বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, April 30, 2026

এসি কি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়? জেনে নিন আসল কারণ ❄️🧊

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে এখন এসি বা এয়ার কন্ডিশনার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাসা, অফিস—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় এসির ঠান্ডায় থাকা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এভাবে সারাদিন এসিতে থাকা কি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে পরোক্ষভাবে এটি এমন কিছু অভ্যাস তৈরি করে, যা পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রথমত, এসির ঠান্ডা পরিবেশে শরীর কম ঘামে এবং তৃষ্ণাও তুলনামূলক কম লাগে। ফলে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। এই পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ।
দ্বিতীয়ত, শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। তখন প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ জমে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথর তৈরি করতে পারে।
তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে, যা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।
তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার পানি খাওয়া ভালো।
এসির তাপমাত্রা খুব কম না রেখে ২৫–২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন।
একটানা দীর্ঘ সময় এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকুন।
খাদ্যতালিকায় লবণ কমিয়ে আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এসি নিজে কিডনির জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং এসিতে থাকার সময় অসচেতন জীবনযাপন—বিশেষ করে কম পানি পান—কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসির আরাম নিন, তবে শরীরের পানি ও স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।

 

No comments:

Post a Comment

"
"