চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দখলে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শতবর্ষী একমাত্র মহাশ্মশানটি অবশেষে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশের নেতৃত্বে শ্মশানটি পরিমাপ করে স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে স্বস্তি ও আনন্দের বন্যা বইছে মালিরহাট দাশ পাড়াবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর পোমরা মালিরহাট বাজার সংলগ্ন ১৪ শতক জায়গার ওপর এই মহাশ্মশানটি প্রায় ৬০টি পরিবারের একমাত্র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার স্থান। আরএস খতিয়ানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নামে থাকলেও বিএস জরিপে ভুলবশত এটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। এই সুযোগে ২০০৫ সালে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জায়গাটি দখল করে পাঁচটি দোকান নির্মাণ করে এবং মাটি খনন করে বিভিন্ন স্থাপনা তোলে।
দুই দশক ধরে নিজেদের শ্মশানে অধিকার না পেয়ে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায় বাধ্য হয়ে নিজস্ব বা পারিবারিক জায়গায় মৃতদেহ দাহ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। একাধিকবার উদ্ধারের চেষ্টা ও ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠক হলেও দখলদার পক্ষ সরকারি লিজের ভুয়া দাবি করে তাতে যোগ না দেওয়ায় সমাধান হচ্ছিল না। অবশেষে শ্মশান রক্ষা কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করলে প্রশাসন উদ্যোগী হয়।
আজ দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশের নেতৃত্বে ভূমি অফিস ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিমাপ করেন। পরিমাপ শেষে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১৪ শতক জায়গা উদ্ধার করে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। শ্মশানে যাতায়াতের জন্য ১০ ফুটের একটি রাস্তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার দেবব্রত দাশ বলেন, "খতিয়ানে জায়গাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত। পরিমাপ শেষে সন্তোষজনক ফল পাওয়ায় তা সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। যিনি দখলে ছিলেন, তিনিও শান্তিপূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।" তিনি জানান, খালি অংশটুকু এখনই ব্যবহার করতে পারবেন ভক্তরা এবং সাত দিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের গাছ সরকারি নিয়মে নিলাম হবে।
এই অন্যায়ের অবসানে শ্মশান কমিটি ও এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। উদ্ধারকাজের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment