মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধুপুর শ্রী শ্রী রক্ষাকালী ও দুর্গা মন্দিরের জায়গা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজনকে মারধর করা হয় এবং মন্দিরে স্থাপিত প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে রাজানগর ইউনিয়নের নয়ানগর মধুপুর গ্রামে মন্দিরের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মধুপুর গ্রামের হরিদাসের ছেলে স্বপন দাস, মৃত বিশ্বাম্বরের ছেলে রঞ্জিত দাস, মৃত প্রিয়নাথের ছেলে বলরাম দাস, সত্য দাস, পরিতোষ দাস, দাগুসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের মৃত মতিনের ছেলে চঞ্চল ও আবুসহ ১০–১২ জন দুর্বৃত্ত মন্দিরের বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতি প্রফুল্ল দাস ও সাধারণ সম্পাদক ধীরেন দাস অভিযোগ করেন, মতিনের ছেলে চঞ্চল ও আবু পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের দাবি, জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। সিরাজদিখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন দাস ও সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানদীপ ঘোষ বলেন, “দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলা অন্যায়। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।” একই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য ও বিএনপি সভাপতি হাজী আ. রশিদও চঞ্চল ও আবুর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আবু বকর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম বারি এবং সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মুন্সীগঞ্জ জেলাসহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান–টংগিবাড়ি সার্কেল) মো. ইব্রাহীমও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা আক্তার বলেন, “মধুপুরের জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণেই সংঘর্ষ হয়েছে। দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর বসে এ বিরোধের সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।”

No comments:
Post a Comment