সপ্তমী শেষে আজ মহাঅষ্টমী
দুর্গাপূজার মহাষ্টমী তিথি মহামায়ার খুব প্রিয় তিথি। আদিশক্তি মহামায়ার প্রথম পুজো করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। সে দিন ছিল বাসন্তী শুক্লা অষ্টমী। ত্রেতাযুগে ভগবান বিষ্ণু রামচন্দ্ররূপে জন্ম নিয়েছিলেন বাসন্তী শুক্লা অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে। আবার তিনিই কৃষ্ণ রূপে জন্ম নিলেন ভাদ্র মাসের অষ্টমীতে।
অষ্টমী তিথি হলো অসুরবিনাশী শুদ্ধসত্তার আবির্ভাব তিথি। অষ্টমী তিথিতে দেবী মহালক্ষ্মীরূপা বৈষ্ণবী শক্তি। দেবীর সেদিন রাজরাজেশ্বরী মূর্তি। দু’হাতে বর দেন ভক্তদের। শ্রেষ্ঠ উপাচার সেদিন নিবেদিত হয়। পদ্ম, জবা, অপরাজিতা, বেলপাতা— কত রকমের ফুলমালায় দেবীকে সাজানো হয়। অষ্টমীপুজো হল দুর্গোৎসবের পাঁচটি দিনের মধ্যমণি। আবার ওই একটি দিনেই সংহত হয়ে রয়েছে পাঁচ দিনের পুজোর নির্যাস। অষ্টমীতে পুজোর বাহুল্য বেশি। এদিন ৬৪ যোগিনী, কোটি যোগিনী, নবদুর্গা প্রমুখের আরাধনা হয়ে থাকে। এদিন ভক্তেরা দেবীকে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন— "নমস্যামি জগদ্ধাত্রি ত্বামহং বিশ্বভাবিনি"।
উৎসবে মাতোয়ারা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। হিন্দু সম্প্রদায়ের জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সবার গন্তব্য পূজামন্ডপ। নেই কোন ভেদাভেদ। সবাই আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন শারদীয় দুর্গো পূজার। তবে করোনা ভাইরাসের কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে পুজার আচার অনুষ্ঠান। প্রতিটি মন্দিরে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের মাক্স পড়া বাধ্যতামূলক করে ও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলছে মায়ের দর্শন।
অষ্টমীর পুজো সকাল ৭.০৭ মিনিটে শুরু হয়ে সকাল ৯.২৮ মিনিট পর্যন্ত চলবে। বীরাষ্টমী ব্রত সাঙ্গ করতে হবে সকাল ৯.২৮ মিনিটের মধ্যে। সন্ধি পুজো শুরু হবে সকালে ১১টায়, চলবে ১১.৪৮ মিনিট পর্যন্ত। মহাঅষ্টমীতে সূর্যোদয় সকাল ৫.৪২ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধে ৫.০২ মিনিটে। পূর্বাহ্ণ চলবে সকাল ৯.২৮ মিনিট পর্যন্ত। আগের দিন সকাল ১১.৫৭ মিনিটে পড়বে মহাঅষ্টমী এবং তা ছেড়ে যাবে সেদিন সকাল ১১.২৪ মিনিটে।

No comments:
Post a Comment