পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠী গ্রামে মর্মস্পর্শী এক মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে বাবা ও মাকে হারিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী তিন ভাই—রিপন দাস, নিদু দাস ও সাদন দাস।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে তাদের বাবা রতন চন্দ্র দাস মারা যান। এরপর তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন মা সরস্বতী রানী। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের দেখাশোনা চালিয়ে গেলেও একসময় তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে গতকাল তিনি মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর পর ঘরের ভেতরের দৃশ্য স্থানীয়দের নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘরে মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল, আর পাশে বসে অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল তিন প্রতিবন্ধী সন্তান। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই কান্না ধরে রাখতে পারেননি বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, তিন ভাইই জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং নিজেরা কোনো কাজ করেও জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতা নেই। বাবা-মা বেঁচে থাকতেই কষ্ট করে তাদের দেখাশোনা করতেন। এখন তারা পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে পরিবারটিতে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। কীভাবে তারা চলবে, কে খাবার দেবে কিংবা ভবিষ্যতে কোথায় থাকবে—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করছেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে তিন ভাইয়ের দায়িত্ব বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তিন ভাইয়ের চিকিৎসা, ভরণপোষণ ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষায়, “বাবা-মাকে হারানোর শোকের মধ্যেই এখন অনাহার আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়ছে তিন ভাই। মানবিক সহায়তা ছাড়া তাদের টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।”
.jpeg)
No comments:
Post a Comment