মহাবিশ্ব অসীম কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ বর্তমান বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুযায়ী আমরা এখনো পুরো মহাবিশ্ব নয়, বরং এর একটি সীমিত অংশই পর্যবেক্ষণ করতে পারি।
বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে জানেন, মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এই ধারণাটি এসেছে বিগ ব্যাং তত্ত্ব থেকে, যেখানে বলা হয় প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব অত্যন্ত ঘন ও উষ্ণ অবস্থা থেকে প্রসারিত হতে শুরু করে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মহাবিশ্ব কোনো কিছুর ‘ভেতরে’ প্রসারিত হচ্ছে না। বরং স্থান (space) নিজেই প্রসারিত হচ্ছে। এই ধারণাটি বোঝাতে বিজ্ঞানীরা প্রায়ই বেলুন বা কিশমিশ দেওয়া পাউরুটির উদাহরণ ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তব মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে এই উদাহরণগুলো সীমিত, কারণ বেলুনের মতো কোনো বাইরের সীমানা বা কেন্দ্র মহাবিশ্বের নেই।
বর্তমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আমরা শুধু Observable Universe বা পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব পর্যন্তই দেখতে পাই। এর বাইরে কী আছে, তা সরাসরি জানা সম্ভব নয়, কারণ আলোও এখনো সেই দূরত্ব অতিক্রম করে আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
তাহলে মহাবিশ্বের কেন্দ্র কোথায়?
বিজ্ঞানের ভাষায়, মহাবিশ্বের কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র নেই। আপনি যেখানেই দাঁড়ান না কেন, মনে হবে সবকিছু আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি স্থানই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে ‘কেন্দ্র’ মনে হতে পারে।
আর সীমানা?
বর্তমান তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের কোনো প্রান্ত বা দেয়াল নেই। এটি হয়তো অসীম, অথবা এমনভাবে বক্র (curved) যে নিজেই নিজের মধ্যে আবদ্ধ—যেমন একটি গোলকের পৃষ্ঠে আপনি ঘুরে আবার একই জায়গায় ফিরতে পারেন, কিন্তু কোনো প্রান্ত খুঁজে পাবেন না।
সুতরাং, মহাবিশ্ব অসীম কি না—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: মহাবিশ্বের প্রসারণ, কেন্দ্র ও সীমানা—এই ধারণাগুলো আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং ভিন্ন।

No comments:
Post a Comment