বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Showing posts with label প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label প্রযুক্তি. Show all posts

Sunday, July 26, 2026

July 26, 2026

বিনামূল্যে ফেসবুক আইডি ভেরিফাই করার সুযোগ পাবেন যারা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ভুয়া প্রোফাইল ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি সহজ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে মেটা। ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের পরিচয় যাচাই করে একটি বিশেষ ব্যাজ পেতে পারবেন।

মেটা জানিয়েছে, এই ফিচারে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি প্রযোজ্য নয়। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেস, ডেটিং বা গ্রুপের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত কারও সঙ্গে লেনদেন বা যোগাযোগের সময় এই ব্যাজটি প্রোফাইলের সত্যতা নিশ্চিত করবে, যা প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কীভাবে পাবেন এই ব্যাজ?

ব্যবহারকারীকে একটি ছোট সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ফেসবুকের সিস্টেম সেটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হবে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস মেনে চলতে হবে। প্রতারণা, জালিয়াতি বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়—এমন অ্যাকাউন্টই এই ভেরিফিকেশনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

কোথায় দেখা যাবে এই ব্যাজ?

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি প্রথম পর্যায়ে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিং, ফেসবুক গ্রুপস এবং ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে প্রদর্শিত হবে। ভবিষ্যতে ফেসবুক ফিডের পোস্টেও এটি দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।

মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ ব্যবহারকারীকে ‘বিখ্যাত’ নয়, বরং ‘প্রকৃত ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা ভুয়া আইডি চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। নির্বাচিত কয়েকটি দেশে ধাপে ধাপে ফিচারটি চালু করা হচ্ছে এবং পরে তা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল বিশ্বে প্রতারণা ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও প্রক্রিয়ার কার্যকারিতার ওপর।


 

Thursday, June 25, 2026

June 25, 2026

যে অ্যাপের ফাঁদে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হতে পারে, আপনি হতে পারেন নিঃস্ব

অনেকেই আছেন যারা শুধু গুগল প্লে স্টোরে নির্ভর না করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করেন। আর এই অভ্যাসকেই পুঁজি করে সাইবার অপরাধীরা এখন ছড়াচ্ছে ‘রকারোলা’ (Rockarola) নামের ভয়ংকর এক ব্যাংকিং ট্রোজান ম্যালওয়্যার। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের প্রতিবেদন বলছে, ভুয়া গুগল ক্রোম ও টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে ছড়ানো এই ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে কেবল অর্থই নয়, চুরি করতে পারে ক্রিপ্টোকারেন্সিও।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘জিম্পেরিয়াম’-এর তথ্যানুযায়ী, প্রতারকেরা বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটকের অ্যাপ ডাউনলোড করতে উৎসাহিত করে। ডাউনলোডের সময় দেখানো হয় ‘গুগল প্লে প্রোটেক্ট’-এর মতো দেখতে একটি নকল সতর্কবার্তা। সেটিকে আসল মনে করেই অনেকে ‘Allow’ বা অনুমতি দিয়ে বসেন, আর তাতেই ফোনে ঢুকে পড়ে এই ম্যালওয়্যার।
একবার সক্রিয় হলে এটি ২১৭টি আর্থিক অ্যাপের হুবহু নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারী নির্বোধের মতো ব্যাংক আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলেই তা চলে যায় হ্যাকারদের কাছে। শুধু তাই নয়, ম্যালওয়্যারটি কনট্যাক্ট লিস্ট চুরি, ফোনের কি-বোর্ডে টাইপ করা তথ্য রেকর্ড করা (কী-লগার), এমনকি ব্যাংক থেকে আসা জরুরি সতর্কবার্তামূলক কলও ব্লক করে দিতে সক্ষম। ফলে অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে গেলেও টের পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সফটওয়্যার ইনস্টলের জন্য একমাত্র ভরসা হোক গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোরের মতো অফিসিয়াল স্টোর। অপরিচিত সাইট থেকে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফোনে ‘প্লে প্রোটেক্ট’ অপশনটি চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো সন্দেহজনক পপ-আপ দেখলেই যাচাই-বাছাই ছাড়া ক্লিক করা যাবে না। বাড়তি সুরক্ষায় নির্ভরযোগ্য একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সময় সামান্য অস্বাভাবিকতা বা অসতর্কতাই ডুবিয়ে দিতে পারে জীবনের জমানো সব সঞ্চয়। 

Wednesday, June 24, 2026

June 24, 2026

কী নতুন ফিচার আনলো চ্যাটজিপিটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি এবার শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকলো না, বরং ব্যক্তিগত সহকারীর মতো করেও কাজ করবে। ব্যবহারকারীদের ভুলে যাওয়া জরুরি কাজ ও সময়সূচির কথা মনে করিয়ে দিতে সম্প্রতি ‘শিডিউল’ নামের নতুন ফিচার যোগ করেছে ওপেনএআই।
এই ফিচারের মাধ্যমে এখন ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটিকে নির্দিষ্ট সময় বা নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারবেন। নির্ধারিত কোনো টাস্ক পরবর্তীতে সম্পাদনা, সাময়িক বন্ধ বা প্রয়োজনে পুরোপুরি বাতিলও করা যাবে। শুধু রিমাইন্ডার নয়, আগ্রহের বিষয়ে নতুন তথ্য, কোনো পণ্যের হালনাগাদ বা চলমান ইভেন্টের অগ্রগতির খবরও ব্যবহারকারীকে নিজে থেকেই জানাবে চ্যাটজিপিটি।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এই সুবিধার আওতায় চ্যাটবটটির ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপের সাইডবারে যুক্ত হয়েছে বিশেষ ‘শিডিউল’ পেজ। এখান থেকেই নতুন টাস্ক তৈরি, সক্রিয় কাজ পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা যাবে। এছাড়া চ্যাটের সময়ও সরাসরি কোনো টাস্ক নির্দিষ্ট সময়ে করার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকরী করতে ব্রাউজার ও ডিভাইসে নোটিফিকেশন সচল রাখতে হবে। নির্ধারিত মুহূর্তে ব্যবহারকারীর অ্যাপ না খুললেও প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেবে চ্যাটজিপিটি। প্রাথমিকভাবে নতুন এই ‘শিডিউল’ সুবিধাটি প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে ওপেনএআই। চ্যাটবটকে ব্যক্তিগত ডিজিটাল সহকারী হিসেবে গড়ে তোলার পথে এটি বড় এক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

Monday, June 22, 2026

June 22, 2026

AI যেভাবে বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার

সিউল থেকে: দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি প্রযুক্তি গবেষণাগারে কর্মরত অবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নীরব বিপ্লব খুব কাছ থেকে দেখছি। এখানে এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি অর্থনীতি, শিক্ষা ও জনসেবার প্রধান চালিকাশক্তি। দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে অফিসের কাজ— সবখানেই এআই গতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও প্রথাগত অনেক চাকরির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে চাইলে ডিগ্রির পাশাপাশি এআইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে দক্ষ করে তোলার বিকল্প নেই।
সিউলের রাস্তায় বের হলেই বোঝা যায় প্রযুক্তি কতটা জীবনে মিশে গেছে। ফোনে আগেভাগেই জানা যায় কোন বাস কত মিনিটে আসবে, কতটা ভিড় হবে, গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে কতটুকু। ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং— সবখানেই এআই যেন গ্রাহকের মনের কথা পড়তে পারে। অফিসে এখন নীরবে ঢুকে পড়েছে এক নতুন সহকর্মী, যার কোনো বেতন-ভাতা নেই, ছুটিও লাগে না। তার নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগে যে খসড়া, ই-মেইলের জবাব বা কোড তৈরি করতে তিনজনের এক বিকেল লাগত, এখন এআইয়ের সহায়তায় তা একাই গুছিয়ে নিচ্ছেন একজন কর্মী, সময় লাগছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরির বাজারে ২২ শতাংশ বড় পরিবর্তন আসবে; প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত বা রূপান্তরিত হতে পারে, তবে নতুন করে ১৭ কোটি কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৩৯ শতাংশ চাকরির দক্ষতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আইএমএফ বলছে, বিশ্বের ৪০ শতাংশ চাকরিতে এআইয়ের প্রভাব পড়বে। লিঙ্কডইনের জরিপ বলছে, ৭৫ শতাংশ কর্মী ইতোমধ্যে কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন, আর ৬৬ শতাংশ নিয়োগকর্তা এখন এআই দক্ষতাকে চাকরির পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন আরও বেশি সংবেদনশীল। বছরে প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে ঢুকলেও বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্ব প্রায় ১৪ শতাংশ। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে টেমপ্লেট-নির্ভর সাধারণ কাজে মূল্য কমে যাবে, তবে বাংলা ভাষার লোকালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্লায়েন্ট সমস্যা বোঝার মতো কাজে নতুন দ্বার খুলবে। শিক্ষা ও প্রশাসনিক চাকরিতেও একই দ্বৈততা দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি দক্ষতা কেবল এআই টুল চালানো নয়, বরং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, তথ্য যাচাই, যোগাযোগ, নৈতিক বোধ এবং নিজের কাজের গভীর জ্ঞান। মাইক্রোসফটের গবেষণাও বলছে, এআই-যুগে মান নিয়ন্ত্রণ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উচ্চশিক্ষায় এআইয়ের নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে এআই ব্যবহার ও জালিয়াতি শনাক্তে কাজ করছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল অবকাঠামো, উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বৈষম্য দূর করা। জাতীয় বাংলা ভাষা মডেল গড়ার প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চেয়ে জরুরি শিক্ষক, ব্যাংকার, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মী ও তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত পুনঃদক্ষতাকরণ।
সামনের দিনের প্রতিযোগিতা হবে মানুষ বনাম মেশিন নয়; এআই-সচেতন মানুষ বনাম এআই-অসচেতন মানুষের মধ্যে। ভয় নয়, প্রস্তুতিই হবে টিকে থাকার একমাত্র পথ। বাংলাদেশের সামনে এখন কাজ— দ্রুত দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা জোরদার করা, বাংলাভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়া এবং কার্যকর নীতিমালা তৈরি। নইলে এআই আমাদের জন্য সুযোগের চেয়ে বৈষম্যের যন্ত্রই হয়ে উঠবে।

Thursday, May 7, 2026

May 07, 2026

এক ক্লিকেই খালি হতে পারে মোবাইল ব্যালেন্স! নতুন ‘এসএমএস পাম্পিং’ প্রতারণা নিয়ে সতর্কবার্তা

সাইবার অপরাধীরা এখন এমন এক নতুন কৌশল ব্যবহার করছে, যেখানে আপনার ফোনে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করারও প্রয়োজন হয় না, পাসওয়ার্ড চুরি করতে হয় না, এমনকি অ্যাকাউন্ট হ্যাকও করতে হয় না। মাত্র একটি ভুল ক্লিকের মাধ্যমেই আপনার মোবাইল থেকে আন্তর্জাতিক নম্বরে একের পর এক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে, আর সেই বিল গুনতে হচ্ছে ব্যবহারকারীকেই। এই প্রতারণার নাম ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের সাইবার প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক কারণ অনেকেই বুঝতেই পারেন না কখন তাদের ফোন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠানো হয়েছে।
কী এই ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’?
ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় “আপনি কি রোবট?” ধরনের যাচাইকরণ পেজ বা ক্যাপচার মুখোমুখি হয়েছেন। আগে যেখানে বিকৃত লেখা টাইপ করতে হতো, এখন সেখানে ছবি নির্বাচন বা ছোটখাটো যাচাই প্রক্রিয়া দেখা যায়। সাইবার অপরাধীরা এখন এই পরিচিত ব্যবস্থাকেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিকফিক্স’ নামে পরিচিত একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে ভুয়া ক্যাপচা পেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পেজ দেখতে অনেকটাই আসল ওয়েবসাইটের মতো হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ব্যবহারকারীদের সেখানে একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়, যা মূলত তাদের ফোনের এসএমএস অ্যাপ খুলে দেয়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এসএমএস পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর ও বার্তা আগে থেকেই সেট করা থাকে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই আন্তর্জাতিক নম্বরে মেসেজ চলে যায়।
কীভাবে কাজ করে এই প্রতারণা?
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত ভুয়া বিজ্ঞাপন, নকল ওয়েবসাইট অথবা পরিচিত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের নামের কাছাকাছি ডোমেইন ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। অনেক সময় ওয়েবসাইটের ঠিকানায় খুব সামান্য বানান পরিবর্তন থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না।
একবার ব্যবহারকারী সেখানে প্রবেশ করলে তাকে “ভেরিফিকেশন” বা “সিকিউরিটি চেক” সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এরপর একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়, যা সরাসরি মোবাইলের মেসেজ অ্যাপ খুলে দেয়।
এই আক্রমণের কৌশল আরও জটিল কারণ এটি একটিমাত্র নম্বরে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং একাধিক ধাপে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়। এসব দেশের মধ্যে আজারবাইজান, মিয়ানমার, মিশরসহ এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে এসএমএস চার্জ তুলনামূলক বেশি।
কেন এই প্রতারণা লাভজনক?
এই কৌশলকে বলা হয় “ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ শেয়ার ফ্রড”। সহজভাবে বলতে গেলে, নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নম্বরে বেশি পরিমাণ এসএমএস পাঠিয়ে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করা হয়। ওই আয়ের একটি অংশ অপরাধীদের কাছে ফিরে যায়।
ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মোবাইল ব্যালেন্স বা বিল থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ ডলার বা তারও বেশি অর্থ কেটে যেতে পারে।
কেন বিষয়টি ভয়ংকর?
এই প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এখানে প্রচলিত অর্থে “হ্যাকিং” হয় না। ফোনে ভাইরাস ঢোকে না, অ্যাকাউন্টও হ্যাক হয় না। তাই অনেক অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এটিকে শনাক্ত করতে পারে না।
ব্যবহারকারী নিজেই অজান্তে এসএমএস পাঠানোর অনুমতি দিয়ে ফেলেন। আর সেই সুযোগেই পুরো প্রতারণা সম্পন্ন হয়।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন 
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
নিজেকে মানুষ প্রমাণ করতে কখনও এসএমএস পাঠাবেন না
আসল ক্যাপচা কখনও মেসেজ অ্যাপ খুলতে বলে না
অচেনা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন
ওয়েবসাইটের ডোমেইন ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন
হঠাৎ করে এসএমএস অ্যাপ খুলে গেলে সতর্ক হোন
মোবাইল বিল বা ব্যালেন্স নিয়মিত পরীক্ষা করুন
অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক এসএমএস সুবিধা বন্ধ রাখতে পারেন
অসতর্কতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা
বাস্তবে মানুষ ব্যস্ততা বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেক সময় না ভেবেই “ভেরিফাই”, “কন্টিনিউ” বা “আই অ্যাম নট এ রোবট” বাটনে ক্লিক করে ফেলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারণার ফাঁদ।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, প্রতারণার কৌশলও তত সূক্ষ্ম হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নয়, ব্যবহারকারীর সচেতনতাও এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।

 

Wednesday, May 6, 2026

May 06, 2026

ফেসবুকে পোস্ট শেয়ারে অদ্ভুত বার্তা: ব্যবহারকারীদের অভিযোগে পরীক্ষামূলক ফিচার বন্ধ করল মেটা

সম্প্রতি Facebook-এ একটি অস্বাভাবিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক ব্যবহারকারী। অন্যদের করা পোস্ট শেয়ার করার সময়, কোনো ধরনের মন্তব্য না লিখলেও শেয়ার করার পর সেখানে অপ্রত্যাশিত কিছু বাক্য যুক্ত হয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দিক থেকে।
ব্যবহারকারীদের দাবি, তারা যখন কোনো পোস্ট সরাসরি শেয়ার করেন, তখন প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে সেখানে কিছু নতুন লেখা যোগ হয়েছে। এসব লেখার বেশিরভাগই ‘জেন জেড’ প্রজন্মের কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং, যেমন—‘ম্যাসিভ ডব্লিউ’, ‘ভিউজ আর ফায়ার’ কিংবা ‘দ্যাট ডিজাইন ইজ সো কুকড’। অনেক ক্ষেত্রে এসব বাক্যের সঙ্গে মূল পোস্টের বিষয়বস্তুর কোনো সম্পর্কই থাকে না।
এই সমস্যাটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যারা এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মন্তব্য যোগ করেননি। ফলে এই অতিরিক্ত লেখাগুলো তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে, বিশেষ করে যারা এই ধরনের ভাষার সঙ্গে পরিচিত নন বা ব্যবহার করেন না।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যেসব ব্যবহারকারী পোস্ট শেয়ার করার সময় কোনো ক্যাপশন বা মন্তব্য যোগ করেন না, তাদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা স্বয়ংক্রিয় ফিচারের অংশ।
এ বিষয়ে Meta-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি আসলে একটি পরীক্ষামূলক ফিচারের অংশ ছিল। ফেসবুকে রিশেয়ার করা পোস্টের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা ক্যাপশন দেখানোর একটি ছোট পরিসরের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তবে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় সেই পরীক্ষা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মেটা আরও জানিয়েছে, বর্তমানে এই ফিচারটি আর সক্রিয় নেই। তবে যদি কোনো ব্যবহারকারীর পোস্টে এখনও এমন অপ্রত্যাশিত লেখা দেখা যায়, তাহলে সেটি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলা সম্ভব। অর্থাৎ পোস্ট শেয়ার করার পর নিজের প্রোফাইল একবার দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো লেখা থাকলে তা দ্রুত সরানো যায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে প্রায়ই নতুন ফিচার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। তবে সব ফিচার যে ব্যবহারকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, তা নয়। এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবারও প্রমাণিত হলো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ফিচার চালু করার আগে ব্যবহারকারীদের মতামত কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ ব্যক্তিগত পোস্ট বা শেয়ারে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু যুক্ত হওয়া ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
সবশেষে বলা যায়, আপাতত সমস্যাটি সমাধান হয়েছে বলে জানালেও ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকা জরুরি। কোনো পোস্ট শেয়ার করার পর সেটি একবার যাচাই করে নেওয়া ছোট একটি অভ্যাস হলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্বস্তি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

 

"
"