কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, July 31, 2026

July 31, 2026

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রানজেনডার নারী তাননোভা আনান শিশিরের হিন্দু রীতিতে বিয়ে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা


ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আলোচিত প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হওয়া বিবাহ হিসেবে উল্লেখ করলেও, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা তালিকা পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তাসনুভা আনান শিশির জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচিত করেন। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশ্যে পরিচিত ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পুরুষকে হিন্দু রীতিতে বিবাহ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সিঁথিতে সিঁদুর ও হাতে শাঁখা পরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই অনুষ্ঠান ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজের একাংশ এটিকে ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, অনেকে হিন্দু শাস্ত্র, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রচলিত বিবাহবিধির আলোকে প্রশ্ন তুলেছেন।

সনাতন ধর্মে বিবাহকে পবিত্র সংস্কার মনে করা হয়। তবে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বিবাহ সম্পর্কে বেদ, উপনিষদ বা স্মৃতিশাস্ত্রে সুস্পষ্ট ও সর্বসম্মত কোনো বিধান নেই—এমনটাই জানাচ্ছেন ধর্মীয় পণ্ডিতরা। একারণে বিষয়টিকে নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়ে আচার্য, পুরোহিত ও পণ্ডিতদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কেউ শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী নারী-পুরুষের বিবাহকেই স্বীকৃত মনে করেন, আবার কেউ কেউ মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনি মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

July 31, 2026

সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকল দুর্বৃত্তরা, সকালে মিলল হিন্দু স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ


পাবনা, ৩১ জুলাই ২০২৬: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় গীতা রানী (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত গীতা রানী উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন; তার স্বামী ঢাকায় কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘরের সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় গীতা রানী টের পেলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্থানীয়রা টয়লেটের ট্যাংকিতে তার মরদেহ দেখতে পেলে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ‘কে বা কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

Thursday, July 30, 2026

July 30, 2026

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ, হিন্দু পরিবারগুলোর চরম দুর্ভোগ


কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের চলাচলের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ শিকদারের বিরুদ্ধে। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্কুলে যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমের কাছে এ অভিযোগ করেন ভজন চন্দ্র শীল। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক বাঁশের খুঁটি পুঁতে লম্বা বাঁশ, দড়ি ও পেরেক ব্যবহার করে চলাচলের রাস্তাটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার ২০ থেকে ২৫টি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তারা।

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



 

July 30, 2026

অবসরে যাওয়ার দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার।


সিলেটে নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক সাবেক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যে রাতে নগরীর বাগবাড়ির নরসিংটিলা এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মাদ মাঈনুল জাকির।
নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মনোজ কান্তি দাস (৫৫)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন তিনি। আগামী ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মনোজ কান্তি দাসের স্ত্রী মারা যান। এরপর বর্তমানে মনোজ কান্তি দাস বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার বাসায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। বাসাটির নিচতলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়েরা থাকলেও দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন মনোজ কান্তি দাস।

সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে রাতে বাসায় ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রাতে স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের মেঝেতে মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির কালবেলাকে বলেন, বাগবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে এক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
July 30, 2026

বিরিয়ানির উৎপত্তি কোন দেশে? ইতিহাস বলছে ভিন্ন চমকপ্রদ তথ্য

বিরিয়ানির উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদ ও খাদ্য গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল ও নানা মতভেদ রয়েছে। উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই খাবারটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা—এটি ভারতীয় খাবার। কিন্তু ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব এবং রান্নার কৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিরিয়ানির উৎপত্তি ও বিবর্তন অনেক বেশি জটিল ও বৈশ্বিক।

‘বিরিয়ানি’ শব্দটির উৎপত্তি ফারসি ‘বিরিঞ্জ বিরিয়ান’ থেকে, যার অর্থ ‘ভাজা চাল’। নাম থেকেই স্পষ্ট, এই খাবারের শেকড় ভারতীয় উপমহাদেশের চেয়েও প্রাচীন ও পারস্য-অধ্যুষিত অঞ্চলে। প্রাচীন পারস্যের সফাবিদ ও তিমুরিদ রাজাদের দরবারে চাল ভেজে তার সঙ্গে মাংস, শুকনো ফল, বাদাম ও জাফরানের সমন্বয়ে এক ধরনের রাজকীয় পদ তৈরি হতো, যা বর্তমান বিরিয়ানির আদি সংস্করণ। ধীর লুনের ‘দম’ পদ্ধতিতে রান্না করা হতো এটি, যা পরবর্তীকালে উপমহাদেশে বিরিয়ানির প্রধান রান্নাকৌশলে পরিণত হয়।

পারস্য থেকে এই খাবারটি সিল্ক রোড ধরে আফগানিস্তানের হেরাত ও কাবুলে পৌঁছায়। সেখানে এটি আরও সমৃদ্ধ হয় ও ‘কাবুলি পোলাও’ নামে পরিচিতি পায়, যাতে মাংসের সঙ্গে গাজর, কিশমিশ ও এলাচ যুক্ত করা হতো। মুঘলরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসে, তখন তারা এই রান্নার কৌশল ও উপাদান নিজেদের সঙ্গে নিয়ে আসে। ভারতে স্থানীয় বাসমতি চাল, সুগন্ধি মশলা ও স্বাদকে সঙ্গে নিয়ে বিরিয়ানি তার বর্তমান স্বাদ ও বৈচিত্র্য লাভ করে। বিশেষ করে ১৮শ শতকের দিকে লখনউ, দিল্লি ও হায়দ্রাবাদের রাজকীয় হেঁশেলে বিরিয়ানি একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিশীলিত খাবারের মর্যাদা পায়।

তবে ভারতের নিজস্ব দাবিও উল্লেখ করার মতো। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে তামিলনাড়ু অঞ্চলে ‘ওন সোরু’ নামে মাংস ও চালের একটি পদ প্রচলিত ছিল, যা অনেকের মতে বিরিয়ানির আদি রূপ। যদিও এর ঐতিহাসিক প্রমাণ সীমিত, তবু এটি প্রমাণ করে যে, মাংস-চালের সংমিশ্রণের ধারণা ভারতীয় উপমহাদেশেও খুব প্রাচীন।

বিরিয়ানির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, যা স্পষ্ট তা হলো—এটি কোনো একক দেশের আবিষ্কার নয়। এটি পারস্যের রান্নাকৌশল, আফগানিস্তানের উপকরণ ও ভারতীয় মশলার এক অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তর্জাতিক খাবার। ভারতীয় উপমহাদেশে তা প্রাণ পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে এটি স্বীকৃত ও সমাদৃত।

বিরিয়ানি শুধু খাবার নয়—এটি সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ, ইতিহাস, অভিবাসন ও ব্যবসাবাণিজ্যের বহমান ধারার প্রতিফলন। এর প্রতিটি স্তর, প্রতিটি মশলার গন্ধ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে খাদ্য কীভাবে মানুষকে এক করে এবং ইতিহাসের স্বাদ দিয়ে যায়।


 

Wednesday, July 29, 2026

July 29, 2026

পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও ডিবি সদস্য পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা



পটুয়াখালী, ২৯ জুলাই ২০২৬: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিরও অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলাটি করেন উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রতন মণ্ডল। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজ নামে দুই সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এবং রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ কী?

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের জেরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলেও মেয়েটির পরিবার পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অভিযোগ, গত রোববার বিকেলে এনামুল হক এনা, মো. রিয়াজসহ আরও পাঁচ-ছয়জন ওই পরিবারের বাড়িতে যান। তারা নিজেদের সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী রতন মণ্ডলের অভিযোগ, এনামুল হক নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে।’

টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার অদূরের এক দোকানির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করে এনামুল হকের হাতে দেন। পরদিন আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা চলে যান।

আসামিদের দাবি

চাঁদা দাবি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক এনা। তিনি বলেন, ‘একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক যুবক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে ছাড়াই তাদের বাড়িতে রেখেছেন এবং ওই নারী সন্তান প্রসব করেছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে গিয়েছিলেন।’

পুলিশের অবস্থান

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

 

July 29, 2026

তাজা নাকি ফ্রোজেন: কোনটি বেশি পুষ্টিকর? জানাচ্ছে পুষ্টিবিজ্ঞান


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০২৬: ফল ও সবজি কেনার সময় আমরা সবাই তাজা পণ্যই কিনতে চাই। কারণ তাজা মানেই বেশি পুষ্টিকর—এই ধারণা আমাদের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি সব সময় ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে হিমায়িত (ফ্রোজেন) ফল ও সবজি তাজা পণ্যের সমান পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে পারে, কখনো বা তার চেয়েও বেশি উপকারী হতে পারে।

তাজা পণ্যের চ্যালেঞ্জ

তাজা ফল ও সবজির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়। খেত বা বাগান থেকে সংগ্রহ করার পর তা সরাসরি আপনার প্লেটে আসে না। সংগৃহীত পণ্য বাছাই, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ—এসব ধাপ পেরিয়ে দোকানে পৌঁছতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি তাপমাত্রা, আলো ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে নষ্ট হতে শুরু করে। তাই বাজার থেকে কেনা ‘তাজা’ পণ্য সব সময় সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ বহন করে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ফ্রোজেন পণ্যের সুবিধা

সঠিক নিয়মে হিমায়িত ফল ও সবজি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, সহজে নষ্ট হয় না এবং দ্রুত ব্যবহার করা যায়। এটি ব্যস্ত জীবনে পুষ্টিকর খাবার সহজলভ্য করে তোলে এবং খাদ্যের অপচয়ও কমায়। পুষ্টিবিদদের মতে, সংগ্রহ করার সঙ্গে সঙ্গেই যদি ফল বা সবজি হিমায়িত করা হয়, তাহলে তার অধিকাংশ পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।

কোনটি বেছে নেবেন?

উত্তর সহজ—উভয়েরই নিজস্ব সুবিধা আছে।

স্থানীয়, মৌসুমি ও সত্যিই তাজা ফল-সবজি দ্রুত খাওয়া সম্ভব হলে তাজা পণ্যই উত্তম।

দূর থেকে পরিবহন করা, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হয় বা ফ্রিজে রেখে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ফ্রোজেন পণ্য বেশি পুষ্টিকর হতে পারে।

সাবধানতা

সব ফ্রোজেন খাবার সমান নয়। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা প্রক্রিয়াজাত উপাদান মেশানো ফ্রোজেন পণ্য স্বাস্থ্যকর নয়। তাই কেনার আগে লেবেল পড়ে নিন। আর রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ—অতিরিক্ত সময় সেদ্ধ করলে পুষ্টিগুণ কমে যায়; বেকিং বা অল্প সময়ে ভাপে সেদ্ধ করলে বেশি পুষ্টি ধরে রাখা যায়।

সবশেষে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূলমন্ত্র হলো—নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়া। ফ্রিজার থেকে আসুক বা বাজার থেকে—মূল কথা হলো তা যেন আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে। তাই তাজা আর ফ্রোজেনের মধ্যে একটিকে বেছে না নিয়ে দুটোর সমন্বয়ই হতে পারে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।


 

July 29, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ড. অদিতি সাহা


যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক ড. অদিতি সাহা। কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগেই তাঁর অকাল মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ড. অদিতি সাহা রাজধানীর জেড. এইচ. সিকদার ওমেনস মেডিকেল কলেজের জেড-২৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ মাস আগে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা লাইসেন্স পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ USMLE Step 1 ও Step 2 সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি ম্যাচ লাভ করেন এবং একজন চিকিৎসক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তবে শিকাগোতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অকালে থেমে যায়। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানা যায়নি।

ড. অদিতির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক ও চিকিৎসক সমাজের সদস্যরা। এক শোকবার্তায় তাঁর সহপাঠীরা বলেন, “আমরা একজন অসাধারণ মেধাবী, পরিশ্রমী ও মানবিক মানুষকে হারালাম। তাঁর মেধা, কর্মনিষ্ঠা এবং আন্তরিক ব্যবহার আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে।”

চিকিৎসক সমাজ ড. অদিতি সাহার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।


 

July 29, 2026

নেত্রকোনায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হিন্দু বাড়িতে হামলা

নেত্রকোনা, ২৯ জুলাই ২০২৬: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার এক যুবকের ফেসবুক পোস্টে আরেক যুবকের মন্তব্যকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় একদল উত্তেজিত লোক ওই দুই যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার রাতেই কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বাদী হয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৬(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতে বিচারের পরিবর্তে কেন তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হলো। তারা বলেন, ‘আমরা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি সব তছনছ।’ ভুক্তভোগীর স্বজন আরও বলেন, ‘যে অন্যায় করেছে, তার শাস্তি হোক। কিন্তু আমাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হলো কেন?’

কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু বাড়ি-ঘর ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা বাড়ছে। অভিযোগের তদন্তের আগেই জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অভিযোগের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
July 29, 2026

পবিত্র গুরুপূর্ণিমা আজ: জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত সনাতন বিশ্ব

আজ পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যময় তিথি গুরুপূর্ণিমা বা ব্যাসপূর্ণিমা। এই শুভদিনেই আবির্ভূত হন জগদ্গুরু, মহর্ষি শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস, যিনি মানবসভ্যতার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তাঁর অসামান্য অবদানের কারণেই তিনি "বেদব্যাস", "ব্যাসদেব" এবং "জগদ্গুরু" নামে সমগ্র সনাতন জগতে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।
সনাতন শাস্ত্র মতে, ঋষি পরাশর ও দেবী সত্যবতীর পুত্র বেদব্যাস উপলব্ধি করেছিলেন যে, কলিযুগে মানুষের স্মৃতিশক্তি, অধ্যবসায় ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের শক্তি ক্রমশ ক্ষীণ হবে। তাই তিনি অনন্ত বৈদিক জ্ঞানকে মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে সুসংগঠিত করে চার ভাগে বিভক্ত করেন। ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ পৃথকভাবে তাঁর প্রধান শিষ্যদের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও প্রচারিত হয়। এর মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় গুরু-শিষ্য পরম্পরার সেই চিরন্তন ভিত্তি, যা হাজার হাজার বছর ধরে সনাতন ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতিকে বহমান রেখেছে।

ব্যাসদেব কেবল বেদের সংকলকই নন, তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মহাকাব্য মহাভারত রচনা করেন। এই মহাকাব্যের অন্তর্গত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মানবজাতির জন্য এক অনন্ত আধ্যাত্মিক পথনির্দেশিকা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত গীতার অমৃতবাণী যুগে যুগে অসংখ্য মানুষকে ধর্ম, কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তির সঠিক পথ দেখিয়ে আসছে। এছাড়াও ব্রহ্মসূত্র, আঠারোটি মহাপুরাণ এবং আঠারোটি উপপুরাণ রচনার কৃতিত্বও ঐতিহ্যগতভাবে তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত।সনাতন দর্শনে গুরুর স্থান ঈশ্বরের পরেই। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, "গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ। গুরুসাক্ষাৎ পরব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।" অর্থাৎ গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই মহেশ্বর এবং গুরুই পরব্রহ্মের প্রকাশ। তিনি অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত করেন এবং শিষ্যকে আত্মোপলব্ধি ও ঈশ্বরচেতনার পথে পরিচালিত করেন।ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, গুরুপূর্ণিমা শুধু দীক্ষাগুরুকে প্রণাম করার দিন নয়, বরং জীবনের প্রতিটি শিক্ষক, আচার্য, উপদেষ্টা ও জ্ঞানদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও এক মহাপবিত্র তিথি। পরিবারে পিতা-মাতা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, শিল্প-সংস্কৃতির গুরু কিংবা যে কোনো ব্যক্তি যিনি জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো ছড়ান, সকলেই এই দিবসে শ্রদ্ধা ও সম্মানের দাবিদার।বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষে মঠ-মন্দির, আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পূজা, গুরুপূজা, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, বেদপাঠ, ভাগবত আলোচনা, হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, ভজন-কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং দান-ধ্যানের আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তরা গুরুদেবের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন এবং সত্য, ধর্ম, শুদ্ধাচার ও আত্মউন্নয়নের পথে জীবন পরিচালনার সংকল্প গ্রহণ করছেন।সনাতন ধর্মে প্রকৃত গুরু কখনো ব্যক্তিপূজার শিক্ষা দেন না; তিনি শিষ্যকে ভগবানের শরণাগত হতে, শাস্ত্রসম্মত জীবনযাপন করতে, সকল প্রাণীর প্রতি দয়া, সত্যনিষ্ঠা ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। গুরু শিষ্যের অন্তরের অজ্ঞানরূপী অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের সূর্যোদয় ঘটান। তাই গুরুপূর্ণিমা মূলত জ্ঞান, ভক্তি, বিনয়, আত্মশুদ্ধি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে পুনরায় ধারণ করার এক মহিমান্বিত আহ্বান।

"
"