মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানে সিদ কেটে সংঘটিত হয়েছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। চোরের দল দোকানের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে লকার ভেঙে প্রায় ৩২ লাখ টাকার স্বর্ণ, রুপা ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন-এর বেপারীকান্দি এলাকায় অবস্থিত “মা-লক্ষী স্বর্ণ শিল্পালয়” নামের একটি জুয়েলারি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। দোকানটির মালিক স্থানীয় ব্যবসায়ী তপু মণ্ডল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যান তপু মণ্ডল। দোকানটি তাঁর বসতবাড়ির পাশেই অবস্থিত। পরদিন ভোরে দোকানে এসে তিনি দেখতে পান দোকানের ঝাপ খোলা এবং ভেতরের অবস্থা এলোমেলো। পরে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, দোকানের দেয়াল কেটে চোরেরা ভেতরে ঢুকেছে এবং লকার ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে।
তপু মণ্ডলের দাবি, দোকানের লকারে থাকা প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা, প্রায় ৭০০ ভরি রুপা যার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবেই চোরের দল দোকানটিকে টার্গেট করেছিল। কারণ, দোকানের অবস্থান এবং লকার ভাঙার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, চোরেরা আগে থেকেই দোকান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানত।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তপু মণ্ডল জানান, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতনামা চোর বা সংঘবদ্ধ চক্র সিদ কেটে দোকানে প্রবেশ করে। তিনি বলেন, “সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে যাই। সকালে এসে দেখি সব শেষ। বহু কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেল।”
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। পুলিশ দোকানটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শিবচর থানা-র ওসি (তদন্ত) মুঞ্জুল মোর্শেদ জানান, পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাতের নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে সিসিটিভি নজরদারি, রাতের টহল এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment