বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, May 2, 2026

৬০ সেকেন্ডের রহস্য: প্রাচীন ব্যাবিলন থেকে আধুনিক সময় গণনার গল্প

ঘড়ির কাঁটার এই পরিচিত হিসাব—৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা—আসলে মানব সভ্যতার হাজার বছরের পুরোনো এক বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকার। এর সূচনা হয়েছিল প্রাচীন Babylon-এ, যা বর্তমান Iraq-এর টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
প্রায় ২৫০০ থেকে ৪০০০ বছর আগে, ব্যাবিলনীয়রা শুধু সময় গণনাই করেনি, তারা গড়ে তুলেছিল বিজ্ঞানের প্রাথমিক কাঠামো। তখন কোনো ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার ছিল না—বিশাল আকাশই ছিল তাদের সময় মাপার যন্ত্র। চাঁদের পরিবর্তন দেখে মাস, সূর্যের গতিপথ দেখে বছর নির্ধারণ করত তারা।
কিন্তু তাদের আগ্রহ এখানেই থেমে থাকেনি। আকাশের অদ্ভুত আচরণ—গ্রহের হঠাৎ গতি পরিবর্তন (যাকে আজ আমরা Retrograde Motion বলি), কিংবা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ—এসব তাদের কৌতূহলী করে তোলে। তারা বিশ্বাস করত, এসব মহাজাগতিক ঘটনা পৃথিবীর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো সংরক্ষণের জন্য তারা কিউনিফর্ম লিপিতে কাদা ফলকে তথ্য লিখে রাখত। তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ Enuma Anu Enlil এবং Mul.Apin-এ আকাশ পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা টানা প্রায় ৭০০ বছর ধরে আকাশের গতিবিধি, আবহাওয়া, এমনকি শস্যের দাম পর্যন্ত নথিভুক্ত করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে তারা গাণিতিক হিসাব ব্যবহার করে ভবিষ্যতের গ্রহণ বা গ্রহের অবস্থান নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারত।
এখানেই আসে তাদের সবচেয়ে বড় অবদান—৬০-ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি। আমরা আজ যেভাবে সময় ভাগ করি, সেটি এই পদ্ধতিরই ফল। কেন ৬০? কারণ ৬০ একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক সংখ্যা—এটি ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি অনেক সংখ্যায় ভাগ করা যায়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণনায় সহজতা এনে দেয়।
পরবর্তীতে গ্রিক জ্যোতির্বিদরা এই জ্ঞান ব্যবহার করে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলেন। এমনকি আজকের NASA-এর গ্রহণ সংক্রান্ত হিসাবেও সেই প্রাচীন ব্যাবিলনীয় জ্ঞানের ছাপ পাওয়া যায়।
সংক্ষেপে বললে, আমাদের প্রতিদিনের ঘড়ির সময় শুধু একটি অভ্যাস নয়—এটি হাজার বছরের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, গণিত এবং মানব মেধার এক অনন্য উত্তরাধিকার।

No comments:

Post a Comment

"
"