বাঁশখালী উপজেলা–এর কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী আদি নিমকালী মন্দির–এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর বাঁশখালী থানা ও রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও সন্ধ্যা উপাসনা শেষে মন্দিরের সকল দরজা-জানালা তালাবদ্ধ করে কর্মচারীরা চলে যান। পরদিন ভোরে বাল্যভোগ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কার্তিক পাল মন্দিরে এসে প্রধান গেইটের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, মূল মন্দিরের প্রবেশদ্বারের তালাও ভাঙা এবং গর্ভগৃহে থাকা দেবী কালীর মূর্তির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার ও পূজার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাঁশখালী পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মিন্টু কান্তি পাল বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মন্দির। প্রতিদিনের মতো সেদিনও পূজা শেষে সবকিছু সুরক্ষিত রেখে কর্মচারীরা বের হয়ে যান। কিন্তু গভীর রাতে চোরের দল তালা ভেঙে মন্দিরে প্রবেশ করে।”
তিনি জানান, চোরেরা দেবী কালীর মূর্তিতে থাকা আনুমানিক পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ পূজার ব্যবহৃত কাঁসা-পিতলের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এই মন্দির স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। এমন ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
মন্দিরটির ইতিহাস তুলে ধরে মিন্টু কান্তি পাল বলেন, প্রায় ৩১৬ বছর আগে, আনুমানিক ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন জমিদার রাম সুন্দর শর্মা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়ে মানিক পাঠান গ্রামের সোনাইছড়ি খালে ভেসে আসা নিম কাঠ দিয়ে মা কালীর প্রতিমা নির্মাণ করেছিলেন। পরে এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে এখানে পূজার্চনা শুরু হয়।
প্রতিদিন মন্দিরে বাল্যভোগ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কার্তিক পাল বলেন, “এই মন্দিরে আগে কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এসে দেখি গেইটের তালা ভাঙা। তখনই বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটেছে।”
তিনি আরও জানান, পরে বিষয়টি মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান এবং পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রবাস পাল এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের এত বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করছে রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ি। ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাগচী বলেন, “চোরেরা মন্দিরের প্রবেশপথের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তারা স্বর্ণ ও রুপার অলংকার চুরি করে নিয়ে গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মন্দিরে চুরির ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment