কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, November 4, 2026

November 04, 2026

কুমিল্লায় নিখোঁজ ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ জলাশয় থেকে উদ্ধার


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিখোঁজ হন আদনান। তার সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিহত আদনান আলতাফের বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার। তাদের বাড়ি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ায়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তার খোঁজ করতে শুরু করে। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়রা জলাশয়ে মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।


 

November 04, 2026

নোয়াখালীর সেনবাগে হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি


নোয়াখালীর সেনবাগে ভোররাতে এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরটির আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। প্রথমবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আবারও আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহাপুর ঠাকুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ডাক্তার নারায়ণ চন্দ্র আচার্য্য।

ভুক্তভোগী নারায়ণ চন্দ্র আচার্য্য জানান, প্রথমে ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আবারও আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সেনবাগ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ঘরের ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়ারড্রব, খাটসহ আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়। সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইরফানুল হক চৌধুরী, সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হযরত আলী মিলন, ইয়ারপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এ সময় নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী স্বপনও পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেন। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পরিবারটির জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইরফানুল হক চৌধুরী জানান, সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতঘর এক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


 

November 04, 2026

বরিশালের উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর দখলচেষ্টার অভিযোগ, মানববন্ধন


বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা, ভূমি রেকর্ডে কথিত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

‘অপরান বাংলাদেশ হিন্দু সংখ্যালঘু’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুর তাঁদের পরিবার ১৯৫৯ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে ওই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খান এবং গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।

সঞ্জয় চন্দ্র দাস বলেন, তাঁদের পৈতৃক জমিটি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে অবস্থিত এবং জমি ও কলেজের মধ্যবর্তী স্থানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কলেজের নাম ব্যবহার করে তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (নম্বর ১৪/২০২০) করা হয়েছে, যার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে।

মানববন্ধনে ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। সঞ্জয় চন্দ্র দাসের দাবি, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের এক কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের পৈতৃক জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই তাঁদের জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। ধর্মীয় পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক, কোনো পরিবার যেন প্রভাবশালী মহলের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির কারণে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সঞ্জয় চন্দ্র দাস জানান, এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


 

November 04, 2026

দারিদ্র্যকে হারিয়ে ভ্যানচালক বাবার মুখ উজ্জ্বল করল তিথি: পুরো কলেজে একমাত্র এ প্লাস!


সংসারে অভাব ছিল, ছিল না প্রাইভেট কিংবা কোচিং করার সামর্থ্য। তবুও দারিদ্র্যের কাছে হার মানেনি বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাকাল গ্রামের সুখরঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে তিথি বিশ্বাস।

বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। আর সেই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে তিথি নিজেই শুরু করে কঠিন জীবনসংগ্রাম। কখনো অন্য শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছে, কখনো সেলাই মেশিনে কাজ করেছে। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগাড় করেছে, তবুও পড়াশোনায় একটুও পিছিয়ে পড়েনি।

প্রতিদিন বাবার ভ্যানে চড়ে কলেজে যাওয়া, নিয়মিত ক্লাস করা আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এসএসসিতে অর্জন করেছে গোল্ডেন এ প্লাস। এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও পেয়েছে এ প্লাস।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, আগৈলঝাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের জেনারেল শাখা থেকে ৫২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০১ জন। আর পুরো কলেজে এ প্লাস পেয়েছে একমাত্র তিথিই!

মেয়ের এমন সাফল্যে বাবা-মায়ের চোখে আনন্দ থাকলেও সামনে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে। তিথির মা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, মেয়ের পড়াশোনায় সাহায্য করার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও খরচ চালানো তাঁদের পক্ষে কঠিন।

তবে আশার কথা, তিথির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আর্থিক সমস্যার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

তিথির স্বপ্ন শুধু নিজের পায়ে দাঁড়ানো নয়, বরং এমন একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছানো, যাতে একদিন তার বাবাকে নিয়ে সবাই গর্ব করে বলতে পারে, এই সেই গর্বিত বাবা, যার মেয়ে আজ নিজের যোগ্যতায় পরিচিত!

একজন ভ্যানচালক বাবার ঘাম আর মেয়ের অদম্য পরিশ্রমের এই গল্প আমাদের প্রমাণ করে দেয়, অর্থের অভাব স্বপ্ন দেখার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।

অর্থের অভাবে যেন তিথির মতো আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে না যায়। তিথির পাশে দাঁড়াক সমাজ ও রাষ্ট্র, এটাই প্রত্যাশা।


 

November 04, 2026

বিবিএস জরিপে বাদ পড়ছে বর্মণ-কোচ সম্প্রদায়, পরিচয় মুছে ‘বাঙালি’ তকমার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ৪ নভেম্বর ২০২৬: সরকারি গেজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্পষ্ট স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ’ থেকে বাদ পড়েছে বর্মণ ও কোচ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ। জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র থাকা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন বর্মণকে জরিপে ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বর্মণ সম্প্রদায়ের একটি অংশ। তাদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত থাকা সত্ত্বেও অপূর্ণাঙ্গ ও বিকৃত এই জরিপের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে তারা।

জরিপের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই জরিপের তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্ধিত সময়েও উত্তরাঞ্চলের বহু বর্মণ ও কোচ পরিবার গণনার বাইরে রয়েছেন দাবি করে জরিপের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মণ সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি দিনবন্ধু বর্মণ বলেন, প্রত্যয়নপত্র সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক পরিবার বাদ পড়েছে।

সরকারি স্বীকৃতি বনাম বাস্তবতা

‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’ ও ২০১৯ সালের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে স্বীকৃত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় ‘কোচ’ (২ নম্বর) ও ‘বর্মণ’ (১৫ নম্বর) আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিবিএসের তথ্যমতে, এসব জনগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও ময়মনসিংহের বহু বর্মণ ও কোচকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া জরিপে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না।

প্রত্যয়নপত্র থাকলেও ‘বাঙালি’ তকমা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার জবা রানী বর্মণ জানান, তাঁর কাছে জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র থাকা সত্ত্বেও জরিপ কর্মীরা তাঁকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করে ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ লিখেছেন। এক তথ্যসংগ্রাহক বলেন, ওপর থেকে পাওয়া নির্দেশনায় প্রত্যয়নপত্রধারীদের তথ্য নিতে বলা হলেও মন্তব্যে ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ লেখার নির্দেশ ছিল।

বিভিন্ন দপ্তরের বিপরীত বক্তব্য

রংপুর বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনেই ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ হিসেবে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়সাল হাসান বলেন, তাঁর জেলায় প্রত্যয়নপত্রধারী বর্মণদের সরাসরি ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জরিপ প্রকল্প পরিচালক ফারহানা সুলতানা বলেন, প্রত্যয়নপত্র থাকলে যাচাই ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যাদের নেই, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি যাচাই করে নেওয়া হয়েছে।

আদিবাসী সংগঠনগুলোর আপত্তি

জরিপে বর্মণদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ফেডারেশন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কয়েকজন নেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বর্মণদের একটি অংশ অতীতে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করেনি। তবে গবেষক ও কিছু সংগঠন বলছে, সরকারি গেজেটে বিষয়টি আইনগতভাবে মীমাংসিত, তাই নতুন বিতর্ক না তুলে ইতিবাচক সমাধানে যাওয়া উচিত।


 

Tuesday, November 3, 2026

November 03, 2026

চাঁদপুরে ইসকন নিষিদ্ধ ও নীলাচল মন্দির বন্ধের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের মানববন্ধন


চাঁদপুর, ৩ নভেম্বর ২০২৬: দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং চাঁদপুর শহরের মুনসেফপাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দির বন্ধের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, চাঁদপুর জেলা শাখা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন। মানববন্ধনে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির দেশ। তবে সম্প্রতি ইসকনের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।

হেফাজত ইসলাম চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি নূরে আলমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আবুল হাসানাত, জেলা প্রচার সম্পাদক হাফেজ কারী রশিদ আহমদ, শহর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। চাঁদপুরে আমরা সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করছি। এখানকার সনাতনী ভাই-বোনদের সঙ্গে আমাদের ভাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের বিতর্কিত ও দেশবিরোধী কার্যক্রম নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।’ তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইসকনের কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নীলাচল মন্দিরের কার্যক্রম, অবস্থান, অনুমোদন ও আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধর্মীয় সংগঠনের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের আইন, সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্মারকলিপিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলাম চাঁদপুর জেলা শাখা ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


 

November 03, 2026

একটি গণহ*ত্যায় কতো নারী বিধবা হতে পারেন? ৫০ জন, ১০০ জন, ১৫০ জন?

.
না! একমাত্র গণহ*ত্যাতেই স্বামীহারা হয়েছিলেন ৮০০ জনেরও বেশী নারী। গণহ*ত্যাটি ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের জাঠিভাঙা গণহ*ত্যা। 
.
এই ছবিটি ২০১৩ সালে তোলা। এই ছবিতে যারা রয়েছেন তারা সবাই সেই গণহ*ত্যায় বিধবা হয়েছে।  আর সেই গণহ*ত্যার মূল টার্গেটই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। 
.
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উত্তরাঞ্চলে দেশের সর্ববৃহৎ গণহ*ত্যা বলা হয় জাঠিভাঙা গণহ*ত্যাকে।  জাঠিভাঙা গণহ*ত্যায় কেবল কয়েক ঘণ্টায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারেরা ২৫০০ এর ও বেশী নিরীহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষকে হ*ত্যা করেছিল।  তবে অনেক গবেষকের মতে সেখানে শহীদের সংখ্যা ৪ হাজারের কাছাকাছি।
.
এই গণহ*ত্যা এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে, এই গণহ*ত্যার পরবর্তীতে আটকে গিয়েছিল জাঠিভাঙার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাথরাজ নদীর স্রোত।
..
 যুদ্ধের মধ্যে স্বামী, ছেলেদের হারিয়ে জাটিভাঙ্গা গণহ*ত্যায় স্বামীহারা সেই বিধবাদের মধ্যেই অসংখ্য নারী পেটের দায়ে ভিক্ষুক হয়ে গিয়েছিলেন।  অনেক নারীই দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। অথচ যু*দ্ধের আগে সেই নারীদের মধ্যে পড়ায় সবাই স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন। অভাবের লেশমাত্রও ছিলোনা তাঁদের জীবনে। একটি গণহ*ত্যাই কেড়ে নিল তাঁদের স্বাভাবিক জীবন!
.
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার  শান্ত সুনিবিড় একটি ইউনিয়ন শুখানপুকুরী। ইউনিয়নটির মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সীমান্তবর্তী খরস্রোতা নদী পাথরাজ। নদীর এক পাড়ের তীর ঘেঁষে অবস্থান জাঠিভাঙার।
.
 শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাঠিভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারী হিন্দু জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। ধর্মীয় সহাবস্থানের কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে ছিলোনা কোন বিরোধ।
.
মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়ে ভারতে পাড়ি জমাতে শুরু করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষেরা। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলো শুখানপুকুরী ইউনিয়নের গ্রামগুলো।
.
 প্রত্যন্ত জনপদ হওয়ায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারেরা তখনও এই ইউনিয়নে প্রবেশ করতে পারেনি। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের উপদ্রব না থাকায় এই রুটটি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়ন থেকে আগত ভারতগামী শরণার্থীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ফলে এই রুট ধরে দিনে দিনে বাড়তে থাকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা।
.
একপর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনী রাজাকারদের মাধ্যমে শরণার্থীদের এই রুটের সম্পর্কে জেনে যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর আসন্ন হামলার আশঙ্কায় ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যার খবর শুনে ঠাকুরগাঁও সদরের শুখানপুকুরি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর, চকহলদি, সিংগিয়া, চণ্ডীপুর, বালিয়া, বাসুদেবপুর, মিলনপুর, গৌরীপুর, খামার ভোপলা গ্রামের বাসিন্দারাও শেষমেশ প্রাণের ভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়ার  সিদ্ধান্ত নেন।
.
২২ এপ্রিল তারা ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেদিন বিকেলে শরণার্থীদের অনেকেই পাখরাজ নদী তীরবর্তী জাঠিভাঙায় গিয়ে পৌঁছান। পূর্ব থেকেই জাঠিভাঙ্গায় অন্য অঞ্চল থেকে আগত শরণার্থীদের রাত্রিযাপনের জন্য অবস্থান করছিলেন।  
.
ফলে সেখানে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এসময় স্থানীয় রাজাকারেরা তাদের রাত্রিযাপনের করতে বলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে পরদিন সকালে সীমান্তের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার অনুরোধ করেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কথা ভেবে এবং রাজাকারদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে শরণার্থীরা জাঠিভাঙ্গায় রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
.
শরণার্থীদের আশ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়ে এদিন রাতে স্থানীয় কয়েকজন রাজাকার ঠাকুরগাঁও ইপিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতির খবর জানিয়ে দেয়।
.
২৩ এপ্রিল, ১৯৭১। দিনটি ছিল শুক্রবার।
.
ভোর থেকেই আগের রাত্রে আগত শরণার্থীদের অনেকেই সীমান্তের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে শরণার্থীরা এসময় জাঠিভাঙ্গা ও  শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। 
.
সেদিন  সকাল থেকেই স্থানীয় দালালেরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুরুষদের পাথরাজ নদীর উপরেভাঙা পুল মেরামতের কথা বলে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। নিরীহ শরণার্থীরা তখনও ঘুণাক্ষরে টের পাননি তাদের উপর পৈশাচিক এক গণহত্যা সমাগত। 
.
বেলা বাড়তেই রাজাকারদের সহযোগিতায় দুই ট্রাক ভর্তি পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের একটি দল জাঠিভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। প্রথমে তারা জাঠিভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘেরাও করে। এসময় রাজাকারেরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিরীহ সাধারণ গ্রামবাসী ও শরণার্থীদের জোরপূর্বকভাবে তুলে আনে। 
.
একপর্যায়ে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা উপস্থিত, তুলে আনা গ্রামবাসী ও শরণার্থীদের জাঠিভাঙ্গার পাথরাজ নদীর পাড়ে এনে জড়ো করে।একপর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে। 
.
এসময় প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক হয়ে ছুটতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের অবিশ্রান্ত গুলিবর্ষণে এসময় অসংখ্য সাধারণ মানুষ শহীদ হন। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা বেশী হওয়ায় গণহত্যার একপর্যায়ে হানাদার গুলির মজুত কমে আসে। 
.
এসময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র,  দা, বল্লম ও রামদা হাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বহু মানুষকে নির্বিচারে কুপিয়ে হত্যা করেছিল রাজাকারেরা।
.
জাঠিভাঙ্গা গণহত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন জাঠিভাঙ্গা এসসি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রাম কিশোর বর্মণ। তিনি আমাকে বলেছিলেন এমনটাই। ‘সে দৃশ্য স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না। ওরা একপাশ থেকে গুলি করছে আর পুরুষেরা পালাচ্ছে। দৌঁড়াতে যেতে আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। গুলি এসে বুকে লেগেছে, এরপর আর সামনে এগোতে না পেরে ঢলে পড়লো।  মানুষ মানুষকে মারতে পারে। যুদ্ধের পর গাঙয়ে অনেক মানুষের খুলি পাওয়া গিয়েছিল। অন্য জেলার থেকে মানুষ আসায় বহু মানুষের নাম পরিচয় আমরা আর কখনও জানতে পারিনি।’
.
তিনি বললেন, ‘গণহত্যার পূর্বে পাকিস্তানি সেনা ও দালালেরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে প্রথমে এক দফা লুটপাট চালিয়েছিল। গণহত্যা শেষে পাকিস্তানি সেনারা চলে গেলে রাজাকারেরা আরেক দফা গণহারে লুটপাট চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে গ্রামগুলোর স্বামী ও স্বজনহারা বিধবারা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন।’
.
জাঠিভাঙা গণহত্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চকহলদি, চণ্ডীপুর, শুখানপুকুরী গ্রামের শত শত নারী স্বামীহারা হয়েছিলেন। কেবল চকহলদি গ্রামের বিধবা নারীর সংখ্যাই ছিল ২০০ জনের বেশী। সব গ্রাম নিয়ে যে সংখ্যা ৮০০ জনেরও বেশী। ফলে এই গ্রামগুলো বিধবাপল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। 
.
জাঠিভাঙা গণহত্যা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি গণহত্যা। এই গণহত্যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল এই অঞ্চলকে হিন্দু পুরুষ শূন্য করতে হবে। এজন্য তারা শরণার্থীদের টার্গেট করে এই গণহত্যা চালিয়েছিল।’
.
যুদ্ধের পর জাটিভাঙ্গা গণহত্যায় স্বামীহারা বিধবাদের অনেককেই জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিতে হয়েছিল। কেউবা দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। 
.
জাঠিভাঙ্গা গণহত্যায় এতো অধিক সংখ্যক মানুষ শহীদ হয়েছিলেন যে, তাদের সৎকার করা সম্ভবপর ছিলোনা। ফলে গুটিকয়েক লাশ ছাড়া বেশীরভাগ লাশ পাথরাজ নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা।   
.
জাঠিভাঙা গণহত্যার পরবর্তীতে কয়েক বছর আগে গণহত্যার স্থান পাথরাজ নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছিল একটি স্মৃতিস্তম্ভ। তবে বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভটি পড়ে রয়েছে একপ্রকার অবহেলার সাক্ষী হয়ে। 
.
উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গণহত্যাটি এই স্থানে সংঘটিত হলেও পুরো কমপ্লেক্সেই নেই কোন নৃশংসতা ও গণহত্যার বিবরণ সম্বলিত কোন বিবরণ। সীমানা প্রাচীরের মূল ফটকে নেই কোন তালাও। সন্ধ্যা পেরোলেই স্মৃতিস্তম্ভের ভিতরে বসে মাদকসেবীদের অবাধ আড্ডা। স্মৃতিস্তম্ভ ও কমপ্লেক্সের দেখভালের দায়িত্বে নেই কোন তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তারক্ষী। 
.
এ যেন এক ইতিহাসের নির্মম পরিহাস।


 

November 03, 2026

সারাক্ষণ শরীরজুড়ে ক্লান্তি? কারণ ও করণীয়

রাতে পর্যাপ্ত ঘুমিয়েছেন, সকালে উঠেছেন ঠিক সময়েই—অথচ শরীরজুড়ে ক্লান্তি, কাজে মন বসছে না, সামান্য হাঁটাহাঁটি করতেও হাঁপিয়ে উঠছেন। অনেকেই এমন সমস্যাকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ বলে মনে করেন। তবে এর পেছনে থাকতে পারে আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা।

সাধারণত আর্থ্রাইটিসের কথা উঠলে প্রথমে গাঁটে গাঁটে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়ার কথা মনে আসে। কিন্তু এসবের বাইরেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি রোগীদের ভোগাতে পারে। আশ্চর্যের বিষয়, এক রাত ভালো ঘুমানোর পরও এই ক্লান্তি দূর নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জয়েন্টের ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। ভারতের আইএসআইসি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. শ্রী রাম গর্গের মতে, আর্থ্রাইটিসজনিত ক্লান্তি দূর করতে শুধু বেশি ঘুমালেই হবে না; রোগের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনাও জরুরি।

আর্থ্রাইটিসে কেন সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে

প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়—এটি সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভবের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে জয়েন্টের ব্যথায় রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে, ফলে পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকলেও শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। ব্যথার ভয়ে অনেকে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম কমিয়ে দেন, এতে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এভাবে ব্যথা, কম চলাফেরা ও পেশির দুর্বলতা একে অন্যকে বাড়িয়ে ক্লান্তির একটি চক্র তৈরি করে।

ক্লান্তি কমাতে ৫ অভ্যাস

১. চলাফেরা বন্ধ করবেন না: শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং, পানিতে ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনায় ব্যায়াম করুন। দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে শরীরচর্চা করলেও উপকার পাওয়া সম্ভব।

২. ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস করুন। রাতে চা-কফি কমিয়ে দিন, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

৩. পুষ্টিকর খাবার রাখুন তালিকায়: শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৪. কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন: ঘরের সব কাজ একসঙ্গে না করে কয়েকটি ছোট ভাগে ভাগ করুন। প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের নাগালে রাখুন, যাতে বারবার হাঁটতে না হয়।

৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অবহেলা করবেন না: কখনো প্রদাহ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা সংক্রমণের কারণেও ক্লান্তি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করুন।


 

November 03, 2026

চাঁদপুরে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের খরচই কাল হলো জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলাই সূত্রধরের


চাঁদপুরে টানা দ্বিতীয়বার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের খরচই কাল হলো জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলাই সূত্রধরের (৩৫)। ধারদেনা ও ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিক চাপে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ। বলাই সূত্রধর চাঁদপুর সদরের ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বহরিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি এই বাজারের সিআইপি বেরিবাঁধের সঙ্গে ‘মায়া শিল্পালয়’ নামে স্বর্ণের দোকানে নিজের জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত ১ নভেম্বর রোববার বিকেলে বলাই নিজের দোকানে থাকা এসিড পানি হতাশায় খেয়ে ফেলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বহরিয়া বাজারের ফল ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, বলাই হতাশা থেকে নিজ দোকানের এসিড পানি খেয়ে নেন। পরে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করলে বাজারের ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক অবস্থার বেগতিক দেখে ঢাকা পাঠানোর সময় কুমিল্লা অতিক্রমকালে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। বলাই তাদের তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট।

স্থানীয়রা জানান, বলাইয়ের আর্থিক অবস্থা আগে থেকেই ভালো ছিল না। তখন তিনি মানুষের কাজ করাতে রাখা স্বর্ণালংকার ভেঙে ভেঙে বিক্রি করাসহ নানা উপায়ে ধারদেনা করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রথমবার বিয়ে করেন। এতে বিশাল প্যান্ডেল, শত শত লোকের খাওয়াদাওয়াসহ অনুষ্ঠান বাবদ ব্যাপক খরচ হয়। ওই স্ত্রী গর্ভাবস্থায় স্ট্রোকে মারা যান। এরপর প্রথম বিয়ের ধারদেনা শোধ না করেই ৬ মাসের মধ্যে তিনি পুনরায় আরও ধারদেনা করে পূর্বের চেয়েও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর জমি কিনে চৌচালা বাড়ি তৈরি করায় তিনি আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাড়ে ৩ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে এবং ওই স্ত্রী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বলাইয়ের স্ত্রী বৃষ্টি রানী সূত্রধর বলেন, ‘এই চৌচালা বাড়িটুকু ছাড়া বলাই আর কিছুই আমাদের জন্য রেখে যায়নি। এখন আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’ তিনি পাওনাদারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বলাইয়ের মরদেহ সৎকারের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি ঋণের চাপে হতাশা থেকে এসিড পানি খেয়েই এভাবে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন।


 

Wednesday, October 28, 2026

October 28, 2026

নীলফামারীর ডোমারে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


নীলফামারীর ডোমারে শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাইয়ের করা মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শ্যামল শর্মা হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা মধ্যপাড়া গ্রামের শুসেন শীলের ছেলে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই কৃষ্ণ শর্মা বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শালমারা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) এবং রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (২৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামে ওই নারীকে নীলাহাটি গ্রামে নিয়ে আসেন শ্যামল শর্মাসহ কয়েকজন। পরে সোমবার রাতে তারা ওই নারীকে নীলাহাটি বাঁশবাগানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান।

সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্যামল শর্মাকে গাছের ডাল দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

শ্যামলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা আব্দুর রশিদ ও শাহনাজ বেগমকে আটক করেন। পরে আহত শ্যামল শর্মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শ্যামল শর্মাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য নারীকে এনে যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজনকে মারধর করা হয়। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।’

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই নারীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


 

"
"