টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ঐতিহাসিক রাকূটের তীর্থধাম সংস্কার কাজে অর্থ দান করেছে ৭ বছরের শিশু ফাল্গুনী
কক্সবাজারের রামুতে খেলনা বা চকলেটের বায়না না ধরে স্কুল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ঐতিহাসিক রামকূট তীর্থধামের সংস্কার কাজে অর্থ দান করেছে ৭ বছরের শিশু ফাল্গুনী পাল। তার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভক্তি আজ সমাজকে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা ও ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।
কক্সবাজারের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থভূমি শ্রীশ্রী রামকূট তীর্থধামের সন্ন্যাসী পুকুরে ঘাট ও সিঁড়ি নির্মাণের মহৎ উদ্দেশ্যে নিজের স্কুল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অনুদান দিয়ে এক অনন্য ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মাত্র সাত বছর বয়সী শিশু ফাল্গুনী পাল। কক্সবাজার জেলার রামু রাজারকুলের দেয়াং পাড়ার বাসিন্দা শ্রী বিকাশ পালের অবুঝ কন্যা ফাল্গুনীর এই দান আমাদের সনাতনী সমাজের ঘুমন্ত বিবেককে একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন করে জাগ্রত করেছে। বড় মনের মানুষ গড়তে হলে যে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হয়, ছোট্ট ফাল্গুনী আজ তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
যে বয়সে সাধারণ শিশুরা খেলনা, চকলেট কিংবা আইসক্রিম কেনার জন্য বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরে, সেই বয়সে ছোট্ট ফাল্গুনীর কচি মনে ঈশ্বরের তীর্থভূমি সংস্কারের এই ব্যাকুল চিন্তা আজ সমাজকে এক বড় বার্তা দেয়। সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান আর ভক্তি থেকেই সে তার জমানো ৫০০ টাকা তীর্থধামের উন্নয়ন ফান্ডে পাঠিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে টাকার অংকটি ছোট মনে হলেও, ফাল্গুনীর এই পবিত্র ও নিঃস্বার্থ ত্যাগ আজ অনেক বড় বড় সামর্থ্যবান মানুষের লক্ষ টাকার দানকেও এক অনন্য উচ্চতায় হার মানিয়েছে। সমাজে যেখানে বিত্তবানদের মধ্যেও ত্যাগের মানসিকতার অভাব দেখা যায়, সেখানে এই ছোট্ট শিশুর অন্তরের বিশালতা আমাদের চোখে জল এনে দেয়।
ফাল্গুনী পালের এই মহৎ উদ্যোগ আজ সমগ্র সনাতনী সমাজ তথা মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে নিজের আত্মার কাছে প্রশ্ন করার এক সুযোগ করে দিয়েছে। মাত্র সাত বছরের একটি শিশু যদি তার প্রতিদিনের টিফিনের ৫-১০ টাকা জমিয়ে ঐতিহাসিক সনাতনী ঐতিহ্য ও তীর্থভূমির উন্নয়নে এভাবে এগিয়ে আসতে পারে, তবে সামর্থ্যবান হয়েও কেন আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয়গুলোর সুরক্ষায় উদাসীন থাকব? এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা কোনো বয়সের ফ্রেমে বাঁধা থাকে না। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ফাল্গুনীর এই ত্যাগ এক বিরাট শিক্ষা। এই অনন্য সাধারণ কাজের জন্য ফাল্গুনী পালের প্রতি রইল অফুরন্ত শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও আর্শীবাদ।




.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)