কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, May 28, 2026

May 28, 2026

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হলো ১১ কেজির কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানীয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরারীপুর গ্রামে ধানক্ষেত থেকে একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে পুকুরে মাছ ধরার সময় মূর্তিটি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানানো হয় বোচাগঞ্জ থানা পুলিশকে। পরে দিনভর অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বোচাগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ) লিখন কুমার মন্ডল খবর পান যে, ইশানীয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরারীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদ চৌধুরীর ধানের জমির আইলের ওপর একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি পড়ে রয়েছে।
খবর পাওয়ার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে এসআই লিখন কুমার মন্ডল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধানক্ষেতের আইল থেকে প্রায় ১১ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি বর্তমানে বোচাগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিষ্ণু মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা। এ ঘটনায় বোচাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যার নম্বর ১৩০৯।
স্থানীয়দের ধারণা, মূর্তিটি বহু পুরোনো এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বহন করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
May 28, 2026

১১৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী ডিমলা কালী মন্দির, উত্তরবঙ্গের সনাতনী চেতনার জীবন্ত প্রতীক

রংপুরের মাহিগঞ্জে আজও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সনাতন ধর্মীয় চেতনার এক অনন্য স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ডিমলা কালী মন্দির। শতাব্দী পেরিয়েও এই মন্দির শুধু উপাসনালয় নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের সনাতন সমাজের আত্মিক অনুভূতি, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক হয়ে আছে।
প্রায় ১১৬ বছরের পুরনো এই মন্দিরে ঢুকলেই মন গভীর আধ্যাত্মিকতায় ডুবে যায়। প্রাচীন দেয়ালে খচিত কারুকাজ, উঁচু গম্বুজ আর রাজকীয় স্থাপত্য যেন আজও অতীতের ঐশ্বর্যময় দিনগুলোর গল্প বলে। ভোরের শঙ্খধ্বনি, সন্ধ্যার আরতি, ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ আর ভক্তদের কণ্ঠে স্তবপাঠ— সব মিলিয়ে মন্দির চত্বরে তৈরি হয় এক পবিত্র আবহ। ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালীর আশীর্বাদ ও করুণাধারা আজও এই মন্দিরকে সজীব রেখেছে।
ইতিহাস বলছে, ডিমলার তৎকালীন জমিদার নীল কমল সেনের বিধবা স্ত্রী শ্যামা সুন্দরীর দত্তক পুত্র রাজা জানকি বল্লভ সেন গভীর ধর্মীয় ভক্তি থেকেই ১৯০৮ সালে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তিনি চেয়েছিলেন এটি হবে ভক্তি, শিল্পরুচি ও রাজকীয় স্থাপত্যকলার এক মিলনমেলা। কিন্তু কাজ চলাকালেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর স্ত্রী বৃন্দারাণী চৌধুরানী অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে।
শিল্পী, কারিগর আর শ্রমিকদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম শেষে ১৯১৬ সালে সম্পন্ন হয় এই ঐতিহাসিক মন্দিরের নির্মাণ। মন্দিরের অষ্টকৌণিক গঠনশৈলী উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য মন্দির থেকে একে আলাদা করে রেখেছে। দেয়ালের সূক্ষ্ম নকশা, অলংকরণ আর স্থাপত্যের প্রতিটি রেখায় যেন সনাতন ঐতিহ্যের সৌন্দর্য আর ভক্তির ছোঁয়া মিশে আছে।
শুধু কালীমাতার বিগ্রহই নয়, রাজা জানকি বল্লভ সেন লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ, মদন মোহন জিউ এবং রামচন্দ্র বিগ্রহের নামেও বিপুল সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে দান করেন। পরে সেসব সম্পত্তি "ডিমলা রাজ দেবোত্তর এস্টেট" নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। বর্তমানে পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা, আরতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলে আসছে।
প্রতি বছর কালীপূজাকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন মায়ের আশীর্বাদ নিতে। সন্ধ্যার আরতির সময় শত শত প্রদীপের আলো, ঘণ্টাধ্বনি আর ভক্তিমূলক কীর্তনে গোটা এলাকা যেন অপার্থিব হয়ে ওঠে। বহু ভক্ত মনে করেন, আন্তরিকভাবে মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে তিনি মনোবাসনা পূর্ণ করেন।
রংপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পূর্বে এবং মাহিগঞ্জ বাজারের এক কিলোমিটার দক্ষিণে বড় রঙ্গপুর এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দির আজও সনাতন ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। কালের নিয়মে অনেক কিছু বদলালেও ডিমলা কালী মন্দির ভক্তদের হৃদয়ে আজও একইভাবে শ্রদ্ধা, ভক্তি আর আস্থার স্থান দখল করে আছে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, এই শতবর্ষী মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি উত্তরবঙ্গের হিন্দু সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এই প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও সামাজিকভাবে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
May 28, 2026

রাঙ্গুনিয়ায় নৌকাডুবিতে নববধূ নিখোঁজ, ৬ জন জীবিত উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় কনিকা দাশ (১৯) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় চার তরুণের সাহসী উদ্ধার অভিযানে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ও নৌকার চালকসহ ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দেওয়ানজীঘাট ও কোদালা ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কোদালা জেলেপাড়া থেকে চন্দ্রঘোনা মিনারপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা কর্ণফুলী নদী পার হচ্ছিল। মাঝনদীতে পৌঁছানো মাত্রই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়, তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। যাত্রীরা মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন।
এ সময় কোদালা ঘাটে থাকা ১৫ বছর বয়সী কিশোর রবি উল্ল্যাহ নৌকাডুবি দেখে সঙ্গে সঙ্গে বড় ভাই অলি উল্ল্যাহ এবং বন্ধু শিমুল ও আব্দুল্লাহকে খবর দেয়। তারা রবির বাবা মোহাম্মদ বাবুলের ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে ঝড়-তৈলবাহী উত্তাল নদীতে উদ্ধার অভিযানে নামে।
প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় তারা নদীতে ভাসতে থাকা পাঁচ যাত্রী ও নৌকার চালককে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ (২৫), রুপন ঘোষ ও নৌকার চালক। পরে দ্রুত তাদের চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দুই বছর বয়সী শিশু রাজের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে নৌকাডুবির পর থেকেই খোঁজ নেই নববধূ কনিকা দাশের। বিকেল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও তার সন্ধান মেলেনি।
নববধূকে উদ্ধার করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে উদ্ধারকারী কিশোর রবি উল্ল্যাহ বলেন, "সবাইকে বাঁচাতে পেরে ভালো লাগছে। কিন্তু নববধূকে যদি উদ্ধার করতে পারতাম, তাহলে আরও বেশি শান্তি লাগত।"
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, নিখোঁজ কনিকাকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল পাঠানো হচ্ছে। নৌবাহিনীর একটি দলও অভিযানে যোগ দেবে। সন্ধ্যার মধ্যে সন্ধান না মিললে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও নতুন করে তল্লাশি শুরু হবে।
May 28, 2026

মৃত্যুর পরও ওষুধ কিনতে বলা, টাকা দাবির অভিযোগ স্বজনদের

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, শিশু মারা যাওয়ার পরও তাদের ওষুধ আনতে বলা হয়েছে এবং বিল বাবদ ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, মৃত্যুর পর আইসিইউতে নেওয়া হলেও আগে কেন তা করা হলো না।
বুধবার (২৭ মে) দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব অভিযোগ। সেদিন সকালে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২-এ এক থেকে দুই দিন বয়সী ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বজনদের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বজন সূত্র জানায়, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও নবজাতক ভর্তি ছিল। প্রথমদিকে সবাই সুস্থ থাকলেও রাত ১২টার পর থেকে শিশুগুলোর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ভোরের আগেই একে একে ছয়টি নবজাতক মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন ইউনিট হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী আকায়িদ জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ভালোই ছিল। ভোরে হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পাননি তারা।
সেতু, ফাহিমা ও ফারিহার স্বজনরা বলেন, রাত ১২টার পর শিশুরা নিস্তেজ হয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু করে। বারবার ডাকাডাকি করেও দ্রুত নার্স পাওয়া যায়নি। অনেক দেরিতে সবাইকে একসঙ্গে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
নাজমা, মনিরা ও শারমিনের পরিবারের অভিযোগ, রাতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্টাফ ছিলেন না। ফাহিমা ও রুমির স্বজনদের দাবি, তারা শুনেছেন এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, শিশু মারা যাওয়ার পরও স্বজনদের ওষুধ কিনতে পাঠানো হয় এবং ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকারও দেওয়া হয়নি বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, হাসপাতাল অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
May 28, 2026

ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটি এখন কোথায়, বেচে আছে কি?

আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জ থেকে মহিষটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।
ঢেউখেলানো গোলাপি চুল আর ট্রাম্পের মতো চেহারার কারণে এ মহিষটি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও মহিষটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার খামারে লালন-পালন করা এই অ্যালবিনো মহিষটির ওজন প্রায় ৬৮০ কেজি। এর চুল ও চোখের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিল দেখে মালিকপক্ষ এমন নাম রেখেছিলেন।
পরে কোরবানির উদ্দেশ্যে মহিষটি কিনে নেন কেরানীগঞ্জের মনিরুজ্জামান। গত সোমবার রাজকীয় আয়োজনে খামার থেকে কেরানীগঞ্জে আনা হয় তাকে। কিন্তু আজ বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে জানায়, মহিষটি কোরবানি করা যাবে না, এটি থানায় নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। পরে থানা থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, মহিষটি নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ায় এবং এটি একটি বিরল প্রজাতি (রেয়ার ব্রিড) হওয়ায় সরকার এটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত পশুটি কিনে নিয়েছেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এর যথাযথ পরিচর্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. আতিকুর রহমান জানান, মহিষটিকে গ্রহণের জন্য চিড়িয়াখানায় পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জীবাণুনাশক ছিটানো, বড় শেড তৈরি ও দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শরীরে মেলানিন কম থাকায় এমন সাদা রঙের মহিষ প্রতি ১০ হাজারের মধ্যে একটি দেখা যায় বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।
ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, সরকার তাদের বলেছে, মহিষের মূল্য টাকায় বা কোরবানির গরু দিয়ে পরিশোধ করা হবে।

 

Wednesday, May 27, 2026

May 27, 2026

নীলফামারীতে অন্নপূর্ণা মন্দিরের প্রাচীর ভাঙার অভিযোগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী অন্নপূর্ণা মন্দিরের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ভিটা ইউনিয়নে অবস্থিত শত বছরের পুরোনো এই মন্দিরকে ঘিরে প্রতিবছর বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি মন্দির ও মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা বা আলোচনা ছাড়াই ভূমি অফিসের একটি দল এসে প্রাচীরের একাংশ ভেঙে দেয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম নেয়। এলাকাবাসী বলছেন, অন্নপূর্ণা মন্দির নিছক উপাসনালয় নয়, এটি এলাকার ইতিহাস ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জীবন্ত প্রতীক। এমন আকস্মিক পদক্ষেপে ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে গভীর আঘাত লেগেছে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বহু যুগ ধরে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সদ্ভাব বজায় ছিল। অথচ কোনো আলোচনা বা নোটিশ ছাড়াই প্রাচীর ভাঙার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষায় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে, অনেকেই এটিকে ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন।
May 27, 2026

সাতকানিয়ায় হিন্দু বৃদ্ধকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম, এলাকায় আতঙ্ক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এক হিন্দু বৃদ্ধের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ফকির খীল গ্রামে মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে ওই বৃদ্ধের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ, হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি করে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বৃদ্ধের শরীরে একাধিক গভীর জখম রয়েছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন। এ ধরনের নৃশংস হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই তাঁকে আক্রমণ করা হয়।
ঘটনার পর এলাকার সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এ হামলা নিছক ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
মানবাধিকারকর্মীরাও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মব জাস্টিস বা সংঘবদ্ধ হামলার প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, যা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা সাতকানিয়া থানা প্রশাসনের কাছে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মোস্তাফিজুর রহমানসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

 

May 27, 2026

১০ টাকায় হিন্দু নারীর মোবাইল নম্বর বিক্রি’, ডেলিভারি কর্মী আটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগের জেরে ইব্রাহিম নামে এক ডেলিভারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করতেন।
জানা গেছে, একটি ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে ইব্রাহিম সহজেই গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার পেতেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নারীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অনলাইন বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এটিকে শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘনই নয়, বরং একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করে পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে অভিহিত করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে একাধিক নারীর ফোন নম্বর, সন্দেহজনক চ্যাট ও লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো বড় চক্র জড়িত আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে যেসব নারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কাজ করছে পুলিশ।
এই ঘটনা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কড়া জবাবদিহি নিশ্চিত না করা গেলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

 

May 27, 2026

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশ

বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান সহিংসতা ও নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (HRCBM)। সংগঠনটির প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে দেশের ৬২টি জেলায় ৫০৫টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে হত্যা ও সন্দেহজনক মৃত্যু, শারীরিক হামলা, অপহরণ, যৌন সহিংসতা, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভূমি দখল, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক নিপীড়ন।
HRCBM বলছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়। বরং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সহিংসতা, ভূমি বেদখল, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার ঘাটতির ধারাবাহিক প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে আদিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমি বিরোধ, রাজনৈতিক ভয়ভীতি, শারীরিক হামলা এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠে এসেছে।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রায়ই ভূমি অধিকার সংকট, সামরিকায়ন, উচ্ছেদের চাপ এবং দুর্বল আইনগত সুরক্ষার মতো বহুস্তরীয় সমস্যার মুখোমুখি হয়।
প্রতিবেদনের শেষাংশে বাংলাদেশ সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতি একাধিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিটি গঠন, কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং সংখ্যালঘুদের ভূমি ও সম্পত্তি বিরোধে বিশেষ প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান।

 

May 27, 2026

কুষ্টিয়ায় নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ নানা গণপিটুনির পর পুলিশের হাতে আটক

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় নিজের ১২ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সৎ নানা সাহাবুল হোসেনকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নওদাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ওই শিশুটি গতকাল রাতে নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। আজ সকালে তার নানা সাহাবুল হোসেন পা টিপে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে ঘরে ডেকে নেয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্নাজড়িত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে এলে বিষয়টি আশপাশের লোকজন জানতে পারেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত সাহাবুলকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

"
"