বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 4, 2026

পাকিস্তানের বুকে ২০০০ হাজার বছরের প্রাচীন তীর্থস্থান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের ঐতিহাসিক কালাট শহরে অবস্থিত প্রাচীন কালাট কালী মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে মা কালাটেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত, দক্ষিণ এশিয়ার হিন্দু ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস, বিশ্বাস ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই মন্দির।
ঐতিহাসিক সূত্র ও লোকগাঁথা অনুযায়ী, মন্দিরটির বয়স প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। মন্দিরের প্রবেশপথে উর্দু ভাষায় খোদাই করা তথ্য থেকে জানা যায়, এর প্রতিষ্ঠাকাল ৭৪ খ্রিস্টাব্দ। ইতিহাসবিদদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামের আগমনের বহু পূর্বেই এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল। প্রচলিত কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে, প্রাচীন হিন্দু শাসক সেওয়া বা বীরসেবা এই অঞ্চল ও দুর্গনগর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার সূত্র ধরে কালাট শহরের প্রাচীন নাম ছিল ‘কালাত-ই-সেবা’।
মন্দিরটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বিশালাকৃতির দেবীমূর্তি। প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার মা কালীর বিগ্রহ এখানে রণচণ্ডী রূপে পূজিত হন। দশভুজা এই দেবীর হাতে রয়েছে গদা, তরবারি, ঢাল, শঙ্খ, খড়গ, ত্রিশূল, চক্র, ধনুক, নরমুণ্ড ও খঞ্জরের মতো অস্ত্রশস্ত্র, যা শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর গলায় রয়েছে মানুষের খুলির মালা, যা এই বিগ্রহকে আরও রহস্যময় ও ভক্তিময় করে তোলে। বর্তমানে ভক্তদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বিগ্রহটি কাঁচ দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেও এই মন্দিরটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম ও শিখ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এই মন্দিরকে ঘিরে গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখা যায়। অনেক সময় বেলুচ মুসলিমরা মন্দিরের পূজা-পার্বণ ও বিভিন্ন আয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, যা এ অঞ্চলের সহাবস্থানের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মন্দিরটি ধ্বংসের মুখে পড়লেও তা টিকে আছে আপন মহিমায়। বর্তমানে পাকিস্তানের প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। সব মিলিয়ে, কালাট কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি অতীত ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক—যা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে সমানভাবে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।

 

No comments:

Post a Comment

"
"