নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জীবন দেবনাথের দাবি, ১ মে (শুক্রবার) রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র তার জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে জীবন দেবনাথ তার পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি একই গ্রামের কামাল মিয়া ও তার সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। জীবন দেবনাথ জানান, জমিতে ধান রোপণের পর ফসল পাকতে শুরু করলে জোরপূর্বক তা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই এসব নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জীবন দেবনাথ আদালতের শরণাপন্ন হন। নেত্রকোণা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় করা আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৫ এপ্রিল আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দেন। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আদালতের অধীন হওয়ায় রিসিভার যদি নিরাপত্তা সহায়তা চান, তাহলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে সরাসরি তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।
এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নিযুক্ত রিসিভার মো. দেলুয়ার হোসেন জানান, তিনি আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ব্যস্ততার কারণে এখনো সরেজমিনে যেতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষ থেকে সহকর্মীদের মাধ্যমে বিবাদীদের মৌখিকভাবে ধান না কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও যদি ধান কাটা হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত কামাল মিয়া ও সাইফুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধান কেটে নেওয়া হলে তা আইন অবমাননার শামিল। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment