বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, May 23, 2026

পলাশবাড়ীতে সমাজসেবক হরিদাস বাবুকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, ক্ষোভ স্থানীয়দের

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কোমরপুর হাসবাড়ী রোড এলাকার ‘শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবক শ্রী হরিদাস বাবুর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সনাতনী সমাজ ও সাধারণ মানুষ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হরিদাস বাবু ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মন্দির প্রতিষ্ঠা, অসহায় মানুষের সহায়তা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের মতে, তার প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির’ শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট ও অনলাইন লেখায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। সেখানে ধর্মের নামে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করা হয়। কিছু পোস্টে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্বার্থের কারণেই একজন সমাজসেবককে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। তারা জানান, হরিদাস বাবু দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এলাকার বহু পরিবার তার কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, তিনি কখনো প্রতারণা বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বরং এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছেন।
এলাকার সচেতন মহল বলছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনগতভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একপাক্ষিক ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে ব্যক্তিগত সম্মানহানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। তারা সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দ ও সমাজসেবকরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা পুরো সমাজের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পলাশবাড়ীর দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

 

No comments:

Post a Comment

"
"