কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, August 30, 2026

August 30, 2026

খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল খাওয়া নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে—কেউ বলছেন খালি পেটেই ফল খেতে হবে, কেউ বলছেন খাবারের পর। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন পর্যায়ে ফল খাওয়া হচ্ছে, তা পুষ্টি শোষণে তেমন প্রভাব ফেলে না।

খাবারের ক্রম নিয়ে ধারণা

‘মিল সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যা অনুযায়ী খাবারের উপাদান কোন ক্রমে খাওয়া হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন, চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে ডায়েটিশিয়ান লরেন মানাকার বলছেন, গবেষণাগারের ফলাফল সবসময় বাস্তব জীবনে একই রকম কাজ করে না।

আঁশ ও প্রোটিনের গুরুত্ব

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শুরুতে আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফল আঁশের ভালো উৎস। তবে তাই বলে ফল আলাদাভাবে বা নির্দিষ্ট ক্রমে খেতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, ‘কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলে না। তাই খাবারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।’

ফলের সঙ্গে কী মিশিয়ে খাবেন

ফলের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। যেমন—

কলার সঙ্গে পিনাট বাটার

আপেলের সঙ্গে বাদাম

ফলের সঙ্গে দই

ক্যান্টালুপ, আম বা এপ্রিকটের সঙ্গে এক মুঠো বাদাম

অ্যাভোকাডো দিয়ে ফলের স্মুদি

পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ

ডায়েটিশিয়ান মানাকার বলেন, ‘ফল কখন খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম তৈরি করলে মানুষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই ছেড়ে দিতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সুপারিশকৃত পরিমাণ ফল খান। সাধারণভাবে পুরুষদের জন্য দৈনিক ২ কাপ এবং নারীদের জন্য দেড় কাপ ফলের পরামর্শ দেওয়া হয়।

খালি পেটে ফল খেতে না পারলেও তা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের যেকোনো সময় তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত বা শুকনো ফল খাওয়া যায়। তবে ক্যানজাত বা শুকনো ফল কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি নেই—এমন বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।


 

August 30, 2026

গোপালগঞ্জে মহানবীর জীবনী বললেন সনাতন শিক্ষক, গজল গাইলেন শিক্ষিকা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার অংশগ্রহণে উঠে এসেছে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অনন্য দৃষ্টান্ত।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কিরাত, গজল ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক নব কুমার বিশ্বাস। তিনি মহানবী (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, মানবতার প্রতি তাঁর অবদান এবং সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা তুলে ধরেন। নব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।’ তাঁর বক্তব্য উপস্থিত সবার মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে গজল পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষিকা নিদ্রা মল্লিক। তাঁর কণ্ঠে গজল পরিবেশনের সময় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত সবাই তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং প্রশংসা করেন।

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও মহানবী (সা.)-এর জীবন, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা নিয়ে দুই শিক্ষকের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণকে সম্প্রীতির সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা আরও জোরদার করবে। ‘ধর্ম যার যার, সম্প্রীতি সবার’—এমন বার্তাই যেন ফুটে উঠেছে বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই আয়োজনে।
August 30, 2026

রংপুরের শিক্ষক ও পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সংসদে বিবৃতির দাবি

রংপুরের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সুস্পষ্ট বিবৃতির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক: চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’—এই স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের মৃত্যুর ঘটনাকে শুরু থেকেই আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, মামলার তদন্ত শুধু পুলিশি প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিতে হবে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে প্রচলিত তদন্তব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট রয়েছে। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, রংপুরের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রতিমা ভাঙচুর, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং জমি দখলের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ঐক্য পরিষদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৮৪টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছয়টি হত্যাকাণ্ড, দুটি ধর্ষণ, মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি ঘটনা, আদিবাসীদের ওপর পাঁচটি হামলা এবং বসতবাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-অগ্নিসংযোগের ১০টি ঘটনা রয়েছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা। বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, ডেভিড চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জ্যোতি রায়, পলাশ দেবী, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দীপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিবাকর চন্দ্র শীলসহ অন্যান্য নেতারা।

মানববন্ধন শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
August 30, 2026

নেপালের ভয়াবহ বন্যা থেকে ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে ফিরলেন ভারতের ২১ তীর্থযাত্রী

তিব্বত-নেপাল সীমান্তের পাহাড়ি পথ যখন আকস্মিক বন্যা ও ধসে পড়া পাথরের নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন কাদা-মাখা পাহাড়ের ওপর থেকে নামিয়ে দেওয়া একটি সাধারণ শাড়িই হয়ে উঠেছিল একদল প্রবীণ তীর্থযাত্রীর জীবন বাঁচানোর একমাত্র অবলম্বন। নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে মৃত্যু আতঙ্ক থেকে ফিরে এসেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রী। তাদের বহনকারী তিনটি বাসের মধ্যে দুটি বন্যার তোড়ে ভেসে গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরেছেন তারা।

চেন্নাইয়ের ভেলাচেরি এলাকার বাসিন্দা নাভু কবিরদাস ও তার স্ত্রী বিজয়া ভুবনেশ্বরী জানান, তাদের মনে হচ্ছে তারা যেন ‘নতুন জীবন’ ফিরে পেয়েছেন। এই দম্পতি তামিলনাড়ুর কুম্বকোনম-ভিত্তিক একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিনটি বাসে করে মোট ৫৭ জনের দলের সঙ্গে নেপালের রাসুয়া জেলা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের বহরের দ্বিতীয় বাসটি কাদায় আটকে যাওয়ায় মেরামতের জন্য কয়েক মিনিট থামতে হয়েছিল। ভুবনেশ্বরী বলেন, ওই কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতিই মূলত তাদের জীবন বাঁচিয়েছে।

নাভু কবিরদাস বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমরা বোমার মতো বিকট শব্দ শুনতে পাই এবং আমাদের গাড়ির ওপর বড় বড় পাথর পড়তে শুরু করে। ঠিক তখনই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো তীব্র বেগে বন্যার পানি ধেয়ে আসতে শুরু করে।’

ভুবনেশ্বরী জানান, তিনি চোখের সামনে তাদের ঠিক পেছনের বাসটিকে কাত হয়ে কাদার মধ্যে ডুবে যেতে দেখেছিলেন, যা দেখার মতো সাহস তার ছিল না। বিপদ আঁচ করতে পেরে তাঁদের নেপালি চালক সবাইকে বাস থেকে নেমে পাহাড়ের ওপরের দিকে দৌড়ানোর নির্দেশ দেন এবং গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান। যাত্রীরাও চালককে অনুসরণ করেন।

বেঁচে যাওয়া ২১ জন তীর্থযাত্রীর বেশিরভাগেরই বয়স ৫০ বছরের বেশি। তাদের প্রায় এক তলা সমান উঁচু এবং পিচ্ছিল কাদার পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠতে হয়েছিল। ওঠার সময় বারবার তারা পা পিছলে নিচে পড়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুঙ্গোদি নামের দলের এক নারী কোনোমতে পাহাড়ের ওপরে উঠে তার পরনের সোয়েটারটি গায়ে জড়িয়ে নেন এবং নিজের শাড়িটি খুলে নিচে আটকে থাকা অন্য যাত্রীদের দিকে দড়ির মতো ঝুলিয়ে দেন।

ভুবনেশ্বরী বলেন, ‘আমরা সেই শাড়ির আঁচল এবং সেখানে ঝুলে থাকা একটি লোহার তার শক্ত করে ধরে ওপরে উঠি। সবশেষে এক নারী কোনোভাবেই ওপরে উঠতে পারছিলেন না। আমরা তাকে শাড়িটি কোমরে শক্ত করে বাঁধতে বলি এবং ওপরে থাকা সবাই মিলে শাড়িটি টেনে তাকে সরাসরি ওপরে তুলে আনি।’

কাঞ্চিপুরম জেলার এক পঞ্চায়েত ইউনিয়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাথ্য জানান, সকাল ৮টায় তারা চীনের ইমিগ্রেশনের উদ্দেশে সিয়াব্রুবেসি ত্যাগ করেছিলেন। হঠাৎ তারা আকাশে ধুলার এক বিশাল মেঘ দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট বা সাত-আট তলা উঁচু সুনামি তরঙ্গের মতো পাথর আর কাদার পাহাড় আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। আমরা আজীবন কেবল ইংরেজি সিনেমাতেই এমন দৃশ্য দেখেছি।’

পাহাড়ে ওঠার কোনো রাস্তা ছিল না। তারা চার ফুট ওপরে উঠলে পিছলে পাঁচ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা একটি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখান থেকে পরিবারের কাছে বেঁচে থাকার খবর পাঠান।

৫৭ জনের বহরের বাকি ৩৬ জন যাত্রীর সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চীনের তিব্বতের গিরিয়ং পোর্ট ইমিগ্রেশন ভবনের ভেতরে থাকা চেন্নাইয়ের অন্য দলের ৪৯ জন তীর্থযাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তামিলনাড়ুর মন্ত্রী এ রাজমোহন জানান, তামিলনাড়ু থেকে চার শতাধিক মানুষ নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৯০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বেঁচে ফেরা তীর্থযাত্রীরা নেপাল সরকার, নেপাল সেনাবাহিনী, ভারতীয় দূতাবাস এবং তামিলনাড়ু সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য সত্যিই এক অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য যাত্রা ছিল।’
August 30, 2026

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর


খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাবু পাড়া এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানিয়েছেন। ঘটনার পর কেউ থানায় অভিযোগ না দিলেও প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এন্টন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'উপজেলার বাবু পাড়া এলাকায় নির্মিত ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে কে বা কারা এবং কখন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।'

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ভাষ্য, 'পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের অনুপ্রেরণার প্রতীক ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার ঘটনা শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংস নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা জুপিটার চাকমা বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমার স্মৃতিবেদী ভেঙে দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।' তিনি বলেন, 'একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমার শোক বেদী ভেঙে ফেলার মতো অপকর্ম প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পাহাড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায় এবং জুম্ম জনগণের মৌলিক আবেগ ও অধিকারের ওপর আঘাত হানতে চায়।'

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাসে ভরদ্বাজ মণি চাকমা একজন অবিস্মরণীয় নাম। তার আত্মত্যাগ পাহাড়ের নিপীড়িত মানুষের অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

Saturday, August 29, 2026

August 29, 2026

পাবনার চাটমোহরে কুপি-হারিকেনের আলোয় ফিরে এল পুঁথি পাঠের ঐতিহ্য

বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করা গ্রামবাংলার রাতে যেন ফিরে এল বহু বছর আগের সেই চেনা দৃশ্য। পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর। হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতির এ আয়োজন দেখতে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ।

উঠানে কুপি ও হারিকেনের আলো, মাটিতে বিছানো হোগলা পাটি আর চারপাশে গোল হয়ে বসা মানুষ—কারও হাতে মোবাইল নেই, নেই টেলিভিশনের শব্দ। সবার মনোযোগ পুঁথি পাঠে। বিলুপ্তপ্রায় এই লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্য ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠক ডা. এস এম আতিকুল আলম বলেন, ‘পুঁথি পাঠ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো লোকঐতিহ্য। একসময় সারাদিনের কাজ শেষে গ্রামের মানুষ পুঁথি পাঠের আসরে জড়ো হতেন। শিল্পীদের কণ্ঠের সুরে গল্প শুনে তারা বিনোদনের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও পেতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। পুরোনো দিনের সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই আয়োজন।’

সেদিন কুপি ও হারিকেনের আলোয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল পাঠ করেন কালজয়ী পুঁথি ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’। পরে ঐতিহ্য সংগ্রাহক মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক শোনান ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’র গল্প।

বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাটিতে পাটি বিছিয়ে উপভোগ করেন পুঁথি পাঠ। অনেকের কাছেই এটি ছিল পুরোনো দিনের গল্প শোনার সুযোগ, আবার তরুণদের জন্য ছিল গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা।

বাংলা পুঁথি সাহিত্যের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। সপ্তদশ শতকের শেষভাগ ও অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে কবি ফকির গরিবুল্লাহর ‘আমির হামজা’ পুঁথির মাধ্যমে এ ধারার চর্চা ব্যাপকতা লাভ করে। পুঁথি সাহিত্যে আরবি, ফারসি ও স্থানীয় ভাষার মিশ্রণ তৎকালীন বাংলার লোকজ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

চাটমোহরের সমাজসেবক এসএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে পুঁথি পাঠের মতো লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই পুঁথি পাঠের আসর বসত। এখন সেই পাঠকও পাওয়া যায় না। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া দরকার।’

আসরটি আয়োজন ও সমন্বয়ে ছিলেন সজল বিশ্বাস, বিপ্লব আচার্য, নিয়মুল মুক্তা, প্রভাষক আব্দুল মান্নান, অম্লান ভট্টাচার্য, সৌরভ কুন্ডু ও শুভ কর্মকার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হারিয়ে যেতে বসা পুঁথি পাঠ যেন কেবল এক রাতের আয়োজন না হয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে নিয়মিত এমন আসর বসুক এবং নতুন প্রজন্ম জানুক তাদের শিকড়ের গল্প, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা।
August 29, 2026

সেদ্ধ ডিমের কুসুমের চারপাশে ধূসর বলয়: কী বলছেন পুষ্টিবিদ


সেদ্ধ ডিম খাওয়ার সময় অনেকেই কুসুমের চারপাশে ধূসর বা সবুজাভ বলয় দেখে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে—এমন ডিম খাওয়া কি নিরাপদ? পুষ্টিবিদরা বলছেন, এটি কোনো ক্ষতিকর লক্ষণ নয়; বরং ডিমটি বেশি সময় ধরে সেদ্ধ করার কারণেই এমন হয়।

ডায়েটিশিয়ান আম্রীন জানান, ডিম যদি তাজা হয়, সঠিকভাবে সেদ্ধ করা হয় এবং সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে এই ধূসর বলয় সাধারণত নিরাপদ এবং ডিমটি খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত সেদ্ধ করলে কুসুম শুকিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং স্বাদে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

ধূসর বলয় তৈরির কারণ ও প্রতিকার

ডিমের কুসুমে আয়রন এবং সাদা অংশে সালফার থাকে। অতিরিক্ত তাপে এ দুটি উপাদান বিক্রিয়া করে আয়রন সালফাইড তৈরি করে, যা ধূসর-সবুজ বলয়ের সৃষ্টি করে। এই সমস্যা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—

ডিম জমাট বাঁধা পর্যন্ত সেদ্ধ করতে হবে

সেদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা বা বরফ পানিতে রাখতে হবে

এতে সেদ্ধ প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক বন্ধ হয় এবং খোসা ছাড়ানো সহজ হয়

ডিম প্রয়োজনের বেশি সময় ফুটন্ত পানিতে রাখা যাবে না

সংরক্ষণের বিষয়ে সাবধানতা

খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে ডিম সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়েটিশিয়ান আম্রীন জানান, ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা সেদ্ধ ডিম, পচা গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল ভাব থাকা ডিম—ধূসর বলয় থাক বা না থাক—কোনোভাবেই খাওয়া ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ‘ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ ও কোলিনের ভালো উৎস। ধূসর বলয় ডিম না খাওয়ার কারণ হতে পারে না; এটি শুধু নির্দেশ করে যে ডিমটি বেশি সময় সেদ্ধ করা হয়েছে।’

তবে দুর্গন্ধযুক্ত, অস্বাভাবিক টেক্সচারযুক্ত বা সংরক্ষণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে সে ডিম ফেলে দেওয়াই উত্তম।

Friday, August 28, 2026

August 28, 2026

নেপালের ঢলের পানি আসতে পারে বাংলাদেশেও

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালে দেখা দেওয়া ঢলের পুরো তীব্রতা বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম, কারণ কয়েকশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পানি বিভিন্ন শাখায় ছড়িয়ে পড়বে এবং ঢলের শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। তাই আপাতত আতঙ্কিত না হয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। নেপালে নারায়ণী নামে পরিচিত এই নদী ভারতের বিহারে গণ্ডক নামে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। এরপর গঙ্গার পানি পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তা পদ্মা নামে পরিচিত হয়।

এই সম্ভাব্য পথে পানি বাংলাদেশে ঠিক কখন এবং কী পরিমাণে পৌঁছাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে একপর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হলেও পরে প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনাশরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তবে দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রমের কারণে ঢলের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পর্যবেক্ষণেও ভাটির দিকে যাওয়ার সময় বন্যার ঢেউয়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, বাংলাদেশে পানির উচ্চতা শুধু নেপালের ঢলের ওপর নির্ভর করবে না। ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় বিদ্যমান পানির পরিমাণ, বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টি এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশেও একই মাত্রার বন্যা হবে—এমন আশঙ্কার এখনই কোনো ভিত্তি নেই। তবে আন্তঃসীমান্ত নদীর কারণে বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলে নদীর পানি বাড়ছে কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
August 28, 2026

সাবেক হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। এ সময় বাড়ির পাশের কক্ষে থাকা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাবুল ভট্টাচার্য পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)।

পরিবারের সদস্যদের জানান, প্রবীর ভট্টাচার্যের মেয়ে সন্তানসম্ভবা হওয়ায় পরিবারের সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাত থেকে আটজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী ব্যক্তি দরজার তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে।

বাড়ির পাশের ঘরে থাকা বাবুল ভট্টাচার্য বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে জিম্মি করে। পরে তাকে প্রবীর ভট্টাচার্যের ঘরে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রবীর ভট্টাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করেছে। লুট হওয়া টাকার মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা ৪ লাখ টাকাও ছিল।

আহত বাবুল ভট্টাচার্য জানান, রাতে উঠানে বের হয়ে তিনি সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করে। দুর্বৃত্তরা সবাই মুখোশ পরা ছিল। মারধরের কারণে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, ভোরে বাবুল ভট্টাচার্য চিকিৎসা নিতে আসেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
August 28, 2026

পরিবারসহ আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস উদ্ধার

চাঁদপুর শহর থেকে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক গাজী কালাম জানান, গত দুই দিনের চেষ্টায় আলোচিত এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তবে কী কারণে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। চাঁদপুরে কাউকে কিছু না বলে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিন্টু দাস কোনো জবাব দিচ্ছেন না।

এর আগে হঠাৎ করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এ তালা ঝুলিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চাঁদপুর থেকে আত্মগোপনে চলে যান পিন্টু দাস। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক হইচই শুরু হয়। পরে পিন্টুর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাড়ির মালিক সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তার কাছে অনেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ টাকা নিতেন। সাধারণ মানুষের সেই স্বর্ণ নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

উদ্ধারের পরও আত্মগোপনের কারণ বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি পিন্টু দাস। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
"
"