শোক সংবাদ: মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতা নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই
বাংলাদেশের সনাতনী সমাজের পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শ্রী নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে সনাতনী সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি-২ নম্বরে অবস্থিত Popular Diagnostic Centre & Hospital–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় (Brain Hemorrhage) আক্রান্ত হয়ে তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শ্রী নিখিল চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে দেশের সনাতনী সমাজের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংগঠনের প্রকাশনা, গ্রন্থনা ও সাংগঠনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হতো।
এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। শান্ত, ভদ্র এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখিল চন্দ্র শীল ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগঠক। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় আন্তরিকতা ও সততার পরিচয় দিতেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে শুরু করে সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সবার কাছে অনুকরণীয় ছিল।
তাঁর মৃত্যু সনাতনী সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে।
শ্রী নিখিল চন্দ্র শীলের মৃত্যুতে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং সমাজের প্রতি অবদান দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment