সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা–এর বাঙ্গালা ইউনিয়নের চেংটিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় পুকুর সংস্কারের সময় একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বড় আনদার পুকুর খননের সময় হঠাৎ করেই মূর্তিটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত এক্সাভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি তোলার সময় মেশিনের বাকেটের সঙ্গে মূর্তিটি ওপরে উঠে আসে। প্রথমে শ্রমিকরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে কাছে গিয়ে দেখতে পান এটি একটি শৈল্পিক কষ্টি পাথরের মূর্তি। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি দেখতে অনেক পুরোনো এবং এতে সূক্ষ্ম কারুকাজের ছাপ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ধারণা করছেন, এটি প্রাচীন কোনো বিষ্ণু মূর্তি হতে পারে এবং এর সঙ্গে এলাকার ইতিহাস বা অতীত সভ্যতার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মূর্তিটি প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়, যাতে সেটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূর্তিটির প্রকৃত বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতামতও নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় প্রবীণদের কেউ কেউ জানান, বহু বছর আগে এই অঞ্চলে প্রাচীন বসতির অস্তিত্ব ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ফলে পুকুর খননের সময় এ ধরনের প্রত্ননিদর্শন উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর আগ্রহ আরও বেড়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া বিষ্ণু মূর্তিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কৌতূহলের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশও তৈরি হয়েছে। অনেকে এটিকে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment