রাজশাহীর তানোরের শিবরামপুরে কালীমাতার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, বিক্ষোভ-মানববন্ধন
রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ঘুম আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত সেবন করলে নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাসের মতে, ঘুমের ওষুধের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিছু ওষুধে একই মাত্রায় আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
ঘুমের ওষুধের ধরন ও মাত্রাভেদে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দিনের বেলার কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা ও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তন্দ্রাভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এতে দিনের স্বাভাবিক কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।
কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা ভুল মাত্রায় ব্যবহারে অন্যান্য অঙ্গের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ঘুমের সমস্যা হলে কী করবেন?
ঘুমের সমস্যা হলেই সরাসরি ঘুমের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে এর পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবন করা কিংবা মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে হঠাৎ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে।
বাড়িতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। অনলাইনে পড়াশোনা করতে হলে তাই কখনও পাহাড়ের উঁচু জায়গায়, আবার কখনও জঙ্গলঘেরা এলাকায় গিয়ে মোবাইলে সিগন্যাল খুঁজতে হতো। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেই NEET ২০২৬-এর প্রস্তুতি নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন ভারতের ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের দুই বোন যজ্ঞসেনী খাতুয়া ও দিব্যসেনী খাতুয়া।
ময়ূরভঞ্জ জেলার কাপ্তিপদা ব্লকের মাজিগড়িয়া পঞ্চায়েতের মহুলপঙ্খা গ্রামের বাসিন্দা দুই বোনের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে ছিল নানা বাধা। প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করায় ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস করার মতো মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল না।
ফলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হতো। যেখানে তুলনামূলক ভালো মোবাইল সিগন্যাল পাওয়া যেত, সেখানেই মোবাইল নিয়ে বসে পড়তেন তাঁরা। পাহাড়ের উঁচু জায়গা কিংবা জঙ্গলঘেরা এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলত অনলাইন ক্লাস ও পড়াশোনা। প্রয়োজন হলে রাত পর্যন্তও সেখানে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা গেছে।
দুই বোনের বাবা গৌরাঙ্গ খাতুয়া কৃষিকাজ করেন। মা সুনীতা খাতুয়া অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা। পরিবারের আয় সীমিত হওয়ায় ব্যয়বহুল NEET কোচিং নেওয়ার সুযোগ ছিল না তাঁদের। তাই অনলাইন ক্লাস, পড়ার সামগ্রী, আত্মপাঠ এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তাঁরা।
এই প্রস্তুতিতে দুই বোন একে অপরেরও সহযোগী ছিলেন। বড় বোন যজ্ঞসেনী খাতুয়া তৃতীয় প্রচেষ্টায় NEET ২০২৬-এ সফল হয়েছেন। অন্যদিকে ছোট বোন দিব্যসেনী খাতুয়া প্রথমবার পরীক্ষায় বসেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বড় বোনের পরীক্ষার অভিজ্ঞতা ছোট বোনের প্রস্তুতিতেও কাজে এসেছে। পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করতেন এবং কঠিন বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করতেন।
সীমিত আয়ের মধ্যেও মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাবা-মা তাঁদের পাশে ছিলেন। দামি কোচিংয়ের সুযোগ না থাকলেও মোবাইল ও অনলাইন শিক্ষার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন দুই বোন।
যজ্ঞসেনী ও দিব্যসেনীর এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সীমিত যোগাযোগব্যবস্থা, আর্থিক সংকট এবং শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে তাঁদের গল্প।
এখন দুই বোনের লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া এবং ভবিষ্যতে মানুষের চিকিৎসা ও সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা। একজনের তৃতীয় প্রচেষ্টা এবং অন্যজনের প্রথম প্রচেষ্টার এই সাফল্য তাঁদের সেই স্বপ্নের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ।
নড়াইলে লোহাগড়া পৌরসভার রামপুর গ্রামে বাড়ির সামনে থেকে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সময় তার ব্যাগে থাকা নগদ ৮ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্ত। পুরো ঘটনাটি ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরী লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণা রানী চৌধুরী লোহাগড়া পৌরসভার শিক্ষক সঞ্জিত কুমার দের স্ত্রী। তিনি এলএল গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে ভ্যানযোগে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করছিলেন কৃষ্ণা রানী চৌধুরী। তিনি বাড়ির সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে এক ব্যক্তি তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার হাতে থাকা একটি ব্যাগও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ব্যাগে নগদ ৮ হাজার টাকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষ্ণা রানী চৌধুরী জানান, ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণের চেইনটির ওজন প্রায় এক ভরি দুই আনা। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
ঘটনার পর ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজ যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চম্পা রানি দাস (৩৫) ও তার চার বছরের মেয়ে হৃদি রানি দাস (৪)। চম্পা রানি দাস শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাসের স্ত্রী। স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতদের স্বজন ও রতন দাসের চাচাতো ভাই সজল দাস বলেন, কী কারণে মা ও মেয়ের এমন মৃত্যু হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ঘটনার কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
All rights reserved ©