পুরো জায়গাটিকে অন্যরকম এক আবহ এনে দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই মন্দিরকে ঘিরেই ছিল প্রাণবন্ত সনাতনী জনপদ। পূজা, আরতি আর ধর্মীয় উৎসবে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জনপদ প্রায় হারিয়ে গেছে। এখন আশপাশে তেমন কোনো হিন্দু বসতি নেই বললেই চলে।
তবু ইতিহাসের টানে প্রতিদিনই এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। কেউ আসেন স্থাপত্য দেখতে, কেউ ইতিহাস জানতে, আবার কেউ নিভৃতে কিছু সময় কাটাতে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সঠিক সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে গোলকধাম মন্দির উত্তর বাংলার অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি মন্দির নয়, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যবান অংশ।
শত বছরের বেশি সময় ধরে করতোয়ার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা গোলকধাম মন্দির আজও যেন নীরবে বলে যায় বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক গৌরবময় ইতিহাসের কথা।

 

Saturday, May 16, 2026

May 16, 2026

লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীর যেসব সংকেত দেয়, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। প্রতিদিন শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলা, খাবার হজমে সহায়তা করা, শক্তি সঞ্চয় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি তৈরি করার মতো শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গটি। কিন্তু সমস্যা হলো, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলেও শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই দেরিতে বুঝতে পারেন যে শরীরে গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কিছু সাধারণ পরিবর্তনও হতে পারে লিভারের জটিল রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। তাই এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেসব কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
লিভারের বিভিন্ন ধরনের রোগ রয়েছে। এর মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস অন্যতম। হেপাটাইটিস এ, বি ও সি ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া সিরোসিস নামের রোগে লিভারে স্থায়ী দাগ তৈরি হয়। একসময় সুস্থ টিস্যুর জায়গা দাগে ভরে গেলে লিভার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না।
বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া এর বড় কারণ। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেও অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে লিভারে ক্যানসারও দেখা দিতে পারে। আবার শরীরের অন্য অংশের ক্যানসার থেকেও লিভারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
লিভার খারাপ হলে শরীর যেসব সংকেত দেয়
চিকিৎসকদের মতে, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন—
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিসের লক্ষণ)
পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া
শরীরে সহজে কালশিটে পড়ে যাওয়া
ত্বকে অস্বাভাবিক চুলকানি
পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া
চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
ক্ষুধামন্দা
বমি বমি ভাব বা বমি
সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের পায়খানা
রক্তচাপ কমে যাওয়া
বিভ্রান্তি বা ভারসাম্য হারানো
হাত কাঁপা বা শরীরে কম্পন হওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
লিভারের সমস্যা শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করে থাকেন। প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই কিংবা বায়োপসির মতো পরীক্ষাও করতে হতে পারে।
লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সাধারণ অভ্যাস লিভারকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—
অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন
নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখুন
অন্যের রেজর বা ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করবেন না
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ খাবেন না
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
লিভার এমন একটি অঙ্গ, যা দীর্ঘ সময় নীরবে কাজ করে যায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। তাই শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সময়মতো সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই পারে বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে।

 

May 16, 2026

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

সুবর্ণা মোহন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর এক সাবেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ওই নারীর নাম সুবর্ণা মোহন্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তার নাম রাখা হয় সুবর্না সেলিম। পরে তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।
তবে সময়ের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই সুবর্ণার জীবনে নেমে আসে নানা প্রতিকূলতা।
স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছেদের পর তিনি আর্থিক সংকট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে তাকে অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে এবং মানুষের কাছে সহায়তা চাইতে দেখা গেছে বলেও অনেকে জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, অসুস্থ সন্তানের যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পারার কারণে শিশুটিরও মৃত্যু হয়। এরপর তিনি আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করার পর সম্প্রতি তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অনেকে এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নারীর আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করছেন।
সচেতন মহলের একাংশের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, সংকটে পড়া একজন মানুষ যেন সমাজ ও পরিবারের সম্পূর্ণ সহায়তাহীন না হয়ে পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক সহায়তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

 

May 16, 2026

বিছানাকান্দিতে পানির স্রোতে তলিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ক্যাম্পাসে শোক

শান্ত বণিক

বিছানাকান্দি–তে ঘুরতে গিয়ে পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর এক শিক্ষার্থী। নিহত শিক্ষার্থীর নাম শান্ত বণিক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সহপাঠীদের সঙ্গে ভ্রমণে গিয়ে বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বিছানাকান্দির জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানিতে নামেন শান্ত। এ সময় প্রবল স্রোতে তিনি তলিয়ে যান।
সঙ্গে থাকা দুই সহপাঠী কোনোভাবে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শান্তকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি। তাদের দাবি, দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ডুবুরি দল শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করা হয়।
শান্তর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাকে শান্ত স্বভাবের ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করছেন।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকাল ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিছানাকান্দি এলাকায় পানির স্রোত হঠাৎ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই পর্যটকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

May 16, 2026

কুমিল্লায় ঋণের কিস্তি নিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা

কুমিল্লায় ঋণের কিস্তি নিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা

কুমিল্লায় একটি এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, এনজিও কর্মীরা রাতের বেলায় বাড়িতে গিয়ে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা “পল্লী মঙ্গল” নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। কয়েকটি কিস্তি পরিশোধ করার পর আর্থিক সংকটের কারণে পরবর্তী কিস্তি সময়মতো দিতে পারেননি। এর জেরে এনজিওর মাঠকর্মী মোঃ মিরাজ হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাড়িতে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিস্তির টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর এনজিওর জিম্মাদার ও কয়েকজন কর্মী ভুক্তভোগী নারীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তার স্বামীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহত দম্পতিকে উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার রাতেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগের পর এনজিওটির স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারকে বদলি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এনজিওর জিম্মাদার ও ফিল্ড অফিসার একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের থানায় ডেকেও জিম্মাদার উপস্থিত হননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে কোনোভাবেই শারীরিক নির্যাতন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুযোগ নেই। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির জন্যও হুমকিস্বরূপ।
তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

 

Friday, May 15, 2026

May 15, 2026

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে ভক্তদের ক্ষোভ

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কার্যক্রম, নির্বাচনী প্রচারণা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠায় সাধারণ ভক্ত ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু একটি পূজার স্থান নয়, বরং এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের পবিত্র পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভক্তদের অভিযোগ, মন্দির প্রাঙ্গণ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সভা, দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচারণার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে গীতার বাণী সংবলিত স্থানে নির্বাচনী স্টিকার লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনেক ভক্তের ভাষ্য, একটি জাতীয় মন্দিরের পরিবেশ সব ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য সমানভাবে শান্ত, পবিত্র ও নিরপেক্ষ থাকা উচিত। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় প্রচারণা চললে সাধারণ দর্শনার্থী ও উপাসকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে ধর্মীয় শ্লোক বা পবিত্র স্থাপনার ওপর স্টিকার লাগানোর মতো ঘটনাকে তাঁরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মন্দিরের কিছু অংশ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ধর্মীয় স্থানের আধ্যাত্মিক মর্যাদার চেয়ে আর্থিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর পবিত্রতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি–র ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেক সচেতন নাগরিক ও ভক্তদের দাবি, হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর অবস্থান খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ ভক্তরা মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিভাজনের ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়। বরং এসব স্থান হওয়া উচিত প্রার্থনা, ধ্যান, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র। তাঁদের দাবি, জাতীয় মন্দিরে রাজনৈতিক সভা, দলীয় প্রচারণা ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন ভক্তরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ঐক্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।
সনাতনী সমাজের একাধিক সদস্য বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঢাকেশ্বরী মন্দির দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে। তাই এই স্থানের মর্যাদা রক্ষায় সব পক্ষকে সংবেদনশীল ও সতর্ক থাকা জরুরি।

 

May 15, 2026

৩৫-এর পর নারীদের শরীরে শুরু হয় নীরব হাড় ক্ষয়, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

হাড় ক্ষয়

৩৫-এর পর নারীদের শরীরে শুরু হয় নীরব হাড় ক্ষয়, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
ত্বকের যত্ন, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা হরমোনজনিত পরিবর্তন নিয়ে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবে শরীরের ভেতরে নীরবে চলতে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এখনও অনেকটাই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। সেটি হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নারীদের শরীরে ধীরে ধীরে হাড় ক্ষয় শুরু হয়। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ নারী বিষয়টি বুঝতেই পারেন না। কিন্তু সময়মতো সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
৩৫ বছরের পর থেকেই শুরু হয় পরিবর্তন
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের হাড়ের সর্বোচ্চ শক্তি বা ‘পিক বোন মাস’ সাধারণত ২০-এর শেষ ভাগ থেকে ৩০-এর শুরুর দিকে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে শরীরে নতুন হাড় তৈরির তুলনায় হাড় ক্ষয়ের গতি বাড়তে শুরু করে।
ভারতের নয়াদিল্লির মণিপাল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন Dr. Lalit Nemichand Bafna বলেন, অনেক নারীই ৩০-এর দশকে হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। অথচ ৩৫ বছরের পর থেকেই শরীরে এমন পরিবর্তন শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তার মতে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো শুরুতে এই পরিবর্তনের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ থাকে না। ফলে দীর্ঘ সময় নীরবে হাড় দুর্বল হতে থাকে এবং পরে গিয়ে সেটি ব্যথা, দুর্বলতা বা হাড় ভাঙার মাধ্যমে ধরা পড়ে।
শুরুতে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাড় ক্ষয়ের প্রথম দিকের লক্ষণ অনেক সময় এতটাই সাধারণ হয় যে মানুষ গুরুত্বই দেয় না। যেমন—
উচ্চতা সামান্য কমে যাওয়া
মাঝেমধ্যে পিঠে ব্যথা
সামান্য আঘাত বা পড়ে গেলেই হাড় ভেঙে যাওয়া
দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকলে কোমর বা পিঠে অস্বস্তি
তবে এসব লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই অনেক ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
অস্টিওপোরোসিস আসলে কী?
অস্টিওপোরোসিসকে সাধারণভাবে শুধু ‘হাড় দুর্বল হওয়া’ মনে করা হলেও এটি আসলে হাড়ের গঠনগত পরিবর্তন। স্বাভাবিক হাড়ের ভেতরের অংশ ঘন ও শক্ত থাকে। কিন্তু অস্টিওপোরোসিসে সেই কাঠামোর মধ্যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে থাকে। ফলে হাড় ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের আগে ও পরে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
নারীদের ঝুঁকি বেশি কেন?
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নারীদের হাড় দ্রুত দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
হরমোনের পরিবর্তন
ইস্ট্রোজেন হরমোন হাড়কে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করলে হাড়ের শক্তিও কমে যায়।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
অনেক নারী নিয়মিত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান না। পাশাপাশি রোদে কম থাকার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও দেখা দেয়। এই দুটি উপাদান হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘসময় বসে থাকা
বর্তমান নগরজীবনে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার প্রবণতা বেড়েছে। শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলা কমে যাওয়ায় হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে।
গর্ভধারণ ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীর থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ব্যবহার হয়। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
যে পরীক্ষাটি অনেকেই দেরিতে করেন
হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করার জন্য ডেক্সা স্ক্যান করা হয়। এটি খুব সহজ ও ব্যথাহীন একটি পরীক্ষা। কিন্তু অনেক নারী মনে করেন, এটি শুধুমাত্র বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা ধরা পড়ে দেরিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি থাকলে ৩৫ বছরের পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
হাড় শক্ত রাখতে যা করবেন
চিকিৎসকরা বলছেন, বয়স বাড়লেও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে হাড় ক্ষয়ের গতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এজন্য কিছু অভ্যাস নিয়মিত মেনে চলা জরুরি।
প্রতিদিন হাঁটা বা ব্যায়াম করা
ওজন বহনের ব্যায়াম ও স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করা
দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা
ধূমপান ও অতিরিক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার আলোচনায় হাড়ের স্বাস্থ্যকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই সমস্যা নীরবে শুরু হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

 

"
"