'ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকুক'— এমন ভাবনা থেকে চাচাতো, খালাতো বা মামাতো ভাইবোনের বিয়ে বহু সমাজে চালু থাকলেও দীর্ঘ এক গবেষণা বলছে, এর ফলে বাড়তে পারে পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত 'বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড' গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে ১৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, রক্তসম্পর্কযুক্ত বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে যেখানে এ ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে কাজিনদের বিয়ের সন্তানদের বেলায় তা বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, এসব শিশুর কথা বলতে দেরি হওয়া, ভাষাগত সমস্যা, বিকাশজনিত ঘাটতি এবং ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি।
গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক জন রাইট ও গবেষক নীল স্মল জানান, একই পরিবারের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিয়ে চলতে থাকলে কিছু ত্রুটিপূর্ণ জিন একত্রিত হয়, যা হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তারা বলছেন, আসল সমস্যা শুধু কাজিন ম্যারেজ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে একই গোষ্ঠীর ভেতরে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা। তাই বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে নরওয়ে ইতোমধ্যে চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে, সুইডেনও একই পথে হাঁটছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সচেতনতা ও শিক্ষাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
গবেষণার ইতিবাচক দিক হলো, কাজিন বিয়ের হার কমছে। ২০০০ সালের দিকে যেখানে এ হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ, বর্তমানে তা ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিয়ের আগে জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়াকেই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment