বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, May 6, 2026

বাগেরহাটে জমি বিরোধে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগীদের

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা, মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এক গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্রনাথ ঢালী ও স্থানীয় সোবহান এবং তার ছেলে মিরাজের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে সম্প্রতি সোবহান, তার ছেলে মিরাজসহ কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং ধর্মীয় উপাসনার সামগ্রী নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ওপরও শারীরিক আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি সর্বশান্ত। তারা আমার বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। আমার বৃদ্ধ মায়ের ওপরও নির্মমভাবে হামলা করেছে। একজন ছেলে হয়ে মায়ের এই অবস্থা আমি সহ্য করতে পারছি না।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হামলায় রবীন্দ্রনাথ ঢালীর প্রায় ৮০ বছর বয়সী মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথায় আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এতে করে পরিবারটি আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় নতুন করে হামলার আশঙ্কা করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকেই এ ধরনের সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপি নেতারা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম হোসেন মিলন বলেন, “এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। কোনোভাবেই এমন সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

 

No comments:

Post a Comment

"
"