রংপুরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় রাকিব হাসান (২০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাকিবের দাফন শেষে রাত ৮টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাছুয়াপাড়া এলাকায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০টি দোকান এবং প্রায় ১০টি বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাসপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর সাক্ষ্য না দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই হামলা চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, হামলার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তারা ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার আগে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের দাবি, হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় দিতে একটি তৃতীয় পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ভাঙচুর চালিয়েছে।
এদিকে, রাকিব হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের অনেকেই বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment