সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে আহত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আহতরা হলেন গীতা রানী গাইন, রণজিৎ গাইন, শিবপদ গাইন, ধর্মদাস গাইন, বিষ্ণুপদ গাইন, রবীন্দ্রনাথ গাইন, অনিমেষ গাইন, ইন্দ্রজিৎ গাইন, সুরেন গাইন ও কৌশল্যা গাইন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গীতা রানী গাইন জানান, পার্শ্ববর্তী মথুরাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ পাইকের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তার অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে নিজের জমিতে গরুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে গেলে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর দিয়ে যাওয়া নিয়ে আব্দুল মজিদ পাইক, তার ছেলে হাসান পাইকসহ কয়েকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির পর তাকে মারধর করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
পরিবারের দাবি, আব্দুল মজিদ পাইক, হাসান পাইক, হোসেন পাইক, জাহিদ হোসেন বাবু, বিল্লাল হোসেন, খুকুমনি, মিলন পাইকসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল এ হামলায় অংশ নেয়। হামলার সময় একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ পাইক। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের পক্ষেরও দুজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ গাইন জানান, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঈদ পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছিল এবং পরে জমি পরিমাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, “একটি পরিবারের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এতজন আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদুর রহমান জানান, আহত রণজিৎ গাইন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment