কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, June 1, 2026

June 01, 2026

পিরোজপুরের শ্মশানে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও আগুন

পিরোজপুর পৌর শ্মশান প্রাঙ্গণে দুঃসাহসিক চুরির পাশাপাশি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পৌর শ্মশান কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সকালে খবর পেয়ে ছুটে যান তিনি। গিয়ে দেখতে পান, শ্মশান চত্বরের কালী মন্দিরে থাকা শিবঠাকুরের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাঙা প্রতিমা বাইরে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শ্মশানের প্রধান ফটকটিও ভাঙা হয়েছে।
সুনীল চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা চুরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সৎকার কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জামও চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।
খবর পাওয়ার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক আলমগীর হোসেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন নৃশংস হামলা ও চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায় এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের জোর দাবি জানিয়েছে।
June 01, 2026

নারায়ণগঞ্জে মা ও তিন সন্তানের ‘নিখোঁজ’ কাণ্ডে উঠল ধর্মান্তরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া এক মা ও তার তিন সন্তানের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এটি পরিকল্পিত গৃহত্যাগ এবং ধর্মান্তরের ঘটনা বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। শুধু একটি পরিবার ভাঙেনি, তিন নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার ভূঁইয়ার বাগের বাসিন্দা কিরণ সরকারের স্ত্রী লিজা সরকার গত ২২ মে বিকেলে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। স্বামী কিরণ নিজেই তাদের রিকশায় তুলে দেন। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে তারা কখনোই পৌঁছাননি। নিখোঁজদের মধ্যে ছিলেন লিজা সরকার, তার মেয়ে শাবনী সরকার, ছেলে গণেশ সরকার এবং ছোট মেয়ে তারা সরকার।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এবং সামাজিক মাধ্যমে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ঘটনার ভিন্ন চিত্র বেরিয়ে আসে।
পরিবারের অভিযোগ, লিজা সরকার তার দেবরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি ছেড়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ১০ বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। বর্তমানে লিজা তিন সন্তানসহ তার কাছেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্বজনদের বক্তব্য, বিষয়টি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কারণ এর সঙ্গে তিনটি নাবালক শিশু জড়িত। তাদের ধর্মীয় পরিচয়, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের সম্মতি ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা না করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহলে। ধর্মান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে তাদের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের মতে, নাবালকদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি।
June 01, 2026

যশোরের এগারো শিব মন্দির: এক রাজকন্যার বেদনায় গড়া সনাতনী সৌধ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ভৈরব নদের শান্ত তীর ঘেঁষে প্রায় চারশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক এগারো শিব মন্দির। এটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নয়, এক করুণ রাজকন্যার জীবনকথা আর শিবভক্তির গভীর প্রকাশ বহন করে চলেছে।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি বলে, সতেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে রাজা নীলকণ্ঠ রায় তার একমাত্র কন্যা অভয়ার জন্য এই এগারোটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন। নড়াইলের জমিদারপুত্র নীলাম্বর রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় অভয়ার, কিন্তু বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিধবা হন। তৎকালীন সমাজে বিধবার পুনর্বিবাহের পথ বন্ধ থাকায় অভয়া মহাদেব শিবের আরাধনায় আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। কন্যার এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে রাজা প্রাসাদের কাছেই গড়ে তোলেন এগারোটি মন্দির। কথিত আছে, কন্যার নামানুসারেই এলাকাটি 'অভয়ানগর' এবং পরে 'অভয়নগর' নাম পায়।
প্রায় ৬০ একর জমির ওপর বিস্তৃত মন্দির চত্বরের বিন্যাসে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী লক্ষ করা যায়। উত্তর ও পশ্চিমে চারটি করে, পূর্বে দুটি এবং দক্ষিণের প্রবেশপথের পাশে একটি মন্দির অবস্থিত। চুনা-পাথর, সুরকি আর পোড়ামাটির ইটে নির্মিত এসব মন্দিরের দেয়ালে পোড়ামাটির কারুকাজ ও নকশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এগারোটির মধ্যে মাঝখানের মন্দিরটি আকারে বড়, এটিই প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত।
সময়ের সঙ্গে কিছু অংশ জীর্ণ হয়ে পড়লেও মন্দিরগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কখনো ম্লান হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সাম্প্রতিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীরা এখানে আসেন। মহাদেবের আরাধনার পাশাপাশি তারা প্রত্যক্ষ করেন বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ভক্তি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এগারো শিব মন্দির সনাতন ঐতিহ্যের এক গর্বিত প্রতীক হয়ে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

 

June 01, 2026

বাগেরহাটে ধর্মান্তরিত শিক্ষার্থী আবার সনাতন ধর্মে ফিরলেন

বাগেরহাটের সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র (পি.সি.) কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্মান্তরিত হওয়ার পর আবার সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার ও স্থানীয় সূত্র। গত ২৮ মে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুদ্ধি যজ্ঞ সম্পন্নের মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থী এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীর সঙ্গে পারিবারিক আলোচনা, কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তার প্রক্রিয়া চলে। এ সময় তাকে পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও নিজ পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। পাশাপাশি ধর্মান্তর, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তিনি নিজ ইচ্ছায় পুনরায় সনাতন ধর্মে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে পরিবার জানিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী শুদ্ধি যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীর পরিবার তার নতুন শুরুর জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ ও শুভকামনা চেয়েছে। স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দও আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনে সফল হবেন।
June 01, 2026

ধূমপান ছাড়তে চান? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ৪টি কার্যকর উপায়

ধূমপান বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকরা বলছেন, তামাক ব্যবহারের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ ও নানা ধরনের ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালির সমস্যাও ধূমপানের কারণে বাড়ে।
তবে অভ্যাসটি ছাড়তে চাইলে জীবনযাপনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা জরুরি। হঠাৎ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে সিগারেটের মাত্রা কমানো অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের দেওয়া চারটি কার্যকর পরামর্শ হলো—
১. চকলেট ও চুইংগাম ব্যবহার
হঠাৎ ধূমপানের তীব্র আকাঙ্ক্ষা হলে চকলেট বা চুইংগাম খেলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং ইচ্ছাটা কিছুটা দমে আসে।
২. কিছু পানীয় এড়িয়ে চলা
অনেকের চা, কফি বা অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ধূমপানের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই এসব পানীয় কমালে বা এড়িয়ে চললে ধূমপানের তাড়নাও অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।
৩. মানসিক সহায়তা নেওয়া
ধূমপান ছাড়ার সময় মানসিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া, গ্রুপ থেরাপি বা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বেশ কাজে আসতে পারে।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ
প্রয়োজনে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা নন-নিকোটিন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, একবার ধূমপান ছেড়ে আবার শুরু করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই সিদ্ধান্তে অটল থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ইতিবাচক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখাই ধূমপানমুক্ত জীবনে ফেরার পথকে সহজ করে তোলে।

Sunday, May 31, 2026

May 31, 2026

'মিথ্যা' অভিযোগে হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটুনি, দোকানে হামলা

          

সিলেট মহানগরের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টির পর প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে মারধর ও তাঁর দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ওই এলাকায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় সরাসরি কোনো প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই একদল বিক্ষুব্ধ লোক ওই প্রবীণ ব্যবসায়ীকে অভিযুক্ত করে তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছিলেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ। হঠাৎ কিছু লোক জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে মারধর শুরু করলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
তবে এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ দাবি করছেন, ধর্ষণচেষ্টার যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত ছাড়াই একজন প্রবীণ নাগরিকের ওপর হামলা চালানো নিন্দনীয় ও আইনবহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেন তারা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল সকলে যেন গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখেন, সে আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবি উঠেছে।


May 31, 2026

সিলেটে বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ঝুমকি দেব (২৯) নামে এক হিন্দু নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামীর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার।
রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়ায় স্বামী চঞ্চল দাসের বাড়ি থেকে ঝুমকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঝুমকি উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের অধিরের দোকান এলাকার সনৎ দেবের মেয়ে। আড়াই মাস আগেই চঞ্চল দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই ঝুমকিকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়। ঘটনার দিনও তাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এলাকাবাসী এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

May 31, 2026

ফরিদপুরে হিন্দু মৎস্যচাষীর ঘেরে বিষ প্রয়োগ, ৬০ লাখ টাকার মাছ নিধন

ফরিদপুর সদরের কানাইপুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক হিন্দু মৎস্যচাষীর চারটি মাছের ঘেরে গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মাছ নিধন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষী অনিমেষ সরকার।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের নরসিংহদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভোরে ঘেরে গিয়ে অনিমেষ সরকার দেখতে পান, চারটি ঘেরের পানিতেই অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে ঘেরের পানিতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করেছে।
ভুক্তভোগী অনিমেষ সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মাছ চাষই ছিল তার পরিবারের একমাত্র জীবিকা। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর বিনিয়োগে গড়া ঘেরগুলোতে এমন পরিকল্পিত নাশকতায় তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই তার এই ক্ষতি করা হয়েছে।
এক রাতেই এত বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত অনিমেষ সরকার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় মৎস্যচাষীরা বলছেন, এ ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা শুধু একজন চাষীর ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার মৎস্যচাষীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
May 31, 2026

মৌলভীবাজারে মন্দির থেকে গোপাল বিগ্রহ ও পূজা সামগ্রী চুরি, ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মাতারকাপন এলাকার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী গিরিধারী আখড়ায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা মন্দির থেকে গোপাল বিগ্রহ, কাঁসার থালা, বাটি, করতাল, ঘণ্টাসহ পূজা-অর্চনায় ব্যবহৃত মূল্যবান সব সামগ্রী নিয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আখড়ার সেবায়েত গৌরা দাস প্রতিদিনের মতো পূজা দিতে মন্দিরে গেলে চুরির বিষয়টি নজরে আসে। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন, গোপাল বিগ্রহসহ সব কাঁসার পূজা উপকরণ উধাও।
সেবায়েত গৌরা দাস বলেন, "মন্দিরে ঢুকে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। গোপাল বিগ্রহ থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়ে গেছে চোরেরা, কিছুই অবশিষ্ট নেই।"
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চুরি যাওয়া বিগ্রহ ও সামগ্রী উদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, এটি কেবল চুরি নয়, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত। তারা মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

Saturday, May 30, 2026

May 30, 2026

ল্যাটিন আমেরিকায় প্রথমবার ভগবান গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত

সনাতন ধর্মের বিশ্বব্যাপী প্রসারের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রথমবারের মতো বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ল্যাটিন আমেরিকায় সনাতন ধর্মের বিকাশ ও ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের বিস্তারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো অঙ্গরাজ্যের মনোরম পাহাড়ি শহর পেত্রোপোলিসে অবস্থিত ‘সেন্ট্রো কালচারাল বিশ্ব বিদ্যা’ কেন্দ্রে গত ৯ মে অনুষ্ঠিত হয় এই মহতী প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান। বৈদিক রীতিনীতি অনুসারে হোম, যজ্ঞ, পূজা-অর্চনা এবং সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভগবান গণেশের পবিত্র বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ ও অতিথিরা এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সাক্ষী হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভাটিয়া। এছাড়াও অংশ নেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত আধ্যাত্মিক শিক্ষক ও বেদান্তাচার্য জোনাস মাঁসেটি (বিশ্বনাথ), যিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলে বেদান্ত, সংস্কৃত, যোগ ও ভারতীয় দর্শনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ভারত থেকে বিশেষভাবে আনা কালো পাথরের এই গণেশ মূর্তির উচ্চতা প্রায় ১.২০ মিটার এবং ওজন প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় অগ্নিহোম, বৈদিক স্তোত্রপাঠ এবং মন্ত্রোচ্চারণে পুরো প্রাঙ্গণ ভক্তিময় আবহে মুখর হয়ে ওঠে।
সনাতন ধর্মে ভগবান গণেশকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মঙ্গল ও শুভ সূচনার অধিষ্ঠাত্রী দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। যে কোনো শুভ কাজের শুরুতে তাঁর আরাধনার প্রচলন রয়েছে। তাই ব্রাজিলে এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা ও বৈদিক সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাটিন আমেরিকায় সনাতন ধর্ম ও ভারতীয় দর্শনের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যোগ, ধ্যান, বেদান্ত ও আত্মজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠা সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত বেদান্ত ও আত্মজ্ঞান উৎসবে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে যোগচর্চা, ধ্যান, শাস্ত্র আলোচনা, মন্ত্রপাঠ এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভাটিয়া তাঁর বক্তব্যে ব্রাজিলে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সনাতন দর্শনের প্রসারে বিশ্ব বিদ্যা কেন্দ্রের অবদানের প্রশংসা করেন।
ইতোমধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে সনাতন ধর্মের বিশ্বজয়ের আরেকটি উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিদেশের মাটিতে বৈদিক মন্ত্রধ্বনি, হোম-যজ্ঞ এবং ভগবান গণেশের আরাধনার মধ্য দিয়ে ব্রাজিলে যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বব্যাপী সনাতন ধর্মের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।
"
"