বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁখ গ্রামে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি কষ্টিপাথরের প্রাচীন মূর্তিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মূর্তিটি উদ্ধারের পর কয়েকদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা, মতবিরোধ ও নানা নাটকীয় পরিস্থিতির পর অবশেষে সোমবার সেটি গ্রামের একটি মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি একটি জায়গায় মাটি কাটার সময় হঠাৎ শক্ত কোনো বস্তুর সন্ধান পান। পরে মাটি সরিয়ে দেখা যায়, সেটি কষ্টিপাথরের তৈরি একটি প্রাচীন মূর্তি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন।
অনেকেই ধারণা করছেন, এটি বহু পুরনো কোনো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় নিদর্শন হতে পারে।
মূর্তি উদ্ধারের পর সেটি কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে এলাকায় কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলতে থাকে। একদল স্থানীয় বাসিন্দা মূর্তিটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি ছিল, এটি স্থানীয় মন্দিরে সংরক্ষণ করা উচিত।
এ নিয়ে গ্রামজুড়ে উত্তেজনাও তৈরি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সোমবার সকালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূর্তিটি গ্রামের মন্দিরে স্থাপন করা হয়।
এ সময় পূজা, প্রার্থনা ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, বহু বছর আগে কোনো প্রাচীন মন্দির বা ধর্মীয় স্থাপনার অংশ হিসেবে মূর্তিটি মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মূর্তিটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন। এলাকাবাসীর আশা, বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত হলে এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment