ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে তারকাদের ভিড়ে এক ভিন্ন লাল-সবুজের পতাকা উড়লো বিশ্বব্যাপী। পারফর্ম করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় দেব (Sanjoy)। বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে না খেললেও নিজের শিকড় আর সঙ্গীত দিয়ে বাঙালি গর্বের এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করলেন তিনি।
সঞ্জয়ের জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। তার শিকড় প্রোথিত আছে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছননগরে। তিনি সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত চিকিৎসক প্রয়াত ডা. ধীরেন্দ্র দেব চৌধুরীর নাতি। মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবা সন্তোষ দেব ও মা মিতা দেবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান সঞ্জয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা এই তরুণের সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল শৈশবে মায়ের কাছ থেকে তবলা শেখার মধ্য দিয়ে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই কম্পিউটারে নিজের সুর তৈরি শুরু করেন।
সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় স্নাতক করলেও তার পুরো মন পড়ে ছিল সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ২০১১ সাল থেকে বলিউড গানের ফিউশন তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের (EDM) সঙ্গে বলিউডি সুর মিশিয়ে 'Shangri-La'-র মতো গান দিয়ে জিতে নেন VIMA অ্যাওয়ার্ড। 'Slip Away' ট্র্যাকটি উঠে আসে নামী বিলবোর্ড চার্টে। একে একে কোলাবোরেশন করেন মার্কিন গায়ক এলিয়ট ইয়ামিন, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড GOT7-এর মার্ক তুয়ানের সঙ্গে। বলিউডের গুরু রনধাওয়ার 'ম্যান অব দ্য মুন' অ্যালবামেও সঞ্জয়ের কাজ প্রশংসিত হয়েছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার তৈরি 'Sir Sir' গান ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়— সঞ্জয় বিশেষভাবে ডিজাইন করে পরেছেন লাল-সবুজের পতাকা ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মোটিফের জ্যাকেট। এই দেশপ্রেমিক চেতনাই তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
নিয়মিত বাংলাদেশে ফেরা সঞ্জয়ের স্বপ্ন এখন বাংলা মিউজিককে বিশ্বের দরবারে আরও বড় করে তোলা। ফুটবলের বৈশ্বিক আসরেও যে বাংলার প্রতিভা বিশ্ব কাঁপাতে পারে, সঞ্জয় দেব যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ।

No comments:
Post a Comment