কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, October 22, 2026

October 22, 2026

কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর দুর্গাপূজা হচ্ছে না

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না। টাকার অভাব, উদ্যোগের ঘাটতি ও হিন্দু পরিবার কমে যাওয়ায় পূজার আয়োজন বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোর ভাষ্য।

এবার ফুলবাড়ী উপজেলায় ৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হলেও দাসিয়ারছড়ায় কোনো আয়োজন নেই বলে জানান উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমলচন্দ্র রায়।

দাসিয়ারছড়ার কামালপুর এলাকার বাসিন্দা সুবর্ণা রানী বলেন, ‘ঘরের কাছে মণ্ডপ নাই, বাজি পোড়া নাই। ছওয়া-পওয়াগুলার মধ্যে আগের সেই আনন্দ আর নাই। কি আর করার, কষ্ট করি দূর-দূরান্তত গিয়া পূজা করা নাগছে।’ একই এলাকার বিরোবালা বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়ির সামনের জায়গায় দুর্গাপূজা করা হতো। এখন হিন্দু মানুষ কম। টাকা-পয়সার অভাবের কারণে এখানে আর পূজা হয় না।’

কালিরহাট কালিমন্দির কমিটির সদস্য সুধন মোহন্ত বলেন, ‘টাকার সংকট, উদ্যোক্তার অভাব ও হিন্দু কমে যাওয়ায় তিন বছর ধরে আমরা পূজার আয়োজন করতে পারছি না।’

কুড়িগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রবি বোস বলেন, ‘আর্থিক সংকট ও হিন্দু পরিবারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চলতি বছর দাসিয়ারছড়ায় পূজামণ্ডপ স্থাপন করা যায়নি। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ ও সহযোগিতারও অভাব রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলক সরকার বলেন, ‘দাসিয়ারছড়ায় সর্বশেষ ২০২৩ সালে পূজামণ্ডপের আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। আগামীতে প্রশাসন উদ্যোগী হলে দাসিয়ারছড়ায় আবারও পূজার আয়োজন করা সম্ভব হবে।’

অমলচন্দ্র রায় বলেন, ‘এবার উপজেলায় ৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। তবে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় কোনো আয়োজন করা হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। তারা আগামী বছর পূজার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন।’

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১২টি বিলুপ্ত ছিটমহলের একটি দাসিয়ারছড়া। এখানে এক হাজার ৩৬৪টি পরিবারের মধ্যে ৭৫ থেকে ৮০টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর দাসিয়ারছড়া বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়।


 

October 22, 2026

সাতক্ষীরার তালায় প্রতিমার কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু


সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বিজয়া দশমীতে দুর্গাপ্রতিমার কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে তন্নী দে (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে। মাত্র চার মাস আগে বিয়ে হওয়া তন্নীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত তন্নী দে তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে ধুমধাম করে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এবারই প্রথম দুর্গাপূজা উদযাপন করছিলেন তিনি।

তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বিজয়া দশমীর রাতে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দুর্গাদেবীর চরণ ও কপালে সিঁদুর দিতে ননদের সঙ্গে কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বিসর্জনস্থলে যান তন্নী। সেখানে সহপাঠী ও স্বজনদের সঙ্গে সিঁদুর খেলায়ও অংশ নেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন তন্নী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই তন্নীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র মানসিক উত্তেজনা ও আকস্মিক গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জেল হোসেন তন্নীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


 

Sunday, October 18, 2026

October 18, 2026

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে খুলনায় বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে নতুন বস্ত্র বিতরণ

 


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে নতুন বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য সাহার উদ্যোগে এবং প্রবাসী অনিন্দ্য হাজরার অর্থায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রশান্ত কুমার কুন্ডু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি উজ্জল ব্যানার্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য সাহা ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুন বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পাপ্পু সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি অলোক দে এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রবিন দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভবেশ সাহা, মানিক শীল, বাবু শীল, রাতুল দাশ মিমো, শুভ শর্মা, সীমান্ত সাহা, প্রসেন সাহা, অভিজিৎ দে শুভ সহ বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতীক। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ। তাঁরা এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজকরা জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

Friday, October 16, 2026

October 16, 2026

সাহেবের কবরখানা পূজা কমিটির ১২৯তম দুর্গাপূজা: ‘ঘরের মেয়ে উমা’ রূপে দেবী আবাহনে ভক্তদের ঢল


নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে চারপাশ। ঐতিহ্য ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনপ্রিয় ‘সাহেবের কবরখানা পূজা কমিটি’র ১২৯তম দুর্গাপূজা। এ বছর ঐতিহ্যবাহী এই মণ্ডপে দেবীকে কোনো সাধারণ আদলে নয়, বরং ভালোবাসায় আগলে রাখা বাৎসল্যের এক অনন্য ‘ঘরের মেয়ে উমা’ রূপে আবাহন জানানো হয়েছে। মহাপঞ্চমী থেকেই দেবী দুর্গার এই অনন্য ও আবেগময় রূপ দর্শনে মণ্ডপে শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

‘ঘরের মেয়ে উমা’ ভাবনায় অনন্য আয়োজন

কমিটির আয়োজকরা জানান, দেবী দুর্গা কেবল ত্রিলোকতারিণী বা সর্বশক্তিমান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নন—তিনি আমাদের ঘরের সন্তান, আমাদের স্নেহের ‘উমা’। সারা বছর কৈলাসের কঠিন দায়িত্ব সামলে আশ্বিনের শরতে যখন তিনি মর্ত্যের বাপের ভিটায় ফিরে আসেন, তখন তিনি শুধুই এক স্নেহের কন্যা। বয়সের নিয়মে বছর ঘুরলেও মা-বাবার কাছে সন্তান যেমন আজীবন অবুঝ শিশুটিই থেকে যায়, তেমনি মণ্ডপে এবার দেবীকে বাৎসল্যের সেই ছোট্ট ‘উমা’ রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দেবীর শৈশবের মায়াবী হাসি, অবুঝ আবদার আর অমলিন চঞ্চলতার এই আবেগঘন আবহ দর্শনার্থীদের অন্তরে এক গভীর অনুভূতি জাগিয়ে তুলছে।

বাংলাদেশে প্রথম ও অনন্য আয়োজন

পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, এ বছর তাঁরা যে বিশেষ থিম নিয়ে কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং এমন আয়োজন বাংলাদেশে আর কোথাও হচ্ছে না। অনন্য থিমের পাশাপাশি মন্দিরের নান্দনিক আলোকময় সাজসজ্জা এবং অসাধারণ আকর্ষণীয় স্থাপত্য কাঠামো পুরো এলাকাকে এক বর্ণিল ও মনোরম রূপ দিয়েছে, যা এক নজর দেখতে পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভক্তরা মুগ্ধ হচ্ছেন।

নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

উৎসবের দিনগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা কমিটির কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত মণ্ডপে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। বিশাল এই জনস্রোত সামাল দিতে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ব্যাটালিয়ন এবং কমিটির নিজস্ব প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়াররা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

ঐতিহ্য, আধুনিক আলোকসজ্জা এবং সনাতনী ভাবাবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে সাহেবের কবরখানা পূজা কমিটির এই ১২৯তম আয়োজন এবার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।


 

October 16, 2026

দুর্গাপূজায় এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা: মাঠে ৬ হাজারের বেশি সদস্য, টহলে ৫৪৯ পিকআপ


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন বাহিনীর ২ হাজার ৪৫৭ জন সদস্য। পাশাপাশি ১৫টি ব্যাটালিয়নের ছয় হাজারের বেশি সদস্যকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে ৫৪৯টি পিকআপ এবং ৪৪৭টি মোটরসাইকেলে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো হুমকি না থাকলেও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে এসআরবির ডগ স্কোয়াড ও বম্ব ডিসপোজাল টিম। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্তসংখ্যক এসআরবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।’

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।

এসআরবি মহাপরিচালক জানান, গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় বাহিনীর ১৫টি ব্যাটালিয়নের ছয় হাজারের বেশি সদস্য দেশজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে নিয়মিত টহলও জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানান তিনি। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা ঠেকাতে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের কাজও করছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। পূজামণ্ডপে আসা নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা পরিবহন ও বিসর্জন ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এ উপলক্ষে নির্ধারিত রুটে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিসর্জনস্থলে এসআরবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এসআরবি মহাপরিচালক।


 

October 16, 2026

দুর্গোৎসবে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ প্রস্তুতি, ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে পূজা

 শরতের আকাশে উৎসবের রং আর মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বরণের শেষ প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড়, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও তোরণ সাজানোর কাজ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলো। মহালয়ায় দেবীকে আবাহনের পর বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বোধন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি।

তিথি অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তদের প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজনে মুখর হয়ে উঠবে মণ্ডপগুলো। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনের ফল হিসেবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা, যুদ্ধবিগ্রহ ও শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, নৌকায় গমনের ফল হিসেবে শস্যবৃদ্ধি ও জলপ্লাবনের ইঙ্গিত রয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, গত বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে। তবে ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত বছর ২৬১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার হচ্ছে ২৫৮টিতে।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। তবে এবার মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন পড়ায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিন ধরে চলবে। সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার অধিক তিথিতে মহাসপ্তমীর পূজা, সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হচ্ছে।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, দেবী দুর্গার প্রতিমা সাজানো ও রং করার কাজ চলছে শেষ মুহূর্তে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপরও তৈরি করা হচ্ছে পূজামণ্ডপ। উৎসবকে ঘিরে পূজা কমিটির সদস্যদের মধ্যে চলছে ব্যাপক কর্মতৎপরতা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নিরাপত্তায় বিজিবি-এসআরবি-পুলিশ, আনসার

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ১ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। নাশকতা ও যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় মাঠে রয়েছে এসআরবি। বিভাগীয় শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর পাশাপাশি সারা দেশের পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করছেন ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানান, সীমান্তের দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেসক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।

এসআরবি মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানান, ১৫টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে প্রতিদিন ৫৪৯টি পিকআপ ও ৪৪৭টি মোটরসাইকেলে টহল দেওয়া হচ্ছে।

আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ ও ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী সদস্য। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ‘দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস’ চালু করছে বিআরটিসি। ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ বিশেষ বাস সার্ভিস পরিচালিত হবে। এ জন্য ২০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


 

Thursday, October 15, 2026

October 15, 2026

পুলিশ-ড্রোন ও নেতাকর্মীদের পাহারায় দুর্গাপূজা ‘দুর্ভাগ্যজনক’


পুলিশ ও ড্রোন এবং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কড়া পাহারায় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের ঘটনাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তারা বলেছে, এর মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু পূজার্থী জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা যেমন সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও নিদারুণ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্গাপূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য তৎপরতা ততই বাড়ছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের আংশিক চালচিত্র থেকে দেখা যায়, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি; ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ৪টি; মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনা ৩৬টি।

এছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে—ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি; বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ১১টি; হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ২৬টি; জমি ও সম্পত্তি দখলের ঘটনা ১৪টি; অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ৩টি; চাঁদাবাজির ঘটনা ৪টি এবং অন্যান্য ঘটনা ১৪টি।

বিবৃতিতে ১২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্থাপিত মন্দিরের ইট ব্যবহার করে সে মন্দিরের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্না করে দুষ্টচক্র সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তারা বলেছে, বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচার অব্যাহত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির পায়তারা চলছে। এসব ঘটনায় কাউকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনায় দুর্বৃত্তরা আরও উৎসাহী হয়ে ঘৃণ্য অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।


 

Wednesday, October 14, 2026

October 14, 2026

মন্দিরের পাশে গরুর মাংস রান্নার প্রতিবাদ করায় জাবির হিন্দু শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক আয়োজন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম সৈকত হালদার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে সাময়িক বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থী সৈকত হালদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯৫(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অপর আদেশে অভিযোগ তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইবিএ-জেইউ অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন মো. আলমগীর কবির। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহতাব-উজ-জাহিদকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।

জবির মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্নার অভিযোগ

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে পিকনিক আয়োজনের অভিযোগ ওঠে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মন্দিরের সামনে রান্নার আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান। পরে প্রক্টরের হস্তক্ষেপে রান্না শেষ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা অন্যত্র গিয়ে খাবার গ্রহণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে আয়োজনটির উদ্দেশ্য, স্থান নির্বাচন এবং মন্দিরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কয়েকটি পোস্টে অভিযোগ করা হয়, রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করা হয়েছিল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ফেসবুক পেজ ‘জবিয়ান্স’-এ এ নিয়ে পোস্ট প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়। ওই বিতর্কের একপর্যায়ে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি বহুধর্মীয় ও বহুমতের শিক্ষাঙ্গন। সেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে যথাযথ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।


 

Tuesday, October 13, 2026

October 13, 2026

কুড়িগ্রামে পারিবারিক মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তিসহ পূজার সামগ্রী চুরি


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় একটি পারিবারিক মন্দিরের তালা ভেঙে রাধাকৃষ্ণের মূর্তিসহ পূজার বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম রাঙাতিপাড়ায় হরিপদ রায়ের পারিবারিক রাধা গোবিন্দ মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানান সদর থানার ওসি কামাল হোসেন।

আটকরা হলেন—ওই ইউনিয়নের শিবরাম দয়ারচরের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. জলিল (২৩), মৃত তরিশের ছেলে মো. জুয়েল (২১), নজরুল ইসলামের ছেলে আপেল (২৪) ও আবু তৈয়ব আলীর ছেলে আশিকুর রহমান (২২)।

পুলিশ জানায়, মন্দিরের গ্রিলের তালা ভেঙে রাধাকৃষ্ণের পিতল ও কাঁসার মূর্তি, গোপাল মূর্তি, কাঁসার ঘটি, ঘণ্টা ও কাঁসর চুরি করা হয়।

মন্দিরের মালিক হরিপদ রায়ের ছেলে ধীমান কুমার রায় বলেন, চুরির বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর তারা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে।

ওসি কামাল হোসেন বলেন, রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।


 

October 13, 2026

বরিশালের উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরসংলগ্ন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ


বরিশালের উজিরপুরে এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরসংলগ্ন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান শেখের বিরুদ্ধে। বাড়িসংলগ্ন মন্দিরের পাকা ফটকে ‘খান বাড়ি’ লিখে প্লাস্টার করে দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বরুণ মিত্র দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতাসহ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও তিনি প্রতিকার পাননি। আগে সাধারণ ডায়েরি করেও ফল না পাওয়ায় রোববার (১১ অক্টোবর) উজিরপুর মডেল থানায় আবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বরুণ মিত্র উজিরপুর কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরসংলগ্ন ৪ শতক জমি কিনে সেখানে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের একাংশ ভাড়া দিয়ে অপর অংশ মন্দিরের ব্যবহারের জন্য দান করেন। প্রতি বছরের বার্ষিক কীর্তন উপলক্ষে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভবনের ওই অংশ ব্যবহার করে আসছে।

বরুণ মিত্র জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কারণে তিনি বরিশাল নগরীতে বসবাস শুরু করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নুরুজ্জামান শেখ দলবল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। পরে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি। মন্দিরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আগত ভক্তদের সুবিধার্থে ভবনের একটি অংশ ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ করেছিলাম।’ তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বৈধ ক্রেতা বরুণ মিত্র। ৫ আগস্টের অস্থিরতার সুযোগে নুরুজ্জামান শেখ বাড়িটি দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু বলেন, বরুণ মিত্রের বাড়ি অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে নুরুজ্জামান শেখের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় পুলিশের এখতিয়ার সীমিত। নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে অভিযোগকারীকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা জানান, বরুণ মিত্র অনেক আগেই বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে মতভেদ থাকায় দখলমুক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

"
"