বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন দু’টির বাণিজ্যিক পরিচালনা চুক্তি বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা এই চুক্তি বাতিল করা হয়। এর ফলে ট্রেন দু’টি আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল শুরু করেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ এপ্রিল থেকে চুক্তি বাতিল কার্যকর করা হয়।
এর আগে ট্রেন দু’টির আয় বাড়ানোর যুক্তিতে বেসরকারি খাতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশন’-কে তিন বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন পরিচালনা শুরু করে।
তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এতে আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাচল শুরু হলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় যাত্রীদের মতে, সরকারি তদারকিতে সেবা তুলনামূলক ভালো হয়। যাত্রী আরিফা বেগম ও মোজাম্মেল হক বলেন, ট্রেনে চোরাচালান ও অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি বগি সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে।
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পারভিনা খাতুন জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসার পর থেকেই যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রথম দিকে প্রায় ১১ বছর সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১০ সালে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সেবার মান নিম্নমুখী হওয়া ও নানা অনিয়মের কারণে ২০১৩ সালে আবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনা হয়। পরে সেবার উন্নতি হওয়ায় ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে দিনে দুইবার কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়।
সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে যাত্রীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে রেলসেবার মান আরও উন্নত হবে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment