বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দির–এর বিপুল পরিমাণ দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছেন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি ফেরত আনার দাবিতে পরিচালিত মামলায় সাম্প্রতিক আদালতীয় কার্যক্রম হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত-২ এ টানা পাঁচ দিন শুনানি শেষে আদালত মূল মামলাটি আপিল বিভাগের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, এই আদেশের ফলে বহুদিনের আলোচিত দেবোত্তর সম্পত্তি বিরোধ নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে জাতীয় মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমির একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর দখলে থাকা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ভূমিসহ আরও প্রায় হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ভূমিগুলো কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, বরং সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও সমন্বিত আইনি উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তব রূপ পায়নি। তবে সাম্প্রতিক আদালতের অগ্রগতিকে তারা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে সেখানে দরিদ্র হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি সনাতনী হাসপাতাল, বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয়, সনাতনী নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং হিন্দু তরুণ-তরুণীদের জন্য আধুনিক আইটি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ভাবনাও রয়েছে।
এই আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য ‘জাতীয় মন্দির রক্ষা ও পরিচালনা কমিটি’, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ–এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সচেতন হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, আদালতের ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি একদিন পুনরুদ্ধার হবে এবং তা সনাতন সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের ভবিষ্যৎ। তবে বহু বছর পর বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আশাবাদ ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment