বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ জুন) দুপুরে গুঠিয়া ইউনিয়নের বালাবাড়ি কীর্ত্তন আঙ্গিনায় সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অসীম কুমার দাস, সুব্রত কুমার দাস ও সুশান্ত কুমার দাস। তারা জানান, গুঠিয়া মৌজার এসএ ৪০৮ নম্বর দাগের ১১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক তারা। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই জমি দীর্ঘদিন তারা ভোগ করে আসলেও চরমোনাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উজিরপুর শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি মাসুদ হাসান ফিরোজ জোরপূর্বক জমিটি দখল করে বহুতল ভবন তুলছেন বলে অভিযোগ তাদের।
তারা আরও জানান, জমি দখলের প্রতিবাদে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে তা এড়িয়ে যান এবং উল্টো তাদের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়, সে সময় তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, "আমরা সংখ্যালঘু মানুষ, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক ভিটেমাটি রক্ষায় লড়ছি। জমি দখল আর হুমকির কারণে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।"
পরে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় বলে জানান তারা। কিন্তু এখনো পুরোপুরি আতঙ্ক কাটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে দখলকৃত জমি উদ্ধার, ভবন নির্মাণ বন্ধ ও অভিযুক্তের বিচার দাবির পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থানীয় এমপি সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত মাসুদ হাসান ফিরোজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আশা করছে।
.png)
No comments:
Post a Comment