কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, November 6, 2026

November 06, 2026

‘আমার সোনার টুকরো ছেলেটিকে কেড়ে নিল, আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব’


চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট এলাকার বাসিন্দা অর্জুন বণিকের ২৬ বছর বয়সী ছেলে অরূপ বণিককে ডেঙ্গুতে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এক সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় অরূপের। অসুস্থ শরীর নিয়ে ঢাকা থেকে বিকেলে বাড়ি ফেরার এক ঘণ্টা পরই মৃত্যু হয় তার। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

অরূপের বাবা অর্জুন বণিক জানান, দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সবাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের সেবা-শুশ্রূষা করতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন অরূপ। পরিবার সুস্থ হওয়ার পর তিনি ঢাকা ফিরে যান। এরপর অরূপেরও জ্বর আসে এবং ডেঙ্গুর সব লক্ষণ দেখা দেয়। বারবার বাড়ি আসার তাগাদা দিলেও তিনি আসেননি। কুলিয়ে উঠতে না পেরে বৃহত্তর বিকেলে বাড়ি এসেছিলেন। বাস থেকে নামার পর জড়িয়ে ধরে কোনোমতে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ঘরে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাঁদতে কাঁদতে অর্জুন বণিক বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে আমাদের শুধু একনজর দেখতেই অরূপ বাড়িতে এসেছিল। আমার এমন সোনার টুকরো ছেলেটিকে ডেঙ্গু কেড়ে নিল, আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব।’

বন্ধু ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, করোনাকালে দুই বন্ধুকে নিয়ে অনলাইনে বই বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘বইপাড়া ডটকম’ গড়ে তোলেন অরূপ। পরে ঢাকার বাংলাবাজারে একটি দোকানও খোলেন। পুরান ঢাকার একটি মেসে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কিশোর বয়স থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বই ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে যুক্ত করেন।

অরূপের মৃত্যুর খবরে ফেনী থেকে বাড়িতে আসেন বন্ধু ও বইপাড়া ডটকমের সহ-উদ্যোক্তা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। শ্মশানে শেষকৃত্যের আগে বন্ধুর মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন তিনি। অরূপের এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না বলে জানান তিনি।


 

November 06, 2026

বিচারহীনতার দশ বছর: সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে সাঁওতালদের ভিটায় কার স্বার্থে ইপিজেড?

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে উচ্ছেদের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে তিন সাঁওতাল পুরুষ—মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম নিহত হন। অন্তত ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনার জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের মূল দাবি পূরণ হয়নি।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলেও অভিযোগকারীরা তদন্তের বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, তদন্তে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলেও হালনাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি। ফলে মামলার বিচারকাজও শুরু হয়নি।

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, রংপুর চিনিকলের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় শর্ত ছিল—ঘোষিত উদ্দেশ্যেই জমি ব্যবহার করতে হবে এবং উদ্দেশ্য না থাকলে জমি মূল মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের পূর্বপুরুষের ভিটে ও ফসলের জমির কিছু অংশ প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে ইজারা দেয়; মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

এর মধ্যে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সাঁওতালদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের প্রশ্ন, যেখানে হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি এবং ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি, সেখানে কীভাবে একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়? সাঁওতাল প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকল্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে অর্থবহ কোনো পরামর্শ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জাতীয় স্বার্থ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাধীন ও পূর্বাবোহিত সম্মতি (FPIC) নীতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের চারটি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা—অধিকতর তদন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমায় সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা; ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন; ভূমির রেকর্ড ও দাবি যাচাইয়ে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া; এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ও অর্থবহ পরামর্শ ছাড়া বিতর্কিত জমিতে ইপিজেডের লক্ষ্যে অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া।


 

November 06, 2026

৮ মাস বেতন না পেয়ে অফিসের বাইরে ভিক্ষার বাটি নিয়ে প্রতিবাদে বসলেন নারী কর্মকর্তা


ভারতের বিহারের বক্সারে আট মাস ধরে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অফিসের বাইরে ভিক্ষার বাটি হাতে বসেছেন এক নারী কর্মকর্তা। অর্পিতা সিং নামের ওই কর্মকর্তা ব্রহ্মপুর ব্লক অফিসে গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ মাসের চাকরিজীবনে তিনি মাত্র তিন মাসের বেতন পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা দুই দিন এভাবে প্রতিবাদ করেন তিনি। তার প্রতিবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর জেলা প্রশাসন ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তার (বিডিও) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মীর বেতন আটকে রাখা যায় না। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দ্রুত অর্পিতার বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে কেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মীদের সংশ্লিষ্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


 

Thursday, November 5, 2026

November 05, 2026

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে টাঙ্গাইলে যুবক গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহান আল্লাহ তাআলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সুজন সাহা (৩০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুজন সাহা কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কর্মকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর বাসাইল উপজেলার ভবানী বাড়ি দক্ষিণপাড়ায় আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে রফিকুল ইসলাম মাদানীর আগমন উপলক্ষে ‘বাসাইল সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে সুজন সাহার ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বল্লা এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বল্লা বাজার এলাকায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুজন সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।


 

November 05, 2026

সন্তানকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছিলাম’: চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে আতঙ্কে মা-ছেলে


চিকিৎসার জন্য মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে ঢাকায় এসেছিলেন সিমু সরকার। সঙ্গে ছিলেন ছেলে শুভ সরকার। মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে ইটপাটকেলের আঘাত সহ্য করেও একহাতে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েছিলেন তিনি। ওই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মা-ছেলের পরিচয় মিলেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ওই মা জানান, নিরাপদে বেরিয়ে এলেও দুজনের আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

গত রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকে ছবিটি তোলেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চিফ ফটো জার্নালিস্ট সৈয়দ জাকির হোসেন। এরপর ছবিটি ওই সংবাদমাধ্যমের শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ও তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হলে ভাইরাল হয়।

শিশুটির মা জানান, তার সন্তানের চোখে অ্যালার্জির সমস্যা। চোখ লাল হয়ে রক্তের মতো দেখায়, পানি পড়ে ও ফুলে যায়। গ্রামের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়েও উপকার না পাওয়ায় সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে।

সিমু সরকার বলেন, ‘ঢাকায় এসে মিরপুর-১০ এলাকায় গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব, তা বুঝতে না পেরে গাড়ির খোঁজে হাঁটতে শুরু করি। একপর্যায়ে একটি সড়কে ঢুকে পড়লে সংঘর্ষে জড়িত লোকজন আমাকে ঘিরে ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘চারপাশ থেকে ইট-পাটকেল, বোমা, তারপর গুলি ছুড়তে শুরু করল। তখন আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিল ছেলেকে নিয়ে। আমি কী করব, সন্তানকে কীভাবে বাঁচাব—কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’ সঙ্গে ছিলেন বোন ও ভাগ্নে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠলে সবাইকে নিয়ে সেখান থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সন্তানকে নিয়ে দৌড় দেওয়ার সময় পায়ে ইট বা পাটকেলের আঘাত লাগে। এখনো তার পা ফুলে আছে বলে জানান তিনি। ভয়ে গলা শুকিয়ে গিয়েছিল, কথা বলার শক্তিও ছিল না। পরে এক অপরিচিত ব্যক্তি তাদের উদ্ধার করে নিজের বাসায় আশ্রয় দেন। এখনো তারা সেই বাসাতেই আছেন। ওই ব্যক্তি জানান, আগে থেকে তাদের সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় ছিল না।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার জন্য বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছিল সে। মা বলেন, ‘অনেক বুঝিয়ে ও সাহস দিয়ে শেষ পর্যন্ত সন্তানকে নিয়ে আবার বাইরে বের হয়েছি।’ তিনি সন্তানের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়ে বলেন, ‘সবাই আমার সন্তানের জন্য একটু আশীর্বাদ করবেন, যেন কোনো বিপদে না পড়ে। আমি যেন সব বিপদ থেকে আমার সন্তানকে আগলে রাখতে পারি, রক্ষা করতে পারি।’


 

Wednesday, November 4, 2026

November 04, 2026

কুমিল্লায় নিখোঁজ ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ জলাশয় থেকে উদ্ধার


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিখোঁজ হন আদনান। তার সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিহত আদনান আলতাফের বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার। তাদের বাড়ি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ায়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তার খোঁজ করতে শুরু করে। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়রা জলাশয়ে মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।


 

November 04, 2026

নোয়াখালীর সেনবাগে হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি


নোয়াখালীর সেনবাগে ভোররাতে এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরটির আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। প্রথমবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আবারও আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহাপুর ঠাকুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ডাক্তার নারায়ণ চন্দ্র আচার্য্য।

ভুক্তভোগী নারায়ণ চন্দ্র আচার্য্য জানান, প্রথমে ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আবারও আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সেনবাগ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ঘরের ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়ারড্রব, খাটসহ আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়। সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইরফানুল হক চৌধুরী, সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হযরত আলী মিলন, ইয়ারপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এ সময় নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী স্বপনও পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেন। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পরিবারটির জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইরফানুল হক চৌধুরী জানান, সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতঘর এক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


 

November 04, 2026

বরিশালের উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর দখলচেষ্টার অভিযোগ, মানববন্ধন


বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা, ভূমি রেকর্ডে কথিত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

‘অপরান বাংলাদেশ হিন্দু সংখ্যালঘু’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।

সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুর তাঁদের পরিবার ১৯৫৯ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে ওই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খান এবং গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।

সঞ্জয় চন্দ্র দাস বলেন, তাঁদের পৈতৃক জমিটি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে অবস্থিত এবং জমি ও কলেজের মধ্যবর্তী স্থানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কলেজের নাম ব্যবহার করে তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (নম্বর ১৪/২০২০) করা হয়েছে, যার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে।

মানববন্ধনে ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। সঞ্জয় চন্দ্র দাসের দাবি, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের এক কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের পৈতৃক জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই তাঁদের জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। ধর্মীয় পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক, কোনো পরিবার যেন প্রভাবশালী মহলের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির কারণে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সঞ্জয় চন্দ্র দাস জানান, এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


 

November 04, 2026

দারিদ্র্যকে হারিয়ে ভ্যানচালক বাবার মুখ উজ্জ্বল করল তিথি: পুরো কলেজে একমাত্র এ প্লাস!


সংসারে অভাব ছিল, ছিল না প্রাইভেট কিংবা কোচিং করার সামর্থ্য। তবুও দারিদ্র্যের কাছে হার মানেনি বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাকাল গ্রামের সুখরঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে তিথি বিশ্বাস।

বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। আর সেই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে তিথি নিজেই শুরু করে কঠিন জীবনসংগ্রাম। কখনো অন্য শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছে, কখনো সেলাই মেশিনে কাজ করেছে। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগাড় করেছে, তবুও পড়াশোনায় একটুও পিছিয়ে পড়েনি।

প্রতিদিন বাবার ভ্যানে চড়ে কলেজে যাওয়া, নিয়মিত ক্লাস করা আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এসএসসিতে অর্জন করেছে গোল্ডেন এ প্লাস। এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও পেয়েছে এ প্লাস।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, আগৈলঝাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের জেনারেল শাখা থেকে ৫২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০১ জন। আর পুরো কলেজে এ প্লাস পেয়েছে একমাত্র তিথিই!

মেয়ের এমন সাফল্যে বাবা-মায়ের চোখে আনন্দ থাকলেও সামনে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে। তিথির মা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, মেয়ের পড়াশোনায় সাহায্য করার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও খরচ চালানো তাঁদের পক্ষে কঠিন।

তবে আশার কথা, তিথির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আর্থিক সমস্যার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

তিথির স্বপ্ন শুধু নিজের পায়ে দাঁড়ানো নয়, বরং এমন একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছানো, যাতে একদিন তার বাবাকে নিয়ে সবাই গর্ব করে বলতে পারে, এই সেই গর্বিত বাবা, যার মেয়ে আজ নিজের যোগ্যতায় পরিচিত!

একজন ভ্যানচালক বাবার ঘাম আর মেয়ের অদম্য পরিশ্রমের এই গল্প আমাদের প্রমাণ করে দেয়, অর্থের অভাব স্বপ্ন দেখার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।

অর্থের অভাবে যেন তিথির মতো আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে না যায়। তিথির পাশে দাঁড়াক সমাজ ও রাষ্ট্র, এটাই প্রত্যাশা।


 

November 04, 2026

বিবিএস জরিপে বাদ পড়ছে বর্মণ-কোচ সম্প্রদায়, পরিচয় মুছে ‘বাঙালি’ তকমার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ৪ নভেম্বর ২০২৬: সরকারি গেজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্পষ্ট স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ’ থেকে বাদ পড়েছে বর্মণ ও কোচ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ। জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র থাকা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন বর্মণকে জরিপে ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বর্মণ সম্প্রদায়ের একটি অংশ। তাদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত থাকা সত্ত্বেও অপূর্ণাঙ্গ ও বিকৃত এই জরিপের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে তারা।

জরিপের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই জরিপের তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্ধিত সময়েও উত্তরাঞ্চলের বহু বর্মণ ও কোচ পরিবার গণনার বাইরে রয়েছেন দাবি করে জরিপের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ কোচ-রাজবংশী-বর্মণ সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি দিনবন্ধু বর্মণ বলেন, প্রত্যয়নপত্র সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক পরিবার বাদ পড়েছে।

সরকারি স্বীকৃতি বনাম বাস্তবতা

‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’ ও ২০১৯ সালের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে স্বীকৃত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় ‘কোচ’ (২ নম্বর) ও ‘বর্মণ’ (১৫ নম্বর) আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিবিএসের তথ্যমতে, এসব জনগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও ময়মনসিংহের বহু বর্মণ ও কোচকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া জরিপে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না।

প্রত্যয়নপত্র থাকলেও ‘বাঙালি’ তকমা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার জবা রানী বর্মণ জানান, তাঁর কাছে জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়নপত্র থাকা সত্ত্বেও জরিপ কর্মীরা তাঁকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করে ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ লিখেছেন। এক তথ্যসংগ্রাহক বলেন, ওপর থেকে পাওয়া নির্দেশনায় প্রত্যয়নপত্রধারীদের তথ্য নিতে বলা হলেও মন্তব্যে ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ লেখার নির্দেশ ছিল।

বিভিন্ন দপ্তরের বিপরীত বক্তব্য

রংপুর বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনেই ‘বাঙালি বর্মণ সনাতন’ হিসেবে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়সাল হাসান বলেন, তাঁর জেলায় প্রত্যয়নপত্রধারী বর্মণদের সরাসরি ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জরিপ প্রকল্প পরিচালক ফারহানা সুলতানা বলেন, প্রত্যয়নপত্র থাকলে যাচাই ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যাদের নেই, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি যাচাই করে নেওয়া হয়েছে।

আদিবাসী সংগঠনগুলোর আপত্তি

জরিপে বর্মণদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ফেডারেশন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কয়েকজন নেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বর্মণদের একটি অংশ অতীতে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করেনি। তবে গবেষক ও কিছু সংগঠন বলছে, সরকারি গেজেটে বিষয়টি আইনগতভাবে মীমাংসিত, তাই নতুন বিতর্ক না তুলে ইতিবাচক সমাধানে যাওয়া উচিত।


 

"
"