বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, June 13, 2026

রাঙামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ার আতঙ্ক, থামেনি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি

"ছেলেদের লাশ দুটো যখন কাঁধে নিলাম, মনে হলো পাহাড়টাই আমার কাঁধে উঠে গেছে"— নয় বছর আগের পাহাড়ধসের সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় রাঙামাটির বাদল দত্তকে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে পড়েছিল তাঁর ঘরের ওপর। সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার পেলেও মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই ছেলে। স্বামী বাদল কোনো রকমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও স্ত্রী ভুলু রানী দুই সন্তানের শোকে এখনো পাথর।
শুধু বাদল দত্তের পরিবার নয়, ওই দিনের ভয়াবহতায় শুধু রাঙামাটিতেই প্রাণ গিয়েছিল ১২০ জনের। বৃহত্তর চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৫৮। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ছয় হাজার ঘরবাড়ি, ১৪২টি স্থানে ঘটে পাহাড়ধসের ঘটনা। কিন্তু এত বড় দুর্যোগের পরও শিক্ষা মেলেনি। এখনো শহরের বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।
ওই দিন সকালের কথা মনে করে বাদল দত্ত বলেন, "হঠাৎ বিকট শব্দ। ঘুম ভেঙে দেখি, পাহাড় এসে পড়েছে ঘরের ওপর।" মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানসহ। পরে বড় ছেলেকে দুই দিন ও ছোট ছেলেকে তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়, তবে প্রাণ ফিরে আসেনি।
পাহাড়ধসের ওপর গবেষণা করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইকবাল সরোয়ারের মতে, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, পাহাড়ের বালুময় মাটি, সড়ক নির্মাণে নির্বিচার পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার চাপেই ওই দুর্যোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। এখনো পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পাহাড়ের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থাপনা বন্ধ এবং আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
শহরের পশ্চিম মুসলিম পাড়ায় ৯ বছর আগে ২০টি পরিবার থাকলেও এখন তা বেড়ে ৬০টিতে পৌঁছেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা আলিম উদ্দিন। নুরুন্নাহার বেগমের মতো অনেকে জানিয়েও বলেন, "ঘর-সংসার ফেলে যাব কোথায়? তাই ঝুঁকি জেনেও থাকি।" অথচ প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, এখনো পৌরসভায় অন্তত ২৯টি পাহাড়ি ঢাল ভূমিধস-ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের এই সময়ে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেই বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবুও থামছে না ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।

No comments:

Post a Comment

"
"