দেশ
August 09, 2026
২৮ বছরেও শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি
পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছরের বেশি সময় পার হলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনও কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার পায়নি। পরিচয়ের স্বীকৃতি, ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবন কাটছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর। একসময়ের শান্ত পাহাড় এখন অশান্ত—বিভিন্ন গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর মুখে বাস করতে হচ্ছে তাদের।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬। জাতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য—‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: অধিকার এগিয়ে নেওয়া, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্মের কল্যাণ প্রচার’।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সশস্ত্র গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছরেও পাহাড়ে পূর্ণ শান্তি আসেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও ভূমি অধিকার বঞ্চনার মধ্য দিয়ে চলছে আদিবাসীদের জীবন। সাংবিধানিক স্বীকৃতিও এখনও মেলেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১৬ বছর লেগেছে আইন সংশোধনে। কমিশনে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় বহু আদিবাসী পরিবার নিজ ভূমি হারিয়ে অন্যের জমিতে বা উদ্বাস্তুর মতো জীবন কাটাচ্ছে।
পার্বত্য চুক্তির পর ভারত থেকে ফিরে আসা প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে ২০ দফা প্যাকেজের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হলেও অনেকেই নিজেদের ভিটেমাটি ফেরত পাননি। টাস্কফোর্স কমিটির ২৮টি বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদ শূন্য রয়েছে।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জগদীশ চন্দ্র বর্মন জানান, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন ও পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই পারে এ অঞ্চলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, ‘ভূমি অধিকার আদিবাসীদের সমষ্টিক অধিকার। যুগ যুগ ধরে প্রথাগত রীতিনীতির ভিত্তিতে তারা এই অধিকার ভোগ করে আসছে, কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে রোববার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান—তিন পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসীরা দিবসটি পালন করবেন।

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)