বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 4, 2026

ফরিদপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর গাছ থেকে লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
নিহত জোসনা বিশ্বাস (৪৫) সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি নিজ বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সদরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর মেয়ে সাধনা বিশ্বাস ও ছেলে অমিত বিশ্বাস আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার সকালে সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩০৮) দায়ের করা হয়। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। একই দিন দুপুরে গ্রামের দুই শিশু পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একটি গাব গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। শিশুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আফজাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এবং তিন দিন পর বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, স্বর্ণালঙ্কারের লোভে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, ব্যক্তিগত বা মানসিক কোনো কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় এক ধরনের রহস্য ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

 

No comments:

Post a Comment

"
"