দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান Khulna University–এর সবুজে ঘেরা শান্ত ক্যাম্পাসের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেন্দ্রীয় মন্দির। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক সুন্দর প্রতীক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের কাছেই অবস্থিত এই মন্দিরে প্রতিদিন পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে তৈরি হয় এক শান্তিময় পরিবেশ। ব্যস্ত ক্লাস, পরীক্ষা আর ক্যাম্পাস জীবনের চাপের মাঝেও অনেক শিক্ষার্থী এখানে এসে খুঁজে পান মানসিক স্বস্তি ও আত্মিক শান্তি।
মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলীও বেশ দৃষ্টিনন্দন। আধুনিক নির্মাণধারার সঙ্গে সনাতনী ধর্মীয় ঐতিহ্যের মিশেলে নির্মিত এ স্থাপনাটি সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। উজ্জ্বল কমলা রঙের নকশা, প্রশস্ত কাঁচের জানালা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মন্দিরটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
মন্দিরের সামনে দেবী সরস্বতীর শিল্পফলক জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর ছাদের ওপর খচিত পবিত্র ‘ওঁ’ প্রতীকটি পুরো পরিবেশে এনে দেয় এক আধ্যাত্মিক আবহ। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় মন্দিরটি আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।
প্রতি বছর সরস্বতী পূজা, শ্যামা পূজা, দীপাবলি, জন্মাষ্টমী ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। বিশেষ করে সরস্বতী পূজায় শত শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আলপনা আঁকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ ও পূজার আয়োজন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।
শুধু ধর্মীয় আয়োজনই নয়, এই উৎসবগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করে তোলে। বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ক্যাম্পাসের অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রতিফলন।
অনেকের কাছেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment