বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, April 21, 2026

৩০০ বছরের জোড়া শিবমন্দির ধ্বংসের মুখে, দ্রুত সংরক্ষণের দাবি

 

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জোড়া শিবমন্দির এখন ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন দ্রুত সংরক্ষণ না করা হলে একসময় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মন্দিরের গায়ে থাকা নামফলক অনুযায়ী, ১১০৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই জোড়া শিবমন্দির দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে এখানে শিব পূজা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। তবে অবহেলা ও সময়ের ক্ষয়ে মন্দিরটির অবকাঠামো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দিরের দেয়ালে নোনা ধরায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন নকশার দরজাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। গম্বুজে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আর ছাদের ফাঁকে জন্মানো বটগাছ ও তার শেকড় পুরো কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা দুটি শিবলিঙ্গও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর চক্রবর্তী ও অরবিন্দু দাসসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় মন্দিরটির এই করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় ভক্তরা নিজেদের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে রং করার কাজ করলেও বড় ধরনের সংস্কার তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, “এখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয় এবং প্রতিদিন ভক্তরা আসেন। কিন্তু মন্দিরের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। এখনই সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে এটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফকিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় থাকা প্রাচীন স্থাপনাগুলোকে দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, “মন্দিরটির বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
সবমিলিয়ে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

No comments:

Post a Comment

"
"