কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, October 7, 2026

October 07, 2026

চুয়েট থেকে হাইড্রোজেন বিমান গবেষণায়: দেবযানী ঘোষের আন্তর্জাতিক পথচলা


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণায় জায়গা করে নিয়েছেন দেবযানী ঘোষ। চুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া তাঁর প্রকৌশলী হওয়ার যাত্রা আজ জার্মানির হাইড্রোজেনচালিত বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

দেবযানী ঘোষ ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড়ে ওঠেন। অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি চুয়েটে পড়াশোনা করেন।

চুয়েটে অর্জিত জ্ঞান তাঁকে নিয়ে যায় আরও বিশেষায়িত গবেষণার দিকে। বিদ্যুৎ, শক্তি রূপান্তর, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁর গবেষণার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। স্নাতক শেষে তিনি জার্মানিতে যান। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আরডাব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে ইনফিনিয়ন টেকনোলজিস এজিতে ইন্টার্ন হিসেবেও কাজ করেন।

জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় দেবযানী যুক্ত হন এইচওয়াই৪ প্রকল্পের সঙ্গে। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত যাত্রীবাহী বিমান। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে বিমানটির প্রথম সফল উড্ডয়ন হয়।

এই প্রকল্পে দেবযানীর কাজ ছিল বিমানের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে। উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল শূন্য নিঃসরণ হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন হাইব্রিড ধারণা, যেখানে ডিসি থেকে এসি বিদ্যুৎ রূপান্তর, সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হয়। ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিনির্ভর হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য এসি হাইব্রিড ব্যবস্থা এবং পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে তাঁর গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি জার্মানির এইচ২ফ্লাইয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং হাইড্রোজেন বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থা, ফুয়েল সেল প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

হাইড্রোজেনভিত্তিক বিমান প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বিমান চলাচলের নির্ভরতা কমানো। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না। ফলে সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতের বিমান চলাচলকে আরও কম কার্বন নিঃসরণকারী করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম থেকে চুয়েট, চুয়েট থেকে জার্মানি, আর সেখান থেকে ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তি—দেবযানী ঘোষের এই পথচলা দেখায়, বাংলাদেশের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।


 

October 07, 2026

দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণাকে স্বাগত জানাল ঐক্য পরিষদ


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর—এই তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই স্বাগত জানানো হয়। এতে বলা হয়, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে একইসঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উপলক্ষে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

October 07, 2026

খুলনায় অনন্য এক দুর্গা প্রতিমা ঘিরে তুঙ্গস্পর্শী জল্পনা: আগমণী ভাবনায় শৈশবের ‘ঘরের মেয়ে উমা’

 

​

​শরতের শিউলিঝরা সকালে চারদিকে এখন শুধুই আনন্দের শিহরণ। কিন্তু এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে খুলনা শহর ছাড়িয়ে পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এক অনন্য দুর্গা প্রতিমা। ১২৯ তম বর্ষে পদার্পণ করা ঐতিহ্যবাহী 'সাহেবের কবরখানা সার্বজনীন পূজা কমিটি'র প্রতিমাটি দেখার জন্য এখন মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং কৌতূহল।
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—সবখানেই এখন এই প্রতিমা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। কেউ একে ভালোবেসে বলছেন ‘কিউট দুর্গা’, কেউবা শৈশবের আদলে দেখে আখ্যা দিচ্ছেন ‘কার্টুন দুর্গা’ বলে। তবে প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে কেন এমন রূপ দেওয়া হলো? উত্তর মিলল সাহেবের কবরখানা সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি বিষ্ণু ঘোষের কণ্ঠে।
​কমিটির সভাপতি বিষ্ণু ঘোষ জানান, এবারের পূজায় তাঁদের মূল আগমনী ভাবনা—‘ঘরের মেয়ে উমা’। তিনি বলেন, “দেবী দুর্গা আমাদের কাছে কেবল ত্রিভুবনতারিণী, সর্বশক্তিমান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নন—তিনি তো আমাদের ঘরের সন্তান, আমাদের আদরের উমা। সারাটা বছর কৈলাসের কঠিন দায়িত্ব সামলে, আশ্বিনের মিষ্টি আলোয় তিনি যখন মর্ত্যের এই বাপের ভিটায় ফিরে আসেন, তখন কি তিনি আর শুধুই কোনো দেবী থাকেন? না, তখন তিনি এক পরম স্নেহের কন্যা।”
​ভাবনার গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “সময়ের নিয়মে বছর ঘোরে, বয়স বাড়ে, কিন্তু বাবা-মায়ের চোখে কি তাঁর ছোট্ট খুকি কখনো সত্যিই বড় হয়? শৈশবের সেই মায়াবী হাসি, অবুঝ আবদার আর অমলিন চঞ্চলতা—মেয়ে যত বড়ই হোক না কেন, মা-বাবার কাছে সে তো সারাজীবন সেই অবুঝ শিশুটিই থেকে যায়।”
​এই অনুভূতির বহির্প্রকাশ ঘটাতেই এবার সাহেবের কবরখানা সার্বজনীন পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবীকে কোনো গম্ভীর ও ভয়াল শক্তিস্বরূপা হিসেবে নয়, বরং ভালোবাসায় আগলে রাখা বাৎসল্যের সেই ছোট্ট 'উমা' রূপে আবাহন জানানো হয়েছে।
​সনাতন শাস্ত্রীয় শক্তিপূজার পাশাপাশি ঘরের মেয়েকে পরম ভালোবাসায় বরণ করে নেওয়ার এই প্রাচীন ও চিরায়ত অনুভূতি এখন ছুয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের হৃদয়। চিরাচরিত রূপের বাইরে গিয়ে এমন শিশুসুলভ ও মমতাময়ী রূপ দেখে মুগ্ধ সবাই। পূজা কমিটির আহ্বান—আসুন, মহাশক্তির আরাধনার পাশাপাশি ঘরের মেয়ের প্রতি ভালোবাসার এই চিরন্তন সুরটি আমরা সবাই অন্তরে অনুভব করি।


October 07, 2026

অস্ট্রেলিয়ায় সহজলভ্য হলো ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি


মশার কামড়ে ছড়ানো প্রাণঘাতী ডেঙ্গু প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সহজে পাওয়া যাচ্ছে কার্যকর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’। বিদেশে ভ্রমণকারীদের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এখন চিকিৎসকের (জিপি) ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীরা সরাসরি এই টিকা নিতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গুর টিকা পাওয়ার খবরে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি বছর ছুটির মৌসুমে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সপরিবার বাংলাদেশে যান। তবে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর ঘটনায় তাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক কাজ করে, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে।

সিডনির লাকেম্বার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইরফান খান বলেন, ‘সামনে লম্বা ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে দেশে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর যে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায়, তাতে মন সব সময় ভয়েই থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় এই টিকা মেলায় বড় দুশ্চিন্তা কমল। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাচ্চাদের আগেই টিকা দিয়ে নিতে চাই।’

আরেক প্রবাসী সৈয়দ আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন সাধারণ জ্বরের চেয়ে বেশি কিছু, এটি প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসে যখন দেশে পরিচিতজনদের মৃত্যুর খবর শুনি, তখন আঁতকে উঠি। দেশে যাওয়ার আগেই সুরক্ষাকবচ হিসেবে টিকা পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির।’

অস্ট্রেলিয়ার টিকাদান-সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি জানিয়েছে, চার বছর বা তার বেশি বয়সীরা কিউডেঙ্গা টিকা নিতে পারবেন। বিশেষ করে যারা অতীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই টিকা নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শূন্য দশমিক ৫ মিলিলিটারের দুটি ডোজে এই টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজের অন্তত ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়।

রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সের জনস্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞ ডা. পিটার মার্কি জানান, ডেঙ্গুর চারটি পৃথক ধরন রয়েছে। কোনো ব্যক্তি একবার কোনো এক ধরনে আক্রান্ত হয়ে থাকলে, আর দ্বিতীয়বার ভিন্ন ধরনে সংক্রমিত হলে তা মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। তাই ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস বা একাধিকবার ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এই টিকা নেওয়া জরুরি।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রায় শতভাগই বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে ফেরেন। দেশটিতে ২০২৪ সালে রেকর্ড ২ হাজার ৩৮১ জন এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৮৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়।

ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো ঘন ঘন ডেঙ্গু সংক্রমণের দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও প্রবাসী ও ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন দেশটির চিকিৎসকরা।

ডেঙ্গুর প্রথম টিকা ‘ডেংভ্যাক্সিয়া’ ২০১৫ সালে অনুমোদন পেলেও তা কেবল পূর্বে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে কিউডেঙ্গা টিকার বড় সুবিধা হলো, যারা অতীতে কখনোই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি, তারাও এটি নিতে পারেন। অনেক যাচাই-বাছাই শেষে অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদন পাওয়ার পর টিকাটি এখন সাধারণের জন্য সহজলভ্য হলো।

 

October 07, 2026

জাতপাতের দেয়াল ভেঙে দুর্গা প্রতিমা গড়ে তুলছেন হরিজন সম্প্রদায়ের পতন বাঁসফোর


সমাজ ও জাতপাতের প্রচলিত গোঁড়ামি এবং শত বছরের পুরনো সামাজিক ট্যাবুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের পতন বাঁসফোর।

শিল্পের কোনো জাত বা সীমানা হয় না—

এই সত্যকে সামনে রেখে তিনি নিজ হাতে তৈরি করছেন শারদীয় দুর্গোৎসবের দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাঁর এই সৃজনশীল ও সাহসী পদক্ষেপ শুধু রংপাতা বা শিল্পাঙ্গনেই নয়, বরং পুরো সমাজে বয়ে এনেছে সাম্য ও অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী বার্তা।

​যুগে যুগে আমাদের সমাজে হরিজন সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পেশা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রচলিত এই সংকীর্ণ মানসিকতার বেড়াজাল ছিন্ন করে মূলধারার শিল্পকর্মে জড়িয়ে পড়া চাট্টিখানি কথা নয়। পতন বাঁসফোর সেই অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা, মেধা ও শ্রম থাকলে যেকোনো মানুষ তার মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।

​খড়, বাঁশ, মাটি আর সুতলির নিখুঁত বুননে যখন একের পর এক তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব, তখন তার প্রতিটি আঁচড়ে যেন লুকিয়ে রয়েছে পতন বাঁসফোরের জীবনসংগ্রাম ও বিজয়ের গল্প।

তাঁর এই কাজে স্থানীয় সচেতন মহলেও দারুণ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, হরিজন সম্প্রদায়ের একজন সদস্যের এমন শৈল্পিক কর্মপ্রয়াস সমাজে জাতভিত্তিক বৈষম্য ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, পতন বাঁসফোরের মতো এমন উদ্যোগগুলো সমাজে মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটাতে সাহায্য করে। এটি কেবল একটি প্রতিমা তৈরির কাজ নয়, এটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি নতুন লড়াই।

রংপুরের এই শ্রমজীবী মানুষের শিল্পকর্ম আজ শুধু একটি সংবাদ নয়, বরং সাম্যবাদী সমাজ গঠনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা।


 

Tuesday, October 6, 2026

October 06, 2026

পাবনার সুজানগরে নিখোঁজের একদিন পর হোটেল ব্যবসায়ীর আগুনে ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার


পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুরে নিখোঁজের একদিন পর সুপ্রভাত মোদক (৩৮) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর আগুনে ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাড়ির পেছনে হলুদখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুপ্রভাত মোদক উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের সত্যচরণ মোদকের ছেলে। তিনি কাশীনাথপুর বাজারে হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন। আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে এলাহী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন সুপ্রভাত মোদক। বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। এরপর তিনি পরে যাবেন বলে স্ত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর আর সুপ্রভাত তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বা বাড়িতে যাননি।

পরে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে রাতে আমিনপুর থানায় জানান। এরপর পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর সন্ধানে মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। রাত ১২টার দিকে তার মোবাইল ফোন চালু পাওয়া গেলেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার নম্বরে আবার ফোন আসলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এরপর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে হলুদখেতে আগুনে ঝলসানো সুপ্রভাতের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আমিনপুর থানার ওসি বলেন, ‘তাকে হত্যা করা হয়েছে—এটি নিশ্চিত। তবে তাকে হত্যার আগে আগুনে ঝলসানো হয়েছে, নাকি হত্যার পর তার শরীরে আগুন ধরানো হয়েছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’ পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।


 

October 06, 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মহাশ্মশানে পূজায় বাধা ও মারধরের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিতাস-বুড়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানঘাটে পূজায় বাধা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্মশান এলাকায় কিছু যুবকের আনাগোনা থাকে এবং সেখানে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে। শ্মশানে পূজা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদ করলে গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে শ্মশানের ভেতর থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও প্রায় ১২টি বাল্ব নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া শ্মশানে স্থাপিত মহাদেবের দুটি ত্রিশূলের একটি নিয়ে যাওয়া এবং অপরটি বাঁকিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানে পূজা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন পূজারি হরেন্দ্র বর্মন ও ধীরেন্দ্র বর্মন। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাঁদের কাছে গাঁজা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তাঁদের শ্মশানে পূজা না দিয়ে চলে যেতে বলা হয় এবং না গেলে পরিণতি খারাপ হবে বলে ভয় দেখানো হয়। পরে ভয়ে পূজার সামগ্রী রেখে তাঁরা শ্মশান থেকে চলে যান।

ঘটনাটি শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানানো হলে পূজা বন্ধ না করে পুনরায় শ্মশানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর পূজা দিতে গেলে শ্মশানের গেটে অভিযুক্ত যুবকদের দেখতে পেয়ে ভয় ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুকে পোস্ট করলে নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘গুজব’ উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম জানান, বিষয়টি দেখে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে পূজা বন্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয়ে যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবীনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান কমিটির সভাপতি সুবীর রঞ্জন সাহা বলেন, শ্মশানে নিয়মিত মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


 

October 06, 2026

রংপুরের পীরগঞ্জে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার


রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামে এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ ও তার চার্জার ভ্যান ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে। তিনি পাঁচ কন্যাসন্তানের বাবা ছিলেন। নিজস্ব জমিজমা না থাকায় অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। সংসারের খরচ চালাতে দীর্ঘদিন ধরে রাতে চার্জার ভ্যান চালাতেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় চার্জার ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




 

October 06, 2026

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পুনর্নিধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলার কথা ছিল। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে ওই দিনও ছুটি থাকছে।

এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অর্থাৎ দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে একদিনের অতিরিক্ত ছুটি এবং পরপর দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এই পাঁচ দিনের ছুটি তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


 

Sunday, October 4, 2026

October 04, 2026

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক আর নেই


শিক্ষাবিদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রেখে গেলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক আর নেই। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শনিবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রাপ্ত শোকবার্তা অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর ২০২৬ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জানানোর কথা রয়েছে।

অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন।

২০০৯ সালের ২২ জুলাই তাঁকে নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিকস ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ছিলেন।

শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রতিষ্ঠা ও সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে তিনি মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক লাভ করেন।

শিক্ষকতা, মুক্তিযুদ্ধ, কূটনীতি এবং সামাজিক আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা, সামাজিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

"
"