নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় পুকুর খনন করতে গিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের রাধাকৃষ্ণ মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাফাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এই মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলামের একটি পুরনো পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছিল। এ সময় শ্রমিকরা মাটির গভীরে খনন করতে গিয়ে হঠাৎ কালো রঙের একটি পাথরের মূর্তির সন্ধান পান।
মূর্তিটি পাওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তিটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
উদ্ধারকৃত মূর্তিটির ওজন প্রায় ৭ কেজি ৭০০ গ্রাম বলে জানা গেছে। এটি কষ্টিপাথরের তৈরি রাধাকৃষ্ণের প্রতিকৃতি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্থানীয়রা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর গঠন, কারুকাজ এবং উপাদান দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি বেশ প্রাচীন এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মূর্তিটি অত্যন্ত মূল্যবান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উদ্ধার করার পর সেটি নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূর্তিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মূর্তিটির প্রকৃত বয়স, ইতিহাস ও আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, মূর্তিটি কোনো প্রাচীন মন্দির বা বসতির অংশ হতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। এ ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধারের মাধ্যমে এলাকার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে মূর্তিটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায় এবং কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা পাচার ঠেকানো সম্ভব হয়।

No comments:
Post a Comment