ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশান দখলচেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। এ ঘটনায় এক সরকারি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ায় আয়োজিত এক সভায় শনিবার থেকে আখাউড়ার ২৫টি মন্দিরে কালো পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দুর্গাপূজা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দখলচেষ্টাকারীরা যদি সরে না দাঁড়ায় তবে আলোচনা সাপেক্ষে পূজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মহাশ্মশানের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। রাধানগর কলেজপাড়ার আনিসুর রহমান ভূইয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের এক রিট পিটিশনের আলোকে সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস খাস জমি ও ব্যক্তি মালিকানা জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে। বুধবার দুপুরে শ্মশানের ভেতরে পরিমাপ শেষে লাল পতাকা টানানো হলে স্থানীয়রা আপত্তি জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত জমি, সরকার শুধু নিজেদের জমি চিহ্নিত করছে। তবে পরিমাপ শেষ হওয়ার পর আনিসুর রহমানের অনুসারীরা দাবি করেন, খাস খতিয়ানের পরের অংশ তাদের মালিকানাধীন। এ দাবি ঘিরেই প্রভাবশালী একটি চক্র দখলচেষ্টা শুরু করে। সন্ধ্যায় শ্মশানের ভেতরে ঘর নির্মাণের জন্য টিন ও বাঁশ আনা হলে পুলিশ বাধা দেয়।
প্রতিবাদ সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে জায়গা দখলের পথ সুগম করা হচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত লাল নিশান সরিয়ে নেওয়া এবং আদালতের প্রকৃত আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সেবাশ্রমের পুজারি আশীষ ব্রহ্মচারি অভিযোগ করে বলেন, “২০১৪ সালের রিট পিটিশনে শ্মশাণকে পক্ষ না করেই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে জায়গা মাপার আদেশ আনা হয়েছিল। সেটি বাতিল হলেও নতুন করে কীভাবে প্রশাসন আদেশ পেল তা রহস্যজনক। একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে দখলকারীদের পক্ষ নিয়েছেন।”
শ্মশাণ কমিটির সভাপতি হিরালাল সাহা জানান, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় খাস জমি চিহ্নিতকরণের আড়ালে একপক্ষকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে থাকা দলিল ও নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে আইনের মাধ্যমে দখলচেষ্টার মোকাবিলা করা হবে।”
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, “রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশ অনুযায়ী খাস জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্মশানের ভেতরে কিছু খাস জমি রয়েছে। চাইলে শ্মশাণ কর্তৃপক্ষ আবেদন করতে পারে। তবে কাউকে কোনো জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, আমরা কেবল আদালতের নির্দেশ পালন করেছি।”
No comments:
Post a Comment