বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী–এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করার পরপরই হত্যা মামলাসহ আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিন্ময় দাসের অনুসারীরা বিক্ষোভ করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
পরে নিহত আইনজীবীর বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। এক ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় আগামী ১০ মে “৮ দফা দাবি আদায়ে কারাবরণকারী সকলের মুক্তির জন্য” প্রার্থনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ কারাবন্দীদের মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা তৈরির অনুরোধ জানান।
আগামী ১০ মে হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারী ও বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment