দীর্ঘ এক বছর ধরে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা বন্ধ ছিল তরুণ শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার তনুর। তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আগামী মাস থেকে আবারও পড়াশোনায় ফিরতে চান তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন পরিবার ও স্বজনরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংখ্যালঘু প্রতিনিধি হিসেবেও পরিচিত তন্ময় জানান, গত দেড় বছরে তিনি একের পর এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে দুইবার প্রায় দুই লিটার পানি বের করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আবারও সেখানে পানি জমছে।
বর্তমানে তিনি যক্ষ্মা (টিবি) রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি। প্রায়ই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর ওঠে। দীর্ঘদিনের অ্যাজমার কারণে শ্বাসকষ্টও এখন অনেক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি দুইবার রক্তকাশির ঘটনাও ঘটেছে।
তন্ময়ের ভাষায়, “অনেক সময় কাশির কারণে নিজেকে সামলে রাখাও কঠিন হয়ে যায়।”
শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, মানসিকভাবেও কঠিন সময় পার করছেন তিনি। গত দেড় বছরে স্ট্রোক, এনজাইটি ডিসঅর্ডার, প্যানিক ডিসঅর্ডার এবং তীব্র মাইগ্রেনের মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ক্রমাগত ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা এবং স্বাভাবিকভাবে খেতে না পারাও তাকে ভোগাচ্ছে।
তন্ময় বলেন, “আমি জানি না সামনে আরও কী পরিস্থিতি আসবে। শুধু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন ধৈর্য ধরে সবকিছু মোকাবিলা করতে পারি। শারীরিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছি, কিন্তু মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছি। এক বছর পর আবার পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ পেয়েছি, এবার আর পিছিয়ে যেতে চাই না।”
তার এই সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment