কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, August 16, 2026

August 16, 2026

প্রকৃতিতে শরতের আগমন, শিউলি-কাশফুলে মুখর সকাল

বর্ষার ভেজা আবহ পেরিয়ে প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে বদলের আভাস। আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা বাড়ছে, কোথাও কোথাও কাশফুল মাথা তুলছে। ভোরে শিউলির গন্ধে ভরে উঠছে চারপাশ। রাজধানীর ব্যস্ততার মধ্যেও প্রকৃতি জানান দিচ্ছে—ঋতু বদলাচ্ছে।

ভাদ্র ও আশ্বিন বাংলার শরৎকাল। নীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল, শিউলি, শিশির আর নির্মল আলো—এই ছবি জড়িয়ে আছে শরতের সঙ্গে। বর্ষার টানা বৃষ্টির পর প্রকৃতিতে আসে স্বস্তি। বিল-ঝিলে শালুক-শাপলা, নদীর পাড়ে কাশবন আর খোলা আকাশে পাখিদের আনাগোনায় প্রাণ পায় প্রকৃতি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন—‘আজি কি তোমার মধুর মূরতি হেরিনু শারদ প্রভাতে! হে মাত বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ ঝলিছে অমল শোভাতে।’

শরৎ ফুলেরও ঋতু। শিউলি, বেলি, দোলনচাঁপা, বকুল, মালতী, শাপলা ও পদ্ম—বিভিন্ন ফুল এ সময় প্রকৃতিকে আলাদা রূপ দেয়। শিউলির সঙ্গে শরতের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। ভোরে গাছতলায় ঝরে থাকা সাদা-কমলা শিউলি দেখলেই বোঝা যায়, শরৎ তার নিজের পরিচয় নিয়ে হাজির হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথায়—

‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই।’

শরৎ আবার উৎসবেরও ঋতু। শিউলির গন্ধের সঙ্গে আসে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। এরপর লক্ষ্মীপূজা, দীপাবলি—ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। ফলে প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনেও তৈরি হয় আলাদা ব্যস্ততা ও আনন্দ।

তবে শহুরে নগরায়ণের চাপে কাশবন, খোলা মাঠ, জলাভূমি দ্রুত কমছে। এখন শরৎ দেখতে আলাদাভাবে শহরের প্রান্তে যেতে হয়—ঢাকার দিয়াবাড়ি, মিরপুর বেড়িবাঁধ, কেরানীগঞ্জ বা মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় এখনো মেলে শরতের চেনা দৃশ্য।

একসময় শরৎ দেখতে আলাদা করে কোথাও যেতে হতো না। বাড়ির পাশের মাঠ, পুকুরপাড় কিংবা গ্রামের পথেই তার দেখা মিলত। এখন শহুরে মানুষকে শরৎ খুঁজতে যেতে হয় শহরের প্রান্তে। তাই ঋতুটি চলে যাওয়ার আগে চারপাশে একটু তাকানো যেতে পারে। হয়তো দেখা যাবে, ব্যস্ত শহরের মধ্যেও শরৎ এখনো আছে কোনো একটুকরো নীল আকাশে, কাশফুলের দোলায় কিংবা ভোরের শিউলি গন্ধে।
August 16, 2026

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কালী মন্দির ও শ্মশানঘাটের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কালী মন্দির, বৃদ্ধেশ্বরী মন্দির ও নামুরী চন্দ্রপুর শ্মশানঘাটের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এই দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সেবায়েত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারপুকুর ইউনিয়নের নামুরী চন্দ্রপুর-২০ নম্বর মৌজায় বি.আর.এস. ৭৬ নম্বর দাগে মোট প্রায় ৬৬ শতক জমি রয়েছে। এই জমির একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে মন্দির ও শ্মশানঘাট পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় মূল প্রতিষ্ঠাতা প্রায় ৩৭ শতক জমি মন্দিরের নামে দান করেন, যার দলিল মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।

সম্প্রতি ওই জমির নতুন ক্রেতা পক্ষ মন্দির ও শ্মশানঘাটের একাংশ নিজেদের জমি দাবি করে দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহিরাগত লোকজন এনে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করানো হয় এবং জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিরোধ এড়াতে মন্দিরের পেছনের প্রায় ৫ শতক জমি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জমি দাবিদার পক্ষ তা গ্রহণ না করে মন্দিরের পাশের অংশ দখলের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে কোনো পক্ষের দাবি থাকলে তা কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গায় এমন দখলের চেষ্টা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা।
August 16, 2026

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গরুর মাংস বিতরণ নিয়ে বিতর্ক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিবের উদ্যোগে আয়োজিত লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনের সময় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারীরা বলছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় না নিয়ে তাদের হাতে গরুর মাংসের ভুনাখিচুড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়, যা তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে আয়োজকরা দাবি করেছেন, এটি কোনো ইচ্ছাকৃত ঘটনা নয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে মোরগ পোলাওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে খাবার পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তা সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি। জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব বলেন, ‘সনাতন শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভুল বোঝাবুঝি।’

তিনি জানান, খাবারগুলো স্টেজের পেছনে রাখা ছিল এবং আয়োজকদের অজান্তে কয়েকজন অন্য শিক্ষার্থী মোরগ পোলাও খেয়ে ফেলেন, যার ফলে ভুলবশত গরুর মাংসের বক্স সনাতন শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি দ্রুত আরও ৫০টি মোরগ পোলাও এনে বিকল্প ব্যবস্থা করেন এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো আবশ্যক। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবস্থা থাকলে তা আগে থেকেই ঘোষণা করা উচিত, যাতে কোনো বিভ্রান্তি বা অস্বস্তির সৃষ্টি না হয়।

Saturday, August 15, 2026

August 15, 2026

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। একের পর এক মরদেহ মর্গে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে মর্গ এলাকা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাজ শুরু করার পর শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্যাস কীভাবে লিক হয়েছে এবং শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে গ্যাস লিকেজের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করা হবে।

এ ঘটনায় শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল কি না, তদন্তে সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


 

August 15, 2026

ঝালকাঠিতে জন্মাষ্টমীর প্রস্তুতি সভায় সাংবাদিক অলোক সাহার ওপর হামলা

ঝালকাঠি শহরের আখড়াবাড়ি মন্দিরে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অলোক সাহার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা চলাকালে অলোক সাহার ওপর হঠাৎ হামলা চালানো হয়। আহত অলোক সাহা অভিযোগ করেন, সভা সঞ্চালনার সময় চন্দন পোদ্দার ও বিষ্ণু চন্দ্র ধর কোনো বাক্যবিনিময় ছাড়াই তার ওপর হামলা চালান। অভিযুক্ত চন্দন পোদ্দার ঝালকাঠি সদর বিএনপির সহ-সভাপতি এবং বিষ্ণু চন্দ্র ধর শহর বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার বলেন, এর আগেও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে অলোক সাহাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে তিনি মনে করেন। তিনি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মন্দির সূত্রে জানা যায়, কালিবাড়ি মন্দিরের জমি ও কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। কয়েক দিন আগেও জমি-বিরোধের জেরে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান জানান, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Thursday, August 13, 2026

August 13, 2026

বন্ধুর জানাজায় অশ্রুসিক্ত চোখে হিন্দু বন্ধু প্রদীপ, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

চাঁদপুর, ১৩ আগস্ট ২০২৬: জানাজার কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে চোখে পড়ছিলেন প্রদীপ সরকার। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই মানুষটি এসেছিলেন প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে। চোখে তখন জল, মুখে কোনো কথা নেই—শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধুর জানাজার কাতারে।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের প্রদীপ সরকারের সঙ্গে একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বাবুলের বন্ধুত্ব বহুদিনের। ধর্ম আলাদা হলেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে সেই ভিন্নতার কোনো ছাপ ছিল না। জীবনের নানা সময়ে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে হেসেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কিন্তু বুধবার রাতে সেই বন্ধুত্বের গল্পে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। অসুস্থতাজনিত কারণে রাত ১১টার দিকে মারা যান কামাল হোসেন বাবুল। বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।

বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি প্রদীপ সরকার। বৃহস্পতিবার বাবুলের জানাজায় হাজির হন তিনি। জানাজার মাঠে তখন স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভিড়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেও প্রদীপ সরকারের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন আলাদা এক গল্প বলছিল।

প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কখনো নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কখনো চোখের পানি মুছছিলেন প্রদীপ। বাবুলের জানাজায় প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি তাই শুধু একজন বন্ধুর শেষ বিদায়ে আসা নয়, হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক আবেগঘন দৃশ্য।
August 13, 2026

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার কেনা জমিতে মায়ের সৎকারে বাধা

গাজীপুর, ১৩ আগস্ট ২০২৬: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৯ ঘণ্টা পর সরকারি খাস জমিতে মরদেহ সৎকার করতে হয়েছে ছেলে ও স্বজনদের। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশেই ওই খাস জমিতে সৎকার সম্পন্ন হয়।

নিহত শ্রী মেনোকা (৬০) আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী ছিলেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় তার। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মন জানান, প্রায় ৪-৫ বছর আগে স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি ক্রয় করেন তারা। তবে জমিটি সাব-কবলা দলিল করে নিতে পারেননি। মা মারা গেলে ওই জমিতে সৎকার করতে গেলে সফির উদ্দিন বাধা দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সুনীল চন্দ্র বলেন, ‘আমরা আদিবাসী বলেই আজ আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো।’

পরবর্তীতে বুধবার সকালে বাড়ির পাশে সরকারি খাস জমিতে সৎকার করা হয় মেনোকাকে।

মৃতার ভাই নির্ধারণ জানান, তাদের বাবা মারা যাওয়ার আগে ওই জমি কিনেছিলেন। কিন্তু সফির উদ্দিন জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন এবং মরদেহ সৎকারে বাধা দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সফির উদ্দিন বলেন, ‘আমার জমিতে আদিবাসী মহিলাকে সৎকার করতে দেব না। তাদের কাছে আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি এবং কোনো টাকা নিইনি।’

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক জানান, তারা সফির উদ্দিনকে অনেক বুঝিয়েও সমাধান করতে পারেননি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সফির উদ্দিনকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি সৎকার করতে দেননি। পরে স্বজনরা সরকারি খাস জমিতে মরদেহ সৎকার করেন।
August 13, 2026

সিলেটের জৈন্তাপুরে রামেশ্বর শিব মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ১ম খণ্ড গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রামেশ্বর শিব মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের পূজাঘরের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার, রুপার সামগ্রী, পিতলের মূর্তি, কাঁসার বাসনপত্র ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।

মন্দিরের পুরোহিত রাজন দেবনাথ জানান, চোরেরা মহাদেবের চূড়ার রুপার গঙ্গা (প্রায় ৪ ভরি), মাথার চাঁদ (৩ ভরি), স্বর্ণের সাপ ও বেলপাতা (৭টি, প্রায় ১২ ভরি), রুপার হার (৪টি, প্রায় ৪ ভরি), স্বর্ণের তুলসী পাতা (৭টি), পিতলের মূর্তি (৪টি), কাঁসার গ্লাস ও বাসন (২০টি) এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পুরোহিত রাজন দেবনাথ বলেন, “আমাদের দীর্ঘ ৩০ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতি এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।”

চুরির খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দও মন্দির পরিদর্শন করেন।

নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

August 13, 2026

শেরপুরের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আদিবাসী গারো পল্লীতে হামলা-ভাঙচুর

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার পূর্বগজারিকুড়া-বন্দধারা এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আদিবাসী মান্দি (গারো) জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কিছু লোক আদিবাসী অধ্যুষিত পূর্ব গজারিকুড়ায় হামলা চালায়। এ সময় ৬টি বাড়ি ভাঙচুর, একটি বাড়ির আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ৪টি গরু, ১০টি ছাগল, একটি মোটরসাইকেলসহ দামি আসবাবপত্র লুট করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা অসীম ম্রং-এর বাড়িতে কয়েকজনকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), স্থানীয় মিশনের পাল-পুরোহিত এবং গ্রাম কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আটকে রাখা ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ১৯ জন আদিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। থানার বাইরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিপুল সংখ্যক লোক অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন ৭২ ঘণ্টার জন্য পুলিশ মোতায়েন করেছে। পূর্বগজারিকুড়া ও বন্দধারা গ্রাম ব্লক করে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় গারোদের দাবি, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্রাম ব্লক ও চলাচলে বাধায় তারা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


 

Wednesday, August 12, 2026

August 12, 2026

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা রঞ্জন কর্মকার আর নেই

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মৃত্যুর সংবাদে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে।

শোকবার্তায় নেতারা বলেন, ‘রঞ্জন কর্মকার সারাজীবন দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই প্রস্থান দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
"
"