বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 11, 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদিক গীতা গুরুকুলের উদ্বোধন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ

বিজয়নগর উপজেলা–এ বৈদিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সনাতনী সংস্কৃতি চর্চার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে “বৈদিক গীতা গুরুকুল”। শুক্রবার উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের রসুলপুর মধ্যপাড়া কৃষ্ণমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুকুলের উদ্বোধন করা হয়।
গুরুকুলটি প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট–এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। আয়োজকেরা এটিকে সনাতনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধর্মীয়, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয় রাজ বংশী, যিনি বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন রায় টিটন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধ্রুবচন্দ্র দাস, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি এবং রাতুল সরকার, যিনি বিজয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মন্দির কমিটির সদস্য, সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, শাস্ত্রজ্ঞান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, বৈদিক গীতা গুরুকুলের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের গীতা পাঠ, বৈদিক শিক্ষা, নৈতিক জীবনবোধ ও সনাতনী সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা মনে করেন, শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও জাতীয় চেতনা তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে। একইসঙ্গে এটি সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে গুরুকুল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য স্থানীয় সনাতনী সমাজ, বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট–এর নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতে গুরুকুলের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত ধর্মীয় পাঠ, সংস্কৃত শিক্ষা, গীতা আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ।

 

No comments:

Post a Comment

"
"