বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, May 12, 2026

মাঝরাতে হঠাৎ বুকব্যথা? গ্যাস ভেবে ভুল করলে হতে পারে প্রাণঘাতী বিপদ

রাতের গভীর নীরবতায় হঠাৎ বুকের মাঝখানে তীব্র চাপ অনুভব হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন বুকের ওপর ভারী কিছু চেপে বসেছে। অনেক সময় সেই ব্যথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পিঠ, গলা, কাঁধ বা চোয়ালের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষ প্রথমেই ভাবেন, এটি হয়তো গ্যাসের সমস্যা। তাই দ্রুত গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমার অপেক্ষায় থাকেন।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ এমন উপসর্গ হার্ট অ্যাটাকেরও সংকেত হতে পারে। আর এই অবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথম ১০ থেকে ১৫ মিনিটের পদক্ষেপ।
ভারতের ডা. নারায়ণ ব্যানার্জি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বুকের মাঝখানে চাপ ধরা, ভারী লাগা বা জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা অনুভব করলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়।
তার ভাষায়, অনেক রোগী শুরুতে বুঝতেই পারেন না এটি হার্টের সমস্যা নাকি সাধারণ গ্যাসের ব্যথা। কারণ উপসর্গ প্রায়ই বিভ্রান্তিকর হয়। তবে যদি ব্যথার সঙ্গে ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা হাত-পিঠে চাপ অনুভূত হয়, তাহলে সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
ডা. ব্যানার্জি বলেন, “অনেকে প্রথমে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে বসে থাকেন। কিন্তু এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়।”


চিকিৎসকদের মতে, হার্টে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হলে হৃদযন্ত্রের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে ইসিজি (ECG) করানো জরুরি। ইসিজির মাধ্যমে বোঝা যায় হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল ঠিক আছে কি না এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে কি না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত পাতলা করার ওষুধ, অক্সিজেন বা ক্লট গলানোর ইনজেকশন দিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা রোগীর জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দেরি হলে হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি, গুরুতর জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
বর্তমানে অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কম ঘুম, ধূমপান, ফাস্টফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যেও এখন হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি—
বুকের মাঝখানে চাপ বা ভারী ব্যথা
ব্যথা হাত, পিঠ, গলা বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া
শ্বাসকষ্ট
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
বমিভাব বা অস্বস্তি
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, রাতে হঠাৎ বুকব্যথা হলে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে না যাওয়াই ভালো। পরিবারের কাউকে ডাকুন বা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ব্যায়াম করা এবং ধূমপান পরিহার করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
তাদের মতে, শরীরের কোনো সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে বুকের ব্যথা কখনোই “সাধারণ গ্যাস” ভেবে এড়িয়ে যাওয়া নিরাপদ নয়। কারণ কয়েক মিনিটের সচেতনতাই অনেক সময় একটি জীবন বাঁচাতে পারে।

 

No comments:

Post a Comment

"
"