বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, April 23, 2026

মহাবিশ্ব কেন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে—বিজ্ঞানীদের নতুন রহস্য

মহাবিশ্ব যে সম্প্রসারণশীল, তা বহুদিন ধরেই জানা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রসারণ নির্ধারিত গতির চেয়েও দ্রুত হচ্ছে—যা বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন এক ধাঁধা তৈরি করেছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের NSF NOIRLab এবং Space Telescope Science Institute-এর বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের প্রসারণের হার নির্ণয়ে সবচেয়ে নির্ভুল গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন। তাদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে Astronomy and Astrophysics সাময়িকীতে।
 কীভাবে মাপা হলো মহাবিশ্বের প্রসারণ?
বিজ্ঞানীরা মূলত দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন—
কাছাকাছি নক্ষত্র ও ছায়াপথের গতি পর্যবেক্ষণ
মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে তাত্ত্বিক পূর্বাভাস তৈরি
তাত্ত্বিকভাবে এই দুই পদ্ধতির ফল একই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রসারণের হার ≈ প্রতি সেকেন্ডে ৬৭–৬৮ কিমি
বাস্তব পর্যবেক্ষণে পাওয়া গেছে ≈ প্রতি সেকেন্ডে ৭৩.৫ কিমি
এই পার্থক্যটাই বিজ্ঞানীদের কাছে পরিচিত হাবল টেনশন নামে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সংখ্যার পার্থক্য ছোট মনে হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি বিশাল। কারণ, এটি আমাদের বর্তমান মহাবিশ্ব বোঝার মডেলকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কোনো পরিমাপগত ভুল নয়। অর্থাৎ সমস্যা আমাদের বোঝাপড়ার মধ্যেই আছে।
সম্ভাব্য কারণ কী?
বিজ্ঞানীরা কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলছেন—
ডার্ক এনার্জি-এর প্রভাব সঠিকভাবে বোঝা যায়নি
নতুন কোনো অজানা কণা বা শক্তি থাকতে পারে
মহাকর্ষের নিয়ম সম্পর্কে আমাদের ধারণা অসম্পূর্ণ হতে পারে
ডার্ক এনার্জি এমন এক রহস্যময় শক্তি, যা মহাবিশ্বের সবকিছুকে একে অপর থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই শক্তির ভূমিকা হয়তো আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।
গবেষণায় কী ব্যবহার করা হয়েছে?
এই গবেষণায় ৪০ জন বিজ্ঞানী একসঙ্গে কাজ করেছেন। তারা “লোকাল ডিস্ট্যান্স নেটওয়ার্ক” মডেল ব্যবহার করে—
রেড জায়ান্ট তারকা
সুপারনোভা বিস্ফোরণ
বিভিন্ন গ্যালাক্সির তথ্য
বিশ্লেষণ করেছেন।
বড় প্রশ্নটা কী?
বিজ্ঞানীরা আগে মনে করতেন, বিগ ব্যাং-এর পর সময়ের সাথে মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীরে ধীরে কমে আসবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উল্টোভাবে এর গতি বাড়ছে!
এই নতুন আবিষ্কার শুধু একটি পরিমাপের পার্থক্য নয়—এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের মৌলিক ধারণা হয়তো অসম্পূর্ণ।
বিজ্ঞানীদের জন্য এটি যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি নতুন আবিষ্কারের দরজাও খুলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো আমরা মহাবিশ্বের আরও গভীর রহস্য উন্মোচন করতে পারব।


 

No comments:

Post a Comment

"
"