বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, May 21, 2026

শরীয়তপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ পরিবারের

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর স্বামী চঞ্চল হালদার তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। যদিও স্বামীর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।
বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার সিঙারচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পূরবী গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে চঞ্চল হালদারের সঙ্গে পূরবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, কোনো স্থায়ী পেশা না থাকায় চঞ্চল প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নিতেন। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তিনি চার লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা আনার জন্য পূরবীকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি খালি হাতেই স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান।
পরদিন সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে পূরবীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে দ্রুত তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই স্বামী চঞ্চল হালদার ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল বলেন, “মেয়ে প্রায়ই ফোন করে জানাত, টাকা না দিলে তাকে মারধর করা হয়। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথা থেকে দেব? টাকার জন্যই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।”
মা দুলালী রানীও একই অভিযোগ করে বলেন, “আগেও ধারদেনা করে জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও তাদের চাহিদা শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে হারাতে হলো।”
অন্যদিকে অভিযুক্তের মা লক্ষ্মী রানী দাবি করেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে পূরবী অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই পূরবীর মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

No comments:

Post a Comment

"
"