সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি
রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ঘুম আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত সেবন করলে নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাসের মতে, ঘুমের ওষুধের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিছু ওষুধে একই মাত্রায় আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
ঘুমের ওষুধের ধরন ও মাত্রাভেদে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দিনের বেলার কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা ও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তন্দ্রাভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এতে দিনের স্বাভাবিক কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।
কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা ভুল মাত্রায় ব্যবহারে অন্যান্য অঙ্গের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ঘুমের সমস্যা হলে কী করবেন?
ঘুমের সমস্যা হলেই সরাসরি ঘুমের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে এর পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবন করা কিংবা মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে হঠাৎ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে।
ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ভারতে। ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাজারে এসেছে মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য এক যুগান্তকারী ইনজেকশন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি রোশ ফার্মা তৈরি করা ‘ডিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি ক্যান্সারের প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিরাচরিত নিয়মে ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিতে রোগীদের হাসপাতালের বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকতে হতো। স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনে ওষুধ দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া রোগীদের যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করতো, তেমনি হাসপাতালের উপর তৈরি করতো বাড়তি চাপ। তবে নতুন এই উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এটি সরাসরি রোগীর ত্বকের নিচে সাবকিউটেনিয়াস পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই নতুন ইনজেকশনে 'এটিজলিজুম্যাব' নামের একটি বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত মানবদেহের পিডিএল-ওয়ান নামক একটি প্রোটিনকে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে কাজ করে। সাধারণ অবস্থায় ক্যান্সার কোষগুলো এই প্রোটিনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম তাদের খুঁজে পায় না। নতুন এই ইনজেকশন প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং তা ধ্বংস করতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করে। কারণ কেমোথেরাপি ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও মারাত্মক ক্ষতি করে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে এই ইনজেকশন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং এর ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক অনেক কম। যেসব রোগীর টিউমারে পিডিএল-ওয়ান প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারবেন।
ক্যান্সার জয়ের এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আকাশচুম্বি খরচ। ভারতে এই ইনজেকশনের প্রতি ডোজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা)। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করতে একজন রোগীর অন্তত ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়। ফলে সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামের একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএস-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে এটিকে।
ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম ভোগান্তি এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার সুবিধার কারণে এই ইনজেকশনটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কিংবা বেসরকারি নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে এই জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্যান্সার রোগীদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করা সম্ভব হয়।
পরিবারে বাবা, মা বা ভাইবোনের কারও ডায়াবেটিস থাকলে অনেক অভিভাবকই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ইতিহাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ালেও তা অনিবার্য নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো শরীরের মেটাবলিজম (বিপাকক্রিয়া) ধীর হয়ে যাওয়া। বয়স বৃদ্ধি, জিনগত বৈশিষ্ট্য কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়ায়। ফলে অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে পেটের চারপাশে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে অনেকের ওজন বৃদ্ধি দেখা যায়। পাশাপাশি হাইপোথাইরয়েডিজম এবং নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও সাদা রুটি কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।
এসব পরিবর্তনের পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
All rights reserved ©