বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Showing posts with label সাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label সাস্থ্য. Show all posts

Tuesday, September 15, 2026

September 15, 2026

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

অনেক সময় বড় কোনো ভুল নয়; বরং ছোট ছোট অবহেলাই সম্পর্কের রং ফিকে করে দেয়। তাই সম্পর্ক সুন্দর, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে পাঁচটি বিষয় সব সময় মনে রাখা জরুরি।

১. গোপন কথা ঝগড়ার অস্ত্র বানাবেন না

কেউ যদি আপনাকে বিশ্বাস করে গোপন কিছু বলে, ঝগড়ার সময় সেই কথা ভুলেও তুলবেন না। আবেগময় মুহূর্তে সে হয়তো নিজের দুর্বলতা বা বিশেষ কোনো ঘটনার কথা শেয়ার করেছে। সেটি ঝগড়ার সময় ব্যবহার করলে বিশ্বাস ভঙ্গ হয়।

২. মুড অনুযায়ী যোগাযোগ বন্ধ করবেন না

হুট করে নিজের মুড অনুসারে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া, আবার সুবিধামতো সময়ে যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্পর্কের জন্য ‘রেড ফ্ল্যাগ’। সময়ের দরকার হলে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে সময় নিন, তারপর ফিরে আসুন।

৩. রাগ প্রকাশের কৌশল শিখুন

মর্মাহত বা রাগান্বিত অবস্থায় অপর পক্ষকে অসম্মান না করে সুন্দরভাবে বিষয়টি বোঝানো সম্পর্কে খুবই প্রয়োজনীয় একটি ‘আর্ট’।

৪. ছোট ছোট বিষয়কে অবহেলা করবেন না

সম্পর্ক টিকে থাকে ‘লিটল থিংস’-এর ওপর ভর করে। কখনোই সম্পর্ককে ‘টেকেন অ্যাজ ফর গ্রান্টেড’ হিসেবে নেবেন না, যাতে ছোট ছোট বিষয় হারিয়ে যেতে থাকে। এসব হারানোর মানেই হলো সম্পর্ক ফিকে হয়ে আসা।

৫. মন দিয়ে শুনুন

সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শুনুন। একজনের কথা বলা শেষ হলে তারপরই অপরজন বলুন। এই ছোট্ট অভ্যাসই সম্পর্ককে অনেক অপ্রয়োজনীয় সংঘাত থেকে বাঁচিয়ে দেবে।


 

Wednesday, September 9, 2026

September 09, 2026

ঘুমের ওষুধ কেন ক্ষতিকর, দীর্ঘদিন সেবনে কী হতে পারে


রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ঘুম আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত সেবন করলে নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাসের মতে, ঘুমের ওষুধের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিছু ওষুধে একই মাত্রায় আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে।

ঘুমের ওষুধের ধরন ও মাত্রাভেদে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দিনের বেলার কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা ও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তন্দ্রাভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এতে দিনের স্বাভাবিক কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।

কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা ভুল মাত্রায় ব্যবহারে অন্যান্য অঙ্গের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ঘুমের সমস্যা হলে কী করবেন?

ঘুমের সমস্যা হলেই সরাসরি ঘুমের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে এর পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবন করা কিংবা মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে হঠাৎ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে।

Tuesday, September 1, 2026

September 01, 2026

সাবান দিয়ে গোসলের পরও শরীরে দুর্গন্ধ? এই ভুলগুলো করছেন কি?

প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করার পরও যদি শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, তবে তা কিন্তু স্বাভাবিক নয়। অনেকেই পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন, কিন্তু এগুলো ক্ষণিকের স্বস্তি দেয়, সমস্যার মূল সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের সময় কয়েকটি ছোট ভুলের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অতিরিক্ত সাবান বা শক্ত সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিয়ে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। যাদের ত্বক শুষ্ক বা স্পর্শকাতর, তাদের মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। বাহুমূল, পায়ের পাতা ও ঘাম হয়—এমন জায়গাগুলো ভালো করে পরিষ্কার করুন।

গরম পানিতে গোসল স্বস্তিদায়ক হলেও অতিরিক্ত গরম পানি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে গোসলের পরেও ১৫-২০ মিনিট ঘাম হতে পারে। এই ঘামই আবার দুর্গন্ধ তৈরি করে।

শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার করলেও অনেকে পা ঠিকমতো ধোয় না। অথচ পায়ের পাতা থেকেই অনেক সময় দুর্গন্ধের সূত্রপাত। গোসলের সময় পা ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করা জরুরি।

ভেজা তোয়ালে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রেখে দিলে তাতে জীবাণু ও দুর্গন্ধ তৈরি হয়। বারবার একই তোয়ালে ব্যবহার করলে তা শরীরে গন্ধ ফিরিয়ে আনে। তাই ব্যবহারের পর তোয়ালে ভালো করে মেলে শুকিয়ে নিন এবং নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার করুন।

পাশাপাশি গোসলের পর পরিষ্কার ও শুকনো পোশাক পরাও জরুরি। এ ছোট অভ্যাসগুলোই শরীরের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দিতে পারে।


 

Sunday, August 30, 2026

August 30, 2026

খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল খাওয়া নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে—কেউ বলছেন খালি পেটেই ফল খেতে হবে, কেউ বলছেন খাবারের পর। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন পর্যায়ে ফল খাওয়া হচ্ছে, তা পুষ্টি শোষণে তেমন প্রভাব ফেলে না।

খাবারের ক্রম নিয়ে ধারণা

‘মিল সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি ধারণা রয়েছে, যা অনুযায়ী খাবারের উপাদান কোন ক্রমে খাওয়া হচ্ছে, তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন, চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে ডায়েটিশিয়ান লরেন মানাকার বলছেন, গবেষণাগারের ফলাফল সবসময় বাস্তব জীবনে একই রকম কাজ করে না।

আঁশ ও প্রোটিনের গুরুত্ব

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শুরুতে আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফল আঁশের ভালো উৎস। তবে তাই বলে ফল আলাদাভাবে বা নির্দিষ্ট ক্রমে খেতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, ‘কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলে না। তাই খাবারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।’

ফলের সঙ্গে কী মিশিয়ে খাবেন

ফলের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। যেমন—

কলার সঙ্গে পিনাট বাটার

আপেলের সঙ্গে বাদাম

ফলের সঙ্গে দই

ক্যান্টালুপ, আম বা এপ্রিকটের সঙ্গে এক মুঠো বাদাম

অ্যাভোকাডো দিয়ে ফলের স্মুদি

পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ

ডায়েটিশিয়ান মানাকার বলেন, ‘ফল কখন খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম তৈরি করলে মানুষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই ছেড়ে দিতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সুপারিশকৃত পরিমাণ ফল খান। সাধারণভাবে পুরুষদের জন্য দৈনিক ২ কাপ এবং নারীদের জন্য দেড় কাপ ফলের পরামর্শ দেওয়া হয়।

খালি পেটে ফল খেতে না পারলেও তা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের যেকোনো সময় তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত বা শুকনো ফল খাওয়া যায়। তবে ক্যানজাত বা শুকনো ফল কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি নেই—এমন বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।


 

Saturday, August 29, 2026

August 29, 2026

সেদ্ধ ডিমের কুসুমের চারপাশে ধূসর বলয়: কী বলছেন পুষ্টিবিদ


সেদ্ধ ডিম খাওয়ার সময় অনেকেই কুসুমের চারপাশে ধূসর বা সবুজাভ বলয় দেখে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে—এমন ডিম খাওয়া কি নিরাপদ? পুষ্টিবিদরা বলছেন, এটি কোনো ক্ষতিকর লক্ষণ নয়; বরং ডিমটি বেশি সময় ধরে সেদ্ধ করার কারণেই এমন হয়।

ডায়েটিশিয়ান আম্রীন জানান, ডিম যদি তাজা হয়, সঠিকভাবে সেদ্ধ করা হয় এবং সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে এই ধূসর বলয় সাধারণত নিরাপদ এবং ডিমটি খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত সেদ্ধ করলে কুসুম শুকিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং স্বাদে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

ধূসর বলয় তৈরির কারণ ও প্রতিকার

ডিমের কুসুমে আয়রন এবং সাদা অংশে সালফার থাকে। অতিরিক্ত তাপে এ দুটি উপাদান বিক্রিয়া করে আয়রন সালফাইড তৈরি করে, যা ধূসর-সবুজ বলয়ের সৃষ্টি করে। এই সমস্যা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—

ডিম জমাট বাঁধা পর্যন্ত সেদ্ধ করতে হবে

সেদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা বা বরফ পানিতে রাখতে হবে

এতে সেদ্ধ প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক বন্ধ হয় এবং খোসা ছাড়ানো সহজ হয়

ডিম প্রয়োজনের বেশি সময় ফুটন্ত পানিতে রাখা যাবে না

সংরক্ষণের বিষয়ে সাবধানতা

খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে ডিম সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়েটিশিয়ান আম্রীন জানান, ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা সেদ্ধ ডিম, পচা গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল ভাব থাকা ডিম—ধূসর বলয় থাক বা না থাক—কোনোভাবেই খাওয়া ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ‘ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ ও কোলিনের ভালো উৎস। ধূসর বলয় ডিম না খাওয়ার কারণ হতে পারে না; এটি শুধু নির্দেশ করে যে ডিমটি বেশি সময় সেদ্ধ করা হয়েছে।’

তবে দুর্গন্ধযুক্ত, অস্বাভাবিক টেক্সচারযুক্ত বা সংরক্ষণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে সে ডিম ফেলে দেওয়াই উত্তম।

Tuesday, August 11, 2026

August 11, 2026

ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যায়, এটি কি ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত

কর্মব্যস্ত দিন শেষে রাতে ঘুমাতে গিয়ে অনেকেরই মধ্যরাতে বা ভোরবেলায় হঠাৎ গলা শুকিয়ে যায়। তীব্র তৃষ্ণায় ঘুম ভেঙে যায়, এমনকি ঘুম আর ফিরে আসে না। কিন্তু কেন এই সমস্যা হয়?

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঝে মধ্যে অতিরিক্ত গরম, এসি চলার কারণে বা দিনে কম পানি পানের জন্য গলা শুকানো স্বাভাবিক। কিন্তু এটি প্রতিদিন হলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ, ঘুমের মধ্যে তৃষ্ণা পাওয়া কোনো সাধারণ তৃষ্ণা নয়; এটি কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

কেন হয় রাতে গলা শুকানো?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মুখের ভেতর পর্যাপ্ত লালা তৈরি না হওয়ার সমস্যাকে ‘জেরোস্টোমিয়া’ বা ড্রাই মাউথ বলে। লালা মুখকে সক্রিয় রাখে, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। রাতে গলা শুকানোর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে—

মুখে শ্বাস নেওয়া: নাক বন্ধ থাকলে বা অভ্যাসবশত অনেকেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে মুখের আর্দ্রতা উড়ে যায় এবং গলা শুকিয়ে যায়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া: ঘুমের সময় শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গেলে রোগী বারবার মুখ দিয়ে শ্বাস নেন, ফলে গলা শুকায়।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করা বেশি থাকলে কিডনি তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করতে চায়। এতে বারবার প্রস্রাব হয় ও শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

পানিশূন্যতা: সারাদিন পর্যাপ্ত পানি না পান করলে বা অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ, ডিপ্রেশন বা অ্যালার্জির ওষুধের প্রভাবেও মুখ শুকাতে পারে।

এসিড রিফ্লাক্স: রাতে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীর এসিড গলায় এসে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে, যা গলা শুকানোর কারণ।

প্রতিকারের উপায়

পর্যাপ্ত পানি পান করুন (দিনে আড়াই-৩ লিটার)

রাতে একসঙ্গে না খেয়ে অল্প অল্প পানি পান করুন

ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখুন

চিত হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে শোয়ার অভ্যাস করুন

রাতে চা-কফি, অ্যালকোহল, লবণাক্ত বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি গলা শুকানোর সঙ্গে নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা, সবসময় ক্লান্তি বা পেটের সমস্যা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, এটি কোনো গুরুতর অসুখের পূর্বলক্ষণও হতে পারে।


 

Saturday, August 8, 2026

August 08, 2026

খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস ভালো নাকি খারাপ?


খালি পায়ে ঘাসে হাঁটার উপকারিতা জানালেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, ৮ আগস্ট ২০২৬: ব্যস্ত নগরজীবনে খালি পায়ে ঘাস বা মাটির ওপর হাঁটার সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। অথচ প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিট খালি পায়ে হাঁটা শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী—এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অলোক চোপড়া। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে এই সহজ সংযোগের নানা উপকারিতা তুলে ধরেছেন।

কীভাবে কাজ করে

ড. চোপড়ার মতে, খালি পা সরাসরি মাটি, ঘাস বা বালুর সংস্পর্শে এলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চার্জ পৃথিবীতে নির্গত হতে পারে। এতে শরীরের কোষগুলো তাদের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ভারসাম্য ফিরে পায়। এই প্রক্রিয়া লোহিত রক্তকণিকার চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে, যা রক্তসঞ্চালন ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।

খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা

বিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত খালি পায়ে হাঁটলে—

শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চার্জ নির্গত হতে সহায়তা করে

মানসিক চাপ কমিয়ে স্বস্তি ও প্রশান্তি আনে

মানসিক স্বচ্ছতা, আবেগগত ভারসাম্য ও ভালো ঘুমে সহায়ক

প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে মনকে বর্তমান মুহূর্তে রাখতে সাহায্য করে

রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে

যাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত

তবে সব কিছু সবার জন্য নয়। ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সমস্যা, পায়ে ক্ষত, সংক্রমণ বা অনুভূতি কমে যাওয়ার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পায়ে হাঁটা উচিত নয়। হাঁটার আগে জায়গাটি নিরাপদ কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার এই ছোট্ট অভ্যাস শরীর ও মন উভয়ের জন্যই উপকারী হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Saturday, August 1, 2026

August 01, 2026

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সারের যুগান্তকারী ইনজেকশন: মাত্র সাত মিনিটে চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ভারতে। ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাজারে এসেছে মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য এক যুগান্তকারী ইনজেকশন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি রোশ ফার্মা তৈরি করা ‘ডিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি ক্যান্সারের প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিরাচরিত নিয়মে ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপি দিতে রোগীদের হাসপাতালের বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকতে হতো। স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় বা আইভি ইনফিউশনে ওষুধ দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া রোগীদের যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করতো, তেমনি হাসপাতালের উপর তৈরি করতো বাড়তি চাপ। তবে নতুন এই উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এটি সরাসরি রোগীর ত্বকের নিচে সাবকিউটেনিয়াস পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই নতুন ইনজেকশনে 'এটিজলিজুম্যাব' নামের একটি বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত মানবদেহের পিডিএল-ওয়ান নামক একটি প্রোটিনকে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে কাজ করে। সাধারণ অবস্থায় ক্যান্সার কোষগুলো এই প্রোটিনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম তাদের খুঁজে পায় না। নতুন এই ইনজেকশন প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষগুলো সহজেই ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করতে পারে এবং তা ধ্বংস করতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাচরিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা ইমিউনোথেরাপি বেশি পছন্দ করে। কারণ কেমোথেরাপি ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষেরও মারাত্মক ক্ষতি করে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। অন্যদিকে এই ইনজেকশন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং এর ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক অনেক কম। যেসব রোগীর টিউমারে পিডিএল-ওয়ান প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারবেন।

ক্যান্সার জয়ের এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আকাশচুম্বি খরচ। ভারতে এই ইনজেকশনের প্রতি ডোজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা)। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করতে একজন রোগীর অন্তত ছয়টি ডোজের প্রয়োজন হয়। ফলে সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামের একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএস-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে এটিকে।

ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম ভোগান্তি এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার সুবিধার কারণে এই ইনজেকশনটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কিংবা বেসরকারি নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে এই জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্যান্সার রোগীদের জন্য কতটা সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করা সম্ভব হয়।

Wednesday, July 29, 2026

July 29, 2026

তাজা নাকি ফ্রোজেন: কোনটি বেশি পুষ্টিকর? জানাচ্ছে পুষ্টিবিজ্ঞান


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০২৬: ফল ও সবজি কেনার সময় আমরা সবাই তাজা পণ্যই কিনতে চাই। কারণ তাজা মানেই বেশি পুষ্টিকর—এই ধারণা আমাদের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি সব সময় ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে হিমায়িত (ফ্রোজেন) ফল ও সবজি তাজা পণ্যের সমান পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে পারে, কখনো বা তার চেয়েও বেশি উপকারী হতে পারে।

তাজা পণ্যের চ্যালেঞ্জ

তাজা ফল ও সবজির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়। খেত বা বাগান থেকে সংগ্রহ করার পর তা সরাসরি আপনার প্লেটে আসে না। সংগৃহীত পণ্য বাছাই, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ—এসব ধাপ পেরিয়ে দোকানে পৌঁছতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি তাপমাত্রা, আলো ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে নষ্ট হতে শুরু করে। তাই বাজার থেকে কেনা ‘তাজা’ পণ্য সব সময় সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ বহন করে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ফ্রোজেন পণ্যের সুবিধা

সঠিক নিয়মে হিমায়িত ফল ও সবজি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, সহজে নষ্ট হয় না এবং দ্রুত ব্যবহার করা যায়। এটি ব্যস্ত জীবনে পুষ্টিকর খাবার সহজলভ্য করে তোলে এবং খাদ্যের অপচয়ও কমায়। পুষ্টিবিদদের মতে, সংগ্রহ করার সঙ্গে সঙ্গেই যদি ফল বা সবজি হিমায়িত করা হয়, তাহলে তার অধিকাংশ পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।

কোনটি বেছে নেবেন?

উত্তর সহজ—উভয়েরই নিজস্ব সুবিধা আছে।

স্থানীয়, মৌসুমি ও সত্যিই তাজা ফল-সবজি দ্রুত খাওয়া সম্ভব হলে তাজা পণ্যই উত্তম।

দূর থেকে পরিবহন করা, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হয় বা ফ্রিজে রেখে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ফ্রোজেন পণ্য বেশি পুষ্টিকর হতে পারে।

সাবধানতা

সব ফ্রোজেন খাবার সমান নয়। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা প্রক্রিয়াজাত উপাদান মেশানো ফ্রোজেন পণ্য স্বাস্থ্যকর নয়। তাই কেনার আগে লেবেল পড়ে নিন। আর রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ—অতিরিক্ত সময় সেদ্ধ করলে পুষ্টিগুণ কমে যায়; বেকিং বা অল্প সময়ে ভাপে সেদ্ধ করলে বেশি পুষ্টি ধরে রাখা যায়।

সবশেষে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূলমন্ত্র হলো—নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়া। ফ্রিজার থেকে আসুক বা বাজার থেকে—মূল কথা হলো তা যেন আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে। তাই তাজা আর ফ্রোজেনের মধ্যে একটিকে বেছে না নিয়ে দুটোর সমন্বয়ই হতে পারে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।


 

Tuesday, July 28, 2026

July 28, 2026

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার: প্রাথমিক সতর্কতা চিনবেন যেভাবে


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৮ জুলাই ২০২৬: ক্যানসার নামটাই যেন আতঙ্কের। তবে বেশিরভাগ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই ভালো সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ নির্ণয় জীবন বাঁচাতে পারে—কিন্তু এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে অনেক সময় সাধারণ রোগ ভেবে ভুল করা হয়।

সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রার মতে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

যে তিনটি লক্ষণে সতর্ক হবেন

১. মুখে দীর্ঘস্থায়ী ঘা (২-৩ সপ্তাহের বেশি): সাধারণত পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা ভুল ডেন্টারের কারণে ঘা হলে কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরও যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ঘা না শুকায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা ও টিস্যু বায়োপসি করানো উচিত। এটি প্রি-ক্যানসার বা প্রাথমিক মুখের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

২. কণ্ঠস্বর ভাঙা বা কর্কশ হওয়া: সাধারণ সংক্রমণে গলার স্বর পরিবর্তন হয়, কিন্তু তা অল্পদিনে ঠিক হয়। তবে ধূমপায়ী বা তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে যদি নিয়মিত চিকিৎসার পরও কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকে, তবে তা গলা বা স্বরযন্ত্রের (ল্যারিংস) ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। এক্ষেত্রে ল্যারিঙ্গোস্কোপিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

৩. ঘাড়ে গুটলি বা ফোলাভাব: এটি সাধারণত রোগের পরবর্তী ধাপের লক্ষণ, অর্থাৎ ক্যানসার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত। অনেক সময় মূল টিউমারটি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকে, কিন্তু ঘাড়ের গুটলি দেখেই রোগী সচেতন হন। তাই এটিকে প্রথম সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাথমিক শনাক্তকরণে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব

ডা. মালহোত্রা জানান, রোবোটিক ও লেজার-অ্যাসিস্টেড সার্জারির উন্নতির ফলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে কথা বলা ও খাবার গিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অক্ষুণ্ন রেখেই টিউমার অপসারণ করা সম্ভব।

তাই মুখের ঘা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা ঘাড়ে ফোলা ভাব—এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো শনাক্তকরণই পারে ক্যানসারকে জয় করার প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

Monday, July 27, 2026

July 27, 2026

বাজারের ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় মানদণ্ডের দাবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় দাবি করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষিত প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ইএইচই ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে (৩২০ কণা), ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে (১৬০ কণা), কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে (১৪০ কণা) এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে (১২০ কণা)।

ইএসডিও জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বাংলাদেশে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই। সংস্থাটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে ইএসডিও।


 

Tuesday, July 14, 2026

July 14, 2026

ফুসফুসের ক্যানসার: প্রাথমিক উপসর্গগুলো চিনবেন যেভাবে

আশপাশে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটছে। কিন্তু জানেন কি, এই মারাত্মক রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেকটাই সাধারণ ঠান্ডা, কাশি ও দুর্বলতার মতো? এ কারণেই প্রায়শই রোগটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ রোগ যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সম্ভাবনা তত ভালো।

প্রথম দিকে রোগটি নীরবে বাড়তে থাকে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলেই সাবধান হওয়া উচিত। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফুসফুসের ক্যানসারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:

দীর্ঘস্থায়ী কাশি: ফুসফুসের ক্যানসারের শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান সংকেত হলো দীর্ঘদিনের কাশি। সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কমে গেলেও ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই কাশি ধীরে ধীরে আরও খারাপ হতে থাকে। অনেক সময় কাশি গভীর ও কর্কশ হয়ে ওঠে বা ঘনঘন হয়। কয়েক সপ্তাহ পরেও যদি কাশি না কমে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘনঘন সংক্রমণ: বারবার নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ হওয়া, বিশেষ করে ফুসফুসের একই জায়গায় যদি ঘুরেফিরে সংক্রমণ হতে থাকে, তা ফুসফুসের ভেতর টিউমারের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

বুকের ব্যথা বা ধড়ফড়: হালকা বুকধড়ফড় বা ব্যথা অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। কখনো চাপের মতো, আবার কখনো তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হাসলে, কাশি দিলে বা গভীর শ্বাস নিলে এই ব্যথা বাড়তে পারে।

কণ্ঠস্বর কর্কশ হওয়া: সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরে গলা বসে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর কর্কশ থাকলে বা অস্বাভাবিক লাগলে তা ফুসফুসের টিউমার স্নায়ুতে চাপ দেওয়ার কারণে হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট: স্বাভাবিক হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা প্রতিদিনের কাজ করতে গিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তা শুধু ক্লান্তি মনে হতে পারে। কিন্তু এই শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়লে অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ টিউমার শ্বাসনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ব্যায়াম না করেও কয়েক সপ্তাহে যদি ওজন কমে যায়, তবে তা সাধারণ দুর্বলতা নয়। ক্যানসার কোষ বাড়লে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বদলে যায় এবং শক্তি বেশি খরচ হয়, ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত হয় না।

যেকোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম। সচেতনতাই পারে এই রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে।


 

Thursday, July 9, 2026

July 09, 2026

পরিবারে ডায়াবেটিস থাকলেই সন্তানের হবে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পরিবারে বাবা, মা বা ভাইবোনের কারও ডায়াবেটিস থাকলে অনেক অভিভাবকই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ইতিহাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ালেও তা অনিবার্য নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


ভারতের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. নিশান্ত রাইজাদার মতে, জিনগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিশুর খাদ্যাভ্যাস, ওজন এবং দৈনন্দিন জীবনধারাই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। একই মত দিয়েছেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. অনুপম বিশ্বাস। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বংশগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও টাইপ–২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই শিশুর খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার রাখা উচিত। অন্যদিকে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা নাচের মতো সক্রিয় কাজে অংশগ্রহণ করলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমে।

চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত ঘুমের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। ঘুমের অভাব ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা এবং ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা টেলিভিশন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি বা ঘাড় ও বগলের ত্বকে কালচে দাগের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেটিক ঝুঁকি থাকলেও সেটিই শেষ কথা নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু ডায়াবেটিস নয়, আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
 

Tuesday, July 7, 2026

July 07, 2026

কম খেয়েও কেন বাড়তে পারে ওজন? জানুন সম্ভাব্য কারণ

 

অনেকের ধারণা, কম খেলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খাবার কম খাওয়ার পরও ওজন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শুধু অতিরিক্ত ক্যালরি নয়, শরীরের নানা জৈবিক ও জীবনযাপনের কারণও দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো শরীরের মেটাবলিজম (বিপাকক্রিয়া) ধীর হয়ে যাওয়া। বয়স বৃদ্ধি, জিনগত বৈশিষ্ট্য কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়ায়। ফলে অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ওজন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে পেটের চারপাশে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে অনেকের ওজন বৃদ্ধি দেখা যায়। পাশাপাশি হাইপোথাইরয়েডিজম এবং নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও সাদা রুটি কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

এসব পরিবর্তনের পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Wednesday, July 1, 2026

July 01, 2026

নতুন চরিত্রে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু, জানতে বিস্তারিত পড়ুন

বর্ষা এলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক বেড়ে যায়, কিন্তু এখন তা আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, সারা বছরই ডেঙ্গু রোগী মিলছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু প্রকোপই বাড়েনি, বরং ডেঙ্গু ভাইরাসের চরিত্র ও লক্ষণেও এসেছে বড় ধরনের রূপান্তর। এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সচেতনতা ও প্রতিরোধকৌশলেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আগে ডেঙ্গু মানেই ছিল তীব্র জ্বর, চোখ-পিঠ-অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, শরীরে লাল র্যাশ— যাকে ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বলা হতো। কিন্তু এখনকার ডেঙ্গু অনেক বেশি ছদ্মবেশী। অনেক সময় সামান্য জ্বর বা গা ম্যাজম্যাজ করলেই রোগী টের পান না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। আবার আগের ধারণা বদলে জ্বর কমে যাওয়ার পরই শুরু হচ্ছে প্রকৃত বিপদ। জ্বর কমার তিনদিনের ‘ক্রিটিক্যাল ফেজে’ রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তাই জ্বর সেরে গেলেও এ সময়টায় নিয়মিত প্লাটিলেট কাউন্টসহ বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
নতুন চরিত্রের ডেঙ্গু লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্কেও দ্রুত প্রভাব ফেলছে। জ্বরের চেয়ে বমি, তীব্র পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো উপসর্গ এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। পেটের ডান পাশের ওপরের দিকে ব্যথা ও জন্ডিস দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপরন্তু, দ্বিতীয়বার ভিন্ন ভেরিয়েন্টে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা প্রাণনাশক। চিকিৎসকরা বলছেন, এই বদলে যাওয়া চরিত্রের ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশারি ব্যবহার বা মশা নিধন নয়, লক্ষণ বুঝে দ্রুত পরীক্ষা ও সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধকৌশল।

Tuesday, June 23, 2026

June 23, 2026

চোখ শুকনো অথচ পানি পড়ে? যে কারণ জানাচ্ছেন চিকিৎসক

আধুনিক জীবনযাপনে স্ক্রিনের দীর্ঘ সময় ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ ও এসি পরিবেশের কারণে চোখের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া আবার একইসঙ্গে চোখ শুকনো লাগা— এই পরস্পরবিরোধী উপসর্গের পেছনের চমকপ্রদ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের মারেনগো এশিয়া হাসপাতালের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শিবাল ভরতিয়া।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, চোখের ওপর থাকা পানির পাতলা স্তর বা টিয়ার ফিল্মের তিনটি অংশ— তেল, পানি ও মিউকাস। এই স্তর নষ্ট হলে চোখ জরুরি সংকেত পাঠালে মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ পানি নিঃসরণ করে, যাকে বলে 'রিফ্লেক্স টিয়ারিং'। এই অতিরিক্ত পানি চোখের প্রকৃত আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না, তাই চোখ একইসঙ্গে শুষ্ক থাকে আবার পানি পড়তেও থাকে।
বিশেষজ্ঞের মতে, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ কম চোখের পলক ফেলা হয়। এতে চোখের পাতার তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যায় এবং চোখের পানি দ্রুত শুকায়। দীর্ঘ যাতায়াত, বায়ুদূষণ ও এসি এই সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে।
ডা. শিবাল সতর্ক করে বলেন, চোখ দিয়ে পানি পড়া যা সন্ধ্যায় বাড়ে, চোখ জ্বালা-পোড়া, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আবার পরিষ্কার হওয়া, বাতাসে সংবেদনশীলতা ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরও চোখ ক্লান্ত লাগা— এই লক্ষণগুলোর কোনোটি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বিনা পরীক্ষায় কৃত্রিম চোখের ড্রপ ব্যবহার না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রতিকার হিসেবে চোখের পাতায় গরম সেঁক, ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট, প্রিজারভেটিভমুক্ত লুব্রিকেটিং ড্রপ এবং সচেতনভাবে চোখের পলক ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় হাসপাতালে তেল গ্রন্থির সরাসরি চিকিৎসা নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

Tuesday, June 16, 2026

June 16, 2026

ঘুম আনতে ওষুধ নয়, চাই শান্ত শব্দ— জেনে নিন ‘রঙিন’ শব্দের জাদু ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রাতে ঘুম না এলে অনেকেই অজান্তেই নির্ভর করেন ঘুমের ওষুধের ওপর। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু প্রশান্তিদায়ক শব্দও প্রাকৃতিক উপায়ে টেনে আনতে পারে গাঢ় ঘুম। এমনকি গোলাপি, বাদামি বা সবুজের মতো ‘রঙিন’ নামের শব্দও রয়েছে, যা মস্তিষ্ককে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে অত্যন্ত কার্যকর।
মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট কাম ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আচরণ বিজ্ঞানী ডা. ক্রিস মোসুনিক বলেন, ঘুমের মধ্যেও আমাদের শ্রবণশক্তি সক্রিয় থাকে। হঠাৎ দরজা বন্ধের শব্দ বা গাড়ির হর্ন সহজেই ঘুম ভাঙাতে পারে। নিয়মিত ও একই রকম শান্ত শব্দ বাইরের এই আকস্মিক আওয়াজগুলোকে আড়াল করে মস্তিষ্ককে বারবার চমকে ওঠা থেকে রক্ষা করে। ফলে ঘুম হয় গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। নিয়মিত অভ্যাস তৈরি হলে শরীরও একসময় এই শব্দকে 'ঘুমের সংকেত' হিসেবে মেনে নেয়।
‘রঙিন’ শব্দগুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে হোয়াইট নয়েজ বা সাদা শব্দ, যা চলমান পাখা বা এসির সমান মাত্রার আওয়াজ তৈরি করে আশপাশের আকস্মিক শব্দ ঢেকে দেয়। যারা একটু কোমলতা চান তাদের জন্য পিংক নয়েজ বা গোলাপি শব্দ, যা টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার মতো প্রশান্তিময় অনুভূতি দেয়। আরও গভীর শব্দ পছন্দ হলে ব্রাউন নয়েজ বা বাদামি শব্দ কার্যকর, যা দূরের বজ্রধ্বনি বা জলপ্রপাতের ভারী গর্জনের মতো শোনায়। প্রকৃতির মাঝারি শব্দের জন্য আছে গ্রিন নয়েজ বা সবুজ শব্দ, যেখানে মিশে থাকে পাখির ডাক, ঝরনা বা বনের পরিবেশ।
প্রকৃতির শব্দের মধ্যে সবার ওপরে সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দময় আওয়াজ, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতির সঙ্গে মিল রেখে শরীর ও মনকে দ্রুত শিথিল করে। মৃদু বৃষ্টি বা ঝরনার পানি প্রবাহের শব্দ শহরের কোলাহল ভুলিয়ে মানসিক প্রশান্তি আনে। ভোরের পাখির ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কিংবা বাতাসে পাতার নড়াচড়ার শব্দও দিনের ক্লান্তি দূর করতে সমান কার্যকর। এছাড়া ধীরলয়ের সুর বা ধ্যানভিত্তিক শব্দ হৃদস্পন্দন কমিয়ে মনোযোগ বিশ্রামের দিকে নিয়ে যায়। স্লিপ স্টোরিজ বা ঘুম আনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি গল্পের কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনাও সহজে ঘুম নামাতে সাহায্য করে।
ডা. মোসুনিকের পরামর্শ, সবার জন্য একই শব্দ সমান কার্যকর নয়। যানবাহনের শব্দের জন্য সাদা শব্দ, কোমলতার জন্য গোলাপি, প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বৃষ্টি-ঝরনা, আর অতিরিক্ত চিন্তা দূর করতে ধ্যান বা ঘুমের গল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। তিনি একে অনিদ্রার বিরুদ্ধে এক 'চমৎকার প্রাকৃতিক ওষুধ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, প্রতিদিন একই সময়ে নির্দিষ্ট শব্দ শোনার অভ্যাসই শরীরকে গভীর বিশ্রামের দিকে ঠেলে দেয়। ওষুধ ছাড়াই সুস্থ ঘুমের স্বপ্নপূরণে তাই শব্দ হতে পারে আপনার নতুন সঙ্গী।

Monday, June 15, 2026

June 15, 2026

বাথরুমে মোবাইল নেওয়ার অভ্যাস ডেকে আনছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

সকালে ঘুম ভাঙতেই হাতে মোবাইল, তারপর সেটি নিয়ে বাথরুমে— এমন অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিডিও দেখা, সামাজিক মাধ্যম স্ক্রল করা কিংবা চ্যাট করতে করতে প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি সময় বাথরুমে কাটান অনেকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই আপাত নিরীহ অভ্যাস ডেকে আনছে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।
প্রথমত, বাথরুম ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর আঁতুড়ঘর। ফ্লাশ করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া অণুজীব সহজেই মোবাইলের গায়ে লেগে যায়। পরে সেই ফোন ব্যবহার, খাওয়ার সময় বা বিছানায় নেওয়ার মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, মোবাইল হাতে কমোডে বসে থাকার ফলে মলদ্বারের শিরায় দীর্ঘ সময় চাপ পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এ অভ্যাস পাইলস বা হেমোরয়েডের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি, শরীরের স্বাভাবিক সংকেত উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে ব্যাহত হয় মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, দীর্ঘমেয়াদে দেখা দিতে পারে মাংসপেশির সমস্যা। আবার অল্প সময়ের প্রয়োজনে বাথরুমে ঢুকে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে ২০-৩০ মিনিট কাটিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সময়ের অপচয় তো ঘটেই, সেই সঙ্গে মোবাইল ছাড়া থাকতে না পারা ডিজিটাল আসক্তির ইঙ্গিতও বহন করে। ভেজা হাতে ফোন ধরা বা চার্জিং ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো— বাথরুমে যাওয়ার আগে মোবাইল বাইরে রেখে যাওয়ার অভ্যাস গড়া, অপ্রয়োজনে বেশিক্ষণ কমোডে না বসা, নিয়মিত ফোন পরিষ্কার রাখা এবং ঘুম থেকে উঠেই ফোন না ধরে আগে দৈনন্দিন জরুরি কাজ সারা। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে না তুললে অতিরিক্ত ব্যবহার বিপদও ডেকে আনতে পারে।

Saturday, June 6, 2026

June 06, 2026

দীর্ঘ ১৮ বছরের গবেষণার ফল— চাচাতো-খালাতো বিয়ে বাড়াচ্ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

'ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকুক'— এমন ভাবনা থেকে চাচাতো, খালাতো বা মামাতো ভাইবোনের বিয়ে বহু সমাজে চালু থাকলেও দীর্ঘ এক গবেষণা বলছে, এর ফলে বাড়তে পারে পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত 'বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড' গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে ১৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, রক্তসম্পর্কযুক্ত বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে যেখানে এ ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে কাজিনদের বিয়ের সন্তানদের বেলায় তা বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, এসব শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া, ভাষাগত সমস্যা, বিকাশজনিত ঘাটতি এবং ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি।
গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক জন রাইট ও গবেষক নীল স্মল জানান, একই পরিবারের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিয়ে চলতে থাকলে কিছু ত্রুটিপূর্ণ জিন একত্রিত হয়, যা হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তারা বলছেন, আসল সমস্যা শুধু কাজিন ম্যারেজ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে একই গোষ্ঠীর ভেতরে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা। তাই বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে নরওয়ে ইতোমধ্যে চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে, সুইডেনও একই পথে হাঁটছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সচেতনতা ও শিক্ষাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
গবেষণার ইতিবাচক দিক হলো, কাজিন বিয়ের হার কমছে। ২০০০ সালের দিকে যেখানে এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ, বর্তমানে তা ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিয়ের আগে জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়াকেই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

Monday, June 1, 2026

June 01, 2026

ধূমপান ছাড়তে চান? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ৪টি কার্যকর উপায়

ধূমপান বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকরা বলছেন, তামাক ব্যবহারের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ ও নানা ধরনের ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালির সমস্যাও ধূমপানের কারণে বাড়ে।
তবে অভ্যাসটি ছাড়তে চাইলে জীবনযাপনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা জরুরি। হঠাৎ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে সিগারেটের মাত্রা কমানো অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের দেওয়া চারটি কার্যকর পরামর্শ হলো—
১. চকলেট ও চুইংগাম ব্যবহার
হঠাৎ ধূমপানের তীব্র আকাঙ্ক্ষা হলে চকলেট বা চুইংগাম খেলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং ইচ্ছাটা কিছুটা দমে আসে।
২. কিছু পানীয় এড়িয়ে চলা
অনেকের চা, কফি বা অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ধূমপানের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই এসব পানীয় কমালে বা এড়িয়ে চললে ধূমপানের তাড়নাও অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।
৩. মানসিক সহায়তা নেওয়া
ধূমপান ছাড়ার সময় মানসিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া, গ্রুপ থেরাপি বা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বেশ কাজে আসতে পারে।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ
প্রয়োজনে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা নন-নিকোটিন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, একবার ধূমপান ছেড়ে আবার শুরু করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই সিদ্ধান্তে অটল থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ইতিবাচক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখাই ধূমপানমুক্ত জীবনে ফেরার পথকে সহজ করে তোলে।
"
"