চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. শাহিনুর ইসলামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে দীর্ঘদিনের অভিযোগের সত্যতা মেলে বলে জানানো হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ ছিল। এর মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হলে একটি গোপন স্থানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে উদ্ধার করা এক হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ইউপি সদস্য শাহিনুর ইসলামকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তবে অভিযান চলাকালে কিছু ব্যক্তি মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি প্রশাসনের ওপর আক্রমণেরও চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ আর দেওয়া হবে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে নিজেদের লাভবান করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।
এই অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য কমে আসবে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে পুঁজি করে যারা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—অসাধু কর্মকাণ্ডের কোনো ছাড় নেই। ⛽🚨

No comments:
Post a Comment