বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, April 19, 2026

মিরসরাইয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পণ্ড গীতা পাঠ ও মহোৎসব, আহত বেশ কয়েকজন

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা-এর ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের গলাচিপা এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের আয়োজিত শ্রী শ্রী গীতা পাঠ ও মহোৎসব অনুষ্ঠান কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামারপাড়া এলাকায় আয়োজিত ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানে দুপুর পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। প্রায় ১২০০ মানুষের জন্য খাবারের আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে বিকেলের দিকে একই সম্প্রদায়ের মধ্যটিলা এলাকার কয়েকজন কিশোর অনুষ্ঠানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই পক্ষের সমাজপতিরা বিকেলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে ঘটনাটি সাময়িকভাবে থেমে যায়। কিন্তু পরে খামারপাড়া সমাজের সরদার সেকান্ত ত্রিপুরা ও তার সহযোগীরা মধ্যটিলা সমাজের সরদার নিকেন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে কথা বলতে গেলে ফের সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে খামারপাড়া এলাকার রুপ কুমার ত্রিপুরা (২৬), পঞ্চ কুমার ত্রিপুরা (৩২), রিফন ত্রিপুরা (২৫), সহেল ত্রিপুরা (২২), আলোমতি ত্রিপুরা (৩৫) এবং মধ্যটিলা এলাকার পুকতি ত্রিপুরা (৪৮)সহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
খামারপাড়া সমাজের সরদার সেকান্ত ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, মধ্যটিলা এলাকার কিছু কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে এসে উশৃঙ্খল আচরণ করে এবং নারী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
অন্যদিকে, মধ্যটিলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বৈশ্য কুমার ত্রিপুরা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। অভিযুক্ত কিশোররা আগেও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তিনি জানান। বিষয়টি প্রথমে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

 

No comments:

Post a Comment

"
"