জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের বেলআমলা এলাকায় এক অভাবনীয় ঘটনায় পুরো একটি গ্রাম রাতারাতি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে ফেলায় আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শুধু দৈনন্দিন জীবনই ব্যাহত হয়নি, বন্ধ হয়ে গেছে প্রাচীন শিব মন্দিরে যাতায়াতের পথও। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর ধরে এই সড়কটি ব্যবহার করে আসছিলেন বেলআমলা এলাকার আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। এটি ছিল তাদের বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্রসহ বাইরের জগতের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ। একই সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থিত একটি প্রাচীন শিবালয় মন্দিরে পূজা-অর্চনার জন্যও এই পথটিই ছিল একমাত্র ভরসা।
অভিযোগ উঠেছে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আশরাফুল ইসলাম সাগর রাতের অন্ধকারে সড়কের একটি অংশ কেটে নিজের জমির সঙ্গে একীভূত করে ফেলেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে গ্রামবাসীরা দেখেন, তাদের চেনা পথটি আর নেই—একটি কাটা অংশ পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা থামিয়ে দিয়েছে।
শিব মন্দিরের সেবায়েত ললিত মোর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। মন্দিরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
অন্যদিকে আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা দিলিপ কর্মকার, শ্যামল কর্মকারসহ আরও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এই রাস্তা আমাদের জীবনরেখা। হঠাৎ করে এটি কেটে দেওয়ায় আমরা যেন বন্দি হয়ে পড়েছি। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে পারছি না।”
ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি পুনরুদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে—কবে এই অবরুদ্ধ গ্রাম আবার স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরে পাবে এবং মন্দিরমুখী পথ পুনরায় উন্মুক্ত হবে।

No comments:
Post a Comment