বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, May 1, 2026

হঠাৎ বৃষ্টি ও ঢলে ডুবছে বোরো ধান, দিশেহারা দেশের কৃষকরা

হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। এক রাতের ব্যবধানে সোনালি ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় অনেক কৃষক তাদের বছরের একমাত্র ভরসা হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার হাওরাঞ্চলে এখন একই চিত্র—চারদিকে শুধু পানি আর ডুবে থাকা ধানক্ষেত। অনেক কৃষক বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে উৎপাদিত ধানের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ পানি না নামা পর্যন্ত ধান কাটা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে ধানের উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক জায়গায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান্ত্রিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভেজা ধান দ্রুত শুকানো যায়।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে শ্রমিক সংকট, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপযোগী পরিবেশ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে। অনেক জায়গায় হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ধান কাটার কাজ ধীরগতিতে চলছে।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুমিল্লা, দিনাজপুর, বরিশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান, ভুট্টা, সবজি ও ফলসহ বিভিন্ন ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় কেটে রাখা ধান পানিতে ভেসে গেছে এবং পাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে।
কৃষকরা বলছেন, সার ও জ্বালানির বাড়তি খরচের কারণে এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তার ওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের পুরোপুরি পথে বসানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অনেকেই সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করে প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো ধান দেশের মোট চাল উৎপাদনের বড় একটি অংশ যোগান দেয়। তাই এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু কৃষকদের নয়, সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের কৃষি খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময়োপযোগী উদ্যোগই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

No comments:

Post a Comment

"
"