আফগান ভূমি—যে ভূমি আজ বহু ঝঞ্ঝা-ঝাপটার ইতিহাস বহন করছে—একসময় ছিল ধর্ম, সাধনা ও সংস্কৃতির এক পবিত্র মিলনক্ষেত্র। সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের এক মূক সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে Tapa Sardar-এর নিদর্শনসমূহ, যেখানে এক বিস্ময়কর আবিষ্কার আমাদের সনাতন ধারার গৌরবকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
Ghazni-র নিকটবর্তী এই প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার থেকে উদ্ধার হওয়া এক ভাস্কর্যের অংশ—দেবী Durga-র শিরমণ্ডল—শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, এটি শক্তির আরাধনার এক অনন্ত প্রতীক। মহিষাসুরমর্দিনী রূপে মা দুর্গা, যিনি অধর্ম ও অশুভ শক্তির বিনাশিনী, তাঁর এই রূপ এখানে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
১৯৬৪ সালে ইতালীয় প্রত্নতাত্ত্বিক Giuseppe Tucci-এর নেতৃত্বে পরিচালিত খননকার্যে এই পবিত্র নিদর্শনের সন্ধান মেলে। চুন-সুরকির মিশ্রণে নির্মিত এই ভাস্কর্য, সময়ের নিরিখে চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর সৃষ্টি বলে অনুমিত—যে সময় ভারতীয় উপমহাদেশ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ধর্মীয় সাধনা ও শিল্পকলার এক স্বর্ণযুগ প্রবাহিত হচ্ছিল।
মূর্তিটির কপালে খচিত ত্রিনয়ন যেন প্রকাশ করে দেবী শক্তির সর্বজ্ঞ দৃষ্টি—যা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একসূত্রে ধারণ করে। এর শৈলীতে Gandhara art-এর প্রভাব স্পষ্ট, যেখানে গ্রিক শিল্পরীতি ও ভারতীয় ভাবধারার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই শিল্পধারা শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং এক গভীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আদান-প্রদানের প্রতীক।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—একটি বৌদ্ধ বিহারের অন্তঃস্থলে এই দেবী মূর্তির উপস্থিতি। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সেই প্রাচীন কালে ধর্ম কোনো বিভেদের প্রাচীর ছিল না; বরং ছিল সহাবস্থানের এক সুরেলা সেতুবন্ধন। বৌদ্ধ ও সনাতন—দুটি ধারাই একই ভূমিতে, একই আকাশের নিচে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছিল।
বর্তমানে এই অমূল্য নিদর্শনটি National Museum of Afghanistan-এ সংরক্ষিত রয়েছে। বহু প্রতিকূলতার মাঝেও এটি আজও বহন করছে সনাতন ধর্মের শাশ্বত শক্তি ও গৌরবের বার্তা।
এই ভাস্কর্য যেন নীরবে বলে যায়—ধর্ম কেবল আচার নয়, এটি চিরন্তন চেতনা; আর সেই চেতনা কখনো বিনষ্ট হয় না। যুগে যুগে, দেশে দেশে, নানা রূপে তা প্রকাশিত হয়—ঠিক যেমন তপা সর্দারের এই পবিত্র আবিষ্কার আমাদের সামনে আবারও সেই শাশ্বত সত্যকে উদ্ভাসিত করে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment