সাতক্ষীরা সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আটক গৌরাঙ্গ সরকার বল্লী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বিদ্যালয় সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের দাবি, গত রোববার নবম শ্রেণির একটি গণিত ক্লাসে পাঠদান চলাকালে তিনি আজান এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় মসজিদের মাইকে আজান বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলাদেশেও উচ্চস্বরে আজান বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটূক্তি করেছেন বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।
প্রথমদিকে বিষয়টি বিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি স্থানীয়দের জানালে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় মুসল্লি, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতারা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।
স্থানীয় জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান বলেন, “একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment