কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 25, 2026

May 25, 2026

থানচিতে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১৬-এর কিশোর

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পাঁচ বছরের এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হতেই রোববার দুপুরে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার দুপুরে শিশুটির মা-বাবা কাজে বাইরে গেলে তাকে একা ঘরে রেখে যান। বিকেলে ফিরে এসে তাঁরা মেয়েটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবেশী ওই কিশোরকে (১৬) গ্রেপ্তার করে। শিশুকেও অভিভাবকসহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
থানচি থানার ওসি মোহাম্মদ তৌফিক জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আর গ্রেপ্তার কিশোরকে আদালতে হাজিরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের হিসেব বলছে, গত বছর পুরো বান্দরবান জেলায় ১১ শিশু ও দুজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আরও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে গত বছরের ৫ মে— জুমখেতে কাজ করতে গিয়ে চিংমা খিয়াং নামের এক নারী খুন হন। এই হত্যামামলার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমা জানান, তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, এলাকাটি খুবই দুর্গম, ঘটনাস্থলে সহজে যাওয়া যায় না, তাই সব ক্লু বের করা কঠিন। তবে পরিবার বা পাড়ার ভেতরে কিছু আছে কি না— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
May 25, 2026

ময়মনসিংহে নিখোঁজের দুদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ময়মনসিংহে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর বিজয় বর্মণ (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
রোববার (২৪ মে) সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বিজয় বর্মণ Muktagacha উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী হরিপদ বর্মনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ময়মনসিংহ শহরে যান বিজয়। পরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। রাত ১২টার দিকে আবার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে আড্ডা দিতে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
শনিবার দিনভর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে রোববার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের কাকাতো ভাই সুব্রত বর্মণ বলেন, বিজয়ের এক বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং পরিবারের ধারণা, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে Mymensingh Kotwali Model Police Station–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহামাদ শিবিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

 

May 25, 2026

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির: শান্তি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান Khulna University–এর সবুজে ঘেরা শান্ত ক্যাম্পাসের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেন্দ্রীয় মন্দির। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক সুন্দর প্রতীক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের কাছেই অবস্থিত এই মন্দিরে প্রতিদিন পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে তৈরি হয় এক শান্তিময় পরিবেশ। ব্যস্ত ক্লাস, পরীক্ষা আর ক্যাম্পাস জীবনের চাপের মাঝেও অনেক শিক্ষার্থী এখানে এসে খুঁজে পান মানসিক স্বস্তি ও আত্মিক শান্তি।
মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলীও বেশ দৃষ্টিনন্দন। আধুনিক নির্মাণধারার সঙ্গে সনাতনী ধর্মীয় ঐতিহ্যের মিশেলে নির্মিত এ স্থাপনাটি সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। উজ্জ্বল কমলা রঙের নকশা, প্রশস্ত কাঁচের জানালা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মন্দিরটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
মন্দিরের সামনে দেবী সরস্বতীর শিল্পফলক জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর ছাদের ওপর খচিত পবিত্র ‘ওঁ’ প্রতীকটি পুরো পরিবেশে এনে দেয় এক আধ্যাত্মিক আবহ। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় মন্দিরটি আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।
প্রতি বছর সরস্বতী পূজা, শ্যামা পূজা, দীপাবলি, জন্মাষ্টমী ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। বিশেষ করে সরস্বতী পূজায় শত শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আলপনা আঁকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ ও পূজার আয়োজন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।
শুধু ধর্মীয় আয়োজনই নয়, এই উৎসবগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করে তোলে। বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ক্যাম্পাসের অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রতিফলন।
অনেকের কাছেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক।

Sunday, May 24, 2026

May 24, 2026

লিচু দিব বলে ডেকে এনে তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটকের পর পুলিশের বাড়াবাড়ি নিয়ে ক্ষোভ

গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ঘটনাটি সত্যিই নারকীয়। এক তৃতীয় শ্রেণির ছোট্ট মেয়েকে লিচু খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে ইমরান নামের এক যুবক। তবে ভাগ্য ভালো ওই শিশুটির, তার চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসেন এবং তাকে বেদম পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ইমরানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে লিচুবাগানের পাশ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ওই যুবক মেয়েটিকে বাগানের ভেতরে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ধর্ষণের চেষ্টা করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে ওইদিন রাতেই ইমরানকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মেয়েটির বাবা মামলা করলে হাসপাতাল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, “ইমরান হাসপাতালে পুলিশের নজরদারিতে ছিল এবং চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”


May 24, 2026

৪ মাসে ৫০৫টি সহিংসতা: HRCBM প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Congress for Bangladesh Minorities (HRCBM) প্রকাশিত ৮৯ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে দেশের ৬২টি জেলায় অন্তত ৫০৫টি সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা আলাদা আলাদা অপরাধ নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্য, ভূমি দখল, ধর্মীয় চাপ, ভয়ভীতি এবং বিচারহীনতার একটি ধারাবাহিক চিত্র।
চার মাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪টি শারীরিক হামলা ও অপহরণ, ১৩২টি জমি দখল ও অগ্নিসংযোগ, ১০০টি হত্যা বা রহস্যজনক মৃত্যু এবং ৯৫টি মন্দিরে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ২৮টি ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
ঘটনাগুলো দেশের প্রায় সব বিভাগেই ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে, এরপর ঢাকা, খুলনা ও রংপুরে। চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনাও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এতে মাদারীপুর, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, সিলেট, ফরিদপুর, খুলনা ও নীলফামারীর বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মন্দির ধ্বংসের অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ধর্মীয় নয়, অর্থনৈতিক চাপও বড় একটি সমস্যা। অনেক জায়গায় জমি দখল, ব্যবসা ধ্বংস ও ভয় দেখিয়ে পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে এবং যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে বিচারহীনতা। অনেক ক্ষেত্রে মামলা না হওয়া, তদন্তে ধীরগতি এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতির কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
শেষে HRCBM সরকার, বিচার বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সহিংসতার এই চক্র বন্ধ হয়।
May 24, 2026

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মন্দির ও হিন্দুপাড়ায় হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্লা হিন্দুপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামুল্লা হিন্দুপাড়ার কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ কয়েকটি বাড়িতে গভীর রাতে হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সামান্য ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে আগে গ্রাম্য শালিস ও স্থানীয় মুরুব্বিদের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একদল যুবক পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দাবি করেছেন, হামলার আগে দিনের বেলায় হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল চন্দ্র বলেন, “অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই। কেউ অন্যায় করলে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো একটি সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও ন্যক্কারজনক।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় ছিল। এই ঘটনা সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা নন্দীগ্রাম-কাহালু আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, গুজব ও উসকানি থেকে দূরে থাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

May 24, 2026

মানিকগঞ্জে বাকি ২০ টাকা চাওয়ায় পান ব্যবসায়ীকে হত্যা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় মাত্র ২০ টাকা বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীবাস চন্দ্র সাহা (৫৫) নামে এক হিন্দু পান ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার জয়মন্টপ মাছবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রীবাস চন্দ্র সাহা ঢাকার সাভারের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জয়মন্টপ মাছবাজারে পান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অভিযুক্ত ইশা মোল্লা জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের ব্যঙ্গ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইশা মোল্লা প্রায়ই শ্রীবাস চন্দ্র সাহার দোকান থেকে পান কিনতেন। ঘটনার দিন দুপুরে তিনি ৩০ টাকার পান নেন। তবে ১০ টাকা দিয়ে বাকি ২০ টাকা না দিয়েই চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রীবাস চন্দ্র সাহা বাকি টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত ইশা মোল্লা শ্রীবাসের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রথমে মারধর করেন এবং পরে গলা চেপে ধরে লাথি মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই শ্রীবাস চন্দ্র সাহার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

May 24, 2026

চাঁদপুরে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ ব্যবসায়ী রাধু চন্দ্র দাস, উৎকণ্ঠায় পরিবার


চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ব্যবসায়ী রাধু চন্দ্র দাস (৪৮) গত ১৪ মে সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। টানা ৯ দিনের বেশি সময় পার হলেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবারজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
রাধু চন্দ্র দাস উপজেলার দক্ষিণ বাইশপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নিন্টু চন্দ্র দাসের বড় ছেলে। উপজেলা সদরের রথবাজার এলাকায় তাঁর একটি খাবারের হোটেল ও চায়ের দোকান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৪ মে সকাল ৬টার দিকে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হন রাধু চন্দ্র দাস। এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর স্ত্রী কাকলী রানী দাস ১৬ মে মতলব দক্ষিণ থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর ছোট ভাই রাজন চন্দ্র দাস বলেন, “ভাইয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পূর্বশত্রুতা বা ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে কেউ তাঁকে ক্ষতি করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।”
স্ত্রী কাকলী রানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এখনো আমার স্বামীর কোনো খোঁজ পাইনি। তিনি বেঁচে আছেন নাকি কেউ মেরে ফেলেছে, সেটাও জানি না। আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলে প্রতিদিন বাবাকে খুঁজছে। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাধু চন্দ্র দাস নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছেন।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এখন পর্যন্ত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
May 24, 2026

দেশে হামে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৫০০+

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫১২ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
শনিবার (২৩ মে) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ১৩২ জন শিশুর শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গে ১২ জন এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত শিশুটি বরিশালে মারা গেছে। এছাড়া হামের উপসর্গে ঢাকায় চারজন, চট্টগ্রামে দুইজন, সিলেটে চারজন, বরিশালে একজন এবং ময়মনসিংহে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ৪২৬ জন এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন মারা গেছে।
একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৪৫ হাজার ১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে।

 

Saturday, May 23, 2026

May 23, 2026

চিতলমারীতে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে একটি চক্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বাবুগঞ্জ বাজার এলাকার মৃত স্কুলশিক্ষক মধুসূদন মন্ডলের বাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে চিতলমারী গ্রামের সাগর শেখ, চরকুরালতলা গ্রামের রাব্বি হাসান সুজন এবং আরুয়াবুর্নি গ্রামের সিকান্দার মুন্সির নাম উল্লেখ করেছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে মধুসূদন মন্ডলের ছেলে কৃপা সিন্ধু মন্ডলসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেয়। একপর্যায়ে তারা পরিবারটিকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেয়। বাধা দিলে মারধর ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারটির দাবি, হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ্যে বলে, “ভারতে চলে না গেলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।” এরপর থেকেই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা আতঙ্কে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংখ্যালঘু পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃপা সিন্ধু মন্ডল বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। কিন্তু কিছুদিন ধরে আমাদের বাড়ি ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে নানা চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এখন সরাসরি হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
"
"