কুমিল্লায় একটি এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, এনজিও কর্মীরা রাতের বেলায় বাড়িতে গিয়ে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা “পল্লী মঙ্গল” নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। কয়েকটি কিস্তি পরিশোধ করার পর আর্থিক সংকটের কারণে পরবর্তী কিস্তি সময়মতো দিতে পারেননি। এর জেরে এনজিওর মাঠকর্মী মোঃ মিরাজ হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাড়িতে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিস্তির টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর এনজিওর জিম্মাদার ও কয়েকজন কর্মী ভুক্তভোগী নারীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তার স্বামীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহত দম্পতিকে উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার রাতেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগের পর এনজিওটির স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারকে বদলি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এনজিওর জিম্মাদার ও ফিল্ড অফিসার একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের থানায় ডেকেও জিম্মাদার উপস্থিত হননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে কোনোভাবেই শারীরিক নির্যাতন বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুযোগ নেই। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির জন্যও হুমকিস্বরূপ।
তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment