বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, May 6, 2026

গরম-বৃষ্টির মৌসুমে বাড়ছে ডায়রিয়ার ঝুঁকি: সতর্ক না হলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

গরম ও বৃষ্টির মৌসুমে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে এ সময় পানিদূষণ বেড়ে যাওয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, কলেরা ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. শাহনুর শারমিন, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক।
গরমে অতিরিক্ত ঘাম এবং বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে পানির স্বাভাবিক মান নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে পানি ও খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর সংক্রমণ ঘটে। এই দূষিত পানি বা খাবার গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো ডায়রিয়া। অনেক সময় এই ডায়রিয়া মারাত্মক রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যদি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, কলেরা একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এবং খুব দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। এছাড়া পচা বা বাসি খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে, যার ফলে পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি, জ্বর ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যাওয়া। শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই ডায়রিয়া শুরু হলে রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ, শরীরের দুর্বলতা ও সচেতনতার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়ার সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ চিকিৎসা হলো খাবার স্যালাইন। বারবার স্যালাইন খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের পানিশূন্যতা ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিরাপথে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে, তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া হলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যদি বারবার পাতলা পায়খানা হয়, স্যালাইন খেলেও বমি হয়, প্রস্রাব কমে যায় বা রোগী অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া উচিত।
তবে চিকিৎসার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিরোধ। কিছু সাধারণ অভ্যাস মেনে চললেই এই ধরনের রোগ থেকে অনেকাংশে নিরাপদ থাকা সম্ভব। যেমন—সব সময় বিশুদ্ধ পানি পান করা, রান্না ও অন্যান্য কাজে পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
এ ছাড়া কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত। বাইরে খোলা খাবার বা পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এসব খাবারে সহজেই জীবাণু বাসা বাঁধে। মাছি বসা খাবার খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই ঘরেও খাবার ঢেকে রাখা জরুরি।
বাসি খাবার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। যদি খেতেই হয়, তবে তা ভালোভাবে গরম করে নিতে হবে। বাইরে বের হলে নিজের সঙ্গে পরিষ্কার বোতলে বিশুদ্ধ পানি রাখা একটি ভালো অভ্যাস। খোলা শরবত, আখের রস বা লেবুপানির মতো পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো সহজেই দূষিত হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, গরম ও বর্ষার এই সময়ে একটু অসচেতনতা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাবার ও পানি গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

No comments:

Post a Comment

"
"